It began as a travelogue narrating the wanderings of three young men in the tense, forested heartland of Chhotonagpur in early 1990s. Looking back, it has turned out to be a site of buried memories, personal and collective - of famine, Partition, Naxalite movement in 1970s, and the shadows and echoes of a lost era. Fashioned out of diverse materials that include memoirs, gazetteers, a journal and vintage photographs, this book inhabits the unclassifiable and provocative space between history and fiction, autobiography and narrative non-fiction. Reading it is like stepping into the unsettling three-dimensional world of an art installation.
পরিমল ভট্টাচার্য বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখেন। স্মৃতিকথা, ভ্রমণ আখ্যান, ইতিহাস ও অন্যান্য রচনাশৈলী থেকে উপাদান নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক নতুন বিশিষ্ট গদ্যধারা, নিয়মগিরির সংগ্রামী জনজাতি থেকে তারকোভস্কির স্বপ্ন পর্যন্ত যার বিষয়-বিস্তার। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। কলকাতায় থাকেন।
"একটি ডাক শিশিরের ফোঁটার মতো, নিটোল, পাতার ডগায় ঝুলে আছে, টুপ করে জলতলে খসে পড়ে লাফিয়ে ওঠে ফের, যেন ফিরে যাবে। মাঝের নৈঃশব্দ্যগুলো, যখন শিশিরকণা ফের জমে উঠে পাতার ওপর, প্রায় চাক্ষুষ করা যায়। কখনো আকাশে অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির ধ্বনি-ধূসর নৈঃশব্দ্যের ঢেউ গড়িয়ে আসছে নুড়ি পাথর আর ঝিনুকের বিছানা দিয়ে।"
কী অপূর্ব গদ্য, কী অদ্ভুত সুন্দর সংজ্ঞা নৈঃশব্দ্যের। নৈঃশব্দ্য, নিঃসঙ্গতা আর প্রকৃতির এমন আশ্চর্য সন্নিবেশ সেই আরণ্যক পড়ার পর থেকেই কেবল খুঁজে খুঁজে ফিরেছি। দ্বিজেন শর্মা, প্রেমেন্দ্র মিত্র পেরিয়ে পরিমল ভট্টাচার্যেই যেন তার পরিপূর্ণ রূপ পেলাম। ব্রিটিশ আমলে সাহেবরা কিছু কিছু জায়গাকে দিয়ে গিয়েছিল বিশেষ সার্টিফিকেট। বিহারের ছোটনাগপুর ও তার মধ্যে একটা। সৌন্দর্য আর আবহাওয়ার পাশাপাশি এখানকার দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে ছিল বলেই তারা যেকোন জিনিস দেখেই বলত ড্যাম চিপ, যার থেকে ড্যাঞ্চি হয়ে গেল স্থানীয়দের মুখে মুখে। পরিমল ভট্টাচার্য এর এই বইটি লেখা হয়েছে মোটা দাগে তিনটা ভাগের মিশেলে। এক ভাগ সম্পূর্ণই দখল করেছেন সঞ্জীবচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, সুনীল, সত্যজিৎ, বুদ্ধদেব বসুরা তাঁদের আশ্চর্য সব সৃষ্টির মাধ্যমে। অন্য ভাগটি লেখকের আর সব লেখার মতোই (অন্তত এখন অব্দি আমার পড়া) স্মৃতিকথা আর ইতিহাসের মিশেল আর তৃতীয় ভাগটি তিন যুবকের ভ্রমণকাহিনী। এই তিন কাহিনীই হাত ধরাধরি করে খুব ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে থাকে পাঠকের মর্মে। লেখকের শব্দচয়ন আর বর্ণনশৈলী অত্যন্ত আভাময়। যার ফলে চোখের সামনেই ফুটে উঠতে থাকে একের পর এক অত্যাশ্চর্য দৃশ্যকল্প। রংগুলো কখনো সবুজ, কখনো ধূসর তো কখনো সিপিয়া। অরণ্যের দিনরাত্রি আর পালামৌ ক্ষণে ক্ষণে উঁকি দিতে থাকে লেখকের স্মৃতিহারানো পিসির অদ্ভুত দৃষ্টি আর একটা মৌলিক ঘ্রাণমাখা ছেলেবেলার পাউরুটির সাথে। মন্বন্তর আর হাড্ডিসার মানুষগুলোর ছবির সাথে সাথে ধরা দিতে থাকে তৎকালীন রাজনৈতিক আবহাওয়া। তিন যুবকের ভ্রমণকালীন রেলের শৌচাগারের বর্ণনা আর ফরেস্টার জলেবির কাল্পনিক উঠোনের বর্ণনা যে একই মানুষের কলমনিঃসৃত বুঝতে কষ্ট হয়, অথচ দুটোই আশ্চর্য ব্যঞ্জনাময়। ব্যঞ্জনাময় সাজিদ মিয়া আর চানুয়া, অথচ দুজন দুসময়ের৷ হারানো এক সময়কে ফিরে পেতে আবার বছর কুড়ি পর লেখক ফিরে চলেন এক নগ্ন নির্জন রেলস্টেশনে। কিন্তু প্রতিটা ভ্রমণের পর, প্রতিটা মুহূর্তের পর নতুন হয়ে উঠা মানুষগুলোর পক্ষে কি হারানোকে ফিরে পাওয়া সম্ভব?
ঔপনিবেশিক বঙ্গদেশে উচ্চবিত্ত বাঙালি পরিবারের সামাজিক লেক্সিকনে “পশ্চিম” নামে একটি শব্দ ছিল। এই পশ্চিম দিকনির্দেশক পশ্চিম নয়, স্থাননির্দেশক পশ্চিম। তৎকালীন রাজনৈতিক মানচিত্রে বৃহত্তর বাংলাপ্রদেশের সঙ্গে বিহার রাজ্যটি যুক্ত থাকলেও, বাঙালি নিজের জাতিগত সম্ভ্রান্ত-অবস্থানের সঙ্গে সেই রাজ্যের “লিট্টিখোর খোট্টা” বিহারি মানুষ এবং সংস্কৃতিকে একই আসনে স্থান দিতে ইচ্ছুক ছিল না। তাই “পূর্ববঙ্গ” নামের একটি আঞ্চলিক ধারণা প্রচলিত থাকলেও, স্বাধীনতাপূর্ব বাঙালির মননে “পশ্চিমবঙ্গ” বলে কিছু ছিল না। ছিল শুধু “পশ্চিম”। কেবলই পশ্চিম। এর চেয়ে বেশি সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
এবং সেই অঞ্চলটি ছিল “ড্যাঞ্চি”। অর্থাৎ “damn cheap”। মানে, নেহাতই সস্তা। জলের দর। বাঙালি বাবুরা পশ্চিমে যেতেন ছুটি কাটাতে, কিংবা “হাওয়া বদল” করতে, কিংবা আমাশয়, অগ্নিমান্দ্য (বর্তমানে “অম্বল”), ক্ষুধামান্দ্য (বর্তমানে “একদম ক্ষিধে হচ্ছে না, ডাক্তারবাবু”), বদহজম-পীড়িত বাঙালির চিরাচরিত উদরসমস্যার উন্নতিকল্পে (কারণ সেই অঞ্চলের খনিজসমৃদ্ধ জল-হাওয়া ছিল ক্ষুধা এবং সুস্বাস্থ্য উদ্রেককারী)। এবং শহর কলকাতার বনেদি বাজারহাটের অগ্নিমূল্যের তুলনায় সেই পশ্চিমের দেহাতি বাজারের জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক সস্তা দর প্রত্যক্ষ করে বাবুদের মুখ থেকে ছিটকে বেরোতো এই কথাটি : Damn cheap! উচ্চারণের বিবর্তনে কথাটি রূপান্তরিত হয় “ড্যাঞ্চি”তে। পরিমল ভট্টাচার্যের বইটি বাঙালির সেই অতীত ড্যাঞ্চিভূমির একটি অভিনব আখ্যান।
শুধু জিনিসপত্র নয়, সেই অঞ্চলের মানুষও ছিল ড্যাঞ্চি। বিহারি বাদ দিলেও, ছোটনাগপুর মালভূমির বিস্তীর্ণ জঙ্গল-অধ্যুষিত অঞ্চলটির ভূমিসন্তান ছিলেন সাঁওতাল, হো, মুন্ডা, ওরাওঁ, কোল, ইত্যাদি অসংখ্য জনজাতিরা (যাঁরা ইদানিং মূলত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের অধিবাসী)। কিন্তু সামাজিক অবস্থানের নিরিখে নিজেদের ভূমিতেই তাঁরা ছিলেন সবচেয়ে অবহেলিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত। যে-অঞ্চলে খাদ্যবস্তুর অস্বাভাবিক সস্তা দর দেখে বাঙালি বাবুরা Damn cheap বলে উল্লসিত হয়ে উঠতেন, সেই একই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষদের কাঁধে নিয়মিত চেপে থাকতো খাদ্যের অনটন, দুর্ভিক্ষের জোয়াল। শোষণের এক বিচিত্র সহাবস্থানে বহিরাগত বাঙালিদের তৈরি করা সুদৃশ্য রুচিশীল বাগানবাড়িতে ভৃত্যের কাজ করতো সেই অঞ্চলের বুভুক্ষু মানুষরা।
পরিমল ভট্টাচার্যের এই ড্যাঞ্চি-আখ্যানে শুধু ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল নয়, ক্রমশ উঠে এসেছে ব্রিটিশ আমলের খাদ্যসংকটে জর্জরিত আরো অনেক মানুষের কথা। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় আছে : “মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি”। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় আছে : “বাঁচিতে বাঁচিতে প্রায় মরিয়াছি, এবার সব্যসাচী, যা হোক একটা দাও কিছু হাতে, একবার ম’রে বাঁচি!” কেমন ছিল সেই ঘর? কেমন ছিল সেই ম’রে বাঁচা? বাঙালিজাতির জাতিগত উৎকর্ষের সফেদ দেয়ালে কুৎসিত ঘুঁটের মতো লেপ্টে আছে মন্বন্তরের স্মৃতিদাগ। যে-দাগ জন্মদাগের মতোই চিরন্তন। ক্রনিক চুলকানির মতো নাছোড়বান্দা। কলকাতা শহরের সুরম্য পথঘাটের আনাচে কানাচে এখনও রয়ে গেছে গগনবিদারী “একটু ভাত দিন গো”... “একটু ফ্যান দিন গো” আর্তচিৎকারের যূথবদ্ধ প্রেতাত্মারা। শিল্পীর আঁকা উডকাট ছবিতে, ফটোগ্রাফারের তোলা সাদাকালো স্থিরচিত্রে, আজও রয়ে গেছে সেই কঙ্কালসদৃশ মানুষদের অশরীরী ছায়া, জ্বলজ্বলে ক্ষুধার্ত চোখের তীব্র চাহনি।
অর্থাৎ জিনিসপত্র নয়, আসলে মানুষই বড় সস্তা। সামাজিক পিরামিডের উঁচুনিচু সহাবস্থানের নকশায় একদল মানুষ আরেকদল মানুষকে বানিয়ে রেখেছে ড্যাঞ্চি। মানুষেরই তৈরি সভ্য সমাজে মানুষ পোকামাকড়ের মতো মারা যায়, কুকুরের মতো (এবং কুকুরেরই সঙ্গে) ডাস্টবিন থেকে খাবার খুঁটে খায়, গবাদি পশুর মতো নির্বিকারে ত্যাগ করতে বাধ্য হয় নিজের মানুষিক আত্মমর্যাদা। ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাসের পঙ্কিল ঘোলাজলে ডুবসাঁতার দিয়ে পরিমল ভট্টাচার্য তুলে এনেছেন অস্বাভাবিক সস্তা মানুষদের কতিপয় প্রত্নচিহ্ন। কখনও কলকাতা শহরের বেওয়ারিশ লাশে-ঢাকা রাজপথে, কখনও ছোটনাগপুরের রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে, কখনও দেশভাগের অবাঞ্ছিত জারজ সন্তান উদ্বাস্তুদের কলোনিতে, কখনও ভোরবেলায় গড়ের মাঠে নকশাল বিপ্লবীর পলাতক উদ্বায়ী জীবনে, তিনি খুঁজে খুঁজে ফিরেছেন ড্যাঞ্চি মানুষদের, অবিশ্বাস্য সস্তা মানুষদের।
