১৯৯১ সালে আমি যখন আমেরিকাতে আমার ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন নেহায়েতই খেয়ালের বশে এটা লিখেছিলাম। এটা সত্যি সত্যি বই আকারে ছাপা হবে আমি ভাবিনি। আমার ছেলেমেয়ারা হঠাৎ করে এর পান্ডুলিপি বের করে এটা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে সে জন্য আমার লজ্জার সীমা নেই! ভালো-মন্দ যাই হোক তার জন্য দায়ী আমার ছেলেমেয়েরা, আমি নই।
১৯৯১ সাল পর্যন্ত যা যা ঘটেছিল তার সবই এখানে আছে - এর পরেও আমার পরিবারে আরো অনেক কিছু ঘটেছে, কিছু আনন্দের এবং কিছু বেদনার, তার কিছুই এখানে নেই। সেগুলো আবার নতুন করে লিখতে পারবো মনে হয় না - তাই আর চেষ্টা করছি না।
আয়েশা ফয়েজ আমার চোখে এতদিন অত্যন্ত শক্তিশালী যোদ্ধা স্ত্রী এবং মা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এই বইটা পড়বার পর নিশ্চিত হলাম লেখিকা হিসেবে উনি কিছুমাত্র কম শক্তিশালী না। এখন নিশ্চিতভাবে বলতে পারি লেখক হুমায়ূন আহমেদ,জাফর ইকবাল,আহসান হাবির তাদের লেখালেখির এই প্রতিভা এবং হিউমারের অনেকটা অংশ পেয়েছেন তাদের মায়ের কাছ থেকে। তিনি শুধুমাত্র গৃহিণী হলেও হয়তো এই লেখালেখির চর্চা অব্যাহত রাখতে পারতেন কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সন্তানদের দাঁড় করিয়ে দেয়া অব্দি লম্বা বিশটা বছর একটানা যুদ্ধ করে যাওয়া এই মহিলার লেখালেখির বিলাসিতা করবার সময় কোথায়?
জীবনের একখন্ড অবসরে যখন তিনি তার মেজোছেলে জাফর ইকবালের বাসায় বেড়াতে গেছেন টুকটুক করে লিখে ফেলেছিলেন চমৎকার এই বইখানা,'জীবন যে রকম।'
এই বইয়ে তার বিবাহিত জীবনের শুরু থেকে গল্প শুনিয়ে গেছেন তিনি। স্বামীর সাথে ছোট্ট সংসারের গল্প,তারপর এক এক করে সংসারে এসেছে ছয় ছেলেমেয়ে তাদের গল্প, চাকরিসূত্রে স্বামীর সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাবার অভিজ্ঞতা এবং সেখানকার পরিচিত মানুষদের গল্প,লিখেছেন টাইফয়েড হয়ে কিছু সময়ের জন্য তার পাগল হয়ে যাবার গল্প,লিখেছেন স্বামীর মৃত্যু থেকে শুরু করে তার পথে পথে ঘুরবার এবং তারপর শহীদ পরিবার হিসেবে একটা বাড়ি আদায় করে থিতু হয়ে বসা পর্যন্ত গল্প। ছেলেমেয়েদের বিখ্যাত করে চারাগাছ থেকে মহীরুহ করে তোলার পেছনে আড়ালে ঘোমটা টেনে বসে থাকা এক মায়ের গল্প এটা যিনি কিভাবে না জানি ধার করে অর্থ জোগাড় করে তাদের পড়িয়েছেন! বেঁচেছেন মাথা উঁচু করে সবসময়। সেই গল্প।
আয়েশা নামের মধ্যেই কি কিছু একটা আছে? আনিসুল হক লিখেছেন আয়েশামঙ্গল। সেই আয়েশাও দীর্ঘ একটা সময় তার স্বামীর মৃত্যুর কথাটা বিশ্বাস করতে পারেনি। এখানে গেছে সেখানে গেছে,খোঁজখবর করেছে। আমাদের এই আয়েশা ফয়েজও তেমন। তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সামনে সেই বড় বড় পদের মানুষগুলো চুপসে গিয়ে তাকে বলতে পারেনি যে তার স্বামী আর নেই। স্বামী থাকতে যাকে মাথায় করে রাখা হতো স্বামী মারা যেতেই তাকে বের করে দেয়া হয়েছে রাস্তায়।
হুমায়ূন আহমেদের নানা রাজাকার ছিলেন এমন একটা কথা এখনো স্যোশাল মিডিয়ায় অনেককে বলতে দেখি। সেই ব্যাপারটা নিয়েও এখানে বিস্তারিত লিখেছেন আয়েশা ফয়েজ। একজন শহীদের স্ত্রীর পরিচয়ের সম্মানের পাশাপাশি একজন শান্তি কমিটির মেম্বারের মেয়ে হিসেবেও তাকে নিশ্চয়ই কম অপবাদ সহ্য করতে হয়নি।
এখানে সেখানে বসে থেকে,বারবার অপমানিত হয়ে ছোট হয়ে কতভাবে স্বামীর পেনশনের টাকা,শহীদ পরিবারের বাড়িটি আদায় করেছেন আয়েশা ফয়েজ এটা তার গল্প। মুক্তিযুদ্ধ ততদিনে শেষ হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু তার যুদ্ধ তখন কেবল শুরু।
ওনার আরো দুইটা বিষয় খুব দারুন লেগেছে আমার। উনি ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু কুসংস্কার প্রশ্রয় দেয়া হবে এমন কিছু বিষয় ইচ্ছা করে চেপে গিয়েছিলেন,গ্রামদেশে সন্তান গর্ভে অনেক উল্টাপাল্টা রেয়াজ পালন করা হয় সেসবেও তার কখনো বিশ্বাস ছিলো না। উনি পাকিস্তানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের করা কিছু অন্যায় অত্যাচারের কথা লিখেছেন অকপটে,যেটা আজকাল খুব কম লেখকই পারবেন। নির্দ্বিধায় উনি লিখেছেন কেন ঐ সময়ের সরকারকে তিনি সমানভাবে দায়ী করেন পাকিস্তান সরকারের মতো। সেইসাথে তিনি এটাও আশা করেন,এ দিন বদলাবে।
এই গল্প পড়লে জাফর ইকবালকে যারা গর্তযোদ্ধা,ভীতু কাপুরুষ,দালাল বলে আখ্যায়িত করেন তারা কিছু জবাব পাবেন। মায়ের পাশে সবসময় ছায়ার মতো থেকেছে তার এই মেজো ছেলেটি। তার বাবাকে যখন ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় তখনো তার সাথে গিয়েছিলো সাহসী এই ছেলেটি। যখন শহীদ বাড়ি হিসেবে পাওয়া বাড়িটির দখল নিতে রক্ষীবাহিনী আয়েশা ফয়েজের মাথার সামনে বেয়নেট রেখেছিলো দুহাত তুলে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন জাফর ইকবাল,বাবাকে নদীর ধারের কবর থেকে তুলে অতি যত্নে কবরস্থানে কবর দিয়েছিলেন এই জাফর ইকবাল। মাকে আগলেছিলেন,মুক ও বধির বোনটিকে বাবার মৃত্যুসংবাদ দিয়েছিলেন।
শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের পরিবার সম্পর্কে জানতেই এই বইটি প্রচন্ড তথ্যবহুল তা না। এটা একটা মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব গল্পও,একজন স্ত্রীর ডায়েরি যিনি স্বামীকে যুদ্ধে হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে যেতে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। এটা একজন বিধবা স্ত্রী,একজন মায়ের লড়াইয়ের গল্প। ছোট্ট একটা স্পয়লার দিই? তিনি জয়ী হয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত।
