Jump to ratings and reviews
Rate this book

পারাপার

Rate this book
পারাপারে সংকলিত ৫টি গল্পঃ

* ভালোবাসা
* তোরাব শেখ
* পারাপার
* মাটি এবং মানুষের রং
* ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে

62 pages, Hardcover

First published June 1, 1985

7 people are currently reading
194 people want to read

About the author

Shahidul Jahir

18 books174 followers
Shahidul Jahir (also spelled Zahir) was a Bangladeshi novelist and short story writer. He was reputed for extraordinary prose style and diciton and considered a genuine founder of post-modern fiction in Bangla literature.

Born in Dhaka, Bangladesh in 1953 as Shahidul Huq, he joined the Bangladesh Civil Service in the Administrative cadre in 1981. In 2008, he was appointed as a Secretary in Charge of Ministry of CHT affairs to the Government of Bangladesh. A confirmed bachelor, he lived a quiet and a very simple life. Hardly he agreed for a formal interview for publication.

Shahidul Jahir was one of the most important contemporary writers in Bangladesh. He became interested in magic realism after reading Marquez's works. He was known to some people as the Márquez of Bangladesh, carrying on the legacy of magic-realism with strokes of his own unique surrealist style, deeply imbibing the politics, history and culture of Bangladesh, his own country home in Sirajganj and his place of birth. However, his style also reminds of Syed Waliullah, a modern Bangla fiction author of Western lineage. But he had his own style of labyrinthine narration that would lead his readers to a maze. He relied more on narration than dialogue between characters. His diction was symbolic and mystified. He resorted to colloquialism in order to infuse reality into the context and story-line. The name of his last published story was, "Miracle of Life". Here is an excerpt (translated from Bangla) from his swan song:

"An adolescent girl, or a young girl, or who is just a gal...whatever, what do we do with her? She can have a name, since she is a human being, and human beings do have names, so her name could be Pari, Banu, or Ayesha... ...If she stands at the edge of the dirty drains, standing inside her home, as broke as the ragged nest of a magpie (babui), her mother runs around...her mother goes around cooking for others, she cooks rice, she cooks curries,she makes chapatis, there are people who swallow them, or maybe they rebuke her, What the hell have you cooked,woman!... ...Perhaps at that moment, Pari or Pari Banu, is standing at the rail ways of Dayaganj or Shamibag, holding the hands of her little sister or brother, and their father runs around, he too goes to places, maybe he does things, pulls someone else's rickshaw, pushes someone else's cart, or maybe he does nothing, he just lies down on his bed and suffers from piles. Then, what do we do with this Pari? The leader, or the official of this republic, the officers, or the civil society - none of them know...We have no idea what to do with her..."


In his writing career spreading over more than two decades, Jahir published only three novels and three collections of short stories. Two collections of his selected novels and short stories were published in 2007.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
49 (17%)
4 stars
158 (55%)
3 stars
70 (24%)
2 stars
8 (2%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 53 reviews
Profile Image for Nadia Jasmine.
212 reviews18 followers
January 3, 2021
যাদের বই কিনে পড়ার সামর্থ্য আছে, যারা ফুটপাতে ঘুমন্ত মানুষ দেখে প্রয়োজনে ডিঙিয়ে যান, তাদের কাছে এই প্রান্তিক মানুষদের কেন্দ্র করে লেখা সব গল্পই কি অন্য গ্রহের মনে হয় না? আমার তো হয়। গতবছর শওকত ওসমানের ‘বনী আদম’ পড়েও এমন লাগছিল। চাপ চাপ এক অপরাধবোধ নিয়ে এদের গল্প জানার কৌতূহল মিটালেও মনে হয় ভালো মানুষ হবার পথটা যেন আমরা নিজেরাই তিল তিল করে অমসৃণ করে তুলেছি।

কোন একটা খুবই সাধ্যের মধ্যে থাকা কিছু যা মানুষ হিসেবে জন্মে পাওয়া কারো অধিকার, জাগতিক নিয়মে বাস্তববাদী গল্প-উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বেলায় তা হাত থেকে ফসকে যায়। বাড়তি যা কপালে জুটে তা হল অপমান। ‘মাটি এবং মানুষের রং’ এ আমরা দেখি, গ্রাম্য সমাজে যেখানে গাত্রবর্ণ ধুলো-কাদায় ঢাকাপড়া, সেখানেও পরবর্তী প্রজন্মের গায়ের রং আরেক পোঁচ ফর্সা করতে চেষ্টার অন্ত নেই। অপরের গলগ্রহ হয়ে থাকা ‘তোরাব শেখ’ ও আর দশটা বাবার মতো নিজের মেয়েকে এক লম্পট দোজবরের হাতে তুলে দিতে নারাজ। ‘পারাপার’ এ চাকরির আশায় থাকা ওলি বিবেকের দংশনে দালালি করে বসে শীর্ণকায় দুই অভাবী বালকের হয়ে। নবাবের ত্রুটিহীন ভদ্রতা ‘ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে’ তে তার মেথর পরিচয় ঢাকতে পারে না, সকলেই তার উপর কারনে- অকারনে ক্ষুব্ধ। পড়তে পড়তে পাঠকের সাথে চরিত্রগুলোর মানসিক বিভেদ ঘুচে যায়। বুঝতে পারি যে অস্তিত্বের লড়াইয়ে আমরা লজ্জার সাথে খুব সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।

প্রথম চারটি গল্পেই মূল চরিত্র অপ্রত্যাশিত এক পথে এগোয়, তারা তাদের মতো করে রুখে দাঁড়ায়। কিন্তু, শেষ গল্প ‘ভালোবাসা’য় বাজে সমর্পনের সুর। একটি ফুলকে কেন্দ্র করে অভাবী এ গৃহস্থে আর কিছু হবার সম্ভাবনা বিলীন হয়ে যায়।

পাঠমুগ্ধতার কারনে শহীদুল জহিরের লেখনী বা শব্দচয়ন নিয়ে কিছু বলার মতো যুৎসই শব্দ এই বইয়ের বেলায় খুঁজে পাই নি। কিন্তু, এটুকু বলতে পারি যে লেখক শুধু অলংকারিক বর্ণনার ঝড় তুলে ক্ষান্ত হন না, মূল গল্পকে সঙ্গ দিয়ে পাঠককে পাঠতৃপ্তির এক উচ্চতায় নিয়ে যান। মনের অনেক ভেতর পর্যন্ত হাতড়াতে বাধ্য করেন।
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
February 8, 2021
লেখালেখি অথবা সাহিত্য যা-ই বলি না কেনো, এর জীবনভিত্তিক জনরায় প্লট হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পায় মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনী। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে লেখা খুব বেশি পাই নি আমি, হয়তো আছে অনেক।
এই বইটার সবগুলো গল্পের প্লটই নিম্নবিত্ত মানুষদের নিয়ে, যেমনটা দূর থেকে আর পাশ থেকে দেখা যায় আরকি!
তবুও অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যস্ত কিছু চরিত্র নজরে আসে। আর "ভালবাসা" গল্পটিতে দেখতে পাওয়া যায় অল্পেই কিঞ্চিৎ খুশি হওয়ার চিত্র।

প্রথম শহীদুল জহির পাঠ হিসেবে ভালোই লেগেছে।

~ ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১



Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
378 reviews279 followers
June 11, 2015
'পারাপার' গল্প সংকলনটি পাঁচটি গল্প রয়েছে। শেষ চারটি গল্পের বটম লাইন আমার কাছে মনে হয়েছে আত্মসম্মান খুঁজে পাওয়া। যে মানুষটা ক্রমাগত নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নিজের অস্তিত্বতে টিকিয়ে রাখে, মানুষের ভ্রুকুটি মেনে নিয়ে দিন পার করে দেয় হঠাৎ হয়তো কোনো ধাক্কায় সে খুঁজে পায় নিজেকে। খুঁজে পায় নিজের মধ্যে বেঁচে থাকা প্রতিবাদের শক্তিকে। তখন সেই আত্মসম্মানবোধের উপরে আর কিছুর জায়গা হয় না। শহীদুল জহির হয়তো বলতে চেয়েছেন যে মানুষ কখনো ফুরিয়ে যায় না। তা সে ছেলের উপার্জনে টিকে তাকা তোরাব শেখ-ই হোক, বেকার তরুণ অলি-ই হোক, বদলা বেঁচে খাওয়া কৃষকের স্ত্রী আম্বিয়া-ই হোক অথবা ভাড়া এবং দোকান সদাই বাকি পড়া আলফাজুদ্দিন-ই হোক। প্রথম গল্পটা অবশ্য আলাদা। অন্ধকারে জ্বলতে থাকা কুপির ম্লান আলোর মত অনেক রুক্ষতার ভিড়ে এতটুকু ভালবাসার বেঁচে থাকার গল্প।
Profile Image for Saiful Sourav.
103 reviews72 followers
May 27, 2022
শহীদুল জহিরের গল্পে যে গল্পটা বলা হয় তার একটা মানে থাকে যা পাঠকরা ভেবে বার করতে পারেন । কখনো পুরো গল্পটাই হয় একটা উপমা অথবা কখনো উপমাটা হয় গল্প । এই বইয়ের প্রত্যেকটা গল্পই একটা আরেকটাকে অতিক্রম করে পুরো বইটাই একটা বিশেষ কিছু হয়ে উঠে যেন। শহীদুল জহির কি গল্পে, কি ভাষায় যা নিয়ে এসেছেন তাতে চমৎকৃত না হয়ে যেন উপায়ই নাই।

এ বইয়ের ভালোবাসা নামক গল্পে বাবুপুরা বস্তিবাসী হাফিজদ্দি ও আবেদার এক টুকরা সংসার, টানাপোড়েন ও দৈনন্দিনতার ভেতরে একদিন হাফিজদ্দি কলেজের মাঠ থেকে শহীদ দিবসের জন্য নিবেদন করা পুষ্পাঞ্জলি থেকে একটা ডালিয়া তুলে আনলে আবেদা বলে, ঘোড়ার আন্ডার ফুল । হাফিজদ্দি ঝাঁকা নিয়ে যেতে যেতে বলে, দেখিস কেউ যেন চুরি না করে! : হ । মাইনষের ঠ্যাকা পড়ছে তুমার ফুল চুরি করনের লাইগা, বলে আবেদা হাসে । হাফিজদ্দি একটা প্লাস্টিকের বোতলে পানি ভরে ফুলের ডাঁটা যত্নের সাথে ডুবিয়ে রাখে অন্ধকারাচ্ছন্ন খুপড়ি ঘরের কোনায় । কাজে চলে গেলে আবেদা খোঁপায় গুঁজে আয়নায় নিজেকে কেমন লাগছে দেখার চেষ্টা করে আর এমন সময় একমাত্র কন্যা তহুরা ঘরে ঢোকে ।
:কি মা ? ক্যাডা আনছে ?
:তর বাপে । খবরদার ধরবি না, মাইরা ফালাইব ।

সন্ধ্যায় ফিরে এসে হাফিজদ্দি মেজাজ দেখিয়ে বলে তার ফুলে হাত দিয়েছে কে? শুনে আবেদার ইচ্ছা করে তহুরাকে পেটাতে, কারণ মেয়ের পেটে একটা কথাও থাকে না কিনা! আকস্মিকভাবে হাফিজদ্দি বলে, ফুলটা তরে দিয়া দিলাম যা
আবেদা বলে, কি করুম আমি অইডা দিয়া?
রাতে ঘুমাবার সময় তহুরা বলে, মা ফুলডা আমি নিমু
হাতের কাজ সেরে আবেদা ফুঁ দিয়ে আলোটা নিভিয়ে দেয় আর তার ঠোঁট জোড়া আলতো করে তহুরার কপাল ছোঁয় ।
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews81 followers
March 28, 2024
শহীদুল জহিরের চিরাচরিত বড় বড় বাক্য কিংবা জাদুবাস্তবতা কোনোটারই অস্তিত্ব নেই এই গল্পগ্রন্থে। তবে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার এবং সাদামাটা চরিত্রদের নিয়ে গল্প সাজানোর ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য এখানে বিদ্যমান। বাংলা সাহিত্যে যে এক ঘোরলাগা লেখকের উত্থান হতে যাচ্ছে তার কিছুটা আচও পাওয়া যায় এই গল্পগ্রন্থ থেকে।
Profile Image for Md. Rahat  Khan.
96 reviews24 followers
March 13, 2021
পারাপারের শহীদুল জহির অন্য রকম। উত্তরাধুনিকতাহীন, জাদুবাস্তবতাহীন। নিখাঁদ গল্পকার শহীদুল জহিরকে পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। সরল বাক্যের গাঁথুনিতে নিম্নবিত্ত জীবনের মেদহীন, অতিনাটকীয়তাহীন, সরল গল্প বলেন তিনি।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
August 18, 2024
সমাজের উঁচুতলার মানুষরা প্রায় ভুলে যায় তাদের চেয়ে নিচুতলায় থাকা জীবগুলোও মানুষ। তাদেরও আবেগ অনুভূতি বলে কিছু থাকে।
তবে সে অত্যাচ��রিত নিপীড়িত মানুষগুলোরও কি সব অনুভুতি ভোতা হয়ে যায় না?
মানুষের যে আশা স্বপ্ন থাকে সেসব হারিয়ে শুধুমাত্র উদরসর্বস্ব হয়ে বেচে থাকা - এ কেমন জীবন।

লেখক এই বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষগুলোর জীবনকেই তুলে এনেছেন তার গল্পগুলোতে।
সারাজীবন মাথা নিচু করে সব অপমান সয়ে গল্পের চরিত্রগুলো হঠাৎ শিরদাঁড়া সোজা করে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করে উঠে। পরিণাম ভালো হবে না জেনেও অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা পিছপা হয় না।
Profile Image for Maherab Efty.
29 reviews12 followers
January 31, 2018
পারাপারের শহীদুল হকের শহীদুল জহির হইবার ডেজায়ার

পারাপারের শহীদুল হক নিজেই এই লেখক ‘শহীদুল হক’রে নিয়া অস্বস্তিতে আছিলেন। এই কথা পরে উনি বলছিলেনও বটে আহমাদ মাযহাররে যে, বইটারে তাঁর সৃষ্টিকর্ম হিশাবে গণ্য না করতে। বিষয়টা মজার। লেইখা ফালানো সেইটার দিকে তাকাইয়া অস্বস্তি হইবার পরই হয়ত এই কথা ভাইবা বলছেন উনি। কারণ জিগাইছিলেন আহমাদ মাযহার। কইলেন, ওতে লেখকের স্বাতন্ত্র্য তেমন উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষ করা যায় নাই। আমিও প্রথম তিন গল্পে তেমন কিছু পাই নাই যদিও মাযহার গ্রন্থ আলোচনায় আলাদা কইরা ভালোবাসা গল্পটারে কোট করছিলেন; আমার কাছে মনে হইছিল উনি যেই সনে বইটা লেখছেন অইসময়ে এরচে বেশি ভাল কন্টেন্টে লেখতেছিলেন শ. আলী কিংবা হা. আ. হক অথবা শা. হক অথবা ইলিয়াস-মান্নান-আজাদ এরা। কিন্তু অনুভূতি, সংবেদনশীলতা এই জায়গায় প্রথমেই তীব্রভাবে আঘাত দিতে সক্ষম হইছেন শহীদুল জহির। পারাপার গল্পটার পলিটিক্যাল সেন্স কিংবা তোরাব সেখ গল্পের ক্লাস ইস্যুর থেকেও ভালোবাসা গল্পের যে তীব্র সংবেদনশীল মননের সিগনেচার সেইটা দুর্বল কন্টেন্ট হইলেও সেটা বর্ননা আর অনুভূতি দিয়া পোষাইয়া দিছিলেন জহির। তয় কথা আছে; আমরা (প্লুরালই কইলাম) মনে হয় না এই জহিররে লাইক করি। মাটি এবং মানুষের রং-এ ন্যারেটিভে কিছু লুপহোলও দেখতে পাই। প্রথম থেকে শেষগল্প পর্যন্ত যেন একটা ‘ক্রমধারা’ বজায় রাখা হইছে। পয়লা দুই গল্পের বস্তিজীবন ‘পারাপার’ হইয়া গ্রামের ‘মাটি এবং মানুষের রং’ গায়ে লাগাইয়া আবার ফিরা আসা ‘ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে’ শহরে এবং এই গল্পেই আমাগো জহিররে পাওয়া যাইতেছে পাঠিকা! ‘নিজের জাতের লেখা’-এই টাইপ কমেন্ট দেওয়া যায় এই গল্প হইতেই জহিররে। গদ্যভঙ্গির নয়া স্টাইল তখনো চমক লাগানোর পর্যায়ে তো যায় নাই! 

