সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রূপসী বিদিশার লোভ ছিল আরও উপরে ওঠার। তার বিয়ে হয়েছিল এক ধনী ঘরে। কিন্তু সুখের শুরুতেই বিদিশার জীবনে নেমে এল এক সর্বগ্রাসী বিভীষিকা। শুরু হল ব্ল্যাকমেলিং। টেলিফোনে এক ধাতব কণ্ঠস্বর তাকে ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে চলেছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে বিদিশার সমস্ত অতীত-বৃত্তান্ত ফাঁস হয়ে যাবে। টাকা জুগিয়েও নিস্তার নেই। হঠাৎ ঘটে গেল এক নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। অদৃশ্য আড়ালে কে এই ব্ল্যাকমেলার? বিদিশা কোন পাপের ফল ভুগছে? নিজের লোভের? নাকি বহুচারিতার? রহস্যের জটিল জাল ছাড়াতে এগিয়ে এল স্বনামখ্যাত গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা ওরফে মিতিন। কাকে সন্দেহ করছে মিতিন? কীভাবেই বা সে উন্মোচিত করল রহস্যের ঘেরাটোপ? চেনাজানা চরিত্রকে নিয়ে লেখা এই উপন্যাসের পরতে পরতে চমক। নিছক রহস্যকাহিনী নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু এই উপন্যাস। সমসময়ের প্রতিচ্ছবি।
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
গল্পের মূল চরিত্র বিদিশা। তার বিয়ে হয় একটি সমৃদ্ধ ও সচ্ছল পরিবারে। বিদিশা ও অর্চিষ্মান দুদিনের ছুটিতে দীঘা বেড়াতে যায়, সেখানেই দেখা হয় তার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় অচেনা নম্বর থেকে ফোন। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেইলিং। ক্রমশ সেই অচেনা ব্যক্তির দাবী দিন দিন বাড়তে থাকে, ঘটতে থাকে একের পর এক অঘটন, চুরি থেকে শুরু করে একটি জলজ্যান্ত খুন! বিদিশা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে অর্চিষ্মান দ্বারস্থ হয় প্রজ্ঞাপারমিতার ওরফে মিতিনমাসি। অভিযুক্ত কি বহিরাগত? নাকি বিদিশার পরিচিত কোনো কাছের মানুষ?
"পালাবার পথ নেই" মিতিনমাসিকে নিয়ে লেখা লেখিকার প্রথম উপন্যাস। শুরু থেকে শেষ অবধি উপভোগ করার মতো একখানা বই বটে। এও এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। পুরো তদন্ত উত্তেজনায় ভরপুর।চরিত্রগুলো এতটাই বাস্তবিক, পড়তে পড়তে পুরো দৃশ্যটাই যেন চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। গল্প যত এগোয়, খুব মনোযোগ সহকারে পড়লে বোঝা যায়, লেখিকা প্রত্যেকটি চরিত্রের বর্ণনা অত্যন্ত সূক্ষ ও সাবলীল ভাবে করেছেন।
This book is one of the most acknowledged "Mitin Masi" series by Suchitra Bhattacharya. Mitin Masi is a female detective created by Suchitra Bhattacharya. she has solved numerous cases. Her adventuresare enjoyable by children and adults. Now, this story has a bit adult side. So parental-guidance is necessary for minors. i think all books in the series are equally thrilling and enjoyable. As it is a detective story so obviously Mitin Masi is my favorite. this book is about a newly wed wife who is being blackmailed by someone related to her family, being told that her past histories will be exposed, that will destroy hr marital life; unless she pays the ransom. The characters are so real that it will make you imagine that you have been put in the crime plot. all characters will have distinct face in your mind while reading this book. The story-line is very much gripping, that when i bought this book, i kept on turning the pages, even in time of my studies, hiding from my parents,lol. In some stories you can guess who is the criminal. but the main attraction of this book is , you can't even guess who is the criminal, and more interestingly, you will be spell-bound when you know the actual brain behind those crimes. my favorite part is at the ending of the book when you get to know who is the real villain. I personally could not dislike any part of the book. but what i disliked is the mischievous behavior of the victim, which you will know when you read it. i disliked victim on principles. however the author has played beautifully with the name of the male characters, which i think will be loved by anyone who loves bengali and has a large vocabulary storage. once again the story has some an essence adult feeling, emotions and some adult relationships. so parents should guide their children to read this book. but as a whole, you will just love the book. I will give 10 out of 10 to this book and 5 stars.
