Jump to ratings and reviews
Rate this book

অহিংসা

Rate this book
অহিংসা প্রকাশকালের নিরিখে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অষ্টম উপন্যাস এবং যথেষ্ট বিতর্কিত । এটি রাজনৈতিক উপন্যাস নয়, মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস ।

152 pages, Unknown Binding

First published January 1, 1941

5 people are currently reading
185 people want to read

About the author

Manik Bandopadhyay

130 books497 followers
Manik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
36 (25%)
4 stars
58 (40%)
3 stars
42 (29%)
2 stars
6 (4%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 27 of 27 reviews
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
156 reviews88 followers
October 23, 2020
গল্পের গভীরতা বিবেচনা করতে গেলে হয়তো এ বই পাঁচ তারা দাবি করে না। কিন্তু বইটায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের মনকে ব্যবচ্ছেদ করতে চেয়েছেন এবং সেটায় তিনি শতভাগ সফল। আমরা নিজেরাই হয়তো জানি না আমাদের মন ঠিক কতোটা গোলমেলে, কোনো লাগাম নেই এর চিন্তা-ভবনায়, আশা-প্রত্যাশায়। মনস্তত্ত্বকে এতো গভীরভাবে উপলব্ধি করা, তা লেখার কলমে তোলে ধরা মোটেই সহজ নয়। জহির রায়হান মানিকের বই পড়ে অবাক হয়ে আফসোস করতেন এটা ভেবে যে তিনি নিজে কোনদিন মানিকের মতো আশপাশের জিনিস, আশপাশের মানুষকে দেখার শক্তি লাভ করবেন। মানিকের এসব লেখা পড়লে রায়হানের আফসোসটার সারমর্ম ধরা পড়ে। বড্ড দেখার শক্তি ছিল লোকটার, মানুষের মনের সবচে' জটিল সব অন্ধকার বিষয়ও দুর্দান্ত দৃষ্টি সহকারে দেখে ফেলতেন মানিকবাবু।
Profile Image for DEHAN.
278 reviews80 followers
June 24, 2020
গল্পটা শুরু হয়েছিলো দুই বন্ধুর জালিয়াতি থেকে ।
সদানন্দ আর বিপিন ঠিক করে একটা আশ্রম বানাবে সেই আশ্রমে সদানন্দ সাধু হিসেবে অভিনয় করবে আর বিপিন আশ্রমের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে । তখনকার প্রেক্ষাপটে খুবই লাভজনক ব্যবসা ।ধর্মীয় ব্যবসা করে তাদের দিন একরকম মন্দ কাটতেছিলো না । এইরকম সময়েই ঘটনার মোড় ঘোরানোর জন্য মাধবীলতা নামে এক তরুণী আশ্রমে আশ্রয় নেয় । একপ্রকার তারে কেন্দ্র করেই শুরু হতে থাকে একটার পর একটা অঘটন ।এরপর আবার মহেশ চৌধুরী নামের এক ভদ্রলোক আশ্রমের গুরু সদানন্দ রে এতো ভক্তি দেখায় যে বেচারা নিজেই নিজের অস্তিত্ত্ব নিয়ে সন্দেহে পড়ে যায় শুধুমাত্র ভক্তি দিয়া যে মানুষরে আঘাত করা যায় তা আগে জানা ছিলো কিন্তু এতো নির্মম ভাবে যে করা যায় তা জানতাম না। ভাবুন তো কাউকে আপনি মোটেই সহ্য করতে পারছেন না , সবার সামনে উঠতে বসতে অপমান করেন, এমনকি গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছেন তাও সে কোন প্রতিবাদ তো করছেই না উল্টো তার আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো দিন দিন বেড়েই চলেছে । আপনি কি করবেন ? এখানে কিই বা করার আছে ! বিরক্ত হয়ে লাভ নেই , রাগ করে আরাম নেই , এমনকি তাকে ত্যাগের চেষ্টাও নিরর্থক তাহলে ? স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসতে পারে এই ভক্তির পেছনে আসল কারণ কি ? এ কি শুধুই হৃদয়ের অভ্যন্তর থেকে আসা ভয় থেকে তৈরি খাঁটি ভক্তি না কোন বড় আক্রমনের পূর্ব প্রস্তুতি ? মহেশ চৌধুরী নামক লোকটার ভক্তি এতোই শান্ত এবং কঠিন যে এইখানে তার আসল উদ্দেশ্য বোঝা বাস্তবিক অসম্ভব । দ্বন্দ্বে শুধু সদানন্দ একা নয় বিপিন পড়ে , মহেষ চৌধুরীর স্ত্রী , পুত্র , আশ্রমের অন্যেরা প্রায় সবাই ।
বইয়ের নাম মিত্র যখন শত্রু হতে পারতো কিংবা ভক্তি যখন ব্রহ্মাস্ত্র হতে পারতো কিন্তু না …অহিংসা । উপন্যাসের নাম দেখে মনে হতে পারে এর সাথে হয়তো মহাত্মা গান্ধীর পরোক্ষ যোগাযোগ আছে । না , একটুও নাই । ইভেন উপন্যাসে কোন খাসির কথাও উল্লেখ নাই । লেখকের মূল উদ্দেশ্য হয়তো অহিংসার মাধ্যমে যে অনেক কিছু করা সম্ভব সেটা বুঝানোর চেষ্টা ।
তবে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়- অহিংসা দিয়ে যে ‘’অনেক কিছু’’ করা যায় সেই অনেক কিছুটা কি যথেষ্ট ? মানুষের চাহিদার তো শেষ নেই যতখানি শ্রম দেওয়া হলো ততখানি পারিশ্রমিক না পাইলে কি চিত্ত তুষ্ট হয় ? অহিংসা কি সব সমস্যা সমাধান করতে পারে ?
[ পাঠকের ব্যক্তিগত মন্তব্য – ঐসব অহিংসা ফহিংসা তে কিস্যু হয় না বুঝলেন ? তবে আইডিয়াটা আমার মনে ধরেছে ।একটা ফন্দি আমি আঁটতেছি । আরো দুই একজন দলে নিয়া কোন নিরীহ গোছের জনবসতি পূর্ণ একটা জায়গা খুঁজে বের করে ঐখানে একটা আশ্রম দিলে মন্দ হয় না ।ভালো উপার্জনের সম্ভাবনা । মন মানসিকতা অত্যন্ত কুটিল শ্রেনীর অধিকারী কোন ভাই আগ্রহী হলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন । যা উপার্জন হবে তা আমরা ভাগাভাগি করে নিবো । আমি চাইলে লালসালুর মতো ওয়ান ম্যান আর্মি হইতে পারি কিন্তু ওতে পুষাবে না ।ভয় নাই , যা করার আমিই করবো আরেকজন শুধু আমার গুণগান করবে আর অর্থনৈতিক দিকটা হ্যান্ডেল করবে । হয়তো সব ঠিক থাকলে আশ্রমের আয় থেকে আরো কয়েকটা শাখা হবে দেশের নানা জেলায় । কয়েকদিন পর একটা প্রাইভেট জেট কিনে ফেলবো । নানান দেশে গিয়া সত্যের পথে আসার জন্য মানুষরে প্রলুব্ধ করবো । ব্যবসা আন্তর্জাতিক হয়ে যাবে । আছেন আগ্রহী কেউ ? থাকলে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন …বিশ্বাস করেন আমরা এতো এতো উপার্জন করবো যে টাকা গুনার জন্য আশ্রমে চার পাঁচটা মেশিন রাখা লাগবে । আমি কল্পনায় পরিস্কার দেখতে পারতেছি ।খুব শীঘ্রই এমন দিন আসবে যে শুধুমাত্র আশ্রমের বাজার সদাই করার জন্য একটা Rolls Royce বরাদ্দ করা থাকবে ]
Profile Image for Shafaat.
93 reviews113 followers
October 18, 2016
মানিক বন্দোপ্যাধায়ের একখানা উপন্যাস পাঠ সমাপ্ত হইলে চেতনার কোণায় ঈষৎ ঋষিভাব জাগ্রত হইয়া থাকে। মহাজগতের শেকড়ের সবকিছুই যে চিরকালীন দুর্ভেদ্য অন্ধকারের আবরণে চিরস্থায়ীভাবে মোড়ানো, মানব চিত্ত যে হাজার বৎসরের সাধনায়ও ইহার কূলকিনারার হদিস করিতে পাইবে না, চেতনে কি অবচেতনে সময়ে সময়ে যাহা আমরা সকলেই আবছাভাবে ঠাহর পারি, মানিকের লেখা পড়িয়া অন্ধকারের এই আদিম অনুভূতিই প্রবলতর হইয়া ওঠে।

পল্লীদেশে ঘন তমিসার অমাবস্যার রাত্রিতে টর্চের আলোয় পথ চলিলে অন্ধকার দূরীভূত হইবার পরিবর্তে যেমন আরও বেশী জমাট বাঁধিয়া ওঠে, মানিকের লেখায় মহাজগতের এই অন্ধকার পথে আলো ফেলিয়া ভ্রমণ করিবার সময় এই জগতের অতীন্দ্রিয় অন্ধকারের রূপ আরও বেশি প্রকট হইয়া ওঠে।
Profile Image for Sujan.
106 reviews42 followers
October 26, 2015
সমালোচকদের মতে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাসদ্বয় 'পুতুল নাচের ইতিকথা' এবং 'পদ্মানদীর মাঝি' আর 'শ্রেষ্ঠ গল্প' ইতিমধ্যেই পড়ে ফেলায় 'অহিংসা' শুরু করার সময় কোন অসাধারণ অনুভূতিপ্রাপ্তির আশা ছিল না স্বীকার করছি। মনে হচ্ছিল মানিকের সেরা সবকিছু তো ইতিমধ্যেই পড়ে ফেলেছি, অহিংসা থেকে অভিনব হয়ত কিছুই পাচ্ছি না।

কিন্তু কতটা ভুল ছিলাম আমি! মনোজাগতিক বিশ্লেষণ করতে করতে একজন ঔপন্যাসিক মানুষের কতটা গভীরে পৌছে যেতে পারেন তার নিদর্শন দেখে আমি বাকরুদ্ধপ্রায়। এই উপন্যাসের প্রতিটা লাইন না শুধু, প্রতিটা শব্দে মানিক অতুলনীয় বিশ্লেষণপ্রবণতার পরিচয় রেখেছেন। প্রতিটা চরিত্রের একদম গভীরে ডুব দিয়েছেন তিনি, তাদের প্রতিটা কাজের পেছনে যে ধারাবাহিক মানসিক বোঝাপড়া, সংঘাত, সংশয়ের আবির্ভাব হয় তাকে ধরতে চেয়েছেন তিনি, এবং, আমি মনে করি তা অনেকটুকুই পেরেছেনও। অহিংসা পড়া এবং এর প্রতিটা পাতায় ছড়ানো মানিকের অসংখ্য মনোবিশ্লেষণ সম্পূর্ণ অনুধাবন করার কাজটা সহজ ছিল না মোটেই, কিন্তু মানুষের মনের হদিস পাওয়া কোনকালেই কি সহজ ছিল!

টানা একটা ঘোরের মধ্যে থেকে অহিংসা শেষ করার পর আমি এখন বিস্ময়াভিভূত: প্রথমতঃ মানুষের মনের অসংখ্য অলিগলির অদৃষ্টপূর্ব নিদর্শন পেয়ে; দ্বিতীয়তঃ একটা মানুষকেই সেই অলিগলির সন্ধানলাভে অবিশ্বাস্যভাবে সফল হতে দেখে।

সমালোচকরা যা খুশি বলেন, আমার নিজের মতে মানিকের সেরা কাজ অহিংসা। আমি মনে করি না আর কোন মানুষের পক্ষে অহিংসার মত আর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব!
Profile Image for Sanowar Hossain.
282 reviews25 followers
October 31, 2022
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর কোনো একটা বইয়ের আলোচনায় পড়েছিলাম যে, তাঁর বইয়ের মূল উপজীব্য বিষয় দুইটি। নর-নারীর জটিল দ্বন্দ্ব এবং ধনী-গরিবের শ্রেণিবিভাজন।

'অহিংসা' উপন্যাসে প্রথমোক্ত বিষয়টির সাথে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ উপজীব্য করে লেখক গল্প ফেঁদেছেন। আশ্রম। যেখানে ধর্মের বাণী শোনানো হয়, জীবন ঘনিষ্ঠ উপদেশ দেয়া হয়। তবে সবসময় যে আশ্রমের মূল উদ্দেশ্য সৎ থাকবে এমনটি নাও হতে পারে। একটি আশ্রম নিয়ে আমাদের গল্প। সেই আশ্রমের কর্তা সদানন্দ সাধু। মানুষকে উপদেশ এবং তপস্যার মাধ্যমেই দিন কাটে তার। আদতে সদানন্দকে আশ্রমের কর্তা মনে হলেও পেছন থেকে সবকিছুর কলকাঠি নাড়ে বৈষয়িক জ্ঞানে পটু বাল্যবন্ধু বিপিন। আশ্রমের ম্যানেজার সেইই, কারণ সদানন্দের এদিকে অভিজ্ঞতা নেই বলে বিপিন তাঁর উপর তেমন ভরসা পায় না।আশ্রম বিপিন চালায় এবং যে রাজা তথা জমিদারের জমির উপর আশ্রম স্থাপিত তাদের সাথেও সবকিছুর দেখভাল সেইই করে।

সবকিছু ঠিকঠাক চলতেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে জমিদারের ছেলে নারায়ণ মাধবীলতা নামে এক মেয়েকে বিয়ের কথা বলে পালিয়ে নিয়ে আসে কিন্তু আমোদের পর সে পুলিশের হাঙ্গামার ভয়ে মাধবীলতাকে আশ্রমে রেখে দিতে চায়।সদানন্দ ও বিপিন রাজি না হলেও,যেহেতু আশ্রমের জমির কর্তা ভবিষ্যতে নারায়ণ হবে সেই চিন্তা করে মাধবীলতাকে রেখে দেয় আশ্রমে। আশ্রমেই তাকে দীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।কিন্তু ওদিকে সাধুপুরুষ সদানন্দ যতই মুখে ধর্মের বাণী শোনাক মাধবীলতার প্রতি তার কাম জাগ্রত হয় এবং তা চরিতার্থ করার জন্যই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

এবং এভাবেই গল্প এগোতে থাকে এবং একটি সুন্দর বইয়ের সমাপ্তি ঘটে। আমরা যারা লালসালু পড়েছি তারা নিশ্চয়ই মজিদের মাজারকেন্দ্রিক ভন্ডামির সাথে পরিচিত। সেই লালসালু নাম উপন্যাসের অন্যপিঠ যেন অহিংসা। উপন্যাসে দার্শনিক কথাবার্তা অনেক, পাঠকের একঘেয়ে লাগতে পারে। আর মাঝেমধ্যে কাহিনীর স্পষ্টতা বোঝাতে লেখক কাহিনী বিশ্লেষণ করেছেন আলাদাভাবে। বইটার কাহিনী ধীরপ্রকৃতির।কিন্তু শেষ দিকে খুব দ্রুত শেষ করে দিয়েছেন সব। আরেকটু বিস্তারিত থাকলে বোধহয় ভালো হতো। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Muhi Uddin.
103 reviews3 followers
Read
November 3, 2022
অহিংসার এই বর্ণনাকে আমি বিষাক্ত বলবো না মধুময়
বলবো বুঝতে পারছি না।

এমন বিবরণকে চরম সুন্দর বলবো নাকি নিষ্ঠুরতা বলবো সেটাও নির্ধারণ করা আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য।

প্রতিটা চরিত্রের দিকে আঙুল তোলে ভালো মন্দ বলা গেলেও মহেশ চৌধুরী আমায় বেশ বিচলিত করে তুললো।

দোষারোপ করবো নাকি গর্ব করবো সেটাও বুঝতে পারছিনা।

একবার মনে হচ্ছে এতো ভালোলোক হয় কী করে, আবার ভাবছি এমন নিষ্ঠুরতার বিপক্ষে যার অবস্থান নমনীয় তাকে ভালো লোক বলে কী 'ভালো' শব্দের প্রতি অবিচার হবেনা?

বইটা পড়ুন পাঠক, প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে দিন সকলের মধ্যে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Shamima Hossain.
3 reviews1 follower
June 25, 2021
অনেক ছোট ছোট ঘটনা একজন মানুষের ভিতরের আসল রূপ বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম। এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র আমাদের চরিত্রের এক একটা দিক তুলে ধরে যেগুলো হয়ত খুব সহজে প্রকাশ পায় না। আবার ক্ষেত্রবিশেষে পায়।
story buildup অসাধারণ। শুরুর দিকে একটু slow মনে হলেও পরের দিকে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। তবে শেষটুকু অনেকটাই অস্পষ্ট লেগেছে।
Profile Image for Samrat Sam.
10 reviews1 follower
June 28, 2015
দীর্ঘদিন পর মানিক। অহিংসা পড়ার আগেই মানিকের প্রতি ভালবাসার পূর্ণতা ছিল, বিশেষ করে পুতুলনাচের ইতিকথা এতটাই মুগ্ধ-বিস্ময়ে পড়েছি যে সে বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। এরপর দিবারাত্রির কাব্য কিংবা জননী একেকটি মুগ্ধতার নাম। অহিংসা মূলত বিশ্লেষণধর্মী উপন্যাস জেনেই পড়া শুরু করেছিলাম কিন্তু বিশ্লেষণের এতটা গভীরে প্রতিটা চরিত্রের অন্তস্থলে পৌঁছে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হবে এইটা ভাবি নাই। 'লেখকের মন্তব্য' উপন্যাসের আঙ্গিকগত দিকের বৈচিত্র বলা যেতে পারে, সমালোচকরা বলেছেনও। মহেশের চরিত্র নিয়ে শেষপর্যন্তও দ্বন্দ্ব কাটল না, একটু বেশী-ই পরীক্ষা করা হয়েছে বলে মনে করি। মাধবীলতা, সদানন্দ কিংবা বিপিন- চুম্বকের মত ধরে রাখতে পারবে যে কাউকেই। মানিক অসাধারণ- বিশেষণের অভাবে প্রতিবার-ই একি কথা বলতে হয়।
Profile Image for S. M. Hasan.
162 reviews
May 1, 2021
অহিংসা কিন্তু পুরোটাই প্রতিহিংসাময়
শুরুটা দুই বন্ধুর আশ্রম জালিয়াতি নিয়ে। আশ্রমের প্রধান বিপিন, তার বন্ধু সাধু সদানন্দ৷ সদানন্দের কথা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা দিয়ে তারা ভালোই দিন কাটাচ্ছিলো। বাদ সাধে মাধবীলতা নামক এক তরুণীর আগমন। তাকে কেন্দ্র করে ঘটতে থাকে নানা অঘটন, এর মাঝে প্রত্যাবর্তন হয় সাধুর প্রতি নিষ্ঠাবান শিষ্য মহেশের। উপন্যাস এর নাম অহিংসা, কিন্তু এটা ক্ষণে ক্ষণে রুপ পাল্টেছে, যেমনটা সাধু সদানন্দ তার রুপ পাল্টেছেন।
কাহিনীর বিচারে উপন্যাসের তেমন অসাধারণত্ব নেই, তবে এর একটি বিশেষ দিক রয়েছে। সেটি হল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর অসাধারণ ভাষাশৈলী! নিজের সহজাত লিখনী দ্বারা পাঠককে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা কজনেরই থাকে?
Profile Image for Md. Faysal Alam Riyad.
317 reviews26 followers
August 12, 2019
মনকে সংযত না রাখলে, সেখানে নানানরকম অাবর্জনা জমাট বাঁধে। কিন্তু চাইলেই কি অামরা সেটা করতে পারি? অহিংস হয়ে উঠা বড় সহজ কথা না!
Profile Image for Nuhash.
223 reviews6 followers
May 31, 2023
অহিংসা' বইটিতে যেন লালুসালুর ঝালর মাখানো স্মৃতির উন্মোচন হয়েছে দ্বিতীয়বার। নিজস্ব ঢঙে ভালোবাসা, বিদ্রোহ, সমাজে থাকা কলুষতা আর আশ্রমে থাকা বহিপ্রণালীর চিত্র লেখক তুলে এনেছেন ধারাবাহিক ঢঙে। সাথে প্রতিটি চরিত্রের বিক্ষুব্ধ মনকে লেখক নিজের ভাষায় বণর্না করে দিয়েছে পাদটীকা করে! পুরো উপন্যাস জুঁড়ে ছিল বয়ে যাওয়া নদীর খরস্রোতা হওয়ার গল্প। কোথাও বাঁধ পড়েছে, আবার কোথাও টানটান উত্তেজনা ছিল অবাক বিস্ময়ের মত। লেখক চরিত্রের সঙ্গে আপোষ করেন নি, তাদের বিকাশে করেন নি নিজের সীমবদ্ধতার ছাপ।

