Jump to ratings and reviews
Rate this book

ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প

Rate this book
ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্পে সংকলিত ৭ টি গল্পঃ
* আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই
* কাঠুরে ও দাঁড়কাক
* ডুমুরখেকো মানুষ
* এই সময়
* কাঁটা
* ধুলোর দিনে ফেরা
* চতুর্থ মাত্রা

Unknown Binding

First published January 1, 1999

14 people are currently reading
246 people want to read

About the author

Shahidul Jahir

18 books174 followers
Shahidul Jahir (also spelled Zahir) was a Bangladeshi novelist and short story writer. He was reputed for extraordinary prose style and diciton and considered a genuine founder of post-modern fiction in Bangla literature.

Born in Dhaka, Bangladesh in 1953 as Shahidul Huq, he joined the Bangladesh Civil Service in the Administrative cadre in 1981. In 2008, he was appointed as a Secretary in Charge of Ministry of CHT affairs to the Government of Bangladesh. A confirmed bachelor, he lived a quiet and a very simple life. Hardly he agreed for a formal interview for publication.

Shahidul Jahir was one of the most important contemporary writers in Bangladesh. He became interested in magic realism after reading Marquez's works. He was known to some people as the Márquez of Bangladesh, carrying on the legacy of magic-realism with strokes of his own unique surrealist style, deeply imbibing the politics, history and culture of Bangladesh, his own country home in Sirajganj and his place of birth. However, his style also reminds of Syed Waliullah, a modern Bangla fiction author of Western lineage. But he had his own style of labyrinthine narration that would lead his readers to a maze. He relied more on narration than dialogue between characters. His diction was symbolic and mystified. He resorted to colloquialism in order to infuse reality into the context and story-line. The name of his last published story was, "Miracle of Life". Here is an excerpt (translated from Bangla) from his swan song:

"An adolescent girl, or a young girl, or who is just a gal...whatever, what do we do with her? She can have a name, since she is a human being, and human beings do have names, so her name could be Pari, Banu, or Ayesha... ...If she stands at the edge of the dirty drains, standing inside her home, as broke as the ragged nest of a magpie (babui), her mother runs around...her mother goes around cooking for others, she cooks rice, she cooks curries,she makes chapatis, there are people who swallow them, or maybe they rebuke her, What the hell have you cooked,woman!... ...Perhaps at that moment, Pari or Pari Banu, is standing at the rail ways of Dayaganj or Shamibag, holding the hands of her little sister or brother, and their father runs around, he too goes to places, maybe he does things, pulls someone else's rickshaw, pushes someone else's cart, or maybe he does nothing, he just lies down on his bed and suffers from piles. Then, what do we do with this Pari? The leader, or the official of this republic, the officers, or the civil society - none of them know...We have no idea what to do with her..."


In his writing career spreading over more than two decades, Jahir published only three novels and three collections of short stories. Two collections of his selected novels and short stories were published in 2007.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
97 (50%)
4 stars
66 (34%)
3 stars
20 (10%)
2 stars
5 (2%)
1 star
4 (2%)
Displaying 1 - 22 of 22 reviews
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
April 25, 2021
জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা, অবাস্তব যাই লেখা হোক; আসলে কি ভেবে কি লেখা হয়েছে লেখকরাই ভাল বলতে পারবেন। এইতো ক'দিন আগেও জীবনানন্দ বাবুর কবিতা পড়তে গেলে মনে হতো- একটা উড়ন্ত চিঠি লিখি: কবি সাব! এই কবিতাটা কি ভাইবা লিখছেন? বলবেন নাকি একটু? তারপর মনে হয় থাক গা, মন মতো বানাই কিছু একটা!


আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই:
এই কলোনিতে কেন নয়নতারা ফুল নেই তা জানার জন্য আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করি। তারপর দেখি এই কলোনি নয়নতারা ফুলে ভর্তি। ব্যালকনির রেলিঙে নয়নতারা, শোবার ঘরে নয়নতারা; নয়নতারা কোথায় নেই!!

তারপর হঠাৎ করে ভূমিকম্প হয়; আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল দিয়ে ভরিয়ে ফেলা মহিলার স্বামী আব্দুস সাত্তার নয়নতারা ফুলের টবকে রক্ষা করতে গিয়ে ভূপতিত হতে হতে আমাকে ২০১৩ সালে ধ্বসে পড়া রানা প্লাজা ভবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। অতঃপর দেখা যায় নয়নতারা ফুল গাছ রাগ করে বসে আছে, খালি আত্নহত্যা করে।


কাঠুরে ও দাঁড়কাক:
আকালু, তার স্ত্রী টেপি এবং কাউয়াগুলোর উপর বড় বিরক্ত হয়েছি। বড়ই নির্বুদ্ধি!

সমাজে এমন কাহিনী হামেশাই দেখা যায়। এরা বারবার বঞ্চিত, লাঞ্ছিত হয়েছে। নিজেদের মতো আলাদা থেকেই তেমন শান্তি পায়নি; শেষে কাক ওরফে কাউকা তাদের উদ্ধার করেছে বলে মনে হল।
(খুব বিরক্ত হয়েছি এই গল্প পড়ে😑)


ডুমুরখেকো মানুষ:
এখানে মোহাব্বত আলি প্রীতিলতা নামক হাড্ডি দিয়ে জাদু দেখিয়ে ডুমুর ফল বিক্রি করে। মানুষজন কিনে খায়ও। একসময় দেখা যায় ডুমুরে আসক্ত হয়ে যায় কিছু মানুষ, তবে তারা আর আগের দামে ডুমুর পায় না। মোহাব্বত আলির দারুণ ব্যবসা বোঝে, ডুমুরাসক্তদের জন্য ডুমুরের বিক্রয়মূল্য বহুত চড়া হয়ে যায়। শেষে ডুমুরাসক্ত মানুষগুলো জাদুকরকে মেরেই ফেলে। জাদুকরকে হত্যা করে তারা এখানে কিংবা ওখানে গিয়ে নিজেরাই হাওয়া হয়ে যায়, জনশ্রুতি হয়ে যায়...বুম...জাদু।

মাথায় খালি ড্রাগ ডিলারদের কথা ঘুরছিল🐸 পরে একটা কফির কথা মনে পড়লো, শীতে ব্যবহার্য পেট্রোলিয়াম জেলির কথা মনে পড়লো। কফিটার দাম চোখের পলকে বেড়ে গেছে। ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত ৭ টি স্যাশে প্যাক, এখন ১০০ টাকায় ৪ টা! জেলির স্টিকের দাম ছিল ২৫ টাকা, বাড়তে বাড়তে ৪৫ হয়েছে। এ বছর ৫০ হয়েছে কিনা জানি না। আমি তো আর ডুমুর খেকোদের মতো খুন-খারাবি করে উবে যেতে পারবো না; তাই বিরক্তি দমাতে ঘরে থাকা আগের বছরের ভ্যাসলিন দিয়ে শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যা করেছি 🐸


এই সময়:
বিধবা শিরীন আকতারের গল্প কিংবা মোহাম্মদ সেলিমের গল্প নাকি তিন ভাইদের গল্প? কে জানে! আজিজ মিয়ার ২২ বছরের অসম্ভব রূপবতী কন্যা বিধবা হয়ে ঘরে ফিরলে সকলেই তাকে দেখে বিমোহিত হয়ে যায়। আহারে একাকী তরুণী, সবাই খুব খেয়াল রাখা শুরু করে; কেউ শাড়ী-গহনা পাঠায়, কেউ পাঠায় আতর আর সুবাসিত ফুল। তাহলে হতে পারে ভূতের গলির সবার গল্প। এখানে জাদু না থাকলেও রয়েছে বাস্তবতার প্রকট উপস্থাপন।


কাঁটা:
ভূতের গলির বেশ ক'টা সময়ের চিত্র দেখা যায়। যুদ্ধের একটা অংশও ঝিলিক দিয়ে যায়। আজিজ ব্যাপারীর ভাড়াটে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার কূয়ার গভীরে পতনের কাহিনী দেজা ভ্যু এর মতো বারে বারে ফিরে আসে। সঠিক ভাবে একই বিপদের মোকাবেলা না করতে পেরে পাপের ভাগীদার হয় গলির মানুষগুলো। কিন্তু সাধারণ মানুষের মতো এরাও একই কাজ বার বার করতে থাকে আর পাপবোধে লিপ্ত হয়। কিন্তু বারবার ফিরে আসা সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার কথা ভেবে এর প্রতিকার হিসেবে কূয়াটি ভরাট করে ফেলতে গেলেই সাক্ষাত শয়তানের মতো মনকে ধোঁকা দেয়ার মতো করে আজিজ ব্যাপারী বলে ওঠে কারা এরা! বাস্তব-অবাস্তবের মিশেলে ভূতের গলির মানুষগুলো আবার দিশেহারা হয়ে যায়।


ধুলোর দিনে ফেরা:
নিছকই একটি গল্প বলে মনে হয়েছে। ২১ বছর পরে আবদুল ওয়াহিদ তার সুহাসিনী গ্রামে ফিরে আসে। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তার মৃতদেহ পাওয়া যায় ফসলের মাঠে। সুহাসিনী গ্রামের মানুষের ধারণা ওয়াহিদ মারা পড়বার জন্যই গ্রামে ফিরেছিল। গল্পটি তেমন ভালো না লাগলেও ময়না দুটির কথোপকথন মন্দ লাগে নি।

ময়না ১: কান্দেন ক্যা?
ময়না ২: সুখ নাই জীবনে।


চতুর্থ মাত্রা:
একটা ঘড়িতে আপন গতিতে সময় যায়। আর আমরা জনাব আব্দুল করিমের নিত্য দিনকার ঝামেলাবিহীন কাজকর্ম দেখি। কোনো এক সময় দেখি আব্দুল করিম সাহেব ছয় টাকা দরে পেপার বিক্রি করেন; আবার কখনও পাঁচ কিংবা হকার আরও কমাতে চায় কারণ অতো বেশিতে পারন যায় না। কখনও তাকে বালকদের কটকটি খাওয়ার জন্য একটি কিংবা দুইটি হয়তো তিনটি ভাঙা কাচের গ্লাস রাখতে দেখা যায়। কখনও বেঞ্চিতে শুয়ে থাকা করিম সাহেবের পাশ দিয়ে খটখট করে এক তরুণী হেঁটে যায়।

