Ashutosh Mukhopadhyay (Bengali: আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, anglicised spelling of surname: Mukherjee ) was one of the most prominent writers of modern Bengali literature.
He was born on September 7, 1920 in Bajrajogini, Dacca (now Dhaka) as the fifth of ten children of a Bengali Brahmin couple, Paresh Chandra Mukhopadhyay and Tarubala Devi. Mukhopadyay graduated in commerce from Hooghly Mohsin College, then affiliated with the University of Calcutta. His first story was Nurse Mitra, published in the newspaper Basumati, which was later made into major movies (Deep Jwele Jai in Bengali and Khamoshi in Hindi). Bollywood films like Safar (1970) and Bemisal were also made from his novels.
ছয়শ পাতার মহাকাব্যিক উপাখ্যানের নাম 'সোনার হরিণ নেই'। চেয়ে না পাওয়ার যন্ত্রণা, পাওয়ার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষাকে পূরণের জন্য সোনার হরিণের খোঁজেই মূর্ত হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনি। যেখানে নর-নারীরা সবাই নিজেদের স্বপ্নকে হাতড়িয়ে বেড়ায়। সেই স্বপন কখন ভালোবাসার বেশে, কখনো মাতৃত্বের ছলে কিংবা নিত্যকার জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ছদ্মবেশে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে।
বাপী তরফদার কলকাতায় এসেছে। থাকছে এক অফিসের পিয়ন রতন বনিকের বস্তিঘরে। না, সে এই পর্ণকুটিরবাসী হতে চায় না। বাপী তরফদার চায় শুধু মিষ্টিকে। বানারজুলি জঙ্গলের বড়বাবুর ছোট্ট মেয়ে মিষ্টিকে চায়। এই মিষ্টির জন্যই তো বাপী রক্তাক্ত হয়েছিল। মিষ্টিকে তার পেতেই হবে। বাপী বিশ্বাস করে, 'রণেতে-প্রেমেতে নীতির বালাই নেই'। বালাই না থাকবার দরুন অনেককিছুই পেয়েছে বাপী। কিন্তু তার হারাবার তালিকাও কম বড়ো নয়। গায়ত্রী রাই, রেশমা কিংবা রতন বণিকের বৌ - এদের বিসর্জন কম কিসে? বনমায়ার ত্যাগের তুলনা কার সাথে দেব?
দুই খণ্ডের বই। কাহিনি উত্তাপ ছড়িয়েছে ধীরে -ধীরে। তারপর গনগনে হয়ে উঠেছে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কলমের গতি আছে। মানতে হবে। চুম্বকের মতো দুই চোখকে টেনে রাখছিল। না, পুরো বইয়ের সারকথা হয়তো বিশেষ বলবার মতো নয়।শেষের পঞ্চাশ-ষাট পাতা স্রেফ অহেতুক কাহিনি টেনে বাড়িয়েছেন। যেন মেলোড্রামাটিক সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লিখছিলেন ভদ্রলোক। তবু আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা আরও পড়বার ইচ্ছেটা রইল। যাদু আছে তাঁর হাতে। আদর্শিক কিংবা ভাবগত বিচারে এই বই ততো কল্কে পাবে না। কিন্তু মানুষের ভেতরকার মানুষ কিংবা পশুটিকে টেনে এনেছেন আশু মুখার্জি। দেখিয়েছেন, মনস্তত্ত্বের জগতটা একেবারে রঙিন না। আবার বর্ণহীনও না। সেই পৃথিবীটার সাথে এই পৃথিবীর ফারাকটা অনেকই বেশি।
গোদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে রাম, সীতা এবং লক্ষ্মণ তাদের বনবাস কালে রাবণ সীতাকে হরণ করার জন্য ছলের আশ্রয় নিলেন। মায়বী রাক্ষস মারীচ এক স্বর্ণমৃগের রূপ ধারণ করে সীতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। সেই মৃগের সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে সীতা রামের কাছে সেই হরিণটি প্রার্থনা করলেন। রাম বনের মধ্যে প্রবেশ করলে তখন সেই স্বর্ণমৃগ রূপী মারীচ রামের কণ্ঠ অনুকরণ করে আর্তনাদ করে ওঠলেন। সীতা তৎপর হয়ে লক্ষ্মণকে জোর করে বনে পাঠালেন, এরপর রাবণ সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধারণ করে সীতাকে হরণ করলেন। সীতার সোনার হরিণ পাওয়ার অভিলাষ তার নিজের দুর্ভোগের উপলক্ষ হলো।
আমরা খুঁজে বেড়াই সোনার হরিণ। আমাদের সাথে গল্পের নায়ক বাপী তরফদার যুক্ত হয় এই খুঁজে বেড়ানোতে সামিল হতে। তারও স্বাদ, সোনার হরিণের। যে হরিণকে বসে আনতে সবাই চায়। স্বার্থক সেই হরিণ সবার বশে আসতে চায় না সহজে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ত্যাগ, তপস্যার পরে যদিও বা হাতে আসে সেই হরিণ তারপরেই কী খোঁজার শেষ? অনুসন্ধানী মানুষ তারপরেও খুঁজে যেতে থাকে আরো কিছু।
গ্রামের নাম বানারজুলি, বন বিভাগের কেরানীর ছোট্ট ছেলে বাপী তরফদারের বয়স তখন বারো আর ফরেস্ট অফিসারের মেয়ে মিষ্টি যার কিনা বয়স আট। সেই ছোট্ট মিষ্টির প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে বাপী। প্রেম সম্পর্কে তার ধারণা হয় বানারজুলি গ্রামের জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে, যে জঙ্গলের বুকে সে সাপ, ময়ূর, কাঠবিড়ালির প্রেম দেখে বেড়ে উঠছে। ছোট্ট বাপীর প্রেম চাবুকের ধূলিসাৎ হয়ে গেলেও থেমে থাকেনি। রয়ে সয়ে লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে গিয়েছে।
লেখক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় স্বীকার করে গিয়েছেন মূল চরিত্র বাপী তরফদার তাঁর অন্তর্লীন সত্তার প্রতিফলন বলে।
গল্পের নায়ক বাপী কী খুঁজেছেন তাহলে? খ্যাতি, যশ, অর্থ, বিত্ত এইসবই? দিন শেষে এসে তার নিজেরও প্রশ্ন সারা জীবন খুঁজেও তিনি কী আরো খুঁজে চলেছেন?শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ভিতরে সেই হরিণের দাপিয়ে বেড়ানো কতটা অনুভব করতে পেরেছেন এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। মাঝে মাঝে একটানা কোন ওঠানামা ছাড়া বাপীর জীবনের গতি তরতরিয়ে চলার সাথে তার কতৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিচয় মিলে। সেই সাথে নব্য পুঁজিবাদের গন্ধও আছে বলে মনে হয়েছে। কারণ বইয়ের প্রেক্ষাপট কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়। সেই সময় পুঁজিবাদের যে মাথা ভারতে গজিয়ে উঠছিলো তার একটা আবহ প্রকাশ করেছেন লেখক।
সাধারণত বড় বই পড়তে নিলে একটু সময় নিয়ে পড়তে হয় আমার। তবে রাজ্যের তাড়া নিয়ে এই বই শেষ করে ফেলেছি, যেন ফেলে রাখা অনুচিত! লেখকের ঝরঝরে গদ্য পাঠককে আটকে রাখবে সহজে। এক অননুমেয় তৃষ্ণা আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে সমাপ্তির দিকে। আদপে আমরা সবাই তো কিছু না কিছু খুঁজি। কারো কারো কাছে সেটা সোনার হরিণ, যে হরিণকে ছোঁয়া সহজ নয়। সবাই তার নাগালও পায় না। কারণ তার জন্যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা ত্যাগ সবাই করতে পারি না। আমার পড়া প্রিয় বইয়ের একটি হয়ে থাকবে বইটি।
আচ্ছা সোনার হরিণ বলতে আপনি কি বুঝেন ? যেটা দুর্লভ ? যেটা কোনভাবে পাওয়া গেলেও বেশিক্ষণ রাখা যায় না ? অথবা এমন কিছু যা পাওয়ার আগ পর্যন্তই তার প্রতি আকর্ষণ থাকে এবং প্রাপ্তির পর শুধুই বিকর্ষণ ? সোনার হরিণ কি সেরকম কিছু ? নাকি এটা স্রেফ একটা অশ্বডিম্ব ? আচ্ছা আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার জন্য কি করতে পারেন ? যদি বলেন চন্দ্র এনে দিবো , তাজমহল বানিয়ে দিবো , জাত ত্যাগ করবো , মরে যেতে পারবো... তাইলে বলবো অফ যান । আপনার কি মনে হয় আপনি আসলেই এসব করতে পারবেন সময় মতো ? না । পারবেন না । সোনার হরিণ জিনিসটা কি , আমি নিশ্চিত নই কিন্তু ভালোবাসা যে সত্যিই অশ্বডিম্ব তাহাতে সন্দেহ নেই। আর না থাকার কারণেই বলছি একটা অলীক বস্তুর জন্য আপনি চন্দ্র আনবেন , তাজমহল বানায় দিবেন , জাত ত্যাগ করবেন , মরে যেতে পারবেন এইসব বানোয়াট কথা বলে কেন নিজেকে হাসির পাত্র বানাচ্ছেন ? সত্যিই যদি কিছু করতে পারেন তাহলে আমাদের এই গল্পের নায়ক বাপির মতো করতে পারেন । একটা মেয়েমানুষ ! জাস্ট একটা রক্ত মাংসের মেয়েমানুষ তাকে পাওয়ার জন্য হেন কোন কাজ নাই যা এই ভদ্রলোক করেন নাই । মানে ধরেন যে আপনি কোন মেয়েকে শৈশবে ভালোবেসেছিলেন কিন্তু কোন একটা কারণে মেয়েটা আপনারে পছন্দ করে নাই । আচ্ছা মাইনা নিলাম এরপর আপনি একদিন জানতে পারলেন মেয়েটা বড় হয়ে অন্যকাউকে বিয়ে করেছে (খুবই স্বাভাবিক) । আপনি কত বড় আঁতেল, কত বড় ভারসাম্যহীন মহব্বতওয়ালা হইলে চিন্তা করেন যে - ''ওর সংসার তছনছ কইরা হইলেও ওরে আমার বিয়ে করতে হবে । হবে মানে হবেই । '' আপনারা বলেন না যে আদর্শ প্রেমিক শুধু নভেলেই থাকে ? এইটা আমি বিশ্বাস করতাম না। আদর্শ প্রেমিক একটা আদর্শ মিথ , এইটা নভেলেও থাকতে পারে না। কিন্তু এখন এসব পড়ে বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছি । এই উপন্যাসের নায়ক বাপি আর নায়িকা হলো মিষ্টি । এরা দুইজন ছোটবেলায় বেশ কয়েকদিন খেলার সাথী হিসেবে নিজেদের কে জানার ও বুঝার সুযোগ পায় । এই সুযোগে গভীর প্রেমে(!) পড়ে যায় বালক আর গভীর ঘৃণায় পড়ে যায় বালিকা । বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রেম আর ঘৃণাও আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে । আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো মেয়েটা আর একজন কে ভালোবেসে ��িয়েটিয়ে করে থিতু হয়ে গেলেও আমাদের নায়ক লোকটা একটা চিজ ! সে শুধুমাত্র এই মেয়েরে পাওয়ার জন্য আস্তে আস্তে এই কাজ সেই কাজ করে বড়লোক হইতে থাকে । বড়লোক হয়ে অর্থের জোরে, বুদ্ধির জোরে শেষ পর্যন্ত সে মেয়েটারে নিজের করেই ছাড়ে । ভালোবাসা কত ডেডিকেটেড হতে পারে সেইটা এই উপন্যাস পড়লে বোঝা যায় । আমার মতে ভালোবাসা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিকৃতবাসা তে রূপান্তরিত হয় । এই উপন্যাস টা সেরকম কিছুর ই একটা জলন্ত উদাহরণ । আপনি একটা মেয়েকে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করতেছেন আপনি তাকে পছন্দ করেন কিংবা ভালোবাসেন । মেয়েটা বুঝতেছে না । এখন না বুঝলে কি করা যাবে বলেন? জোর করে নানা রকম কৃত্রিম ঘটনা উপঘটনা ঘটিয়ে তাকে বুঝিয়ে কি ফায়দা? যেখানে প্রতিটা সেকেন্ড পয়সা প্রসব করে , সেখানে আপনি একজন বিশেষ কাউকে আপনার ভবিষ্যতের সন্তান প্রসবে আগ্রহী করানোর জন্য দিনের পর দিন চেষ্টা করেই যাচ্ছেন , করেই যাচ্ছেন । আরে ভাই আপনি মানুষ না শীত কালের সর্দি কাশি? মানলুম Everything is fair in love কিন্তু তাই বলে যা খুশি ? যা খুশি মানে যা খুশি ? মানুষটা যদি অন্য কারু সাথে সুখী হতেই চায় তো থাকুক না সুখী । আরে ঘুড়ি আপনার আকাশে উড়বে না । আপনি চাইলেও উড়বে না । তাছাড়া একটা জিনিস বুঝেন না কেন যে মাঞ্জা পাশের ফ্লাটের মামুন সাহেবের হাতে; তাহলে কিভাবে ঘুড়িটা আপনার আকাশে উড়বে ? এখন ঘুড়ি যাতে বাধ্য হয় সূতা ছিঁড়ে আপনার আকশে আসতে এইজন্য নিজের আকাশটাই পাল্টায় ফেলবেন ? আপনি মানুষ না গিরগিটি ? এই কথা গুলো একেবারেই অপ্রাসঙ্গকি । বলার দরকার ছিলো না । কিন্তু বইটি পড়ে অনেকেই তীব্র মোটিভেট হইতে পারেন তাই বলা। যে হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন , হুট করেই মনে হতে পারে যে না এই মানুষটাকে আমার পাইতেই হবে হাল আরো শক্ত করে ধরতে হবে । এইসব উদ্ভট ও অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর চিন্তাভাবনা প্রশ্রয় যেন না দেন তার জন্য বলা । শুনেন এই পৃথিবীতে প্রতিটা বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনে কোন না কোন জায়গায় কোন না কোন মানুষের হৃদয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন হয় । কিন্তু তাই বলে যাকে কবর দিয়েছেন সেই মরা খুড়ে বের করা কোন কাজের কথা না । এইসব বই টিন এজারদের হাতে পড়লে খবর আছে । উপন্যাস অনেক বড় হয়ে একদিক দিয়ে ভালো হইছে যে সবাই এই বই হাতে নেওয়ার সাহস পাবে না । তাছাড়া যদি বলেন - হ্যাঁ পড়লে সময় কাটে।এর মধ্যে হাজার হাজার গোলাপের ন্যায় আচরণ আছে। - কি বললেন ? আমি ? আমার পছন্দের মানুষটিকে পাওয়ার জন্য আমি সর্বোচ্চ কি করতে পারি ? আমি তাকে ভুলে যেতে পারি । হ্যাঁ , আপনি আমাকে আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ বলতে পারেন, কাপুরষ বলতে পারেন কোন সমস্যা নেই। আসলে মানুষ ভুলতে আমার অনেক মজা লাগে । আর তাছাড়া এতো চমৎকার একজন মানুষকে বুঝার ক্ষমতা যেই হতভাগীর নাই সেই হতভাগীর জন্য আমার কাছে শুধু করুণা আছে, আর কিছুনা। ঘুড়ি , তোমার যদি আমার আকাশ পছন্দ না হয় তাহলে তুমি গিয়ে নরকের আকাশে উড়তে পারো ।
প্রথম প্রথম একটু বিরক্তই লেগেছিল। গল্পের নায়ক বাপী সে কেবল নিজের ভিতরের পশু সত্ত্বাটার সাথে যুদ্ধ করে। তারপরেও এক পেজ দু পেজ করে পড়তে পড়তে কখন, কিভাবে প্রথম খন্ড শেষ করে দ্বিতীয় খন্ডটাও শেষ করে ফেললাম... টেরই পাইনি। শুরুতে একটু বিরক্ত লাগলেও খানিক পরই বুঝা যায় বাপীর এই নিজের সাথে যুদ্ধের কারণ কি। একটু একটু করে ফ্ল্যাশব্যাক টেনে টেনে উপন্যাসের বিস্তৃতি। ছোট্ট একটা জঙ্গল বানারজুলি। সেখানে খুব সামান্য এক কেরানী বাবুর ছেলে বাপী। তার চোখে জঙ্গল, পারিপার্শ্বিক সবকিছু। একটু একটু করে বড় হওয়া, তার লক্ষ্য , সফলতা সব মিলিয়ে আপাদমস্তক জংগলে মোড়ানো সুন্দর একটা বই।
সাহিত্যিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম অবিভক্ত বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বজ্রযোগিনীতে। পিতা স্কুল পরিদর্শক পরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মাতা তরুবালা। তাঁর প্রথম জীবনের অনেকখানি কেটেছে উত্তরবঙ্গের নানাস্থানে । স্কুল-কলেজের শিক্ষা হুগলিতে ।
তরুণ বয়সে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজ ব্যয়ে চলচ্চিত্র তৈরির কাজে শুরু করেন এবং অসফল হয়ে গেঞ্জির ব্যবসায়ে নামেন। এরপর স্থায়ীভাবে 'ম্যানুস্ক্রিপ্ট' নামে এক প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তোলেন। 'বসুমতী' ও 'যুগান্তর' পত্রিকায় বিচিত্র জীবিকায় মানুষদের নিয়ে লিখতে আরম্ভ করেন। 'বসুমতী'তে তাঁর প্রথম গল্প 'নার্স মিত্র', পরে যা'দীপ জ্বেলে যাই' নামে চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছিল । এই পত্রিকায় প্রথম উপন্যাস 'স্বাহা' - পরিবর্তিত নাম 'রূপের হাটে বিকিকিনি'।
১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে 'যুগান্তর' পত্রিকায় যোগ দেন ও ক্রমে রবিবাসরীয় বিভাগের প্রধান হন। তিনি প্রায় দু-শোর মতো বই লিখেছেন ।তার মধ্যে এক-শো কুড়ি-পঁচিশটি উপন্যাস । বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় তাঁর অনেক বই অনূদিত হয়েছে । শিশু সাহিত্য জগতেও তিনি আদৃত এক লেখক।
"সোনার হরিণ নাই" উপন্যাসটি তৎকালীন 'অমৃত' সাহিত্যপত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। পুস্তকাকারে দুইখন্ডের এই বৃহৎ কাহিনীটির প্রথম প্রকাশ কার্তিক, ১৩৮৬ বঙ্গাব্দ। অত্যান্ত সুখপাঠ্য এই উপন্যাস খানি লেখকের নিজস্ব পছন্দের তালিকার অন্যতম এবং প্রিয়তম।
বানারজুলির জঙ্গলের দপ্তরের কেরানী হরিনারায়ণবাবু। হরিবাবু বিপুল আশায় ছেলের নাম রাখেন বিপুলনারায়ণ তরফদার। সকলে তাকে বাপী বলেই ডাকে। মা না থাকায় সব আবদার পিসির কাছেই কারণ প্রচন্ড ভয় পান বাবাকে।
বানারজুলি জঙ্গলের বড়সাহেব থাকেন বাংলোতে। বড়সাহেবের মেয়ে মালবিকা নন্দী, ডাকনাম মিষ্টি। ১২ বছরের বাপী সুযোগ খোঁজে বড়সাহেব আর মেমসাহেব কে লুকিয়ে ৮ বছরের মিষ্টিকে জঙ্গলে ঘুরতে নিয়ে যেতে। মিষ্টিরও বাপীর সাথে জঙ্গলে ঘুরতে ভালো লাগে কিন্তু বাবা-মা আর দাদায় ভয়ে চুরি করে ঘুরতে যায় বাপীর সাথে। আস্তে আস্তে তাদের সাহস বেড়ে যায় এবং গভীর জঙ্গলে তারা ঘুরতে গিয়ে নানান হিংস্র জন্তুর দেখা পেয়ে যায়।
পড়ালেখায় খুব খারাপ নয় বাপী তবে বড়সাহেবের ছেলেমেয়েদের সাথে তার দূরত্ব একটা থেকেই যায়।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মিষ্টি র প্রতি একটা ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করে তাই সে চায় মিষ্টি ঘুরতে যাক তার সাথে কিন্তু মিষ্টি এটাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। তাই একদিন মিষ্টি বাংলোতে এসে বাপীর নামে নালিশ করে এবং বাপীর বাবা নিজের ছেলেকে বড়সাহেব এবং মেমসাহেবের সামনে মেরে মেরে রক্তাক্ত করে নিজেই ডাক্তার ডেকে আনে।
তার পরেই মিষ্টি কে নিয়ে সকলে চলে আসে কলকাতাতে এবং ওখানেই থাকতে শুরু করেন।
এদিকে বাপী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে জীবনে যে করেই হোক মিষ্টি কে তার চাই। তার পর কেটে যায় অনেক গুলো বছর। বাপীর পড়ালেখা শেষ হয় এবং অবশেষে বাপীও কলকাতাতে নিজের আস্তানা খুজে নেয় কিন্তু খুজে কি পায় মিষ্টি কে?
উপন্যাসের মূল চরিত্র বাপী তরফদার লেখকের নিজেরই এক সত্তা। এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন রচনাবলী ১ম খন্ডে "কিছু কথা " জীবনআলেখ্যে।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর উপন্যাসে পরতে পরতে ছড়ানো থাকে জীবনের ব্যপ্ত জটিলতা এবং মানব মনের বিচিত্র বিন্যাস তারপর সব কিছুর উর্ধে গিয়ে অস্তিত্বের ইতিবাচকতা।
" সোনার হরিণ নাই" এর নায়ক বাপী তরফদারের যে জীবনের অনুসন্ধান, মানবজীবনের মূ�� স্বার্থকতা সোনার চাবিকাঠি আসলে কী? পার্থিব জগতের সমস্ত কাঙ্ক্ষিত বস্তু, অর্থ, যশ, খ্যাতির পিছনে ছুটে চলা এর আসল অর্থটি কোথায়?
