What do you think?


চানঘরে গান
Changhare Gaan Hardcover Bengali Edition by Budha Dev Guha (Author)
184 pages, Hardcover
First published September 1, 1992
About the author
Buddhadeb Guha
240 books260 followersBuddhadeb Guha (Bengali: বুদ্ধদেব গুহ) is a popular Bengali fiction writer. He studied at the well-known St Xavier's College of the University of Calcutta.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature.
He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature.
He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
May 12, 2020
খোবিশ, আত্মপ্রচারক এবং চরম মাত্রায় আত্মতুষ্টিতে ভোগা একজন নার্সিসাস লেখক বুদ্ধদেব গুহ। ইদানীংকালের কিছু লেখা পড়ে এই ধারণা হয়েছিল। "চানঘরে গান" পড়ে তা বদ্ধমূল হলো।
ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাসকারী এক ভক্ত তরুণীর সঙ্গে বুদ্ধদেব গুহর পত্রালাপই হলো এই উপন্যাসের কাহিনি। ১শ ৭৩ পাতার বইয়ের প্রায় অর্ধেক জুড়েই নিজের বইয়ের নাম ও প্রকাশকের নাম লিখে ভরেছেন বুদ্ধদেব গুহ। পাঠিকার চিঠির জবানিতে নিজের এমন গুণকীর্তন করেছেন যে পৃথিবীর সবচাইতে নির্লজ্জ লোকটিও শরমিন্দা হবে।
বাংলাদেশে কোনোকালে বুদ্ধদেব গুহ এসেছিলেন কীনা সন্দেহ আছে। নতুবা বাংলাদেশের মানুষের মুখের ভাষা বোঝাতে যে বাক্যবন্ধ ব্যবহার করেছেন সেই ভাষায় এদেশের পাগলও কথা কয় না। অবশ্য বেশিরভাগ কলকাত্তাইয়া লেখক এই ভাষা সিনড্রোমে ভোগেন। তারা পূর্ববাংলার মানুষের মুখের ভাষায় প্রসঙ্গ আসলেই নিজেদের উর্বর মস্তিষ্কের পরিচয় দেন। এক জগাখিচুড়ি কথ্যভাষার সৃষ্টি করেন।
বুদ্ধদেব গুহর সাথে পরিচয় "সবিনয় নিবেদন"-এর মাধ্যমে। এরপর তাঁর অনেকগুলো লেখা পড়েছি। " মাধুকরী" পড়ে অসম্ভব মুগ্ধ হয়েছিলাম। "চাপরাশ" তো জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল আমাকে। সেই মনোমুগ্ধকর লেখক বুদ্ধদেব গুহর এমন আত্মপ্রচার এবং নার্সিসিজমে আক্রান্ত হওয়াতে শঙ্কা বোধ করছি। প্রার্থনা করি, সুস্থ হয়ে উঠুন প্রিয় ঔপন্যাসিক বুদ্ধদেব গুহ।
ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাসকারী এক ভক্ত তরুণীর সঙ্গে বুদ্ধদেব গুহর পত্রালাপই হলো এই উপন্যাসের কাহিনি। ১শ ৭৩ পাতার বইয়ের প্রায় অর্ধেক জুড়েই নিজের বইয়ের নাম ও প্রকাশকের নাম লিখে ভরেছেন বুদ্ধদেব গুহ। পাঠিকার চিঠির জবানিতে নিজের এমন গুণকীর্তন করেছেন যে পৃথিবীর সবচাইতে নির্লজ্জ লোকটিও শরমিন্দা হবে।
বাংলাদেশে কোনোকালে বুদ্ধদেব গুহ এসেছিলেন কীনা সন্দেহ আছে। নতুবা বাংলাদেশের মানুষের মুখের ভাষা বোঝাতে যে বাক্যবন্ধ ব্যবহার করেছেন সেই ভাষায় এদেশের পাগলও কথা কয় না। অবশ্য বেশিরভাগ কলকাত্তাইয়া লেখক এই ভাষা সিনড্রোমে ভোগেন। তারা পূর্ববাংলার মানুষের মুখের ভাষায় প্রসঙ্গ আসলেই নিজেদের উর্বর মস্তিষ্কের পরিচয় দেন। এক জগাখিচুড়ি কথ্যভাষার সৃষ্টি করেন।