ভালোবাসা নিয়ে বহুজন গুর্ণকীতর্ণ করেছেন। এমন করে কেউ ভালোবাসাকে স্পর্শ করেনি। ভালোবাসার যে রূপ দেখে মানুষ মানিকের ভালোবাসার তার থেকে বহুগুণে ভিন্ন। তার দেখা প্রকৃতি, মানবসমাজ, তার সংস্কার ফল্গুর বালির মত সদাসর্বদা ধাবমান। কোনো উদ্দেশ্য সাধনে তিনি ব্যাপৃত। মরণে যদি শান্তি মিলে ভালোবাসে তাহলে মরণই শ্রেয়। তাই তো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,

মাধু শোন, জীবনের নিকটে হেরে গিয়েও যদি তোমার জীবনের অংশ হতাম, সন্ন্যাস আর বোধিতব্য তখন পেয়ে যেতাম!

মহেশ চৌধুরী যে চরিত্র আমাকে বারবার মানুষের সৌন্দর্য ত্বত্ত্বের বিশাল প্রতিমা জাহির করেছে। তার শান্ত প্রতিমা, ধীর ভাবে পথচলা, সত্যের একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ার আর মানুষের কল্যাণ কামনা করা যেন সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। সংযত আচরণে মানুষের মন জয় করে নিজেকে ক্ষুদ্র প্রমাণ করার বিশাল হৃদয়ের মানুষ তিনি। তার চরিত্রে লেখক এঁটে দিয়েছেন, মানুষের কেমন হওয়া উচিত। নিজের সাথে বোঝাপড়া, নিজের মনকে নিয়ে তোলপাড় করে যে সত্যের উন্মোচন হয় তাই তো মানব ধর্মের সৌন্দর্য। গ্রামবাংলার নবান্ন উৎসবের মত মহেশ চৌধুরী। তাকে বরণ না করলে মানুষের স্বস্তি মিলে না।