একটা জিনিস উল্লেখ করি; ইয়োসার মধ্যেও আমি এই স্টাইলটা দেখছি; একগল্পের জিনিস আরেকগল্পে সেইমভাবে চইলা যাওয়া; সেইটা মানুষ হইতে পারে কিংবা নির্দিষ্ট এলাকার একটা গলি অথবা কোনো নেচারের বর্ণনা; একটা নন-ফিকশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড তৈয়ার করা স্টেজের (স্টোরির প্রেক্ষাপটে) পিছনে আরকি। এইটা স্পেস দেয় পরবর্তী স্টোরির জন্য। পাঠিকা আগে থেকেই চরিত্রগুলার সাথে চিন-পরিচিত থাকে; শ্রেণীগত অবস্থান বা ভৌগলিক যায়গা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা তৈয়ার করা থাকে। ইয়োসার ‘কুকুরছানা’ নভেলার কথাই যদি বলি, তাইলে দেখব অই নভেলার চরিত্রগুলা ‘ক্যাথ্রিড্রালে কথাবার্তা’ কিংবা ‘হুলিয়া মাসি’ বইগুলাতে চইলা আসে। এই টুলটা গল্পের বহি’র প্রথম দুই গল্পতেই জহির ব্যবহার শুরু করছিলেন ‘নেচারের’ এক বর্ণনায়। ‘ভালোবাসা’ আর ‘তোরাব সেখ’ দুই গল্পেই পাঠিকা দেখবেন একটা ‘দেবদারু’ গাছের কথা বলা আছে। এবং দুই গল্পতেই এই গাছের ভৌগলিক অবস্থানও প্রায় নির্দিষ্ট কইরা দেওয়া সেইমভাবে। প্রায় বলতেছি তোরাব সেখ-এ সরাসরি বলছেন কিন্তু ‘ভালোবাসা’ গল্পে আমাদের একটু আন্দাজ কইরা নিতে হইতেছে; এইটারে আদর কইরা আপনারা ফিকশনাল কইরা নেওয়াও তো কইতে পারেন! পরবর্তীতে এই কাম জহির ম্যালাবার করছেন। লেখার এই সচেতন অথবা অচেতন টুলটার কারণেই আমি মনে করি শহীদুল হক যে একদিন শহীদুল জহির হইয়া উঠবেন সেইটা অনিবার্য আছিল; আমার ‘অনিবার্য’ বলাটা এখন আর ধৃষ্টতা লাগতেছে না। বুক রিবিয়ুটা তখন করলে হয়ত সবাই এইটারে এই বিশেষণ দিয়াই সম্বোধন করত। 
আমি আহমাদ মাযহারের সাথে এই যায়গাটায় একমত না যে এই ‘পারাপার গল্পে জহিরের শুধু অনুভূতিময় লেখকসত্তারই পরিচয় পাওয়া গেছে; বরঞ্চ আমি দেখতেছি লিটারারি সচেতন অথবা অচেতনভাবে তিনি কিছু টেকনিকও পয়লা গল্প হইতেই ইয়ুজ করা স্টার্ট কইরা দিছিলেন। 






Profile Image for Ësrât .
515 reviews89 followers
June 29, 2021
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস

কোনপাড়ে?কোথায়?মধ‍্যবিত্ত বা নিন্মমধ‍্যবিত্ত নাভিশ্বাসে কিংবা উচ্চবিত্ত যখন বৈভবের ভেলায় ভাসতে ভাসতে "আরেকটু বেশি হলে মন্দ হতো না"এই চিন্তার চিতায় দিবানিশি দগ্ধ হতে থাকে,তখন ঐ প্রান্তিক দারিদ্র্যের তলানীতে তলিয়ে যাওয়া এক টুকরো সুখ খোঁজে
একটা ফুলে,আত্মগরিমায়,জেদে,ঝলসে যাওয়া জবানে,বিশ্বাসের নড়বড়ে ভিত্তিতে জ্বলা সাহসের টিমটিমে বাতিতে।

বিষয়প্রতিপত্তির মতো জাগতিক জঞ্জালে জীবনযুদ্ধের হাসি কান্না চুনি পান্নার মতির মায়ায় গড়া ভাঙাচোরা ঘরে এক ফিনকি চাঁদের আলোয় আত্মসুখের যামিনী ভোরের সাথে আরেকটি দিনের সংগ্ৰামের শক্তি নিয়ে চলতে থাকা এই চিরন্তন রূপ বা রহস্য, ধাঁধা বা দ্বিধার দোলাচলে দৃশ‍্যপটে দৃষ্টিগোচর কোনো পরিবর্তন কখনো হয়না।

এহেন নির্মম নিষ্ঠুর কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি করার সহজাত শক্তি এক শহীদুল জহিরের ছিল এ হাজার বছরে ক্ষয়াটে ঘুণে ধরা সমাজের বুকে।

রেটিং:⭐🌟🌠.65
29/06/21
Profile Image for Shanto.
45 reviews15 followers
January 28, 2014
মোটের ওপর শহীদুল জহিরকে পাঁচ এ তিন দেয়া চলে না। পারাপারের প্রথম দু'টো গল্প 'ভালবাসা' এবং 'তোরাব শেখ' সম্ভবত একেবারে শুরুর দিকে লেখা চুয়াত্তর এবং পঁচাত্তর সালে। আমার মতে শহীদুল জহির তখনও শহীদুল জহির হয়ে ওঠেননি বা হয়ে উঠছেন কেবল। বাকি গল্পগুলো 'পারাপার', 'মাটি এবং মানুষের রং', 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে', সবগুলোকেই পাঁচে পাঁচ না দিলেও সড়ে চার চোখবন্ধ করে দেয়া যায়। 'পারাপার'-এ আমি একজন শহীদুল জহিরকে শহীদুল জহির হয়ে উঠতে দেখি। এই পারাপার হয়ত শহীদুল জহিরের পারাপার, না হলে কেবল একটা গল্পের নামে গল্পগ্রন্থের নাম কেন?
Profile Image for Shoroli Shilon.
169 reviews74 followers
May 18, 2024
শহীদুল জহিরের গল্প বলার ধরণে এক ধরনের আবেশ কাজ করে। লেখার ধরনটাও পছন্দের। 'পারাপার' আর 'তোরাব শেখ' বাদে বইটার বাকি গল্পগুলো খুব একটা মনে ধরেনি।