বুদ্ধদেব গুহর সাথে পরিচয় "সবিনয় নিবেদন"-এর মাধ্যমে। এরপর তাঁর অনেকগুলো লেখা পড়েছি। " মাধুকরী" পড়ে অসম্ভব মুগ্ধ হয়েছিলাম। "চাপরাশ" তো জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল আমাকে। সেই মনোমুগ্ধকর লেখক বুদ্ধদেব গুহর এমন আত্মপ্রচার এবং নার্সিসিজমে আক্রান্ত হওয়াতে শঙ্কা বোধ করছি। প্রার্থনা করি, সুস্থ হয়ে উঠুন প্রিয় ঔপন্যাসিক বুদ্ধদেব গুহ।
June 1, 2019
বুদ্ধদেব গুহর লেখার সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক হলো সব বইতে নির্লজ্জ আত্ম প্রচারণা। তার নায়ক/নায়িকারা লেখক বুদ্ধদেব গুহর ভীষণ ভক্ত এবং প্রতি বইতেই ৪/৫টা তার অন্য বইয়ের নাম পাওয়া যায়, সাথে থাকে লাগসই উক্তি।
তবে চানঘরে গান নিঃসন্দেহে তার আগের সব বইকে ছাপিয়ে গেছে। লেখক রীতিমতো তার পুস্তকতালিকাই প্রকাশ করেছেন উপন্যাসের আড়ালে, তাও একেবারে প্রকাশনা সংস্থাসহ। মূল্যও উল্লেখ করলে ক্ষতি কি ছিল বুঝলাম না, তবে লেখক বোধহয় ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির আশংকায় সেই সুযোগ আর নিতে চাননি।
তবে চানঘরে গান নিঃসন্দেহে তার আগের সব বইকে ছাপিয়ে গেছে। লেখক রীতিমতো তার পুস্তকতালিকাই প্রকাশ করেছেন উপন্যাসের আড়ালে, তাও একেবারে প্রকাশনা সংস্থাসহ। মূল্যও উল্লেখ করলে ক্ষতি কি ছিল বুঝলাম না, তবে লেখক বোধহয় ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির আশংকায় সেই সুযোগ আর নিতে চাননি।
February 1, 2016
বুদ্ধদেব গুহ কে আমি ভালবাসি তার সুললিত বাংলা ভাষার জন্যে, তার প্রকাশ করার ক্ষমতার জন্যে। তাকে ভালবাসি জঙ্গল কে নুতন করে আমাদের সামনে তুলে ধরায়; তাকে ভালবাসি কারন তিনি সুদক্ষ ভাবে বলতে পারেন মানুষের ভালবাসাবাসির কথা, ভালবাসার মিষ্টটার সাথে তিনি অনায়াসে মিশিয়ে দিতে পারেন প্রেমিকের দুষ্টুমী। কিন্তু বুদ্ধদেব গুহ কে আমি অপচ্ছন্দও করি তার আত্মভরিতার জন্যে, এলিটিস্ট মনভাবের জন্যে। খুব অপছন্দ করি নিজের প্রতি উপন্যাসে নিজেরই লেখা উপন্যাসের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্যে, নাক কুঁচকোই প্রতি ছুতোয় খামোকা যৌনতা টেনে আনার জন্যে।
সত্যজিৎ রায় কে আমি খুব ভালবাসি তার গুনের জন্যে, তার আকার লেখার দেখার চোখের জন্যে। তিনি জানতেন নন্দন দৃশ্য কেমন করে ফোটাতে হয় কাগজে ও সেলুলয়েডের ক্যানভাসে। আমি সত্যজিতে মুগ্ধ কারন তিনি আমাদের সামনে মুর্ত করেছেন আমাদের প্রথম রোমান্স অপু, ফেলুদা-জটায়ু-তোপসেকে, তিনি ক্ষমতাবানদের দেখিয়ে দিয়েছেন দুষ্টু হীরক রাজার পরিনতি। কিন্তু আমি সত্যজিতের প্রতি নাক কুঁচকাই তার বাংলা উপন্যাস কে অযোগ্য ভাবায়, লেখকদের যথেষ্ট সম্মান না দেখানোয়। আমি দুঃখিত তার অতি ক্লিশে নায়ক সিনেমা দেখে; আমি দুঃখিত তার ব্যাক্তিগত মনভাব জেনে যে তিনি দৌহিত্রী নয়, দৌহিত্র চেয়েছিলেন।
