চল্লিশ বছর আগে সংকলিত এই প্রবন্ধগুলো পড়তে গিয়ে নতুন করে মনে হল, সে-সময় বাঙালির সারস্বত সাধনার নিদর্শন হিসেবে এমন সব প্রবন্ধ নানা পত্রপত্রিকাকে অলংকৃত করত। আর এখন... যাকগে! হাহাকার না করে এই অমূল্য এবং অধুনা দুষ্প্রাপ্য বইটিতে কী আছে তা লিখি।
একটি সংক্ষিপ্ত 'ভূমিকা'-র পর এতে আছে~
প্রথম ভাগ: ধর্মজীবন—
১. দেবী অপর্ণা;
২. দুর্গা মহিষমর্দিনী;
৩. সরস্বতী;
৪. দেবতার রাজত্ব;
৫. প্রাচীন বঙ্গে ধর্মপূজা;
৬. চাকমা জাতির ধর্মকাম;
৭. বিশ্বেশ্বরশম্ভু;
৮. কোকামুখ তীর্থ;
৯. শক্তিপীঠ (এই নাতিদীর্ঘ লেখাটি যে কত গবেষণার সারাৎসার বহন করছে তা না পড়লে বুঝবেন না);
১০. চীনদেশে বৌদ্ধধর্মের প্রদেশ;
১১. তিব্বতের বৌদ্ধসংস্কৃতি;
১২. পঞ্চাঙ্গুলি;
১৩. হিরণ্যগর্ভ;
১৪. বীরের স্বর্গলাভ।
দ্বিতীয় ভাগ: ভাষা ও সাহিত্য—
১৫. প্রাচীন সিন্ধু-উপত্যকার ভাষা;
১৬. রামায়ণের সমস্যা;
১৭. শিলাপ্রশস্তির কাব্যগুণ;
১৮. মহাকবিচক্রবর্তী ছিত্তপ;
১৯. কথাসরিৎসাগর;
২০. রাজতরঙ্গিণী;
২১. শাব্দিক পুরুষোত্তম;
২২. তন্ত্রসারের রচনাকাল;
২৩. নবরত্ন।
তৃতীয় ভাগ: কতিপয় ঐতিহাসিক গবেষক—
২৪. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী;
২৫. অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়;
২৬. রমাপ্রসাদ চন্দ;
২৭. রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়;
২৮. রমেশচন্দ্র মজুমদার;
২৯. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
শেষে থেকেছে প্রমাণপঞ্জি এবং নির্ঘণ্ট।
এইসব বই আর পাওয়া যায় না। তার কারণ জানতে চাইলে প্রকাশক বলেন, কেউ নাকি কেনে না। পাঠকদের খোঁচালে তাঁরা বলেন, এমন সব প্রবন্ধের সংকলন যে পাওয়া যায়, সেটাই তারা জানেন না। পাত্রাধার তৈল না তৈলাধার পাত্র— এই গ্যাঁড়াকলে মাঝখান থেকে লোকে উইকিটোকা পিটুলিগোলাকেই দুধ জ্ঞানে হজম করে।
তবু, যদি ইতিহাসে আগ্রহী হন আর কোনোমতে এই বইটা দেখে ফেলেন কোথাও, তাহলে কোনোমতেই এটাকে বেহাত হতে দেবেন না। সেকেলে ছাপা আর বাজে কাগজ সত্বেও বলছি, এমন বই এখন আর হয় না।