What do you think?


পরদেশিয়া
Bengali
116 pages, Paperback
First published January 1, 1994
About the author
Buddhadeb Guha
240 books259 followersBuddhadeb Guha (Bengali: বুদ্ধদেব গুহ) is a popular Bengali fiction writer. He studied at the well-known St Xavier's College of the University of Calcutta.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature.
He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature.
He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
March 18, 2018
বুদ্ধদেব গুহর ট্রেডমার্ক উপন্যাসগুলোর মতই এরও কাহিনি গড়ে উঠে অরণ্যকে কেন্দ্র করে।মাত্র ৬০+ পৃষ্ঠার বই।
ধূলো-বালির শহর কলকাতার মেয়ে অরাদেবী। মা-বাবা মরা মেয়ে অরা (Aura) থাকেন নিজের বড় ভাইয়ের পরিবারের সাথে। ত্রিশ বছর বয়সী অরা বিয়ে থা করেন নি। আভাস নামের একটি ছেলের কথা পাই। যার সাথে মন দেয়া-নেয়া হয়েছিল অরার। কিন্তু...
অরা বেড়াতে যাচ্ছে তার বড় বোনের কাছে। মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরের কয়লা খনির বড় চাকুরে অরার দুলাভাই। অরণ্যঘেরা সেই বিলাসপুরেই এবার নিজের প্রিয় বোন স্মৃতির কাছে যাচ্ছে অরা। কয়েকটা দিন কিভাবে কলকাতার বাইরে কাটাবে অরা তাই ভাবতে ভাবতে সে ট্রেন সফর করছে। এই ফাঁকে লেখক পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের দুর্দশা নিয়ে কিঞ্চিত সবক বাক্য দিলেন পাঠকের উদ্দেশ্যে।
রূপবতী অরাকে ট্রেন স্টেশন থেকে নিতে এসেছে কয়লা খনির আরেক কর্মকর্তা। ঔপন্যাসিক এই লোকের নাম আগে বলেন নি। তার পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিয়েছেন। যাতে অরাদেবী প্রথমেই কাৎ। ঠিক যেন বাংলা ফিল্মটি চলছে গো!
যিনি অরাদেবীকে নিয়ে এলেন তার নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেল পরদেশিয়া। নারীমহল এবং কর্মক্ষেত্রে বিপুল জনপ্রিয় মি. পরদেশিয়া।
এখানে মধ্যপ্রদেশের কয়লা খনি। এখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি আর মানুষগুলোর কথা খুব সহজ-সরলভাবে লিখেছেন বুদ্ধদেব গুহ।
এদিকে অরার সাথে সাক্ষাৎ হল বাসার গৃহকর্মী বনবাসার সাথে। সুন্দরী বনবাসাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী পাগলু (দেব নয় কিন্তু)। বনবাসার ঘটনার জন্য বুদ্ধবাবু পুরুষজাতির ওপর কুপিত হলেন। এবং নিজের নারীবাদীতা দেখালেন। এই বনবাসার মনে আবার পরদেশিয়াকে নিয়ে অনেক আশা। তা ক্রমশ প্রকাশ্য।
এদিকে, অরাদেবী এবং পরদেশিয়া সম্পর্ক জমতে শুরু করছে।বুদ্ধদেব গুহর কলমও অতিরোমান্টিক হবার ভান করছে ( বেশিরভাগ উপন্যাসে যা করেন আরকি) । পরদেশিয়া জিজ্ঞেস করে,
" বুদ্ধদেব গুহর লেখা পড় কি তুমি? "
মাত্র ৬০ পৃষ্ঠার একটা উপন্যাসে বুদ্ধদেব গুহ যতবার নিজের বইয়ের কথা, নিজের নামের উল্লেখ করেছেন তাতে বিস্মিত না হয়ে পারি নি। ভাবিই নি যে, ইমদাদুল হক মিলনের মত তিনিও রোগে আক্রান্ত।
অরাদেবী আর অর্ণব তথা পরদেশিয়ার মাঝে দূরত্ব কমে আসতে থাকে। ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। মুহূর্তরা মুহূর্তের কাছে ঋণী হয়ে তৈরি করতে থাকে মুগ্ধাতা। সেই মুগ্ধতা আবেশ কি এককেন্দ্রীক?