তবে আমি দ্বিধাহীন ভাবে ভীষণ অপছন্দ করি সন্দীপ রায় কে। আমি করুনা বোধ করি তার মত অপদার্থ প্রতি যে শুধু পিতৃধন বেচে খায়। যার বিন্দুমাত্র মৌলিকত্ব নেই কোন ভাবনায়। আমার মতে আসলে সন্দীপ হলেন একটি নধর অকালকুষ্মান্ড যা শুধু হ্যালোউইন সন্ধ্যায় শোভা পেতে পারে বাড়ির উঠোনে।
এই ভাল-মন্দের আবহাওয়ায়, এ বই পড়ে আমার ভালোও লেগেছে, আবার বিরক্তও বোধ হয়েছে। সবই উপরোক্ত কারনাবলীর জন্যে। যেহেতু শুধু ভাল লাগার কারনেও এই বইটি পড়া যায় তাই বন্ধুরা পড়ে নিন সময় পেলে। আর মন্দটুকু গোলাপের কাটার মতই, না চাইলেও থাকবে।
সত্যজিৎ রায় কে আমি খুব ভালবাসি তার গুনের জন্যে, তার আকার লেখার দেখার চোখের জন্যে। তিনি জানতেন নন্দন দৃশ্য কেমন করে ফোটাতে হয় কাগজে ও সেলুলয়েডের ক্যানভাসে। আমি সত্যজিতে মুগ্ধ কারন তিনি আমাদের সামনে মুর্ত করেছেন আমাদের প্রথম রোমান্স অপু, ফেলুদা-জটায়ু-তোপসেকে, তিনি ক্ষমতাবানদের দেখিয়ে দিয়েছেন দুষ্টু হীরক রাজার পরিনতি। কিন্তু আমি সত্যজিতের প্রতি নাক কুঁচকাই তার বাংলা উপন্যাস কে অযোগ্য ভাবায়, লেখকদের যথেষ্ট সম্মান না দেখানোয়। আমি দুঃখিত তার অতি ক্লিশে নায়ক সিনেমা দেখে; আমি দুঃখিত তার ব্যাক্তিগত মনভাব জেনে যে তিনি দৌহিত্রী নয়, দৌহিত্র চেয়েছিলেন।
তবে আমি দ্বিধাহীন ভাবে ভীষণ অপছন্দ করি সন্দীপ রায় কে। আমি করুনা বোধ করি তার মত অপদার্থ প্রতি যে শুধু পিতৃধন বেচে খায়। যার বিন্দুমাত্র মৌলিকত্ব নেই কোন ভাবনায়। আমার মতে আসলে সন্দীপ হলেন একটি নধর অকালকুষ্মান্ড যা শুধু হ্যালোউইন সন্ধ্যায় শোভা পেতে পারে বাড়ির উঠোনে।
এই ভাল-মন্দের আবহাওয়ায়, এ বই পড়ে আমার ভালোও লেগেছে, আবার বিরক্তও বোধ হয়েছে। সবই উপরোক্ত কারনাবলীর জন্যে। যেহেতু শুধু ভাল লাগার কারনেও এই বইটি পড়া যায় তাই বন্ধুরা পড়ে নিন সময় পেলে। আর মন্দটুকু গোলাপের কাটার মতই, না চাইলেও থাকবে।
May 16, 2019
প্রথম প্রকাশ এবং তৎপরবর্তী হাইপের ঠেলায় এই বইটা কিনেছিলাম। বুদ্ধদেব গুহ এবং তাঁর এক মুগ্ধ পাঠিকার সত্য/মিথ্যা পত্রালাপ দিয়ে গড়ে উঠেছে এই এপিস্টোলারি উপন্যাস (?)। প্রথমদিকের লেখাগুলো পড়তে বেশ লেগেছিল। বুদ্ধদেবের স্মার্ট অথচ সুরেলা গদ্য, অন্য দিকের মেয়েটির সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনার মিছিল, দুটোই বেশ লাগছিল। কিন্তু তারপর বুদ্ধদেব গুহ'র সব উপন্যাসে যা হয় তাই হল। আবেগের ওভারডোজ আর আরোপিত বিরহ এসে সব ঘেঁটে দিল।
তবু, এত বছর পরেও লেখাটা মনে আছে, এই তথ্যই বইটার জবরদস্ত বিজ্ঞাপন, তাই না?
তবু, এত বছর পরেও লেখাটা মনে আছে, এই তথ্যই বইটার জবরদস্ত বিজ্ঞাপন, তাই না?
September 8, 2021
অনেক কিছু জানলাম।
এই যেমন,
লেখকের বইয়ের নাম
লেখকের আরো বইয়ের নাম
লেখকের আরো কয়েকটি বইয়ের নাম
লেখকের বইগুলোর প্রকাশকদের নাম।
এই যেমন,
লেখকের বইয়ের নাম
লেখকের আরো বইয়ের নাম
লেখকের আরো কয়েকটি বইয়ের নাম
লেখকের বইগুলোর প্রকাশকদের নাম।
January 14, 2026
"নিজস্ব কিছু জিনিস বাঁচিয়ে রাখা এবং লোকচক্ষুর আড়ালে রাখাটা অত্যন্তই কঠিন কাজ। চানঘরের গানেরই মতো.... এসব অন্যকে না দিয়ে দেওয়াই ভাল।"
আমার অন্যতম প্রিয় লেখক বুদ্ধদেব গুহ-র বেশ কিছু পত্রাশ্রয়ী লেখার মধ্যে একটি হলো এই "চানঘরে গান"। এটি পত্রাশ্রয়ী লেখা হলেও উপন্যাস নয়। লেখক এবং তার কাল্পনিক (?) এক বাংলাদেশী পাঠিকা ফিরদৌসী আখতার ওরফে তোড়া — উভয়ের একে অপরকে লেখা পত্রগুচ্ছ রয়েছে এই বইতে ।
বাংলাদেশের বইমেলায় অন্যান্য অনেকের মতো ফিরদৌসীও আসেন তার প্রিয় লেখককে দেখতে , সঙ্গে একটি চিঠি। সেখান থেকেই শুরু তাদের পত্রালাপ। লেখক এখানে অন্য কোনো চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেননি, এখানে তিনি স্বয়ং বুদ্ধদেব গুহ-ই। তার লেখা চিঠি গুলোও সরাসরি তার জীবনের কথা বলে , কিছুটা আত্মজীবনীর আদলে।
চিঠিগুলিতে লেখক আলোচনা করেছেন তার লেখা বিভিন্ন উপন্যাস ও ছোটগল্পের ব্যাপারে, কাহিনীর নামকরণ, পটভূমি ও চরিত্রদের নিয়ে। যেমন বহু চরিত্রই তিনি তৈরী করেছেন তার পরিচিত কোনো মানুষের আদলে, ছদ্মনামে। "লেখার মতো সব লেখাই জীবন থেকে উঠে আসে। পৃথিবীর সমস্ত মহত্তম সাহিত্যই আত্মজৈবনিক ।"
"একটু উষ্ণতার জন্য" উপন্যাসের পটভূমি ম্যাকলাস্কিগঞ্জের কটেজটিতে বসে লেখক চিঠি লিখেছেন সেই জায়গার বর্ণনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং তার পরিচিত লোকজন ও পাঠক পাঠিকাদের নিয়ে।
এই বইতে তিনি লিখেছেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের ঘটনাটি , নিজের ক্ষোভ, অপমান ও অভিমানের কথা।
এছাড়াও তার জীবনের টুকরো টুকরো বেশ কিছু ঘটনা, তার জীবনদর্শনের কিছু অংশ, তার দুটি প্রিয় জিনিস গান ও অরণ্য নিয়ে বেশ খানিকটা আলোচনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে তার লেখা চিঠির মাধ্যমে এই বইতে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া :-
প্রথমেই যেটা বলার , যারা প্রথমবার বুদ্ধদেব গুহ-র লেখা পড়তে চাইছে তাদের জন্য এই বই নয়। বরং যারা লেখকের বেশ কয়েকটি উপন্যাস পড়েছে , তার লেখার স্টাইলের সঙ্গে পরিচিত, তারা কিছুটা হলেও একাত্ম হতে পারবে বইটির সঙ্গে।
