ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা মীরা সুন্দর করে সেজেছে। চোখে কাজল দিয়েছে। কাজল নামের কালো রঙ কি করে চোখে এত সুন্দর করে কে জানে। মেয়েরা উৎসব উপলক্ষে নতুন শাড়ি পরতে পছন্দ করে। বেচারী একটা পুরনো শাড়ি পরেছে। জন্মদিনের কথা শফিকের কিছুই মনে নেই, মনে থাকলে একটা শাড়ি, কিছু ফুল নিয়ে আসতো।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
অন্যসব বইয়ের মত না হলেও ততটা খারাপও লাগেনি। শফিকের বাবা-মা দুজনেই আনন্দ দিয়েছেন। শফিকের মেয়ে নিশো মাঝরাতে উঠে বাবা-মা কে বিব্রত করে, এটাও মজার বিষয়। এসবের মধ্যেও কিছুটা সাসপেন্স আছে, বারবার মনে হতে থাকবে তারপর কি হবে, তারপর কি হবে? সবমিলিয়ে ভালই বলা চলে।
শফিকুল ইসলাম মবিনুর রহমান নামের নতুন পিএ হিসেবে জয়েন করেন।ভদ্রলোক সারাদিন বাসায়ই থাকেন,তেমন কিছুই করেন না।ব্যবসার সব দেখাশোনা করে তার ক্যাশিয়ার।তিনি থাকেন দোতলায়,নীচতল চাকর-বাকরদের জন্য।তো তাকে কিছুদিনের মধ্যেই মোবাইল আর সার্বক্ষণিক গাড়ি দেয়া হয়।এতো কিছু পেয়েও সে কেন জানি মবিনুর সাহেবকে পছন্দ করে না।
উনার একটা বিয়ে হয়েছিলো শুধু ৭ ঘন্টার জন্য এবং তা ভেঙ্গেও যায়।পরে ঐ মেয়েটির আরেক জায়গায় বিয়ে হয়।মবিনুর রহমান এখনও তার খোজখবর রাখেন।ফল-টল পাঠান।আর এই দায়িত্বটা এখন শফিকুল ইসলামকে দেওয়া হয়।তার কাজ এখন এটাই আর ধীরে ধীরে তার বাবাও একাজে জড়িয়ে যায়।এভাবেই এগোতে থাকে কাহিনী।
যার হারানোর কিছু থাকে না, বেচে থাকা তার কাছে অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের বেঁচে থাকার পেছনে একটা বড় বাঁধা বা প্রয়োজন হলো এই হারানোর ভয়, পিছুটান।
গল্পের মবিনুর রহমান সাহেবের জীবন শেষের দিকে। তার জীবনে কোনো কিছুর অভাব নাই, সে চাইলে যেকোনো কিছুই করতে পারে। অর্থ আর ক্ষমতা দুটোই তার অসীম, কিন্তু তিনি সৎ এবং সত্যবাদী একইসাথে নির্লোভ ভালো মানুষ। এরকম একটা জীবন একঘেয়ে এবং হতাশাজনক হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি সুখী মানুষ, জীবনের এই হতাশা তাকে স্পর্শ করতে পারে না, জীবনের কোনো একঘেয়েমি তাকে বিমর্ষ করে না। তার কারণ তার জীবনে সাত ঘণ্টার জন্য ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এবং তার পরিণতি। তিনি সেই সাত ঘণ্টার স্মৃতি নিয়ে বেড়াচ্ছেন তার সারা জীবন ধরে। এই অল্প সময়ের মাঝে লুকিয়ে আছে তার জীবনের deep sense of meaning.
সাধারণত মানুষ একা একা নিজের জন্য বাঁচতে পারে না। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কোনো না কোনো একটা উপলক্ষ লাগে, একটা মোহ লাগে, একটা কারণ লাগে।
মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করি আমি, আমার এই উপলক্ষ বা কারণ টা কী? এই উপলক্ষ বা কারণ তখন আমি স্পেসিফিকভাবে খুঁজে পাই না। মনে হয় জীবনের একেক স্টেজে একেক উপলক্ষ বা কারণ ছিল, ভবিষ্যতে তা আবার বদলাবে।
এইযে জীবনের গতিময়তা, এটাই কি জীবনের সারবস্তু? নাকি এই গতিময়তার মাঝে নিজেকে আটকে রাখাটাই জীবনের সারবস্তু?