এ গল্পে আদতে একঘেয়ে দিন কাটানো নিজেকেই দেখে ফেলছি। তাই একঘেয়ে লাইনগুলার বারবার প্রত্যাবর্তনের পরেও বিরক্ত হতে হতে...বিরক্ত হই নাই।


আমার এক বান্ধবী আছে যে কোনো কিছু ঠিকঠাক না হলে বারবার বলতেই থাকে,' এ...এডা কিছু হইলো!?' তো শুরুর দিকের গল্প পড়ে আমার বান্ধবীর কথা বারবার মনে পড়ছিল। তারপরেই হঠাৎ করে মনে পড়ে- আইলা!!!.....জাদু! জাদুবাস্তবতা। হয়তো/কিংবা/নয়তো/অথবার গ্যাঁড়াকলে ঘোলাটে দৃশ্যপটে অভ্যস্ত না হওয়ায় বিরক্ত হয়েছি বৈকি। মনে হয়েছে ইন্টারেস্টিং বিরক্তিকর লেখা 😂

যাইহোক, শহীদুল জহির সমগ্র এর সফটকপি থেকে পড়ছিলাম। শুরু যখন করেছি শেষ করার ইচ্ছা রইল।


~২৫ এপ্রিল, ২০২১
Profile Image for Humaira Tihi.
79 reviews28 followers
April 21, 2023
বই থেকে বইয়ের সন্ধান পাওয়া খুবই আনন্দের। যদিও বই থেকে সন্ধান পাওয়ার আগেই একদিন টিএসসির পাচিলে পা তুলে বসে চা খাওয়ার সময় ছন্দা আপা আমার গল্প শুনতে শুনতে বলেছিলেন, তুমি শহীদুল জহিরের বইগুলি পড় তিহি। তোমার ভাল লাগার কথা। সেদিন আমি জানতাম না, মরিয়া হয়ে পিডিএফ নামিয়েই পড়া শুরু করব সামনেই একদিন।

সাতটি ছোট গল্প-

আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল নেই কেন কাঠুরে ও দাড়কাক
ডুমুরখেকো মানুষ
এই সময়
কাঁটা
ধুলোর দিনে ফেরা
চতুর্থ মাত্রা

এর কিছু গল্প পড়তে গিয়ে এক সময় মনে হচ্ছিল মাথার ভেতর বাচ্চা একটা ছেলে সুর করে পড়া মুখস্ত করছে। এই মনে হওয়ার কারণ সম্ভবত একঘেয়ে ছন্দটা। সব জায়গাতে ছিল না। কিছু গল্পে ছিল। তাছাড়া সর্বনাম আর অব্যয়ের অদ্ভুত এক কারসাজি আছে। মাথায় কেমন ঝিম ধরে যায়৷

আমার অবশ্য আলোচ্য বিষয় সেটা না। আজকের এই লেখাকে পাঠপ্রতিক্রিয়া ধরাটাও ভুল হবে। এই বই পড়ার পরপর সেরকম কিছু লিখতে পারার কথা না। এইসব গল্পের কোন শুরু বা শেষ নেই, মধ্যবর্তী কোন যাত্রা নেই, চুপ করে থেমে যাওয়ার মত জায়গা নেই। একদল হৈ চৈ কারী মানুষের ভীড়ে একটা বা দু'টা সাধারণ মানুষের কাজ কারবার। সেখানেও তাল ধরে রাখা মুশকীল!

একটা নয়নতারা গাছ যে আত্মহত্যা করতে পারে, কাকের ডিমভাজা খেয়ে যে দিনের পর দিন বেঁচে থাকা যায় কিংবা এক থলে ডুমুরের নেশা কেমন করে গুণোত্তর ধারায় বাড়ে আর মৃত একটা নদী দেখতেও যে মালিকের পারমিশন লাগে... এই ধরণের চিন্তা আমার মাথায় কখনো আসলেও প্রশ্রয় পেত না। আমি মুগ্ধ হয়েছি এই লাগামহীন চিন্তার সাহস দেখে!

বিশেষ করে পছন্দ হয়েছে প্রথম, তৃতীয় আর শেষ গল্পটা। শুধু পড়ে গেলে অর্থহীন মনে হতে পারে। বা��্যদের সম্পর্ক এখানে তথাকথিত না। এর একটু বাইরে গিয়ে নড়েচড়ে বসলে নয়নতারার মৃদু ঘ্রাণের মতই একটা আবেশ আসে।

আমার মত যারা দুই যোগ দুই ��ার জেনেও শব্দটা সরাসরি বলতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। বহুমাত্রিক সত্যের আনন্দে এই পড়াটা আনন্দের হবে আসলেই...
Profile Image for Saiful Sourav.
103 reviews72 followers
December 12, 2022
আগেই বলে নেয়া ভালো এটা বইয়ের রিভিউ না। কেউ শহীদুল জহির না পড়ে থাকলে, বিশেষ করে ছোটগল্প, এই পোস্ট পড়ে গল্পের অভিনবত্ব আঁচ করে আগ্রহী হতে পারেন ।