শেষটা তুলনামূলক ভালো লেগেছে।
যাইহোক , প্রকৃতির প্রতি ঔপন্যাসিকের অকৃত্রিম টানের বহিঃপ্রকাশ তাঁর কলমে বারবার উঠে এসেছে। মানবমন নিয়েও লেখকের পর্যবেক্ষণ মন্দ তো নয়ই। সে গদ্য রীতিমত দ্রুতপাঠ্য।
তবে এককথায় যদি বলি, ছোট এই উপন্যাসটিতে পাঠকের জন্য এমন কিছুই নেই যেজন্য সে বইটি পড়বে। অতিমাত্রায় গতানুগতিক মালমসলায় রচিত বুদ্ধদেব গুহর আরো একটি কীর্তি (বলা যাবে কি?)।
এ টুকুই বুদ্ধদেব গুহর সম্বল। তাঁর মত কাটতিওয়ালা বুঝদার লোক এমন নিজের ঢোল নিজে পেটান রোগে আক্রান্ত হওয়া ভাল লক্ষণ না।
বুদ্ধদেব গুহ আপনি দ্রুত সুস্থ উঠুন!
ধূলো-বালির শহর কলকাতার মেয়ে অরাদেবী। মা-বাবা মরা মেয়ে অরা (Aura) থাকেন নিজের বড় ভাইয়ের পরিবারের সাথে। ত্রিশ বছর বয়সী অরা বিয়ে থা করেন নি। আভাস নামের একটি ছেলের কথা পাই। যার সাথে মন দেয়া-নেয়া হয়েছিল অরার। কিন্তু...
অরা বেড়াতে যাচ্ছে তার বড় বোনের কাছে। মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরের কয়লা খনির বড় চাকুরে অরার দুলাভাই। অরণ্যঘেরা সেই বিলাসপুরেই এবার নিজের প্রিয় বোন স্মৃতির কাছে যাচ্ছে অরা। কয়েকটা দিন কিভাবে কলকাতার বাইরে কাটাবে অরা তাই ভাবতে ভাবতে সে ট্রেন সফর করছে। এই ফাঁকে লেখক পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের দুর্দশা নিয়ে কিঞ্চিত সবক বাক্য দিলেন পাঠকের উদ্দেশ্যে।
রূপবতী অরাকে ট্রেন স্টেশন থেকে নিতে এসেছে কয়লা খনির আরেক কর্মকর্তা। ঔপন্যাসিক এই লোকের নাম আগে বলেন নি। তার পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিয়েছেন। যাতে অরাদেবী প্রথমেই কাৎ। ঠিক যেন বাংলা ফিল্মটি চলছে গো!
যিনি অরাদেবীকে নিয়ে এলেন তার নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেল পরদেশিয়া। নারীমহল এবং কর্মক্ষেত্রে বিপুল জনপ্রিয় মি. পরদেশিয়া।
এখানে মধ্যপ্রদেশের কয়লা খনি। এখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি আর মানুষগুলোর কথা খুব সহজ-সরলভাবে লিখেছেন বুদ্ধদেব গুহ।
এদিকে অরার সাথে সাক্ষাৎ হল বাসার গৃহকর্মী বনবাসার সাথে। সুন্দরী বনবাসাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী পাগলু (দেব নয় কিন্তু)। বনবাসার ঘটনার জন্য বুদ্ধবাবু পুরুষজাতির ওপর কুপিত হলেন। এবং নিজের নারীবাদীতা দেখালেন। এই বনবাসার মনে আবার পরদেশিয়াকে নিয়ে অনেক আশা। তা ক্রমশ প্রকাশ্য।
এদিকে, অরাদেবী এবং পরদেশিয়া সম্পর্ক জমতে শুরু করছে।বুদ্ধদেব গুহর কলমও অতিরোমান্টিক হবার ভান করছে ( বেশিরভাগ উপন্যাসে যা করেন আরকি) । পরদেশিয়া জিজ্ঞেস করে,
" বুদ্ধদেব গুহর লেখা পড় কি তুমি? "
মাত্র ৬০ পৃষ্ঠার একটা উপন্যাসে বুদ্ধদেব গুহ যতবার নিজের বইয়ের কথা, নিজের নামের উল্লেখ করেছেন তাতে বিস্মিত না হয়ে পারি নি। ভাবিই নি যে, ইমদাদুল হক মিলনের মত তিনিও রোগে আক্রান্ত।
অরাদেবী আর অর্ণব তথা পরদেশিয়ার মাঝে দূরত্ব কমে আসতে থাকে। ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। মুহূর্তরা মুহূর্তের কাছে ঋণী হয়ে তৈরি করতে থাকে মুগ্ধাতা। সেই মুগ্ধতা আবেশ কি এককেন্দ্রীক?
শেষটা তুলনামূলক ভালো লেগেছে।
যাইহোক , প্রকৃতির প্রতি ঔপন্যাসিকের অকৃত্রিম টানের বহিঃপ্রকাশ তাঁর কলমে বারবার উঠে এসেছে। মানবমন নিয়েও লেখকের পর্যবেক্ষণ মন্দ তো নয়ই। সে গদ্য রীতিমত দ্রুতপাঠ্য।
তবে এককথায় যদি বলি, ছোট এই উপন্যাসটিতে পাঠকের জন্য এমন কিছুই নেই যেজন্য সে বইটি পড়বে। অতিমাত্রায় গতানুগতিক মালমসলায় রচিত বুদ্ধদেব গুহর আরো একটি কীর্তি (বলা যাবে কি?)।
এ টুকুই বুদ্ধদেব গুহর সম্বল। তাঁর মত কাটতিওয়ালা বুঝদার লোক এমন নিজের ঢোল নিজে পেটান রোগে আক্রান্ত হওয়া ভাল লক্ষণ না।
বুদ্ধদেব গুহ আপনি দ্রুত সুস্থ উঠুন!
January 16, 2024
"পরদেশিয়া" - বুদ্ধদেব গুহ
"শরীরের প্রেমে ক্লেশ থাকে, গ্লানি থাকে, অশরীরী প্রেমই তো প্রেম।"
"বিশ্বাস তারের বাজনারই মতন। একবার বাঁধা সুর নড়ে গেলে, তার ঢিলে হয়ে গেলে, নতুন করে সুর না বাঁধলে তা আর সুরে বাজে না।"
"শুধুমাত্র বদলের জন্যেই যদি বদলটা হয় তাহলে আমি তা ভালো বলে মানতে রাজি নই।"
"সম্মান একটা আশ্চর্য ব্যাপার। ভিক্ষা চেয়ে পাওয়া যায় না। Respect has to be commanded"
"শরীরের প্রেমে ক্লেশ থাকে, গ্লানি থাকে, অশরীরী প্রেমই তো প্রেম।"
"বিশ্বাস তারের বাজনারই মতন। একবার বাঁধা সুর নড়ে গেলে, তার ঢিলে হয়ে গেলে, নতুন করে সুর না বাঁধলে তা আর সুরে বাজে না।"
"শুধুমাত্র বদলের জন্যেই যদি বদলটা হয় তাহলে আমি তা ভালো বলে মানতে রাজি নই।"
"সম্মান একটা আশ্চর্য ব্যাপার। ভিক্ষা চেয়ে পাওয়া যায় না। Respect has to be commanded"
June 1, 2025
অবশেষে শেষ করলাম। অবশেষে এই কারণে যে বইটা আমার সাথে অনেক জায়গায় ঘুরেছে। ফার্স্ট নিয়েগেছিলাম মধ্যপ্রদেশে, তারপর আমার সাথে গেছে জার্মানি। দুবাই এয়ারপোর্টে বসে পড়েছি বইয়ের বেশ কিছু পৃষ্ঠা। তারপর বাড়িতেই আবার বাকিটা শেষ করলাম।
বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ সুন্দর । ওটা দেখেই ফার্স্ট কিনতে ইচ্ছা হয়েছিল। তারপর ব্লার্ব তো আছেই।
খুবই ছোট বই। ১১৬ পৃষ্ঠা। হালকা মেজাজের ফিল গুড বই। এই বইয়ের প্রেক্ষাপট যে জঙ্গল তা বলার অপেক্ষা রাখে না । গল্পের নায়িকা, কলকাতার অরা বিলাসপুরে তার দিদির কাছে ঘুরতে যায় আর সেখানেই তার সাথে দেখা হয় পরদেশিয়ার, অর্থাৎ গল্পের হিরোর।
পরদেশিয়া মিত্র স্পষ্টবাদী। বাংলার প্রতি তার স্বভাবতই বিশেষ টান আছে কিন্তু অরার তা নেই। বুদ্ধদেব বাবুর অনেক গল্প ও উপন্যাসে এটা খেয়াল করেছি, নায়ক গর্বিত বাঙালি হয় আর নায়িকা হয় বিপরীত। অরা চরিত্রটা এলিগ্যান্ট, সে স্ট্রং ইন্ডিপেন্ডেন্ট উম্যান। কিন্তু তার সেভাবে কোনো অহংকার নেই, বরং ব্যক্তিত্ব বেশ ইমপ্রেসিভ। ভালো লাগে তাকে। (সে রুষা নয় !) পরদেশিয়া প্রথম থেকেই অরার প্রেমে পড়ে গেলেও বইয়ের শেষে গিয়ে অরার মনেও প্রেমের জোয়ার আসে। শি ফলস লেটার বাট হার্ডার।
বইতে প্রেম, মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে আছে কিছু গভীর কথা। সাথে মানুষের সাইকোলজি নিয়েও আলোচনা বর্তমান। হালকা কথোপকথন পড়তে পড়তে এই প্রসঙ্গগুলো আচমকা হিট করে।
মন ভালো করা বই। পবিত্র প্রেম যাকে বলে। পরকীয়া নেই। ঝুট ঝামেলা নেই। কিন্তু এই বইয়ে বিশেষ কিছু আছে যা আমি আগে বুদ্ধদেব বাবুর অন্য কোনো বইতে দেখিনি। সেটি হলো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মতবাদ। এই বইতে বামপন্থা ও কংগ্রেস বিরোধী একাধিক মন্তব্য আছে। উঠে এসেছে বাংলার একের পর এক কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন, বন্ধের পর বন্ধ, বাঙালির ব্যবসার প্রতি অনীহা, কাজের প্রতি অনীহা। এসব বাংলার এক বিশেষ সময়ের কথা তো বলেই, এমনকি এর জন্য কোন মন্ত্রী দায়ী, সেটা বলতে গিয়েও কোনো রাখঢাক নেই। উনি এটিও বারবার বলেছেন যে বাঙালি হল কাঁকড়ার জাত, একে অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারেনা।
এছাড়া এই বইতে রয়েছে ওনার নিজেরই ক্যামিও। গল্পে কোন এক হোটেলে এসে উনি উঠেছেন। লেখায় নিজেকেই নিজে ট্রল করেছেন আবার নিজের প্রশংসাও নিজে করেছেন। উঠে এসেছে ওনার অন্যান্য বইয়ের প্রসঙ্গ। এমনকি মাধুকরীকে উনি ওনার ম্যাগনাম ওপাসও বলেছেন । এসেছে পৃথু ঘোষের উল্লেখও। সদ্য মাধুকরী শেষ করায় পৃথুর উল্লেখ দেখে হেসে ফেলেছিলাম। সেলফ প্রমোশন আর কি ! 😂
বইয়ের অরা, পরদেশিয়া ছাড়াও আর যে চরিত্রটা ভাল লাগে সে হল বনবাসা। শুনতে খারাপ লাগলেও মানুষের ভালোবাসাতেও যে সোশাল ক্লাস কতটা ইম্পর্ট্যান্ট, তা এই চরিত্রটাই বুঝিয়ে দেয়। হার্ড হিটিং ফ্যাক্টস !
কিন্তু সে যাই হোক, বইটা পড়তে বেশ ভালই লাগে। বইটাও হালকা ফুলকা, তাই রিভিউটাও হালকা ফুলকা!
©অর্পণ কুমার বসাক
বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ সুন্দর । ওটা দেখেই ফার্স্ট কিনতে ইচ্ছা হয়েছিল। তারপর ব্লার্ব তো আছেই।
খুবই ছোট বই। ১১৬ পৃষ্ঠা। হালকা মেজাজের ফিল গুড বই। এই বইয়ের প্রেক্ষাপট যে জঙ্গল তা বলার অপেক্ষা রাখে না । গল্পের নায়িকা, কলকাতার অরা বিলাসপুরে তার দিদির কাছে ঘুরতে যায় আর সেখানেই তার সাথে দেখা হয় পরদেশিয়ার, অর্থাৎ গল্পের হিরোর।
পরদেশিয়া মিত্র স্পষ্টবাদী। বাংলার প্রতি তার স্বভাবতই বিশেষ টান আছে কিন্তু অরার তা নেই। বুদ্ধদেব বাবুর অনেক গল্প ও উপন্যাসে এটা খেয়াল করেছি, নায়ক গর্বিত বাঙালি হয় আর নায়িকা হয় বিপরীত। অরা চরিত্রটা এলিগ্যান্ট, সে স্ট্রং ইন্ডিপেন্ডেন্ট উম্যান। কিন্তু তার সেভাবে কোনো অহংকার নেই, বরং ব্যক্তিত্ব বেশ ইমপ্রেসিভ। ভালো লাগে তাকে। (সে রুষা নয় !) পরদেশিয়া প্রথম থেকেই অরার প্রেমে পড়ে গেলেও বইয়ের শেষে গিয়ে অরার মনেও প্রেমের জোয়ার আসে। শি ফলস লেটার বাট হার্ডার।
বইতে প্রেম, মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে আছে কিছু গভীর কথা। সাথে মানুষের সাইকোলজি নিয়েও আলোচনা বর্তমান। হালকা কথোপকথন পড়তে পড়তে এই প্রসঙ্গগুলো আচমকা হিট করে।
মন ভালো করা বই। পবিত্র প্রেম যাকে বলে। পরকীয়া নেই। ঝুট ঝামেলা নেই। কিন্তু এই বইয়ে বিশেষ কিছু আছে যা আমি আগে বুদ্ধদেব বাবুর অন্য কোনো বইতে দেখিনি। সেটি হলো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মতবাদ। এই বইতে বামপন্থা ও কংগ্রেস বিরোধী একাধিক মন্তব্য আছে। উঠে এসেছে বাংলার একের পর এক কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন, বন্ধের পর বন্ধ, বাঙালির ব্যবসার প্রতি অনীহা, কাজের প্রতি অনীহা। এসব বাংলার এক বিশেষ সময়ের কথা তো বলেই, এমনকি এর জন্য কোন মন্ত্রী দায়ী, সেটা বলতে গিয়েও কোনো রাখঢাক নেই। উনি এটিও বারবার বলেছেন যে বাঙালি হল কাঁকড়ার জাত, একে অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারেনা।
এছাড়া এই বইতে রয়েছে ওনার নিজেরই ক্যামিও। গল্পে কোন এক হোটেলে এসে উনি উঠেছেন। লেখায় নিজেকেই নিজে ট্রল করেছেন আবার নিজের প্রশংসাও নিজে করেছেন। উঠে এসেছে ওনার অন্যান্য বইয়ের প্রসঙ্গ। এমনকি মাধুকরীকে উনি ওনার ম্যাগনাম ওপাসও বলেছেন । এসেছে পৃথু ঘোষের উল্লেখও। সদ্য মাধুকরী শেষ করায় পৃথুর উল্লেখ দেখে হেসে ফেলেছিলাম। সেলফ প্রমোশন আর কি ! 😂
বইয়ের অরা, পরদেশিয়া ছাড়াও আর যে চরিত্রটা ভাল লাগে সে হল বনবাসা। শুনতে খারাপ লাগলেও মানুষের ভালোবাসাতেও যে সোশাল ক্লাস কতটা ইম্পর্ট্যান্ট, তা এই চরিত্রটাই বুঝিয়ে দেয়। হার্ড হিটিং ফ্যাক্টস !
