What do you think?


আবার তোরা কিপ্টে হ
70 pages, Hardcover
First published April 1, 2004
About the author
Anisul Hoque
313 books174 followersAnisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
Also: আনিসুল হক
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
Also: আনিসুল হক
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
May 20, 2013
আনিসুল হক। বাংলা সাহিত্যের দুর্বলতম লেখকদের তালিকার অন্যতম প্রধান একটি নাম। ছাপার অক্ষরে এত নিম্নশ্রেনীর কিছু বের হয় এই বইটি না পড়লে জানতেও পারতাম না। এই মাপের একজন লেখকের গায়ে রাতারাতি 'মূলধারার সাহিত্যিক' তকমা এঁটে যাওয়া, নাকি এধরনের লেখা প্রকাশিত হওয়া, কোনটা বেশী দুঃখজনক সেটা রীতিমত গবেষণার বিষয়ও বটে!
April 7, 2023
৩.৫★
আহামরি কিছুনা, সস্তা বিনোদনের জন্য পড়লে ঠিক আছে৷ এক বসায় পড়ার জন্য একটা বই, পড়লে হাসি আসবে কিন্তু প্লট তেমন ভালো না।
আহামরি কিছুনা, সস্তা বিনোদনের জন্য পড়লে ঠিক আছে৷ এক বসায় পড়ার জন্য একটা বই, পড়লে হাসি আসবে কিন্তু প্লট তেমন ভালো না।
February 21, 2022
প্লট ছাড়া, হাল্কা-পাতলা, মজাদার একটা বই যেটা আপনার পড়ার অনীহা কাটাতে অথবা মন ভাল করতে কাজে দিবে।
৫৩ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই। কাহিনী তেমন কিছুই না। দেশের সব সংবাদমাধ্যমে হুজুগ উঠলো 'দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে', একটা ছোট পরিবারের বাপ-ছেলে-মেয়ে-বাচ্চাকাচ্চাদের মাঝে সেই হুজুগের রেশ কেমন হলো, তাই নিয়ে একটা মজার কাহিনী। একদম ছোটবেলায় এই গল্পটা নিয়ে করা একটা নাটক দেখেছিলাম পয়লা। পরে বইটা হাতে পেয়ে পড়তে গিয়ে জানতে পারলাম, এটাই সেই গল্প। বাচ্চাকালে নাটকটা পুরো পরিবারের সাথে দেখে যেমন মজা পেয়েছি, বইটাও পড়ে যারপরনাই আনন্দ পেয়েছি। শৈশবে একবার, আরেকবার বয়স চব্বিশে।
আগাগোড়া একটা ফ্যামিলি ড্রামা, এই বইটা। বেশিকিছু আশা করার নাই। পড়ে আনন্দ পাবেন, ঘরের বাচ্চাদের পড়তে দিবেন বা তাদের নিয়ে পড়বেন। [এমন হাল্কা মেজাজের গল্পে মানুষ কিছু আশা করেই বা কেন বুঝলাম না। যা সব রেটিং দেখলাম :p ]
৫৩ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই। কাহিনী তেমন কিছুই না। দেশের সব সংবাদমাধ্যমে হুজুগ উঠলো 'দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে', একটা ছোট পরিবারের বাপ-ছেলে-মেয়ে-বাচ্চাকাচ্চাদের মাঝে সেই হুজুগের রেশ কেমন হলো, তাই নিয়ে একটা মজার কাহিনী। একদম ছোটবেলায় এই গল্পটা নিয়ে করা একটা নাটক দেখেছিলাম পয়লা। পরে বইটা হাতে পেয়ে পড়তে গিয়ে জানতে পারলাম, এটাই সেই গল্প। বাচ্চাকালে নাটকটা পুরো পরিবারের সাথে দেখে যেমন মজা পেয়েছি, বইটাও পড়ে যারপরনাই আনন্দ পেয়েছি। শৈশবে একবার, আরেকবার বয়স চব্বিশে।
আগাগোড়া একটা ফ্যামিলি ড্রামা, এই বইটা। বেশিকিছু আশা করার নাই। পড়ে আনন্দ পাবেন, ঘরের বাচ্চাদের পড়তে দিবেন বা তাদের নিয়ে পড়বেন। [এমন হাল্কা মেজাজের গল্পে মানুষ কিছু আশা করেই বা কেন বুঝলাম না। যা সব রেটিং দেখলাম :p ]
February 12, 2022
মাঝে মাঝে ছাপার অক্ষরে সস্তা বিনোদনের খুব দরকার পড়ে। তখন এমন বইগুলো হাতে তুলে নিই মন ভালো করবার জন্য। এটা এমনই একটা বই। নিজের ইচ্ছেয় হাতে তুলে নিয়েছি বিধায় তিন তারা দিতে হলো।
January 4, 2015
I've actually never laughed harder. Despite my rating, this book holds some fantabulous childhood memories. Even though this book doesn't have much of a plot to begin with, it's a good read for the day you feel depressed beyond words.
August 22, 2019
আনোয়ার চৌধুরী খুব ধনবান ব্যক্তি কিন্তু তার কৃপণতার কাছে যে কোন কৃপণ হার মানবে। বলা হয়ে থাকে, তিনি যদি দেখেন কোন চিনির বয়ামে পিঁপড়ে ঢুকেছে, তিনি সেই পিঁপড়েটাকে ধরে চা চামচে রেখে তার পেট টিপে রসটুকু বের করে নেন। তবে তিনি যেমন কিপ্টে সে হিসেবে কথাগুলো যে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা তাও না। উনার চূড়ান্ত কৃপণতার কিছু নমুনা হচ্ছে- টুথপেস্ট শেষ হয়ে গেলে কাঁচি দিয়ে কেটে পেস্ট বের করা, বাসার এক টি-ব্যাগ দিয়ে চার কাপ চা বানানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া, বাসার আট জন মানুষের জন্য গুনে গুনে ১৬টা পুঁটি মাছ কিনে বাজারে যাওয়া। তিন ছেলে,দুই বউমা, দুই নাতি নাতনি নিয়ে আনোয়ার চৌধুরীর সংসার। বাড়ির সবাই উনার কৃপণতায় অস্থির। এরপরও নানা রকম নিত্যদিনের ছোট ছোট মজার ঘটনা নিয়ে জীবন কেটে যাচ্ছিল সবার। হঠাৎ একদিন খবরের কাগজ আর টিভিতে খবরে ছেয়ে গেল মে মাসের তিন তারিখে পৃথিবী ধ্বংস হতে চলেছে। এখন কি হবে এত সম্পত্তির?
November 3, 2023
দেখুন মশাই আমি আমার জীবনে বহু কিপটে লোকের কথা শুনেছি এবং দেখেছি আমার সাথে কিপটে লোকের গপ্প করে জিততে পারবেন না। বলি মেপে মেপে খাওয়া কিপটে তো ঢেড় দেখেছি, চিনির কৌটোতে পিঁপড়া ঢুকলে সেই পিঁপড়ার পেট থেকে চিনি বের করতে দেখেছেন কখনো চায়ে চুবিয়ে?
