ভূমিকা অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদনি। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকন্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।
Shahidullah Kaiser (Bengali: শহীদুল্লাহ কায়সার) was born Abu Nayeem Mohammad Shahidullah. He is the brother of another famous Bengali author Zahir Raihan. Kaiser studied at Presidency College, Kolkata and obtained a Bachelors degree in economics with honours. Later, he enrolled in Masters of Arts at Calcutta University but did not finish getting the degree.
Kaiser was active in politics and cultural movements from his student days. Following the formation of Pakistan in 1947, he became a member of the provincial Communist Party of East Pakistan. He started working as a journalist in 1949 with the Ittefaq in Dhaka. In 1952, he participated actively in the Language Movement. For his political role in the movement for protection of Bengali language, Kaiser was arrested on 3 June 1952. He was later jailed for three and a half years. Right after his release in 1955, he was again arrested and jailed on a political crackdown on activists. A few years later he was released. In 1958, Kaiser joined as an associate editor of the Daily Sangbad - a Bengali language daily - where he worked for the rest of his life. When the Military coup of 1958 put Ayub Khan in power, and martial law was proclaimed, Kaiser was arrested again on 14 October 1958 and remained in jail for four years till his release in September 1962.
At the end the Bangladesh Liberation War of 1971, the Pakistan Army and its local collaborators initiated a plan for killing the leading Bengali intellectuals. As a part of it, Kaiser was rounded up on 14 December 1971. He never returned, nor was his body found. It is assumed that he was executed along with other intellectuals. His brother Zahir Raihan also disappeared while searching for Kaiser.
"গারদ পরিমাণ আকাশের সেই তারা কয়টি সহসা যেন চোখ নাচিয়ে কেঁপে গেল। একটুখানি কেঁপেই স্থির হল আবার। আকাশের তারা কি কখনো পৃথিবীর বেদনায় এমন করে কাঁপে?"
বইটা পড়লাম অনেক দিন ধরে। ডায়েরিতে যেভাবে এক একদিন যেভাবে এন্ট্রি হয়, সেভাবেই একদিনের ঘটনা একদিন পড়েছি। কারাবাসের দিনগুলো কেমন যেত তাই লিখে রেখেছেন শহীদুল্লাহ কায়াসার ঠিক গল্পের মত করে। কারাগারের যারা একসাথে থাকতো ছিল একটি পরিবারের মত। সুখদুঃখের ভাগাভাগি যেমন ছিল তেমন মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাঁটি ছিল। আবার মাঝে মাঝে দুঃখ যেন মিছিল করে আসত। সেই সময় অপর সঙ্গীকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া ছিল মুশকিল।এসবের মধ্যেই চলত নিজেদের মধ্যে জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা। গল্প হোক বা না হোক, অচলায়তনের মধ্যে বন্দী জীবনের নিপুণ চিত্র এঁকেছেন লেখক কয়টি মাত্র পৃষ্ঠায়।
' অসাধারণ হও, অস্বাভাবিক হয়ো না। ' - শহীদুল্লাহ কায়সার
পাকিস্তানি স্বৈরাচারী সরকারের বিরোধিতা করে বামপন্থি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় আরো অনেকের সাথে রাজবন্দি হিসেবে পুরান ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ শহীদুল্লাহ কায়সার। জেলগেটে দেখা করতে এলেন লেখকের অনুজ জহির রায়হান। জহির রায়হান ভ্রাতার হাতে ধরিয়ে দিলেন কাগজ, কলম আর বললেন জেলের অভিজ্ঞতা লিখে ফেলতে আর তারই প্রকাশ 'রাজবন্দীর রোজনামচা'। কারাগারকে শহীদুল্লাহ কায়সার আখ্যায়িত করেছেন 'অচলায়তন' হিসেবে।
সে অচলায়তনের দিনগুলো যেন কাটতেই চায় না।একই সাথে বিভিন্ন বয়সের, জেলার আর বর্ণের মানুষ এক হয়ে গিয়েছে। কেউ উচ্চশিক্ষিত, কেউ-বা প্রবীণ, কেউ কৃষক কিন্তু একটি দিকে সব্বাই এক, সেটি হচ্ছে তারা সকলেই পাকিস্তানি সরকারের চোখে একই অপরাধে অপরাধী,তারা সবাই সাম্যবাদ চেয়েছেন। মন্টু,কালাম,হাসিব, অ-দা,গ-দার মতো অনেকেই একত্রে বন্দি জীবনকে মেনে নিয়েছেন হাসিমুখে। সেলে সবাই সবার দুঃখকে নিজের করে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। কিন্তু কোথায় যেন ছন্দপতন! দিনশেষে সবাই একা। কারো হিমা,অশোকা চলে যাচ্ছে চিরদিনের জন্য, কারো বা পরিবার দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত,যখন জেলখানায় দুঃখভরা এসব সন্দেশ আসে তখন মুহূর্তে যেন সব থমকে যায়,তখন বন্দিদের মন প্রশ্নবাণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ওঠে। কেন তারা আজ জেলে? কী লাভ তাতে? বন্দিদের অনেকেই এ প্রশ্নবাণ সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন আবার কেউ কেউ শতকষ্টেও রণে ভঙ্গ দিতে নারাজ। এমন সব ঘটনাকে দৈনন্দিন জীবনের সহজতর ঘটনার মতো বলেছেন রাজবন্দি শহীদুল্লাহ কায়সার।
পাকিস্তানী স্বৈরাচারী সরকারের বিরোধিতা করে বামপন্থী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার দরুণ রাজবন্দী হিসেবে ঢাকার কারাগারে অন্যান্য বন্দীদের সাথে বন্দী হন শহীদুল্লা কায়সার। জেলে গেটে উনার সাথে দেখা করতে আসেন অনুজ জহির রায়হান। হাতে ধরিয়ে দেন একটি খাতা। দীর্ঘ আট বছরের কারাবাসের বিভিন্ন মুহুর্ত গল্পের মতো করে লিপিবদ্ধ করেছেন লেখক। শহীদুল্লাহ কায়সারের লেখা আমার আগে পড়া হয়নি। এটা উপহারে পাওয়া বই ছিলো বিধায় পড়ে ফেললাম। সত্যি কথা বলতে বইটি নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে সেই তুলনায় পড়তে গিয়ে ততটা মুগ্ধতা আসেনি আমার। ব্যক্তিগত রেটিং করতে বললে পাঁচের মধ্যে আড়াই দিবো।