প্রতিটা গল্পেই লেখক একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে নিয়ে গল্প বলেছেন। সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সজাগ কিছু চরিত্রকে একেছেন।
Profile Image for Momin আহমেদ .
112 reviews49 followers
July 8, 2020
আমার পড়া শহিদুল জহির এর প্রথম বই।নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনকে ক���ন্দ্র করে এই বই এর ৫ টি গল্প।তোরাব শেখ আর মাটি ও মানুষের রং গল্প দুইটি অসাধারণ ছিল।একটি পরিবারে একজন বৃদ্ধের জীবন যে টাকা কামাই করতে অক্ষম তার জীবন যে কি পরিমাণ দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে তা স্পষ্ট ভাবে দেখি আমরা তোরাব শেখের গল্পে।মাটি ও মানুষের রং পড়ে আমার মনে হইছে এই ছোট্ট একটা গল্পে গ্রামীণ জীবনের একটা নিখুত চিত্র ধরা পরে।
এছাড়াও এই বই এর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে এর ভাষা। বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের ভাষায় লেখা ৫ টি গল্প। আমার মনে হয় কোলকাতার মানুষ যদি এই বই এর ভাষা বুঝতে পারে তাহলে তাদের বাংলাদেশি বই পড়তে কোন অসুবিধা হওয়া�� কথা না।
তিন নম্বর গল্প পারাপার লেখা হয়েছে সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায়। আমি এটা নিশ্চিৎ ভাবে বলতে পারতেছি কারণ আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে।বলা যায় বাংলা ভাষার মধ্যেও এই ভাষা আমার জন্য আরও একটু বিশেষ।তাই এই বইটা আমার মনে আরও একটু বিশেষ ভাবে গেথে থাকবে।
Profile Image for Samiha Anu.
37 reviews19 followers
January 8, 2025
বছরের প্রথম পাঠ– শহীদুল জহিরের পারাপার। জহিরের লেখা পড়ার আগে নিজকে সাবধান করে রাখি, না বোঝার সম্ভাবনা শ'পার্সেন্ট৷ এই বেলায় বইটা তেমন ভয়ংকর ঠেকলো না। পারাপারে জহির সর্বোচ্চ সহজ, বোধগম্য, সব পাঠকের জন্য অনুকূল। পারাপার তাঁর প্রথম সংকলন। বোধকরি তিনি তখনও সিদ্ধান্ত নেয় নাই সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা তৈরি করবেন। ভাবেন নাই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর বাক্য লিখে গল্পকে জটিল করবেন এবং পাঠকের মাথা খারাপ করে দিবেন।

পছন্দের গল্প 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে'। সবগুলো গল্পই সুন্দর। 'ভালোবাসা' নামের একটা গল্পে জহির দেখালেন একটা গোলাপ ফুল প্রায় বিধ্বস্ত, আধভাঙা একটা সংসারের জন্য কত দামি।

যাক, ফাইন একটা বই দিয়ে বছর শুরু করলাম। এর থেকে আনন্দের আর কিছু নাই।
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
November 22, 2017
মনখারাপ করা এক বই... প্রচণ্ড মন খারাপ হবে, বইটা পড়া হলে... এত্ত খারাপ কেন লাগে? এত দুঃখবোধ কোথা থেকে আসে এই বুকে, এই হৃদয়ে?
Profile Image for Abhishek Saha Joy.
191 reviews56 followers
July 31, 2020
মোট ৫ টা গল্প আছে বইতে।সবগুলোই আমাদের প্রান্তিক মানুষের গল্প।তাদের জীবনযাত্রা,প্রতিদিনকার জীবনযুদ্ধ এসব ফুটে উঠেছে প্রতিটি গল্পে।তবে গল্পগুলো এমন যেগুলো না লিখলেও তেমন ক্ষতি ছিলো না মনে হয়।কাঁচা হাতের লেখার ছাপ লক্ষ্যণীয়।

একদম শেষ গল্প 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে' মন ছুঁয়ে যায়।সেজন্যে এক তারকা বেশি দিলাম!
Profile Image for Goutam.
5 reviews
March 15, 2014
শহীদুল জহির পড়িনি বলে ঢাকার এক বন্ধু ক্ষ্যাত বলেছিল, সে অনেক দিন আগে। বস্তুত, তাঁর মুখেই প্রথম শহীদুল জহিরের নাম শুনি; নাম শুনি মামুন হুসাইন কিংবা আকিমুন রহমান বা শাহাদুজ্জামানের নাম। পরবর্তী সময়ে এঁদের অনেকের লেখা পড়া হয়েছে- বন্ধুকে বলেছিলাম, শহীদুল জহির যেহেতু পড়েছি, নিশ্চয়ই ক্ষ্যাত থেকে উত্তরণ ঘটেছে? নাকি?