"Goodreads" - এ দেখলাম অনেকেই বইটিকে বলেছেন লেখকের আত্মপ্রচার। কারণ এই বইতে তিনি তার উপন্যাসগুলির নাম ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন একাধিক জায়গায়, উপন্যাসগুলির প্রকাশকের নামোল্লেখ করেছেন।
তবে তোড়ার মতো অনেক পাঠক পাঠিকা আছেন নিশ্চই যারা উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রগুলি সম্পর্কে জানতে চান, জানতে চান উপন্যাস লেখার পূর্বের কাহিনীটি। আর একজন লেখকও তার পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে চাইতেই পারেন উপন্যাস লেখার সময়কালীন তার ভাবনা চিন্তা গুলোকে। আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে বইগুলো নিয়ে এবং বইয়ের পটভূমি নিয়ে লেখকের আলোচনা, বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছি।
তবে বুদ্ধদেব গুহ-র অন্যান্য লেখার তুলনায় এই বইটি বেশ মধ্যমানের। পড়তে গিয়ে আমার একঘেয়ে লেগেছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। লেখাগুলো যেন অগোছালো , এলোমেলো...
"কথা বলতে বসে, কত অপ্রাসঙ্গিক কথাই তোমাকে বললাম। এ-তো কথা নয় ; এলোমেলো, এলেবেলে।
যেন, চানঘরে গান।"
সবমিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে আমার বইটি শেষ করার পর।
(বি.দ্র :- বইটির প্রচ্ছদ আরও সুন্দর করা যেত। বর্তমান প্রচ্ছদটি দেখে বইটির সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা জন্মায় যে এটি সস্তা প্রেমের উপন্যাস, যদিও আদপেই তা নয়।
তবে ভিতরের অলংকরণগুলো খুবই ভালো লেগেছে।)
আমার অন্যতম প্রিয় লেখক বুদ্ধদেব গুহ-র বেশ কিছু পত্রাশ্রয়ী লেখার মধ্যে একটি হলো এই "চানঘরে গান"। এটি পত্রাশ্রয়ী লেখা হলেও উপন্যাস নয়। লেখক এবং তার কাল্পনিক (?) এক বাংলাদেশী পাঠিকা ফিরদৌসী আখতার ওরফে তোড়া — উভয়ের একে অপরকে লেখা পত্রগুচ্ছ রয়েছে এই বইতে ।
বাংলাদেশের বইমেলায় অন্যান্য অনেকের মতো ফিরদৌসীও আসেন তার প্রিয় লেখককে দেখতে , সঙ্গে একটি চিঠি। সেখান থেকেই শুরু তাদের পত্রালাপ। লেখক এখানে অন্য কোনো চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেননি, এখানে তিনি স্বয়ং বুদ্ধদেব গুহ-ই। তার লেখা চিঠি গুলোও সরাসরি তার জীবনের কথা বলে , কিছুটা আত্মজীবনীর আদলে।
চিঠিগুলিতে লেখক আলোচনা করেছেন তার লেখা বিভিন্ন উপন্যাস ও ছোটগল্পের ব্যাপারে, কাহিনীর নামকরণ, পটভূমি ও চরিত্রদের নিয়ে। যেমন বহু চরিত্রই তিনি তৈরী করেছেন তার পরিচিত কোনো মানুষের আদলে, ছদ্মনামে। "লেখার মতো সব লেখাই জীবন থেকে উঠে আসে। পৃথিবীর সমস্ত মহত্তম সাহিত্যই আত্মজৈবনিক ।"
"একটু উষ্ণতার জন্য" উপন্যাসের পটভূমি ম্যাকলাস্কিগঞ্জের কটেজটিতে বসে লেখক চিঠি লিখেছেন সেই জায়গার বর্ণনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং তার পরিচিত লোকজন ও পাঠক পাঠিকাদের নিয়ে।
এই বইতে তিনি লিখেছেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের ঘটনাটি , নিজের ক্ষোভ, অপমান ও অভিমানের কথা।
এছাড়াও তার জীবনের টুকরো টুকরো বেশ কিছু ঘটনা, তার জীবনদর্শনের কিছু অংশ, তার দুটি প্রিয় জিনিস গান ও অরণ্য নিয়ে বেশ খানিকটা আলোচনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে তার লেখা চিঠির মাধ্যমে এই বইতে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া :-
প্রথমেই যেটা বলার , যারা প্রথমবার বুদ্ধদেব গুহ-র লেখা পড়তে চাইছে তাদের জন্য এই বই নয়। বরং যারা লেখকের বেশ কয়েকটি উপন্যাস পড়েছে , তার লেখার স্টাইলের সঙ্গে পরিচিত, তারা কিছুটা হলেও একাত্ম হতে পারবে বইটির সঙ্গে।
"Goodreads" - এ দেখলাম অনেকেই বইটিকে বলেছেন লেখকের আত্মপ্রচার। কারণ এই বইতে তিনি তার উপন্যাসগুলির নাম ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন একাধিক জায়গায়, উপন্যাসগুলির প্রকাশকের নামোল্লেখ করেছেন।
তবে তোড়ার মতো অনেক পাঠক পাঠিকা আছেন নিশ্চই যারা উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রগুলি সম্পর্কে জানতে চান, জানতে চান উপন্যাস লেখার পূর্বের কাহিনীটি। আর একজন লেখকও তার পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে চাইতেই পারেন উপন্যাস লেখার সময়কালীন তার ভাবনা চিন্তা গুলোকে। আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে বইগুলো নিয়ে এবং বইয়ের পটভূমি নিয়ে লেখকের আলোচনা, বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছি।
তবে বুদ্ধদেব গুহ-র অন্যান্য লেখার তুলনায় এই বইটি বেশ মধ্যমানের। পড়তে গিয়ে আমার একঘেয়ে লেগেছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। লেখাগুলো যেন অগোছালো , এলোমেলো...
"কথা বলতে বসে, কত অপ্রাসঙ্গিক কথাই তোমাকে বললাম। এ-তো কথা নয় ; এলোমেলো, এলেবেলে।
যেন, চানঘরে গান।"
সবমিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে আমার বইটি শেষ করার পর।
(বি.দ্র :- বইটির প্রচ্ছদ আরও সুন্দর করা যেত। বর্তমান প্রচ্ছদটি দেখে বইটির সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা জন্মায় যে এটি সস্তা প্রেমের উপন্যাস, যদিও আদপেই তা নয়।
তবে ভিতরের অলংকরণগুলো খুবই ভালো লেগেছে।)
February 10, 2024
"চানঘরে গান" - বুদ্ধদেব গুহ
"এই সংসারে সমস্ত অনুভূতি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ভালোবাসা, ঘৃণা, কৃতজ্ঞতা, কৃতঘ্নতা, শঠতা, তঞ্চকতার পরপারে এসে পৌঁছেছি এখন। অনেক দূর হেঁটে এসেছি...ধূলো পায়ে। কিন্তু ক্ষুধা তৃষ্ণার পরপারেও এসেছি। এও কম কথা নয়।"
"বড়লোকের ঘরে জন্মানো, বড়লোক বাবার পরিচয়টা কোনো পরিচয়ই নয়। যে মানুষের নিজস্ব পরিচয় নেই, সে মানুষই নয়।"
"ভালোবাসা যে সবসময়েই ঔদার্য দেয়ই এমনও নয়। অনেক সময়ই তা মানুষকে সংকীর্ণ, ঈর্ষাকাতরও করে তোলে।"
"Grasshopper Mind - আজকাল এমনই ফড়িং-মনা হয়ে গেছি যে, বলার নয়। মনটা কেবলই মেঘলা দুপুরের জামতলিতে এক্কা-দোক্কা খেলে বেড়ায় ছায়াতে রোদ্দুরে। এক ভাবনা টপকে অন্য ভাবনাতে পৌঁছয়। কোন কাজ, কোন ভাবনাই শেষ হয় না, এটা ছেড়ে ওটা, ওটা ছেড়ে এটা। ফলে হয় না কোনো কাজই।"
"প্রেম কোনো খেলা নয়, প্রেম মরণ। সর্পদ্রংষ্ট হবার মতো সুতীব্র যন্ত্রনায় মরবে তুমি, তেঁতুল-বিছে কামড়ানো ধবলা গাভীর মতো ছটফট করবে তুমি যন্ত্রনায়। প্রেম কল্পনাতেই ভালো।"
"আরোহণের পরই অবরোহনই হওয়া উচিত স্বাভাবিক নিয়মে। পাহাড়চূড়াতো পতাকা পুঁতে দিয়েই নেমে আসার জন্যেই। সেখানে মৌরসী-পাট্টা গাড়ার তো কথা নয়। পাহাড়চূড়োতা মান্যতা করে না কখনও।"
"সমস্ত মুক্তির মধ্যেই বন্দীদশা বোধহয় নিহিত থাকেই, যেমন প্রত্যেক বন্দী মানুষের মধ্যে নিহিত থাকে মুক্ত হওয়ার চিন্তা।"
"একটা সম্পর্ক স্থাপিত হতে লাগে বহুদিন। ভেঙ্গে ফেলতে লাগে কয়েকমুহূর্ত। প্রতিটি সম্পর্কই গাছেরই মতো।"
"কিন্তু পাওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করাতে যে সুখ, তার কাছে পাওয়ার সুখ, কিছুমাত্র নয়। তোমার সুখেই আমার সুখ ফিরদৌসী। তুমি সুখী হলেই আমি সুখী, তাবাসুম।... কিন্তু আমিও চিরদিন থেকে যাব তোমার মনে, তোমার সুখে, তোমার দুখে, তোমারই একান্ত হয়ে। আমি যে তোমার চানঘরের গান।"
"এই সংসারে সমস্ত অনুভূতি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ভালোবাসা, ঘৃণা, কৃতজ্ঞতা, কৃতঘ্নতা, শঠতা, তঞ্চকতার পরপারে এসে পৌঁছেছি এখন। অনেক দূর হেঁটে এসেছি...ধূলো পায়ে। কিন্তু ক্ষুধা তৃষ্ণার পরপারেও এসেছি। এও কম কথা নয়।"
"বড়লোকের ঘরে জন্মানো, বড়লোক বাবার পরিচয়টা কোনো পরিচয়ই নয়। যে মানুষের নিজস্ব পরিচয় নেই, সে মানুষই নয়।"
"ভালোবাসা যে সবসময়েই ঔদার্য দেয়ই এমনও নয়। অনেক সময়ই তা মানুষকে সংকীর্ণ, ঈর্ষাকাতরও করে তোলে।"
"Grasshopper Mind - আজকাল এমনই ফড়িং-মনা হয়ে গেছি যে, বলার নয়। মনটা কেবলই মেঘলা দুপুরের জামতলিতে এক্কা-দোক্কা খেলে বেড়ায় ছায়াতে রোদ্দুরে। এক ভাবনা টপকে অন্য ভাবনাতে পৌঁছয়। কোন কাজ, কোন ভাবনাই শেষ হয় না, এটা ছেড়ে ওটা, ওটা ছেড়ে এটা। ফলে হয় না কোনো কাজই।"
"প্রেম কোনো খেলা নয়, প্রেম মরণ। সর্পদ্রংষ্ট হবার মতো সুতীব্র যন্ত্রনায় মরবে তুমি, তেঁতুল-বিছে কামড়ানো ধবলা গাভীর মতো ছটফট করবে তুমি যন্ত্রনায়। প্রেম কল্পনাতেই ভালো।"
"আরোহণের পরই অবরোহনই হওয়া উচিত স্বাভাবিক নিয়মে। পাহাড়চূড়াতো পতাকা পুঁতে দিয়েই নেমে আসার জন্যেই। সেখানে মৌরসী-পাট্টা গাড়ার তো কথা নয়। পাহাড়চূড়োতা মান্যতা করে না কখনও।"
"সমস্ত মুক্তির মধ্যেই বন্দীদশা বোধহয় নিহিত থাকেই, যেমন প্রত্যেক বন্দী মানুষের মধ্যে নিহিত থাকে মুক্ত হওয়ার চিন্তা।"
"একটা সম্পর্ক স্থাপিত হতে লাগে বহুদিন। ভেঙ্গে ফেলতে লাগে কয়েকমুহূর্ত। প্রতিটি সম্পর্কই গাছেরই মতো।"
"কিন্তু পাওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করাতে যে সুখ, তার কাছে পাওয়ার সুখ, কিছুমাত্র নয়। তোমার সুখেই আমার সুখ ফিরদৌসী। তুমি সুখী হলেই আমি সুখী, তাবাসুম।... কিন্তু আমিও চিরদিন থেকে যাব তোমার মনে, তোমার সুখে, তোমার দুখে, তোমারই একান্ত হয়ে। আমি যে তোমার চানঘরের গান।"
July 26, 2022
This one didn't fill up my expectations. However, some of the letters herein are really great. It seems he had contradicting notion with Satyajit roy which covered a good part, it seemed boring to me. However, i wouldn't recommend it as a great read overall.
November 4, 2024
ফাতুলতম ভাবে সমস্ত বইয়ে আত্মপ্রচারে ব্যস্ত ছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চরম বিরক্তি নিয়েও কীভাবে বইটা শেষ করেছি, তা ভেবেই হাসি পাচ্ছে। বুদ্ধদেবের কলম থেকে এমন উদ্ভট লেখা বেরিয়েছে, তা দেখেই বিস্মিত হয়েছিলাম।
January 27, 2025
বইটা পড়ার আগে জানতাম না আসলে পুরো বইটার চিঠির সংকলন। লেখক আর তার এক পাঠকের মধ্যে। জিনিসটা খুবই আলাদা লেগেছিল আমার কাছে,পড়েও বেশ মজা পেলাম।
তবে লেখক এতো বেশি নিজের বইয়ের প্রমোশন করেছেন পুরো বই জুড়ে,প্রতি দুই পৃষ্ঠা পর পর ওনার একেকটা বইয়ের নাম।
তবে লেখক এতো বেশি নিজের বইয়ের প্রমোশন করেছেন পুরো বই জুড়ে,প্রতি দুই পৃষ্ঠা পর পর ওনার একেকটা বইয়ের নাম।
September 15, 2026
চিঠি গুরুর বই । সবসময় প্রিয় ।
July 19, 2023
চিঠি পড়তে সবসময় ভালো লাগে৷ বুদ্ধদেব গুহের "সবিনয় নিবেদন" তো সব পাঠকদের কাছেই জনপ্রিয়। "চানঘরে গান" বইটিরো গল্প এগিয়েছে চিঠিকে কেন্দ্র করে। লেখক বনাম পাঠিকার ভাবনার সারবস্তু উঠে এসেছে। পাঠিকা আবার বাংলাদেশের, ওদিকে লেখক কলকাতার। এপার-ওপার দুই বাংলার যাপিত জীবন খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। সুন্দর একটা বই। চিঠিপ্রেমীদের জন্য মাস্ট রিড টাইপ।
Displaying 1 - 12 of 12 reviews












