What do you think?
Rate this book


Hardcover
বালক জানে না তো সময় প্রতিকূল
ফুলের নামে কতো কাঁটারা জেগে থাকে।
.....
বালক জানে না তো,কতোটা হেঁটে এলে,
ফেরার পথ নেই,থাকে না কোনোকালে।
এক সদ্য আঠারোয় পা দেয়া কিশোরীর গল্প বলার ছলে লেখক আসলে বিচ্ছেদ-পরবর্তি এক সাবেক দম্পতির প্রতিদিনকার দোটানা গুলোই ধরতে চেয়েছে কাচের দেওয়াল। কিশোরি বৃষ্টির মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে তার ছোট বেলাতেই, তাই বাবা-মা কে একসাথে পাওয়ার আনন্দ সে বলতে গেলে পায়ই নি। যতটা তার স্মৃতিতে আছে, তার অধিকাংশই ঘাত-প্রতিঘাতের ভগ্নাংশ, কারণ ততদিনে ভালোবাসার ধাপ পেরিয়ে বাবা-মা পৌঁছে গিয়েছিলেন একে অপরকে অফুরন্ত ঘৃণা করার ধাপে।
মা 'জয়া' একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, নামকরা আঁকিয়ে। দেশ-বিদেশে যার ডাক পরে। জয়ার প্রতিভা এবং পরিশ্রম এই দুইয়ে মিলেই তার ক্যরিয়ার দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, ডিভোর্সের পরও কখনো নিজেকে নিয়ে অসহায় বোধ করেনি সে। সে খাঁটি শিল্পী, একজন শিল্পীসত্বার নিজেকে বুঝতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেকেই অধিকাংশ সময় দিতে হয়। এটা শিল্পের দাবি, সেখানে পরিবার-পরিজন কেউই মুখ্য নন। এটা যুগে যুগে ইতিহাসই দেখিয়ে গেছে। জয়া একজন শিল্পী বলেই ডিভোর্সের পর সে ডুব দিয়েছে নিজের মাঝে, অন্য কোন কিছু নিয়েই তার মাথাব্যথা ছিলো না। মেয়ে কে নিয়েও নয়।
বৃষ্টির বাবা 'সুদীপ' এখন উচ্চপদস্থ মার্কেটিং অফিসার। নতুন করে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন তিনি। একটি ছেলে এবং বাধ্যগত স্ত্রীকে নিয়ে ছিমছাম সংসার। জয়ার তরফ থেকে যে একান্ত মালিকানা তিনি পাননি, ২য় স্ত্রী রীতা তাকে সেই পুর্ণ মালিকানা দিয়েছেন। কিন্তু তার সেই বহু আকাঙ্খিত সুখ কখনোই ধরা দেয়নি।
উপন্যাসের মূল চরিত্র বৃষ্টি হলেও, তাকে একেবারেই ভাল লাগেনি। অবশ্য ভাললাগার জন্য Suchitra Bhattacharya লেখেনও নি। বৃষ্টি একটি পরিপক্ক (ইঁচড়ে পাকা যাকে বলে) এবং অতি আবেগি চরিত্র। বাবা-মা'র বিচ্ছেদের পর তাদের অতি আদর এবং উদাসীনতা তাকে ক্রমে দূরে ঠেলে দিয়েছে পরিবার থেকে। বছরের পর বছর সে একটি স্বাভাবিক পরিবারের জন্য গুমরে মরেছে কিন্তু তাকে কখনওই হয়তবা বুঝিয়ে বলা হয়নি, বাবা-মা কেন আলাদা হলেন, না হলে পরিস্থিতিটা কি দাঁড়াত। তার মা যে আর সাধারণ মায়েদের মতো না, তার বাবার যে সুখী থাকা টা অন্যায্য নয় এগুলো কিছুই সে গভীরভাবে ভেবে দেখেনি। গভীরভাবে ভাবাটা হয়ত ওর বয়সের পক্ষে আশা করাও যেত না, কিন্তু একই উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন বৃষ্টি হয়ত আরেকটু গভীরভাবে ভাবতে পারত। সায়নদীপ, দেবাদিত্য তো ভেবেছিল। গা ভাসিয়ে দেয়নি। বৃষ্টি ভাবেনি।
জয়ার চরিত্রটা ভালো লেগেছে তার ব্যক্তিত্ব, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, নিজের জন্য লড়াই করবার ক্ষমতা আর সচরাচর বাঙালি মেয়ে না হয়ে ওঠার শক্তির জন্য। নিখিলের চরিত্রটি ভালো লেগেছে তার নিপাট বন্ধুত্বের জন্য। সায়নদীপকে ভালো লেগেছে তার আত্মশক্তির জন্য। বিরক্তি ছিল বৃষ্টির বন্ধুদের দলটার প্রতি। কাদের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত না সেটার খুব ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় এখান থেকে।
খুব ছোট একটা উপন্যাস, এক বসায় পড়ে উঠার মত। কিন্তু সমসাময়িক একটা গল্প। পড়লে আনন্দই হবে আশা করি, পড়ার আনন্দ।