"চৈত্র মাসের মেঘশূন্য আকাশের রোদ খুব কড়া হয়। সেই ঝাঁঝালো রোদ পড়েছে নীতুর গালে। গাল রোদে পুড়ে যাচ্ছে। কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে রৌদ্রময়ীকে।"
গল্প শেষ হলো, কিন্তু এক রাশ মায়া রেখে গেলেন চরিত্র গুলোর জন্য! প্রতিটা চরিত্র এত দারুন ভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছিলেন, সবাই যেন গল্পের মধ্যমনি হয়ে গেছে।
এই উপন্যাসটাও কাজ করতে করতে শুনে নেয়া। এই বইটা একটা উদাহরণ হতে পারে- এটা বোঝার জন্য যে হুমায়ুন আহমেদের লেখার ম্যাজিকটা কোথায়। কাজে আপস এন্ড ডাউনস থাকে, তো কাজের এক পর্যায়ে প্রচন্ড রাগ ও বিরক্তিতে কিড়মিড় করছিলাম আর তখনি গল্পের অংশবিশেষ শুনে গ্রীষ্মের দাবদাহের আগুন রোদের মত চেপে বসা রাগ যেন একটু একটু করে আইসক্রিমের ঠান্ডা স্পর্শের মত গলে গেল।
এবার গল্পের ম্যাজকটা বলি- মধ্যবিত্তের সামাজিক সমস্যার রিলেটিভিটি এবং বাংলা সিনেমায় দেখানো ভোজবাজির মত সমস্যা সমাধানের ফ্যান্টাসির মিশ্রণ এই গল্প। আর্থিক সমস্যা জর্জরিত ক্ষুব্ধ সন্তান ও তার সংসার জটিলতা, পিতা পুত্রের স্বার্থহীন ভালবাসা এবং থার্ড হুইলের মত তাদের সংগে লেগে থাকা অদ্ভুত ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি সম্পন্ন অতোধিক অদ্ভুত স্বভাবে এক ব্যাক্তি এবং একাধিক মিষ্টি রোমান্টিকতার গল্প নিয়ে কাহিনী টুকটুক করে এগোয়, একসময় গল্প শেষ হয় আর পাঠকের জন্য রেখে যায় একরাশ মায়া।
প্রায় ১২/১৩ বছর আগে পড়েছিলাম বইখানা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী থেকে নিয়ে। কাহিনী বেমালুম ভুলে বসে ছিলাম। ছিমছাম সরল কাহিনীর এই বইটা উপহার পেয়েছি গতকাল। হাতে পেয়েই পড়ে ফেলেছি আবার।
কয়েক দিন ধরেই রিডার্স ব্লকে ভুগছিলাম। রিডার্স ব্লক কাটাতে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের বিকল্প আর কিছুই খুঁজে পাইনি এখন অব্দি।
হুমায়ূনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল, তিনি মানুষের মনের নগ্ন ভাবনা গুলোকে অবলীলায় লিখে যেতে পারেন। এত শব্দের সমারোহ, এত বুদ্ধিদীপ্ত বাক্যের মারপ্যাচ যে মিথ্যে মুখোশে নিজেকে ঢাকার জন্যে। তিনি সেগুলো ব্যবহার করেই লিখলেন স্বচ্ছতা।
অনেকদিন পর হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই পড়লাম। এবং পড়ে যারপরনাই হতাশ! তাঁর সাদামাটা, সহজ সরল লেখনী আর অল্প কিছু হিউমার ছাড়া এই বইয়ে উল্লেখ করার মতন কিছুই নেই।
সাধারণত হুমায়ূনের অনেক উপন্যাসের অসম্পূর্ণ সমাপ্তি নিয়ে পাঠককুলের অভিযোগ রয়েছে। এরকম পারফেক্ট এন্ডিং হুমায়ূন সাধারণত করেন না। ' সেদিন চৈত্রমাস' শেষ করার পর একটা আনন্দময় অনুভূতির রেশ বেশ কিছুক্ষণ ঘিরে রেখেছিলো। গল্পের প্লট আলাদা বিশেষ কিছুনা। সবই হুমায়ূনীয় এলিমেন্টস ; চাকরিদ্যোম শিক্ষিত তরুণ ও তার মায়াবতী স্ত্রী, আটপৌরে সাংসারিক জীবনের ছোট ছোট মধুময়তা, অদ্ভুত শখওয়ালা ধনী ব্যক্তি, কতিপয় ইন্টারেস্টিং কমিক চরিত্র এসবই। জানাশোনা সব এলিমেন্টস দিয়েই হুমায়ূন গল্পের মাঝে একটা ঘোর সৃষ্টি করতে পারেন। যতক্ষণ পাঠক পড়েন, ততক্ষণ আন্দোলিত হতে থাকেন পরিচিত জীবনেই লুকিয়ে থাকা বিচিত্র সব মায়াময় অনুভূতির। সেটার রেশ হোক স্বল্পস্থায়ী, তাতে ক্ষতি কি!
বইটির প্রায় ৮০% বিরক্তিকর।মনে হচ্ছিল লেখক জাস্ট চাপে পড়ে লিখছেন বাজারি পত্রিকার জন্যে।লেখকের আর দশটা উপন্যাসের মতোই সংলাপের পর সংলাপ।বেশির ভাগ সংলাপই যেন উদ্দেশহীন,পাতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে লেখা।তবে উপন্যাসের প্রটাগনিস্ট শফিক চরিত্রটি ইন্টারেস্টিং।শফিকের যে মনস্তত্ত্ব তার স্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তায় ফুটে উঠেছে, তা এই দেশের অনেক পুরুষের মধ্যেই আছে।এছাড়া পাঠককে আমোদিত করার,তার ভক্ত করে তোলার,নেশায় ফেলে দেওয়ার অনন্য কৌশল হুমায়ূন আহমেদ তার এই উপন্যাসটিতেও প্রয়োগ করেছেন।কৌশলটি হলো শেষের দিকে গিয়ে পাঠককে এক বিপন্নতার মধ্যে ফেলে দেওয়া।একটা রহস্য খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রকাশ করা।আর এমন জায়গায় শেষ করা যেন পাঠক পূর্ণাঙ্গ পরিতৃপ্তি না পায়।পাঠক এমন এক অতৃপ্তিতে যেন থাকে,যে অতৃপ্তি থেকে মুক্ত হতে লেখকের পরবর্তী বই পড়তে হয়,পড়তেই হয় যেন পাঠককে।
সম্পর্ক যত ছোট সময়েরই হোক না কেন,তার রেশ, মায়া রয়ে যায়..মবিনুর আর লায়লার সম্পর্ক তারই প্রমাণ। শফিক আর মীরার দাম্পত্য জীবন বেশ ভালো লেগেছে...❤সবমিলিয়ে ভালো লেগেছে..❤
Loved the characters. Loved the subtleties. Loved the silliness. Loved the ending. This was like a slice of life drama with no definite plot, which is not my most favorite thing. Hence 3.5 stars.