অনুজ প্রতিম জহির রায়হানের থেকে পাওয়া একখানা খাতায় , পাকিস্তানি সামরিক শাসনামলে সুদীর্ঘ ৮ বছরের কারাবাসের বিভিন্ন মুহূর্তের উপলব্ধি লিপিবদ্ধ করেছেন শহীদুল্লা কায়সার । ডায়রিটা গড়পড়তা ডায়রিগুলোর মত নয় ; পড়ে মনে হয় যেন একটা গল্প লেখা হয়েছে। গল্পটা সত্যি কিনা , নাকি সত্যিটাকে গল্পের মত করে লেখা হয়েছে - এই দোটানা রয়ে গেল মনে। পড়তে গিয়ে মনে হয়েছিল যেন দীর্ঘ কারাবাসে নিজের আর কারা সহযাত্রীদের নৈর্বক্তিক জীবন কেই তিনি তাঁর সৃজনশীলতা দিয়ে সাধারণের থেকে আলাদা করে তুলে ধরেছেন। কবি চরিত্রটিকে মনে হচ্ছিল যেন লেখকেরই অন্য এক সত্ত্বা। যেন বহু মানুষের অবিমিশ্র কণ্ঠকে ধারণ করেছেন তিনি তাঁর কলমে। পড়া শেষে মনে হল, বলবার ঢংটা গল্পকারের মত হতে পারে, কিন্তু এই তো জীবন। দীর্ঘ অনিশ্চিত কারামেয়াদ যাদের জীবনে ট্র্যাজেডির চিহ্ন এঁকে দিয়ে গেছে , এ তো তাদেরই কথা ।
কারাগারের চার দেয়ালের অবরুদ্ধ গণ্ডিতে অত্যল্প আয়োজনে নিত্য যাদের বাঁচার চেষ্টা, অবরুদ্ধতার গ্লানি, সঙ্গী- সহযাত্রীদের সঙ্গে একটা স্নেহের যে বোঝাপড়া আর বাহিরে যে মানুষগুলোকে ফেলে আসা হয়েছে তাদের জন্য নিরন্তর অপেক্ষা । পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আরোপিত এই নির্মম দীর্ঘ কারাবাস কিভাবে বন্দীদের এবং তাদের পরিজনদের শারীরিক ও মানসিক জীবন কে বিষিয়ে তুলেছিল তার একটা কনটেম্পোর্যারি লিটার্যারি রিপ্রেজেন্টেশন _
"জড়দগব হইনি কিন্তু কোথাও যেনো জড়তা চলে এসেছে। চিন্তায় এবং চৈতন্যে এমন এক ধরনের শৈথল্য এসেছে যার নাম হয়তো স্থবিরতা। হ্যা, তাই হবে। নইলে খলিল, হাসিব, মন্টু আর রশিদ, যখন দেখি বাইরের পৃথিবী ছায়া ফেলেছে ওদের চোখে, ওদের চোখে ফেলে আসা সেই চলমান পৃথিবীর হাতছানি, যখন গোল হয়ে ঘরের কথা বৌ ছেলেমেয়ের কথা, ক্ষেত কারখানার কথা, আপন আপন কর্মভূমির কথা, বলতে বলতে নিজেদের হারিয়ে ফেলছে ওরা, তখন আপনার মাঝে কেন তার প্রতিধ্বনি খুজে পাইনা আমি? তখন কেন এত অসহায় আর নি:সংগ মনে হয় নিজেকে? উদার উন্মুক্ত প্রান্তর, আলো ভরা বাতাস খেলা পৃথিবী, আমার এই প্রিয় বস্তুগুলোর কথা আমি ভাবিনা। আনমনা হইনা। কথাটা কি আমি প্রকাশ করতে পারি? পারি না। কিছুটা ভয়, কিছুটা সংকোচ। শুনতে বন্ধুরা বলবে তোমার মাঝে হতাশা আসছে, জীবনন্বেষা হারিয়ে ফেলছো তুমি।"............... নিজের সাথে বেশি মিলে যায় এই কথাগুলো। কংক্রিটের শহুরে বন্দী কারাগারে টিকতে গিয়ে জীবনকে উপভোগ করতেই ভুলে গেছি হয়তো। লেখকের মতন আপনার মাঝে আর কোন প্রতিধ্বনী খুজে পাইনা, প্রিয় বস্তুগুলোর কথা ভাবিনা, আনমনা হইনা। হতশা গ্রাস করেছে এই বিশাল কারগারে। অসাধারণ কিছু সময় কেটেছে এই বইটির সাথে। ধন্যবাদ শহীদুল্লা কায়সার কে।
শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন ও আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণই করেননি শুধু, সামনে থেকে নেতৃত্বও দিয়েছেন৷ আর সেজন্য বহুবার তাঁকে বহুমেয়াদে কারাবরণ করতে হয়। তেমনি এক কারাবরণের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগরে রাজবন্��ী হিসেবে অবস্থানকালে ছোট ভাই জহির রায়হানের অনুরোধ “রাজবন্দীর রোজনামচা” স্মৃতিকথাটি রচনা করেন।
