Moti Nandi was a sports journalist and worked as a sports editor in Anandabazar Patrika. He was awarded the Lifetime Achievement award (2008) at a glittering ceremony to mark the grand finale of the maiden edition of the Excellence in Journalism Awards.
In his novels, he is noted for his depiction of sporting events and many of his protagonists are sports-persons. His first short story was published in Desh weekly on 1957. His story for Pujabarshiki was in Parichoy Magazine on 1985.
পশুপাখিরা স্বার্থপরতা জানে না, তারা ভালোবাসলে সবটুকু দিয়েই বাসে। বইটার কথা শুনেছিলাম একটা হৃদয় বিদারক নিউজে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে মোহাম্মদ আরিফ এক কৃষক একটি সারস পাখিকে সেবা শ্রুশুষা করে সারিয়ে তুলে। সুস্থ হবার পর পাখিটি বনে ফিরে না গিয়ে তার কাছেই রয়ে যায়। পাখিটি ইজের খাবার নিজে খুজে নিয়ে সন্ধ্যা হলেই ফিরে আসত আরিফের কাছে। কিন্তু বনবিভাগের কর্মকর্তারা পাখিটিকে আরিফের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে একতি অভয়ারণ্যে মুক্ত করে দেন। বিচ্ছেদ হয়ে যায় দুই বন্ধুর। এই নিউজটি শেয়ার করে এক ফেসবুক বন্ধু ধানকুড়ির কিংকং বইয়ের সাথে এর মিলের কথা লিখেছিলেন। ধানকুড়ির কিংকং এর আসল নাম কালীকিংকর ঢালি। ঝড়ে আঘাত পাওয়া এক সিন্ধু গড়ুরকে সারিয়ে তুলেছিল সে। তারপর তিন বছর ধরে পাখিটি তার প্রিয় বন্ধু হয়েই রয়ে যায়। একসময় স্থানীয় দারোগা বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনের কথা বলে পাখিটিকে নিয়ে যেতে চায়। তখন স্কুলের ছাত্রছাত্রী আর গ্রামবাসীদের প্রতিবাদে দারোগাকে পিছু হটতে হয়।
কালীকিংকরের সৌভাগ্য মোহাম্মদ আরিফের হয়নি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইনের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তবে চোরাকারবারি ঠেকাতে প্রয়োগ হোক। চিড়িয়াখানা বা সাফারি পার্কে খাচায় পুরা কখনই সংরক্ষন না।
সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার কখন হয়? যখন দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতাও একসাথে কাঁদেন৷ নয়তো প্রবলভাবে আইন মেনে চলা সৎ দারোগাও সাধারণ লোকের কাছে অপাংক্তেয় হয়ে পড়তে পারেন।
বাংলা সাহিত্যে ক্রীড়াকে উপজীব্য করে অনবদ্য সব কিশোর এবং বড়দের উপন্যাস লিখেছেন মতি নন্দী। তাঁর লেখা 'কোনি' বইটির মাধ্যমে প্রথম পরিচয় আমার। এই বই অবলম্বনে মুভিও হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাতে ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
আলোচ্য বইটির শুরুতেই দেখা যায় ধানকুড়ি প্রাইমারি স্কুলে একটি বাচ্চা ছেলেকে ভর্তি করতে এসেছেন তার দিদিমা। বাচ্চাটির বয়স ছয় হলেও সে গায়ে গতরে অনেক বড় থাকে। তার বাবা ডাকাত বলে মা তাকে দিদিমার কাছে রেখে মানুষ করতে বলে দিয়েছেন। দিদিমা সুলতা দেবীর ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত প্রবল। পুরো গ্রাম তাঁকে এক নামে চেনে। নাতিকে তিনি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন, তাই তাঁর নাতির এই সমস্যাটাকে আমলে নিয়ে তিনি চান তাকে উঁচু ক্লাসে ভর্তি করাতে।
স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সকলেই ভালো, তারা কালীকিঙ্করের অত্যাশ্চর্য মেধার পরিচয় পেয়ে তাকে ভর্তি করতে রাজি হয়ে যান। সুধন্য নামে একটি দশম শ্রেণীর ছাত্রের সাহায্যে ১ বছরের মধ্যেই ৪ ক্লাসের পড়া শেষ করে কালী ক্লাস ফোর থেকে ক্লাস ফাইভে প্রমোশন পেয়ে যায়।
কালী তার বড় শরীরের কারণে সব খেলাতেই বেশ পারদর্শী হয়ে উঠে, তবে ফুটবলের গোলকিপার হিসেবেই সে বাজিমাত করে। কালী একদিন একটা বিরল প্রজাতির পাখি উদ্ধার করে, ঝড়ে যার ডানা ভেঙে গিয়েছিল। সেই পাখিকে নিয়ে এগোতে থাকে কাহিনী।
কালী চরিত্রটিকেই গল্পের নামকরণে কিংকং বলা হয়েছে। কারণ সে গায়ে গতরে সাধারণ মানুষের চাইতে অনেক বড় ছিলো, আর যে কারণে তাকে পোহাতে হয়েছে অনেক গঞ্জনা। অথচ তার মনটা ছিলো খুব নরম, মনের দিক দিয়ে সত্যিই একটা বাচ্চা ছিলো সে। তাই তো ঝড়ে আহত পাখি বা কুড়িয়ে পাওয়া পাঁঠাকে এনেই পরম যত্নে সারিয়ে তোলে সে, ভালোবাসায় আপন করে নেয়। এমন প্রিয় পাখিকে যদি তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাওয়া হয় তাহলে মাত্র সাড়ে ৮ বছরের অথচ ক্লাস সেভেনে পড়া ছেলেটি কী করে সহ্য করে?
