ধর্মবিদ্যার দৌড় পাঠ্যবই পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হলেও এ কথা অন্তত প্রায় সবাই জানে, হযরত মুহাম্মদ (স) এর জন্মের আগে আরবে ছিল আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। সামান্য কিছু নিয়ে ঝগড়া তাতেই বছরের পর বছর পার রক্তারক্তি আর যুদ্ধে যুদ্ধে। আইয়্যামে জাহেলিয়াত যুগের কথা বলে আসলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এখন যে কথা বলতে যাচ্ছি... না ইয়ে মানে আমি না, সুলেখক জাকির তালুকদার মহাশয় আর কি, সে হলো গিয়ে আরেক জগৎ। প্রখ্যাত কবি ইমরুল কায়েসের নাম শুনেছেন?
আমিও নিজেও জানতাম না অবশ্য :3 বেশ ক'দিন আগে জানতে পারলাম আরবি ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় এই ইমরুল কায়েসকে। তার কিছুকাল পরে হাতে এলো এই বই, চমকে গেলাম.. খাইসে! এ দেখি সেই ইমরুল কায়েসকে নিয়ে লেখা!! সম্মান, প্রতিপত্তি আর আভিজাত্যের সাথে মানানসই রকমের দেহসৌষ্ঠব, আবার তিনি কবিশ্রেষ্ঠ। স্বাভাবিকভাবেই মরুসুন্দরীগণ গণহারে ক্রাশ-ফাঁস খেয়ে এক্কেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। কবিও প্রায় প্লে-বই টাইপের 😛 তো ভালই যাচ্ছিল দিনকাল। এই ফুল-সেই ফুল করতে করতে কবিশ্রেষ্ঠ ক্রাশ খেলেন এক অসাধারণ সুন্দরী উম্মুল জুনদবের উপর। আর এই তরুণী শুধুমাত্র সুন্দরীই নন, বিদুষীও বটে! বুদ্ধিমতী জুনদব প্যাচ খেললেন এবারে। কবি প্রেম নিবেদন করায় সরাসরি বললেন তাকে পেতে হলে প্লেবয়গিরি ছাড়তে হবে। প্রেমে নয়, জেদের বশে রাজি হয়ে গেলেন কবিও। ব্যাস, আর যায় কই... ধুমধামে হয়ে গেল বিবাহ। কবি ভাবলো জিতে গেলাম, নায়িকাও ভাবল তাই। এদিকে হৃদয়ে ভাংচুর হয়ে গেল বাদবাকি সব মরুসুন্দরীর। কবির বিয়ের পরপর তিন তিন জন তরুনীর আত্মহত্যার সংবাদে আর বিবাহ পরবর্তী প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কেটে যাবার পর বোধোদয় হয় কবির। তখন তার মনে পড়ে আয়হায়! বিয়ে করে কি ভুলটাই না করলাম! মনে পরে যায় পুরানো প্রেমিকা উনায়জার কথা। ঘটনাক্রমে কবি-পত্নীও সেটা জানতে পারে, বোধোদয় হয় তারও, শালার কী একখান ভুল করে ফেললাম!
এ তো গেলো ইনডোরের কথা। এখন আউটডোরের দৃশ্যপটে ভিলেন না থাকলে কি হয়? ভিলেনও আছে, দরিদ্র কবি আল কামাহ। সে আবার জুনদবের প্রেমে পাগলপারা। আবার ইমরুল কায়েসের কবিতার প্রতিদ্বন্দ্বী। শুরু হয় ত্রিভুজ প্রেমের খেলা... ঈর্ষা, ঘৃণা, প্রেম-প্রতিশোধ আর শ্রেষ্ঠত্বকে কেন্দ্র করে সে এক অনন্য আখ্যান। ধু ধু করা বালির দেশ, আপাতদৃষ্টিতে বর্বর আরব বেদুইনদের কথামালা বা তাদের প্রেমোপাখ্যানই শুধু নয়.. প্রাক ইসলাম যুগে আরব দেশ ও তাদের রীতিনীতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম অর্থাৎ শুধুমাত্র অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের ছবি নয় বরং প্যাগান সংস্কৃতি, সূক্ষ্মরুচি আর আমুদে একটা জনপদের ছবি তুলে ধরেছেন লেখক জাকির তালুকদার।
বি.দ্র. আমার ফাজলেমি আর লেইম কথাবার্তাগুলো পড়ে বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। বইটা ভালো, কবিতাগুলোও। আর কবি ইমরুল কায়েস কেমন ছিলেন সেটা তো আর এখন জানার উপায় নেই, (বেশি ইচ্ছা করলে বই পড়ুন, গুগলের দ্বারস্থ হোন) লেখক মহাশয় যেমন করে তার গল্পের বর্ণনার সুবিধার্থে তুলে ধরেছেন, আমার রিভ্যুও সেইরকমই হয়েছে :3 কেউ আঘাত পেলে দু:খিত 😛