আবার তারাপদ রায়। আবার হইহই হাসির হুররা। অনাবিল আড্ডায় অবারিত আমন্ত্রণ। সেবারে ছিল ‘কাণ্ডজ্ঞান’, এবারের শিরোনামা ‘বিদ্যাবুদ্ধি’। নাম যাই হোক, মূল সুরটি মোটামুটি অপরিবর্তিত। এক-একটি বিষয় নিয়ে একের-পর-এক খোশগল্প। দিশি, বিদেশি, চয়িত, রচিত। এক-একটি বিষয়ে আবার দু-কিস্তি, তিন-কিস্তি পর্যন্ত ছড়ানো রসিকতা। তারাপদ রায়ের গল্পের স্টকই শুধু যে অশেষ তা নয়, গল্প-বলার ভঙ্গিটিও ভারী মজলিশি। শুরু থেকেই অদ্ভুত এক আকর্ষণের চুম্বক। বিষয়ও হাজার রকমের। পরকীয়া প্রেম থেকে মদমত্ত মাতাল, দানউপহার থেকে পাগলামি আর মানসিক ব্যাধি। এ-ছাড়াও তালা, তাস, টর্চ, বক্তৃতা, ডাক্তারি, অসুখ-বিসুখ, পর্যটন, ফ্রিজ, শিশু, স্ত্রী ও মহিলা, অভিনয়, শুভবিবাহ—এমন কত। এমনকী, কুকুর-বিড়াল ইঁদুর পর্যন্ত বাদ যায়নি। সমস্ত বিষয় নিয়েই নানান মজার গল্প অথচ প্রত্যেকটি তাজা। কোনও গল্পই আগের বইতে শোনানো নয়। নিজে- নিজে একা-একা হাসতে হলে, অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে হলে, পড়তেই হবে ‘বিদ্যাবুদ্ধি’। ‘বিদ্যাবুদ্ধি’র আরেক আকর্ষণ, প্রয়াত অহিভূষণ মালিকের আঁকা বেশ কিছু ব্যঙ্গচিত্র, যা এ-গ্রন্থের জন্যই এঁকেছিলেন তিনি।