"এই উপন্যাসের পিছনে কিছু নেই, সামনে কিছু নেই।"
শুরু হচ্ছে এক কুয়াশাময় ধূসর জগতের আখ্যান যার বাসিন্দা আপনি, আমি, সবাই। মহৎ কোনো ঘটনা নয়, রবিশংকর ছুঁতে চাচ্ছেন সবচেয়ে একঘেয়ে, সবচেয়ে সাধারণ সময় ও মানুষদের; যারা স্বপ্নতাড়িত ও নিয়তিতাড়িত, যারা পালাতে চায় কিন্তু পালাবার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিকে দাঁড়াতে হচ্ছে ব্যক্তির বিরুদ্ধে,ব্যক্তিকে দাঁড়াতে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। স্বপ্ন আর বাস্তবতার দেয়াল ভেঙে যাচ্ছে, সত্য ও মিথ্যার প্রভেদরেখা মুছে যাচ্ছে, অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় "মায়া - মতিভ্রম - দিবাস্বপ্ন - নাইটমেয়ার - ডিজায়ার - ডিসটোপিয়া - ইলিউশন" মিলে তৈরি করছে এক বাস্তবাতীত জগতের।
"শিল্প মানে মৃত্যুর সঙ্গে সংলাপ, সব বাস্তবতার মৃত্যু হলে শুরু হয় এই সংলাপ, সেই শ্যামসমান মৃত্যু, যাকে আমি একের পর এক ছবিতে আবিষ্কার করেছি, আর বাস্তবতার মৃত্যু মানেই তো স্বপ্নের শুরু, যে স্বপ্নের ভিতরে আমরা এক অন্য জগতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি,..." এ মৃত্যু ও এ যাত্রার গল্পই আছে "উপন্যাস সমগ্র"র পাতায় পাতায়। নিৎশে বলেছিলেন, " শিল্প আছে যাতে বাস্তবতার আঘাতে আমাদের মৃত্যু না হয়।" লেখকের ব্যক্তিগত এ অভিযাত্রা মৃত্যুর বিরুদ্ধে নিয়ত এক অসম কিন্তু স্পর্ধিত সংগ্রামের গল্প মাত্র।