কিংবা ধরুন একটা কাপে চোবানো টি ব্যাগ সিংকে এঁটো বাসনের সাথে পড়ে ছিল, তুলে এনে আরেক কাপ চা বানিয়ে দেখাতে পারবেন? সেই চা আবার মহা আনন্দে ছেলেকেই খেতে বলছেন তিনি টোস্ট বিস্কুটে চুবিয়ে। আরে ধুর তাহলে মশাই জীবনে কী আর কিপটে দেখেছেন। নতুন খবর কাগজ কিনতে পয়সা খরচ হয় বেশি বলে উপর তলার বাসার পুরনো কাগজ পড়েন প্রতিদিন আগের দিনের হাফ দামে।
আরে আরে ভিরমি খাওয়ার দরকার নেই। কাহিনী তো সবে শুরু। ওই কিপটে লোকের গপ্প আরেকটু না শুনিয়ে তো মশাই ছাড়ছি না। তিনি আনোয়ার চৌধুরী। তিন ছেলে আর এক মেয়ের বাবা। শুরু করা যাক।
আনোয়ার চৌধুরী বড় ব্যবসায়ী। টাকা পয়সার ভদ্রলোকের কোনো অভাব নেই। তবুও কিপটেমির অভ্যাস গেলো না আর। কিন্তু স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে এই কিপটেমি দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে। ছেলেরা বাবাকে কিছু বলতেও পারে না কারণ তাহলেই তিনি বুক চেপে ধরে উহ্ আহ্ করে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন জানিয়ে দেন।
ঘুম থেকে উঠে ছোট ছেলে নাদিম দেখল টুথপেস্ট শেষ। বাথরুমে যেটা পড়ে আছে খোসা সেটাকে টিপে টুপেও এক ফোঁটা পেস্ট আর বের হচ্ছে না। ড্রইংরুমে বাবার চোখ এড়িয়ে সে চুপিচুপি বড় ভাবীর রুমের দরজা ধাক্কা দেয়। বড় ভাবী গোপনে নতুন টিউব থেকে নাদিমের জন্য পেস্ট নিয়ে আসছিলেন ওমনি আনোয়ার চৌধুরী সব দেখে নিলেন।
অপচয়কারী শয়তানের ভাই বলে প্রথম দফা নাদিমকে বকাবকি করে তিনি বাড়ির সবাইকে ডেকে নতুন পদ্ধতি হিসেবে টুথপেস্টের খোসাটা কাঁচি দিয়ে কেটে ভেতর থেকে আরও পেস্ট করে দেখালেন। এতে নাকি আরো চলবে।
মেজ ছেলেকে স্ত্রী চা দিলো ওমনি কোথা থেকে বাবা এসে বাজখাঁই গলায় ছেলে বউকে তিরস্কার করলেন নতুন টি ব্যাগ দিয়ে চা বানানোর জন্য। পরে সকালের বাসি টি ব্যাগ সিংকে এঁটো বাসনের সাথে ছিলো খুঁজে এনে ছেলের কাপে চুবিয়ে সন্তুষ্ট মুখে বললেন বাহ্ এই তো কত লিকার। এবার খা।
মেজ ভাই তো খেলো না। শেষে সেই চা কপালে জুটল বড় দুলাভাইয়ের। তিনি অবশ্য জানতেন না। আয়েশ করে শশুড়বাড়ি এসে চায়ে চুমুক দিতেই মেজ ভাইয়ের পাজি ছেলেটা বলে উঠলো ফুপা চা খাবেন না! এটা বাসি টি ব্যাগ দিয়ে বানানো! সিংকে এঁটো বাসনের সাথে ছিল। আর কোথায় যায়! দুলাভাই থু থু করে চা ফেললেন তাড়াহুড়োতে।
তারপর বড় আপা রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন দুলাভাইকে নিয়ে। কিন্তু না একটু পরে আবার ফিরে এলেন। উপর তলা থেকে কে জানি পানের পিক ফেলে দুলাভাইয়ের শার্ট লাল করে দিয়েছেন! বড় ভাই এসব দেখে দুলাভাইকে শার্ট দিলেন একটা পরার জন্য। বাবা শুরু করলেন বকাবকি আরেকটা অপচয় হলো!
নাদিমের ভার্সিটির বান্ধবী সিমি। যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি আধুনিকতার ছোঁয়া। নাদিম সিমিকে মনে মনে পছন্দ করে কিন্তু বাপের কিপটেমির কারণে বলে না। কারণ এখনও তো বাপের হোটেলে ভরসা। সিমি নিজেও সব বোঝে তবুও ধরা দেয় না। অপেক্ষায় আছে নাদিমের থেকে শোনার জন্য।
ওদিকে একদিন ঘটলো এক কান্ড। আনোয়ার চৌধুরী পত্রিকার পাতা খুলতেই দেখতে পেলেন একটা খবর। পৃথিবীর নাকি সময় ঘনিয়ে আসছে। কয়েকদিনের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন উপায় বের করার। প্রথমে আনোয়ার চৌধুরী ভাবলেন বোধহয় গুজব। কিন্তু নাহ্! পর পর কয়েকদিন একই খবর, তারিখ ও নির্দিষ্ট হয়ে গেছে! এবার কী হবে!