এই প্রথম, প্রথম কি?হ্যা এই প্রথম মিতিন মাসী ওরফে প্রজ্ঞাপারমিতার টিকটিকিগিরি পড়তে যেয়ে আফসোস করিনি,মুখ কুঁচকে যায়নি,ঠোঁট ফুলিয়ে নিজের পছন্দকে নিন্দে মন্দ করতে হয়নি.
উফফ্ মনে হচ্ছিল মিতিনের হাত গলে এবার ঠিক পালাবার পথ বের করে নিবে অপরাধী নয়তো আমারই পালাতে হবে (আরেকটা বাংলা সিরিয়ালের হাত থেকে আর কি!) কিন্তু শেষরক্ষা হয়েছে এবার
Palabar Poth Nei by Suchitra Bhattacharya is a romantic thriller novel in which Bhattacharya introduced her female sleuth, Pragyaparomita Mukherjee a.k.a Mitin Mashi. The plot revolves around a newly married woman who is blackmailed by an unknown caller for her allegedly ‘immoral’ past. The plot is riveting and the writing is vivid, which never for once loses its pace. The novel does not merely focus on solving the mystery and unveiling the identity of the mysterious blackmailer rather Bhattacharya in her signature style explores the intricate labyrinth of human nature and relationships. She also compels the reader to rethink the conventional concepts of morality and impurity. None of the characters could be divided into absolutely good and absolutely bad. There is no black and white dichotomy in the narrative rather each of the characters dwell in a grey zone which makes them complex and consequently real, flesh and blood human beings. I have never been disappointed by any work of Suchitra Bhattacharya and Palabar Poth Nei is no exception. It’s a complex and wonderful novel and additionally it introduces my most favourite character, Mitin Mashi. Reading this novel had been a delectable experience for me and I might return to it again, sometime in future. My Rating - 5 ⭐
শুরুটা বেশ সাদামাটা ছিলো। বিদিশা নামের একটি মেয়ের গল্প, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম, বিয়ে হয়েছে উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলের সঙ্গে। ছ'মাস পর বিদিশার কাছে টেলিফোনে হুমকি আসে, টাকা না দিলে বিদিশার অতীতের কুকর্ম শ্বশুরবাড়িতে ফাঁস করে দেওয়া হবে। ঘাবড়ে গিয়ে সে টাকা দিয়েও দেয়, কিন্তু পরে সে আরও বিপদে পরে যায়, তার পুরনো প্রেমিক খুন হয়ে যাওয়ার পর... এতটুকু উব্দিও বেশ সহজসাপ্টা মনে হচ্ছিলো, কারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ার কারণেই বিদিশা অনেক উঁচুতে ওঠার স্বপ্ন দেখতো, একের পর এক প্রেম করে, উপহার নিয়ে সবাইকে ছুঁড়ে ফেলে দিতো। কিন্তু ব্ল্যাকমেলাররা যখন আরও টাকা চাওয়ার পাশাপাশি ওকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করলো, তখনই গল্পে নতুন চরিত্রের আগমন ঘটে! মিতিনমাসি ! মিতিনমাসি সিরিজের প্রথম বই এটি। জানা ছিলোনা বলেই বোধহয় অবাক হয়েছিলাম, তবে মিতিন যেভাবে সব রহস্য উন্মোচন করেছে ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক..