তার প্রাইভেট টিউটর সুধন্য চরিত্রটি দারুণ। অল্প বয়সেই তাকে তার অভাবের সংসারকে সাহায্য করতে হয়, কিন্তু সেও খুব মেধাবী। একই সাথে প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন এবং তেজস্বী এক কিশোর চরিত্র। কালীর জীবনে তার সুপ্রভাব অনেক।
সুলতা স্নেহে-মায়ায়-বুদ্ধিতে এক অসাধারণ চরিত্র। তাই তার নাতি আর সুধন্যকে আলাদা করে প্রায় দেখেনই না তিনি। তাঁর ও পোষা প্রাণীদের প্রতি অগাধ মমতা।
হাবীবুল্লাহ দারোগাই হচ্ছেন সেই কঠোর আইন মেনে চলা সৎ পুলিশ। কিন্তু কেন তাঁকে আমি শুরুতেই একটু ডিমরালাইজ করলাম? জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে মতি নন্দীর লেখা এই কিশোর উপন্যাসটি।
অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় লেখা গল্পটিতে মানবিক বোধ এবং খেলা এসেছে হাত ধরাধরি করে। এসেছে অভাবকে জয় করার গল্প, এসেছে এক বাচ্চা ছেলের দৃঢ়চেতা হয়ে উঠার গল্প। এসেছে মানুষ এবং পোষা প্রাণীর আবেগীয় সম্পর্ক। হাস্যরসেরও কমতি নেই। সবমিলিয়ে এক পার্ফেক্ট প্যাকেজ। যারা পড়েন নি, পড়ে নিতে পারেন।
ধান্যকুড়িয়া প্রাথমিক আদর্শ শিশুশিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা দেবিকা ঘোষাল মাথা নামিয়ে নিবিষ্ট মনে ক্লাস ফোরের অঙ্কের ফাইনাল পরীক্ষার খাতায় দেওয়া নম্বরগুলো চেক করছিলেন। চল্লিশটার মধ্যে তেরোটা দেখা হয়েছে এবং নম্বর যোগ দেওয়ায় তিনটি ভুল আবিষ্কার করেছেন। ঠিক এমন সময়ই তিনি শুনলেন, ”বড়দিদিমণি আসব?”
দেবিকা মুখ তুলে তাকিয়ে বললেন, ”আসুন।” আবার খাতা দেখতে শুরু করলেন। যিনি বললেন ”বড়দিদিমণি আসব” তিনি বছর ষাটের সাদা থান কাপড় পরা বেঁটেখাটো স্থূলকায় ধীর শান্ত নম্র স্বরের সুলতা মণ্ডল। ধানকুড়ির (ধান্যকুড়িয়ার এটাই ডাকনাম) অন্তত সত্তরভাগ মানুষ তাকে চেনেন এবং বড়দিদিমণিও তাঁর নাম শুনেছেন। মুখ নামিয়েই দেবিকা বললেন, ”বলুন মাসিমা।” ইতস্তত করে সুলতা বললেন, ”আমার নাতিটাকে ভর্তি করাতে এনেছি।” ”কোথায় নাতি?” ”এই তো।” সুলতা মুখ ফিরিয়ে দেখালেন।
দেবিকা মুখ তুলে দেখলেন লম্বা একট কিশোর। ঘোর কালো গায়ের রং। নাকটি ভোঁতা, ঝাঁকড়া রুক্ষ চুল। সারল্য ও বোকামি মুখে মাখানো। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন গ্রামাঞ্চলে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া একটু বেশি বয়সেই শুরু করে। কিন্তু এত বড় ছেলে তো শিশুশিক্ষা নিকেতনের অর্থাৎ প্রাইমারি স্কুলের পক্ষে অত্যন্ত অনুপযুক্ত। দেবিকা হেসে বললেন, ”মাসিমা, দশটার পর এসে বড়বাড়ির হেডমাস্টারের সঙ্গে দেখা করুন।” প্রাথমিক স্কুলের টালির চালের তিনখানি ঘরকে বলা হয় ছোট বাড়ি আর তার পঞ্চাশ গজ দূরের দোতলা মাধ্যমিক স্কুলটিকে বলা হয় বড়বাড়ি।
”না, না, আমি কালীকে বড় স্কুলে নয়, এখানে ভর্তি করাব বলেই এনেছি।” সুলতা ব্যস্ত হয়ে বললেন।দেবিকা কপাল কুঁচকে জানতে চাইলেন, ”বয়স কত?” উত্তরে যা শুনলেন তাতে চেয়ার থেকে ওনার পড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু পড়লেন না। কেননা উনি খুব শক্ত ধাতের মহিলা, তবে টেবিলের কোনা চেপে ধরে বিস্ফারিত চোখে শুধু বললেন, ”আপনার নাতির বয়স ছয়।”
সুলতাও অবাক স্বরে বললেন, ”হ্যাঁ, ছয়। আমি ওর বাথ সার্টিফিকেট সঙ্গে করে এনেছি। কালী তো জন্মেছে এখানেই, এই তো আমাদের মিনিসিপ্যাল হাসপাতালে। মেয়ের পেট কে*টে ওকে বার করতে হয়েছিল। যমে মানুষে সে কী টানাটানি! ডাক্তারবাবুও খুব শক্তপোক্ত ছিল, যম একদম সুবিধে করতে পারেনি। একমাস পর জামাই এসে মা—ছেলেকে সুন্দরবনের মৌসুনীতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়।” বলতে বলতে সুলতা ধান্যকুড়িয়া মিউনিসিপ্যালিটির ���েওয়া বার্থ সার্টিফিকেট কাগজটা খাম থেকে বার করে এগিয়ে দিলেন।
দেবিকা তিনবার জন্মতারিখটা দেখে মনে মনে দ্রুত একটা অঙ্ক কষে ফলটা বার করে নিলেন, কালীর বয়স আজ ছ’বছর দুশো দশ দিন। আড়চোখে ঘরের বাইরে দাওয়ায় মাদুরে—বসা পাঁচ ছয় বছরের ছেলেমেয়েদের একবার দেখে নিলেন তিনি। বিস্ময়ের ধাক্কাটা সামলে শক্তধাতের বড়দিদিমণি এবার কৌতূহলী হয়ে পড়লেন।
ছেলেটির নাম জিজ্ঞেস করলেন। দেবিকা একটু কানে কম শোনেন তাই ছেলেটির নাম শুনে অবাক হয়ে বললেন, ”কালী কিং কং? অদ্ভুত পদবি তো।” সুলতা দ্রুত ভুল শুধরে দিলেন, ”না গো বড়দিমণি, কিং কং নয়, কিং কং নয় কিঙ্কর, কালীকিঙ্কর ঢালি। বাবার নাম শিবশঙ্কর ঢালি।” নাতিকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে সুলতা রীতিমতো বাসায় কালীকে পড়াতে মাস্টার রাখলেন। এই অদ্ভুত ছেলেটিকে পড়াতে এলো পাশের পাড়ার ”সুধন্য হালদার। ডাক নাম ধানু"। খুব ভাল ছেলে বড়বাড়িতে ক্লাস টেনে পড়ে। খুব গরিব। কয়েকটা টাকা পেলে ওর খুব উপকার হয় এটা স্কুলের শিক্ষিকা রাধারানীর অভিমত। তিনি নিশ্চিত করলেন ধানু খুব যত্ন করে কালীকে পড়াবে।
কালীকে সুলতা মানুষ বানানোর জন্য লেখাপড়া শেখাতে নিজের কাছে নিয়ে এলেন ডা*কাত বাপের নজর থেকে দূরে। নাতিকে স্কুলে ভর্তি করে লেখাপড়ার জন্য বাড়িতে মাস্টারও রাখলেন কিন্তু এই অদ্ভুত উচ্চতার জন্য কালীর ভাগ্যে এরপর দুর্ভোগ ঘটে কী না এটাই বড় চিন্তার কথা। কারণ সবাই ওর উচ্চতা দেখে ওকে বড় মানুষ ভাবে। ছোট বাচ্চারা যারা ওর বয়সী তারা ওর সাথে মিশতে চায় না। স্কুলের দেবিকা ম্যাডামের শোনা সেই কিং কং পদবীটা যেন কালীর আসল নামের সাথে বসে গেল। উচ্চতা অস্বাভাবিক তবে বয়সে, মনের দিক থেকে ওই শিশুটিকে কী সবাই হাসির খোরাক বানিয়ে ফেলবে?
🥎পাঠ প্রতিক্রিয়া🥎
"ধানকুড়ির কিং কং" মতি নন্দীর লেখা কিশোর উপন্যাস। আমি তো বলবো একদম পিওর কিশোর উপন্যাস। কারণ এখানে আপনি বড়দের কিছু পাবেন না। বরং এই বইয়ে বড়দের বুদ্ধিসুদ্ধি খানিক কম। শিশুদের জন্য এই বইটি হবে দারুন উপযোগী। আর মতি নন্দীর লেখা সবসময়ই ভালো লাগে কারণ কিশোর উপন্যাসে উনি সব বইয়ে চেষ্টা করেছেন ভাষা বেশ সহজ ও প্রাঞ্জল রাখতে।
কালীকিঙ্কর ঢালী ওরফে কালীর কথা যদি বলি তাহলে বলবো কালীর অস্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি হয়তো কোনো জিনগত সমস্যা হতে পারে কিন্তু কালীর মেধা দারুন। ছেলেটির স্মরণশক্তি অসাধারণ। যেকোনো কিছু খুব সহজে মনে রাখতে পারে। লেখাপড়া শেখাতে তাই ধানুর কষ্ট করতে হয়নি বেশি। আবার ওর মনটা কোমল একদম। বনের পশুপাখিদের জন্য ছেলেটির মায়া। কুড়িয়ে পাওয়া আ*হত পাখি কিংবা একটি ছাগল ছানার জন্য ওইটুকু ছেলের সহানুভূতি দেখার মতো।
কিন্তু আমাদের সমাজে মানুষের স্বভাব হচ্ছে কারো কোনো দূর্বলতা পেলে সেটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা। কালী অস্বাভাবিক লম্বা। তাতে ওই ছেলেটার কী দোষ? সে কী কোনো দৈ*ত্য নাকি গল্পের সেই কিং কং গরিলা? কেন তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে ওইটুকু ছেলের মনটায় আ*ঘাত করা হচ্ছিল বারবার? সুলতাকে ভালো লেগেছে তিনি নাতিকে লেখাপড়া শেখাতে চেষ্টায় ত্রুটি রাখেননি। মানুষের বাজে কথা তিনি গায়ে মাখেন না। একবার যখন তাই মাধ্যমিক স্কুলের হেডমাস্টার কালীকে স্কুলে যেতে নিষেধ করেন অস্বাভাবিক উচ্চতার জন্য তখন নাতির জন্য সুলতা প্রতিবাদ করেছেন।
ধানু কেও সহানুভূতিশীল হতে দেখি আমরা কালীর প্রতি। ধানুও কখনো কালীর অস্বাভাবিক উচ্চতা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করেনি। বরং কালীকে সবসময় সাহায্য করেছে। একসময় স্কুলের জন্য কালী কি কম সম্মান বয়ে এনেছে? তবে এই ছোট্ট শিশুটির প্রতি সবার বিরূপ মনোভাব কেন?
সব শিশুর মাঝেই গুন থাকে। শুধুমাত্র অস্বাভাবিক উচ্চতার জন্য কালী অসম্মানিত হতে পারে না। মতি নন্দী গোটা উপন্যাস লিখবেন আর খেলাধুলার প্রসঙ্গ আসবে না সেটা কী হয়! এই বইয়েও কিন্তু আছে। তবে কোন খেলা সেটা বললাম না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো বইটি কিশোর উপন্যাস হিসেবে উপভোগ্য ছিল।
আমি প্রচুর কিশোর উপন্যাস পড়ি বলে আমার তো দারুন লেগেছে। মতি নন্দীর লেখা অন্যান্য বইয়ের তুলনা করলে মোটামুটি তবে পিওর কিশোর উপন্যাস হিসেবে শিশু কিশোরদের হাতে তুলে দিন বইটি।