এর সবকিছু অনুসন্ধান আসলে লেখকেরই আত্মানুসন্ধান। জীবনের সোনার হরিণ খুজে ফেরেটা মানুষের একটা সহজাত প্রবনতা তবে সেই খুজে ফেরাটা যেন অর্থ, যশ প্রতিপত্তির পিছনে না হয়ে নিজের মধ্যে খুজে ফেরা হোক এটাই লেখকের আত্মোপলব্ধি।
লেখকের প্রথম কোন বই পড়া। এতো বড় একটা বই যার কাহিনি খুবই ছোট কিন্তু বর্ণনা টা বিস্তৃত তবে অহেতুক নয়। কাহিনি দ্বিরুক্তি নাই অবাঞ্ছিত কোন চরিত্রের অহেতুক ঘনঘটা নাই যা বইয়ের পৃষ্ঠা বাড়াতে সাহায্য করবে। প্রথম থেকে যেমন সাবলীল শেষেরও একই ধারাবাহিকে লেখক দুই খন্ডের এই বইটাকে শেষ করেছেন কিন্তু টেনে লম্বা করেছে এটা কখনও মনে হবে না। ভালো একটা বইয়ের সংজ্ঞা কি হতে পারে তা খুব সহজে বলা যায় না। তবে ভালো একটা বইয়ের উদাহরণ " সোনার হরিণ নাই " বলা যেতে পারে।
রণে- প্রণয়ে নীতির বালাই নেই... কিংবা রণে- প্রণয়ে নীতির ধার কেউ ধারে না... পুরো উপন্যাস জুড়ে অনেকবার বলেছেন লেখক কথাটা ... একজন মুগ্ধ করা ব্যক্তিত্বের অধিকারী গল্পের নায়ক বাপী তরফদার আর যাই হোক এই কথাটা প্রমান করতে সার্থক...। জঙ্গলের প্রতি ভালবাসা কিংবা মুগ্ধতা ২টোই বেড়ে গেল আরও... সেই সাথে নিজের চর্মচক্ষে একবার বানারজুলি জঙ্গলটা দেখার লোভ...। শুধু একটাই খটকা... নিরন্তর ছুটে চলা একটা মানুষের শেষ পরিণতি কি এরকম হওয়া জরুরি ছিল!!! এই একটা খটকা মন থেকে যাচ্ছে না... ।
প্রেমের উপন্যাস হিসেবে পরিচিত হলেও আমার কাছে এই উপন্যাস বাপী তরফদারের আত্মিক উত্তরণের আখ্যান। প্রেমের উপন্যাসের মোড়কে এতখানি সমৃদ্ধ জীবনবোধ সম্বলিত উপন্যাস লেখা বোধ হয় আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বনামধন্য লেখকের পক্ষেই সম্ভব।
কাহিনীর শুরুতে আমরা দেখতে পাই কিশোর বয়সের পাগল প্রেমিক বাপী কে। সে পাগলের মত ভালোবাসতো, কাছে পেতে চাইতো বানারজুলির জঙ্গলের বড়সহেবের মেয়ে মিষ্টি ওরফে মালবিকা কে। মিষ্টিকে কাছে পাবার জন্য বাপীর নানান ছল, উত্যক্ত করা, কিশোর বয়সের প্রেমের বহিঃপ্রকাশ আর বানারজুলির জঙ্গল পরতে পরতে উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। তবে বাপীর এইসব কাজের মূল্যও তাকে চোকাতে হয়েছিল। কিন্তু ভালবাসা কি কোনো বাঁধা মানে? বিশেষত যে ভালোবাসায় মিশে থাকে করায়ত্ত করার ভীষণ বাসনা? এই প্রশ্নের জট খুলতে গেলে ডুব দিতে হবে ৬৭৪ পাতা দীর্ঘ এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়।
পাহাড়ি জঙ্গলে ঘোরার সময় বাপীর দেখা হয়ে যায় জটা ও ত্রিশূলধারী এক নগ্ন সন্ন্যাসীর সঙ্গে, তারই মুখনি:সৃত "আগে বাড়ো, মিল যায়েগা" - বাপীকে ঠেলে দেয় চরম আত্মিক উত্তরণে। সেখান থেকেই শুরু হয় ভোগী, বিলাসী, অর্থ- প্রতিপত্তিকামী, ঈপ্সিত নারীকে করায়ত্তকারী পুরুষের জীবনের আমূল পালাবদল। চন্দন কাঠের পাহাড়, টাকার পাহাড়, সোনার পাহাড়, হীরে মণি-মুক্তার পাহাড়ই কি জগৎ সংসারের সেরা ঐশ্বর্য? তবে তাতে শান্তি নেই কেনো? কোন্ সোনার হরিণ এর অভাবে মানুষের মন তোলপাড় করে সর্বক্ষণ? - "সেই সোনার হরিণ চাও, তো ভিতরে খোঁজো। বাইরে কোথাও নেই।"
"সোনার হরিণ নেই" উপন্যাসের মূল চরিত্র এবং নায়ক বাপী তরফদার যেন কাহিনীকারেরই অন্তর্লীন সত্তার প্রতিফলন। প্রেম, গভীর জীবনবোধ এসব ছাড়াও এই উপন্যাসের আরও একটি আকর্ষক দিক হলো, প্রকৃতির বর্ণনায় লেখকের কাহিনীর আয়তন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেই। এমন নয় যে প্রকৃতির বর্ণনা আমার ভালো লাগে না, বরং আমি খুব উপভোগই করি এই বর্ণনা তবুও লেখার এই বৈশিষ্ট্য টি আমার কাছে নতুন। প্রকৃতির বর্ণনা দেবার সুযোগ আছে, পাঠককে তার সাহায্যে আকর্ষণের জায়গা আছে কিন্তু লেখক নিজ গুণে ও স্বকীয়তায় তা এড়িয়ে গিয়েছেন। তার কাহিনীই পাঠক কে আকৃষ্ট করে গেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
২০২৩ সালের সমাপ্তি ঘটেছে এক অসাধারণ, মনমুগ্ধকর বাংলা ক্লাসিক দিয়ে। স্মৃতিতে রয়ে গেল বাপী, মিষ্টি, পিসিমা, আবু রব্বানী, দুলারি, রেশমা, চালিহা, গায়েত্রী রাই, ঊর্মিলা, ঝগড়ু, বনমায়া প্রমুখ। লেখকের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় হলো এই উপন্যাসের মাধ্যমে। ওনার আরও লেখা পড়ার ইচ্ছে রইলো।
it is an amazing journey to start. the book just not only indulges someone to know the story of the characters, it also surely bring up the philosophical journey of ones triumph for win the desired most thing. the endless effort of the main character put the storyline in a mesmerizing path. it is not only a love story, it is about strategy and how to win a war. readers will enjoy the flashbacks, the historical insights, "the Godfather The Godfather" like strikes. some may also find enjoyable due to the nostalgic. the writing is awesome. the journey will end with the philosophical attainments about happiness or life. does all the efforts matter or did it actually? you have to read it. serious readers should enjoy it. teenagers may not find it suitable. the page number is 671.
প্রায় ১ বছর ধরে অল্প অল্প করে অলসগতিতে ফাইনালি এই বই শেষ করলাম! প্রায় সাড়ে ৫০০ পেজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অক্ষরে লিখা বই পড়া সার্থক কারন শেষ করে *অবশেষে সমাপ্ত হইলো* এই অনুভূতির চেয়ে আমি এই বই শেষ পর্যন্ত পড়ছি দেখে ভালো লাগতেছে। বাপী তরফদার সমগ্র জীবন কীভাবে জীবনের নাটকিয়তা এগিয়ে গিয়েছে পুরোটা জুড়েই তার বর্ননা।সামান্য কেরানীর ছেলেকে বড়লোক এর আদুরে কন্যা মিষ্টির দিকে নজর দেয়ার শাস্তির প্রতিশোধ কি আসলেই উসুল করতে পেরেছিল নাকি বাপী এই আগ্রহই বই এর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।পশুবৃত্তি মনোভাব, নিজেকে নিয়ে থাকা বাপীও কিভাবে স্নেহের ছায়ায় বিশাল সাম্রাজ্যের গায়ত্রী রায় এর মন জুগিয়ে একদিন রাজ্য রাজত্ব রাজকন্যা পেয়ে যায়।কিন্তু তার মন শুধু সেই একজনকেই খুজে বেড়ায় ।সেই একজনকে কি পেয়েছিল নাকি পায় নি তা জানতে বইটির ২টি খন্ডই পড়তে হবে। জীবনে এগিয়ে যাওয়াই কি উদ্দেশ্য নাকি সব পেয়ে গেলেও কি জীবনে সোনার হরিনের দেখা পাওয়া যায় না-এই ভাবনার রেশ ই রেখে যাবে বইটি পড়া শেষে...