যুদ্বঘোষণাঃ যুদ্ধ করতে চলল তিন গোয়েন্দা। চমকে ওঠার কিছু নেই, আসল যুদ্ধ নয়; যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। মার্শাল আর্ট আর জঙ্গল-যুদ্ধে কতটা পারদর্শী হয়েছে তারই পরীক্ষা দিতে হবে। মহানন্দে রওয়ানা দিলো ওরা। শুরু হলো যুদ্ধ। হঠাৎ আবিষ্কার করল তিনজনে, খেলাটা আর খেলা নেই, আসল যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। খেলনা পিস্তল দিয়ে আর আত্মরক্ষা সম্ভব নয়। আত্মপ্রকাশ করল ভয়ঙ্কর এক অপরাধী। দমল না তিন গোয়েন্দা, পরাজিত হয়ে লেজ গুটিয়ে পালাল না কাপুরুষের মত। রুখে দাঁড়াল ওরাও!
দ্বীপের মালিকঃ দ্বীপটি দেখতে তৃতীয়ার চাঁদের মতো। চার মাইল লম্বা, এক মাইল চওড়া। নাম দিয়ে ফেললো কিশোর, চন্দ্রদীপ। দ্বীপ ঘিরে বয়ে যায় দামাল হাওয়া। পাথুরে টিলায় আছড়ে ভাঙে ঢেউ। দ্বীপে পাহার আছে, বালির সৈকত আছে, হরিণ আছে, পাখি আছে। বিষাক্ত সাপ আছে। পানিতে প্রচুর গলদা চিংড়ি আছে। বহু পুরানো দুর্গ আছে। দুর্গে ভূতের উপদ্রব আছে। জটিল রহস্য আছে। অতএব যেতেই হল তিন গোয়েন্দাকে। সঙ্গে ওমর শরীফ।
কিশোর জাদুকরঃ টম জুবের। রকি বীচে নতুন। ওর বাবা মার্ক জুবের একজন ম্যাজিশিয়ান। মা ঝাড়ফুঁক করে মানুষের রোগ সারায়। টম নিজেও খুদে ম্যাজিশিয়ান। তিন গোয়েন্দার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইল। কিন্তু সন্দেহ জাগলো কিশোরেরঃ এত আগ্রহ কেন? চোখের সামনে ওর হাতঘড়িটা উধাও করে দিল টম। 'তিন গোয়েন্দা'কে ধরেও টান দেবে নাকি! গায়েব করে দেয়ার ইচ্ছে?
রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।