আনোয়ার চৌধুরী সবার সাথে কথা বললেন। বাকিরা দেখলো এইতো সুযোগ বাবাকে ঠিক করার। তাঁরাও ভয় দিলো ঢুকিয়ে মনে। ব্যাস সেই থেকে আনোয়ার চৌধুরী বদলে গেলেন। দুই হাতে টাকা খরচ করতে লাগলেন। বাসার জন্য ভালো ভালো বাজার করলেন, ছেলে মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন, সবথেকে যেটা আশ্চর্য হলো নাদিম সুযোগ বুঝে ভাবীদের পটিয়ে তাঁদের দিয়ে বাবাকে নিজের বিয়ের কথা বলিয়ে রাজি করিয়ে নিলো।
এবং ফলাফল? আর কী, সিমিদের বাসায় ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পোলাউ, মাংস খেয়ে বউ নিয়ে চলে এলো নিজেদের বাসায়।
ওদিকে আনোয়ার চৌধুরী নিজের সিন্দুক খুলে রাশি রাশি টাকা বের করে গরীবদের দিচ্ছেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এই ভেবে। কারণ অবশ্য আরেকটা আছে।
নাদিম তাঁর বড় আপাকে দিয়ে কিছু কথা রেকর্ড করিয়ে এনেছিল সুযোগ বুঝে।
আপার কন্ঠ অবিকল তাঁর মায়ের মত। সেখানে আপা করুন সুরে বাবাকে নিজের মা সেজে বলছে ওগো, পৃথিবী তো ধ্বংস হয়ে যাবে, টাকা পয়সা গরীব দুঃখীকে দান করো, ছেলে মেয়েদের দাও। এসব দিয়ে আর কী হবে। এরকম অনেক কথা। নাদিম সুযোগ বুঝে বাবার রুমের জানালায় ক্যাসেট প্লেয়ার ছেড়ে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। ঘুম ঘুম চোখে স্ত্রীর কন্ঠ শুনেই আর কী আনোয়ার চৌধুরী আরো গলে গেছেন।
তো বাসর ঘরে নবদম্পতি নাদিম সিমি প্রেমালাপে ব্যস্ত। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে খুব দুঃখ তাঁদের। বাকিরাও টেনশনে আছে। আনোয়ার চৌধুরী ড্রাইভারকে সোফায় পাশে বসিয়ে নিয়েছেন ভয়ে। তাহলে কী সত্যি সত্যি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে! জানতে হলে পড়তে হবে কিপটে আনোয়ার চৌধুরীর গপ্পের বাকিটুকু।
// পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
প্রথম বইটা পড়েছিলাম ক্লাস নাইনে। এক মেয়ে ব্যাগ থেকে বের করে আমাকে দেখাচ্ছিল ওঁর মাকে বইমেলায় লেখক অটোগ্রাফ দিয়েছেন। মহা ভাব নিচ্ছে। আমি চাইলাম ধার এবং দিয়ে দিলো সত্যি সত্যি ধার। পড়তে মজা পাচ্ছিলাম। তবে লেখক প্রথমেই বলে দিয়েছেন বিশ্বাস করা না করা পাঠকের ব্যাপার। তবে গল্প মজাদার।
আমিও তাই নিছক গল্পের মতোই পড়েছি। মজাদার বলে হাসতে হাসতে মন ভালো হয়ে যায়।
মন খারাপ থাকলে মাঝে মাঝে এমন কিছু হাসির বই আমি পড়ি।
আনিসুল হকের লেখা বেশি বই আমি পড়িনি। ওনার "মা" বইটা পছন্দের আমার। লেখক হিসেবে কেমন সেই তর্কে দুই পক্ষ আছে আমি জানি। তবে এই বইটি আনন্দ দেয়ার জন্য ভালোই লিখেছেন লেখক এবং পড়ে আরাম পাওয়া গেছে। আমার কাছে এটাই আসল।
বইয়ের নামঃ "আবার তোরা কিপটে হ"
লেখকঃ আনিসুল হক
