Moti Nandi was a sports journalist and worked as a sports editor in Anandabazar Patrika. He was awarded the Lifetime Achievement award (2008) at a glittering ceremony to mark the grand finale of the maiden edition of the Excellence in Journalism Awards.
In his novels, he is noted for his depiction of sporting events and many of his protagonists are sports-persons. His first short story was published in Desh weekly on 1957. His story for Pujabarshiki was in Parichoy Magazine on 1985.
স্পোর্টস ফিকশন পড়ার আগে ভেবেছিলাম ঘুরেফিরে হয়ত প্লট একইরকম হবে। কিন্তু ভুলটা ভেঙেছে দুটো তিনটে পড়ার পর। স্ট্রাইকার মীরের চ্যানেলে শুনে আগ্ৰহটা প্রথম হয়। এরপর কোনি, বুড়ো ঘোড়া পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। স্পোর্টস বিষয়ক সিনেমা মোটামুটি সবাই কমবেশি দেখে। এটা তাই সবাই জানে এতে একটা ইন্সপায়ারিং স্পিরিট থাকে, অমানুষিক পরিশ্রম আর লাইফ-স্ট্রাগল থাকে। আরও যেটা থাকে সেটা বইয়ের পাতায় তুলে ধরার চেয়ে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সহজ মনে হয়। ম্যাচ চলাকালীন চিত্রটার কথাই বলছি। মতি নন্দী স্পোর্টস দুনিয়ার লোক, খুঁটিনাটি তথ্য যেমন দিয়েছেন বইগুলোতে তেমনি ম্যাচের টানটান উত্তেজনার টানাপোড়েন এমনভাবে লিখেছেন যে কানে একজন ধারাভাষ্যকারের ভয়েসের মতোই বাজে। চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ননীদা নটআউট খুব ছোট একটা গল্প। এটা অন্যগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রম এর ফার্স্টক্লাস কমেডির জন্য। একটা ছোট ক্লাবের স্ট্রাগল তুলে ধরেছেন কমেডির মাধ্যমে। বইটা হাসাবে আবার একটু কাঁদবেও।
এই লেখক অসাধারণ একটা জিনিস (!), খেলাধুলাকে ( ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার) অবলম্বন করে এত অসাধারণভাবে লিখতে পারেন যে অবাক হতে হয়। এই বইটাও সুন্দর একটা বই। দ্বিতীয় ডিভিশনের একটা ক্রিকেট দলের ক্রিকেট যাত্রার দারুণ একটা বর্ণনা আছে এখানে। ননীদার ননীটিক্স আর সভাপতি ধরার জন্য আয়োজিত খেলার বর্ণনা পড়ে এত হেসেছি যে বলার বাইরে। শেষটা আবার বেশ ইমোশনালও ছিল। সবমিলিয়ে রিফ্রেশিং একটা বই।
স্পোর্টস ফিকশন আমার অনেক পছন্দের একটা জনরা। আর সেটা মতি নন্দী লিখলে তো কথাই নেই। কারণ মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশনে থাকে জীবনের কাছে হেরে যাওয়া মানুষদের গল্প, ফিরে আসার গল্প, জীবনের গল্প। ননীদা নটআউট হয়তো উনার সেরা কাজগুলোর মধ্যে থাকবে না। এই উপন্যাসে কলকাতার দ্বিতীয় বিভাগের একটা ক্লাবের দুর্দশা দেখানোর চেষ্টা করেছেন উনি, সেইসাথে রয়েছে হাস্যরস। তবে এর মাঝেই উঠিয়ে এনেছেন ক্লাবের জন্য সবকিছু বিলিয়ে দেয়া ননীদার ক্রিকেট দর্শন। যে ননীদা শেষমেষ খেলার মাঠে আউট হয়েও জীবনের মাঠে নটআউট রয়ে যান।
ক্রিকেটের ট্রিকস, স্ট্র্যাটেজি, আইন আর তার সাথে সেকেন্ড ডিভিশনের একটা টিম, ক্রিকেট ক্লাব অফ হাটখোলার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, ট্রেজারার, সিলেকটর, স্কোয়ার, মালী, সাবস্টিটিউট ফিল্ডার, ক্যাপ্টেন প্রভৃতিকে একত্রে একটি লোকের মধ্যে ভরে দিলে যা হয়, উনি ননীদা। বাংলায় খেলাধুলা নিয়ে এমন গল্পের নাম মনে করতে গেলে সেই ছোটোকালের "ক্রিকেট মানে ঝিঁঝি পোকা" ছাড়া আর অন্যকিছুর নাম এতদিন মাথায় আসতো না।লেখকের নাম এর আগেও অনেক শুনেছি, কিন্তু কোনও বই পড়া হয়ে ওঠেনি। নিজে স্পোর্টস জার্নালিস্ট বলেই মতি নন্দী এমন করে লিখতে পারতেন হয়তো; সাথে ক্রীড়াঙ্গনের প্রচলিত বিভিন্ন প্রথা ও রাজনীতি (বইটিতে 'ননীটিকস' হিসেবে আখ্যায়িত) হাস্যরসাত্মকভাবে ফুটে উঠেছে।
"উই ডোন্ট প্লে ফর ফান। ক্রিকেট একটা আর্ট, আয়ত্ত করতে সাধনা লাগে। দুরকমের ক্রিকেটার হয়, একদল ব্যাটকে কোদাল ভাবে, বাকিরা ভাবে সেতার। একদল কুলি, অন্যরা আর্টিস্ট"
সি সি এইচ অর্থাৎ ক্রিকেট ক্লাব অফ হাটখোলার একজন সদস্য হলেন ননীদা। সদস্য বললে ভুল হবে, বলতে হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য এই ননীদা 😐 ননীদা যে রূপে দেখা যাবে তা বোঝাতে হলে, প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, ট্রেজারার, সিলেকটর, স্কোরার, মালী, সাবস্টিটিউট ফিল্ডার, ক্যাপ্টেন প্রভৃতিকে একত্রে একটি লোকের মধ্যে ভরে দিলে যা হয়, উনি তাই। তার মুখের উপর কথা বলতে পারে এমন মানুষ ঐ ক্লাবে নাই।। তো উনি খেলোয়াড় বাঁচাই করেন, ট্রেনিং করান, খেলেন।। অল্প কিছু বল, হাতেগোনা কয়েকটি ব্যট-প্যাড নিয়ে কিভাবে এই গরীব ক্লাবটিকে সামলান ননীদা, কিভাবে খেলোয়াড়দের inspired করেন, কিভাবে ট্রেনিং করান,, তা জানতে গেলে যেমন হাসবেন, তেমন কষ্টও লাগবে কিছু অংশে..... এভাবে ননীদাকে নিয়ে, খেলার মাঠের বেশ কিছু অংশ নিয়ে, ট্রেনিং নিয়ে এগিয়ে যাই এই ছোট গল্পটি
আমি বরাবরই ক্রিকেট বেশি দেখি, তুলনামূলক বেশি বুঝি। তো মতি নন্দীর বেশ কয়েকটা বই পড়া হলেও ক্রিকেট নিয়ে উনার কোনো উপন্যাস পড়া হয়নি।। তাই এই ৫০ পৃষ্ঠার পিচ্চি বইটি পড়ে ফেললাম...
এই গল্পের লেখাতে হাস্যরস বেশি ছিল।। খেলার মাঠের কিছু কিছু অংশ বেশ হাস্যকর ছিলো। মানে একদম মন ভাল করে দেওয়ার মতো বই।। কিন্তু গল্পটা যেন দ্রুত শেষ হয়ে গেলো, আরেকটু দীর্ঘ হলে হয়তো আরো ভালো লাগতো। তবে যেটুকু হয়েছে তাতেই তৃপ্তি পেয়েছি.... আর ক্রিকেট মোটামুটি বুঝি বলেই মজাও পেয়েছি ঢের। ক্রিকেট নিয়ে মজাদার একটি ক্লাবের গল্প নিয়ে হাস্যরসে ভরা বইটি পড়ে দেখতে পারেন......
"জিততে হলে সব কিছু করতে হবে। ভদ্রতা করলে কোনও কিছুতেই জেতা যায় না, এই কথাটা বরাবর মনে রাখবে"
স্পোর্টস অ্যাকশানের বর্ণনা নিখুঁত হলেও এটাতে আবেগটা কম ছিলো। আর 'স্টপার' এর মত ক্ল্যাইম্যাক্সও এখানে অনুপস্থিত। সবমিলিয়ে 'চলে' কিন্তু মনে দাগ কাটার মত হলোনা।
আগের রাত্রে 'বুড়ো ঘোড়া' আবার পড়ার পরেই 'ননীদা' আবার পড়ার ইচ্ছে হয়। গল্পদুটোর ট্র্যাক তো মোটামুটি এক .... যখন মতি নন্দী 'ননীদা নট আউট' লিখছেন, তখন তিনি সবে চল্লিশে পড়েছেন। লেখায় দারুন সুন্দর একটা লাইটনেস অভ টাচ দেখবেন - ফুরফুরে, আশাবাদী। কী সাংঘাতিক হিউমার! কে বলে মতি নন্দীর চরিত্রেরা শুষ্কং কাষ্ঠংশুশকং কাশঠ্যং*। ননীদার সমান্তরাল চরিত্র তন্ময় খুব'ই স্পর্ধিত, কিছুমাত্রায় বিদ্রোহী - তার এবং লেখকের চোখ দিয়েই আমরা ননীদাকে দেখছি। আর তাদের চোখে দেখা ননীদা যেন একজন ম্যাজিকের চরিত্র - মুগ্ধ হয়ে দেখার মতো ছোট লীগের এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র। কিন্তু এ দেখা একটু দূর থেকে দেখা। বুড়ো ঘোড়ায় শুভ্র সমরও হয়তো এভাবেই জহর পালকে দেখে, কিন্তু সেটা দেখা যায়না, কারণ সে গল্পের সবটাই জুড়ে আছেন জহর পাল - তাঁর চোখ দিয়েই আমরা দেখছি ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণ, কর্তাদের দুর্নীতি নীচতা, আবার এই জেনারেশনের ক্রিকেটার সমর শুভ্রদের বিচক্ষণতা ভালো জিনিসটাকে চিনে নেয়ার। মতি নন্দী বুড়ো ঘোড়া লিখেছিলেন জীবনের সায়াহ্নে, মধ্য ষাটে।
(স্পয়লার অ্যালার্ট) দুটো গল্পের শেষগুলো দেখুন। একটার শেষে ননীদা ঘাড় ধরে তন্ময়কে নেটে নিয়ে যান, আর শ্যাডো করে দেখতে থাকেন ফ্রন্ট-ফুট ডিফেন্স কেমন করে হবে .... আর অন্যটায়, যখন তাঁর ব্যাটিং পার্টনার যুবককে কাঁধে নিয়ে সবাই লাফালাফি করছে, তখন জহর পাল অন্যদিকে থেকে তাদের দেখে হালকা করে হেসে বলেন - বাঃ এই তো ভালো। মধ্যপঞ্চাশের জহর পালই যে মধ্যষাটের মতি নন্দী।
*আপনাদের কীবোর্ডে এই যুক্তাক্ষরটা ঠিক ভাবে লেখা যায়? আমারটায় যায় না।
ক্রিকেট সম্পর্কে আমার জ্ঞান পাঠ্যবইয়ের খেলাধুলা চ্যাপ্টারটা পর্যন্তই। সে হিসেবে আমি ক্রিকেটের "ক"ও বুঝি না। শুধু ক্রিকেট সম্পর্কিত কিছু উপকরণ, নিয়ম, অবস্থানের নাম আমার পরিচিত। টেনিদা, ঘনাদা, ঋজুদা, ফেলুদা সব পড়া শেষ করে আজকে হুট করেই মাথায় আসলো বাংলাসাহিত্যে এমন আর কোন কোন 'দা' আছে? একজন জানালো ননীদার কথা। পড়ে ফেললাম। লেখকের লেখার ধরণ এতো ঝরঝরে! একটানা পড়ে গেছি। ক্রিকেট সম্পর্কে এতো কম জ্ঞান নিয়েও আমার যেহেতু ভালো লেগেছে তাই এটা বলতেই পারি যারা ক্রিকেট বুঝে, ক্রিকেট ভালোবাসে এ বই তাদের ভালো লাগবেই! লাগতে বাধ্য!
সেকেন্ড ডিভিশনের একটা ক্লাব। ননীদা একাধারে সে ক্লাবের কোচ, ক্যাপ্টেন, সিলেক্টর এবং কর্তাব্যাক্তি। বলা যায় ননীদার কারণেই সে ক্লাবটা টিকে আছে। সে ক্লাবেরই একজন খেলোয়াড়ের মুখে বর্ণিত হয়েছে ননীদার কাণ্ডকারখানা। বেশিরভাগ গল্পই হাসির জোগান দেয়। খেলার সাথে যেহেতু আবেগ জড়িত তাই কিছু গল্পে সেই অনুভূতিও উপস্থিত। আহামরি কিছু নয়, তবে পড়তে খারাপ লাগেনা।
ইংরিজিতে যাকে বলে জেইম অভ আ বুক, এটা ঠিক তাই। বাংলাতে খেলাধুলা নিয়ে লেখার ব্যাপারে মতি নন্দীর ধারেকাছেও কেউ এখনো নেই, এই বইটা সেটার আরেকটা প্রমাণ। সেই থোড়-বড়ি-খাড়া মহা সংগ্রাম করে জিতে যাওয়া প্রটাগনিস্টের চরিত্র যে তার বইতে থাকে না তা না, কিন্তু তার চেয়েও অনেক বেশি থাকে মাঠ-ময়দানের একদম বাস্তব চিত্র। বাংলাদেশের ছোট ক্লাবগুলোর অবস্থা এই টি-টোয়েন্টির টাকার ঝনঝনানির মাঝেও দিন আনি দিন খাই টাইপেরই, সেখানে টিকে থাকার জন্য ননীদা'র 'ননীটিকস'-এর কোন বিকল্প নেই। ক্রিকেট যারা ভালবেসে খেলেন ও দেখেন, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
ক্রিকেট সিজনের শুরুতেই সি সি এইচ—এর অর্থাৎ ক্রিকেট ক্লাব অফ হাটখোলার নেট পড়ে মহামেডান মাঠের পাশে, মেম্বার গ্যালারির পিছনে। চার শরিকের মাঠ। সি সি এইচ দেয় বছরে চারশো টাকা। হেড মালী দুর্যোধন মহাপাত্র। পূজা শেষ হলেই মাঠের মাঝে একখণ্ড জায়গার চারকোণে বাঁশ পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘিরে দেয়। জল ঢেলে আর কয়েকদিন রোলার টেনে দলাই—মলাই করে, দুর্যোধন যখন সগর্বে ঘাসবিহীন পাথুরে পিচের দিকে হাত তুলে বলল, ‘কী একখানা পিচো বনাইছি দেখ ননীবাবু, লরি চালাই দাও কিছু হবেনি।”
তখন ননীদা গম্ভীর থেকে আরও গম্ভীর হয়ে উঠলেন। তারপর খুব ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ”ক্রিকেট লরি—ড্রাইভারদের খেলা নয়, দুর্যোধন।” ”মো কি সে কথা বলিছি। গত বৎসর আপোনি বলিলেন, কড়া ইস্তিরি—করা শার্টের মতো পেলেন পিচ না হলি ব্যাটোসম্যান স্টোরোক করি খেলবি কেমনে? তাই এবছর ইস্তিরির মতো করি রোলার টানিছি।”
”ক্রিকেট ধোপাদেরও খেলা নয়, দুর্যোধন।” দুর্যোধন একটু ঘাবড়ে গেল ননীদার আরও ঠাণ্ডা গলার স্বরে। ক্ষুণ্ণ হয়েই সে বলল, ”গত বৎসরের আগের বৎসরো বলিলেন, কী পিচ বনাইছিস, এ যে খেতি জমি, ধানো ছড়াই দিলি গাছো হই যিব।” ”ক্রিকেট চাষাদেরও খেলা নয়, দুর্যোধন।”
এবার দুর্যোধন ভ্রূ কুঁচকে বিরক্ত চোখে ননীদার ভাবলেশহীন মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ”কিরিকেট তবে কারা খেলে?” ”ভদ্রলোকেরা।” ননীদা আকাশবাণী ভবনের গম্বুজ থেকে শহিদ মিনারের ডগায় উদাস চাহনিটাকে সুইপ করে নিয়ে গেলেন। ”পিচ হবে স্পোর্টিং, বোলার আর ব্যাটসম্যানকে ফিফটি—ফিফটি সুযোগ দেবে।”
তো এই ভদ্রলোকের খেলায় ননীদা এতটা বছর ধরে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ননীদা গত বছর পর্যন্ত ক্লাবের ক্যাপ্টেন ছিলেন। কত বছর ছিলেন সেটা কারো পক্ষে খাতাপত্তর না দেখে বলা শক্ত। সম্ভবত সিকি—শতাব্দী। বারো বছর মাত্র এই ক্লাবে আছেন লেখক। তার মধ্যে ননীদাকে যে রূপে দেখেছেন তা বোঝাতে হলে, প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, ট্রেজারার, সিলেকটর, স্কোয়ার, মালী, সাবস্টিটিউট ফিল্ডার, ক্যাপ্টেন প্রভৃতিকে একত্রে একটি লোকের মধ্যে ভরে দিলে যা হয়, উনি তাই। ওঁর মুখের উপর কথা বলতে পারে বা ওঁর কথা অগ্রাহ্য করার সাহস দেখাতে পারে এমন কাউকে এখনও সি সি এইচ—এ দেখেনি কেউ। অনেককে গাঁইগুই করতে শুনেছে কেউ কেউ, কিন্তু আড়ালে। দুর্যোধনের পোষা নেড়িকুত্তাটা পর্যন্ত ননীদার গলার আওয়াজ পেলে লেজটাকে নামিয়ে সরে যায়।
মনে রেখো মতি, এবছর তুমি সি সি এইচ—এর ক্যাপ্টেন। তোমাকে ট্যাক্টফুল হতে হবে।” লেখককে এভাবেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন ননীদা।
সবিনয়ে ঘাড় নেড়ে লেখক বললেন ”নিশ্চয়। তা ছাড়া আপনি তো আছেনই, দরকার পড়লে পরামর্শ নিশ্চয় করব।” খুশি করার জন্য কথাগুলো বলেননি লেখক। বিপদে ননীদাকে সত্যিই দরকার হবে। ননীদার ট্যাকটিকস, যাকে সবাই ‘ননীটিকস’ নামে আড়ালে অভিহিত করে, কতবার যে সি সি এইচ—কে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে তা লিখতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে।
ক্রিকেট ক্লাব অফ হাটখোলার অবস���থা খুবই শোচনীয়। বলা যায় একদম গরীব ক্লাব। প্লেয়ারদের ব্যাট, গ্লাভস, এমনকি ঠিক করে বল কিনে দেয়ার মতো টাকা জোটে না। ক্লাব চলছে বড় বড় ধনীদের অনুদানে। অর্থবান, যশোলোভী, ঈষৎ বোকা ধরনের, তোষামোদপ্রিয় লোক খুঁজে বার করে, তাকে নানানভাবে জপিয়ে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে (ননীদা বলেন, ‘ট্যাকটিকস প্রয়োগ করে’) মোটা টাকা আদায় করার দায়িত্ব ননীদাই এতকাল বহন করে আসছেন। এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই টাকার উপরই ক্লাবের জীবন—ম রণের অর্ধেক নির্ভর করে।
ক্লাবের নতুন প্লেয়ার তন্ময় একটু গোঁয়ার ধরনের। ননীদাকে ঠিক মানতে চায় না। দেখা যাক ম্যাচগুলোতে। তবে সবকিছু একা হাতে সামলে এই মানুষটি এখনো ছেলেপুলেদের ক্রিকেট খেলা শেখান নেটে হাতে ধরে। সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ননীদা কী পারবেন এই ক্রিকেট ক্লাব অফ হাটখোলাকে টিকিয়ে রাখতে? সংসার জীবনে বউ গত হয়েছেন আরো দশ বছর আগে, নিঃসন্তান মানুষটি ক্রিকেটে আজীবন কী নট আউট থাকতে পারবেন মাথা উঁচু করে?
🍡পাঠ প্রতিক্রিয়া🍡
"ননীদা নট আউট " এই বইটি কিশোর উপন্যাস হলেও আমার বেশ ভালো লাগলো। মতি নন্দীর লেখা আগেও পড়া হয়েছে। ওনার বই থেকে তৈরি হয়েছে সিনেমাও। একজন ক্রিড়া সাংবাদিক হবার সুবাদে তিনি খেলা বিষয়ক বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছেন। এই বইটিকে আমি বলতে পারি খেলোয়াড়ি জীবন নয় বরং একজন শিক্ষকের গল্প, হাতে ধরে যিনি গড়ে তোলেন আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। নিজেও খেলেছেন তবে খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকে এখনো প্যাড, গ্লাভস, ব্যাট তুলে রাখেননি। এখনো ক্রিকেট তার ভালোবাসা। এরকম অসংখ্য কারিগর আড়ালে রয়ে যান। যাদের থেকে শিখে তৈরি হয় আগামী দিনের অসংখ্য প্রতিভা। কেউ তাদের মনে রাখে, কেউ রাখে না। তবুও বলা যায় তারা নট আউট। জীবন এবং ক্রিকেট দুই জায়গায়।
ভালো লেগেছে বইটি এবং মতি নন্দীর বই মানেই এখানে ভাষাগত প্রয়োগ কখনোই তেমন খটমটে মনে হয়নি। এবং চরিত্রগুলো নিয়ে তিনি সমানভাবে কাজ করেছেন। তুলে ধরেছেন কোন ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা হতে পারে। এবং মতি নন্দীর খেলাধুলা বিষয়ক লেখাগুলো পড়লে আসলে সেই ক্রিকেট হোক বা ফুটবল একটা জীবন্ত ছবি যেন কল্পনায় ভেসে আসে।
আমি মতি নন্দীর লেখা সবসময়ই পছন্দ করি। খেলা বিষয়ক ছাড়াও ওনার আরো বিখ্যাত বই রয়েছে। পড়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।
বই শুরু করার আগে ভেবেছিলাম পারার কোন দাদা বুঝি নটআউট থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে এসেছে। শুরু করে ভুল ভাঙ্গে। এই গল্প সি সি এইচ ক্লাবের কোচ, ম্যানেজার, খেলোয়াড় সব চরিত্রের মালিক `ননীদা'।
ক্রিকেট পাগল এক মানুষের ক্লাবকে টিকিয়ে রাখতে নানারকম ট্যাকটিক্স ( ননীটিক্স) করতে দেখা যায়। যা হাসির খোঁড়াক জোগায়। এই ননীটিক্সের মাধ্যমে কতো অদ্ভুত রকমের ম্যাচ যে বের করে নিয়ে আস ননীদা!
কাছথেকে ক্লাব ক্রিকেট দেখা মানুষ জনের একটু বেশি ভাল লাগবে।
লেখকের লেখাটায় কোথায় যেন একটা ছন্দ; একটা প্রাণময়তা আছে। মেদহীন গল্প যাকে বলে আরকি। চাইলেই হুমায়ূনীয় কায়দায় গল্পটাকে রাবারের মতো লম্বা করা যেত। কিন্তু, তাতে গল্পের মানও কমে যেত। লেখকের আরও বই পড়ার ইচ্ছা আছে।