উপন্যাসটি সম্পর্কে সংক্ষেপে বললে, সদানন্দ আর বিপিন দুজনে মিলে গড়া একটি আশ্রম। যাতে মানুষকে উপদেশ আর বাণী প্রচার করা হয় ভালো থাকার। সেই আশ্রমের ঘু। বিনষ্ট করে একটি নারী, নাম তার মাধবীলতা। সাধুজী প্রেমে পড়ে, বিপিন প্রেমে পড়ে। শেষে বিভূতির হাতে মাধুর শেষ স্থান হয়। নানা হাঙ্গামা আর উৎপাটের পর মিলন হয় মাধু আর সদানন্দের! এ কিসের মিলন, নৌকা করে তাদের গন্তব্য শেষে কোথায় ছিল, লেখক কিছু বলেন নি।
49 reviews
August 15, 2024
আমার পড়া মানিকের ষষ্ঠ উপন্যাস।
কাহিনীটা হচ্ছে এক ভন্ড সাধু সদানন্দ ও বিপিন নামের দুই বন্ধুর একটি আশ্রম ও তাদের আশ্রমে মাধবীলতা নামে এক নারীর আগমনের ফলে সংগঠিত হওয়া নানা ঘটনা এবং সেই সদানন্দ এর এক অনুগামী মহেশ ও তার পরিবার সম্পর্কে। কাহিনীটা খানিকটা confusing , এমনকি অনেক কিছু তো মানিক ভালো ভাবে বর্ণনাও করেন নি। এখানে অন্যান্য নানা উপন্যাসের মত রোমাঞ্চকর দুই ভন্ডের আশ্রম তৈরির কাহিনী না দেখিয়ে বরং সদানন্দ ও বিপিনের day to day life দেখানো হয়েছে।
বিদেশি সাহিত্যিকদের সাথে তুলনা করা বাঙালিদের একটি বাজে অভ্যাস। তবুও বলতেই হচ্ছে মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণে মানিক এখানে দস্তয়েভস্কির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। হয়তো বেশীই কেননা মানিক যেভাবে যৌনতা ও নারী-পুরুষ সম্পর্ক দেখিয়েছেন তা দস্তয়েভস্কিও পেরেছিলেন কিনা সন্দেহ। চরিত্রগুলো বহুদিন মনে থেকে যাওয়ার মতোই। বিশেষ করে সদানন্দ ও মহেসের চরিত্র দুটি। সদানন্দ ও বিপিনের মিথস্ক্রিয়াটা অসাধারণ। বিভূতিকে সেভাবে গভীর ভাবে না দেখালেও হয়ত বিভূতি আমার এই উপন্যাসের সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র।
নাম এখানকার মূল কাহিনী হিংসা - অহিংসার বৈপরীত্যই নির্দেশ করে। তবুও কোথায় যেন মনে হয় এর সাথে অহিংস আন্দোলনের তীক্ষ্ম মিল আছে। যদিও মানিক নিজে তা অস্বীকার করেছেন। এই উপন্যাস সম্পর্কে এখানে আরও কিছু বোঝানো হয়ত লেখকের উদ্দেশ্য ছিল। সব বুঝিনি কিন্তু যতটুকু বুঝি, যেমন একটা জায়গায় লেখা ' জগতের অসংখ্য আংশিক সমগ্রতাকে ধারাবাহিকভাবে বিচার করিয়া কোন প্রশ্নের জবাব পাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় '। এই আংশিক সমগ্রতার নিদর্শন পাওয়া যায় যেমন এই উপন্যাসে, তেমনি গিয়েছিল পুতুলনাচের ইতিকথায়। এক একটি অপ্রয়োজনীয় অনর্থক ঘটনা কীভাবে বড় একটি প্রভাব ফেলছে, আবার সেই বড় প্রভাবটা যেন কত ক্ষুদ্র প্রভাব ফেলছে! যেমন শেষ দিকে দাঙ্গা ও তার প্রভাবটি। সেই কারণেই হয়ত সূচনা বা উপসংহারটা এতটা নিরেট।
কিন্তু উপন্যাসটি তুলনামূলক বড়। উপন্যাসটিকে যদি চার ভাগে ভাগ করা হয় তাহলে তৃতীয় ভাগকে খুবই বোরিং। উপন্যাসটা আরেকটু ছোট হলে হয়ত ভালো লাগতো। এবাদে অনেক অন্তর্নিহিত কথা হয়তো মানিক ভালো ভাবে বোঝাতে পারেন নি কিংবা আমারই বুঝতে অসুবিধে হয়েছে।
যাই হোক ব্যক্তিগত রেটিং - ৪.২৫/৫
Profile Image for Alimur Razi Rana.
95 reviews5 followers
June 29, 2023
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা সব সময়ই বিতর্কিত, যা নিয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যখা করা যায়। ৪০ এর দশকে অহিংস আন্দোলন যখন তুঙ্গে, বলার অপেক্ষা রাখে না "অহিংসা" কতটা বিতর্ক তৈরি করেছিল। উপন্যাসের মূল ভাবকে রাজনৈতিক ভাবে তো বটেই, ভণ্ড ধার্মিকতা দিয়েও ব্যখা করা যায়। বিভিন্ন সমালোচনার মাঝে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তার উপন্যাস সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটাই আমার কাছে বেশি যৌক্তিক মনে হয়েছে - "দেশে অহিংস নীতিতে রাজনৈতিক আন্দোলন চলছে। বইখানার নাম "অহিংসা"। সুতরাং যদিও বইখানিতে রাজনৈতিক কোনো ব্যপার নেই, তবু ধরে নিতে হবে অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কাহিনীর সংস্রব আছে। সোজাসুজি যোগসূত্র খুঁজে না পাওয়া যাক, কাহিনীকে 'সিম্বলিক' ধরে নিয়ে -