'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' বইয়ের 'আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই'- এই গল্পে ভূমিকম্পের সময় অদ্ভুতভাবে আবদুস সাত্তার একটা নয়নতারার চারা বাঁচাতে গিয়ে খাড়া মাটিতে পড়ে মাথা থেতলে মরে যায় । এরপর থেকে ওই কলোনিতে আর কোন নয়নতারা ফুল ফুটে না । কৃষি অধিদপ্তরের মাটি গবেষকরা কোন কারণ খুঁজে পায় না ফুল না ফোটার । মনে হয় যেন অপরিকল্পিত দালান নির্মানের ফলে ভূমিকম্প প্রবণ শহরে একজন বৃক্ষপ্রেমী আবদুস সাত্তারের মৃত্যুতে নয়নতারা ফুলেরা অভিমান করে আর ফুটে না ।

যাদুবাস্তবতার অঙ্গনে বাংলা ভাষায় প্রথম নাম বলা যায় শহীদুল জহির । ঘটনার অদ্ভুতত্ব ধরা আর উপমায় ঘটনা বলা তার হাতের ময়লা ।

'ডুমুরখেকো মানুষ' এমনই এক গল্প, যেখানে এক জোকার + ম্যাজিশিয়ান একটা পার্কে খেলা দেখিয়ে ডুমুর বিক্রি করে । তার চালচলন আর অত্যুক্তিতে মানুষ সচকিত হয়ে পড়ে । সে একটা হাড় হাতে নিয়ে বলে- এটা কি? উৎসুক জনতার একজন বলে- একটা হাড্ডি । তখন ম্যাজিশিয়ান লোকটা বলে- না এইটা প্রিতীলতা, একটু বাদে হ্যায় উইঠা সালাম জানাইব । তারপর সে তার যাদুর হ্যাট থেকে ডুমুর বের করে লোকজনের কাছে বিক্রি করে । কিছুদিন পর একপর্যায়ে ডুমুরাসক্ত লোকজন বিক্রেতা লোকটার বাড়ি গিয়ে ডুমুর না পেয়ে তাকে মেরে ফ্যালে । গল্পটা পড়ে প্রথমে মনে হতে পারে জোকার লোকটা আসলে কি করে বা ঘটনা কি হল? চিরুনী, কলম, মলম বেচা ক্যানভাসাররা কিন্তু ভালো কথা জানে । বর্তমানে তো পণ্য বিপণন বিদ্যার নামে খাতা-পত্র আছে কার্টন ভরা কলম-মলম থেকে হাতি-ঘোড়া বেচার জন্য।

'চতুর্থ মাত্রা' এক মনোরম মনোটোনাস গল্প।
আবদুল করিম একা একতলা বাড়ির জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকেন। বিকালে বালকের দল ছুটে এসে আবদুল করিমের দরজা থেকে ভাঙ্গা গ্লাস নিয়ে গিয়ে কটকটি খেতে গিয়ে মারামারি করে। সন্ধ্যায় বালকদের পিতা-মাতা নালিশ করতে আসে আর যাবার সময় এক ব্যক্তি বলেন-'একখান ভাঙ্গা গেলাসে এই এট্টুহানি কটকটি দেয়, আর পোলাপানগুলা মারামারি কইরা মরে।'
আবদুল করিমঃ তা আমি কি করব!
বালকের এক পিতা বলেন-'এখন থিকা দুইটা গেলাস ভাঙ্গলে বাইরে থুইবেন।'
আবদুল করিম নির্বাক বই পড়বেন। হাতে থেকে ফেলে একটা গ্লাস ভেঙ্গে দরজার বাইরে রেখে এসে ঘুমাবেন। সকালে কেসিও ক্রোনো ঘড়িতে এলার্ম বাজবে। আবদুল করিম উঠে পড়বেন। কোন একদিন হয়ত পুরানো পেপারঅলা যাবার সময় ডাকবেন- কত পেপার?
হকারঃ বাংলা না ইংরেজি?
আ.কঃ বাংলা
হকারঃ ছয় টাকা
আ.কঃ আর ইংরেজি?
হকারঃ ছয় টাকাই
আবদুল করিম সাত শ পঁচিশ গ্রাম পেপার বেচে টাকা বুঝে নেবেন। দুপুরে খাওয়া শেষে বিশ্রাম কালে আবার বালকদের হইহল্লা শোনা যাবে। বাড়ির সামনে বেঞ্চে বসে থাকার সময় কোন একদিন এক হাইহিলা তরুনী এসে জিজ্ঞেস করবে- সেলিমের বাড়িটা চিনেন?
আ.কঃ এই তো সামনেই। তিনটা বাসা পরে থাকে খাজা মোঃ অলি।
তরুণীঃ কিন্তু আমি তো সেলিমের বাসা খুঁজছি।
আ.কঃ খাজা মোঃ আলিকে জিজ্ঞাস করলে তিনি আপনাকে সেলিমের ঠিকানা বলতে পারবেন।
হাইহিলা চলে যায়, সন্ধ্যা নামে। আবদুল করিম দৈনন্দিনতায় ব্যস্ত হন। রাতে স্বপ্নে এক লোক জিজ্ঞেস করে- কি দেখেন?
আ.কঃ নদী দেখি
লোকঃ নদী তো নাই, শুকায়া গেছে
আ.কঃ শুকনা নদীই দেখি
লোকঃ শুকনা নদীও তো নাই, এইটা তো ধানক্ষেত
আ.কঃ ধানক্ষেতই দেখি
লোকঃ ধানক্ষেতও তো নাই। এইটা শুকনা ফাটা জমি।
আ.কঃ তাইলে শুকনা ফাটা জমিই দেখি
লোকঃ এই জমি আমার, পারমিশন নিছেন?
আ.কঃ নদী দেখতে পারমিশন লাগে নাকি
তখন লোকটার সাথে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে ঘুম ভেঙ্গে যাবে হয়ত কোন একদিন। আর কেসিও ক্রোনো ঘড়িতে সময় বয়ে যেতে থাকবে।

এই বইয়ের প্রত্যেকটা গল্পই একটা আরেকটাকে অতিক্রম করে পুরো বইটাই একটা বিশেষ কিছু হয়ে উঠে যেন। শহীদুল জহির কি গল্পে, কি ভাষায় যা নিয়ে এসেছেন তাতে চমৎকৃত না হয়ে যেন উপায়ই নাই।
Profile Image for Ratul.
70 reviews22 followers
April 15, 2016
'দুর্বোধ্যতা' যদি কোন গল্পের সার্থকতার মানদন্ড হয়, তাইলে এই বইয়ের প্রায় প্রতিটা গল্পই পাঁচে দশ পাওয়ার যোগ্য। তবে এইটাও সত্য যে, কোন কিছু বেশি সহজে বুইঝা গেলে মনের মধ্যে ততটা প্রভাব ফেলে না, যতটা ফেলে কঠিন কইরা বুঝলে। আমার যেইটা মনে হইছে, শহীদুল জহির 'আমজনতা'দের নিয়া গল্প লিখলেও, 'আমপাঠক'দের জন্য লেখেন নাই। ফলসমাজে আমের অবস্থান বিশেষ সম্মানজনক হইলেও, পাঠকসমাজে আমপাঠকদের অবস্থান সম্পুর্ন বিপরীত। আমপাঠকেরা 'জাদু' বোঝে, 'বাস্তবতা'ও বোঝে। কিন্তু দুইটা মিলামিশা যখন 'জাদুবাস্তবতা' হয়া যায়, তখন আমপাঠকদের বিশেষ বেগ পাইতে হয় ঘটনা বুঝতে। আমার ক্ষেত্রেও সেইটাই ঘটছে :( । এক কথায় বললে, গল্পগুলা পইড়া আমার মনে হইছে 'শুদ্রদের নিয়া ব্রাক্ষনদের জন্য লেখা গল্প'। লেখক গল্পে যে মেসেজ দিতে চাইছেন, সেইটা ধরতে হইলে পাঠকদের একটা সার্টেন লেভেলের ম্যাচুরিটি লাইগবে। আনফরচুনেটলি, সেই লেভেলের ম্যাচুরিটি সম্ভবত এখনও আইসে নাই আমার। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হইলো, গল্পগুলা পইড়া যেমন কিছু বুঝি নাই, গল্পগুলার কয়েকটা রিভিউ পইড়াও কিছু বুঝি নাই! ধইরা নিছি যে, জাদুবাস্তব গল্পের মতন রিভিউ গুলাও জাদুবাস্তব হইছে :v ! গল্পের বিষয়বস্ত, চরিত্র চিত্রায়ন, শব্দ ও ভাষার ব্যবহার ভাল লাগছে। এই জন্য পাঁচে চার। 'বড়' হয়া আবার পড়ার ইচ্ছা রইলো :( !
Profile Image for Salawat Ullah.
29 reviews32 followers
January 16, 2018
প্রথমে 'পারাপার' পড়েছি। সহজ সরল ভাষায় লেখা গল্প এবং শক্তিশালী বার্তাবাহী; পড়েই ভালো লেগেছে। রিভিউ পড়ে জেনেছি, ওই গল্পগুলো নাকি শহীদুল জহিরের শহীদুল জহির হয়ে ওঠার আগের গল্প।