বিষয়বস্তুর মতোই বইটির রচনাশৈলীও অভিনব। একটি নির্দিষ্ট পথরেখা ধরে চলেনা লেখকের বর্ণনা। এমনকি ভাষাতেও যেন জড়িয়ে রয়েছে স্মৃতিচারণের উচ্ছৃঙ্খল ঘোরগ্রস্ততা। বর্তমান বাংলা নন-ফিকশন সাহিত্যে পরিমল ভট্টাচার্যের গদ্য সম্ভবত সবচেয়ে ম��লিক, সবচেয়ে সুখপাঠ্য। সেই সুখপাঠ্য গদ্যের খাঁজে লেখক অবলীলায় গুঁজে দিয়েছেন বিষাদের বেহালাকান্না। প্রকৃতির শিশিরনিবিড় বর্ণনার মাঝে হঠাৎ ছুঁড়ে দিয়েছেন আনরোমান্টিক অস্তিত্বের নিঃশব্দ হাহাকার। ছড়ানো ছেটানো এলেমেলো ইতস্তত খাপছাড়া এই রচনাশৈলী যেন মানুষেরই খাপছাড়া জীবনের দ্যোতক। যে-জীবন অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে। যে-জীবন সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের মতো খেলা করে। যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের। যে-জীবন চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধান আঁধারে অশ্বত্থের কাছে এক গাছা দড়ি হাতে একা-একা হেঁটে যায়।
যে-জীবন ড্যাঞ্চি। হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
(কলকাতার রাজপথ, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর। শিল্পী: জয়নুল আবেদিন)
‘ড্যাঞ্চিনামা’ আর দশটা ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের মতো নয়। ইতিহাস, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনীর চমৎকার মিশেল এ বই। ফলে আগ্রহ আছে এমন অল্প কিছু ঘটনা বাদে ইতিহাস ক্লান্তিকর লাগা আমাকে মুগ্ধ করতে পেরেছে বইটি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেখকের বর্ণনার ধরনটা। একটু জটিল। তবে নতুনত্বের স্বাদ দেয়। কোনো ঘটনার অকস্মাৎ অবতারণা অপ্রাসঙ্গিক লাগলেও একটু পরেই বোঝা যায় সেটার প্রাসঙ্গিকতা। আর পরিমল ভট্টাচার্যের বলশালী গদ্যও এ বই ভালো লাগার অন্যতম কারণ।
এর আগে কিছুদিন আগেই পড়লাম শাংগ্রিলার খোঁজে। আর এইবারে ড্যাঞ্চিনামা। ভ্রমণের কথা এক অন্যরকম ভাবে পড়া। একবার অতীতে, একবার বর্তমানে, আবার অতীতে। মাঝে মাঝে একটু খেই হারিয়ে যায়। কিন্তু আসাধারণ। আমার শুধু একটাই অনুযোগ, লেখক প্রকৃতিকে এত সুন্দর তুলে ধরেন, কিন্তু একটু কম লেখেন। আর একটু চাই।
"সেটা ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তর, ষাট লক্ষ মানুষ অনাহারে মহামারীতে প্রাণ হারায়। বঙ্কিমের কাহিনির প্রেক্ষাপট ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এর মাঝে আরও অসংখ্য ছোটোবড়ো মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষ হয়েছে- কোনোটি সরকারিভাবে স্বীকৃত, কোনোটি নয়। বিশ শতকে ব্রিটিশ সরকার চালু করে ফ্যামিন কোড বা দুর্ভিক্ষ বিধি। তবে তার ঢের আগে থেকেই রাজকর্মচারীদের নিজস্ব ফ্যামিন কোড ছিল। একবার ফরিদপুর অঞ্চলে প্রবল অন্নাভাবে সত্ত্বেও স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দুর্ভিক্ষ বলতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন। গাছে এখনও পাতা আছে, স্ত্রীলোকও ফুলত্যাগ করেন নাই, সুতরাং দুর্ভিক্ষ হয় নাই।"