শহীদুল জহির না পড়লে ক্ষ্যাত- এমন দিব্যি দেওয়া যাবে না কখনোই। শহীদুল জহিরের লেখার চেয়ে অনেক 'ভালো' সাহিত্য আছে এদেশে (ভালো শব্দটা আপেক্ষিত, সেই আপেক্ষিকতাকে ধারণ করেই শব্দটি ব্যবহার করা); কিন্তু শহীদুল জহির পড়লে একটু অন্যরকম লাগে। সাহিত্যটা কি মূলত তাই নয়? আপনি দশ লেখকের দশটা বই পড়লেন, কিন্তু একজনের লেখার থেকে আরেকজনকে পৃথক করতে পারলেন না- সেক্ষেত্রে লেখকদের বাড়তি কি মূল্য থাকলো আপনার কাছে? শহীদুল জহির এক্ষেত্রে অনন্য। তাঁর লেখা আমার কাছে অন্যরকম লাগে- আর লাগে বলেই অনেক সময় একই গল্প ভিন্নভিন্ন সময়ে পড়ি।

শুনেছি, তিনি নাকি 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু' বইটি ছাপতে চাননি, কারণ এ তাঁর সাহিত্যিক হিসেবে বেড়ে ওঠার সময়কালে লেখা। 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু' পড়ার সময় নিজেরও বারবার মনে হচ্ছিল- এ ঠিক গোঁফ-ওঠা শহীদুল জহিরের নয়! কারণ শহীদুল জহির একটু অন্যরকম। ঠিক একইভাবে 'পারাপার' বইটিতে শহীদুল জহিরকে পুরোপুরি অন্যরকম মনে হয় না। এর বড় কারণ 'পারাপার'-এর একাধিক গল্পে গোঁফ-ওঠা (মানে পরিণত!) শহীদুল জহির অনুপস্থিত। 'ভালোবাসা' গল্পটির কথাই না হয় বলি এখানে উদাহরণ হিসেবে। এ কি আর আট-দশটা লেখার চেয়ে ভিন্ন কিছু?

কিন্তু শহীদুল জহির ভিন্ন কিছু স্বাতন্ত্র্যের আভাস দেন প্রতিটি গল্পেই। রোদে-পুড়ে কাল হয়ে যাওয়া মানুষটির ঔরস থেকে ফর্সা সন্তান জন্ম নিতেই পারে, কারণ কোমরের লেংটির ভেতর যে 'প্রডাকশন যন্ত্র'- রোদ তো সেটিকে কালো করতে পারেনি! সুতরাং ফর্সা সন্তান জন্মদানের জন্য আম্বিকে ছিনাল হতে হয় না, বরং কালো স্বামীর আবৃত অংশটুকু সে সগৌরবে প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারে। কিংবা 'পারাপার'-এ আবুল যখন অন্যের বাক্সপেটরার সাময়িক দেখভালের কর্তৃত্ব অর্জন করে বালক-কুলিদের সাথে নামানোর দরকষাকষিতে নিজের ক্ষমতায়নের অদৃশ্য হাত দেখাতে চায় এবং সেখান থেকে চড় খেয়ে পলায়নের অংশটুকুর মাঝামাঝি স্থানগুলোতে দালালির মনোভাব এবং এ-বিষয়ে নিজের বোঝাপড়াগুলো আস্তে আস্তে প্রকাশ করতে থাকে, তখন কি মন হয় না শহীদুল জহির একটু অন্যরকম!

কতোজন সাহিত্যিককে আমরা এই 'একটু অন্যরকম' বলতে পারি?

শহীদুল জহিরের পারাপার দ্বিতীয়বার পড়ে দ্বিতীয়বারের মতো হতাশ! কারণ তা পুরোপুরি শহীদুল জহির হয়ে উঠতে পারেনি আমার কাছে এখনও- ভবিষ্যতে পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু'তেও তিনি হতাশ করেছিলেন। তারপরও শহীদুল জহির পড়বো ভবিষ্যতে- কারণ সব মিলিয়ে তিনি আমার কাছে একজন শহীদুল জহির!
Profile Image for Sourav Das.
42 reviews76 followers
Read
June 17, 2016
শহীদুল জহিরের একেবারে প্রথম দিকের লেখা কিছু গল্পের সংকলন। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য, গল্প বলার ধরন বেশ লাগল।
Profile Image for Shuvongkar Shitu.
44 reviews17 followers
April 21, 2021
সুয়োরানী নেই, দুয়োরানী নেই, রাজা-মন্ত্রী-জমিদার নেই। ইউরোপীয় সাহিত্যের উচ্চবিত্ত নায়ক-নায়িকাদের কচকচানি ঘচঘচানি নেই, উচ্চবিত্ত সভ্য(!!!) সমাজের ফটর ফটর ইংরেজি নেই। কোন আকাশকুসুম কল্পনা নেই, কোন মহাপুরুষ নেই, কোন মহাপুরুষের খালা নেই, খালু নেই। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তারছেড়া অধ্যাপক নেই।

