What do you think?


বঙ্গভবনে পাঁচ বছর
217 pages
About the author
মাহবুব তালুকদার
16 books1 followerমাহবুব তালুকদার নেত্রকোনা জেলার (তৎকালীন মহকুমা) পূর্বধলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের সূচনায় ষাটের দশকের প্রারম্ভে তিনি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাংবাদিক। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের তথ্য বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গভবনের কার্যকালে তিনি চারজন রাষ্ট্রপতির অধীনে সরাসরি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। তিনি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকারি প্রেস সচিব ছিলেন। এক সময়ে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন কমিশনার পদে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ লাভ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন।
মূলত সৃজনশীল লেখক মাহবুব তালুকদার বিগত ৬৫ বছর যাবৎ নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চা করছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, কাব্যগ্রন্থ, শিশুসাহিত্য, ছড়ার বই ও ভ্রমণকাহিনি। তিনি ২০১২ সালের বাংলা একাডেমি পুরষ্কার লাভ করেন।
মূলত সৃজনশীল লেখক মাহবুব তালুকদার বিগত ৬৫ বছর যাবৎ নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চা করছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, কাব্যগ্রন্থ, শিশুসাহিত্য, ছড়ার বই ও ভ্রমণকাহিনি। তিনি ২০১২ সালের বাংলা একাডেমি পুরষ্কার লাভ করেন।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
February 6, 2018
মাহবুব তালুকদার ১৯৭২-১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গভবনে কর্মরত ছিলেন।এই পাঁচ বছরের বেশিরভাগ সময় ছিলেন রাষ্ট্রপতির স্পেশাল অফিসার আর শেষদিকে ছিলেন দায়িত্ববিহীন কর্মকর্তা যার আদুরে নাম ওএসডি।এই পাঁচ বছরের স্মৃতিচারণা নিয়েই মাহবুব তালুকদারের আত্মজৈবনিক ধর্মী এই বই।
স্বাধীনতার প্রথম পাঁচ বছরে পাঁচজন রাষ্ট্রপতি পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এই প্রাপ্তির সমীকরণ বড়ই ঘোরঘোরালো। মাহবুব তালুকদার আবু সাঈদ চৌধুরীকে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেয়েছেন। দেশের শাসনভার তখন বঙ্গবন্ধুর কাঁধে। সংসদীয় রীতিতে রাষ্ট্রপতি পদটি আলংকারিক।তাই কাজ কিংবা ক্ষমতা উভয়ের গন্ডি সীমিত। ঠিক কোন কারণে আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করেছিলেন তা মাহবুব তালুকদার খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আবার যখন মুহাম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার নিলেন,তখন থেকেই জৌলুস কমতে থাকে বঙ্গভবনের। কেন কিংবা কীভাবে বঙ্গভবন মৃতপ্রায় ভবনে রূপ নেয় তা বিশদ ব্যাখা করেছেন লেখক।চতুর্থ সংশোধনী বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।বঙ্গভবনের পরিণত হয় অনেকটা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে। সকল কর্মচারী যোগ দেন গণভবনে। এদিকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদলের অশনিসংকেত পাওয়া সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কতটা বেফিকার ছিল তার প্রমাণ মাহবুব তালুকদার দিয়েছেন পাঠককে।
১৫ ই আগস্টের হত্যাকান্ডের পর মোশতাকের দলে কট্টর আওয়ামী লীগাররাই যোগ দিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন, খুনি মেজরদের বঙ্গভবনে আধিপত্যে জিয়ার উত্থানের সূচনা বনাম খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া এবং তাহেরের সাহায্যে ক্ষমতায় এসে জেনারেল জিয়ার মহাশক্তিধরে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মাহবুব তালুকদার। তাহেরের কোর্ট মার্শালের বিচারক কর্নেল ইউসুফের জিয়ার সাথে ঘনঘন মিটিং কিংবা তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার পর এই বিচারের দুই বিচারকের পদোন্নতির কথা স্মরণ করেছেন মাহবুব তালুকদার।
দেশে বেসামরিক প্রশাসনের বিপরীতে সামরিক শাসন জারির সময়ে নামমাত্র রাষ্ট্রপতি সায়েমের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছেন লেখক, সকল ক্ষমতা তো জেনারেল জিয়ার কাছে। তাহলে সায়েমকে নিয়ে এই অভিনয়ের দরকার কী? শেষের দিকে লক্ষ করেছেন রাজনীতিতে পাকিস্তানপন্থী ও মৌলবাদীদের বড় রকমের উত্থান ঘটছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।
মাহবুব তালুকদার অনেকক্ষেত্রে সূক্ষ্ম আত্মবন্দনা করতে চেয়েছেন। নিজের দায় এড়াতে খোঁড়া যুক্তির অবতারণা করেছেন। তবে রাষ্ট্রপতির বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্গভবনে কাজ করতে গিয়ে যেসব অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তা পাঠককে স্বাধীনতাত্তোর উত্তাল বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণার ভিতকে শক্ত করতে সাহায্য করবে বলেই মনে হয়।
স্বাধীনতার প্রথম পাঁচ বছরে পাঁচজন রাষ্ট্রপতি পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এই প্রাপ্তির সমীকরণ বড়ই ঘোরঘোরালো। মাহবুব তালুকদার আবু সাঈদ চৌধুরীকে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেয়েছেন। দেশের শাসনভার তখন বঙ্গবন্ধুর কাঁধে। সংসদীয় রীতিতে রাষ্ট্রপতি পদটি আলংকারিক।তাই কাজ কিংবা ক্ষমতা উভয়ের গন্ডি সীমিত। ঠিক কোন কারণে আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করেছিলেন তা মাহবুব তালুকদার খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আবার যখন মুহাম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার নিলেন,তখন থেকেই জৌলুস কমতে থাকে বঙ্গভবনের। কেন কিংবা কীভাবে বঙ্গভবন মৃতপ্রায় ভবনে রূপ নেয় তা বিশদ ব্যাখা করেছেন লেখক।চতুর্থ সংশোধনী বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।বঙ্গভবনের পরিণত হয় অনেকটা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে। সকল কর্মচারী যোগ দেন গণভবনে। এদিকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদলের অশনিসংকেত পাওয়া সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কতটা বেফিকার ছিল তার প্রমাণ মাহবুব তালুকদার দিয়েছেন পাঠককে।
১৫ ই আগস্টের হত্যাকান্ডের পর মোশতাকের দলে কট্টর আওয়ামী লীগাররাই যোগ দিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন, খুনি মেজরদের বঙ্গভবনে আধিপত্যে জিয়ার উত্থানের সূচনা বনাম খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া এবং তাহেরের সাহায্যে ক্ষমতায় এসে জেনারেল জিয়ার মহাশক্তিধরে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মাহবুব তালুকদার। তাহেরের কোর্ট মার্শালের বিচারক কর্নেল ইউসুফের জিয়ার সাথে ঘনঘন মিটিং কিংবা তাহেরকে ফাঁসি দেয়ার পর এই বিচারের দুই বিচারকের পদোন্নতির কথা স্মরণ করেছেন মাহবুব তালুকদার।
দেশে বেসামরিক প্রশাসনের বিপরীতে সামরিক শাসন জারির সময়ে নামমাত্র রাষ্ট্রপতি সায়েমের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছেন লেখক, সকল ক্ষমতা তো জেনারেল জিয়ার কাছে। তাহলে সায়েমকে নিয়ে এই অভিনয়ের দরকার কী? শেষের দিকে লক্ষ করেছেন রাজনীতিতে পাকিস্তানপন্থী ও মৌলবাদীদের বড় রকমের উত্থান ঘটছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।
মাহবুব তালুকদার অনেকক্ষেত্রে সূক্ষ্ম আত্মবন্দনা করতে চেয়েছেন। নিজের দায় এড়াতে খোঁড়া যুক্তির অবতারণা করেছেন। তবে রাষ্ট্রপতির বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্গভবনে কাজ করতে গিয়ে যেসব অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তা পাঠককে স্বাধীনতাত্তোর উত্তাল বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণার ভিতকে শক্ত করতে সাহায্য করবে বলেই মনে হয়।
May 4, 2021
অনেকটা "এক জীবনে যা দেখলাম" ধাঁচের বই; লেখক কোন কোন রুই-কাতলার সাথে উঠা-বসা করেছেন, চা-নাস্তা করেছেন সেসবের একঘেয়ে ফিরিস্তি। তবে এসবের মাঝেও বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতার পুঞ্জিভবন, রাষ্ট্রপতির পদটি একটি রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হওয়া, বঙ্গবন্ধুর ক্রমশঃ একনায়কসুলভ অধৈর্য ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠার ইঙ্গিত প্রস্ফুটিত হয়। অধ্যাপক আবুল ফজল চট্টগ্ৰাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করায় বঙ্গবন্ধুর ফুঁসে উঠার মৃদু বর্ণনায় অনেক কিছুই বলা হয়ে গেছে তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরাসরি বলে ফেলা নিরাপদ নয়। এই ক্ষুদ্র অংশটুকু বাদে বইটা বারোয়ারি দিনলিপির চেয়ে বেশি কিছু হতে পারেনি। বঙ্গভবনের যেই বাসিন্দাদের নিয়ে এই বইটি দেখা, তারা বরং দলিল-দস্তাবেজে অনেক বেশি জীবন্ত।
January 16, 2023
বইটার দেখা পাই জনাব মাহবুব তালুকদারের মৃত্যুর কিছুদিন পর। ইসি হিসেবে নিরপেক্ষতার সুনাম কুড়িয়েছেন উনি। ভেবেছিলাম ৭২ পরবর্তী বাংলাদেশের উত্তপ্ত রাজনীতির উত্তাল বয়ান নিয়ে এই বই। তবে না বরং একে বলা যায় ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। রাষ্ট্রপ্রধান আবু সাঈদ চৌধুরী, রাষ্ট্রপতি মুহম্মদ উল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক এবং প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এই ৫ জন রাষ্ট্রপ্রধানের কালে বিভিন্ন পদে বঙ্গভবনে ছিলেন লেখক। সেই সময়টায় মূলত ফুটেছে লেখাতে। অবশ্য ক্ষমতার উত্থানপতনের ঝড় ঝাপটার আঁচ যে লেখায় আসে নি তা নয়। তবে সে দমকা হাওয়া পর্যন্তই। রাজনৈতিক পথচলার বাইরে বেশ কিছু অরাজনৈতিক চরিত্র ও জায়গা পেয়েছে লেখাজুড়ে।
এধরনের লেখায় আসলে সমালোচনার অবকাশ কম৷ তবে একটা জিনিস একটু না বললেই নয়। লেখক আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রতি বেশ মুগ্ধ ছিলেন৷ লেখাতে এবং লেখার বিস্তৃতে লেখকের এই মুগ্ধতা সহজেই চোখে পড়ে। ফলতঃ আবু সাঈদ চৌধুরীকে নিয়ে যতটা বিস্তারিত লেখা হয়েছে, বাকিদের ভাগ এর তুলনায় যৎসামান্য।
এধরনের লেখায় আসলে সমালোচনার অবকাশ কম৷ তবে একটা জিনিস একটু না বললেই নয়। লেখক আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রতি বেশ মুগ্ধ ছিলেন৷ লেখাতে এবং লেখার বিস্তৃতে লেখকের এই মুগ্ধতা সহজেই চোখে পড়ে। ফলতঃ আবু সাঈদ চৌধুরীকে নিয়ে যতটা বিস্তারিত লেখা হয়েছে, বাকিদের ভাগ এর তুলনায় যৎসামান্য।
December 25, 2022
মরহুম নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মাহবুব তালুকদারের ভাষায় ১৯৭১ সাল থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছরের স্মৃতিচারণ মূলক বইটি পড়ে সে সময়কার রাজনৈতিক এবং অন্যান্য অবস্থার কথা সহজেই অনুমেয় ।
July 21, 2018
লেখক মাহবুব তালুকদার, বর্তমান নির্বাচন কমিশন, এর ১৯৬৮ সালে একটি ফিয়টি ৬০০ মডেলের গাড়ী ছিল। কিন্তু অনেক ঘুরেও তিনি একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগাড় করতে পারেননি।
এরপর ১৯৭২ সালে তিনি যখন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর স্পেশাল অফিসার পদে নিয়োগ পান, প্রথম যে কাজটি তিনি করেন, তা হল- ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া সবকিছু লাইসেন্স করিয়ে নেওয়া। তার ভাষায়, "এদেশে আসলে মানুষের দুটো জাত। একটি সরকারী মানুষ, অন্যটি বেসরকারী মানুষ।"
ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার স্বপ্নই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আমলাতন্ত্রের পথে নিয়ে এসে। পরবর্তী পাঁচ তিনি ছিলেন বঙ্গভবনে, খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশের স্পর্শকাতর সময়ের চারজন রাষ্ট্রপতিকে।
পাঠককে তিনি নিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটার পর্দার আড়ালে। খাতাকলমে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও, বাস্তবে তার হাতে নূন্যতম ক্ষমতা। এই ক্ষমতাহীনতা প্রথম রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে করে তোলে চরম বিষণ্ণ। একসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি শক্তি বা পাওয়ার চাই না। আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। আমাকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিদেশে পাঠান।"
বঙ্গবন্ধু সবকিছু বুঝলেও তিনি তার এই অনুরোধে সায় দিলেন না। এরপর কিছুদিন পর তিনি পদত্যাগ করেন।
বইটিতে লেখক অনেক কথাই বলেছেন কোনোরকম রাগঢাক না করেই। আবু সাঈদ চৌধুরীর সাথে স্বাধীনতা পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কথাই রীতিমত ভাবিয়ে তোলে।
বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল লেখকের বেশ ভালোই সখ্যতা। কাজ করতে গিয়ে যা দিন দিন হয়ে বেশ আন্তরিকতার। ১৪ই আগষ্ট লেখক শেখ মুজিবের পরেরদিন ভাষণ প্রস্তুত করছিলেন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু তাকে নিজের আত্নজীবনী লেখার দায়িত্বও দেন। কিন্তু এরপরের দিন থেকে সবযেন ঘটতে থাকে খুব দ্রুত গতিতে। লেখক যেভাবে বর্ণনা করেছেন এরপরের কয়েকদিনের ঘটনাপঞ্জী, তা হার মানায় খুব সুন্দর করে লেখা কোন সিনেমার গল্পকেও।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের ঘটনাকে লেখক বর্ণনা করেন এভাবে, "সন্ধ্যা থেকে ছ'ঘন্টারও অধিকাল বঙ্গভবনে কাটালাম। কেউ বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করল না। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তাঁর কোন প্রতিবাদ নেই, প্রতিক্রিয়া নেই কোনখানে। যারা নতুন শাসন ক্ষমতায় এলেন, তাঁরা গতকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নামে পাগল ছিলেন, তাঁর একটু সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য কি ব্যাকুল ছিলেন তাঁরা। অথচ এখন সবার কাছে তিনি মন্দ গেলেন। রাতারাতি এদের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর। রাজনীতি! তোমার অন্য নাম নিষ্ঠুরতা।"
এরপর মোশতাক, সায়েমের অধীনে তিনি কিছুদিন কাজ করেন। বিবেক তাড়নায় হোক আর বাধ্য হয়েই হোক, তিনি একসময় বঙ্গভবনের চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু এর মাঝে দেখেছেন এবং বইটিতে বলেছেন ইতিহাসের অনেক মূলব্যান দৃশ্যপট!
এরপর ১৯৭২ সালে তিনি যখন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর স্পেশাল অফিসার পদে নিয়োগ পান, প্রথম যে কাজটি তিনি করেন, তা হল- ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া সবকিছু লাইসেন্স করিয়ে নেওয়া। তার ভাষায়, "এদেশে আসলে মানুষের দুটো জাত। একটি সরকারী মানুষ, অন্যটি বেসরকারী মানুষ।"
ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার স্বপ্নই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে আমলাতন্ত্রের পথে নিয়ে এসে। পরবর্তী পাঁচ তিনি ছিলেন বঙ্গভবনে, খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশের স্পর্শকাতর সময়ের চারজন রাষ্ট্রপতিকে।
পাঠককে তিনি নিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটার পর্দার আড়ালে। খাতাকলমে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও, বাস্তবে তার হাতে নূন্যতম ক্ষমতা। এই ক্ষমতাহীনতা প্রথম রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে করে তোলে চরম বিষণ্ণ। একসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি শক্তি বা পাওয়ার চাই না। আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। আমাকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিদেশে পাঠান।"
বঙ্গবন্ধু সবকিছু বুঝলেও তিনি তার এই অনুরোধে সায় দিলেন না। এরপর কিছুদিন পর তিনি পদত্যাগ করেন।
বইটিতে লেখক অনেক কথাই বলেছেন কোনোরকম রাগঢাক না করেই। আবু সাঈদ চৌধুরীর সাথে স্বাধীনতা পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কথাই রীতিমত ভাবিয়ে তোলে।
বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল লেখকের বেশ ভালোই সখ্যতা। কাজ করতে গিয়ে যা দিন দিন হয়ে বেশ আন্তরিকতার। ১৪ই আগষ্ট লেখক শেখ মুজিবের পরেরদিন ভাষণ প্রস্তুত করছিলেন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু তাকে নিজের আত্নজীবনী লেখার দায়িত্বও দেন। কিন্তু এরপরের দিন থেকে সবযেন ঘটতে থাকে খুব দ্রুত গতিতে। লেখক যেভাবে বর্ণনা করেছেন এরপরের কয়েকদিনের ঘটনাপঞ্জী, তা হার মানায় খুব সুন্দর করে লেখা কোন সিনেমার গল্পকেও।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের ঘটনাকে লেখক বর্ণনা করেন এভাবে, "সন্ধ্যা থেকে ছ'ঘন্টারও অধিকাল বঙ্গভবনে কাটালাম। কেউ বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করল না। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তাঁর কোন প্রতিবাদ নেই, প্রতিক্রিয়া নেই কোনখানে। যারা নতুন শাসন ক্ষমতায় এলেন, তাঁরা গতকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নামে পাগল ছিলেন, তাঁর একটু সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য কি ব্যাকুল ছিলেন তাঁরা। অথচ এখন সবার কাছে তিনি মন্দ গেলেন। রাতারাতি এদের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর। রাজনীতি! তোমার অন্য নাম নিষ্ঠুরতা।"
এরপর মোশতাক, সায়েমের অধীনে তিনি কিছুদিন কাজ করেন। বিবেক তাড়নায় হোক আর বাধ্য হয়েই হোক, তিনি একসময় বঙ্গভবনের চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু এর মাঝে দেখেছেন এবং বইটিতে বলেছেন ইতিহাসের অনেক মূলব্যান দৃশ্যপট!
September 4, 2022
সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে একজন সৎ ও সাহসী মানুষ বলেই আমার সবসময়ে মনে হয়েছে। তবে প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকতার বাইরে তিনি যে একজন চমৎকার লেখক-ও, তা আমার জানা ছিলো না। বোধকরি তার লেখক পরিচয় আমলা পরিচয়ের নিচে চাপা পড়ে যাওয়ায় আরও অনেকের বেলায়ই কথাটা প্রযোজ্য।
বইটা দেশের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গভবনে চারজন রাষ্ট্রপতির অধীনে বিভিন্ন পদে লেখকের কাজ করার অভিজ্ঞতার বয়ান। সময়কাল স্বাধীনতার পরপর - ১৯৭২ থেকে শুরু। লেখক তৎকালীন রাজনৈতিক পটভূমির মতোই এই পাঁচ বছরের কর্মজীবনে তার উত্থান এবং পতনের কথা দুই-ই প্রাঞ্জল ভাষায় গ্রন্থিত করে গেছেন। সদ্যজাত বাংলাদেশের অদ্ভুত ঘোরলাগা সে সময়ে নাগরদোলায় চেপে থাকা বঙ্গভবনের তৎকালীন আবহ বুঝতে বইটা প্রাসঙ্গিক।
সুখপাঠ্য এ বইটাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালের পরিসর সংক্ষিপ্ত এবং এর পরের দুই রাষ্ট্রপতির কার্যকালের পরিসর সংক্ষিপ্ততর হওয়ায় মনে কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে গেলো। তবে বইটা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধাণ এবং ব্যক্তি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ব্যাপারে জানার আগ্রহ মিটিয়েছে ভালো মতোই। রাষ্ট্রপ্রধান আবু সাঈদ চৌধুরীর ব্যাক্তিত্ব অনুকরণীয়। প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য, আত্মসম্মানবোধ আর নিষ্ঠায় তিনি আমাকে মুগ্ধ করেছেন।
Work Place Memoir ধরণের লেখা খুব বেশী পাওয়া যায় না। কারণ আমাদের অনেকের মধ্যেই নিজের কাজের জায়গাটার প্রতি কেমন যেন এক ধরণের বিবমিষা কাজ করে। এর প্রতি আমরা অধিকাংশই বিরূপ, কিংবা বিরূপ না হলেও সদয় কদাচিৎ-ই হয়ে থাকি। সেজন্যে কর্মক্ষেত্রের স্মৃতিচারণের প্রবণতা খুবই কম (অভিযোগ, অনুযোগ বাদে)। অথচ জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় আমাদের কিন্তু কাটাতে হয় কাজ নিয়ে কর্মক্ষেত্রেই..... UPL প্রকাশনীর এ বইটা আপনারাও পড়তে পারেন। ইতিহাস বিষয়ে যদি আগ্রহ না-ও থাকে, বইটা ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্স, অফিস কালচার এবং অফিস পলিটিক্স এসব ব্যাপারও বুঝতে সাহায্য করবে।
ব্যাকরণ মতে চাকরের বৃত্তিই চাকরি। ন্যায্য হলেও চাকরিতে থেকে নিয়োগকর্তার বিপক্ষে গিয়ে কিছু করা প্রায়শই সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। নিজের ইচ্ছা ও বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও নিয়োগকর্তার স্বার্থে কাজ করে যেতে হওয়াটা চাকরির প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত - এই কথাটা নিজে চাকরীজীবী না হলে বোঝা সম্ভব নয়। আবার যত দক্ষ কর্মচারী-ই আপনি হোন না কেন, প্রতিষ্ঠানে যতো শ্রম-ই আপনি দিয়ে থাকুন না কেন, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নিয়োগকর্তা আপনার কথা অবলীলায় ভুলে যাবেন - এই ধ্রুব সত্যটা সবসময় মনে রাখা জরুরী।
বইটা দেশের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গভবনে চারজন রাষ্ট্রপতির অধীনে বিভিন্ন পদে লেখকের কাজ করার অভিজ্ঞতার বয়ান। সময়কাল স্বাধীনতার পরপর - ১৯৭২ থেকে শুরু। লেখক তৎকালীন রাজনৈতিক পটভূমির মতোই এই পাঁচ বছরের কর্মজীবনে তার উত্থান এবং পতনের কথা দুই-ই প্রাঞ্জল ভাষায় গ্রন্থিত করে গেছেন। সদ্যজাত বাংলাদেশের অদ্ভুত ঘোরলাগা সে সময়ে নাগরদোলায় চেপে থাকা বঙ্গভবনের তৎকালীন আবহ বুঝতে বইটা প্রাসঙ্গিক।
সুখপাঠ্য এ বইটাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালের পরিসর সংক্ষিপ্ত এবং এর পরের দুই রাষ্ট্রপতির কার্যকালের পরিসর সংক্ষিপ্ততর হওয়ায় মনে কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে গেলো। তবে বইটা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধাণ এবং ব্যক্তি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ব্যাপারে জানার আগ্রহ মিটিয়েছে ভালো মতোই। রাষ্ট্রপ্রধান আবু সাঈদ চৌধুরীর ব্যাক্তিত্ব অনুকরণীয়। প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য, আত্মসম্মানবোধ আর নিষ্ঠায় তিনি আমাকে মুগ্ধ করেছেন।
Work Place Memoir ধরণের লেখা খুব বেশী পাওয়া যায় না। কারণ আমাদের অনেকের মধ্যেই নিজের কাজের জায়গাটার প্রতি কেমন যেন এক ধরণের বিবমিষা কাজ করে। এর প্রতি আমরা অধিকাংশই বিরূপ, কিংবা বিরূপ না হলেও সদয় কদাচিৎ-ই হয়ে থাকি। সেজন্যে কর্মক্ষেত্রের স্মৃতিচারণের প্রবণতা খুবই কম (অভিযোগ, অনুযোগ বাদে)। অথচ জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় আমাদের কিন্তু কাটাতে হয় কাজ নিয়ে কর্মক্ষেত্রেই..... UPL প্রকাশনীর এ বইটা আপনারাও পড়তে পারেন। ইতিহাস বিষয়ে যদি আগ্রহ না-ও থাকে, বইটা ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্স, অফিস কালচার এবং অফিস পলিটিক্স এসব ব্যাপারও বুঝতে সাহায্য করবে।
ব্যাকরণ মতে চাকরের বৃত্তিই চাকরি। ন্যায্য হলেও চাকরিতে থেকে নিয়োগকর্তার বিপক্ষে গিয়ে কিছু করা প্রায়শই সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। নিজের ইচ্ছা ও বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও নিয়োগকর্তার স্বার্থে কাজ করে যেতে হওয়াটা চাকরির প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত - এই কথাটা নিজে চাকরীজীবী না হলে বোঝা সম্ভব নয়। আবার যত দক্ষ কর্মচারী-ই আপনি হোন না কেন, প্রতিষ্ঠানে যতো শ্রম-ই আপনি দিয়ে থাকুন না কেন, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নিয়োগকর্তা আপনার কথা অবলীলায় ভুলে যাবেন - এই ধ্রুব সত্যটা সবসময় মনে রাখা জরুরী।
September 10, 2022
মাহবুব তালুকদার ক্যাডার সার্ভিসের না হয়েও বঙ্গবন্ধুর বদান্যতায় প্রেসিডেন্ট অফিসে চাকুরি পান। তবে ১৫ আগস্টের পর তিনিও দায়সারা ভূমিকা পালন করেছেন, এমনকি কখনো কখনো মোশতাকদের অধীনে কাজও করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর খসড়াও সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বঙ্গভবনের চাকুরির সার্থকতা এতে ম্লান হয়েছে।
May 3, 2025
মাহবুব তালুকদার বাংলাদেশের সাবেক নির্বাচন কমিশনার৷ বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ তার জন্য দোয়া করতো, তিনি তার চাকুরী জীরন অসাধারণ বর্ণনা দিয়েছেন।
আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।
আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews









