স্মরণজিৎ এর ছোট গল্প নাগরিক জীবনযাপনের থেকে বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আধা শহর, মফসসল থেকে ছোট গ্রাম অবধি। তাঁর গল্পের মানুষজন আমাদের আশপাশের থেকেই উঠে এসেছে। তাঁর ছোট গল্পের মধ্যে উঠে এসেছে মানুষের রোজকার কষ্ট, জীবনযাপনের সংগ্রাম, একাকীত্ব, দ্বেষ, প্রতিহিংসা। আবার অন্যদিকে এসেছে বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা এবং অবশ্যই প্রেম। তাঁর গল্পের প্রেক্ষাপট যেমন বিচরণ করেছে বর্তমান সময়ে, তেমন তাঁর গল্প আবার ছুঁয়ে গিয়েছে প্রাচীন বাংলা, স্বাধীনতা-পূর্ব সময় এবং নকশালের শহরকেও। কেবল বিষয়বস্তুর অভিনবত্বই নয়, স্মরণজিতের এইসব ছোট গল্পের নির্মাণও স্বতন্ত্র। তাঁর গল্পে যেমন অসহায় গরিব যুবকের কথা আছে, তেমন রয়েছে অন্যের বাড়িতে আটকে থাকা মেয়েটির কথাও। তাঁর কলমে যেমন উঠে এসেছে পুরোনো দিনের জলদস্যুদের গল্প, আবার তেমন করে এসেছে ক্যাব চালক মেয়েটির কাহিনিও। সহজ, ঝরবারে গদ্যে লেখা এই পঞ্চাশটি গল্প জীবনের উত্থান-পতনের নানান দিক ছুঁয়ে নদীর মতো প্রবাহিত হয়েছে এই বইয়ের পাতায়। আর বলেছে সাধারণ মানুষের স্নেহ, ভালবাসার কথা। তাদের ঘুরে দাঁড়াবার কথা। এনেছে এমন এক দর্শন যা দুঃখকষ্টের উর্ধ্বে উঠে জীবনকে অন্য এক আনন্দময় দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়। সব মিলিয়ে স্মরণজিতের ছোটগল্প কেবল নানানরকম আশ্চর্য জীবনকাহিনির সম্ভারই শুধু নয়, এইসব গল্প সমস্ত পাঠকের জন্য পাঠ্যসুখের এক আনন্দ সফরও বটে.
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।