উচ্চাকাঙক্ষী, কেরিয়ার-সচেতন, ঝকঝকে সুপাত্র শৌনকের সঙ্গে তন্নিষ্ঠার বিয়ে যখন ঠিকঠাক, তখনই এই মেয়ের জীবনে এল অন্য এক যুবক। অভিমন্যু। পারফিউমের ব্যবসা করে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইছে। এই প্রজন্মের হওয়া সত্ত্বেও অভিমন্যু আর পাঁচজন তরুণ-তরুণীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। শুরু হল তন্নিষ্ঠার দোলাচল। ঠিক এই সময়ে এক নতুন সংকট ঘনিয়ে এল তন্নিষ্ঠার বাবা শুভেন্দুর জীবনেও। মাত্র তিপ্পিন্ন বছর বয়সে তাঁকে চাকরি থেকে স্বেচ্ছা-অবসর নিতে বাধ্য করল কোম্পানি। আবার যে-গ্রুপ থিয়েটারের শুদ্ধ পরিবেশে সে মুক্তি খুঁজেছিল, চেয়েছিল শিল্পের সংস্পৰ্শ, সেখানেও এখন বাণিজ্য-মানসিকতার ছায়া। এই অবস্থায় ভেতরে-বাইরে বিপর্যস্ত শুভেন্দু কি আর জীবন-নৗকাটাকে ঠিক ঠিক চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে? আর তন্নিষ্ঠাই বা বেছে নেবে কাকে? কেনই বা শিকড় যেভাবে মৃত্তিকাকে জড়িয়ে ধরে তেমনভাবে পেতে চায় অভিমন্যুকে? সুচিত্র ভট্টাচার্যের এই অভিনব উপন্যাসে তারই উত্তর।
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
ভেবেছিলাম বসন্ত থাকতে থাকতে 'অন্য বসন্ত' পড়ে নিয়ে অনুভূতির শীর্ষে উঠে, পা দোলাবো লিকপিক করে। কাজের বেলা দেখলাম উলটোটা হলো। বইটা পড়লাম ঠিকই। কিন্তু পা দোলানোটা আর হয়ে উঠলো না। কারণটা সহজ। উপন্যাসটা খারাপ না। একেবারেই খারাপ কিছু না। কিন্তু তাই বলে আবার ভালোও না। দারুন জনপ্রিয় একটি মডার্ন ক্লাসিক হিসেবে 'অন্য বসন্ত', বিস্মরণযোগ্য। একটি মাঝারি মানের উপন্যাস।
ইংরেজি মিমের ভাষায় যাকে বলে, 'মিড্'!
দুঃখজনক, বলুন? পাতলা গোলাপফুলের মতো বইটা আমার বাড়িতে আছে বহু বছর ধরে। মায়ের কেনা, পঞ্চাশ টাকা দামের সেই কবেকার আমদানি। কভারের ওপর আমার গবেট হাতে শিশুতোষ পেন্সিলের দাগ সমেত, অ্যাদ্দিনে আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার যেন।
তাই হতাশ হওয়াটা ন্যায্য। জানি না, এত অল্পে কেন এই গল্পটা বলতে গিয়েছিলেন লেখিকা। হয়তো সে সময় দাড়িয়ে, 'লেস ইজ মোর' বলে একটা উচ্চাকাঙ্খী লিট-ফিক লিখতে চেয়েছিলেন উনি। সাইলেন্স স্পিকস মোর দ্যান ওয়ার্ডস, ব্লাহ ব্লাহ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তির অভাবে বইয়ের চরিত্রগুলো ঠিকঠাক নিশ্বাস নিলো কই?
এভাবে বলতে আমারই খারাপ লাগছে।
সুচিত্রা পিসির লেখা বলে কথা। এত সুন্দর, সহজ ওনার গদ্যভাষা। কথায় বলে, ওনার কলমে মাসকাবাড়ির লিস্টও পাঠক্রমে সুপাঠ্য। বইয়ের শুরুতে তন্নিষ্ঠা ও অভিমন্যুর কথপোকথন কি সাবলীল। পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, বাহ! স্বার্থক আমার বসন্তের দুপুর। ওদিকে তন্নিষ্ঠার বাবা মায়ের ট্র্যাকটা সামান্য ক্লিশে। শুভেন্দু ও নন্দিতার বরফ শীতল দাম্পত্যে, রোমান্টিসিজম ও বাস্তববোধের চর্বিত চর্বন। যা গোটা উপন্যাসেরই মূল দ্বন্দ্ব সমান। আগেও পড়েছি অনেক কটা লেখায়। তবুও মন্দ কী?
কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কালপ্রিট ওই একই। পরিধি পাকড়াশি।
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের সাথে অঙ্কুরিত প্রেমের ঠোকাঠুকিটা, অল্পের মধ্যে খারাপ লাগলো না। সুযোগ বুঝে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির মাঝে আমাদের ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেলেন লেখিকা। সামান্য খচখচানি থাকলেও, সাহিত্যের খাতিরে ওটুকু মেনে নিলাম নাহয়। কিন্তু বাকি বইটা যে হেরে গেলো এতে। কি হতো আরেকটু লিখলে? আরেকটু সময় নিয়ে, নিজের সহজাত ক্ষমতায়, চেনা চরিত্রগুলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে? এ কী শুধুই শারদীয়ার বারণ? নাকি যেচে পরে গভীর কিছু লেখার, মিসগাইডেড প্রচেষ্টা?
দীর্ঘশ্বাস ফেলি। তিন তারা দেবো যদিও। 'মিড্' মাপকাঠি অনুযায়ী আড়াই দেওয়া উচিত হয়তো। কিন্তু বায়াসে ভুগে তিন দেবো আজ। আমার রিভিউ, আমার নিয়ম। আপনি যান তো। গিয়ে বিয়েবাড়িতে ফ্লার্ট করুন গে।
বেশ! খুব উপভোগ্য ছিল। অতিরিক্ত চিনি যুক্ত সফট ড্রিংকস্ খাইতে কে না পছন্দ করে।
পড়তে নিরুৎসাহিত করবো না। তবে অতিরিক্ত চিনিওয়ালা মেলোড্রামা থেকে বাঁচতে উপায় বাৎলে দিচ্ছি। লেখিকা চ্যাপ্টারগুলো যথেষ্ট স্বতন্ত্রভাবে সাজিয়েছেন। তাই পুরোটা না পড়ে এই অধ্যায়গুলো সিরিয়ালি পড়ুন।
২,৬,১০,১৩... শেষের চ্যাপ্টারটা পড়তেও পারেন বা না পারেন।
ব্যস! মাত্র ৩৬ পেজ পড়েই পুরো বইটা পড়া হয়ে যাবে। খুবই কম সময়ে! এভাবে কেউ পড়লে কেমন লাগলো জানাবেন।
বইটার প্লট নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র টা আমার খুব প্রিয়। কয়েকবার দেখা হয়েছে। সেদিনও দেখে শেষ করলাম। হুট করে মনে হলো বইটা পড়ি। সিনেমার সাথে স্বাভাবিকভাবেই মিল খুঁজছিলাম। খুব ভাল এডাপ্টেশন,বইয়ের থেকেও ভাল অনেক ক্ষেত্রে। পুরো উপন্যাসের কিছু কিছু জায়গায় লেখিকার বর্ণনা অনন্য। প্লটটা সাধারণ, তবুও বড্ড সুন্দর। অভিমন্যুর চরিত্রটা মন ছুঁয়ে যায়। স্বপ্ন জড়ানো এক বালক। দুঃখের বিষয় শেষটা মনপুত হলোনা আমার।
চলনসই!হালকা কিছু পড়তে চাইলে পাঠক বইটা হাতে তুলে নিতে পারেন। সাধারণত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো উপন্যাস অপেক্ষা অধিক মুগ্ধতা ছড়াতে ব্যর্থ হয়। এক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ভিন্ন।সম্ভবত,আগে চলচ্চিত্রটা দেখেছিলাম বলেই আমাকে বইটা আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনি।বরং,বইটাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়েছে। সেই তুলনায় চলচ্চিত্র অনেকখানি সুন্দর-সাবলীল এবং স্নিগ্ধ।
Suchitra Bhattacharyar lekha ei prothom porlam ami. Bolae bahullo j boi ti pore ami mugdho hoye gechi. Golpotir shthe khub relate korte parlam. Kon portion tar shthe relate korlam sheta nahoy bektigoto e thak. Golper sheshe ekta proshno theke jaye. Tannistha ar Abhimanyur ki holo? Tannistha ki biye ta bhenge dilo? Ek "anya basante" ki tannisthar jiboner ek notun odhyay shuru holo? Kintu, erom golpoi ki bhalo noy, jekhane shesh ta tumi nijer ichhe moto shajiye nite parbe. Nijer mone toiri kore nite parbe tomar "Happy Ending"( ba sad ending...ja ichhe tai). :) Lekhok/lekhika j amader etota shadhinota dichhe, tate mondo ki? Boita amar mon chuyeche. Asha kori bakidero bhalo lagbe. Cant wait to read more of her works.
