তারা হাঁটছে। পায়ের নিচে নদী। মাথার উপর অন্য এক রকম আকাশ। চারপাশে থৈ থৈ জোছনা। যে জোছনা মানুষকে পাল্টে দেয়। যে জোছনায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম হয়।
লেখকের কথা
আমার ইচ্ছা ছিল খুব আনন্দময় একটি গল্প লিখব। কয়েকজন যুবক চাঁদের আলোয় পথে পথে হাঁটছে, হইচই করছে এই নিয়ে গল্প। লিখতে লিখতে অন্যরকম হয়ে গেল। এই কারণেই আমি কখনও বিশেষ কোনো পরিকল্পনা মাথায় রেখে লিখতে বসি না। সব সময় দেখেছি যা লিখতে চাই তা লিখতে পারি না। যা লিখতে চাই না তা লিখে ফেলি। আমার জন্যে লেখালেখির পুরো ব্যাপারটাই কেমন এলোমেলো।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
মজিদ, আলম আর মাহিন তিন হতভাগা যুবক। ভাগ্য ওদের নিয়ে দারুণ তামাশা খেলছে, তো এই তামাশার বলয়ে আটকে থাকা অবস্থাতেই এই তিন তরুণ এক জোছনায় ভাসা রাতে ঢাকা শহরে হাঁটতে বের হয় এবং ওই রাতেই মজিদ এক সেলুন থেকে একটা ক্ষুর মেরে দেয়। হাতে থাকা ক্ষুর এবং জোছনায় ভেসে যাওয়া শহর ওকে ঘোরে নিয়ে যায়। আর সেই ঘোরের টানেই মফিজ মনে করে, একটা খুন করা খুব বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠেছে। খুবই ছোট এই উপন্যাসটি পড়ার সময় নানা চরিত্রের সাথে আমরা পরিচিত হই। করিম, আমেরিকাফেরত মীর্জা সাহেব এবং তার মেয়ে পলিন, মীরন, মজিদের মামা-মামী, আলম, মাহিন, আলমের বাবা-মা-ছোট ভাই…এতো এতো চরিত্রের মধ্যে একজন মফিজের হাতে খুন হতে চলেছে। কে সে? ওয়েল, বইয়ের শেষে গিয়ে সেটা যখন আমরা জানতে পারি, তখন আর তেমন বিচলিত হই না। কারণ, ওই রাতে আরেকটি খুন হয়েছিল এবং আমাদের ভ্রু জোড়া তখন সেই খুনের নির্মমতায় কুঞ্চিত হয়ে থাকে। তাই, বইয়ের একদম শেষ পাতার ওই জোছনা-ভাসা মুহূর্তে মজিদের হাতের রক্তাক্ত ক্ষুরটি আমাদের আর ততোটাও ভয়াবহ মনে হয় না।
'তারা হাঁটছে। পায়ের নিচে নদী। মাথার উপর অন্য একরকম আকাশ। চারপাশে থৈথৈ জোছনা। যে জোছনা মানুষকে পাল্টে দেয়। যে জোছনায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম হয়।'
বেশ প্রমিসিং একটা বিগিনিং ছিলো। কিন্তু সেটা স্থায়ী হয়নি। চরিত্রগুলোকে অল্প কথায় গুছিয়ে একটা একটা করে নির্দিষ্ট বিন্দুতে এনে সাজানো হচ্ছিলো। কিন্তু এরপর ছন্দপতন হলো। মজিদ চরিত্রকে ঘিরে গল্প ঘুরতে লাগলো। এবং সেই গল্প খুব একটা ইউনিক কিছু না।
গল্পের সবচে স্ট্রং ব্যাপারটা হলো বিত্তবানদের প্রতি মজিদের দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক নিম্নবিত্ত/নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ প্রায় সিমিলার ভাবে বিত্তবানদের ঘৃণা করেন তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা চিরকাল সুপ্তাবস্থাতেই থাকে।
মোটামুটি বেশ ভারী একটা বই পড়ে শেষ করে স্বভাবতই ভাবছিলাম হালকা কিছু পড়তে! আর যা হোক আপাতত নয়তো রিডার্স ব্লকে পড়বার আশংকা আমার ছিলো! এমনই সময়ে গতকাল বিকেলে ছাদে ভীষণ অদ্ভুত সুন্দর চাঁদের আর্বিভাব! প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার এই বইটির কথা মনে পড়লো! সারা রাত চাঁদ নিয়ে আবেগ করতে করতে বই নিয়ে বসা প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ! সত্তর পেইজের বই বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়েছে! পৃষ্ঠা চল্লিশ পেরিয়ে যেতেই আমি বুঝলাম আমি পুরনো ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হয়েছি!
বইয়ের নাম থেকে ভেতরের বিষয়বস্তু খানিকটা অনুমান করে নেওয়া যায় ঠিক, তবে পুরোটা নয় এবং আমার ধারণা যা অনুমান করা হবে তা সঠিক হবে খুব সামান্য! লেখক-কে আমার এতোটা পছন্দ হবার কারণ বললে আমি বলবো, তাঁর লেখা এমন অনেক বই আমি পড়েছি যেখানে উনি উনার লেখার মাঝে শুরু থেকে খুব সাধারণ ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তারপর হঠাৎই উনি আচমকা একটা ধাক্কা দিয়েছেন এবং এই ধাক্কা শুরু হতেই আপনি টের পাবেন এই যে আপনি টালমাটাল একটা অবস্থায় পড়ে গেলেন এবং এটা বইয়ের শেষ অব্ধি চলবে ! হুমায়ূন আহমেদ যদি কখনো ওনার কোন লেখাতে পাঠকের মনস্তাত্ত্বিক তোলপাড় তুলেছেন তবে তা হবে মাথায় মাথায় এক অদ্ভুত যুদ্ধ চলতে থাকা! ঠিক-ভুল, যুক্তি-তর্কের অদ্ভুত এক সম্মোহনী যুদ্ধ উনি চালিয়েছেন! উনি তা চাইলেই পারতেন!
আলম,মজিদ,মাহিন তিন বন্ধু কোন এক আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমা রাতে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে! তারা হাঁটছে। পায়ের নিচে নদী। মাথার উপর অন্য এক রকম আকাশ। চারপাশে থৈ থৈ জোছনা। যে জোছনা মানুষকে পাল্টে দেয়। যে জোছনায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম হয়। গল্পের মূল চরিত্র মজিদ! হুমায়ুন আহমেদ-এর অদ্ভুত একটা ক্ষমতা হচ্ছে, উনি ওনার লেখায় প্রতিটি চরিত্রকে অদ্ভুতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে ফুটিয়ে তুলবার ক্ষমতা রাখতেন! যে কারণেই মজিদ প্রধান চরিত্র হবার পরেও আমার মনে হয়েছে প্রতিটি পার্শ্ব চরিত্রের উঠে আসবার প্রয়োজনীয়তা ততোটাই দরকার ছিলো যেভাবে লেখক করেছেন। গল্পের শেষটা একেবারেই এমনটা হবে আশা করিনি, করিনি বলেই হয়তো ভেবেছিলাম ভীষণ হাল্কা কোন কিছু পড়ছি! বইয়ের অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলবার পর যখন গল্প মোড় বদলাতে শুরু করলো, হাল্কা থেকে ক্রমেই সবকিছু বিভিন্ন দিক থেকে মাথা-কে এনগেইজড করে ফেলেছে আমি তখনো বুঝি নি শেষটা এতোটাই অন্যরকম এবং এতোটা পারফেক্ট হতে পারে! চাঁদের আলোর মাঝ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ঠিক-ভুলের পর্দাটা যখন একটু একটু করে উঠে যাচ্ছিলো আমার প্রতি মুহুর্তে শুধু মনে হয়েছে আমি এমন কিছু পড়ছি যা ভীষণ বাস্তব, যেনো এমনই হতে হতো! সাহসী-ভীরুর সংজ্ঞার ভীতের মাটিটা যখন খুব করে আলগা হয়ে আসে তা পাঠকের মনে অদ্ভুত প্রশান্তি আনবে !!