তাহলে শহীদুল জহিরের গল্পগুলো কেমন; যার জন্য তাকে লেখকদের লেখক বলা হয়? 'ডুমুর খেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' পড়া শুরু করলাম। এখন আমি জাদুবাস্তবতার নেশায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছি।
Profile Image for Maruf Hossain.
Author 37 books258 followers
December 19, 2016
'পারাপার' পড়ে যতটা ভালো লেগেছিল এ বইয়ের গল্পগুলো পড়ে ভালো লাগা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
Profile Image for Momin আহমেদ .
112 reviews49 followers
July 17, 2020
এতো সুন্দর সুন্দর গল্প গুলো পড়ার পর শেষের গল্প টা প্রচণ্ড রকম বিরক্ত করলো।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
209 reviews25 followers
October 15, 2020
অতপর বৈশাখ ঝড়ের উত্তাল বাতাস অথবা ভাদ্রের প্রখর কাঁচা রোদের সম্মোহন হয়ে জহির সাব আমা���ের অস্তিত্বের ভেতর ঢুকে পড়েন এবং গল্প শোনাতে থাকেন যে, ' আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই ' কিংবা হঠাৎ ঢাকা শহর কাকশূন্য হয়ে পড়ার প্রহেলিকা, যেখানে আকালু ও টেপির নিয়তির প্রবন্ধ কাকদের বিষণ্ণ ঠোঁটে আটকে থাকে এবং আমরা আরো জানতে পারি যে, ' ডুমুরখেকো মানুষ ' অথবা জাদুকর মোহাব্বত আলির সেই হাড্ডি কিংবা ডুমুরের গল্প, যে হাড্ডি সাধারণ মানুষের সংশয়াকুল চোখে নিতান্তই হাড্ডি কিন্তু মোহাব্বত আলি তার হ্যাট ঢাকা মাথা ডানে-বাঁয়ে আন্দোলিত করে বলে, এইটা কুনো হাড্ডি না, ওর নাম প্রতীলতা এবং গল্পে আরো দেখা যায় ডুমুরফলখেকো মানুষদের মোহগ্রস্ত জীবনের পুরাদস্তুর সারমর্মের বিস্তৃত বয়ান, অতপর 'কাঁটা' নামে মুক্তিযুদ্ধের গল্পে আমরা ভূতের গলির লোকদের মতই একটা সময়ের চক্রাবর্তের ভেতর আটকা পড়ে যাই, যেখানে বর্তমান অতীতের ভেতর প্রবিষ্ট হয়ে গেছে অথবা অতীত বর্তমানের সাথে যুক্ত হয়েছে আজিজ ব্যাপারীর ভাড়াটে সুবোধচন্দ্রের পুরানো কূয়ার গভীরে পতন হওয়ার সংযোগবিন্দুর ব্যাসার্ধে, এরপরেই বলা যায়, 'চতুর্থ মাত্রা' গল্পে আব্দুল করিমের Lithium ALARM CHRONO CASIO-য় সময় ও স্বপ্নের ভেতর উন্মুক্ত আনাগোনা এবং নির্ঝঞ্ঝাট সাধারণ জীবনের এক সারমর্ম, আর 'এই সময়', 'ধুলোর দিনে ফেরা' গল্পেও জহির সাবের অভূতপূর্ব বয়ান উড়তে থাকা প্রগাঢ় ধুলোর মতই আমাদের সময় ও কাল আচ্ছন্ন করে রাখে এবং যখন উনি গল্প বয়ানের শেষে বিকেলে কমলালেবু রঙের বিস্তৃত আকাশে মিলিয়ে যান, আমরা তখনো ঘোরের বৃত্তে আটকে পড়ে ঝুনা নারিকেলের ছোবড়ায় লাগানো আগুনের ভেতর ভেঙে পড়া অস্তিত্বের অর্থ খুঁজতে থাকি!
Profile Image for পীয়্যান নবী.
52 reviews87 followers
November 22, 2016
আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় বই। প্রথমটিও গল্প সংকলন ছিল (ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প), এটিও।

ফের একই কথা বলতে হচ্ছে, জাদুবাস্তবতা পরাবাস্তবতা এবং অন্যান্য বিবিধ বিষয়ের প্রতি আমার ধারণা খুবই ক্ষীণ। গত কদিনে খানিকটা ধারণা অর্জন হয়েছে, তাতে অবশ্য বোধে খুব একটা পার্থক্য আসেনি। তারপরেও ঐসবের মাঝেই আমার এই বইটারেও ভালো লেগেছে। মুগ্ধতা কাজ করেছে... সামান্য সামান্য সব ঘটনার ক্রমাগত পুনরাবৃত্তির ফলে শহরের বিশেষ বিশেষ এলাকার মানুষের জীবনে হয়ত একটা সমস্যা উদ্ভুত হয়। সমস্যায় সাধারণত একজন বিশেষ ব্যক্তি, যিনি কাঠুরে হতে পারেন কিংবা চাকুরেও হতে পারেন, জর্জরিত হয়ে পড়ে... তাতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়। কোন একটা সময়ে মহল্লার মানুষজন অবগত হয় এইসব সমস্যা নিয়ে, এতে করে মহল্লায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়! ক্রমাগত এইসব সমস্যা এবং চাঞ্চল্যের মধ্য থেকে কোন একটা একটা বিশেষ ঘটনায় এইসব সমস্যার যবনিকা পড়ে... এইভাবেই একটার পর একটা মহল্লা, ক্ষেত্রবিশেষে একই মহল্লায় নতুন উদ্ভুত পরিস্তিতি এবং তাতে আক্রান্ত ব্যক্তিবিশেষের কথা আমরা জানতে পারি। আমরা আরও অনেক কিছু জানতে পারি... এইভাবেই আমরা একটা একটা করে সাতটা গল্প পড়ে শেষ করি। আমরা খানিকটা আফসোস করি, কেন আর একটা গল্প বেশি নেই বইয়ে... আমাদের মধ্যে কেউ কেউ খানিকটা মন খারাপ করে আর মাত্র একটা গল্পের বইয়ের কথা ভেবেই! এই ধরণের আফসোস মানব জীবনের অপরিহার্য অংশ, এমনটা ভেবে আমরা বইটা রেখে দিই... এবং মুগ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি তারকা দিয়ে বইটিকে চিহ্নিত করি!