কি বলতে চাচ্ছেন ঠিক ধরতে পারছি না মানিকবাবু।
যা বলি নি তা ধরতে চাইছেন কেন?
প্রশ্নকারী তিন ঘণ্টা ধরে আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন আমার লেখা বইয়ে আমি কি বলেছি আর কি বলি নি। নীতি বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ না করেও সাধারণ মানুষ যে অজ্ঞাতসারেই অনেক অহিংস কাজ করে, হিংসার সাথে অহিংসা ও যে মানুষের মধ্যে থাকে এবং এই সাধারণ অহিংসাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ নিয়ে যে উপন্যাস লেখা যায়, এটা তাকে কোনোমতেই বুঝিয়ে দিতে পারলাম না। "
Profile Image for Hemlock ♡.
63 reviews
October 24, 2022
স্বার্থের জন্য মানুষ নিজের কত অন্ধকার নিজের কাছেই অস্বীকার করে যায়। প্রতিনিয়ত।
মানিক বন্দোপাধ্যায় নাকি সাইকোলজি ডিসেকশনে অনবদ্য। আগে পড়া কোন বই থেকে এটা তেমন বুঝিনি। এই বই পড়ে গুম হয়ে বসে ছিলাম অনেকক্ষণ। মাঝে মাঝে পড়তে নিজেরই লজ্জা লাগছিল। মানব চরিত্রের এই নগ্নতা এভাবে পড়া নিজের কাছেও এক লজ্জার ব্যাপার।
মানুষের নাকি সেই বইই ভালো লাগে যেটা সে নিজের মধ্যে খুঁজে পায়। এই বইয়ে নিজের কিছু খুঁজে পাইনি। কিন্তু মানুষের চরিত্রের গভীরতম অনুভূতিগুলো, যেগুলো অনেকসময় আমরা নিজের কাছেও স্বীকার করি না, বইয়ের পাতায় সেগুলো দেখে ভাবতে বসতে হয়।
বইয়ের নাম "অহিংসা" কেন? মানুষ মাত্রই হিংসার বশবর্তী এটা বোঝাতে?
ভীষণ দারুণ একটা বই। ভীষণ।
634 reviews2 followers
September 5, 2020
While the ending was quite confusing the character analysis on point. The author did a great job of diving deeper into the psyche of all the character. It’s his analysis of human mind that makes his writings so remarkable.
Profile Image for Nisa .
114 reviews19 followers
Read
January 28, 2022
মনের গহীনে কি চলছে, কেন চলছে আর কেমন করে আমরা নিজেরাই নিজের কাছে কত কিছু আড়াল করার চেষ্টা করি, এই ব্যাপারটা এমন সহজ করে লিখে ফেলা সম্ভব বলে আমার জানা ছিল না। পদ্মা নদীর মাঝি দিয়ে যে মুগ্ধতা শুরু, তাতে অন্য মাত্রা যোগ হলো বইটা পড়ে। খুব কাঁদলাম।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
556 reviews
October 28, 2024
মানিকের প্রথম উপন্যাস দিবারাত্রির কাব্য-এর মতো এটিও একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কিন্তু এটি এতোটা জটিল করে লিখেননি। আশ্রমকে কেন্দ্র করে লেখা এই উপন্যাসটি মানুষের মন নিয়ে মানিকের খেলা করার প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়।
Profile Image for Rubayet Alam.
32 reviews1 follower
March 13, 2021
খুব কম বয়সে পড়েছিলাম তাই হয়ত বুঝতে পারিনি অনেক কিছু, ভালোও লাগে নি তেমন।
Profile Image for Md. Jamal Uddin.
81 reviews14 followers
March 17, 2021
শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ। সদানন্দ আর মাধবীলতা মিসট্রি রিমেইন আনসল্ভড। ভালো লেগেও ভালো লাগছেনা। চরিত্রগুলোর প্রতিটির আলাদা স্বকীয়তা আছে। ছেড়ে দিয়েও বাদ দিতে পারিনি, পড়ে শেষ করতে বাধ্য হয়েছি।
Profile Image for  Sabit Ara Orpa.
78 reviews15 followers
January 7, 2022
ধর্মীয় ব্যাবসা,অন্ধ ভক্তি এবং যৌনতা। আবারো চরিত্রের সাইকোলজিক্যাল ডিসেকশনে অনবদ্য মানিক।
Profile Image for Swajon .
134 reviews76 followers
July 19, 2019
প্রিয় কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক একবার বলেছিলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব। মাহমুদুল হক নিজে একজন সংবেদী লেখক এবং মানুষ ও তার জীবনের গভীরতর অবগুণ্ঠনের ভাষ্যকার ছিলেন বলেই হয়তো পূর্বসূরি মানিক সম্পর্কে একদম অকপটে এমন বলতে পেরেছিলেন। 'অহিংসা' উপন্যাস পড়ে আবারো বুঝতে পারলাম কতোখানি বাস্তব এবং সৎ মূল্যায়ন ছিল এটি।
