মননশীল কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান লেখালেখি করছেন দু’দশকের বেশি সময় ধরে। এই বইয়ে তাঁর নিজের লেখালেখি, পছন্দের লেখক, প্রিয় বই ইত্যাদি বিষয়ক লেখাগুলো সংকলিত হয়েছে।
Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.
বাংলা কথাসাহিত্যের তিন দিকপাল শহীদুল জহির, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হককে নিয়ে লেখা শাহাদুজ্জামানের স্মৃতিমেদুর কিন্তু বিশ্লেষণধর্মী গদ্যগুচ্ছের জন্যই বইটা পড়ে ফেলা যায়। তবে বইয়ের সেরা প্রবন্ধ "মিলান কুন্ডেরার লাইফ ইজ এলসহোয়ার।"পড়ার পর মনে হচ্ছে এখনই কুন্ডেরার সব গল্প উপন্যাস পড়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করি। লেখক যে সাক্ষাৎকার গ্রহীতা ও সাক্ষাৎকারী উভয় হিসেবেই অসাধারণ তা দুটো সাক্ষাৎকার পড়লে বোঝা যাবে। বইটায় এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ও অগোছালো ভাব আছে। কিন্তু প্রতিটা প্রবন্ধ,নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকার চমৎকার।
শাহাদুজ্জামান বিবিধ বিষয়ে লেখালেখি করেন। গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার প্রভৃতি বিষয়ে দীপ্তি ছড়াচ্ছেন বহুদিন ধরে। তাঁর দীর্ঘদিনের লেখালেখি এবং প্রিয় লেখকদের ব্যপারে ছোটখাটো মতামতের নিমিত্তে বইটি লেখা। বইটিতে ৯ টি প্রবন্ধ এবং দুইটি সাক্ষাৎকার আছে। তার মধ্যে একটি সাক্ষাৎকার স্বয়ং লেখকের।
প্রথমেই আসে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখকের যে ফ্যান্টাসি কাজ করে তাই নিয়েই মূলত প্রবন্ধটা। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ কম সমালোচিত নন।এমনকি যখন নোবেল পুরস্কার লাভ করলেন তখনও বিশ্ব দরবারে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।রবীন্দ্রনাথ আসলে সর্ব স্তরের লেখা লিখতে পারেন নি তার আভিজাত্যের কারণে। এখানে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেটা রবীন্দ্রনাথের ব্যর্থতার বিষয়ে একটি দায় বলা যায়। তারপর শহীদুল জহির যেরকম প্রচারবিমুখ লেখক ছিলেন, তার কোনো কোনো সহকর্মী পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি লেখালেখি করেন। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কিংবা ভূতের গলির গল্পের মাধ্যমে তিনি যে তৎকালীন সময়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন তা বিরল। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা লিখতে লেখকের যে পরিশ্রম করতে হয়েছে তা নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন শাহাদুজ্জামান।ইলিয়াস সাহেবের ভারাক্রান্ত মনের কারণ খুঁজেছেন নিজ থিকেই।
হাসান আজিজুল হকের রাজশাহীর বাসায় চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছেন সাক্ষাৎকার নিতে। রাত একটা পর্যন্ত সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরেছেন নিজ ডেরায়। আরো অনেক রোমাঞ্চকর স্মৃতি নিয়ে কথার বুননে পাঠককে মুগ্ধ করেছেন। বই মেলা নিয়ে একটি প্রবন্ধ আছে, সেখানে বলেছেন যে বইকে পণ্য হিসেবে প্রচার করার কারণে এর মান কিছুটা হলেও কমে যাচ্ছে।যেসব দেশে এত নিয়মিত মেলা হয়না তাদেরও সাহিত্যও কিন্তু সমৃদ্ধ।
তবে বইটাতে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো একটি সাক্ষাৎকার। ডাচ গবেষক ইওস ভ্যান বুরদেন এবং ইয়েনেকো আরেন্স ১৯৭৩ সালে গবেষণার কাজে বাংলাদেশে আসেন।তখন তারা গবেষণার জন্য কুষ্টিয়ার একটি গ্রামকে বেছে নেন।দীর্ঘ একবছর সেই এলাকার মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে একটি বই লিখেন।তারা ওই গ্রামে থাকতে সবচেয়ে বেশি ঝগড়ার মুখোমুখি হন এবং গবেষণাগ্রন্থটির নাম দেন 'ঝগড়াপুর'। বইটি পরবর্তীতে বেশ আলোচিত হয়। আমারও ইচ্ছা আছে বইটি পড়ার। শাহাদুজ্জামানের মননশীল লেখনীতে বরাবরের মতই মুগ্ধ। কয়েকজন লেখক সম্পর্কে বিদগ্ধ আলোচনা করেছেন যা কৌতুহলী পাঠক মাত্রই পড়ে আনন্দ পাবেন। হ্যাপি রিডিং।
বুকশেলফে চিরস্থায়ী স্থান দেয়া এবং কাউকে রেকমেন্ড করার মতো একটা বই পড়ে শেষ করলাম। বইয়ের প্রতিটা অধ্যায় পড়ার সময় নেশায় বুঁদ ছিলাম।
'রবীন্দ্রনাথ: ব্যক্তিগত কোলাজ, আমার লেখালেখি: একটি সাক্ষাৎকার, বইমেলা, ক্রাচের কর্নেল: প্রেক্ষাপট, ঝগড়াপুরের গল্প, মিলান কুন্ডেরার লাইফ ইজ এলসহোয়ার' অধ্যায়গুলো যেমন অনেককিছু শিখিয়েছে; তেমনি 'শহীদুল জহির, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক এবং সুচরিত চৌধুরী' নিয়ে লেখা অধ্যায়গুলো আনন্দ-বিষাদের উপলব্ধি দিয়েছে।
কোনো বইতে যখন তাহেরের প্রসঙ্গ আসে তখন আমার যুদ্ধাহত নানার কথা মনে পড়ে। কারণ আমার নানা বাড়ি শ্যামগঞ্জের কাজলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম পাবই। যদিও এখন আমার নানা বাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই কারণ আমার কোনো মামা ছিল না। নানা বাড়ি চিরতরে মুছে যাওয়া অনেক বেদনার।
আর সেই সাথে আমার মনে ঝড় হচ্ছে আমার পরিবারের পরিণতির কথা ভেবে, যে পরিবার রাজনৈতিক বলির শিকার। কিছু করতে দিল না আমাদের; সর....।
লেখালেখি করতে চাইলে কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়, কী ধরনের বইয়ের কাছাকাছি যাওয়া দরকার, তার এক নিবিড় ব্যবচ্ছেদ! এখনো যে কতটা নাদান পাঠক আমি... এই বইটা পড়ে বুঝতে পারলাম। কত্ত কিছু যে পড়া বাকি!
শাহাদুজ্জামানের সেই পুরনো ইলিয়াস আর শহীদুল প্রীতি'র কিচ্ছা, প্রায় অর্ধেক বই জুড়ে! নতুন যা পাইলাম তা হলো শ্রদ্ধেয় হাসান আজিজুল হক সম্পর্কিত লেখা টা,পড়ে আরাম পেয়েছি। বইমেলা নিয়ে লেখা টা আরেকটু বড় হলে ভালো লাগতো।
আর সাক্ষাৎকারের মধ্যে বুরদেনের সাক্ষাৎকারটা ভালো লেগেছে,যেটা শাহাদুজ্জামান নিজে নিয়েছেন।
লিখিয়েদের নিয়ে লেখালেখির সংকলন এ বই। কাদের নিয়ে লিখেছেন সুস্বাদু গদ্যকার শাহাদুজ্জামান? রবীন্দ্রনাথ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, মিলান কুন্ডেরাদের সাহিত্যজীবন আর লেখনী নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এ বইতে তার গৃহীত সাক্ষাৎকার আছে, আছে নিজের দেয়া সাক্ষাৎকারও-এসব বইকে বেশ বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
নিজে ব্যক্তিগতভাবে মেডিকেলের শিক্ষার্থী ছিলেন শাহাদুজ্জামান। কিন্তু সাহিত্যের প্রতি অনুভূতি সৃষ্টিতে তা বাঁধা হতে পারেনি। বাবা আর মায়ের সাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহ সন্তান হিসেবে ধারণ করেছেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজীবন এতো ব্যাপক যে, তা নিয়ে ক্ষুদ্র কায়ার একটি প্রবন্ধে আলোচনা সম্ভব নয়। তবুও শাহাদুজ্জামান নিজস্ব ভঙ্গিতে শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে নিজের ধারণা পাঠককে জানিয়েছেন।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাথে তার অন্তরঙ্গতা কতো নিবিড় ছিলো তা বুঝতে পারা যায় এই জিনিয়াসকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধ দুটো পড়লেই। "খোয়াবনামা " কিংবা "চিলেকোঠার সেপাই " লেখার বাস্তব ভিত্তি কোথায় পেয়েছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার সদুত্তর গদ্যচ্ছলে পাঠককে জানিয়ে দেন শাহাদুজ্জামান।
শহীদুল জহির মিডিয়ার আলোয় আলোকিত হননি, শহীদুল জহির অনন্য উচ্চতার গদ্যশক্তিতে ভরপুর এক মানুষ। কলিকাতার ভিন্নমাত্রিক লেখকদের নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। অথচ, শহীদুল জহির বাংলাদেশে ভি��্নমাত্রিক লেখনীর জোয়ার এনেছিলেন। তার ব্যক্তিজীবন আর সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশ্লেষণী লেখাটি হাহাকার আনে পাঠক মনে আর প্রচন্ড আগ্রহ জাগায় শহীদুল জহির পাঠ করতে।
হাসান আজিজুল হকের সাথে ব্যক্তি হিসেবে শাহাদুজ্জামানের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। সেই সখ্যতা আর হাসান আজিজুল হকের সাহিত্য রচনার উপাদান নিয়ে সল্পদৈর্ঘ্যের প্রবন্ধ।
মিলান কুন্ডেরার "Life is elsewhere " নিয়ে লিখতে বসে শাহাদুজ্জামানের গদ্যের জাহাজ কুন্ডেরাকে ছাড়িয়ে বিশ্বসাহিত্যে চক্কর দিয়ে আসে।
শাহাদুজ্জামান তার "ক্রাচের কর্ণেল" লেখার উপাদান কীভাবে পেলেন? কোন দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি, বিপ্লবের স্বপনে মশগুল আবু তাহেরকে নিয়ে লিখলেন "ক্রচের কর্ণেল"? এসবই গল্পচ্ছলে বলে যান তিনি।
দেশস্বাধীন হওয়ার পর এনজিও "কারিতাসের " দুই নেদারল্যান্ডের নাগরিকের সেসময়ের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে "ঝগড়াপুর " নামে একটি গবেষণাগ্রন্থ লিখেছিলেন। সেই দুই ব্যক্তির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান। এই সাক্ষাৎকার যুুদ্ধত্তোর বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মনোজগৎ বুঝতে সহায়ক হবে। তবে ভুলে গেলে হবে না, এই দুই বিদেশী এনজিও কর্মী হিসেবে তৎকালীন বাংলাদেশকে উপস্থাপন করবেন, সেইসাথে তুলনা করবেন বর্তমান বাংলাদেশকে।
শাহাদুজ্জামান ২০১০ সালে একটি সংগঠনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সেই আলাপচারীতায় খোলামেলা কথা বলেছেন লেখালেখি নিয়ে একান্তই নিজে কী ভাবেন,কাদের লেখা পড়েন কিংবা লেখালেখি র ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই সাক্ষাৎকারটা বেশ ভালো।
এই বইয়ের সবচেয়ে দূর্বল দিক মনে হয়েছে সমন্বয়হীনতা অর্থাৎ, চমৎকারসব কনটেন্ট থাকার পরও কোথায় যেন একটা অগোছালোভাব ছিলো।
দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে লেখালেখি করছেন লেখক শাহাদুজ্জামান। "লেখালিখি " তে স্থান পেয়েছে নিজের লেখালেখি, পছন্দের লেখক, প্রিয় বই, বইমেলা এবং দুটি সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার দুইটির একটি আবার লেখকের নিজেরই। এর সব গুলো লেখাই পত্রিকাতে প্রকাশ পেয়েছি। একটি লেখা আবার লেখক নিজে একটি অনুষ্ঠানে পাঠ করেছিলেন।
"লেখালেখি " প্রথম লেখাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে নিয়ে। ব্যক্তিজীবন ও লেখালেখির জীবনে নান ভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। যখন নোবেল পুরস্কার পান তখনও নান ভালো আলোচিত সমালোচিত হয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি সর্বস্তরের লেখা লিখতে পারেন নাই, এটা তাঁর সমালোচনার আরও একটা বড় দিক।
শহীদুল জহির একজন নিভৃতচারী লেখক। নিজে কাটাতেন নিরিবিলি এক জীবন, দেখলে আড্ডা বাজ মনে না হলেও ভিতরে ভিতরে দারুন এক মজার মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি লেখালেখি করতেন এটা তাঁর সহকর্মী পর্য়ন্ত জানতেন না। বইয়ের সাথে তাঁর পাসপোর্ট সাইজের একটা ছবিটা আমরা দেখি তবে বিশেষ মুহূর্তের প্রানবন্ত প্রনখোলা হাসি হাসতে তাঁকে দেখা গেছে। যেমন নিভৃতে ছিলেন তেমন নিভৃতেই চলে গেলেন তিনি।
প্রবল প্রাণশক্তিতে ভরা একজন গুণী মানুষ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। লেখক শাহাদুজ্জামান অনেকটা সমায় মিশবার সময় পেয়েছেন, অনেক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন উনার থেকে। সাহিত্য ক্ষেত্রে অনেকটা অবিভাবকের মত পেয়েছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কে। অসাধারণ কথা বলতে পারতেন কিন্তু কখনও কোন প্রচার মাধ্যমে আসনেন নি বা তেমন সুযোগ আসেনি তাই আমরা আজ বঞ্চিত এই মানুষটার অনেক কিছু থেকে।
সময়ের স্রোতের বিপরীতে হেঁটে হেঁটে নিজেকে সব সময় প্রমান করেছেন উজানের মানুষ হিসেবে। তাঁর বাড়ীর নামও তাই উজান। কলকাতায় জন্ম আর ঢাকার বাইরে থেকে সব সময় লেখালেখি টা চালিয়ে গেছেন উজানের এই লেখক।
কর্নেল তাহেরের পরিবারের সাথে মেশার সুযোগ থেকেই জন্ম নেয় উনার ব্যপারে জানার আগ্রহ। নিজের পিএইচডি এর সমান পরিশ্রমের ফলেই তিনি লিখেছিলেন ক্রাচের কর্নেল।
বইমেলা যা আমাদের দেশে প্রতিবছর হয়ে থাকে তবে পৃথিবীর বিখ্যাত লেখকদের দেশে এমন নিয়মিত বই মেলা হয় না।
তবে বইটাতে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো একটি সাক্ষাৎকার।
১৯৭৩ সালে গবেষণার কাজে বাংলাদেশে আসেন ডাচ গবেষক ইওস ভ্যান বুরদেন এবং ইয়েনেকো আরেন্স। তারা গবেষণার জন্য কুষ্টিয়ার একটি গ্রামে দীর্ঘ একবছর সেই এলাকার মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে একটি গবেষণাগ্রন্থ লিখেন।
ওই গ্রামের মানুষদের পর্যবেক্ষণ করে বিশেষ করে তাদের দৈনন্দিন ঝগড়াকে পর্যবেক্ষণ করে একটি বই লেখেন, বইটির নাম দেন 'ঝগড়াপুর'। পরবর্তীতে বেশ আলোচিত হয় বইটি।
"লেখালেখি " তে কয়েকজন লেখক সম্পর্কে নিজের মত আলোচনা করেছেন, সেই সব লেখকদের সাথে কাটানো সময়টা কেমন করে লেখক শাহাদুজ্জামান কে একটু একটু করে বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে তার চমৎকার আলোচনা করেছেন।
লেখক শাহাদুজ্জামান এর লেখা বরাবরই আনাকে মুগ্ধ করে। এই বইটা আরও বেশী মুগ্ধ করেছে কিছু বিখ্যাত প্রচার বিমুখ লেখকের সাথে কাটানো সময়টার বর্নণা ও কেখকের নিজের সাক্ষাৎকার।
ধরুন একজন বাশি বাজাচ্ছে আপনার সামনে বসে, আপনি অপলক চেয়ে আছেন তার দিকে, আপনার কানে যেন কেউ মধু ঢেলে দিচ্ছে। দারুন না অনুভূতিটা? আবার ধরুন আপনি নদীর পাড়ে বসে আছেন গভীর রাতে। দূরে কেউ বাশি বাজাচ্ছে। সে সুর যেন রুপকথার ম্যাজিক কার্পেট এ চড়ে আপনার কানে চলে আসছে। আপনার কোনটা পছন্দ?
শাহাদুজ্জামানের লেখা আমার কাছে দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরের মতো মনে হয়। একটা মিষ্টি ভাব আছে, আছে রহস্যময় মায়ার জ্বাল। ছোট ছোট বাক্যের জাল বুনে যান তিনি ঠিক যেমন নানীকে দেখতাম ছোট ছোট ফোঁড় দিয়ে নকশী কাথা করতো। কিন্তু কি গভীর প্রতিটা বাক্য!
"লেখালেখি" বইটাতে স্থান পেয়েছে শাহাদুজ্জামান এর কিছু প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকার। শাহাদুজ্জামান তার প্রিয় লেখক রবীন্দ্রনাথ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, শহীদুল জহির, মিলান কুন্ডেরা কে নিয়ে লিখেছেন এখানে। লিখেছেন তার উপন্যাস "ক্রাচের কর্নেল" এর পটভুমি নিয়ে। স্থান পেয়েছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে গবেষণা করে লেখা "ঝগড়াপুর" গ্রন্থের রচয়িতা ইওস ভ্যান বুরদেনের সাক্ষাৎকার, এমনকি নিজের দেওয়া সাক্ষাৎকার ও। লন্ডন ভিত্তিক সংগঠন লিঙ্ক বাংলাকে দেয়া এই সাক্ষাৎকার লেখক শাহাদুজ্জামান কে চিনতে সাহায্য করবে।
বর্তমান প্রজন্মের মননশীল কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে শাহাদুজ্জামান (১৯৬০-) অন্যতম। দু'দশকের বেশি সময় ধরে তিনি পাঠকদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন 'ক্রাচের কর্নেল', 'একজন কমলালেবু', 'কয়েকটি বিহ্বল গল্প' প্রভৃতির মত অসাধারণ কিছু লেখা। তাঁরই আরেকটি অন্যতম প্রবন্ধ গ্রন্থ 'লেখালেখি' পড়লাম গত ক'দিন ধরে। বইটি শুরু করার পর থেকেই মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন ছিলাম। পড়া শেষ করার পর মনে হল এই বইটি আগে কেন পড়লাম না! এই বইটি নিয়ে সেভাবে কোন লেখাও চোখে পড়েনি। কিন্তু বইটি নিঃসন্দেহে একটি মাস্টারপিস। বইটি সম্পর্কে প্রচারণা হওয়া আবশ্যক। তাই প্রিয় লেখকের প্রতি মুগ্ধতা ও ভালো বইয়ের প্রচারণার দায়বদ্ধতা থেকে আজকের এই সামান্য প্রয়াস।
শুরুতে বলে রাখি 'লেখালেখি' কোন মৌলিক গ্রন্থ নয়। বইটি মূলত লেখকের নিজের লেখালেখি, প্রিয় লেখক, প্রিয় বই, বই লেখার প্রেক্ষাপট এবং সাক্ষাৎকারের সংকলন। সবগুলো লেখাই ইতোপূর্বে পত্রিকা ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতে করে বইটিকে খাপছাড়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় মনে হবার কোন কারণ নেই। সূচিপত্র দেখলেই বইটির মর্ম কিছুটা আন্দাজ করা যায়-
√ রবীন্দ্রনাথ : ব্যক্তিগত লোকাজ √ শহীদুল জহিরের মৃত্যু : থেমে গেল দক্ষিণ মৈশুন্দি আর ভূতের গলির গল্প √ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ : প্রস্তুতিপর্বের একটু আধটু √ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : অন্তর্দীপ্তির লেখক √ উজান : হাসান আজিজুল হকের বাড়ি √ সুচরিত চৌধুরী : ঘুড়িটা সাদা কিন্তু লাল √ মিলান কুন্ডেরার লাইফ ইজ এলসহোয়ার √ ক্রাচের কর্ণেল : প্রেক্ষাপট √ বইমেলা √ ঝগড়াপুরের লেখক ইওস ভ্যান বুরদেনের সঙ্গে আলাপ √ আমার লেখালেখি : একটি সাক্ষাৎকার
এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। বইটির প্রথম অধ্যায়ে লেখক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। অধ্যায়টির শুরু হয়েছে লেখকের বাবার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দিয়ে, যা পড়ে কে কারো বইটির প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। এরপর লেখক রবীন্দ্রনাথের লেখালেখি, নোবেল প্রাপ্তি ও ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে চমৎকার কিছু অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন।
এর পরের অধ্যায়ে লেখক তাঁর প্রিয় লেখক শহীদুল জহির সম্পর্কে লিখেছেন৷ শুধু এই অধ্যায়ই নয়, বইটির অন্যান্য অধ্যায়গুলোতেও শহীদুল জহির ফিরে এসেছেন বারবার। এ থেকে বোঝা যায় শাহাদুজ্জামানের কাছে শহীদুল জহিরের গুরুত্ব কতখানি। শহীদুল জহিরের বিভিন্ন লেখা ও লেখার পেছনের ঘটনাগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। এর মধ্যে একটি ঘটনা না বললেই নয়।
‘আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস' গল্পটি শহীদুল জহির একটি অনুচ্ছেদে লিখেছিলেন। শহীদুল জহির প্রায় ২০ পৃষ্ঠার গল্পটির কোথাও কোনাে পূর্ণ যতিচিহ্ন ব্যবহার করেননি, শুধু কমা আর সেমিকোলন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এমনকি গল্পটি শেষও হয়েছে একটি কমা দিয়ে । কিন্তু 'ডুমুরখেকো মানুষ' বইটিতে গল্পটি ছাপানোর সময় নিষেধ করা সত্ত্বেও ছাপাখানার লোকজন দাড়ি দিয়েই গল্পটা ছাপে। শহীদুল জহির ঐ একটি কমার বেদনায় মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। গল্পটির শুধু একটি শুদ্ধ পাঠ নিশ্চিত করবার জন্য তিনি কমা দিয়ে আবার এই গল্পটি ছাপান তার পরবর্তী বই ‘ডলু নদীর হাওয়াতে'। এ থেকে বোঝা যায় শহীদুল জহির নিজের লেখালেখির প্রতি কতটা খুঁতখুঁতে ছিলেন।
'লেখালেখি'র পরের দুটি অধ্যায় লেখকের আরেক প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে নিয়ে লেখা। এক পর্যায়ে লেখক নিজেকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একজন 'কৌতূহলী পাঠক' বলে পরিচয় দিয়েছেন। দু'জনের মাঝে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল বেশ ভাল। ফলে প্রায়ই লেখক ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আড্ডা দিতেন। তাঁর একটি সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান। 'খোয়াবনামা' উপন্যাসটির প্রকাশনা নিয়ে একটি বেদনাদায়ক ঘটনার অবতারণাও করেছেন লেখক বইটিতে। লেখক আরো মনে করেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এক পর্যায়ে লেখক লিখেছেন, "আমার বেশ মনে আছে শুধু একবার ইলিয়াসের মুখ টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গিয়েছিল এবং সেটা তার মৃত মুখ। তার মৃত্যু সংবাদ দেবার সঙ্গে তার লাশটি দেখানাে হয়েছিল। টেলিভিশন তাে একটা কথার বাক্স, সেখানে অবিরাম কত অর্বাচীন মানুষ, অর্বাচীন কথার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, অথচ খুব ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ ছাড়া এ দেশের অগণিত মানুষের জানারই সুযােগ হলাে না যে ইলিয়াস কত চমৎকার কথা বলতেন।"
বইটিতে লেখক আরেক কীর্তিমান লেখক হাসান আজিজুল হক সম্পর্কেও তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন৷ হাসান আজিজুল হকের বাড়ি 'উজান' নিয়ে পুরো একটি অধ্যায় পাওয়া যায় 'লেখালেখি'তে। কীভাবে সেই বাড়িতে প্রথমবার হাসান আজিজুল হকের সাথে তাঁর পরিচয় হয় তার বর্ণনাও আছে অধ্যায়টিতে।
বইটির একটি অধ্যায়ে লেখক তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাস 'ক্রাচের কর্নেল' লেখার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কর্নেল তাহেরকে নিয়ে আলোচনা যেখানে আমাদের দেশে 'ট্যাবু', সেখানে তাকে নিয়ে একটি গোটা উপন্যাস লিখে ফেলার পেছনের গল্পগুলো বেশ চমকপ্রদ লেগেছে। শাহাদুজ্জামান তাঁর 'ক্রাচের কর্নেল'-এর টুকরো টুকরো স্মৃতি রোমন্থন করেছেন এই অধ্যায়টিতে।
'লেখালেখি'র একটি চমকপ্রদ অধ্যায় হল 'ঝগড়াপুরের লেখক ইওস ভ্যান বুরদেনের সাথে আলাপ'। নেদারল্যান্ডসের দুই তরুণ গবেষক ইউস ভ্যান বুরদেন ও ইয়েনেকা আরেন্স বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ ও নারী বিষয়ে গবেষণার জন্য ১৯৭৪ সালের পুরো বছরটি কুষ্টিয়ার একটি গ্রামে কাটান। সেই গবেষণার উপর ভিত্তি করে তারা 'ঝগড়াপুর' নামে একটি বই লেখেন৷ গ্রামীণ জীবনের একটি অনিবার্য উপাদান 'ঝগড়া' থেকে বইয়ের নামকরণের বিষয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং। এই বইটি নিয়েই ২০০৬ সালে শাহাদুজ্জামান বইটির একজন লেখক ইওস ভ্যান বুরদেনের একটি সাক্ষাৎকার নেন। চমৎকার এই সাক্ষাৎকারটি বইটিকে আরো প্রাণবন্ত করেছে।
'লেখালেখি'র সর্বশেষ অধ্যায়ে লেখকের নিজের একটি সাক্ষাৎকার সংযোজন করা হয়েছে। লেখালেখি, রাজনীতি, প্রবাস জীবন- কোন কিছুই বাদ যায়নি সাক্ষাৎকারটিতে। লেখক নিজের চিন্তাধারা, ভাল লাগা, মন্দ লাগা সব অকপটে স্বীকার করেছেন সাক্ষাৎকারটিতে।
এছাড়াও বইটির আরো কিছু ছোট ছোট অধ্যায়ে লেখক মিলান কুন্ডেরার বই 'লাইফ ইজ এলসহোয়ার', লেখক সুচরিত চৌধুরী এবং বইমেলা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সবশেষে বলতে চাই, একজন লেখকের কাছ থেকে তাঁর পছন্দের লেখকদের গল্প শোনা কতটা উপভোগ্য হতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শাহাদুজ্জামানের ‘লেখালেখি’ বইটি। লেখালেখি করতে চাইলে কী পরিমাণ পড়াশুনা ও পরিশ্রম করতে হয় এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হয় তা বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে ফুটে উঠছে। বিশেষ করে ভাল লেগেছে বইটিতে সংকলিত সাক্ষাৎকার দু'টি। শাহাদুজ্জামানের প্রতি ভালো লাগা বহুগুণে বেড়ে গেছে বইটি শেষ করে। আমার সুযোগ থাকলে বইটি সবাইকে দিয়ে পড়াতাম। লেখকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রইলো, তিনি যেন আমাদের জন্য এরকম আরো লেখা উপহার দিতে পারেন৷
This writer wrote some really inspiring columns and have taken some precious interviews. This book reflects Shahaduzzaman's personal view on some selected topic. The personal acquaintance of the writer with Akhteruzzaman Ilias probably gave the strongest boost in this book which resulted in a rare article on A. Ilias. The writer also told the motivation behind writing the biography of Colonel Taher in this book. An interview of the writer taken by Palash and Kaiser concluded the book.
বাংলাদেশের সাহিত্যের কয়েকজন অগ্রপথিক, যারা নির্মাণ-বয়ান বা যাপনে সাহিত্য সৃষ্টির জমিনে ফলিয়েছেন সোনার ফসল, এমন কয়েকজন স্রস্টাকে নিয়ে শাহাদুজ্জামানের চিন্তা-অভিজ্ঞতার কোলাজ এই লেখালেখি নামের কৃশকায় বই । রবীন্দ্রনাথ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শহিদুল জহির উঠে এসেছেন অতীত থেকে । ফিরে ফিরে এসেছেন ইলিয়াস । প্রিয় লেখক ইলিয়াস যখন আরেক প্রিয় লেখক শাহাদুজ্জামানের বয়ানে আসেন, ভাল তো লাগেই, তাছাড়া দুজনই উন্মোচিত হন বিভিন্ন কম্পাঙ্কের আলোতে । জানা যায়, ক্রাচের কর্নেল রচনার পেছনের গল্প, প্রস্তুতি এবং প্রেক্ষাপট । তাছাড়া এসেছেন মিলান কুন্ডেরা এবং আছে ঝগড়াপুরের লেখক ইওস বুরদেনের সঙ্গে আলাপ । ছোট ছোট লেখার কোলাজগুলো হয়তো পূর্ণতা নিয়ে টইটুম্বুর না । পত্রিকার লেখাগুলো কেমন যেন এক ধাঁচের বাঁধাধরা গন্ধে মো মো করে, শাহাদুজ্জামানের এই লেখাগুলোও পত্রিকার জন্য রচিত হলেও পত্রিকার ছাঁচ বাঁধা আড়ষ্টতা অনুভব করেছি কম ।
কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেছেন।
বইটাতে তার প্রিয় লেখকদের নিয়ে কিছু মতামত তুলে ধরেছেন।
বইয়ে মোট নয়টি প্রবন্ধ আছে। আছে দুটো সাক্ষাৎকার। তন্মধ্যে একটি স্বয়ং লেখকের নিজের।
শুরুতেই আসে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখকের মধ্যে যে কল্পনা কাজ করে তা-ই নিয়েই মূলত প্রবন্ধ টা।
লেখক শহিদুল জহিরকে নিয়া সমান্য আলাপ আছে। শহিদুল জহির লোকসমাজের আড়ালে থাকতেন। তিনি যে লেখালেখি করতেন, এটা তার অফিসের সহকর্মীরাও জানতেন না।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে খোয়াবনামা বইটা লেখার জন্য কত পরিশ্রম করতে হয়েছে সেই বিষয়টাও উঠে এসেছে।
"ক্রাচের কর্নেল” বইটা লেখার প্রেক্ষাপট কি ছিল সেই গল্পটাও
এখানে আছে।
হাসান আজিজুল হক, সুচরিত চৌধুরী, এদেরকে নিয়েও কিছু আলাপ আছে।
সব চাইতে ইন্টারেস্টিং লেগেছে ছে ডাচ লেখক ভ্যান ব্যুরদেনের
একটি সাক্ষাৎকার। যে সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সেই সময়কার অর্থাৎ ৭০-৮০ দশকের মাঝামাঝিতে গ্রাম বাংলার অবস্থাটা কি রকম ছিল। সব মিলিয়ে অত্যন্ত সুখপাঠ্য একটা বই-ই ছিল।
কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান কথাসাহিত্যের বাইরেও যে কতটা শক্তিশালী, এই বই সেটার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও হাসান আজিজুল হককে নিয়ে লেখা তিনটি পড়ে "কথা পরম্পরা : গৃহীত ও ভাষান্তরিত সাক্ষাৎকার" পড়ার অতিরিক্ত তাগিদ অনুভব করছি। সাক্ষাৎকার গ্রহীতা এবং দাতা - দুই অংশেই শাহাদুজ্জামান অনন্য, তা আরও একবার এখানে প্রমাণিত। 'মিলান কুন্ডেরার 'লাইফ ইজ এলসহোয়ার' নিঃসন্দেহে এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো লেখা, যা রীতিমত আফসোসে ভোগায়, কুন্ডেরা পড়ার সময় এত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পড়িনি বলে। তবে শহিদুল জহিরকে নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত লেখা আশা করেছিলাম।
শাহাদুজ্জামানের বই পড়া শুরু করেছি এই বইটি পড়ার মাধ্যমে।আর নিঃসন্দেহে আমি তার লেখনীতে অভিভূত হয়েছি। বইটি নিবন্ধ,সাক্ষাৎকার ঘরোনার হলেও শহীদুল জহির,আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হকে উপর যে লেখক কতটা স্নেহ-শ্রদ্ধাভাজন মনোভাব দেখিয়েছেন,সেটা তার লেখনীর মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে <3
I have been meaning to read a book of this author for quite sometime. Every pseudo intellectual fiend that I have raves about his books. So, I wanted see for myself what the fuss is all about, but never got around to it.
So, the other day I picked this book up to round up my bill while checking out from a bookstore. Pretty short book, so digressed it in one sitting. This book is basically a collection of the author’s previously published articles and interviews. So, it’s nice reading about his contemporary writing peers.
My impression of the writer: nothing substantial really. Didn’t understand what the fuss is all about. Could be the book or could be the author himself. Probably need to read one of his novels to determine better.
বছরটা শুরু হলো প্রিয় একজন কথাসাহিত্যিকের বই দিয়ে। বেশি ভালো লেগেছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং শহিদুল জহিরকে নিয়ে লিখাগুলো। 'বইমেলা' নামে যে প্রবন্ধটা ২০০৯ তে লিখেছিলেন, ২০১৭ তে এসে তা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়েছে মনে করি। এই দেশের বর্তমান উঠতি সাহিত্যিকদের জন্যে এই বই বিশেষভাবে অবশ্যপাঠ্য বলে মনে করি।