প্রত্যেকটা গল্পে আছে সোদা কাদামাটির গন্ধ, দিনমজুর জেলের শরীর থেকে বাতাসে ভেসে আসা আঁশটে উৎকট বিচ্ছিরি গন্ধ, মেথরের গা থেকে ভেসে আসা ফিনাইলের গন্ধ। অভাবের ভালবাসা নাকি ভালবাসাতেই অভাব নাকি ভালবাসা প্রকাশে সলজ্জ আহাজারি। প্রত্যেকটা গল্পই সুন্দর, হৃদয়ের কাছাকাছি।
Profile Image for Nabila Mushtarin.
55 reviews
July 3, 2020
৫ গল্পের ছোট্ট একটা বই। শহীদুল জহিরের প্রথমদিককার বই। যে কোন লেখকের শুরুর দিকের লেখার আমার কাছে আলাদা অ্যাপিল আছে। প্রথম গল্প থেকে শেষের গল্পে যেতে যেতে শহীদুল জহিরের নিজস্ব লেখনীভঙ্গি খুঁজে পাওয়ার যাত্রায় মনে হয় পাঠক হিসেবে আমিও কিছুটা শামিল হই।
সবথেকে ভালো লেগেছে শেষ গল্পটি, 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে'। এই বইটি আমার পড়া প্রথম জহির তবুও মনে হয় এই গল্পের টোন অন্যরকম সুন্দর, হয়ত এটা ঘুরেফিরে পরের লেখাগুলিতে আসবে। অন্য রিভিউগুলি পড়ে মনে হয়েছে ভুল কিছু মনে হয়নি।
Profile Image for Akash Saha.
156 reviews26 followers
August 4, 2020
পরিচিত শহিদুল জহিরকে খুজে পেলাম না।গল্পগুলো শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল।
Profile Image for Mehjabin Biva .
47 reviews23 followers
March 6, 2022
"এই বিরাট মহাশূন্যে আমি খালি একটা স্পেক। আমার অস্তিত্ব দিয়ে এর গ্র‍্যান্ড স্কিমের কিছুই যায় আসে না," এই জীবনে আপনি, আমি কম করে হইলেও অন্তত হাজারবার এ জাতীয় কথাবার্তা বলসি এবং আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে মেজরিটিই মুখে এমন জিনিসপাতি বললেও মনে মনে ক্ষীণ আশা করসি যেন আমাদের থাকা-না থাকা দিয়ে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কিছু হইলেও যায় আসে। 'পারাপার' বইয়ের চরিত্ররা হইলো তারা, যারা এই ক্ষীণ আশাও করে না অথবা হয়তো বলা উচিত, গ্র‍্যান্ড স্কিমটা তাদের কাছে মোটেও গ্র‍্যান্ড না বলেই তারা বরং এটারেই একটা স্পেক হিসেবে ধরে নেয় তাদের নিজস্ব স্কিমে। ব্যাপারটা মোটেও ক্ষুদ্রতার পরিচয় দেয় বলে আমার মনে হয় না, কারণ আমি এবং আমরা-রা ফিলোসফিকাল চিন্তাভাবনায় একের পর এক দিন পার করতেসি ঠিকই, কিন্তু আদতে বেশি কিছু উল্টাইতে পারি নাই এখন পর্যন্ত। তারচেয়ে বরং তোরাব মিয়া তার দুইখানি পাটকাঠির মতন হাড় নিয়ে আরো বেশিদূর যাওয়ার পরিকল্পনা করে ঘুমাইতে যাওয়ার আগে। ঘনশ্যামরঙা আম্বি মালেককে বিয়ে করার স্বপ্ন ছাড়ায় তরতর করে উঠে যায় অনেক উর্ধ্বে, বোদলেয়ারের চলিষ্ণু মেঘের মত। আনন্দ পাল লেনের ঘেয়ো রোদের কাছে নবাবের প্রার্থনা, আমার মায়ের মাগরিবের নামাজে হাত উঠায় কান্নার চেয়েও ঈশ্বরের মনে বেশি দাগ কাটে। সকল ঔদ্ধত্য যখন খালি মধ্যাঙ্গুলিই দেখায় যায় আমাদের, যমুনার কালো স্রোতের কাঁধে বেদখল নেয়া আবুল তখন ঠিকই এরে বুড়া আঙুল দেখায় দেয়। আবেদার খোঁপার ফুল আমার প্রেমিকের দেয়া ফুলের চাইতেও বেশিদিন, আরো বেশি লাল হয়ে বাঁচে।

অতঃপর আমি এবং আমরা-দের কাছে গ্র‍্যান্ড স্কিম জাতীয় ব্যাপারস্যাপার তুচ্ছ না হইলেও, বেশ ওভাররেটেড মনে হইতে থাকে এবং আমরা আবেগের সাথে আবৃত্তি করতে থাকি–

"ছোট প্রাণ ছোট কথা ছোট ছোট দুঃখ ব্যথা
নিতান্তই সহজ সরল, সহস্র বিস্মৃতি রাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি তারি দুচারটি অশ্রুজল।"
Profile Image for Ummea Salma.
126 reviews124 followers
July 8, 2020
এই বই পড়ার আগে শহীদুল জহিরের নামটা পর্যন্ত ও জানতাম না আমি। একজনের সাজেশনে পড়তে বসা।
খুব যে হতাশ হয়েছি তা না আবার সেই যে একদম মোহাবিষ্টের মত ভালোলাগা কাজ করেছে সেটা ও না। সব মিলিয়ে ছোট্ট ৫টা গল্প হলেও খারাপ ছিলো না। বিশেষ করে ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে।
আর যাই হোক একজন লেখকের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি এই বা কম কি!
উনার আরো লেখা সামনে পড়া হবে এটুকু বলতে পারি।
Profile Image for Ivan Kadery.
84 reviews
February 19, 2023
'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে' গল্পটা সবথেকে চমৎকার এই সংকলনের মধ্যে, 'পারাপার' মোটামুটি মানের, বাকি তিনটি গল্প বেশি সুবিধার মনে হয়নি।
Profile Image for Nayeem Samdanee.
58 reviews12 followers
March 25, 2023
শহীদুল জহিরের প্রথম বই। গল্পগুলো মোটামুটি, তবে ‘ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে’ গল্পটা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয়। একজন শক্তিমান গদ্যলেখকের আভাস আছে এই গল্পে। ‘ভালোবাসা’ গল্পটাকেও গড়পড়তার ওপরে রাখতে হবে।
Profile Image for Salawat Ullah.
29 reviews32 followers
October 10, 2016
Finally I've read a Shahidul Jahir's story book. Though 'Parapar' is his first work, it bears a distinguishable style and introduces him to us.
Profile Image for Ayesha.
117 reviews36 followers
April 19, 2018
৫ টা গল্প। গল্পগুলো ৩ দেওয়ার মত খারাপ না, আবার ৪ দেওয়ার মত ভালো না। এজন্যে ৩.৫ তারা।
Profile Image for Yasir Arafat.
96 reviews
October 3, 2024
সম্প্রতি পড়লাম শহীদুল জহিরের গল্পগ্রন্থ ‘পারাপার’। লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই এটি।
এটি প্রকাশিত হয়েছিল লেখকের পিতৃপ্রদত্ত ‘শহীদুল হক’ নামে।
“দেখা গেল শহীদুল হক নামে লোকে আমাকে চিনতে পারছে না, আমার লেখা ছাপানোর পরেও ভাবছে যে আমি, আমি না। তখন অন্য একজন শহীদুল হক ছিলেন, টাইমসের সম্পাদক, লেখালেখি করতেন; আরেকজন আছেন শহীদুল হক খান। আমি বুঝলাম যে, এঁরা আমার সমস্যার জন্য নিশ্চয়ই তাঁদের নিজেদের নাম বদলাবেন না, আমি অখ্যাত, আমাকেই বদলাতে হবে। জহিরউদ্দিন আমার দাদার নাম।” (শহীদুল জহির)

পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন এই বই।
√ মাটি ও মানুষের রং
√ তোরাব শেখ
√ পারাপার
√ ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে
√ ভালবাসা

গ্রামের মানুষের মধ্যে কালো বা ফর্সা গায়ের রং নিয়ে যে মানসিকতা কাজ করে সেটা দেখানো হয়েছে ‘মাটি ও মানুষের রং’ গল্পে। ‘তোরাব শেখ’ গল্পটি আত্মম্ভরি এক দরিদ্র বৃদ্ধের গল্প। জীবনযাপনের প্রয়োজনে গরীব মানুষদের নৈতিকতা বিসর্জনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী চরিত্র তোরাব শেখ।

‘পারাপার’ গল্পটি কিছুটা মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা থেকে লেখা। একটা ফেরিঘাটের পটভূমিতে লেখা এই গল্পে শ্রেণিসংগ্রামের রূপ বেশ ভালোভাবেই ফুটে ওঠে। ‘ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে’ গল্পটি এক ব্যক্তিত্বহীন মধ্যবয়সী লোককে নিয়ে। লোকটির নাম নবাব হলেও তার আচরণ ও কাজকর্মের সঙ্গে নামের একটা বৈপরীত্য দেখা যায়।
‘ভালবাসা’ গল্পটি চিরাচরিত ভালবাসার গল্প নয়। একটা নিম্নবিত্ত সাংসারিক জীবনের পটে অন্য একটা ভালবাসার স্বরূপ দেখিয়েছেন শহীদুল জহির।

সর্বোপরি বলা যায়, শহীদুল জহিরের নিজস্ব ভাষাবৈশিষ্ট্য ও ভিন্ন স্বাদের গল্পের জন্য এটি একটি অনন্য গ্রন্থ।
Profile Image for উচ্ছ্বাস তৌসিফ.
Author 8 books70 followers
August 25, 2021
ভালোবাসা কাকে বলে? মানুষের রং কী - সাদা, না কালো? ওই যে ছেলেটা হাবুডুবু খাচ্ছে পানিতে, লোকটা বসে আছে বিবাহিত একটি মেয়ের সামনে, ওদের ভবিষ্যৎ কী?

ছোট গল্পের একদম হৃদয়টাকে ছুঁয়ে গেছেন শহীদুল জহির। প্রতিটা মুহূর্ত একটু একটু করে পেরোয়, আর গল্প জমে। জমে জমে একটা অদ্ভুত আচ্ছন্নতা তৈরি হয়। পর্দা নেমে যায় ছোট গল্পের। শেষ হয়ে যায়, কিংবা হয় না।

শুধু পারাপার গল্পটির ভাষায় খানিকটা যেন জড়তা আছে। পাঠক হিসেবে অতিদুঃসাহসে ভর করেই এটুকু বলা যায়, এই গল্পটিতে কেন যেন অন্য গল্পগুলোর মতো একঘেয়ে জীবনের ভাষাটা ঝরঝরে দুঃখ নিয়ে ফোটেনি। কোথায় যেন একটু একটু জমে গেছে। যদিও শেষে গিয়ে গল্পটা হয়ে উঠেছে এই বইয়ের প্রতীক - নাম গল্প। পারাপার।

প্রতিটা গল্প-ই আসলে জীবন নদী পাড়ি দেওয়ার গল্প। পারাপার।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
July 28, 2025
জহির সাহেবের মূল রাজ্যে ঢুকে পড়ার পূর্বে ‘পারপার’ সংকলনের গল্পগুলো স্মরণ করিয়ে দিবে... জহির সাহেব জানেন কীভাবে সমাজের খড়কুটোদের গল্প বলতে হয়। তাদের সংগ্রাম আর সংকট জড়াজড়ি করে ফুটিয়ে তুলতে হয়। কীভাবে তাদের দেখা হয় সমাজে আর কীভাবে ওরা বেঁচে থাকে গড়পড়তা মরে যাওয়া দিনগুলোর এক টুকরো আলো জ্বালিয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে কিংবা হারিয়ে যেতে অন্ধকারে চিরতরে।
Displaying 1 - 30 of 53 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.