বিদিশা অসাধারণ রূপবতী, তাই সে তার এই ফাঁদে অনেক ছেলেকে আটকেছে এবং তাদের থেকে যথাসম্ভব আদায় করে নিয়েছে। যখন ফাঁদে আরেকটাকে (এথলেট) আটকেছে তখন হঠাৎ করেই ধনাঢ্য পরিবারের সাথে তার বিয়ে হয়ে যায় এবং পুরাতন প্রেমিক বেমালুম ভুলে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই ব্লাকমেইল ফোন আসে এবং বলে সে বিদিশার পূর্ব কীর্তি সব স্বামীর কাছে ফাঁস করে দেবে যদি পাঁচ লাখ টাকা না পায় কয়েকদিনের মধ্যে। বিদিশা এথলেটকে সন্দেহ করেছিল তাই তার সাথে দেখাও করে এবং ঘটনা খুলে বলে,এথলেট জানান সে এর সাথে জড়িত নয় তবে সে বিদিশাকে আসল কালপ্রিট ধরতে সাহায্য করবে যেহেতু সে সত্যিকারে ভালবেসেছে। কিন্তু এর দুইদিন পর ওই এথলেট RTA তবে মারা যায়। রহস্য ক্রমশ ঘনিয়ে আসে এবং মিতিন তথা প্রজ্ঞা পারমিতা প্রবেশ করে এবং সে এই জাল থেকে সত্যিটা বের করে আনে। দেখা যায় প্রাক্তন প্রেমিক নয় বরং বর্তমান শ্বশুর বাড়ি থেকেই এ ষড়যন্ত্র চলছে..... অসাধারণ একটি গল্প, পড়ার মতন তো বটেই।
Bidisha is handpicked by Dinanath Rudra to be his daughter-in-law. With her greed for luxurious living Bidisha is so called 'happily married' although her husband, Archishman Rudra, is years older to her and they have hardly anything in common. However, her utopian existence does not continue for long as soon her past comes to haunt her...... a freak phone call..... demand for money.... and then a murder ....Bidisha is a nervous wreck. Will Mitin, the rookie private detective, will be able to reinstate Bidisha as the adorable daughter-in-law of the Rudra family?
ধনী পরিবারের বউ বিদিশা তার বিবাহ পূর্ব সম্পর্কের কারনে সব সময় আতঙ্কে থাকে, যদি কেউ জেনে যায়। এই আশঙ্কাই সত্যি হল যখন ফোনে কেউ একজন পূর্ব সম্পর্ক ফাঁস করে দেওয়ার পরিবর্তে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে চুরি আর খুন ও হয়। এগুলি কি একই সূত্রে গাঁথা না নিছকই বিচ্ছন্ন কিছু ঘটনা। বইয়ে ডিটেকটিভ গল্পের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের যখন ধনী পরিবারে বিয়ে হয়, তখন তার পরিবার বা নিজের মানসিকতার যে পরিবর্তন ঘটে তার ও রেশ পাওয়া যাবে।
আমার পড়া প্রথম মিতিন মাসীর বই, রহস্য, টুইস্ট , থ্রিল ভালোমতোই আছে, উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে মিতিন মাসি চরিত্র টি। রহস্যের পাশাপাশি লেখিকা উন্মোচন করেছেন মানব মনের রহস্যময় দিকগুলোও। পাঁচ রেটিং দেয়াই যায়।
মিতিন মাসির উপন্যাস আমার খুব একটা বেশি পড়া নেই, তাই সুচিত্রা ভট্টাচার্যের অন্যান্য উপন্যাসের মতই পড়তে শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয় পর্ব শুরু করতেই ধাক্কা খেলাম মিতিন মাসির আবির্ভাবে। বেশ টান টান উত্তেজনা আর থ্রিল, সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর উপভোগ করেছি সম্পূর্ণ উপন্যাসটা।
উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ভালো। টানটান উত্তেজনাও আছে। কিন্তু সব চরিত্রের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত দিক দেখানোটা উপন্যাসটিকে নীরস করে দিয়েছে। মোটের উপর মন্দ না। পুনশ্চ - ১৬ ঊর্দ্ধ বয়স্কদের জন্য।
মিতিন মাসি ধারণাটাই আমার ভীষণ দারুণ লেগেছে। মিতিন মাসি ঠিক যেন বাসার পাশের মিষ্টি মাসিটা। এত মিষ্টি একজন গোয়েন্দা, বেশ অন্যরকম একটা ব্যাপার। আর সুচিত্রা ভট্টাচার্য-র লেখনিতেই বেশ আরাম আরাম একটা ব্যাপার আছে। পরীক্ষার মধ্যে এজন্য সুচিত্রা পিসিই ভরসা!