সমগ্র রোজার মাসটা কেটেছিল মানসিক শান্তিতে। টুকটাক ভালই বই পড়ছিলাম কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের যেকয়টা বই পড়েছি একটাও ভাল লাগে নাই। সবগুলোই সেম স্টোরী রিপিটেডলি প্রিন্ট করা। আর আলগা প্রেম ভালোবাসার মতন রং ঢং পড়তেও ভাল লাগছিল না। মনে মনে তো ঠিক করে ফেলছিলাম বিরাট একটা ব্রেক নিব হুমায়ূন লেখনী থেকে। ওনার লেখা কোয়ালিটিফুল বই গুলা হয়ত অলরেডি পড়ে ফেলেছি। আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন। ঈদ মানেই একাকীত্বে নিপাতিত হওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি মানুষজন ঘুরছে ফিরছে নিজেদের বন্ধুবান্ধব, কাজীনদের সাথে। আর আমি.. যাইহোক, একীকৃত কাটাতেই এই ছোট্ট বইটা পড়া শুরু করি আর এরপর... আফসোসের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বারবার ভাবছিলাম এমন কিছু বন্ধু আজ আমার থাকলে, এমন রুমের ভিতর একলা পড়ে ঈদ কাটানো লাগত না৷ হয়ত চাঁদের আলোয় আমিও বের হতে পারতাম পাশে থাকত আমার সবচেয়ে কাছের কিছু মানুষ যারা কখনই পিঠ পিছে বিট্রে করবে না। বইটা খুব ছোট। আহামরি কোন কাহিনি না কিন্তু বইটা আমি পড়েছি এমন একটা সময়ে যখন নিজেই একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। ভালই লেগেছে আমার। সময়টা ভাল কেটেছে।
এই বইয়ের এভারেজ রেটিং দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। লোকজনের এই বই ভাল্লাগে/ভাল্লাগতেসে না? আমি অনেক অনেকদিন আগে পড়সিলাম, আজ আবার এইটার কথা হঠাৎ মনে পড়লো। অনবদ্য এক জিনিস। এ বই নিয়ে আরও আলোচনা দরকার, জীবনকে নিয়ে ভাবতে শেখায় এবং এটা পড়েই ম্যাবি জীবনে প্রথমবার নেতৃত্ব জিনিসটাকে উপলব্ধি করসিলাম।
উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে তিনজন যুবক। আলম, মজিদ ও মাহিন৷ তাঁরা তিনজন একে অপরের বন্ধু। আলম নিতান্তই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ৷ তাঁর পরিবারে বিভিন্ন অভাব-অনটন লেগে রয়েছে৷ অন্যদিকে বাবা-মা হারা মজিদ ফুপা-ফুপির সাথে থাকে। সে তার ফুফার দোকানে কাজ করে৷ তাঁর নামে বদনাম আছে যে সে নাকি তার ফুপার দোকান থেকে চুরি টুরি করে। মজিদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে যেকোনো কথা উল্টো করে বলতে পারে। যেমন- নখু রেক বলফে(মানে-খুন করে ফেলব)। আর মাহিন হচ্ছে ধনী পরিবারের সন্তান। তারপরও তার পরিবারে বিভিন্ন ঝামেলা লেগেই থাকে৷ এক জ্যোৎস্নার রাতে চাঁদের আলোয় তাঁরা তিনজন হাঁটতে বের হয়.....
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ-
উপন্যাসের নামটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। ছোটোখাট একটা উপন্যাস তারপরও পড়ে তৃপ্তি পেয়েছি। এক বসায় পড়ে ফেলেছি৷ ঘুমন্ত শহরের পথে জ্যোৎস্নার আলো। আর এই চাঁদের আলো বড় অদ্ভুত জিনিস৷ তিন বন্ধুর জোৎস্না রাতের চাঁদের আলোয় বিভিন্ন কর্মকান্ড আমাকে বেশ মজা দিয়েছে। বিশেষ করে, মজিদ যুবকটির যে কিনা উল্টো করে কথা বলতে পারে তাঁর হাবভাব আমাকে বিশেষভাবে বিনোদন দিয়েছে। মজিদ সেই রাতে বিভিন্ন মানুষকে হকচকিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মকান্ড করে যা পাঠককে হাসাতে বাধ্য করবে৷ তিন যুবকের গল্প পড়তে পড়তে আমি নিজেকে তাঁদের মাঝে যেন হারিয়ে ফেলেছি৷ আমি নিজেকে তাঁদের তিনজনের একজন সঙ্গী হিসেবে কল্পনা করেছি৷