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৩/৫
কিংবা ধরুন একটা কাপে চোবানো টি ব্যাগ সিংকে এঁটো বাসনের সাথে পড়ে ছিল, তুলে এনে আরেক কাপ চা বানিয়ে দেখাতে পারবেন? সেই চা আবার মহা আনন্দে ছেলেকেই খেতে বলছেন তিনি টোস্ট বিস্কুটে চুবিয়ে। আরে ধুর তাহলে মশাই জীবনে কী আর কিপটে দেখেছেন। নতুন খবর কাগজ কিনতে পয়সা খরচ হয় বেশি বলে উপর তলার বাসার পুরনো কাগজ পড়েন প্রতিদিন আগের দিনের হাফ দামে।
আরে আরে ভিরমি খাওয়ার দরকার নেই। কাহিনী তো সবে শুরু। ওই কিপটে লোকের গপ্প আরেকটু না শুনিয়ে তো মশাই ছাড়ছি না। তিনি আনোয়ার চৌধুরী। তিন ছেলে আর এক মেয়ের বাবা। শুরু করা যাক।
আনোয়ার চৌধুরী বড় ব্যবসায়ী। টাকা পয়সার ভদ্রলোকের কোনো অভাব নেই। তবুও কিপটেমির অভ্যাস গেলো না আর। কিন্তু স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে এই কিপটেমি দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে। ছেলেরা বাবাকে কিছু বলতেও পারে না কারণ তাহলেই তিনি বুক চেপে ধরে উহ্ আহ্ করে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন জানিয়ে দেন।
ঘুম থেকে উঠে ছোট ছেলে নাদিম দেখল টুথপেস্ট শেষ। বাথরুমে যেটা পড়ে আছে খোসা সেটাকে টিপে টুপেও এক ফোঁটা পেস্ট আর বের হচ্ছে না। ড্রইংরুমে বাবার চোখ এড়িয়ে সে চুপিচুপি বড় ভাবীর রুমের দরজা ধাক্কা দেয়। বড় ভাবী গোপনে নতুন টিউব থেকে নাদিমের জন্য পেস্ট নিয়ে আসছিলেন ওমনি আনোয়ার চৌধুরী সব দেখে নিলেন।
অপচয়কারী শয়তানের ভাই বলে প্রথম দফা নাদিমকে বকাবকি করে তিনি বাড়ির সবাইকে ডেকে নতুন পদ্ধতি হিসেবে টুথপেস্টের খোসাটা কাঁচি দিয়ে কেটে ভেতর থেকে আরও পেস্ট করে দেখালেন। এতে নাকি আরো চলবে।
মেজ ছেলেকে স্ত্রী চা দিলো ওমনি কোথা থেকে বাবা এসে বাজখাঁই গলায় ছেলে বউকে তিরস্কার করলেন নতুন টি ব্যাগ দিয়ে চা বানানোর জন্য। পরে সকালের বাসি টি ব্যাগ সিংকে এঁটো বাসনের সাথে ছিলো খুঁজে এনে ছেলের কাপে চুবিয়ে সন্তুষ্ট মুখে বললেন বাহ্ এই তো কত লিকার। এবার খা।
মেজ ভাই তো খেলো না। শেষে সেই চা কপালে জুটল বড় দুলাভাইয়ের। তিনি অবশ্য জানতেন না। আয়েশ করে শশুড়বাড়ি এসে চায়ে চুমুক দিতেই মেজ ভাইয়ের পাজি ছেলেটা বলে উঠলো ফুপা চা খাবেন না! এটা বাসি টি ব্যাগ দিয়ে বানানো! সিংকে এঁটো বাসনের সাথে ছিল। আর কোথায় যায়! দুলাভাই থু থু করে চা ফেললেন তাড়াহুড়োতে।
তারপর বড় আপা রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন দুলাভাইকে নিয়ে। কিন্তু না একটু পরে আবার ফিরে এলেন। উপর তলা থেকে কে জানি পানের পিক ফেলে দুলাভাইয়ের শার্ট লাল করে দিয়েছেন! বড় ভাই এসব দেখে দুলাভাইকে শার্ট দিলেন একটা পরার জন্য। বাবা শুরু করলেন বকাবকি আরেকটা অপচয় হলো!
