আমাদের বর্তমান স্বাধীনতা অতীতের অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের সমষ্টিগত ফল। এ কারণে অতীতের সব আন্দোলন-সংগ্রামের তাত্পর্য, ঘটনার পরম্পরা আমাদের বুঝতে হবে। আবুল মনসুর আহমদের এই বই বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং তার বিভিন্ন স্তরের মর্মার্থ উপলব্ধি করতে বিশেষ সহায়ক হবে। শেরে বাংলার উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের পেছনে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কী আকাঙ্ক্ষা বা মনস্তত্ত্ব কাজ করেছিল, ভারতভাগের ফলে বাঙালিকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল; তারপর পাকিস্তান আমলে যে শোষণ, বৈষম্য, শাসকদের বৈরী মনোভাব ও শেষে ব্যাপক গণহত্যা ঘটেছিল, তার পেছনের মনস্তত্ত্বই-বা কী—এসব বোঝাটাও আমাদের জন্য জরুরি। তারও আগের সিপাহি বিপ্লব, স্বরাজ-খিলাফত বা কৃষক-প্রজা আন্দোলন—এই সব ঘটনাকেই ইতিহাসের উত্তরাধিকার বলে মনে করেন লেখক। ইতিহাসের মধ্যে দ্বান্দ্বিকতা আছে। আছে ধারাবাহিকতা। শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধুর সময় পর্যন্ত রাজনীতির ক্রমবিকাশ বোঝা যাবে এই বই পড়লে। সিপাহি বিপ্লব থেকে দেশভাগ। তারপর বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রার বিভিন্ন স্তরের মর্মার্থ উপলব্ধি করতে অবশ্যপাঠ্য এ বই। পাঠক জানতে পারবেন শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধুর সময় পর্যন্ত রাজনীতির ক্রমবিকাশ।
Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.
He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.
নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। '৬৯ থেকে '৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা কলামসংকলন এই বই। শেরে বাংলা'র হদিস পুরো বইতে নেই। বঙ্গবন্ধু অবশ্য আছেন।
বইয়ের কলামগুলো দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের প্রকাশ হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে, একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকাসমেত। মূলত প্রথমবারের মতো সেই ভূমিকাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু বলে সম্বোধন করেছেন আবুল মনসুর আহমদ।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাহোর প্রস্তাবের 'দ্বি-জাতি' তত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান ভেঙে যায়নি বলে মনে করেন আবুল মনসুর আহমদ। বরং লাহোর প্রস্তাবে দুইটি পাকিস্তান গঠনের যে কথা ছিল তা সত্য হয়েছে বলে মন্তব্য আবুল মনসুর আহমদের। '৪৭ সালেই যদি দুই অংশে দুইটি পাকিস্তান হতো, তাহলে এত মারামারি-হানাহানি হতো না। ভালো যুক্তি। কিন্তু আবুল মনসুর সাহেব একবারেও জন্যও উচ্চারণ করলেন না কার নির্দেশে এবং কে এই প্রস্তাব সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করেছিল। আবুল হাশিম তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, জিন্নার নির্দেশে স্বয়ং সোহরাওয়ার্দী লাহোর প্রস্তাবে স্টেটস কেটে একটি রাষ্ট্র স্টেট করার জন্য উপস্থাপন করেছিল। আবুল মনসুর জিন্নাকে পির এবং সোহরাওয়ার্দীকে বড় মুর্শিদ জ্ঞান করেন। তাই 'ভাসুরদ্বয়ের কীর্তি' মুখে আনেননি।
দুই অংশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে সরব ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। তাঁর লেখা পড়লে স্পষ্ট ধারণা হয় পাকিস্তানের ভাঙন অনিবার্য ছিল এবং তার জন্য দায়ী পশ্চিম পাকিস্তানের দাদাগিরি।
বেশ ভালো সওয়াল-জওয়াব উপস্থাপন করতে পারেন আবুল মনসুর আহমদ। কিন্তু কখন, কার পক্ষ নেবেন কিংবা পরিষ্কারভাবে তাঁর রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বোঝা শক্ত। তাঁর নিজের লেখাতেই দ্বিচারিতার পরিচয় মেলে যেমন, '৬৮ সালে লিখেলেন, "এদেশে সেকিউলার ন্যাশনালিযম চলিবেনা "। পেয়ারে পাকিস্তানে শুধু ইসলাম চলবে বলে মতামত দিলেন। আবার '৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের পর কলাম লিখলেন, " সাধারণ নির্বাচনে সেকিউলারিযমের জয় " শীর্ষক শিরোনামে।
'৭০ সালের নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই আবুল মনসুর আহমদের ধারণা ছিল না পাকিস্তান ভাঙতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান ভাঙার পরেও তিনি অবচেতনে মানতে পারেননি। তাই লাহোর প্রস্তাব সফল হয়েছে বলে যুক্তি-তক্ক হাজির করেছেন। আবার জিন্না এবং সোহরাওয়ার্দীর মহিমাকীর্তনও করেছেন এমনভাবে যেন এই দু'জন শুদ্ধতম রাজনীতিবিদ ছিল!
"শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু" না হয়ে বইয়ের নাম হবার দরকার ছিলো - "কায়েদ-এ-আজম হইতে বঙ্গবন্ধু"। জিন্নার প্রতি আবুল মনসুর আহমেদের এতো অফুরান ভালোবাসা দেখাটা বেশ দৃষ্টিকটু...