ঘরোয়া কাহিনিকে লেখনী ও প্রতিভার স্পর্শে আশাপূর্ণা দেবী অসামান্য করে তুলেছেন। সেই কাহিনির আলোর উদ্ভাসে আলোকিত হয়ে উঠেছে আমাদের চেনা ঘর। বড়দের গল্পরচনায় যেমন তেমনই ছোটদের মনের মধ্যেও তিনি একটি ঘরোয়া মজলিশি আসন পেতে নিয়েছিলেন। তিনি সেই অর্থে শিশুসাহিত্যিক ছিলেন না। ছোটদের জন্য অনেক লিখেছেন- তাও নয়। কিন্তু যেটুকু আটপৌরে অথচ অভিনব উপহার তিনি ছোটদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তাতে দরদ তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে ছোটদের মন-ছোঁয়ার জাদু। তাঁর কিশোরপাঠ্য প্রত্যেকটি রচনা সহজবোধ্য। অথচ তাতে কী সুন্দরভাবে তিনি বুনে দিতেন হাসি এবং মজার সুর। আর সব ছাপিয়ে উঠত ছোটদের জগৎ সম্পর্কে আশাপূর্ণার অন্তর্দৃষ্টি। ঘরের ছবিটা ভাল করে চিনতেন বলেই ঘরের চৌহদ্দির মধ্যে বেড়ে ওঠা এবং বেড়া-ভেঙে বেরিয়ে পড়ার জন্য উন্মুখ কিশোর-কিশোরীদের মনস্তত্ত্ব তিনি নিখুঁতভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। এই সংকলনে গৃহীত কাহিনিগুলিতে আছে তারই নিদর্শন।উপন্যাসগুলি যথাক্রমে: রাজকুমারের পোশাকে, গজ উকিলের হত্যা-রহস্য, ভুতুড়ে কুকুর, লঙ্কা মরিচ ও এক মহামানব, মানুষের মতো মানুষ, চারা পুঁতে গেলেন নান্টুপিসে, বোমার চেয়ে বিষম, সুমুদ্দুর দেখা, অলয় আদিত্যর ইচ্ছাপত্র রহস্য এবং হারানো থেকে প্রাপ্তি।