(যেহেতু এডিট অপশন আছে, সেহেতু কোন একটা সময়ে এসে এটা এডিট করে দিয়ে ভালো কিছু লিখে দেয়া যাবে!)

Profile Image for Shaurav Saha (পার্কের খঞ্জ).
18 reviews21 followers
April 4, 2016
এই গল্পগ্রন্থের সবচেয়ে অসাধারণ ব্যাপার মনে হয় আঙ্গিক এবং বিষয়বৈচিত্র্য।
যেকোন সীমারেখার বাইরে বাধাহীন রূপক ( কাঠুরে ও দাঁড়কাক), ভেঙে চুরমার করা সময়ের কারাগার আর ইথারিত পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িকতার সিরিঞ্জ (কাঁটা), জাদুবাস্তবতা (ডুমুরখেকো মানুষ) অথবা কেবল গল্পের জন্য গল্প ( চতুর্থ মাত্রা) এর পাশাপাশি সমাজকে ছেনে জৈবিক বন্দিত্ব, করুন নিরর্থকতা আর স্বপ্নের জাদুকরের বেওয়ারিশি শব সবকিছু হাজির হাতে হাত রেখে।
এরপরেও বিস্ময়কর, মানুষগুলো খুব চেনা আর পরিণতি ও অজানা নয় যে বলা যায় লেখক জাদুকর; বরং লেখক শিল্পী যে সাধারণ বিষয় নিয়ে তিনি অন্তর বাহিরের অসাধারণ ছবি আঁকেন।
Profile Image for Samiha Kamal.
121 reviews116 followers
May 10, 2021
এইরকম বই, এমন শব্দচয়ন, এমন আলোআঁধারির রহস্যময়তা ঘেরা গল্পগুচ্ছ, বারবার পড়া যায়। অসাধারণ।শহীদুল জহিরের অনবদ্য লিখনশৈলীতে দারুণ প্লটের মাখামাখিতে পড়ে পরিতৃপ্ত হয়ে রইলাম।
Profile Image for Farhanur Rahman.
47 reviews11 followers
August 16, 2020
"আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" - সে প্রশ্নের ব্যাখ্যা যেমন আমরা খুঁজে পাই না আবার অবচেতন মনে হয়ত খুঁজে পাই তেমনি এই বইয়ের গল্পগুলোর কোনো বাস্তবিক ব্যাখ্যাও আমরা খুঁজে পাই না।

বিশেষ করে "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" এবং "ডুমুরখেকো মানুষ" গল্পদুটি আমাদেরকে "ডুমুরখেকো মানুষ" গল্পের সেই অদ্ভুদ জাদুকর যিনি একই সাথে সাথে একজন ডুমুর বিক্রেতা, তার জাদুর মত সম্মোহিত করে। কেন করে তার ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।

অসম প্রেমের বিয়োগাত্মক পরিণতির ছাপ পড়ে "এই সময়" গল্পে যেটা এই বইয়ের একমাত্র বাস্তবিক গল্প বলে মনে হয়েছে।

তিনজন সুবোধচন্দ্র দাস ও তাদের স্ত্রী স্বপ্না এবং তাদের অন্তিম পরিণতির সাথে আজিম ব্যাপারীর বাড়ির ভিতরের পাতকুয়োর নিবিড় সম্পর্ক খুবই চমৎকার মুন্সিয়ানার সাথে লেখক দেখিয়েছেন "কাঁটা" গল্পটিতে।

তবে "ধুলোর দিনে ফেরা" গল্পটার প্রথমদিকেই লেখক গল্পের পরিণতির কথা বলে দেওয়াতে গল্পটার জৌলুশ কম লেগেছিল। তারপরেও লেখক শহীদুল জহির বলেই লেখক গল্পের প্রতিটি লাইনে মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

এই বইয়ের শেষ গল্প "চতুর্থ মাত্রা" নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এখানে একজন মানুষের বৈচিত্রবিহীন প্রতিদিনকার দিনলিপি লেখক সামান্য হালকা চালে ও CHRONO CASIO Lithium ALARM ঘড়ির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। লেখক এখানে জীবনের তৃতীয় মাত্রার পরে সম্ভবত নতুন আরেকটা মাত্রা যোগ করার প্রয়াস চালিয়েছেন।