সারারাত জেগে পড়ে শেষ করলাম। বইটি পড়ে প্রথমে মনে হয় যে এই পরিবারটির প্রতিটি মানুষের মধ্যে নিজের অনুভূতিগুলো সহজভাবে সাজিয়ে প্রকাশ করার ক্ষমতা স্রষ্টা অকৃপণ হাতে দান করেছেন।রত্নগর্ভা একজন মায়ের কিশোরীবেলা থেকে বয়সকালে দেহ বাঁকা হবার বদলে নিজ ও তাঁর সন্তান্দের গৌরবে আরও প্রত্যয়ী হয়ে উঠবার কাহিনী চোখের পাতা আর্দ্র করে,আপনাআপনি বেগম আয়েশা ফয়েজের প্রতি সম্মান করতে শিখায়।
এই বইটি পড়তে পড়তে একটা ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করছিলাম। তা হলো, হুমায়ূন আহমেদ-এর মা ছাড়াও আমাদের মা'রা যদি ডায়রি লেখতো এবং তা যদি বই আকারে প্রকাশ করা হতো, তাহলে কি অনন্যসাধারণ, বিষণ খারাপ লাগা আর ভালো লাগার মিশ্রণে এক সুন্দর বইয়ে পরিণত হতো! কারণ, মা হলো এমন একজন যিনি সারাজীবন অতিবাহিত করে sacrifice করতে করতে। তারা ডায়েরি লিখলে হয়তো এসব কষ্টের কথা চলে আসতো এবং তাদের মনের ভেতরের লুকানো কথাগুলো আমাদের পড়ার সুযোগ হতো -------+ হুমায়ূন, জাফর ইকবাল, আহসান হাবিব এই তিন রত্মের মা-এর স্মৃতিচারণমূলক বই হলো এটি... আমার এই পরিবার দেখে অবাক লাগতো যে, এক পরিবারে দেশবরেণ্য, প্রতিভাবান তিন ভাই! তাই পড়া শুরু করা এদের মা'এর লেখা বইটি...
বইটিতে আয়েশা ফয়েজ আত্ম-গল্প শুরু তার বিয়ে থেকে। তার বিয়ে হয় এক বেকার বালকের সাথে, তারপর হুমায়ূনের বাবার পুলিশে চাকরি পাওয়া, তাদের প্রথম ছেলে হুমায়ূনের জন্ম, সরকারি চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জায়গাতে বদলি এবং ঐসব জায়গাতে বসবাসের অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাদের টানাপুড়ান এবং কষ্ট, উনার শহীদ স্বামীটা স্বাধীন হওয়ার পরে যথাযথ সম্মান না পাওয়াতে তার ক্ষোভ.... এমন নিজ জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উনি লিখেছেন। এখানে ছিল হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের এবং রসিকতার মিশেল....
হুমায়ূন, জাফরদের লেখা যে তাদের রক্তে আছে সেটার প্রমাণ হলো তাদের মা-এর লেখা। পড়লেই বুঝবেন কতটা পাখা হাতের লেখা! মনে হবে উনি আরো গল্প, উপন্যাস লিখেছেন... বেশ ভাল লেগেছে উনার লেখা ❣️ হুমায়ূন হওয়ার আগে তাদের পরিবারের মানুষের যে কুসংস্কার তা উনি লিখেছেন বেশ রসিকতার সাথে! উনি যে কুসংস্কার পছন্দ করেন না তাও বলেছেন অকপটে... উনার লেখার অনেক স্থানেই উনার সাহস দেখে অবাক হতে হয়েছে!! বইটি পড়লেই বুঝবেন কতটা উন্নত আর উচ্চ মানসিকতার মহিলা ছিলেন ইনি! খুব ই ভাল লেগেছে এই বরেণ্য জননীর নিজ হাতে লেখা বইটি ❣️
‘সময় দেখার জন্যই যে দেয়ালে ঘড়ি রাখতে হবে সেটা কে বলেছে? জীবনের স্মৃতিও তো সেটা দেখাতে পারে।‘
হুমায়ূন আহমেদ ,জাফর ইকবাল আর আহসান হাবীব। দেশের তিন গুণী লেখক ও শিল্পীর গর্ভধারিণী মা আয়েশা ফয়েজ। বইটা সেই রত্নগর্ভা মা আর সংগ্রামী নারীর আত্মজীবনীমূলক রচনা যেখানে তিনি তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী তুলে ধরেছেন সহজ-সরল ভাষায়।
একইসাথে আত্মজীবনীর সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এটা লেখা হয় লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে। এর মাধ্যমে আমরা শুধু সেই অংশটাই জানতে পারি যা লেখক আমাদের জানাতে চান, সেই ব্যাখ্যাটাই শুনতে পারি তা লেখকের মনঃপুত। তবু আমরা আত্মজীবনী পড়ি এ কারণে যে আমরা লেখকের সম্পর্কে ছোট থেকে ছোট তথ্যও জানতে চাই, তাঁর কাজকর্মের নিজস্ব ব্যাখ্যা শুনতে আগ্রহী।
ঘটনাচক্রে লেখা ও প্রকাশিত হওয়া বইটাতে লেখিকা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য এবং একইসাথে যা পাঠকদের আকাঙ্ক্ষিত সেসব ঘটনার উল্লেখ করেছেন। নিজের বিয়ে, সরকারি চাকুরিরত স্বামীর কারণে দেশের নানা স্থানে বসবাসের ইতিবৃত্ত, নিজের ছয় ছেলেমেয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামীকে হারানো এবং সদ্য স্বাধীন দেশে সংগ্রামী জীবন উঠে এসেছে বইটাতে।
লেখিকা নিজের সংগ্রামী জীবনটাকে দারুণভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বইটাতে। হাস্য ও করুণরসের উপযুক্ত ব্যবহারে বইটা হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণীয়। একদিকে যেমন রয়েছে গর্ভাবস্থায় তাঁর সাথে ঘটা সব আজগুবি ঘটনার কথা, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে একাত্তরে স্বামীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ার কথা বা বাধ্য হয়ে শান্তি কমিটিতে কাজ করার তাঁর বাবা আর ভাইয়ের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হওয়ার করুণ ঘটনার কথা। সেই বাবা আর ভাইকে বইটা উৎসর্গ করে তাঁদের স্মরণ করেছেন ভালোবেসে। এছাড়া ছেলেমেয়েদের নামকরণের নানা ইতিহাস ( হুমায়ূনের নাম যে শামসুর রহমান সেটা জানতাম না!), সদ্য স্বাধীন দেশে তাঁর পরিবারের উপর রক্ষীবাহিনীর তান্ডব ও আহমদ ছফার সাহায্য বা বিখ্যাত পাগলা বাবার ( জাহানারা ইমামের বইয়েও ইনার কথা ছিল। লোকটা খুব বিখ্যাত ছিল, বোঝাই যাচ্ছে!) কথা ইত্যাদি উঠে এসেছে বইটাতে।
হুমায়ূনদের বাবা ছিলেন সংস্কৃতমনা মানুষ। এছাড়া একটা গল্পগ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর এখানে লেখিকার দারুণ সাবলীল ভাষা ও চমৎকার রসবোধের পরিচয় তো পেলাম-ই। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সহজেই হুমায়ূন ও তাঁর সহোদরদের সাহিত্যে প্রতিষ্ঠার ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। লেখার গুণটা তাঁরা রক্ত সূত্রেই পেয়েছেন সেটা বললেও বোধহয় অত্যুক্তি হবে না!