নাদিমের ভার্সিটির বান্ধবী সিমি। যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি আধুনিকতার ছোঁয়া। নাদিম সিমিকে মনে মনে পছন্দ করে কিন্তু বাপের কিপটেমির কারণে বলে না। কারণ এখনও তো বাপের হোটেলে ভরসা। সিমি নিজেও সব বোঝে তবুও ধরা দেয় না। অপেক্ষায় আছে নাদিমের থেকে শোনার জন্য।
ওদিকে একদিন ঘটলো এক কান্ড। আনোয়ার চৌধুরী পত্রিকার পাতা খুলতেই দেখতে পেলেন একটা খবর। পৃথিবীর নাকি সময় ঘনিয়ে আসছে। কয়েকদিনের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন উপায় বের করার। প্রথমে আনোয়ার চৌধুরী ভাবলেন বোধহয় গুজব। কিন্তু নাহ্! পর পর কয়েকদিন একই খবর, তারিখ ও নির্দিষ্ট হয়ে গেছে! এবার কী হবে!
আনোয়ার চৌধুরী সবার সাথে কথা বললেন। বাকিরা দেখলো এইতো সুযোগ বাবাকে ঠিক করার। তাঁরাও ভয় দিলো ঢুকিয়ে মনে। ব্যাস সেই থেকে আনোয়ার চৌধুরী বদলে গেলেন। দুই হাতে টাকা খরচ করতে লাগলেন। বাসার জন্য ভালো ভালো বাজার করলেন, ছেলে মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন, সবথেকে যেটা আশ্চর্য হলো নাদিম সুযোগ বুঝে ভাবীদের পটিয়ে তাঁদের দিয়ে বাবাকে নিজের বিয়ের কথা বলিয়ে রাজি করিয়ে নিলো।
এবং ফলাফল? আর কী, সিমিদের বাসায় ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পোলাউ, মাংস খেয়ে বউ নিয়ে চলে এলো নিজেদের বাসায়।
ওদিকে আনোয়ার চৌধুরী নিজের সিন্দুক খুলে রাশি রাশি টাকা বের করে গরীবদের দিচ্ছেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এই ভেবে। কারণ অবশ্য আরেকটা আছে।
নাদিম তাঁর বড় আপাকে দিয়ে কিছু কথা রেকর্ড করিয়ে এনেছিল সুযোগ বুঝে।
আপার কন্ঠ অবিকল তাঁর মায়ের মত। সেখানে আপা করুন সুরে বাবাকে নিজের মা সেজে বলছে ওগো, পৃথিবী তো ধ্বংস হয়ে যাবে, টাকা পয়সা গরীব দুঃখীকে দান করো, ছেলে মেয়েদের দাও। এসব দিয়ে আর কী হবে। এরকম অনেক কথা। নাদিম সুযোগ বুঝে বাবার রুমের জানালায় ক্যাসেট প্লেয়ার ছেড়ে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। ঘুম ঘুম চোখে স্ত্রীর কন্ঠ শুনেই আর কী আনোয়ার চৌধুরী আরো গলে গেছেন।
তো বাসর ঘরে নবদম্পতি নাদিম সিমি প্রেমালাপে ব্যস্ত। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে খুব দুঃখ তাঁদের। বাকিরাও টেনশনে আছে। আনোয়ার চৌধুরী ড্রাইভারকে সোফায় পাশে বসিয়ে নিয়েছেন ভয়ে। তাহলে কী সত্যি সত্যি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে! জানতে হলে পড়তে হবে কিপটে আনোয়ার চৌধুরীর গপ্পের বাকিটুকু।
// পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
