Jump to ratings and reviews
Rate this book

জীবনক্ষুধা

Rate this book

Hardcover

First published January 1, 1955

Loading...
Loading...

About the author

Abul Mansur Ahmed

18 books78 followers
Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.

He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (40%)
4 stars
1 (20%)
3 stars
2 (40%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Ashikur Khan.
Author 4 books9 followers
February 28, 2023
বইয়ের নামঃ জীবন-ক্ষুধা
লেখকঃ আবুল মনসুর আহমদ
বইয়ের ধরণঃ সামাজিক উপন্যাস
প্রকাশনাঃ ব্রাক প্রকাশনা
প্রথম প্রকাশঃ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ)
প্রচ্ছদঃ আনীলা হক
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১৪
গায়ের মূল্যঃ ৫০ টাকা (শোভন), ২৫ টাকা (সুলভ)

মানুষের জীবনে চলার পথটা কখনোই পটে আঁকা স্থিরচিত্রের ন্যায় মসৃণ হয়না। কখনো উঁচু, কখনো নিচু বন্ধুর এ পথে চলতে গিয়ে কখনো কখনো মানুষ হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। এ হোঁচট খেয়ে যারা থেমে যায়না, তারাই কেবল জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারে। কথায় আছে, "হোঁচট খাওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়; পরাজয়ের শুরু হয় জয়ের অনীহা থেকে! "

এমন হার না মানা জীবন যুদ্ধের গল্প নিয়ে রচিত উপন্যাসের নাম "জীবন-ক্ষুধা"। বিদ্রুপাত্মক রচনাকর্মের জন্য বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী লেখক আবুল মনসুর আহমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম এটি। পেশাগত জীবনে একাধারে লেখক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ তার এ উপন্যাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের মধ্যকার সময়ের জীবনের চিত্র পূর্ব বাংলার প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। তৎকালীন সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গল্প এ ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি প্রাধান্য লাভ করেছে। বিশেষত উক্ত সময়ে সংঘটিত কৃষক-প্রজা আন্দোলন ও ভারত উপমহাদেশ বিভক্তির বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ ভাবে বর্ণিত হয়েছে উক্ত উপন্যাসে। এছাড়া উক্ত সময়কার মানুষের দারিদ্র্যের গল্প ও অভাব-অনটনের চিত্র কোনোভাবে বাদ পড়েনি মূল গল্প থেকে। সহজ ভাষায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এ উপন্যাসের গল্পের মূল প্লট হলেও অভাবী মানুষের জীবনের গল্পের উপর এখানে বেশি আলোকপাত করা হয়েছে।

গল্পের সূচনা হয় হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হালিমের জীবনের গল্প দিয়ে। বাবা পেশায় কৃষক হলেও সমাজের নানা বাধাবিপত্তির মুখে ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। কিন্তু নানা পারিপার্শ্বিক কারণে চাকরি তার কপালে জোটে না। নানা জায়গায় চাকরির সন্ধানে ঘুরতে থাকে সে। অবশেষে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পায় সে। দিন ঘুরে মাস যায়। দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯৩৫ সাল এসে হাজির হয়। তখন জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক-প্রজা একাট্টা হলে কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাক্রমে হালিম মাস্টার এ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লে তার শিক্ষকতার চাকরি জীবনের অবসান ঘটে। এরপর দ্রুত তার জীবনে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে। এ পরিবর্তনের উত্তাল ঢেউ যেন বাঁধভাঙা জোয়ারের জলের মত করে হু হু করে ঢুকতে থাকে তার জীবনে। এ স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে থাকে তার নিত্যকার জীবন। কিন্তু কী সে পরিবর্তন? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে চোখ রাখতে হবে উক্ত উপন্যাসের পাতায়।

এবার আসি চরিত্র বিশ্লেষণের আলোচনায়। উপন্যাসে বেশ কয়েকটি চরিত্র থাকলেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাখা হয়েছে হালিমকে। গ্রাম্য কৃষকের ছেলে হলেও শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এক যুবক সে। চাকরির সুবাদে জমিদারের বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়েও জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে গলা তুলতে দ্বিতীয় বার ভাবে না সে। এমনকি চাকরি চলে যাবার ভয় দেখানো হলেও তার যেন আদৌও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। নিজের ন্যায়-নীতির ব্যাপারে সে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় কোথাও! এভাবে হালিম চরিত্রের মধ্য দিয়ে এক সাহসী, নীতিবান যুবকের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন ঔপন্যাসিক। এছাড়া উক্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক কণ্ঠস্বর পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন আবুল মনসুর আহমদ।

আরেকটি গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে রাখা হয়েছে নঈমাকে। সাধারণ ঘরের মেয়ে হলেও বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার। স্বামীর অর্থ-বৈভবের প্রতি তার দারুণ টান। এ দিক থেকে তাকে বেশ লোভী-ই বলা চলে। স্বামীর সংসারে বেশ সুখেই দিন কাটছিল তার। দীর্ঘদিন যাবত তো সে এমন বিত্ত-বৈভবের জীবন-ই চেয়ে এসেছে। পরিবারের দুর্দিনে বেরিয়ে আসে তার আসল রূপ। নিজের সংসারের কথা চিন্তা না করে বাবার হাত ধরে তার পরিবারে ফিরে গেলে নঈমার দুর্দিন শুরু হয়। বলতে গেলে, তার কপাল পোড়ে। একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে এরপর। কিন্তু কী ঘটে এরপর? কী হয় তার? জানতে চাইলে, পড়তে হবে আলোচ্য উপন্যাস।

উপর্যুক্ত দুইটি প্রধান চরিত্র ছাড়াও আরো কিছু চরিত্রের দেখা মেলে এ উপন্যাসে। এসব চরিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চরিত্র হচ্ছেঃ রহিম শেখ, লুৎফুন্নেসা, আজিম, মিস্টার হ্যারিসন, হাকিম সাহেব, আহরাব, বেগম সাহেবা, রহমত সরকার প্রমুখ। বিভিন্ন সময়ে গল্পের প্রয়োজনে এসব চরিত্র সৃষ্ট করা হলেও তা গল্পের সাহিত্যগুণ বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি এসব চরিত্র চিত্রণের ফলে উপন্যাসের গল্পে এক পরিপূর্ণতা এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বভাবের ও ধর্মের চরিত্র অঙ্কনের ফলে উপন্যাসের গল্পে আলাদা এক স্বকীয়তা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে। এ বিষয়টি উক্ত উপন্যাসটিকে আলাদা এক মর্যাদা দান করেছে।

এবার গল্প হবে উক্ত উপন্যাসের ভাষারীতি ও শব্দ চয়ন নিয়ে। বেশ সহজ সাবলীল ভাষায় বইটি রচিত হয়েছে। উক্ত ঔপন্যাসিকের অন্যান্য রচনায় কিছু দুর্বোধ্য শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্য করা গেলেও এ বইতে তেমন কিছুই চোখে পড়েনি আমার। বেশ সহজবোধ্য ভাষায় পুরো উপন্যাসের গল্প সাজানো হয়েছে। ছোট ছোট বেশ কিছু অধ্যায়ে বিভক্ত করে পুরো গল্প সাজানোর ফলে উপন্যাসের গল্পের গতিধারা বুঝতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি আমাকে। পাঠক হিসেবে এ ব্যাপারটি ভালো লেগেছে আমার কাছে। এছাড়া কিশোর বয়সী পাঠকদের উপযোগী করে বইটির পুনর্লিখন হবার কারণে ভাষাশৈলী অনেক সহজ হয়ে গেছে বলে আমার ধারণা। সবমিলিয়ে, বইটির ভাষার গাঁথুনি ও শব্দচয়ন মন্দ লাগেনি আমার কোথাও; বরং ভালোই লেগেছে।

পরিশেষে এ বলা যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বইটির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সার্বিক বিবেচনায় এক অনবদ্য ক্লাসিক মানের সাহিত্যকর্মের নাম "জীবন-ক্ষুধা"! উপন্যাসের গল্প ও চরিত্র চিত্রণের কাজটি বেশ দারুণভাবে সমাধা করেছেন প্রবীণ এ কথাশিল্পী। আশা করি, অন্যান্য পাঠকেরও ভালো লাগবে উক্ত বইটি।

পাঠের অভিজ্ঞতা সুখের হোক!♥
Profile Image for Hibatun Nur.
161 reviews
September 3, 2020
মানুষ ঠিক কি চায় তা সে জানে না আর যা পায় তাও তার চাই নাহ। নিজের অজান্তেই অজ্ঞাত সে আকাঙ্খার পিছনে ছুটে বেড়ায়। এটাই 'জীবনক্ষুধা'। এ ক্ষুধা কারো মিটে যায় আর কারো সারাজীবনের সংগ্রামের পরও হাসিল করা হয়ে ওঠে না।
লেখক অতি সুন্দর ভাবে তার আদর্শ বইয়ের সাহায্যে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews