নুলিয়াছড়ির পর আবার ফিরে এলো আবির, বাবু, ললি আর টুনি। নেলি খালা আর মেজর জাহেদ তাদের নুলিয়াছড়ির বিশাল বাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশের আরেক প্রান্ত, পাথারিয়ায় এসে থিতু হয়েছেন। যথারীতি আবির বাবুরাও ছুটিতে বেড়াতে এলো ওদের বাড়িতে। কিন্তু রহস্য কি ওদের পিছু ছাড়ে? বর্ডারের কাছে ঐ লাল পাহাড়, যার হৃৎকম্পন শোনা যায়। অতৃপ্ত আত্মার হৃৎকম্পন? বর্ডারের ওপার থেকে মধ্যরাতে দেখা যায় আলোর সংকেত। এর মাঝখানে চুরি গেল সার্ভে টীমের মূল্যবান ম্যাপ। গোটা দেশের লাভ ক্ষতির হিসেব নিকেশ জড়িত এর সাথে। প্রশ্ন হল পুরনো পাপী নিকুঞ্জ পাকড়াশীই কি জড়িত নাকি অন্য কোন শক্তির ইন্ধন আছে এর পেছনে?
Shahriar Kabir (in Bengali: শাহরিয়ার কবির) is a Bangladeshi journalist, filmmaker, human rights activist and author. His books focuses on human rights, communism, fundamentalism, history, juvenile and the Bangladesh war of independence.
আবির-বাবুদের নুলিয়াছড়ির অ্যাডভেঞ্চার ছিল গড়পরতা কিশোর অ্যাডভেঞ্চার গল্পের চেয়ে অনেক বেশি জমজমাট আর থ্রিলিং। ওটা পড়ার দুবছর পরে ওইরকম রোমাঞ্চকর স্বাদের জন্যই এর কাছে ফিরে আসা। কিন্তু সেটার তুলনায় পাথারিয়ায় যেন কিছু নেই বললেই চলে। তবে পড়তে আরাম। আবার পাকড়াশীর আতঙ্ক নিয়ে শুরু হলেও প্রথম অর্ধেকর বেশি জুড়ে নেলী খালা আর জাহেদ মামার বিয়ের হুড়োহুড়ির মজাদার গল্প আর পরেরটুকু সাসপেন্সে ভরা।
আবীর বাবুর আগের বইটার তুলোনায় এই বইটা কিন্তু আরো ভালো লেগেছে। কিশোর উপন্যাসে যা যা থাকা প্রয়োজন তার সবটুকুই পরিমিত পরিমাণে আছে। একেবারে বাচ্চাদের উপন্যাস হয়ে যায় নি। আগে পড়িনি বলে একটু খারাপ লাগলেও সামনে উনার আরো অনেক বই পড়া বাদ আছে ভেবে খুশী লাগছে :) । এবার ও যথারিতী আবীর বাবু আর ললি, টুনীর পেছনে পেছনে গিয়ে হাজির হয়েছে রহস্য। সিলেটের পাথারিয়ায় এবারের কাহিনী। এমন এক লাল পাহাড় যার ভেতর থেকে শোনা হার্টবীট, আর সাথে সাথে ঐ পাকড়াশী শয়তানটা তো আছেই। একশন একটু কম কম বলে মনে হলেও , কিছু হালকা হালকা রোমান্স দিয়ে সেই অভাব টা পূরণ হয়ে যাবে :p
আবির-বাবুদের নিয়ে লেখা দুটো বই-ই আমার সমান প্রিয়। দুটোকেই শাহারিয়ার কবিরের শ্রেষ্ঠ কিশোর উপন্যাস বলা চলে। ওনার প্রায় সবগুলো কিশোর উপন্যাসই পড়েছি কৈশোরে। চমৎকার লিখতেন তিনি, ছোটদের বই যেন একটু বড়দের মত করে। আমার প্রথম পছন্দের লেখক ছিলেন তিনি।
কাল আবির-বাবুদের অ্যাডভেঞ্চার ‘ নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় ‘ পড়ার পরই প্রথম জানতে পারি আবির-বাবুরা আরেকটা অভিযানেও সঙ্গী হয়েছে। তো বইটা এত বেশি ভালো লেগেছিল যে তখনই দ্বিতীয় বইটা ডাউনলোড করে পড়া শুরু করি। আবির-বাবু-টুনি-ললি, জাহেদ মামা/খালু(!), নেলী খালারা তো আছেই, আছে সেই নিকুঞ্জ পাকড়াশীও।
শুরুটা আগের বইয়ের ঠিক শেষ থেকে। জাহেদ মামা আর নেলী খালার বিয়ের ঘোষণা এখানে পূর্ণতা পেয়েছে, আবির-বাবুদের সাথে টুনি-ললিদের বন্ধুত্ব আরও পাকাপোক্ত হয়েছে, নিকুঞ্জ পাকড়াশী নিজের প্রভাব খাটিয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছে নেলী খালার জীবন। ফলাফল কক্সবাজারের নুলিয়াছড়ি থেকে বাসা গুটিয়ে নেলী খালাদের আশ্রয় নিতে হলো সিলেটের পাথারিয়ায়। বার্ষিক পরীক্ষার পর আবির-বাবু আর টুনি-ললিরাও যোগ দিল তাদের সাথে। পিছনে নিকুঞ্জ পাকড়াশী আর সামনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাঁপতে থাকা এক পাহাড়, তেলের খনি নিয়ে নানা মহলের ষড়যন্ত্র।
সত্যি বলতে নুলিয়াছড়ির মতো ঠিক জমে নি এবারের অভিযানটা। মূল অভিযানে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিতেই বইযের বেশিরভাগ অংশ ব্যয় করেছেন লেখক। অবশ্য সেটুকুও বেশ মজার ছিল কিন্তু নুলিয়াছড়িতে যে টানটান উত্তেজনা ছিল এখানে তার অভাব লক্ষ্যণীয়। আর শেষটাও ঠিক জমে নি, যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল। আর নিকুঞ্জ পাকড়াশীকে মহা-ভিলেন বানানোর একটা প্রচেষ্টাও রয়েছে যেটা ঠিক ভালো লাগে নি। লেখকের হয়তো আবির-বাবুদের নিয়ে আরও বই লেখার ইচ্ছা ছিল ( শেষটা পড়ে তেমনই মনে হলো) কিন্তু কেন যে আর লেখেন নি সেটাও এক রহস্য। তবে এই বই দুইটার মাধ্যমে দারুণ এক কিশোর ঔপন্যাসিককে আবিষ্কার করা হলো আমার। অনলাইনে সুলভ এমন আরও গোটা সাতেক বই ডাউনলোড করে রাখলাম পরবর্তীতে পড়ার জন্য।
নুলিয়াছড়ির মতই বড্ড সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা এই বইটাও।আবির, বাবু,ললি,টুনি আর স্ক্যাটরার সাথে এবার ঘুরে বেড়ালাম বড়লেখার পাথারিয়া অঞ্চলে। পাহাড়ে কিসের শব্দ? আলোর সংকেত দেয় কে? এগুলোর সাথে কি পাকরাশীর হুমকি দেয়া চিঠির কোন সংযোগ আছে? খুব খুব সুন্দর একটা বই। আমার মনে হচ্ছিলো ৯০এর দশকে চলে গেছি। চোখের সামনে ভাসছিল সবকিছু।
চমৎকার গল্প। একান্তই আপন লেগেছে প্রতিটি চরিত্র। ওদের জায়গায় যদি আপনার পাশের বাড়ির সাকিব কিংবা সাব্বির এই অ্যাডভেঞ্চার করে বাড়ি ফিরত, তাতেও অবাক হতে হতো না! ওরা এতটাই চেনা জানা বলে মনে হবে। লেখনী নিঃসন্দেহে চমৎকার। কাহিনীতে টুকিটাকি চমক ছিল। ভালই লেগেছে।
কিশোরদের উপযোগী বই মাত্রই এর নাম করা যায়। এর বেশি কিছু বলার প্রয়জন নেই সম্ভবত।
আবির-বাবু, ললি-টুনি থাকলে আর কিছু লাগে? আর তা যদি হয় শাহরিয়ার কবির এর বই! আবির-বাবু সিরিজের প্রথম বই "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়" কমপেক্ষ চার,পাঁচবার পড়েছিলাম। এর যে সিকায়েল ছিলো জানতামই না গত বছড়ের আগে। জানার পর অনেক খুঁজে বইটা সংগ্রহ করলেও পড়া হয়ে ওঠেনি কোন কারণে। নেলী খালার বিয়ে, পাকড়াশীর শয়তানি, আবির-বাবুর চিঠি নিয়ে কথোপকথন(এই জায়গায় মনে হয়েছিলো, ইশ! এখন আমাদের সময়ও যদি চিঠির প্রচলন থাকতো! ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে টপাটপ কথা বলে যাই বন্ধুদের সাথে, কোন আবেগ নাই, অথচ একটা চিঠি লিখার সময় কত না আবেগ দিয়ে লিখা হতো....), ললি-টুনির আগমন, টুটি-বাবুর দুষ্টমি, ললির....... আবিরের ভাবনা... প্রত্যেকটা বিষয় মন ছুয়ে গিয়েছে, মনে করতে ইচ্ছে করে প্রত্যেকটা ঘটনাই যে বাস্তব আর আমি আবির! যাহোক, আবির-বাবু সিরিজের আরো দুএকটা বই থাকলে মন্দ হতো না :(
'নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়ে'র বারো বছর পর আবির-বাবু-ললি-টুনির দল এবার পাথারিয়ায়।সময় চলে গেলেও তাদের বয়স রয়েছে আগের জায়গাতেই।বইয়ের চরিত্র হওয়ার এই এক সুবিধা,বয়সকে বাক্সবন্দী করে ফেলা যায়।
আবির-বাবুদের দ্বিতীয় এডভেঞ্চারে পাহাড়ের হৃৎকম্পন,রাতে সার্চলাইটের সিগন্যাল,রহস্যময় এক গুপ্তচর,নতুন আবিষ্কৃত তেলের খনি সব থাকলেও আগেরটার মতো জমে নি।আবির-বাবু-ললি-টুনিদের খুনসুটির সময়গুলোই বরং উপভোগ্য ছিলো।এডভেঞ্চারের বর্ণনা ছিলো তুলনামূলক ম্যাড়ম্যাড়ে।
শাহরিয়ার কবিরের আবির-বাবু সিরিজ কেন মাত্র দুইটা বইয়ে থেমে গেলো সেটা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা উচিত।আবির-বাবু সিরিজের সক্ষমতা ছিলো বাংলাদেশে তিন গোয়েন্দার মতো জনপ্রিয় হওয়ার।হতে পারলো না...আফসোস!
লেখকের বোধহয় আবির বাবুকে নিয়ে আরো লেখার ইচ্ছে ছিলো। কারন মূল শয়তান নিকুঞ্জ পাকরাশী কিন্তু গল্পের শেষে পালিয়ে যায়( স্পয়লার হইয়া গেলো)। কাজেই নেলী খালা, আবির, বাবু, ললী, টুনি এবং স্ক্যাটরার ওপর তার আক্রোশ কিন্তু শেষ হয় নি। এই বইটা যারা এখনো পড়ে নি, তারা পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর কিশোর উপন্যাস থেকে দূরে রয়েছে!
স্বাধীনতা পরবর্তী সত্তরের দশকের টিনএজারদের নিয়ে লেখা এই কিশোর উপন্যাস সিরিজের এই শেষ ভল্যুমটা (এবং অন্যগুলোও) যে প্রায় অর্ধশতক পরেও ঠিক ততোটাই রিলেটেবল, আর তা না হলেও সুখপাঠ্য- এখানেই তো একজন লেখকের জয়! শাহরিয়ার কবিরের সমস্ত কিশোর সাহিত্য আমার উল্টেপাল্টে পড়া, বিয়ে-জন্মদিন-অন্যান্য বড় উপলক্ষ্যে প্রিয়জনকে দেওয়া উপহার হিসেবে প্রথম পছন্দ এটা আমার! পাথারিয়ার খনি রহস্য ছিলো আমার সত্যিকারের প্রথম পড়া শাহরিয়ার কবিরের বই, কারণ নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় বইয়ের কাহিনী অবলম্বনে তৈরি নাটক সোনার পাহাড় দেখে ফেলেছিলাম এই বইটা হাতে পাবার বছর দুই আগে, তাই ললি টুনিদের সবাইকেই চিনতাম, কিন্তু তাদের অ্যাডভেঞ্চারের সম্পূর্ণ সঙ্গী হলাম এইবার! আমার সবচে চিত্তাকর্ষক লেগেছিলো প্রফেসর ইরফান হাবিবের চরিত্রটাকে। এরকম প্যাশনেট, তীক্ষ্ণধী, দূরদর্শী দাদু-নানু-আঙ্কেল-আন্টিরা আগে আমাদের আশেপাশে থাকতেন। তাদের দেখলে মনে হতো তারা শুধু তাদের কাজের বাইরে কিছু বোঝেন না, বাচ্চাদের দেখলে বিরক্ত হন, আর জিনিশপত্র এলোমেলো রাখেন, কিন্তু আসলে তাদের ভেতরের সংবেদনশীলতা, সতর্কতা, আর দূরদর্শিতার পরিচয় সঠিক সময়ে ঠিকই পাওয়া যেতো। এরকম মানুষেরা এখন আস্তে আস্তে আর্থসামাজিক চাপে হারিয়ে যেতে বসেছেন! I wish we could have more of them around us.
সিরিজের আগের বইয়ের মতো এই বইয়েও বইয়ের মূল চরিত্র আবির, বাবু, টুনি, ললি, নেলী খালা, স্কাটরাদের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া ভালো লেগেছে, কিন্তু দুর্বল ভিলেন এবং দুর্বল প্লটের কারণে দুটো বইই তাদের পটেনশিয়াল রিয়েলাইজ করা থেকে বেশ দূরেই ছিল। তবুও বেশ উপভোগ করেছি বই দুটোই, এটা পড়তে গিয়ে শেষের দিকে খারাপই লেগেছে এই ভেবে যে আর ললি, টুনি, আবির, বাবু, নেলী খালা, স্কাটরাদের নিয়ে পড়তে পারব না।
আবির বাবু ললী টুনি কে নিয়ে উপন্যাস যে এত দারুন হবে কে জানতো❓ আমি ওনার এই বইটা প্রথম পড়ি। এবং বই পড়ে বুজতে পারি আবির বাবু আর ললী টুনির আরও একটা এডভেঞ্চারাস কাহিনী আছে। সাথে সাথেে না পড়তে পারলেও এক দেড় বছর পরে আমার নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় পড়া হয়। এই বইটা আমার ভীষণ পছন্দের। কৈশোরবেলায় এটার চরিত্র নিয়ে কত আবেগ কাজ করতো। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ছিলাম। যারা ওনার এ দুটি বই কৈশোর বেলায় পড়ে নি। সত্যি বলছি ঠকে গেছে কিছুটা। আবীর বাবু ললী টুনি এবং নেলী খালা কে নিয়ে তাদের দুষ্ট মিষ্টি যে কাহিনি সেটা এত আপন লাগতো❗ 🌺 এ চরিত্র গুলি কৈশোরের ভালোবাসা। সত্যি ভাষায় বোঝাতে পারবো না 🌻
আবীর-বাবু-টুনি-ললি কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের দ্বিতীয় বই- বরাবরের মত ওদের সহচর তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কুকুর স্ক্যাটরা, নেলী খালা আর জাহেদ মামা। চরিত্রগুলোর মনোবিশ্লেষণ আর বর্ণনা গুণে ওদের জগতকে আরও আপন ও পরিচিত মনে হল, কাহিনীতেও বেশ টানটান জমজমাট ভাব লাগল (y) , আর পরিণতিটা- "শেষ হইয়াও হইল না শেষ"! তবে... "আমেরিকা জ্ঞানের রাজা আর কোরিয়ায় খায় বানরের মগজ ভাজা!"-এ ধরনের সূক্ষ্ম বর্ণবাদী ধারণা ব্যক্ত না করলে আরেকটু ভালো হত! :p :)