খুব প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এই বইটি। শব্দের ব্যবহার, বাক্যের বিন্যাস — সবকিছুতেই এক চমৎকারিত্ব ফুটে উঠেছে। এক অদ্ভুত কাব্যময়তা রয়েছে শহীদুল্লা কায়সারের লিখায়। কারাগারের প্রাত্যহিক, হয়তো খুব স্বাভাবিক, ঘটনাগুলো তাঁর কলমের ছোঁয়ায় লাভ করেছে অসাধারণত্ব। অনুভূতিগুলো তাঁর লিখায় এতোটাই বাস্তব যে পাঠকের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।
তবে, তাঁর এই স্মৃতিকথায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের তেমন প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়নি৷ তিনি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, তাঁর সহ-বন্দীদের কে কোন ধারার রাজনীতি করতো তার তেমন আভাস পাওয়া যায়নি। মনে হয়েছে সবার একটিই লক্ষ্য — স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীন একটি দেশ গঠন৷ দেশের তরে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে হলেও মুক্তি তাঁদের চাই-ই।
রাজবন্দী শব্দটার মধ্যে ফ্যান্সি একটা ব্যাপার থাকলেও তাদের বন্দীদশার মধ্যে কিন্তু সেরকম কিছু ছিল না। চার দেয়ালে ঘেরা এক অচলায়তন, আর তার ভেতরই কিছু বন্দী মানুষ তাদের দিন পার করছে প্রতীক্ষায়। প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখবার জন্য গুনে চলেছে দিন। চারিদিকে মনকে বিষণ্ণ করে তোলা এক স্থবিরতা! সময় কাটে না! প্রিয় মানুষের চিঠি আসে না...এই মানুষগুলো কিন্তু ঐ চারটি দেয়ালের মাঝেই নিজেদের একটি জগৎ গড়ে তুলেছিল। তর্কে-বিতর্কে, গানে-আড্ডায় মুখরিত হত এই অচলায়তন। কিন্তু বাতি নিভে গেলে, টিমটিম করা লণ্ঠনের আলোয় আবার সেই একাকীত্বতার ছায়া ঠিকই ফিরে আসে! শহীদুল্লাহ কায়সার পড়লাম এই প্রথম। জহির রায়হানের কাছ থেকে পাওয়া খাতায় তাঁর রাজবন্দী হয়ে কাটানো দিনগুলোর কথা পড়তে খারাপ লাগে নি। নিত্যদিনের ঘটনা লেখা হলেও লেখার ঢং-টা ঠিক ডায়রি লেখবার মত ছিল না। অনেক অংশে মনে হয়েছে কোন গল্পই পড়ছি। তবে যা না বললেই নয় তা হল, লেখকের লেখা আমাকে ঠিক ঐভাবে টানে নি। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হই নি। তাই তিন তারা আমার পক্ষ থেকে। :)
শহীদুল্লাহ কায়সারের "রাজবন্দীর রোজনামচা" নিয়ে কোন আলোচনা দেখিনা কেন? বইটা বছর দুই আগে পড়েছিলাম। বাংলা সাহিত্যে এর মতো অসাধারণ কিছু খুব কমই পড়েছি এখন পর্যন্ত। এর সাহিত্যগুণ, বলার ভঙ্গি, বিপরীতমুখী দর্শনের কলহের মধ্যে দিয়ে উত্তর পাওয়ার আকাঙ্খা। এ ঠিক একটা উপন্যাস নয়, একটা ব্যাক্তিগত ডায়েরী। আবার ঠিক ডায়েরী ও নয়, অসাধারণ সাহিত্য।
একটি ডায়েরি। এক রাজবন্দির ডায়েরি। জেলখানায় বসে লেখা। কারাবন্দী এই মানুষগুলোরও আবেগ রয়েছে। ভালোবাসা রয়েছে। সংসার রয়েছে। কারাগারের অন্ধকারেও আনন্দ খেলা করে, হতাশাময় শৃঙ্খল বন্দি জীবনেও আশার আলো দেখা যায়। আছে বন্ধুত্বের গল্প, আছে বিচ্ছেদের কথা।
শতবর্ষের পুরানো কারাগারেও নীল অপরাজিতা বেড়ে উঠে, শিউলি ফুল ছড়িয়ে থাকে উঠানে...
একটু ভিন্ন ধারার বই। শক্তিমান লেখকের সাবলীল লেখনীতে ফুটে উঠেছে কারাগারের চার দেয়ালের দিনলিপির বর্ণনা। ডায়েরীর আদলে লিখা কোন কোন যায়গায় একটু ধীর মনে হতে পারে, কিন্তু সব মিলিয়ে পড়াটা সার্থক হবে এটুকু বলতে পারি।