"আমার বন্ধু প্রয়াত নীরেন দাশগুপ্ত তাঁর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে যা বলল তা শুনলে এখনও গা শিউরে ওঠে। সে দেখেছে, বাগবাজারের রাস্তায় একটি শিশু বমি করতে করতে মারা যাওয়ার পর তার মা সেই বমি থেকে ডাল বা ছোলাজাতীয় খাবার তুলে নিয়ে নিজে খাচ্ছে।"
এই লেখকের একটি স্বভাবজাত নৈঃশব্দ আছেন, যেটি তিনি আখ্যান, পরা আখ্যানের পরতে পরতে পাঠকের অন্দরে চারিত করেন আবার একই সাথে ওনার দেখার চোখটি নিপুণভাবে পাঠকের মধ্যে সঞ্চার করেন।
যথারীতি খুব ভাল লাগল। এই লেখকের যা পড়েছি সবই ভাল লেগেছে।
যে বিষয়গুলো আলাদা করে বলতে ইচ্ছা করছে, সেগুলার একটা হচ্ছে এর বর্ণনাশৈলী।
সাধু ভাষার অংশটা নিয়ে একজন পাঠক বলেছিলেন- তাঁর দুরূহ লেগেছে। মন্তব্যটা আগেই শুনেছিলাম বলে একটু ভয়ে ভয়ে ছিলাম। কিন্তু পড়তে গিয়ে একটা ব্যাপার ঘটল। প্রথম অধ্যায়েই, সাধু ভাষার একটা অংশ যখন কিছুক্ষণ ধরে পড়ছি, ক্রিয়াপদের দীর্ঘ রূপটার কারণে একটা দুলুনি তৈরি হচ্ছিল- করিয়া, হইয়া এসব শব্দের তড়ঙ্গে। এই অংশেই স্থানীয় দেহাতি লোকের প্রাকৃত ভাষার একটা বাক্য সাধু ভাষার পাশে বসে হঠাৎ কী ছন্দময় এক আবহ তৈরি করল। মনে হল গুরু চণ্ডাল মিলে এক বৈষম্যহীন নতুন ভাষারাজ্যে চলে এসেছি। এই ব্যাপারটা প্রতিবার হয়েছে সাধু ভাষার অংশ গুলো পড়তে গিয়ে। তৎসমপ্রবণ ভাষায় বর্ণনা করা হচ্ছে যখন বর্তমানকে, অতীত-বর্তমান একটা অদৃশ্য সেতু তৈরি হয়ে যাচ্ছে। খুব উপভোগ করলাম এটা।
এই লেখকের লেখা পড়তে গেলে একটা মধুর সমস্যা আমার প্রতিবার হয়েছে। সেটা হচ্ছে তাঁর উপমা-রূপকের গভীরতা। এত বিভোর হয়ে যাই প্রায় প্রতিটা উপমা-রূপকের প্রয়োগ নিয়ে ভাবতে ভাবতে- যে পরের অংশটা পড়তে গিয়ে মনোযোগ থাকে না। আবার পড়তে হয়।
আর আসলেই যেটা দূর্ভাগ্যজনক, সেটা হচ্ছে- পেপারব্যাক এই বইগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যায়, কভারের প্লাস্টিক আলগা হয়ে উঠে আসে মাত্র কদিনেই। এবারও কেনার সময় দোকানদারকে বলেছিলাম- ভাল একটা কপি দিন, এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক তাই হলো। পরিমলের যত বই পড়েছি, একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রকাশকের এই ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিৎ, না আমার আরেকটু সাবধানী হওয়া উচিৎ, এইটা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।