প্রাপ্তবযস্কদের থ্রিলার তাই উপন্যাসের মাঝখানে হঠাৎ মিতিন মাসির আগমনে বেশ অবাক হতে হয় । গল্পের বিন্যাস বেশ, বিশেষ করে থ্রিলার এর উপকরণ অনুসারে সূত্রের জাল বিস্তার এবং শেষে রহস্য উন্মোচন বেশ জমজমাট। যারা পড়েননি পড়ে দেখতে পারেন।
মিতিন এর নাম শুনেছি প্রায় অনেকদিন । সেই আগ্রহে বইটি নেওয়া কিন্তু পরে দেখার সুযোগ হয়নি এতদিন। হঠাৎ হুজুগে দুদিন হল বইগুলো নেড়ে চেড়ে দেখা। ভালো বইটি জানতাম but সহজ সরল ভাষায় , অতিরিক্ত বাক্য না খরচ করে লেখা মন জয় করে নিয়েছে ।
একটাই খারাপ লাগা , অর্ক এর খুনের শাস্তি টা ঠিক হল না । একটা গরীব ঘরের ট্যালেন্টেড ছেলে, যার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চলে গেল কিন্তু বড়লোক খুনি তার ঠিকমতো শাস্তি পেল না । যেন একটা রিয়েল লাইফ এ টাকার পাওয়ার ফুটে এল শেষের দিকে।
লাইনটা কেটে দিয়েছিল বিদিশা প্রথমবার, হেঁয়ালি বা উড়ো ফোন ভেবে। আবার এলো। পঞ্চাশ হাজার টাকা চাইলো রহস্যময় কন্ঠস্বর। বিদিশার পায়ের নিচের জগত টলিয়ে দিয়ে বললো, 'সব ফাঁস করে দেব। সমস্ত প্রমাণ আছে আমার কাছে।'
সরসর করে চোখের সামনে টুকরো স্মৃতি উড়ে এলো বিদিশার। সেই মহিম হালদার লেনের বাবার বাড়ি৷ পলেস্তারা খসা দেয়াল, সর্বাঙ্গে দারিদ্র্যের ছাপ, ওখানে জীবনের চব্বিশ বছর কাটিয়েছে বিদিশা। মধ্যবিত্ত ঘরের রূপসী মেয়েটি কম বয়সেই নিজের রূপকে ব্যবহার করা শিখে নিয়েছিল। টুকটাক যে শখগুলো বাবা-মা পূরণ করতে পারতেন না, তাই পুষিয়ে দিত কলেজের মিহির, তারও আগে ভাস্কর... অরুণ... এরপর অর্ক...!
শ্বশুরমশাই দিননাথ রুদ্র নিজে বাড়ি বয়ে এসে বিয়ের কথাটা পেড়েছিলেন। রাস্তায় বিদিশাকে দেখে তাঁর ভারী ভালো লেগেছে, মা-মরা ছেলে অর্চিষ্মানের জন্য এমন লক্ষীই ঘরে নিতে চান। বনেদী বংশ, বিশাল আদি ব্যবসা, সল্টলেকে প্রাসাদের মতো বাড়ি - বয়সের পার্থক্য থাকলেও বিদিশার মা-বাবার আপত্তি করার কোনো কারণ ছিল। ব্যস, রূপকথার গল্পের মতোই সব ভুলে ঘুঁটেকুড়ানি থেকে রাজরাণী হয়ে গেল বিদ��শা।
কিন্তু সেসব জীবন তো পেছনে ফেলে এসেছে কবেই। কে আবার নিস্তরঙ্গ পুকুরে ঢেউ তুললো? লুকিয়ে গয়না বেচে টাকা জুগিয়েও নিস্তার পেলো না, আবার এলো ফোনটা। এবার চাই দু লাখ। বাপের বাড়িতে সস্তার খোপে লুকিয়ে রাখা প্রেমপত্রগুলোও চুরি হয়ে গেল! তারপর ঘটে গেল নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড!
বিদিশাকে আমূল কাঁপিয়ে দিয়ে সেই পুরনো ধাতব কন্ঠস্বর বেজে উঠলো ফোনে 'কেমন লাগছে এখন, বিদিশা?'
কে এই খুনী ব্ল্যাকমেইলার? বিদিশার অতীত লোভ আর স্বার্থপরতার শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে? কোনো পুরনো প্রেমিক? আপন অকর্মণ্য দাদা চিত্রভানু? নাকি স্বামী অর্চিস্মানই?
সাহায্য করতে এগিয়ে এলো গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জি ওরফে মিতিন।
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র মিতিনকে নিয়ে যেমন কিশোর কাহিনী লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন বড়দের জন্যও। চার বছরের ছেলে বুমবুম আর স্বামী পার্থকে নিয়ে মিতিনের সংসার। এরমাঝেই তার শখের গোয়েন্দাগিরি। স্বামীপ্রবরটি মনখোলা মজার মানুষ, নিজেকে নির্দ্বিধায় মিতিনের সহকারী পরিচয় দেয়। দুজনে মিলেই গোয়েন্দাগিরিটা করে, তবে বুদ্ধি খেলানোর কাজটা মিতিনের।
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তিনি মেয়েদের নিয়ে লেখেন, মেয়েদের জন্য লেখেন। তার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র তাই নারীই হন। সুচিত্রার মতো করে নারীর মনস্তত্ত্বে উঁকি দিতেও আর কেউ পারেন না।
বিদিশার চরিত্রটিও লেখিকা ফুটিয়ে তুলেছেন এমনই এক দক্ষতায়। মধ্যবিত্ত পরিবারে রূপ-লাবণ্যকে পুঁজি করে বিদিশার পথ চলা, এবং একসময় অর্থবিত্তের লোভে বিয়ে করে ফেলাটা প্রাথমিক দৃষ্টিতে নারীত্বের প্রতি অপমান মনে হতে পারে। কিন্তু তলিয়ে ভাবলে এমন চরিত্র খুব বাস্তব, আমাদের চারপাশেই আছে। যদিও বিয়ের পর বৈভবের জীবনে বিদিশা জীর্ণ বাপের বাড়িকে করুনার চোখে দেখে, কিন্তু তার ওপর ঠিক রাগ হয় না। বরং পাঠকের তার জন্য একরকম মায়াই হবে।
মানবচরিত্রের জটিল সমীকরণের পাশাপাশি, গল্পের রহস্যের জায়গাটাও লেখিকা রেখেছেন একদম ঠিকঠাক। চমৎকার সব মোড় আছে কাহিনীতে, টানটান উত্তেজনা, গল্পের গতি এবং পরিণতি সব যুৎসই বলা যায়। সেইসাথে আছে মিতিনের বুদ্ধির ধার এবং পার্থকে সাথে নিয়ে রহস্যের সুতাগুলো জোড়া লাগানো।
তবে এটিকে কেবল রহস্য উপন্যাস বলা চলে না। ফেলে আসা পাপের ঝলক, অন্যায়ের মূল্য চুকানো এবং পরিতাপের গল্প বলেছেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য। লোভ-কামনা-বাসনার যে পাপ, তার দাম না দিয়ে মানুষের পালিয়ে থাকতে পারে না।
চেনাজানা চরিত্রের গল্প নিয়ে জীবনের প্রতিচ্ছবি আঁকা সুচিত্রা ভট্টাচার্যের রহস্য উপন্যাস 'পালাবার পথ নেই'।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বিদিশার বিয়ে হয় কলকাতার বনেদি রূদ্র পরিবারের একমাত্র ছেলের সাথে। সদ্য বিবাহিত এই দম্পতি একরকম ভালোভাবেই তাদের জীবনযাপন করছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের জীবনে দেখা দেয় বিপদের কালো মেঘ যার জন্য প্রাণ-সংশয় দেখা দেয় বিদিশার।
যদি আমাকে বলতে বলা হয় গল্পটি আমার কেমন লেগেছে, তাও আবার এক শব্দে, তাহলে আমি বলবো, দারুন! লেখিকা গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে খুবই সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন এবং তাদের বর্ণনাও দিয়েছেন খুবই নিপুণভাবে। তাছাড়া লেখিকার লিখনশৈলীও সুন্দর যা গল্পটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে। গল্পটিতে লেখিকা একজন বাঙালি নারী গোয়েন্দা চরিত্রকে পরিচয় করিয়েছেন পাঠকদের সাথে। এছাড়া লেখিকা গল্পটিতে অনেক খুঁটিনাটি তথ্য দিয়েছেন যা গল্পটিকে পাঠকদের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে। যদিও এটি একটি গোয়েন্দা গল্প, রহস্যগল্প; যে যাই বলুক না কেন, গল্পটিকে আমার মনে হয়েছে একটি নারী আখ্যান বলে কারণ গল্পটিতে দেখা যায়, বিপদাপন্ন একজন নারীকে উদ্ধার করেছেন আরেকজন নারী।