প্রথম বইটা পড়েছিলাম ক্লাস নাইনে। এক মেয়ে ব্যাগ থেকে বের করে আমাকে দেখাচ্ছিল ওঁর মাকে বইমেলায় লেখক অটোগ্রাফ দিয়েছেন। মহা ভাব নিচ্ছে। আমি চাইলাম ধার এবং দিয়ে দিলো সত্যি সত্যি ধার। পড়তে মজা পাচ্ছিলাম। তবে লেখক প্রথমেই বলে দিয়েছেন বিশ্বাস করা না করা পাঠকের ব্যাপার। তবে গল্প মজাদার।
আমিও তাই নিছক গল্পের মতোই পড়েছি। মজাদার বলে হাসতে হাসতে মন ভালো হয়ে যায়।
মন খারাপ থাকলে মাঝে মাঝে এমন কিছু হাসির বই আমি পড়ি।
আনিসুল হকের লেখা বেশি বই আমি পড়িনি। ওনার "মা" বইটা পছন্দের আমার। লেখক হিসেবে কেমন সেই তর্কে দুই পক্ষ আছে আমি জানি। তবে এই বইটি আনন্দ দেয়ার জন্য ভালোই লিখেছেন লেখক এবং পড়ে আরাম পাওয়া গেছে। আমার কাছে এটাই আসল।
বইয়ের নামঃ "আবার তোরা কিপটে হ"
লেখকঃ আনিসুল হক
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৩/৫
May 14, 2021
খুব দারুন একটা বই। এই বইটা একটু অন্যরকম। মানে, ভালো অন্যরকম। বইয়ের শুরুটা যেমন ভালো শেষটাও। আমার পড়ার মধ্যে জাফর ইকবাল স্যারের বই আমি অনেক বেশি পড়েছি। তার সব গল্পের মধ্যে একটি অ্যাডভেঞ্চার থাকে। কিন্তু আনিসুল হক স্যারের এই বইটি পড়লে মনে হয় বুঝি সত্যিই ওই মানুষগুলো ছিল। তাদের জীবন ঠিক ওরকমই ছিলো! কি দারুন লেখক তিনি ,না?
February 22, 2022
মুসা ভাইয়ার রিভিউ দেখে বইটা পড়ার ইচ্ছে হল। ছোট্ট একটা বই যার আগা গোড়া শুধু হাস্যরসে ভরপুর। অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা দিয়ে ভরা বইটি। কিপ্টে বাবা আর তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাহিনি। বাবার কিপ্টেমির জন্য ছেলেমেয়েরা কিভাবে ভোগান্তির স্বীকার হয় আর বাবাকে এই কিপ্টেমি থেকে বের করে আনার যে প্রচেষ্টা দেখা যায় তা পড়ে হাসতে বাধ্য।
April 16, 2020
বইটা পড়ে কিছুটা হাসলাম। কিন্তু সিরিয়াসলি! এটা একটা বই!!! এটা আক্ষরিক অর্থেই একটা বড় গল্প ছাড়া আর কিছুই না।
Read
April 7, 2021Superb sense of humor..lol..
July 4, 2019
'আবার তোরা কিপ্টে হ' হলো আপদমস্তক নাটকীয়তায় ভরপুর! গল্পটা আনোয়ার চোধুরীর কিপ্টেমি, তার একান্নবর্তী পরিবার আর পৃথিবীর শেষ দিন নিয়ে। তবে এই গল্প পড়ার পর আমি ছোট বাচ্চা আছে এমন কোন বাড়িতে আর কোক খেতে পারব কিনা সন্দেহ। -_- কোক তেলাপোকার জুস হোক বা না হোক, বাড়িতে বিচ্ছু প্রকৃতির বাচ্চা থাকলে সেটা নিঃসন্দেহে তেলাপোকার চাইতেও ভয়ংকর কিছু।
August 6, 2014
এক তারা দিলাম এটাই বেশি হয়ে গেছি, আধখানা তারাও জোটা উচিত না এটায়।
Displaying 1 - 13 of 13 reviews