বইটা দুইটা কারণে পড়া যেতে পারে। একদিকে এক নারীর সংগ্রামের কথা জানতে আর অন্যদিকে বিখ্যাত তিন ভাইয়ের অজানা কিছু বিষয় জানতে। যে কারণেই পড়া হোক না কেন, মুগ্ধতা নিয়েই পড়তে হবে বইটা। নিজ সন্তানদের কাছ থেকেই সার্থক মা পদক পাওয়া এই রত্নগর্ভা মায়ের জীবনের অলিগলি জানতে বইটা পড়া যেতেই পারে।
হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবালের জননী আয়েশা ফয়েজের আত্মজীবনী ''জীবন যে রকম"। মাত্র শ' খানেক পাতার এই আত্মকথা কতশত ঢাউস কেতাবের চাইতে সুপাঠ্য ও সুলিখিত। আয়েশা ফয়েজকে লিখতে সহায়তা করেছেন তার পুত্র জাফর ইকবাল। বইটি বের করেছে ''সময় প্রকাশন"।
নেত্রকোনার বিএ পাস যুবক ফয়জুর রহমানের সাথে বিয়ে হয়ে গেল ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে আয়েশার। দুইটি পরিবারের সামাজিক অবস্থানে বিস্তর তফাৎ। তবু কন্যার পিতা মেয়েকে এই দরিদ্র পরিবারে বিয়ে দিয়েছিলেন দুইটি কারণে। এক. পাত্রের বাবা পড়ালেখা জানেন এবং দুই. পাত্র নিজে উচ্চশিক্ষিত। তখনকার সমাজে শিক্ষাদীক্ষার মূল্যায়ন স্পষ্ট চোখে পড়ে। যা এখন দুর্লভ।
কিশোরী আয়েশার শ্বশুরবাড়িতে কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু তবু তারা সুখী নয়। কারণ বিয়ের চার বছর হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্তান হচ্ছে না। এই নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন অস্বস্তি গোপন করতে চেষ্টা করছে না। আয়েশা ফয়েজ উল্লেখ করেছেন, এমনকি একদিন একজন ভিখারিনী ভিক্ষা নিতে এসেও অপমান করল!
কিশোরী আয়েশার স্বামী ফয়জুর রহমান চাইতেন শিক্ষকতা করবেন। স্থানীয় একটি স্কুলে চাকরি নিলেন। কিন্তু বেতন আর পান না। তখন বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দিলেন। পুলিশে চাকরির সার্কুলার দিলে শ্বশুরের পীড়াপীড়িতে আবেদন করলেন। চাকরি হলে চলে গেলেন সারদায়। ততদিনে পাকিস্তান হয়ে গেছে।
এদিকে জন্ম হলো আয়েশা ফয়েজ দম্পতির প্রথম সন্তান কাজলের যার পোশাকি নাম ছিল শামসুর রহমান ( এখন হুমায়ূন আহমেদ নামে খ্যাতনামা)। এই সন্তানের জন্মের পর টাইফয়েডের কারণে আয়েশা ফয়েজ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সুস্থ হওয়ার পর সন্তানের নৈকট্য অর্জন কিছুটা কঠিন হয়।
পুলিশের চাকরির সুবাদে একাধিক স্থানে থাকতে হয়েছে আয়েশা ফয়েজকে। সেইসব স্থানের বর্ণনা হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবাল একাধিক স্থানে দিয়েছেন।
একাত্তর স্বামীর শাহাদাতবরণ ও সন্তানদের নিয়ে টিকে থাকার ঘটনা যে কোনো পাঠকের হৃদয় আর্দ্র করে তুলবে।
জাফর ইকবালের পিতাকে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করে। সেই সময়ে তারা সপরিবারে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে থাকলেও অনেকেই তাদের আশ্রয় দেননি। হয় তারা পাকিস্তানপন্থি ছিলেন, নয় তো তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে ভয় পেতেন। সবকিছু মিলে ব্যক্তিগত একটি ঘৃণাবোধ সবসময় তার কাজ করেছে পাকিস্তান ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতি। উল্লেখ্য, জাফর ইকবালের নানা স্থানীয় শান্তিকমিটির প্রধান ছিলেন। লেখকের মা দাবি করেছেন তার পিতা শান্তি কমিটি হলেও ভালো শান্তিকমিটি ছিল। এই ভালো শান্তিকমিটির প্রধানকে তার পুত্রসহ মুক্তিযোদ্ধারা ডিসেম্বরে হত্যা করে। জাফর ইকবালের পাকিস্তানপন্থিদের প্রতি ঘৃণাবোধ তার নানা ও মামার প্রতিও কি না জানা কঠিন।
একাত্তরে হুমায়ূন আহমেদকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায়। তাকে নির্যাতন করে। কিন্তু সেই ঘটনা বিস্তারিত তিনি কোনো বইতে লিখেছেন বলে মনে পড়ে না।
স্বাধীন দেশের শহিদ পরিবারগুলোকে কোন ধরনের হেনস্তা পোহাতে হয়েছে তার বর্ণনা আয়েশা ফয়েজ দিয়েছেন। পড়লে মন খারাপ লাগে।
আজকে জাফর ইকবাল একটি নির্দিষ্ট মতবাদকে অন্ধভাবে সমর্থন দেন। তিনি হয়তো রক্ষীবাহিনী কর্তৃক তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া, শহিদ পরিবার হিসেবে তাদের হেনস্তা করার ঘটনা একদম ভুলে গেছেন কিংবা কোনো স্বার্থে ভুলে যাওয়ার ভান করছেন।
আয়েশা ফয়েজ অত্যন্ত ভালো লিখেছেন। এই বই আরও কয়েকশ পাতা হলেও নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলা যেত।
উপহার দেয়ার জন্য কিনেছিলাম, পরে আর দেয়ার সুযোগ হয়নি বলে মেরে দিয়েছি। খি খি।
সংগ্রহে রাখার মতো চমৎকার বই। যুদ্ধ-উত্তর দেশে এত কিছু সামলে ছেলেমেয়েদের এত সফল মানুষ হিসেবে বড় করার মতো অসাধারণ মনের জোর ক'জন মা দেখাতে পারে? তায় সে সন্তানদের প্রথমজন যখন হুমায়ূন আহমেদ, আরেকজন মুঃ জাফর ইকবাল।
একটাই অভিযোগ, সরাসরি সম্পাদনা বা অপ্রত্যক্ষ সাজেশন দিতে গিয়ে স্যার লেখার ধরন বা বৈশিষ্ট্যতে বহুলাংশে নিজের ছাপ ���েখে গেছেন। 'তখন তখনিই'-- যতদূর মনে পড়ে অন্তত দুু'বার ছিল শব্দটা। এটা মুঃ জাই স্যারের প্যাটেন্টেড বলা যায়, এত নিয়মিত আর কারো লেখায় পড়িনি।
অনেকদিন পর ভরদুপুরে শুয়ে শুয়ে একটা বই পড়ে ফেললাম। আত্মজীবনী পড়তে গেলে একটা কথাই মাথায় ঘুরপাক খায়। যত দিন যায়, আমাদের জীবন বাড়ার বদলে কেন যেন শুধু কমতেই থাকে। ৩৬৫ দিন পার করে একটা বছরের তোকমা পেলেও, ৩৬৫ দিন পর হাইলাইট হিসেবে খুব অল্প কদিনের স্মৃতিই মাথায় আটকে থাকে। এইতো যেমন, এই বইতে আয়েশা ফয়েজের কত বছরের ঘটনাবহুল জীবনের শুধু গুটিকয়েক নিয়ে তিনি লিখতে পেরেছেন। এক দুপুরে বইটা পড়ে শেষ করে ফেলার পর তাই কেমন একটা অপরাধবোধ হচ্ছে।
এই বই পাঁচ তারা পাওয়ার যোগ্য হতো যদি বইটা পক্ষপাতদুষ্ট না হতো। পক্ষপাতিত্ব কমবেশি আমাদের সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু যখন লেখায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা থাকবে, সেখানে পক্ষপাতিত্ব করা মানে নিজেকেই প্রশ্ন বিদ্ধ করা। আয়েশা ফয়েজ নিজেকে তার উর্দ্ধে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই মনে করি। তাঁর বাবা '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সত্যিটা তিনি সরাসরি স্বীকার করতে দ্বিধা করেছেন। বলা চলে তাঁর বাবার অবস্থানকে যৌক্তিক প্রমাণের যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। অথচ বাবার অবস্থানকে নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলে তাঁর সম্মান আকাশ ছুঁয়ে ফেলতো(আমার মতে)। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ টু শব্দ না করে স্বসম্মানে ৯০ হাজার পাকি সৈন্য ফিরে যেতে দিয়েছিল, যে কারণে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমা করতে পারেনি। এখানে তথ্যের যথেষ্ট বিভ্রাট আছে বলে মনে করি। আরো কিছু তথ্য বিভ্রাট আছে বইটিতে। যেমন আমার জানা মতে, কাজল অর্থাৎ বেগম আয়েশা ফয়েজের ছেলে জনাব হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকি সৈন্যদের দ্বারা আটক তো দূরের কথা তাদের ত্রিসীমানায় ছিলেন না। কিন্তু 'জীবন যে রকম' বইয়ে তাঁর ভাষ্যে জানতে পারি, 'কাজলকে মিলিটারি ধরে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড শারীরিক অত্যাচার চালায় কিন্তু প্রাণে মারেনি।' এই তথ্য আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। যেহেতু আমি পাড় হুমায়ূন আহমেদ পড়ুয়া নই, তাই হয়ত জানিনা সঠিক। কিন্তু 'জোছনা ও জননীর গল্প' উপন্যাসে জনাব হুমায়ূন আহমেদ যতসব আবজাব বিষয় নিয়ে প্যাচাল পাড়লেও এত বড় ঘটনার কথা বলতে ভুলে গেছেন, এমনটা ভাবতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। একজন শহীদ জায়া হিসেবে তাঁর জীবন সংগ্রামের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাজ্ঞাপন না করলেই নয়, বইপাঠ শেষে সেটি অকুন্ঠচিত্তে জানাচ্ছি।
দুর্দান্ত একজন নারী আয়েশা ফয়েজের ভনিতা ছাড়াই অকপটে বলে যাওয়া জীবনের নানান দিক উঠে এসেছে বইটিতে। যেন এক প্রাণবন্ত জানলা, সেটি খুলে দিয়ে উঁকি দিতেই স্মৃতির-মেলার দেখা পাওয়া যায়। এদেশের মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতিতে তাঁর জীবন যাপনের অংশ বিশেষ। পড়ার মাঝে স্মৃতির ডানায় ভর দিয়ে কিছু মুহূর্তে বিহ্বলতা ছুঁয়ে গিয়েছে। ভিন্ন রকমের স্নিগ্ধতার রেশ থেকে যায় শেষাংশের কথোপকথনে।
আয়েশা ফয়েজ।একজন রত্নগর্ভা মা।জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে।হুমায়ুন আহমেদের জন্মের পর তার বাবা ফয়জুর রহমানের আত্মবিশ্বাস ছিল যে,তার ছেলে একদিন তার নিজ যোগ্যতায় বিখ্যাত হবেন।হয়েছেও তাই।জাফর ইকবাল,আহসান হাবীব,হুমায়ুন আহমেদ এই ত্রিরত্নের বেড়ে উঠা,তাদেরকে আগলে রাখার মত কঠিন দায়িত্বটা তিনি নিজের ঘাড়ে নিয়েছিলেন এবং বলা চলে সফল হয়েছেন।বড় মেয়েকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করিয়েছেন।দেশভাগ,দূর্ভিক্ষ,যুদ্ধ,যুদ্ধপরবর্তী সময় সবটা নিজের চোখে দেখেছেন।এই রাজনৈতিক দিকগুলোও অল্প স্বল্প করে উঠে এসেছে।তার সময়কার নানা কুসংস্কার নিয়েও নির্দ্বিধায় কথা বলে গেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তার সাহস,মনের জোর বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