এই প্রথম (অন্তত বড় হয়ে) চলচ্চিত্রায়ণ দেখার পর বইটা পড়লাম... সিনেমাটা খুউব ভাল লেগেছিল এর সিমপ্লিসিটির জন্য... সিনেমাতে কিছুই ছিল না, শেষটাও প্রত্যাশিত অথচ সহজ সরল ভাবে আমাদেরই গল্প বলে যাওয়ায় বেশ মনের কাছাকাছি হয়েছিল...
বইটি অবশ্য তেমন আহামরি লাগেনি পড়ার সময়... একবার একদমে পড়ে ফেলা যায় - তা ঠিক, তবে একটা রেশ তৈরি করতে পারে না - অন্য বই যেমন করে... বিশেষ করে বইয়ের মধ্যে কখনও নিজেকে এক করে নিতে পারিনি - যত সহজে সিনেমার নায়কের সাথে করে নেওয়া গেছিল...
তবে বইটি পড়তে পড়তে একটা জিনিস ভাল লাগছিল - যে কিভাবে বই থেকে সিনেমা হয়ে ওঠে... কোন কোন জায়গা কিভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কি কি বাদ গেছে এই সবই চোখে পড়ছিল বেশি... হয়ত সে জন্যেই বইয়ের আসল রস পাইনি হতে পারে...
সুচিত্রা ভ্টাচার্য এর উপন্যাসগুলো পড়ে যে অনুভূতি হয় টা কথার মাধ্যমে ব্যক্ত করা কঠিন। খুবই বাস্তবানুগ আবার একই সঙ্গে হৃদয়বিদারক। তবে অন্যান্য উপন্যাসের তুলনায় এটি সহনীয়। গল্পে রোম্যান্স থাকলেও সেটিকে সস্তা ও অগভীর করে না তুলে বরং প্রাপ্তবয়স্কদের পড়ার উপযোগী করে তুলতে পারেন লেখিকা।
জীবন এরকমই ; ছেড়ে যাও, যদি তুমি চাও থেকে যাও, যদি তুমি চাও ......." বাস্তবিক জীবন নিয়ে লেখা এই উপন্যাস , আবর্তিত হয়েছে কিছু চরিত্র নিয়ে , তন্নিষ্ঠার বিয়ে ঠিক হয়েছে শৌণকের সাথে । শৌনক উচ্চাকাঙ্খী , কেরিয়ার সচেতন , ঝকঝকে সুপাত্র । মালবিকা - সুপ্রিয় 'র বিয়েতে আলাপ হয় অভিমন্যুর সাথে । অভিমন্যু আর পাঁচজন তরুণ তরুণীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । অভিমন্যু পারফিউমের ব্যাবসা করে । তন্নিষ্ঠার বাবা শুভেন্দুর জীবনে নতুন সংকট ঘনিয়ে আসে । তিনি যাকে ভালোবাসে এসেছেন সেই " গ্রুপ- থিয়েটার " , সেখানেও এখন শিল্পের সংস্পর্শ , বাণিজ্য- মানসিকতার ছায়া । এই উপন্যাসে প্রতিটি মানুষের জীবনের দোলাচলকে খুব স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে । শৌনকের বাবা ডাক্তার , কিন্তু খুবই গোঁড়া । মা সমাজসেবী । তন্নিষ্ঠার মাও চাকরি করেন । তন্নিষ্ঠার মনের পরিবর্তন ঘটে অভিমন্যুর সাথে আলাপ ঘটার পর । আর তন্নিষ্ঠাই বা বেছে নেবে কাকে ? কেনই বা শিকড় যেভাবে মৃত্তিকাকে জড়িয়ে ধরে তেমনভাবে পেতে চায় অভিমন্যুকে ? উপন্যাসের শেষটা ওপেন এন্ডিং । পাঠক যা ইচ্ছে ভেবে নিতে পারে । এক অদ্ভুত বসন্তে দুটো স্বপ্নালু মানুষ সত্যিকারের ভালোবাসায় মুগ্ধ থেকে ছোটখাটো সুখের ছায়াতলে কাটিয়ে দিতে পারে একটা জন্ম । কোন অহেতুক বিলাসিতা বা চাহিদা তাদের উদ্বেল করে না । জীবনকে উপলব্ধির মাধ্যমেই তারা জীবনকে উপভোগ করে ।
'অন্য বসন্ত' কেমন বসন্ত? আমার শহরে বসন্ত এসেছে আমার জানা নেই! দক্ষিণের দুয়ারে দিয়ে কি বাতাস প্রবেশ করছে আমি দেখেনি। যে বসন্তে সে আমার থেকে হারিয়ে এক প্লাবনময় রাধাচূড়া রূপে একি সেই বসন্ত? না সুচির্ত্রা ভট্টাচার্যের এক মায়াবী লহমার সৌন্দর্যের 'অন্য বসন্ত'!
বইটি কি অসাধারণ, যতটা অসাধারণ হয় বসন্ত! শরীরের রন্ধে নেফাতিতির মত প্রবেশ করে শূন্যতার গহ্বরে। এই বসন্ত তনিষ্ঠার ভালবাসা হেরে যাওয়া এক নারীর আত্মহনন। অভিমন্যু এর শেষ দেখা বৃষ্টিবিলাসের ঝরে যাওয়ার বসন্ত! তিনি তার চরিত্র গুলোকে গড়ে পিঠে মানুষ করেছেন। সংকীর্ণতা থাকা সত্ত্বেও নিজের শিকড় গুলোকে ছড়িয়েছেন সুন্দর করে!
একটি সুন্দর প্রেমের অবলীলায় অমৃতের কথন এই বই। শুভেন্দু, তন্নিষ্ঠা আর অভিমন্যু এর যাত্রাহীন ছন্দপতনের এক লহমার সৌন্দর্য এই বই!
উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কেরিয়ার সচেতন শৌনকের সাথে বিয়ে ঠিক হয় তন্নিষ্ঠার। সে জানে না, জীবন মানে কী? ছায়াময় এক সন্ধ্যার বিকেলে দেখা হয় তার অভিমন্যুর সাথে। যে নিজের গন্ধের রাজ্যে থাকতে চায়। পারফিউমের ব্যবসায় যার জীবন উৎসগ করা। সে এই আধুনিক সমাজ থেকে যেন আলাদা এক সত্তার মানুষ। যে তন্নিষ্ঠার হৃদয়ে উদ্বেগ তুলে ভালবাসার। কিন্তু এরই মধ্যে তন্নিষ্ঠার বাবা শুভেন্দু তিপ্নান বছর বয়সে হারায় চাকরী। যার জীবন ছিল নাটকের প্রতি উৎর্সগিত, তার জীবনটায় হয়ে যায় নাটক। যে গ্রুপ থিয়েটারে নিজের আত্মার মুক্তি খুঁজেছিল। শুভেন্দু তার জীবন নৌকাটাকে যে চালিয়ে নিতে পারবে কি তার উত্তর দিয়েছেন সুচির্ত্রা ভট্টাচার্য। আর তন্নিষ্ঠা কাকে বেছে নিবে? কেনই বা শিকড় যে ভাবে মৃত্তিকাকে জড়িয়ে ধরে তেমনি ভাবে পেতে চায় অভিমন্যুকে।
এই বইটিতে তিনি তার উত্তর দিয়েছেন। এক প্রেমের মৃত্যুকে তিনি তুলে ধরেছেন।
"অন্য বসন্ত" উপন্যাসটি ঠিক প্রেমের উপন্যাস নয় , বরং সামাজিক উপন্যাস বলা চলে। তন্নিষ্ঠা , অভিমন্যু যদি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়, তন্নিষ্ঠার মা নন্দিতা, বাবা শুভেন্দু, হবু স্বামী শৌনক প্রভৃতি চরিত্র গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ । একটা বয়সের পর থেকে যুবক- যুবতীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার স্ট্রাগল, চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিতে বাধ্য হয়ে একজন পুরুষের মনের অবস্থা অথবা গ্ৰুপ থিয়েটারে বাণিজ্য- মানসিকতার প্রবেশের মতো সামাজিক বিষয়গুলি (বা সমস্যাগুলি) উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। প্রবল উচ্চাকাঙ্খী , ক্যারিয়ারিস্ট মানসিকতার খারাপ দিকটি উপন্যাসে আলোচিত হয়েছে বারবার, তা শুভেন্দু ও নন্দিতার দাম্পত্য সম্পর্কের তিক্ততার মধ্য দিয়েই হোক অথবা অভিমন্যুর দাদার মানসিক অসুখের মধ্য দিয়ে। মানুষ অ্যাম্বিশান নিয়ে ছুটতে ছুটতে মানবিক বোধ আর স্বপ্নগুলো হারিয়ে ফেলছে যেন। অভিমন্যুর বলা কথায় এই দিকটিই প্রতিফলিত হয় - " আগে আমায় স্থির করতে হবে টাকা রোজগারের জন্যই আমার বেঁচে থাকা ,নাকি বেঁচে থাকার জন্য টাকা রোজগার।" "কিন্তু অ্যাম্বিশান না থাকলে কী নিয়ে বাঁচবে মানুষ? কীসের জন্য বাঁচবে? — স্বপ্ন নিয়ে বাঁচবে।" তন্নিষ্ঠার হবু স্বামী শৌনকের প্রতি নির্লিপ্ত হয়ে ওঠার কারণও মনে হয় এটাই — শৌনকের প্রবল উচ্চাকাঙ্খী মানসিকতা। "এত আবেগহীন হয়ে, অন্যের মনঃকষ্টকে উপলব্ধি না করে, কোথায় পৌঁছতে চায় মানুষ? কী পেতে চায়?" আর এইজন্যেই অ্যাম্বিশানের বদলে চোখে স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা অভিমন্যু নামক তরুনটির প্রেমে পড়ে তনু। এই প্রেমে পড়ার ফলস্বরূপ ঘোর গ্রীষ্ম বা বর্ষাতেও বসন্ত নেমে আসে তার মনে , এ এক "অন্য বসন্ত"।
ONYO BASANTA - Suchitra Bhattacharya . . - "যারা সাকসেসফুল, তারা কি আমার দাদার চেয়ে খুব আলাদা? তারাও তো নিজেদের অন্ধ বৃত্তে ঘুরে মরছে। লিভিং ইন আ সলিটারি সেল ওফ দেয়ার ওউন। তফাৎ একটাই, তাদের অ্যসাইলাম এই গোটা পৃথিবী"।......... - "কিন্ত অ্যম্বিশান না থাকলে কি নিয়ে বাঁচবে মানুষ? কিসের জন্য বাঁচবে? - স্বপ্ন নিয়ে বাঁচবে। . . . Translated : - The people who are successful, are they even different from my brother? They too are living within a circle of their own. The only difference is that for them, the entire world is an asylum. - But, what will a person live for without an ambition? - Dreams. . . . I am not qualified enough to review this classic by Suchitra Bhattacharya. Rather I would like to share my feelings. The story revolves around Abhimanyu and Tannishtha, who unknowingly, yet very simply develops an attraction towards each other - maybe because of their similar mindsets, maybe because of their simplicity. The story takes you through an unexplainable "feel good" journey, where you rise and sway and swing and cry with the characters. Also, the end leaves you in such a position that you sit there, closing the book and developing your own happy ending. . . . Not a serious read, not a big read, but a very short, crisp, simple and good feelings read to take you through these tough times. .
'একটা লক্ষ্যে পৌঁছালে আপনাআপনিই সামনে আর একটা লক্ষ্য এসে যায়।এই ছোটার কোনো শেষ আছে?'
ছোট একটা বই-চেনা গল্প-কিন্তু আটপৌরে নয়।লেখিকার লেখা পড়া এই প্রথম কিন্তু ভীষণ ভালো লেগেছে।অযথা লেখা টানেননি।শব্দ প্রয়োগ ভালো। । গল্পের প্লট শুরু এক বিয়ে বাড়ি থেকে-যেখানে তন্নিষ্ঠার দেখা হয় অভিমন্যুর সাথে। তন্নিষ্ঠার সাথে শৌণেকের বিয়ে ঠিকঠাক। কিন্তু সে�� সাজানো জগতে এসে ঢুকে অভিমন্যু।
অন্যদিকে তন্নিষ্ঠার বাবা শুভেন্দুকে হঠাৎ অবসর নিতে হয় চাকরি থেকে।একদিকে তাঁর সেচ্ছা অবসর অন্যদিকে তাঁর স্বপ্ন গ্রুপ-থিয়েটার সমিধে লেগেছে বাণিজ্য মানসিকতার ছোঁয়া। নিজের সপ্নের সমিধ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি-সাথে ছেড়ে আসেন নিজের স্বপ্ন আর জীবনের কালঘাম থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।জীবন জটিলতা পার করে আবার কী তিনি স্বপ্নের পেছনে ছুটতে পারবেন? । তন্নিষ্ঠা আর অভিমন্যু কখনো বলেনি নিজেরদের মনের কথা-কিন্তু না বলেও যেনো অনেক কথা তাদের মাঝে। অদৃশ্য বাধনে বেঁধে দিয়েছে তাদের ভাগ্য। হঠাৎ তন্নিষ্ঠার বিয়ে এগিয়ে এলে এলোমেলো হয়ে যায় অভিমন্যুর স্বপ্ন।সে জানে তনিষ্ঠার উপর তার কোনো অধিকার নেই কিন্তু তবুও যেনো একদলা অভিমান ভর করে আছে-এ থেকে নিজেকে মুক্ত করার উপায় নেই।আর তন্নিষ্ঠার সামনে মায়ের আশা -ভরসা আবার অভিমন্যুর জন্য গড়ে তুলা নিজের জগৎ। কোনটি বেছে নেবে সে?
উপন্যাসের নায়িকা বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে তন্নিষ্ঠার বিয়ে ঠিক হয়েছে সুপাত্র, ক্যারিয়ারিস্টিক শৌনকের সঙ্গে যার কাছে সবকিছু আছে শুধু আবেগ ছাড়া। এমতাবস্থায় এক বান্ধবীর বিয়েতে তন্নিষ্ঠার দেখা হয় অভিমন্যুর সঙ্গে। অভিমন্যু সুগন্ধের কারিগর। কেমিস্ট্রি তে এম.এস. সি পাশ করে নিজের পারফিউম কোম্পানিতে পারফিউম তৈরি করে সে। সে জানে, স্বপ্ন আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নয়। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচতে শেখায় আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানুষের ভিতরের সূক্ষ্ম অনুভূতি গুলোকে মেরে ফেলে। শুরু হয় তন্নিষ্ঠার দোলাচল। কাকে বেছে নেবে সে জীবনসঙ্গী হিসেবে? বাবা মায়ের ঠিক করা পাত্র বিদেশে থিতু হতে চাওয়া শৌনক কে নাকি সাদামাটা অভিমন্যু কে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে এই মিষ্টি প্রেমের উপন্যাস টা আপনাকে পড়ে দেখতে হবে।
এই ত্রিকোণ সম্পর্কের পাশাপশি উপন্যাসে উঠে এসেছে তন্নিষ্ঠার বাবা মা শুভেন্দু ও নন্দিতার ব্যর্থ দাম্পত্য সম্পর্ক। খুব রুচিশীল ভাবে লেখিকা সবটা উপস্থাপন করেছেন। আজও প্রেমের উপন্যাসের কথা বললেই আমার সবার আগে মনে আসে এই উপন্যাসের কথা। এমন নয় যে, আমি বলতে চাইছি এটাই বাংলা সাহিত্যের সেরা প্রেমের উপন্যাস; তবে আমার কাছে এটা সত্যিই অন্যতম সেরা প্রেমের উপন্যাস। আমার আলাদাই একটা আবেগ আছে এই উপন্যাসের প্রতি। অবশ্যই একবার পড়ে দেখুন যদি আপনি প্রেমের উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন।
উচ্চাকাঙক্ষী, কেরিয়ার-সচেতন, ঝকঝকে সুপাত্র শৌনকের সঙ্গে তন্নিষ্ঠার বিয়ে যখন ঠিকঠাক, তখনই এই মেয়ের জীবনে এল অন্য এক যুবক। অভিমন্যু। পারফিউমের ব্যবসা করে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইছে। এই প্রজন্মের হওয়া সত্ত্বেও অভিমন্যু আর পাঁচজন তরুণ-তরুণীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। শুরু হল তন্নিষ্ঠার দোলাচল। ঠিক এই সময়ে এক নতুন সংকট ঘনিয়ে এল তন্নিষ্ঠার বাবা শুভেন্দুর জীবনেও। মাত্র তিপ্পিন্ন বছর বয়সে তাঁকে চাকরি থেকে স্বেচ্ছা-অবসর নিতে বাধ্য করল কোম্পানি। আবার যে-গ্রুপ থিয়েটারের শুদ্ধ পরিবেশে সে মুক্তি খুঁজেছিল, চেয়েছিল শিল্পের সংস্পৰ্শ, সেখানেও এখন বাণিজ্য-মানসিকতার ছায়া। এই অবস্থায় ভেতরে-বাইরে বিপর্যস্ত শুভেন্দু কি আর জীবন-নৗকাটাকে ঠিক ঠিক চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে? আর তন্নিষ্ঠাই বা বেছে নেবে কাকে? কেনই বা শিকড় যেভাবে মৃত্তিকাকে জড়িয়ে ধরে তেমনভাবে পেতে চায় অভিমন্যুকে? সুচিত্র ভট্টাচার্যের এই অভিনব উপন্যাসে তারই উত্তর।
This entire review has been hidden because of spoilers.
মূল পাত্রপাত্রীর চেয়ে শুভেন্দু আর নন্দীতা চরিত্রদুটার কারবারই বেশি চোখে লেগেছে। নিজের স্ত্রীর থেকে আজীবন কম আয় করে যাওয়া আর নিত্যদিন খোঁটা শুনতে শুনতে বিষিয়ে যাওয়া মন নিয়ে যে অসহায় অবস্থায় পড়লো লোকটা, অবস্থাটা বুঝলাম কিন্তু ঠিক কী এমন মেসেজ শেষ পর্যন্ত নাটক করে দিলো বুঝলাম না । শেষটা ঠিক আছে। নাইলে আবার একই লুপ শুরু হয়ে যাইতো। ❝তীব্র খরার পর জঙ্গলে প্রথম বৃষ্টি নামলে বুনো লতায় যে গন্ধ ওঠে, আমি আমার পারফিউমে সেই সুগন্ধ আনব।❞ আর তো পারবা না। সব কেমিকেল ফেলে দিতেসো। এই স্বপ্নের আর দাম থাকলো কই!
কিছু কিছু গল্প, উপন্যাস থাকে যা বার বার পড়তে ইচ্ছে করে কোনো বিশেষ সময়ে পুনরায় সেই কাহিনী ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে। আমার কাছে এটা সেই ধরণের একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে বানানো সিনেমা দেখার পর উপন্যাসটি পড়েছি, কাহিনী জানা সত্ত্বেও বেশ ভালো লেগেছে।
এই উপন্যাসের উপর নির্মিত সিনেমাটি একাধিকবার দেখেছি। পিডিএফ পাওয়া মাত্র একটানে উপন্যাসটা পড়ে ফেললাম। ভালো লেগেছে। সাধারণত সিনেমা দেখে উপন্যাস পড়লে তেমন ভালো লাগে না। তবে “অন্য বসন্ত” ভালো লেগেছে।
A love story that ends before it even starts….a tad overly melodramatic at times, but the book still retains the lovely writing style that the author is so famous for.