মানুষের অন্তর্লোকের এতো গভীরে পৌঁছে গিয়েছিলেন মানিক এবং একজন নিপুণ শিল্পীর ক্রমাগত সফল চেষ্টা দিয়ে সেই পর্যবেক্ষণকে ভাষা দিয়েও তুলে আনতে পেরেছেন যে, উপন্যাসে গল্পের ঘনঘটার আড়ালে শুধু স্রষ্টা এবং সৃষ্টি একে অপরকে প্রতি লাইনে আরেকটু বেশি জীবন্ত করে দিচ্ছে, সেদিকেই ঝোঁক ছিল পুরোটা।
যুক্তির শৃঙ্খলা দিয়ে হয়তো উপন্যাসের কিছু কিছু ঘটনাকে মেলানো যাবে না। বরং, সদানন্দ, বিপিন, মাধবীলতা, মহেশ এদের কোন কোন কর্মকাণ্ড অতি আকস্মিক, লেখক আরোপিত, নাটকীয় মনে হতে পারে। কিন্তু, তাদের অন্তর্বাস্তবতায় লেখক নানা জটিল পথ পরিভ্রমণ করেছেন, তাদের মুখোমুখি তাদের নিজেদেরই দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এত কুটিল, এত বৈচিত্র্যময় মানবমনের রহস্য উদঘাটনই ছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরাধ্য। অবশ্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না, পরিণতি দেওয়ার তাড়াও, শুধু বাস্তবতার গতিশীলতার ভেতরেই বিরাজমান নৈরাজ্য, কখনো পশ্চাৎবেগ, কখনো সম্ভাব্য ধারাবাহিকতাকে নস্যাৎ করে দেওয়া নতুন সম্ভাবনা, সবকিছুকে মানিক অনুসরণ করে গেছেন, যদিও এগিয়ে দিয়েছেন নতুনতর যাত্রায়।
উপন্যাসের নাম 'অহিংসা' সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব মত ছিল এরকম যে, কোনরূপ আদর্শ না নীতির বশবর্তী না হয়েও অহিংসাকে মানুষ অজ্ঞাতসারেই অপরাপর গুণাবলির মতো নিজের ভেতরে প্রতিপালন করে এবং এই অহিংসাই তাকে নিজ চরিত্রের অন্যান্য দিকগুলোর সাথে অদ্ভুত মিথষ্ক্রিয়া ঘটায়।
যদিও, কখনো মনে হয় 'অহিংসা'র মানুষগুলো শোচনীয়ভাবে অদৃশ্য কোন নিয়তিতাড়িত, কিন্তু নিয়তির নির্মম আখ্যান রচনা মানিক করেন নি, মানুষের বৈচিত্র্যময় মানসলোক সম্ভবত নতুন করে আরেকবার নিজেই ভ্রমণ করতে চেয়েছিলেন।
সমালোচকদের মধ্যে কেউ কেউ এই উপন্যাসকে বলেছেন অহেতুক জটিলতায় আক্রান্ত, লক্ষ্য। আবার কেউ বলেছেন, আশ্রমের সমূহ ভণ্ডামি পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্যই মানিক 'অহিংসা' রচনা করেছেন। যৌনতার অভিযোগবাহী সমালোচনাও বিদ্ধ করেছে।
কিন্তু এই উপন্যাস পাঠ, কোন পাঠককে রিপুতাড়িত করে না। যৌনতা এখানে বিচ্ছিন্ন কোন ব্যাপার নয়। সমগ্রতার সাথে প্রাসঙ্গিক হিসেবেই এসেছে। এমনকি, মাধবীর সাথে সদানন্দের কয়েকটি মুহূর্তে মানিকের বাক সংযম এটাই প্রমাণ করে যে, উপন্যাসের জন্য পরবর্তী লাইনটিই তিনি লিখতে চান। যৌনতার মোড়কে এই উপন্যাস আচ্ছন্ন নয়। মানিকের অন্যান্য রচনার সাথে যারা পরিচিত, এই উপন্যাসের জটিলতাও মেনে নিয়েই এগোবেন। আবার, নিছক ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচনই যদি লক্ষ্য হবে তবে, আশ্রম প্রধান সন্দানন্দের ভেতরে অন্যান্য স্বাভাবিক মানবীয় আচরণগুলি উদঘাটনে মানিক এতোটা মনোযোগী হতেন না।
এই আন্তরিকতার কারণে এবং পূর্বারোপিত কোন উদ্দেশ্যে জর্জরিত না হওয়ায় 'অহিংসা' যেন অহিংসুকের মতোই নিজস্ব গতিতে এগিয়েছে। কখনো নমনীয় ভঙ্গিতে, কখনো কঠিনতম অনমনীয়তায়, কিন্তু সব সময়ই সাবলীল জীবনবোধের পথে।
Profile Image for Abdul Ahad.
59 reviews4 followers
October 6, 2019
খুব জটিল তবুও প্রিয় একটা উপন্যাস।
Profile Image for Shamim Raze.
20 reviews
March 11, 2017
অনেকদিন পর ব্যাতিক্রম ধর্মী ও বাস্তাবতা নির্ভর একটা উপন্যাস পরার সুযোগ হল। উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকে চলতে থাকা ধর্ম ব্যবসার কুঠিল দিক খুব সুন্দর ভাবে মানিক বন্দোপাধ্যায় তুলে ধরেছেন। কালের বিচারে উপন্যাস খানা পুরনো হলেও বর্ত্তমান বাস্তবতার নিরিখে এখনো যুগোপযোগী।
Profile Image for Tahsin Rahman.
5 reviews4 followers
Read
November 21, 2016
আপাতত সবকিছুই মাথার উপর দিয়ে গেছে :3
Displaying 1 - 27 of 27 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.