হুমায়ুন আহমেদের বাবা তাঁর জন্মের আড়াই মাস পর নাম না বদলালে আজ তাঁর নাম হত শামসুর রহমান। খুব ভালো লাগলো বইটা পড়ে। একজন নারী,একজন স্ত্রী,একজন মা'র গল্প।
সুন্দর একটি পরিবারের গল্প। যার শুরু সভ্রান্ত পরিবারের কিশোরী আয়েশার এক নিতান্তই বেকার দরিদ্র পরিবারের সুদর্শন শিক্ষিত ছেলে ফয়জুর রহমানের সাথে বিবাহের মাধ্যমে। বইটি পড়েই অবশ্য বোঝা যায় জাফর ইকবাল সাহেবের এর সম্পাদনায় হাত আছে। যা হোক ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তাদের ৬ সন্তানের পরিবারের কাহিনিগুলো অনেক সুন্দর করে লেখা আছে। এক বসায় পড়ে ফেলার মত অবশ্যই, আর পড়ে চোখের পানি আটকে রাখাও মুশকিল। সহজ সরল ভাষায় বলা গল্প, কিন্তু হৃদয় ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।
হুমায়ুন আহমেদ, আহসান হাবীব, মুহম্মদ জাফর ইকবাল - বাংলাদেশের তিন প্রধান কথাসাহিত্যিকের মা আয়েশা ফয়েজের লেখা সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণা। পড়লেই বোঝা যায় ছেলেদের চাইতে এই নারী লেখায় কোনো অংশে কম যান না। সারা জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সন্তানদের মানুষ করে তোলার এই কাহিনী পড়তে গিয়ে কখনও হাসি ফোটে ঠোঁটে, কখনও অশ্রুভেজা হয়ে আসে চোখ। স্মৃতিকথা পড়তে যারা ভালবাসেন তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
আয়েশা ফয়েজ, প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহ্মেদ, জনপ্রিয় লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, কার্টুনিষ্ট আহসান হাবীব এববগ আরো তিন কন্যাসন্তানের রত্নগর্ভা মা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ফয়েজুর রহমানের স্ত্রী। তাঁর স্মৃতিকথা শুধু একজন শহীদের স্ত্রীর বা লেখকের মায়ের স্মৃতিকথাই নয়, এক সংগ্রামী নারীর স্মৃতিকথাও।পড়ে ভালো লাগার মত এক বই।
বইটার রিভিউ নাইবা করলাম। সব বইএর রিভিউ লিখা যায় না। একটা অবশ্য অবশ্য পাঠ্য! পড়তে পড়তে প্রায়ই চোখ ভিজে উঠলে অবাক হবার কিছু নেই। বরং, সেটাই খুব স্বাভাবিক :)
রত্নগর্ভা মায়েদের গর্ভ থেকেই জন্ম হয় জ্ঞানী গুণিদের। আয়েশা ফয়েজ এই বই না লিখলে হয়তো জানা হতো না। দুপুরে বসলাম বই নিয়ে, কখন যেনো জীবনের টানাপোড়েন আর সুখ দুঃখের গল্প শুনতে শুনতে শেষ হয়ে গেলো। হ্যাপি রিডিং
আয়েশা ফয়েজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত একমাত্র মা যিনি তাঁর রত্ন গর্ভে ধারণ করেছেন তিনজন বিখ্যাত লেখককে। এই তিনজন বিখ্যাত লেখক হলেন প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবীব। এই তিনজনই বর্তমানের বাংলা সাহিত্যকে রিপ্রেজেন্ট করছে। কিন্তু এই তিনজন বর্তমানে যে অবস্থানে আছেন, তাঁদের এই অবস্থানে আসার পেছনে এই মহিলাটির অবধান সবচেয়ে বেশী। ছয় সন্তানের জননী এই মহিলাটি জীবনে প্রচুর দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। উনার এই দুঃখময় জীবনের প্রতিটা স্থরের বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন "জীবন যে রকম" বইটি। বইটি তিনি আমেরিকায় জাফর ইকবাল স্যারের কাছে বেরাতে গিয়ে খেয়ালের বসে লিখেছিলেন। শহীদ মুক্তিযুদ্ধা ফয়জুর রহমানের সাথে বিয়ের পরে উনার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। বইটিতে উনার ছয় সন্তানের জন্মের সময়ের অবস্থা এবং তাঁদের শৈশবের বর্ণনা, মুক্তিযুদ্ধে উনার স্বামীকে হারানুর ঘটনা, যুদ্ধে স্বামীর মৃত্যুর পরে সময়টিতে অসহনী কষ্ট সহ্য করার বর্ণনা এবং স্বাধীনতার পরে যে পরিমাণ হয়রানি এবং কষ্টের সহ্য করেছিলেন তারই করুন বর্ণনা উঠে এসেছে বইটিতে।
অসাধারণ এই বইটি প্রায় এক বসায় শেষ করেছি। উনার বৈচিত্র্যময় এই জীবনের বর্ণনা পড়তে একটুও খারাপ লাগেনি, বরং পড়ার সময় চোখ ভিজে উঠেছিল ক্ষণে ক্ষণে। বইটি পড়া না থাকলে পড়বেন আশা করি। ধন্যবাদ।
একজন মায়ের নিজের জীবনের কথা, সংগ্রামের কথা, ভালোলাগার কথা, ভালোবাসার কথা, দুঃখ বেদনা স্বপ্নের কথা। রেটিং দেবার সামর্থ্য কিংবা সাহস, কোনোটাই আমার নেই...
''সময় দেখার জন্যই যে দেয়াল ঘড়ি রাখতে হবে সেটা কে বলেছে?জীবনের স্মৃতিও ত সেটা দেখাতে পারে।''
দেশের জনপ্রিয় তিন ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব এর রত্নগর্ভা মা আয়েশা ফয়েজ এর জীবনীগ্রন্থ ' জীবন যে রকম' বইটি। আক্ষরিক অর্থেই তিনি রত্নগর্ভা।কারণ স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি শক্ত হাতে হাল ধরেছেন পরিবারের এবং ৬ সন্তান কে সফলতার শিখরে নিয়ে গিয়েছেন।
জীবন যে রকম বইটি তে লেখিকার জীবনের নানা ঘটনাগুলো উঠে এসেছে।যেখানে উঠে এসেছে তার বিয়ে থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ এ তাদের সংগ্রামের ইতিহাস। কিভাবে একজন বেকার স্বামীর সাথে বিয়ে হবার পর তারই উৎসাহে পুলিশের চাকরি করতে রাজি হন, হুমায়ুন আহমেদ এর পিতা ফয়জুর রহমান। লেখিকার জীবনের ইতিহাস ও সংগ্রামীদিক গুলো হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন দারুন ভাবে।যা জীবনীমূলক বই গুলোতে খুব দেখা যায় না। এছাড়া,এই বই এর আরেকটি মজার বিষয় হলো লেখিকা তার প্রতিটি সন্তানের জন্মের ইতিহাস ও তাদের নামকরণ নিয়ে এতো সুন্দর বর্ননা দিয়েছেন,যা সত্যিই পাঠক কে আনন্দ দিবে।বইটি পাঠে পাঠক জানতে পারবে হুমায়ুন আহমেদ কিংবা জাফর ইকবাল এর মধ্যে সাহিত্যরস এম্নেতেই আসেনি। বরং তাদের রক্তেই বপিত ছিল সাহিত্যের বীজ।যেহেতু, হুমায়ুন আহমেদ এর পিতা পুলিশের চাকুরী করতেন তাই বাবার চাকুরির সুবাধে নানা জায়গায় বদলি হতে হয়েছে।সেসব বর্ননা ও এখানে উঠে এসেছে।এছাড়া রয়েছে যুদ্ধের পর রক্ষীবাহিনী কর্তৃক তাদের উপর নির্যাতন এর বর্ননা। এবং আহমদ ছফা কর্তৃক তাদের সাহায্যের বর্ননা। এজন স্ত্রী স্বামী হত্যার বিচারের জন্য কতদূর যেতে পারেন কিংবা কি কি করতে পারেন তার উদাহরণ এ বই। পরিশেষে বলবো একজন সংগ্রামী নারীর সংগ্রাম ও বিখ্যাত তিন ভাইয়ের মজাদার না জানা সব তথ্য জানতে বইটি সকল পাঠকের পড়া উচিত।এছাড়া, খুবই সহজ সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত বইটি।
এতো সুন্দর,এতো মায়া মায়া বইটা পড়ে শেষ করলাম।বইটার প্রথম থেকে শেষ অবধি বেশ ভালো লেগেছে। হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবালের মা যে তাদের মতোই ভালো লেখেন সেটা অবশ্যই মানতে হবে। পুরো বইটা পড়ে একবারও মনে হয়নি এটা কোনো কাঁচা হাতে লেখা কারোর জীবনকাহিনী।একজন মা,একজন নারী কিভাবে সাধারণ থেকে রত্নগর্ভা হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছেন এই বই হচ্ছে সেই কাহিনী। কতো কিছু স্বাক্ষী হতে হয়েছে তাকে,লড়াই করে গেছেন শুরু থেকে শেষ অবধি।তাইতো জীবন যে রকম।
খুবই ভালো লেগেছে বইটা।কয়েক জায়গায় চোখও ভিজে আসছিলো, একটা জীবনে মানুষকে কতো কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাও জীবন সুন্দর।।।
কারো কারো জীবন কতই না ঘটনাবহুল হয়। পুরো বইটা পড়ার সময় একটা আবছা ভালোলাগা ঘিরে রেখেছিলো। বইয়ের শুরুতে শ্রদ্ধেয়া আয়েশা ফয়েজের বিবাহিত জীবন ও তার সন্তানদের গল্পগুলো পড়ার সময় আমার মুখে একটা হাসি লেগে ছিলো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুরুর পর থেকে বিষন্নতায় ছেয়ে যায় মনটা।
ছোট ছোট ভাগে বিভিন্ন ঘটনা লিখে গিয়েছেন তিনি, ফলে বইটা খুব সাদামাটা কিন্তু সুন্দর ও উপভোগ্য লেগেছে।
'যেমন মা তেমন ছা' কথাটা মনে হয় এক্ষেত্রে সত্যি। বইটা পড়তে গিয়ে বার বার হুমায়ুন আহমেদ এর লেখার গন্ধ পাচ্ছিলাম। এত সুন্দর গল্প বলতে পারেন মহিলা। আর কি স্মার্ট চিন্তা ভাবনা! আরো বই লিখলে ভাল হত। বইটা খুবি ভাল লেগ��ছে পড়তে। আর লাস্ট চ্যাপ্টারটা 💔💔💔
হুমায়ূন আহমেদ , জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবের মা আয়েশা ফয়েজের লেখা জীবন যে রকম ( সময় প্রকাশনী,২০০৮) একটি আত্মজীবনীমূলক বই | ১৯৯১ সালে আয়েশা ফয়েজ যখন তাঁর মেজো পুত্র জাফর ইকবালের বাড়ি আমেরিকার নিউ জার্সিতে যান ( জাফর ইকবাল সেসময়ে তাঁর পরিবারকে নিয়ে আমেরিকায় ছিলেন), তখন তাঁর হাতে অনেক সময় ছিল | সেসময়ে জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন হক আয়েশা ফয়েজকে তাঁর জীবনের ঘটনাগুলো লিখে রাখতে বলেন যেন ভবিষ্যতে তাঁর নাতি-নাত্নিরা এগুলো পড়ে তাঁর অসীম সাহসিকতা পূর্ণ জীবন সম্পর্কে জানতে পারে | পুত্র ও পুত্রবধূর অনুরোধে তিনি কম্পিউটারে বসে লেখা শুরু করেন |
তাঁর আত্মজীবনী শুরু হয় ১৯৪৪ সালে এক বেকার যুবককে বিয়ে করার ( অর্থাৎ তাঁর স্বামী ফয়েজুর রহমান আহমেদ ) মাধ্যমে | বিয়ের পর তাঁর নতুন জীবন , শ্বশুর- শ্বাশুরি , তাঁর স্বামী , স্বামীর নতুন চাকরি পাওয়া এই বিষয়গুলো বর্ণনা করেন | এরপরে তাঁর গর্ভবতী হওয়ার সময়টা, সেসময়ে তাঁকে করা বিভিন্ন পরিচিত এবং এমন��ি অপরিচিত মানুষের করা যত্ন ও তারপর সেসময়ে গর্ভবতী নারীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার এর ব্যাপারে লিখেছেন | তারপর হুমায়ূন আহমেদের জন্মমুহূর্ত এবং এর পরে ঘটে যাওয়া আরো বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা করেন যেগুলো পড়লে পাঠক অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন, যেমনঃ হুমায়ূন আহমেদের জন্মের পর হুমায়ূন আহমেদের দাদা-দাদী তাঁর নাম রেখেছিলেন শামসুর রহমান। আর হুমায়ূন আহমেদের জন্মের পর আয়েশা ফয়েজের ডেঙ্গু জ্বর হয় আর সেসময়ে ডেঙ্গু জ্বরের কোনো চিকিৎসা ছিলো না এবং তখন হুমায়ূন আহমেদের নানী হুমায়ূন আহমেদের খেয়াল রাখেন |
তারপর ক্রমে ক্রমে তাঁর আরো পাঁচ সন্তানের- সুফিয়া হায়দার (শেফু ), জাফর ইকবাল , মমতাজ শহীদ (শিখু), আহসান হাবীব ও রোখসানা আহমেদ (মনি) এর জন্ম, জন্মমুহূর্ত, তাঁদের ছোটবেলা এবং তাঁদের স্বভাব সম্পর্কে বর্ণনা করেন |
এরপর হুমায়ূন আহমেদের বাবার করা বিভিন্ন ভবিষৎবাণী, যেগুলো অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে তাঁর করা ভবিষ্যতবাণী গুলো আসলেই ভবিষ্যতে এক এক করে সবগুলোই সত্য হয় |
তারপর তাঁর স্বামীর চাকরি সূত্রে তাঁদের বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা হয় , যেমনঃ বগুড়া, সিলেট, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পচাগর আর সর্বশেষ পিরোজপুর-জায়গাগুলোর বর্ণনা |
এরপর তো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল | তারপর মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, পাকিস্তানিদের নৃশংসতা, তাঁর স্বামীর শহিদ হওয়া , জীবন বাঁচানোর জন্য সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ানো, বিপদের সময় বিভিন্ন পরিচিত মানুষের দূরে সরে যাওয়া আবার কিছু অপরিচিত মানুষের আবার তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসা, তাঁর মৃত স্বামীর কবর খুঁজে পাওয়া এবং তা কবর দেওয়া , তাঁর বাবার মৃত্যু এর ঘটনাগুলো তিনি লিখেছেন | এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন অসহায়তার বর্ণনা , স্বামীর হত্যাকারীর সাজার জন্য অক্লান্তিক চেষ্টা , সন্তানদের একা মানুষ করার ব্যাপারগুলো তিনি ক্রমে ক্রমে লিখে গেছেন যা পড়লে আয়েশা ফয়েজের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানা যায় | অত্যন্ত সহজ-সাবলীল ভাষায় তাঁর জীবন সম্পর্কে লেখার পর তাঁর পুত্র জাফর ইকবাল সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাঁর মায়ের এই লেখাগুলো তিনি বই আকারে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেন, যা অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় | আশা করি, বইটি পড়ে সবার ভালো লাগবে | বইঃ জীবন যে রকম লেখকঃ আয়েশা ফয়েজ ধরণঃ আত্মজীবনী প্রকাশিতঃ ২০০৮ রেটিংঃ ৫/৫
বই পর্যালোচনা নামঃ জীবন যে রকম লেখিকাঃ আয়েশা ফয়েজ বইয়ের ধরণঃ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ প্রথম প্রকাশঃ এপ্রিল ২০০৮ প্রকাশনীঃ সময় প্রকাশন মোট পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১১৫ আত্মজীবনীমূলক বইগুলোর প্রতি বরাবরই আমার আগ্রহের জায়গাটা বেশ বড়, কারণ এই বইগুলো থেকে যে শুধু লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের একঝলক আমরা যে পাই তা নয়, বরং একই সাথে পরিচয় পাই তাঁর পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে একান্ত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতারও। আয়েশা ফয়েজ—বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের গর্বিত জননী! তাঁর এই আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে তাঁর বিবাহ পরবর্তী জীবনের বেশকিছু চাঞ্চল্যকর অথচ চিত্তাকর্ষক অভিজ্ঞতার আখ্যান, যে অভিজ্ঞতার পুরোটা জুড়ে রয়েছে তাঁর স্বামী সন্তানেরা, এবং একান্নবর্তী পরিবারের আরো বেশকিছু অগ্রজ-অনুজের আনাগোনা। জীবন নামক নদীর ঢেউয়ের উত্থান পতন দেখেছেন তিনি, প্রথম সন্তান হুমায়ূন আহমেদের জন্মের সময় কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুক্তিবোধহীন এক সমাজের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি, কিন্তু নিজের মাঝে ধারণ করেছিলেন পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্বামী সন্তানের প্রতি অপরিসীম মমতা। ৭১ এ স্বামীকে হারিয়ে সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অকুল পাথারে পড়েও হারাননি মনোবল, মানুষ করেছেন সন্তানদের, শক্ত হাতে ধরেছেন সংসারের হাল। বইটি পড়তে যেয়ে আমি বুঝেছি যে আজকের একজন হুমায়ূন আহমেদ এবং একজন মুহম্মদ জাফর ইকবাল কীভাবে গড়ে উঠেছিলেন, তাঁদের প্রতিটি রক্তকণায় প্রবাহিত হয়েছে তাঁদের পিতার দর্শনবাদ ও আদর্শ, যে আদর্শের অনেকখানি ছায়াই বহন করেছেন স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ নিজেও। বুদ্ধিমতী, অকুতোভয় এই নারীকে যদি আমি সম্মান না জানাই, তো আর কাকে জানাবো? বইটি পড়ে বেশ কয়েকটি ডায়ালগ বা উক্তি আমার মনে গেঁথে গিয়েছে, সেগুলো শেয়ার না করে পারছি না! ১. আম্মা, আমি কাঙাল মানুষ! আল্লাহর কাছে ধন চাইনাই, শুধু জন চেয়েছি। আল্লাহর কাছে দুই জিনিস চাওয়া যায় না! (আয়েশা ফয়েজের শ্বশুর) ২. যার জীবনী শক্তি থাকে সে বেঁচে থাকে আর যার থাকেনা, সে নিঃশেষ হয়ে যায়। (আয়েশা ফয়েজ) ৩. নদীর এই তীরটা হচ্ছে জীবন, আর অন্য তীরটা হচ্ছে মৃত্যু। আমরা সবাই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি (ফয়জুর রহমান আহমেদ) ৪. সময় দেখার জন্যেই যে দেয়ালে ঘড়ি রাখতে হবে সেটা কে বলেছে? জীবনের স্মৃতিও তো সেটা দেখাতে পারে! (আয়েশা ফয়েজ) ৫. ভয়াবহ একাত্তরেই আমি আবিষ্কার করেছি যে অসংখ্য সাধারণ মানুষের বুকের ভেতর আছে সোনার হৃদয়। তাদের পায়ের ধূলিতে ধন্য হয়েছে এই পৃথিবী। কার সাধ্যি আছে কলুষিত করবে এই সোনার পৃথিবী? (আয়েশা ফয়েজ) ৬. আমি বড়লোকের মেয়ে নই, বড়লোকের পুত্রবধু কিংবা স্ত্রীও নই। আমি সম্মানিত পরিবারের পুত্রবধু, সম্মানিত পরিবারের মেয়ে। আজীবন যেমন মানুষের কাছে সম্মান পেয়ে এসেছি, তেমনই মানুষকে সম্মানও দিয়ে এসেছি। (আয়েশা ফয়েজ) ৭. ধর্মকে ক্ষুদ্র গন্ডি থেকে বের করার আগে আমরা ধর্মের কাছে কি চাইতে পারি? (আয়েশা ফয়েজ) ৮. ধর্মের নামে মানুষের দুঃখ কষ্টকে পুঁজি করে যারা ব্যবসা করে খোদা কি তাদের ক্ষমা করবেন? (আয়েশা ফয়েজ) এমন আরো অনেক সুচিন্তিত এবং গভীর জীবনদর্শনবোধের পরিচায়ক উক্তি আছে বইটিতে, সব আর তুলে ধরলাম না, বাকিটুকু আপনাদের জন্যেই নাহয় তোলা থাকুক! যারা বইটি এখনো পড়েননি, সুযোগ করে পড়ে ফেলবেন। সময়টুকু নিরাশ যাবেনা আশা করি! রেটিংঃ ৪/৫
আয়েশা ফয়েজ, হুমায়ূন আহমেদের মা৷ এই বইটি উনার ছোট আত্মজীবনী গ্রন্থ বলা যায়৷ আয়েশা ফয়েজের বিয়ে (১৯৪৪) থেকে ১৯৯১ সালের উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনাগুলো স্থান পেয়েছে। আবার এটিকে ব্যক্তিগত ডায়েরি হিসেবেও ধরা যায়৷
বইটাকে আমি চারটি ভাগে ভাগ করবো।
• উনার সন্তান জন্মদানের সময়কার স্মৃতি
• উনার স্বামী ফয়জুর রহমান ছিলেন পুলিশ সে কারণে বিভিন্ন স্থানে বদলি হয়ে যেতে হয়েছে। সেই স্থানগুলোর পরিবেশ কেমন ছিল সেগুলোর বর্ণনা।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় ঠিকানাহীন ভাবে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা
• মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ঢাকায় এসে জীবনধারণের যে সংগ্রাম করেছিলেন।
তাছাড়া নতুন কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। আয়েশা এবং ফয়জুর রহমান দম্পতির ছিল ৬ সন্তান। হুমায়ূন আহমেদ বড়, যার ডাকনাম কাজল। তাদের সবচেয়ে যে ছোট মেয়ে `মনি` সে ছিল বোবা এবং বধির। ফয়জুর রহমান ছিলেন সাংস্কৃতিমনা মানুষ। তিনি বই লিখেছেন, নিজে বই পড়তো, আবৃতি করতো। তাদের মেয়ে শেফুর যখন এক মাস বয়স তাঁর জন্য কিনে নিয়ে এসেছিল হারমোনিয়াম। বাড়িতে হরিণ পালতো।
যু��্ধের সময় ফয়জুর রহমানকে পাকিস্তানীরা হত্যা করে। পরবর্তীতে তাঁকে কবর দেওয়া হয় পিরোজপুরে। সেই সময়টায় আয়েশা ফয়েজ তাঁর ৬ সন্তানকে নিয়ে অনেকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
যুদ্ধের সময় হুমায়ূন আহমেদ এবং জাফর ইকবাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো।
আয়েশা ফয়েজের বাবাকে পাকিস্তানীরা জোর করে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান বানিয়ে দিয়েছিলেন৷ পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে সে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও পরে তাকে মুক্তিবাহিনীরা হত্যা করেছিল।
যুদ্ধ শেষে আসলেন ঢাকায়, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে শহীদ পরিবারের জন্য সরকার থেকে বাসা পেলেন৷ উঠলেন সেই বাসায়৷ কিন্তু পরদিনই রক্ষীবাহিনী এসে তাদের বের করে দেন সে বাসা থেকে।
এর জন্য প্রথম প্রতিবাদ করেন আরেক লেখক আহমদ ছফা`য়।
এত সংগ্রাম শেষে তিনি সফল হয়েছেন৷
তাঁর তিন ছেলেই হয়েছেন বিখ্যাত -
• হুমায়ূন আহমেদ
• জাফর ইকবাল
• আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট)
বইটিতে লক্ষ্য করা যায় যে, পরিবারের প্রতি বেশি দায়িত্বশীল ছিলেন জাফর ইকবাল। হুমায়ূন আহমেদ যেন ঝামেলায় জড়াতে চায়তেন না।
হুমায়ুন আহমেদ এবং জাফর ইকবাল স্যারের ছোটবেলা-বড়বেলার গল্পগুলো পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে বেশ কয়েকবার। যতবার পড়েছি, ততবারই তাঁদের সফল হওয়ার পেছনের সংগ্রামের গল্পগুলো যথেষ্ট ভাবিয়েছে। কিন্তু আজ ‘জীবন যে রকম’ শেষ করে বুঝলাম তাঁদের সফল হওয়ার পেছনে ছিলেন অকল্পনীয় মনোবলের অধিকারিণী একজন মা, আয়েশা ফয়েজ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে স্বামীর নির্মম মৃত্যুর পরবর্তী সময়গুলোতে তিনি একা হাতে নিজের ছয়টি সন্তানকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, তা এককথায় অবিশ্বাসও! উনি না থাকলে আজকের এই বিখ্যাত মানুষগুলোকে আমরা পেতাম কি না কে জানে! চমৎকার একটি বই। শেষের অনেকটাই ‘রঙিন চশমা’ বইয়ের সাথে মিলে গেলেও, পরিশিষ্ট অংশটুকু খুব কষ্ট দিয়েছে। ‘আমার বন্ধু রাশেদ’-এর শেষটুকু পড়ে আমি খুব কেঁদেছিলাম। অনেকটা সেইরকম অনুভূতি আজ আবার হল।শুধু একটা জিনিস জানতে ইচ্ছা হচ্ছে খুব। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া দুইজন টগবগে যুবক কেন দেশ স্বাধীনে অংশ নিলেন না? তাঁদের বাবার এমন নির্মম মৃত্যু দেখেও কি তাঁদের একবারও ইচ্ছে হয়নি সেই খুনি হানাদারদের শেষ করে দিতে? আমার প্রশ্নের কোন যুক্তিসঙ্গত উত্তর নিশ্চয়ই আছে যা আমার জানা নেই। হয়তো লেখা ছিল কোথাও, কিন্তু আমার চোখ এড়িয়ে গিয়েছে! হয়তো!