কিন্তু সে যাই হোক, বইটা পড়তে বেশ ভালই লাগে। বইটাও হালকা ফুলকা, তাই রিভিউটাও হালকা ফুলকা!
©অর্পণ কুমার বসাক
June 18, 2022
"পরদেশিয়া" বুদ্ধদেব গুহের মানসসরোবরের এক সৃষ্টি। যতটা তিনি এতে ভালবাসা দিয়েছেন তার থেকে বেশি দিয়েছেন এক নারীর সম্মান আর বাঙালি নারীদের আত্মবিশ্বাস। যে নারী চায় শব্দহীন হয়ে পথ চলতে, সে কি জানে না পথের পাশে অনেক শব্দ; যা তাকে দেখেই সৃষ্টি হয়।
এত যত্ন করে কেউ শিল্প ছাড়া আর কি তৈরী করবেন। এত যত্নে যা রক্ষা করে এলেন তিনি তা শুধু তার শরীরের পবিত্রতাই তো নয়, তার মনেরও পবিত্রতা যে! তিনি শুধু তার সৌন্দর্য নারীকেই নয় দলিত পিষ্ট করেনি, করেছে তার মনের গভীরের সব কৌসুমার্যকেও।
কত বসন্তের উজলা রাতে, গন্ধে ম ম করা হাওয়াতে মাতাল হয়েও মনে মনে তার বইকে অঞ্জলি দেয়। কত শীতের রাতে তার বইকে কল্পনাতে পাশ বালিশ করে জড়িয়ে ধরেছি। অস্ফুটে বলেছি, কাছে এসো, আরো কাছে, খুব কাছে! আমার কী নেই! তবুও তার বইয়ের একটি পাতাও আমার হয়নি।
এত মায়াবন বিহারী বই পড়লে মনে হয় হারিয়ে যাই, অজানাতে।
এত যত্ন করে কেউ শিল্প ছাড়া আর কি তৈরী করবেন। এত যত্নে যা রক্ষা করে এলেন তিনি তা শুধু তার শরীরের পবিত্রতাই তো নয়, তার মনেরও পবিত্রতা যে! তিনি শুধু তার সৌন্দর্য নারীকেই নয় দলিত পিষ্ট করেনি, করেছে তার মনের গভীরের সব কৌসুমার্যকেও।
কত বসন্তের উজলা রাতে, গন্ধে ম ম করা হাওয়াতে মাতাল হয়েও মনে মনে তার বইকে অঞ্জলি দেয়। কত শীতের রাতে তার বইকে কল্পনাতে পাশ বালিশ করে জড়িয়ে ধরেছি। অস্ফুটে বলেছি, কাছে এসো, আরো কাছে, খুব কাছে! আমার কী নেই! তবুও তার বইয়ের একটি পাতাও আমার হয়নি।
এত মায়াবন বিহারী বই পড়লে মনে হয় হারিয়ে যাই, অজানাতে।
May 25, 2024
সাহিত্য মান বিচার করলে হয়তো উপন্যাসটা তেমন কিছুই না। কিন্তু সব উপন্যাস কে সাহিত্য মান রক্ষা করতে হবে এমনটাও আমি আশা করিনা। কিছু উপন্যাস এমনিই ভালো লাগে। এটা তেমনি একটা উপন্যাস।
September 24, 2016
আমার পড়া বুদ্ধদেব গুহ'র প্রথম বই,মুগ্ধ,পবিত্র প্রেম,সম্পর্কে বুঁদ হয়ে ছিলাম।।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews







