জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা, অবাস্তব যাই লেখা হোক; আসলে কি ভেবে কি লেখা হয়েছে লেখকরাই ভাল বলতে পারবেন। এইতো ক'দিন আগেও জীবনানন্দ বাবুর কবিতা পড়তে গেলে মনে হতো- একটা উড়ন্ত চিঠি লিখি: কবি সাব! এই কবিতাটা কি ভাইবা লিখছেন? বলবেন নাকি একটু? তারপর মনে হয় থাক গা, মন মতো বানাই কিছু একটা!
আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই:
এই কলোনিতে কেন নয়নতারা ফুল নেই তা জানার জন্য আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করি। তারপর দেখি এই কলোনি নয়নতারা ফুলে ভর্তি। ব্যালকনির রেলিঙে নয়নতারা, শোবার ঘরে নয়নতারা; নয়নতারা কোথায় নেই!!
তারপর হঠাৎ করে ভূমিকম্প হয়; আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল দিয়ে ভরিয়ে ফেলা মহিলার স্বামী আব্দুস সাত্তার নয়নতারা ফুলের টবকে রক্ষা করতে গিয়ে ভূপতিত হতে হতে আমাকে ২০১৩ সালে ধ্বসে পড়া রানা প্লাজা ভবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। অতঃপর দেখা যায় নয়নতারা ফুল গাছ রাগ করে বসে আছে, খালি আত্নহত্যা করে।
কাঠুরে ও দাঁড়কাক:
আকালু, তার স্ত্রী টেপি এবং কাউয়াগুলোর উপর বড় বিরক্ত হয়েছি। বড়ই নির্বুদ্ধি!
সমাজে এমন কাহিনী হামেশাই দেখা যায়। এরা বারবার বঞ্চিত, লাঞ্ছিত হয়েছে। নিজেদের মতো আলাদা থেকেই তেমন শান্তি পায়নি; শেষে কাক ওরফে কাউকা তাদের উদ্ধার করেছে বলে মনে হল।
(খুব বিরক্ত হয়েছি এই গল্প পড়ে😑)
ডুমুরখেকো মানুষ:
এখানে মোহাব্বত আলি প্রীতিলতা নামক হাড্ডি দিয়ে জাদু দেখিয়ে ডুমুর ফল বিক্রি করে। মানুষজন কিনে খায়ও। একসময় দেখা যায় ডুমুরে আসক্ত হয়ে যায় কিছু মানুষ, তবে তারা আর আগের দামে ডুমুর পায় না। মোহাব্বত আলির দারুণ ব্যবসা বোঝে, ডুমুরাসক্তদের জন্য ডুমুরের বিক্রয়মূল্য বহুত চড়া হয়ে যায়। শেষে ডুমুরাসক্ত মানুষগুলো জাদুকরকে মেরেই ফেলে। জাদুকরকে হত্যা করে তারা এখানে কিংবা ওখানে গিয়ে নিজেরাই হাওয়া হয়ে যায়, জনশ্রুতি হয়ে যায়...বুম...জাদু।
মাথায় খালি ড্রাগ ডিলারদের কথা ঘুরছিল🐸 পরে একটা কফির কথা মনে পড়লো, শীতে ব্যবহার্য পেট্রোলিয়াম জেলির কথা মনে পড়লো। কফিটার দাম চোখের পলকে বেড়ে গেছে। ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত ৭ টি স্যাশে প্যাক, এখন ১০০ টাকায় ৪ টা! জেলির স্টিকের দাম ছিল ২৫ টাকা, বাড়তে বাড়তে ৪৫ হয়েছে। এ বছর ৫০ হয়েছে কিনা জানি না। আমি তো আর ডুমুর খেকোদের মতো খুন-খারাবি করে উবে যেতে পারবো না; তাই বিরক্তি দমাতে ঘরে থাকা আগের বছরের ভ্যাসলিন দিয়ে শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যা করেছি 🐸
এই সময়:
বিধবা শিরীন আকতারের গল্প কিংবা মোহাম্মদ সেলিমের গল্প নাকি তিন ভাইদের গল্প? কে জানে! আজিজ মিয়ার ২২ বছরের অসম্ভব রূপবতী কন্যা বিধবা হয়ে ঘরে ফিরলে সকলেই তাকে দেখে বিমোহিত হয়ে যায়। আহারে একাকী তরুণী, সবাই খুব খেয়াল রাখা শুরু করে; কেউ শাড়ী-গহনা পাঠায়, কেউ পাঠায় আতর আর সুবাসিত ফুল। তাহলে হতে পারে ভূতের গলির সবার গল্প। এখানে জাদু না থাকলেও রয়েছে বাস্তবতার প্রকট উপস্থাপন।
কাঁটা:
ভূতের গলির বেশ ক'টা সময়ের চিত্র দেখা যায়। যুদ্ধের একটা অংশও ঝিলিক দিয়ে যায়। আজিজ ব্যাপারীর ভাড়াটে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার কূয়ার গভীরে পতনের কাহিনী দেজা ভ্যু এর মতো বারে বারে ফিরে আসে। সঠিক ভাবে একই বিপদের মোকাবেলা না করতে পেরে পাপের ভাগীদার হয় গলির মানুষগুলো। কিন্তু সাধারণ মানুষের মতো এরাও একই কাজ বার বার করতে থাকে আর পাপবোধে লিপ্ত হয়। কিন্তু বারবার ফিরে আসা সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার কথা ভেবে এর প্রতিকার হিসেবে কূয়াটি ভরাট করে ফেলতে গেলেই সাক্ষাত শয়তানের মতো মনকে ধোঁকা দেয়ার মতো করে আজিজ ব্যাপারী বলে ওঠে কারা এরা! বাস্তব-অবাস্তবের মিশেলে ভূতের গলির মানুষগুলো আবার দিশেহারা হয়ে যায়।
ধুলোর দিনে ফেরা:
নিছকই একটি গল্প বলে মনে হয়েছে। ২১ বছর পরে আবদুল ওয়াহিদ তার সুহাসিনী গ্রামে ফিরে আসে। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তার মৃতদেহ পাওয়া যায় ফসলের মাঠে। সুহাসিনী গ্রামের মানুষের ধারণা ওয়াহিদ মারা পড়বার জন্যই গ্রামে ফিরেছিল। গল্পটি তেমন ভালো না লাগলেও ময়না দুটির কথোপকথন মন্দ লাগে নি।
ময়না ১: কান্দেন ক্যা?
ময়না ২: সুখ নাই জীবনে।
চতুর্থ মাত্রা:
একটা ঘড়িতে আপন গতিতে সময় যায়। আর আমরা জনাব আব্দুল করিমের নিত্য দিনকার ঝামেলাবিহীন কাজকর্ম দেখি। কোনো এক সময় দেখি আব্দুল করিম সাহেব ছয় টাকা দরে পেপার বিক্রি করেন; আবার কখনও পাঁচ কিংবা হকার আরও কমাতে চায় কারণ অতো বেশিতে পারন যায় না। কখনও তাকে বালকদের কটকটি খাওয়ার জন্য একটি কিংবা দুইটি হয়তো তিনটি ভাঙা কাচের গ্লাস রাখতে দেখা যায়। কখনও বেঞ্চিতে শুয়ে থাকা করিম সাহেবের পাশ দিয়ে খটখট করে এক তরুণী হেঁটে যায়।
এ গল্পে আদতে একঘেয়ে দিন কাটানো নিজেকেই দেখে ফেলছি। তাই একঘেয়ে লাইনগুলার বারবার প্রত্যাবর্তনের পরেও বিরক্ত হতে হতে...বিরক্ত হই নাই।
আমার এক বান্ধবী আছে যে কোনো কিছু ঠিকঠাক না হলে বারবার বলতেই থাকে,' এ...এডা কিছু হইলো!?' তো শুরুর দিকের গল্প পড়ে আমার বান্ধবীর কথা বারবার মনে পড়ছিল। তারপরেই হঠাৎ করে মনে পড়ে- আইলা!!!.....জাদু! জাদুবাস্তবতা। হয়তো/কিংবা/নয়তো/অথবার গ্যাঁড়াকলে ঘোলাটে দৃশ্যপটে অভ্যস্ত না হওয়ায় বিরক্ত হয়েছি বৈকি। মনে হয়েছে ইন্টারেস্টিং বিরক্তিকর লেখা 😂
যাইহোক, শহীদুল জহির সমগ্র এর সফটকপি থেকে পড়ছিলাম। শুরু যখন করেছি শেষ করার ইচ্ছা রইল।
~২৫ এপ্রিল, ২০২১