কলকাতা শহরের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে জব চার্নকের প্রতি হিন্দু বাঙালির উচ্ছ্বাস যেমন বছরে বছরে উদ্বেল হয়ে ওঠে, ঢাকা নিয়ে তেমন কোন উচ্ছ্বাসের কথা শোনা যায়নি। ঢাকা কিন্তু বাঙালি মাত্রেরই গর্বের শহর। কলকাতার অনেক আগেই তার জন্ম। আর জন্ম থেকেই শহরটি ছিল স্বাতন্ত্রধর্মী। বিক্রমপুর ও সোনারগাঁর পতনের পর ঢাকার আবির্ভাব। অবশ্য এই শহরটি গড়ে ওঠে মোঘল শাসকদের আনুকূল্যে। প্রথম থেকেই হিন্দু বসতির তুলনায় মুসলমান বসতি ছিল বেশি। জনসংখ্যায়ও ছিল তারা অনেক এগিয়ে। শহর হিসাবে ঢাকার আধুনিক বিকাশ শুরু ইংরেজ আমলে। ততদিনে হিন্দু জমিদার, উকিল, ডাক্তার, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মী এবং ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বিস্তৃত হয়ে পড়তে থাকে। ফলে শহরের জনজীবনে এই ধর্মাবলম্বীদের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। ইংরেজ শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল হিন্দুসমাজের শিক্ষিত মানুষ। কিন্তু মুসলমান সমাজ বিবিধ কারণে ইংরেজ শাসকদের কাছ থেকে সুদীর্ঘকাল দূরত্ব বজায় রেখে চলেছিল। বিশেষ করে সিপাহী বিদ্রোহের পর এই দূরত্ব আরও বাড়ছিল। যা তাদের পক্ষে মঙ্গলজনক ছিল না। পূর্ববাংলার প্রধান শহর হিসাবে ঢাকার খ্যাতির আড়ালে হিন্দু ব্যবসায়ী, জমিদার, আইনজীবী, সরকারি কর্মীদের অবদান ঐতিহাসিক সত্য। দেশভাগ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঢাকার জনবিন্যাসে ঘটেছে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন। শহরটির আয়তন কেবল বাড়েনি, নগরায়নের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় সুস্পষ্ট। একদা যারা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র থেকে ছিল দূরে, তারাই আজ এই ঐতিহাসিক শহরের বিকাশে অন্যতম কারিগর। ধর্মমত নির্বিশেষে বাঙালির এই প্রিয় শহরটিকে নতুন করে জানার প্রয়াসেই বর্তমান গ্রন্থের পরিকল্পনা।