রিডার্স ব্লক কাটাতে হুমায়ুন আহমেদ এর বিকল্প আর কি হতে পারে! খুব অসাধারণ কিছু না তবুও 'ইন্টারেস্টিং" ক্যারেক্টার এর উপস্থিতি থাকায় ছেড়ে ওঠা যায় না। একটানা দুই ঘন্টায় শেষ করে ফেলতে হয়। আবার অসমাপ্ত এন্ডিং এর আক্ষেপ ও থাকে না। যদিও মনে হচ্ছিলো গল্প পুরোটাই যার যার ব্যক্তিগত ইউটোপিয়া এর উপর নির্মিত।
সেদিন চৈত্রমাস একজন নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গল্প, যিনি প্রচুর অর্থ বিত্ত কামিয়ে এখন নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। বড় হয়েছেন এতিম খানায়। আপন বলতে দুনিয়াতে তাঁর কেউ নেই। দাবি করেন, "লাইলা" নামের একজন তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিলো কেবল মাত্র ৭ ঘন্টার জন্য।
সেই লাইলা এখন নারায়ণগঞ্জে থাকেন তাঁর মেয়ের সাথে। বৃদ্ধ তাঁকে ভাবেন একমাত্র আপনজন। গভীর আগ্রহের সাথে কিছুদিন পর পরই ফল মূল পাঠান লাইলার বাড়িতে তাঁর ম্যানেজারকে দিয়ে। ম্যানেজারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব থাকে লাইলার সঙ্গে যোগাযোগ করা।
এই বৃদ্ধের নতুন ম্যানেজার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করে শফীক। এখান থেকেই গল্পের শুরু। শফিক উচ্চশিক্ষিত এবং বেকার। স্ত্রী মীরা এবং মেয়ে নিশোকে নিয়ে নিম্নমধ্যবিত্ত জীবন যাপন করে যেতে হয় শফিককে। চাকরীটা তাঁর জীবনে একটা ট্রাম্পকার্ড হিসেবে কাজ করে।
শফীকের বাবা ডিকশিনারি চাচা, পুরো ইংরেজি ডিকশিনারি মুখস্ত করে বসে আছেন। একটা ডিকশিনারি সর্বদা সাথে সাথে রাখেন, সময় পেলেই পাতা উল্টান। চর্চা রাখেন। চর্চা না রাখলে কোন বিদ্যাই কাজে আসে না।
হুমায়ুন আহমেদ স্যারের লেখা বরাবরের মতো এবারো আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার সহজ-সাবলীল লেখনশৈলী অব্যর্থভাবে মানবজীবনের সাধারণ ঘটনাপ্রবাহকে তুলে ধরে যা থেকে অন্তত বাস্তবজীবনের কিছুটা অভিজ্ঞতার ছোঁয়া মেলে। এ গল্পের শেষটা কত সাধারণ কিন্তু পাঠকের মুখে মুচকি হাসি ফোটাতে যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে, একে অপরের প্রতি যে অনুরাগ, যে আত্মিক সম্পর্ক, তা হয়তো কাগজে কলমে গড়ে তোলা ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক বা রক্তের সম্পর্কের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরও বিস্তৃত। কত বৈচিত্র্যময় মানুষের চিন্তা-ভাবনা আর আকাঙ্ক্ষা...।
সাদামাটা লেখনি। তবে চরিত্রগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং, এখানেই হুমায়ুন আহমেদের জাদু৷ চরিত্রগুলোর ইন্টারেস্টিং বৈশিষ্ট্য আর সুন্দর ডায়লগ। শফিকের চরিত্রটা অদ্ভুত৷ তার স্ত্রী খুবই ভাল মেয়ে কিন্তু সে তার সাথে ভাল আচরণ করে না। মূলত এখানে লেখক শফিকের insecurities গুলো তুলে ধরেছেন। ঠিকমত ইনকাম করতে না পারা, বাবা মাকে ঠিকমত দেখাশুনা না করতে পারা এগুলো দিনে দিন কুড়ে খাচ্ছিল তাকে৷ এছাড়া সে একজনের পার্সোনাল ম্যানেজার পোস্টে কাজ করাকে নিচু চোখে দেখছিল। সে মনে করছিল, সে এত ভাল পড়াশুনা করল, কেন বড় পোস্টে চাকরি করল না। এসব চারিত্রিক দুর্বলতা ঢাকার জন্য সে মনের তুষ্টির জন্য বউয়ের সাথে খারাপ আচরণ করত। হয়তো তার পরিবারে তার বাবা মায়ের ভালোবাসার সম্পর্কের অভাবের কারণে সে ভালোবাসার সঠিক প্রকাশ করতে ব্যর্থ হতো।
শফিকের মায়ের বাথরুমে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটা খুব ইন্টারেস্টিং করে লিখে লেখক খুবই হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির বর্ণনা করেছেন। আসলে এরকম চরিত্রের মানুষ কিন্তু আমাদের আশেপাশে প্রচুর। এদিকে শফিকের বউ মীরা ��রিত্রও খারাপ না৷ জীবনের দীর্ঘসময় টাকা পয়সার অভাবে থাকার পর হঠাৎ করে affluent হওয়ার পর সে বড়লোক ভাব করতে শুরু করে৷ যেটা খুবই বাস্তবসম্মত এবং অবশ্যম্ভাবী।
মবিনুর রহমানের ক্যারেক্টার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভাল লেগেছে। তার আগের জীবনের মুন্সী নামক হুজুরের প্রভাব তার জীবনে প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া তার একটা কথা খুব ভাল লেগেছে৷ সে তার আশেপাশে খারাপ মানুষ রাখতে চাইত, কারণ খারাপ মানুষের মাঝে সে নিজেকে যেন ভাবতে পারে। আসলেই কি আমরা বাস্তব জীবনে নিজেদের ভাল অনুভব করানোর জন্য অন্যের খারাপ দিকটা ভেবে শান্তি পাই না? অবশ্যই পাই। এ��াই হুমায়ুন আহমেদের লেখার জাদু৷ প্রতিটা চরিত্র সাদামাটা কিন্তু বিশ্লেষনধর্মী৷
কোনো বই এক বসায় পড়ে শেষ করতে পারছি না। আর হুমায়ুনের বইয়ে একটা জাদু আসে, একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন আনছান করবে। কিছু অংশ পড়লে মনে হবে, না জানি পরের অংশে কি আছে। সেজন্য গল্পের জাদুকরের বই পড়তে নেওয়া।
হুমায়ুনের বইয়ের গল্পের শুরু আর শেষ আমায় মুগ্ধ করে। প্রথম যে বাক্য দিয়ে শব্দ শুরু করবে সেটা পড়েই মনের ভিতর গল্পটা পড়ার একটা অনুভূতি তৈরি হয়ে যায়।
একজন নিঃসঙ্গ কোটিপতি মানুষ মবিনুর রহমানের অবসর জীবনের কাহিনি নিয়েই মূলত বইটি। বইটির শুরুর লাইন - 'বাড়ির নাম আতর-বাড়ি'। শেষ লাইন ছিল-চৈত্র মাসের মেঘশুন্য আকাশের রোদ খুব কড়া হয়। সেই ঝাঝালো রোদ পরেছে নীতুর গালে। গাল রোদে পুড়ে যাচ্ছে। কি সুন্দরই না দেখাচ্ছে রৌদ্রময়ীকে।"
তাছাড়া গল্পের মূল চরিত্র আছে- মবিনর রহমানের পিএ শফিকুল ইসলাম, শফিকের বাবা ডিকশনারি চাচা, শফিকের স্ত্রী মীরা তার মেয়ে নিশো। গল্পে মবিনুর রহমানের চরিত্র আমায় অনেক ভালো লেগেছে।
যেহেতু হুমায়ুন আহমেদের লেখা, ভালো লাগবেই। পড়ে দেখতে পারেন।
বই টার শুরুতে বিরক্ত লাগতেছিলো কেমন জানি! লেখক শফিক কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে তার উপর রাগ আসা টাই শ্রেয়!! এই শহরে অধিকাংশ মানুষ ই শফিকের মতন! একজনের রাগ আরেকজনের উপর দেখানোর মধ্যে যেন তৃপ্তি খুজে পাই আমরা!!! গল্পের মোড়ে মোড়ে যেভাবে জীবন কে উপস্থাপন করলেন তা অভাবনীয়! সংসার এ মেয়েদের দু ধরণার ভূমিকায় উঠে এলো শফিক এর বউ আর মা এর চরিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে♥ একটা সাদামাটা গল্পকে অসাধারণ উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরলেন ♥
