দীপশিখা মুখার্জি বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তের ডাক্তার। তিনটি আলাদা তদন্তের স্বার্থে তার কাছে আসে কলকাতা পুলিশের অফিসার বরুণ সরকার। ‘কর্কটক্রান্তি’ উপন্যাসে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন সামাজিক অবস্থানের মানুষের। পোস্ট মর্টেম করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেকের লসিকা গ্রন্থি ফোলা। ‘ময়না তদন্ত’ উপন্যাসে ভবানীপুরের বনেদি চিকিৎসক পরিবারের এক সদস্যার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়, যিনি নিজেও মনোচিকিৎসক। পোস্ট মর্টেম করতে গিয়ে জানা যায়, অতীতে এই পরিবারে আরও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ‘কালরাত্রি’ উপন্যাসে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় পরপর খুন হচ্ছেন বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী। সবাইকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট ফাঁসানো হচ্ছে। তারপর রক্ত দিয়ে পাশে আঁকা হচ্ছে জিভের মতো অদ্ভুত একটি চিহ্ন। অটপ্সি সার্জেন আর পুলিশ মিলে কীভাবে সমাধান করল তিন রহস্যের, এই নিয়েই তিনটি মেডিকেল থ্রিলার। বাংলা রহস্য উপন্যাসের ধারায় অন্যতর সংযোজন এই সংকলন।
ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
অটপ্সি সার্জেন দীপশিখা এবং পুলিশ অফিসার বরুণের যৌথ অনুসন্ধান ও শ্রমের ফসল হিসেবে তিনটি রহস্যভেদের আখ্যান সংকলিত হয়েছে এই বইয়ে। তারা হল~ ১. কর্কটক্রান্তি: আপাতদৃষ্টিতে দুর্ঘটনার শিকার বেশ কয়েকটি মৃতদেহে পাওয়া গেল ক্যান্সারের সুনিশ্চিত উপস্থিতির প্রমাণ। কেউ কি ঠান্ডা মাথায় এদের সরিয়ে দিচ্ছে? কে সে? এই উপন্যাসটি চমৎকার ভঙ্গিতে শুরু হয়ে শেষে একেবারে, প্রচলিত বাংলায় যাকে 'ছড়িয়ে লাট' বলে, তাই হয়েছে। পাঁচে দুই। ২. ময়না তদন্ত: মস্তিষ্ক-বিকৃতির ফলে আত্মহত্যা— এভাবেই কেসটা ক্লোজ করে দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ এল প্রশাসন থেকে। কিন্তু দীপশিখা ও-সবের তোয়াক্কা করেন না। তাঁর চেষ্টায় ক্রমে উন্মোচিত হল মৃত্যুর এক দীর্ঘ, সর্পিল ইতিহাস। কিন্তু অপরাধী(রা) কি ধরা পড়ল? এই বইয়ের সেরা লেখা এটাই। শেষটা অতিনাটকীয় ও সমাপতনে আকীর্ণ না হলে এই মনস্তাত্ত্বিক কাহিনিটিকে পাঁচে পাঁচ দেওয়াই যেত। পাঁচে চার। ৩. কালরাত্রি: অত্যন্ত বাস্তবানুগ পটভূমিতে সিরিয়াল কিলিং-কেন্দ্রিক একটি সলিড উপন্যাস হচ্ছিল এটি। কিন্তু তারপর সবকিছু ব্যাখ্যা, অতীতকাহন এবং সেন্টিমেন্টের শ্রাদ্ধে পরিণত হল। আবার পাঁচে দুই।
সব মিলিয়ে পনেরোয় আট। বইয়ের দাম পৈশাচিক হলেও কোনো অলংকরণ নেই। তাই একে সামগ্রিকভাবে পাঁচে তিনের বেশি দেওয়া যাচ্ছে না।
এইগুলো সেইরকম গোয়েন্দা কাহিনী, যেখানে গোয়েন্দা নিজেই ঘটানার চরিত্র হয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দার ব্যাক্তিগত জীবন উঠে আসছে গল্প। আর গোয়েন্দা কখনই লার্জার দ্যান লাইফ নয়। আমাদের চারপাশের চেনা চরিত্র। খুব কাছের একজন। আমরা গল্পের সঙ্গে সন্ধানীর জীবনেও ঢুকে যাচ্ছি।