পুরো বাড়িটার ঘুম ভাঙিয়ে মাঝরাত্তিরে এল ফোনটা। প্রথমটায় অরিত্র ভেবেছিল নির্ঘাৎ কোনও ভুতুড়ে কল, কিংবা সস্তা রসিকতা। কিন্তু ধরব-না ধরব-না করেও অবশেষে একসময় ফোনটা ধরতেই হল অরিত্রকে। আর তখনই বিস্ময়ের ধাক্কা। ফোনের অপরপ্রান্তে যে-তরুণীর বিপন্ন কণ্ঠ, সন্দেহ নেই, অরিত্র চ্যাটার্জিকেই চাইছে সে। তার মা রত্নাবলী চৌধুরী হঠাৎই নাকি দারুণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জ্বরের ঘোরে বারবার তাঁর মুখে অরিত্রর নাম। মায়ের ডায়েরি থেকেই মেয়েটি তাড়াতাড়ি খুঁজে বার করেছে অরিত্রর ফোন নম্বর। অরিত্র যদি একবার অন্তত আসে! সল্ট লেকের ঠিকানাটাও জানিয়ে দিয়েছে মেয়েটি। অরিত্র অবাক। কিছুতেই মনে পড়ছে না, রত্নাবলী কিংবা তাঁর স্বামীকে সে আদৌ চেনে কিনা। অথচ কেন রত্নাবলীর ডায়রিতে অরিত্রর ফোন নম্বর? কীভাবে? এক তরতরে গতিময় কাহিনিতে একদিকে যেমন এই যাবতীয় কৌতূহলের অবসান, অন্যদিকে আধুনিক জীবনের একাকীত্বের নিভৃত জায়গাটির অতি কুশলী উন্মোচন।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখনী নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, কিন্তু তাঁর সব সৃষ্টিই যে পাঠককে সমান তৃপ্তি দেবে এমনটা ভাবা ভুল। "কেউ কেউ একা" গল্পটি পড়ার পর আমার অনুভূতি ঠিক তেমনই। গল্পটার শুরুটা এত চমৎকার একটা রহস্য আর সাসপেন্স দিয়ে হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল দারুণ কোনো মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার পড়তে যাচ্ছি। কিন্তু শেষ পাতায় এসে পুরো গল্পটা যেভাবে ধপাস করে আছাড় খেল, তাতে ভালো লাগার চেয়ে বিরক্তিই লেগেছে বেশি। গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন এমন একজন মানুষ যিনি এক চরম একাকীত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চারপাশের চেনা জগৎ, সমাজ আর মানুষের ভিড়েও তিনি অদ্ভুতভাবে বিচ্ছিন্ন। শুরুতে লেখক তাঁর এই একাকীত্ব এবং তাঁর চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে এমন এক রহস্যময় আবহ তৈরি করেন, যা পাঠককে ভাবায়—সামনে হয়তো বড় কোনো চমক বা মনস্তাত্ত্বিক টুইস্ট অপেক্ষা করছে।
কিন্তু যত্তসব গোলমাল পাকালো গল্পের শেষটায় এসে। পুরো গল্প জুড়ে যে সাসপেন্স তৈরি করা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে এসে মনে হলো লেখক নিজেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কোনো জুতসই সমাধান বা জোরালো ক্লাইম্যাক্স ছাড়াই অত্যন্ত সাধারণ এবং ফ্ল্যাটভাবে গল্পটা শেষ করে দেওয়া হলো। আপাতদৃষ্টিতে একে একাকীত্বের একটা বাস্তব চিত্র মনে হলেও, একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে গল্পের শুরুর সেই বিল্ড-আপের পর এই পরিণতিকে পুরোপুরি 'ফালতু' এবং দায়সারা মনে হওয়াই স্বাভাবিক। যে উত্তেজনার পারদ শুরুতে তৈরি হয়েছিল, শেষে এসে তা একদম জিরোতে নেমে যায়।
একাকীত্ব নিয়ে অনেক চমৎকার গল্প আছে, কিন্তু এই গল্পটি শুরুর সাসপেন্স ধরে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যারা গল্পে ভালো একটা শেষ বা চমৎকার কোনো টুইস্ট আশা করেন, তাদের এই লেখাটি হতাশ করবে। স্রেফ সুনীলের সহজ লেখনশৈলীর খাতিরে এটুকুই বলা যায়।
রেটিং: ২/৫ (শুরুর সাসপেন্সের জন্য ২, শেষটা পুরোই মেজাজ খারাপ করার মতো!)
অনেক আগ্রহ নিয়ে সমরেশ পড়তে গিয়েছিলাম। আগ্রহের অকাল মৃত্যু হয়েছে।
লোক মুখে শোনা কথা। সমরেশ ভালো লেখেন। দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক। ভালো তো লেখারই কথা।
এটি ছিল সমরেশ মজুমদারের পড়া প্রথম বই। সম্ভবত সমরেশ সমগ্র সিলেকশনে আমার ভুল। যে কোনো লেখকের প্রথম বই পড়ার ক্ষেত্রে তার বেস্ট সেলার বই থেকে সিলেক্ট করা উচিত। কিংবা পাঠকের সাজেশনে সবচেয়ে ভালো বই যেটা, সবচেয়ে বেশি সমাদৃত বইগুলোর একটি প্রথমে পড়ে দেখা যেতে পারে।
যাতে বাজে অভিজ্ঞতা না হয়। তাই বলব, আমার সিলেকশনে ভুল ছিল।
সমরেশ মজুমদারের লেখা প্রথম পড়ে থাকলে। অন্য বই দিয়ে শুরু করতে উৎসাহ দিব।
এই উপন্যাসের শুরু যতটা রোমাঞ্চকর, বিস্তার ও পরিণতি ততটাই হতাশাজনক। অসুস্থ সম্পর্ক আর জীবনযাপনের এমন আখ্যান বছরের পর বছর লিখে চলা আর প্রকাশ করার মধ্যে কী মাহাত্ম্য আছে তা আনন্দবাজারের লেখক আর সম্পাদকেরাই জানেন।