হুমায়ূন আহমেদ এর এভারেজ গল্পের বই। ১২৬ পৃষ্ঠার বইয়ে যতটুকু গল্প বলা হয়েছে, তা আরো কম পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ করা যেতো। হুমায়ূন আহমেদ তার প্রতিটা বইয়ের গল্পের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ঢুকিয়ে দেন। এই বইয়ের মধ্যে ইংরেজি ঢুকিয়েছেন। ইংরেজির বিভিন্ন কঠিন কঠিন শব্দ বইটি পড়লে জানা যাবে। একটা শব্দ আমার মনে আছে। Carp - Complain continually about unimportant matters সহজ বাংলা হলো- ঘ্যানঘ্যান করা।
বছরের প্রথম পড়া বই হিসেবে অত ভালো না হলেও। এক বসায় পড়তে পেড়েছি।
উপন্যাসের মূল চরিত্রে ছিলেন শফিক। ইংরেজি সাহিত্যে এম এ করা একজন পুরুষ। ভালো চাকরি খুঁজছেন। খুঁজতে খুঁজতে পেলেন অদ্ভুত এক মনিবের ম্যানেজারের চাকরি। মনিবের নাম মবিনুর রহমান। এতিমখানায় বড়ো হওয়া এই পৌঢ় মানুষটি জীবনকে অদ্ভুতভাবে দেখেছেন। তার অদ্ভুত কাজের ভেতর একটি যেমন সাবেক ম্যানেজার আমজাদ সাহেবকে পঞ্চাশ হাজারবার কানে ধরে উঠবোস করার শাস্তি দেওয়া।
বই: সেদিন চৈত্রমাস লেখক: হুমায়ূন আহমেদ ধরণ: উপন্যাস প্রকাশনী: অনন্যা প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ পৃষ্ঠা: ১২৬ মূল্য: ১৭৫ টাকা মাত্র
ছোট ছোট কাহিনি জুড়ে একটা বই। খারাপ লাগে নি। আচ্ছা সেদিন চৈত্রমাস কি মুবিনুর রহমান এর জন্য বলা হয়েছিল! হয়তো? ওনার জীবনটাই চৈত্রের মতো খরতাপ মিশ্রিত। ক্ষুদ্র সময়ের বিয়ে ভুলতে পারেননি তাই নিজে আর বিয়ে করেননি। সারাজীবন সৎ ছিলেন। তবুও অনেক টাকা লাভ করলেন। বিরাট ধনী হয়ে গেলেন। শফিকুল দের পারিবারিক কাহিনি গুলিও সুন্দর । আসলে হাইলাইটস করার মতো বিশেষ কিছু না থাকলেও উপন্যাস টা সুন্দর 👌👌👌
It is about a person named Mubin Shahed who is rich enough to hire several employer. Shofiq is one of them who has a little family and parents. Mubin Shaheb once got married with a woman named Laila but got divorced in the same day. He never get married again and love the woman with whom he got married. Was quite interesting.
উপন্যাসটা আমি গল্পকথন By কল্লোল ভাইয়ের কৃপায় অডিও বুক হিসাবে শুনেছি। অনেকটা ঘুম ঘুম অবস্থায় সজাগ থাকার উদ্দেশ্য শুরু করেছিলাম শোনা। এবং কখন যে শেষ হয়ে গেল টের পেলাম না। উপন্যাসটা আমাকে খুবব যে তাড়িত করছে সেটা বলতে পারছি না আবার একবারে যে বিষাদ লেগেছে সেটাও বলছি না। আমার সময় খারাপ কটে নাই এটা হচ্ছে বিষয়। আর রিভিউ এতটুকুই।
শেষ হয়ে ও ঠিক যেন শেষ হলো না, সাধারণত হুমায়ুন আহমেদ এর বইতে কোনো না কোনো চরিত্রে গভীরতা থাকে,অর্থহীন ঘটনা চরিত্র সম্পর্ক গুলো ও মধুর লাগে.কিন্তু এই বইটাতে তার কিছুই পাইনি, যেন কতগুলো খাপছাড়া মানুষের সম্পর্ক গুলো কে এক সুতোয় বাঁধতে যেয়ে হযবরল অবস্থা হয়ে গেছে.