পরিশেষে বলব, এই যেন এক রূপকথার গল্পের সমাহার। লেখক শহীদুল জহির সেই রূপকথার গল্পই শুনিয়েছেন এই গল্পগ্রন্থে....
Profile Image for Mahatab Rashid.
107 reviews118 followers
June 30, 2018
অদ্ভুতরকমের ঘোরলাগানো।
Profile Image for Fahim Bin selim.
7 reviews6 followers
June 29, 2016
"কুটিরশিল্পের ইতিহাস"-এ এক বাক্যে পুরো গল্প লেখা, "ধুলোর দিনে ফেরা"-তে সময়ের ডালে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতে লাফিয়ে বেড়ানো, অথবা "চতুর্থ মাত্রা"-'র ওমনিপ্রেজেন্স ন্যারেটিভ, পারাপার-এর তুলনামূলক সহজ লেখা পেরিয়ে এই সংকলনের গল্পগুলোতে ম্যাজিক-রিয়ালিজম আর পোস্ট-মডার্নিজমকে শহীদুল জহিরের ভালোভাবে আঁকড়ে ধরা।
আমাকেও।
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,119 followers
April 14, 2025
শহীদুল জহিরের 'পারাপার' পড়েছিলাম কয়েক বছর আগে। খুব একটা মনে ধরেনি সেটা। তাই আর তাঁর অন্য লেখা পড়বার তেমন ইচ্ছা হয়নি। ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প-এর রিভিউ দেখছিলাম হোমপেজে বেশ কিছুদিন ধরে। পাতা উল্টে বইয়ের সূচীপত্রে গল্পের অদ্ভুত নামগুলো দেখে পড়ার আগ্রহ জন্মাল। সংকলনের গল্পগুলো আসলেই একটু অদ্ভুত এবং অদ্ভুত জিনিসের প্রতি আমার ভয়ানক আকর্ষণ কাজ করে। তাই বেশ আনন্দের সাথেই পড়েছি গল্পগুলো। বাংলা সাহিত্যের এধরনের লেখা আমি এর আগে কখনও পড়েছি বলে মনে পড়ে না। মিসির আলি সিরিজের অনেক গল্পই অদ্ভুত, কিন্তু এই গল্পগুলো আমার কাছে তার থেকেও কিছুটা অন্যরকম মনে হয়েছে। কিছু অংশের বর্ণনা বাড়তি মনে হলেও, গল্পগুলো পড়ে ভাল লেগেছে।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
August 11, 2025
জহিরের জাদুবাস্তবতার রাজ্যে একেবারে ঢুকে পড়তে ‘ডুমুরখোকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প’ উৎকৃষ্ট একটি সংকলন। আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই থেকে চতুর্থ মাত্রা পর্যন্ত প্রত্যকটি গল্প স্বতন্ত্র একটি গল্প বলে যায়। সংকলনের ‘এই সময়’ গল্পটি আমার অত্যাধিক পছন্দ হয়েছে। ওই গল্পটা পড়তে গেলে মনে হয় ঢাকার ভূতের গলি মার্কেজের মাকোন্দো কিংবা প্যাট্রিক সাসকাইন্ডের পারফিউম বইয়ের আঠারো শতকের প্যারিসের আবহে ঢুকে বসে আছি। গল্পটা বাস্তব অথচ কেমন ঘোর লাগানো।

এছাড়া আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই, কাঠুরে ও দাঁড়কাক, ধুলোর দিনে ফেরা... স্মরণে রাখার মতো গল্প। শহীদুল জহির জাদুবাস্তবতায় কেমন লেখালিখি করেন, তা পড়তে আগ্রহী হলে, এ সংকলনটি অবশ্য পাঠ্য।
Profile Image for I Wahid Ruso.
16 reviews
March 5, 2025
His writing style is captivating, remarkable. Some may term his magic-realism sometimes fall into the horror category; especially the title story. But it does not elicit fear. So it's not. But, who am I to judge. Let the tide of readers decide.
Profile Image for nk shobuz.
6 reviews
December 19, 2021
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পরে শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের সেরা লেখক। এ ঘনঘোর মাদকতা জাগানো বাস্তবাদী লেখক। এ বই পাঠ এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
Profile Image for হাবিবুর রুহিন.
32 reviews4 followers
March 3, 2022
ভিন্ন আঙ্গিকে দারুণ দারুণ সব গল্প। শহীদুল জহির এক পিস।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Dipak Karmoker.
68 reviews2 followers
August 4, 2024
শহীদুল জহিরের সবচেয়ে সেরা গল্প গ্রন্থ এটি। কেউ যদি শহীদুল জহির পড়া শুরু করতে চান এটা দিয়ে শুরু করতে পারেন।
Profile Image for Shanto.
45 reviews15 followers
November 22, 2014
শহীদুল জহির অনেকটা অন্তর্গত স্বত্ত্বার মত, আমাদের সাথেই বসবাস করে অনেকটা নিজের কায়ার মত। কায়া নিজেকে দেখতে পায় না, কায়ার ওপর যখন আলো এসে পড়ে নিজের ছায়ার মধ্যে কায়া নিজেকে চিনতে পারে, আবিষ্কার করে। অন্তর্গত স্বত্ত্বার ওপর শহীদুল জহির অনেকটা আলোর মত।
Displaying 1 - 22 of 22 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.