"হলুদ নদী সবুজ বন" কল্পকথায় মেশানো বাস্তবতার বলার সুন্দর তুলিতে আঁকা লেখকের সুন্দর একটি বই। যেথায় দুর্দশা সেখানে সুখের স্রোত ও আছে এই মর্মকথা মাথায় রেখে লেখক লিখেছেন উপন্যাসটি। তার সুচারুরূপে বর্ণনা, ধনী-দরিদ্রের সংঘর্ষ ও গরীবের মার খেয়েও চুপ থাকা চিরাচরিত রূপ সৌন্দর্য বইটির। কোনো অজুহাত নয় সবই যেন সত্যতার রূপে মিশেল-ধোঁয়া।
তিনি একবার লিখেছে ইশ্বর, গৌরী, আজিজ, শান শায়ের, ফুলজান, লখা, মন্টা, সাধুদের কাহিনী আবার তিনি ধনীক শ্রেণী প্রভাস, বনানী, ইভা, ররার্টসন, ক্লাবের কথা। ইশ্বরের কাঁচা ঘর, লক্ষ্মণের খেয়াঘাট, উড়িয়ন মালী, অহ্যালাদের পরিশ্রমে গড়া প্রভাসের বাগানটি সভ্যতার চিরাচরিত ভেসে চলা। আবার ক্লাব ঘরের নাচ, গান, হাসি, আনন্দ, তাস, বিলিয়ার্ড খেলা, বেশি রাত্রের হৈ হুল্লোড, গ্রামের মানুষের বন্যায় ভেসে যাওয়া মেলোড্রামা সৃস্টি করেছে।
এতকাল সাহিত্য চর্চা করেও আমি বুঝেনি তিনি কি বুঝিয়েছেন। শ্রেণীবিভক্ত জীবন কোনো দেশে কস্মিনকালে প্যারালাল ছিল না। এখনো নেই, সোনার পাথরের বাটির মতোই সেটা অসম্ভব ব্যাপার। কথাটা ভুল বোঝা সম্ভব। আরো স্পষ্ট করার চেষ্টা করি। আমি বলছি লেখক জীবনের কথা শ্রেণীতে শ্রেণীতে ভাগ হয়েও একত্র সংগঠিত সমগ্র সমাজের কথা। সমান্তরাল কাহিনী খুবই সম্ভব, একটু কায়দা করে বানিয়ে লিখলে হতো। কিন্তু সম্পর্কহীন সম্ন্তরাল জীবন?
ইশ্বর আজিজরা থাকে এক স্তরে, প্রভাস রবার্টসন অন্য স্তরে। তাই বলে জীবন কি তাদের সম্পর্ক হীন? পরস্পরকে বাদ দিয়ে তাদের কারো জীবন সম্ভব?
সম্পর্ক কি শুধু প্রেমে হয়! সংঘাত সম্পর্ক নয় কি?
উপসংহার বইটির, ইশ্বর একজন শিকারী, তার জীবনের সাথে জড়িত একটি গল্প লিখেছেন লেখক। তার দেখা বন, নদীর কথা বলেছেন। সাথে সৌখিন বড়লোক প্রভাস, রবার্টসনের আঁতে গা লাগানো, মালিক শ্রেণীর নির্মমতা তুলে ধরেছেন।