সবমিলিয়ে বলবো উপভোগ করার মতো এক উপন্যাস এটি৷ চাইলে পড়ে নিতে পারেন।
চাঁদের আলোয় মজিদ, আলম, মাহিন ৩ বন্ধু ঘুড়ছে। ৩ জনের পরিচয় দেয়া যাক, আলম এর পরিবারের খুব নড়বড়ে অবস্থা। সে টিউশনি করে কিছু টাকা আয় করে, কিন্তু বাসায় অবস্থা অনেক খারাপ। এরপর মজিদ, ফুপা ফুপির সাথে থাকে ছোট থেকে। ফুপার গম-চিনির আরতে থাকে রাতে। সেখানে প্রায় ফুপার বাজে ব্যবহার এর স্বীকার হতে হয়, মজিদ এর একটা স্পেশাল ট্যালেন্ট আছে, সে উলটা করে কথা বলতে পারে । এরপর মাহিন, সে একটু ভালো পরিবারের সন্তান, কিন্তু খুব কৃপণ। ৩ বন্ধু রাতে বের হয়ে হয়েছে ঘুরতে। মজিদ এক সেলুন থেকে ক্ষুর চুরি করে সেই ক্ষুর দিয়ে রাস্তার মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। সেভাবেই একজনকে ভয় দেখাতে গিয়ে পরিচয় হয় মীর্জা সাহেবের সাথে। মীর্জা সাহেব আমেরিকা থাকে, দেশে এসেছেন তার মেয়ে পলিনকে নিয়ে। নিজের দেশ দেখাবেন বলে। মীর্জা সাহেবের সাথে তারা কিছুক্ষণ হাসি তামাশা করে। এরপর তারা আসে করিমের বাসায়। করিমের বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখে করিম তার রুমের বাইরে দাঁড়ানো, চেহারা কাঁদো কাঁদো। সেখান থেকে জানতে পারলো, করিম যাদের জন্য কাজ করে, সেই মালিক এর ছেলে ফুল বিক্রি করে এমন এক বাচ্চা মেয়েকে জোর জবরদস্তি করে নিয়ে এসেছে। তখন মজিদের বলতে থাকে "নখু রেক বোলফে", মানে খুন করে ফেলবো। চাঁদের আলোয় ভ্রম সৃষ্টি হয়, সেই ভ্রমকেই রিয়েলিটি মনে হয়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
পড়তে পড়তে হঠাৎ জীবনানন্দের 'ক্যাম্পে' কবিতার লাইন মাথায় এলো। 'বসন্তের জ্যোৎস্নায় ওই মৃত মৃগদের মতো আমরা সবাই।'
যেরকম তীব্র জ্যোৎস্নারাতে ঘাই হরিণীর রহস্যময় ডাকে প্রেমাকাঙ্খী নেশাতুর হরিণেরা সকল ভয় উপেক্ষা করে নিজেদের প্রাণ সপে দেয়, সেরকমই কোনো এক জ্যোৎস্নারাতের মায়াময়ী শক্তির প্রভাবে মজিদ হাতে চকচকে ধারালো ক্ষুর নিয়ে বলতে থাকে, 'নখু রেক বলফে'। 'চিতার বুকে জেগে ওঠা বিস্ময়ে'র মতো একটি খুনের স্বপ্ন চিরিক করে উঁকি মারে তার সমগ্র অস্তিত্বে। আর আমরা কবির মতো কিংবা আলম,মাহিন আর মীর্জার মতো মৃত্যুর শব্দে 'হৃদয়ে এক অবসাদ' জমা করি।
চাঁদের নিচে কয়েকজন যুবক। 'তারা হাঁটছে। পায়ের নিচে নদী। মাথার উপর অন্য এক রকম আকাশ। চারপাশে থৈথৈ জোছনা। যে জোছনা মানুষকে পাল্টে দেয়। যে জোছনায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম হয়। তারা হাঁটছে...'
নব্বইয়ের দশকের ঢাকার এক চাঁদনী রাত। ফিনফিনে জ্যোৎস্নার আলোতে পথে বের হয় তিন যুবক। একজনের পকেটে রয়েছে টিউশনের সব টাকা অভাবগ্রস্থ পরিবারে দিয়ে বেঁচে যাওয়া পঞ্চাশ টাকার একটি নোট; যে নোটটিও আবার স্কচটেপ লাগিয়ে জোড়া দেয়া। আরেকজন যুবকের পকেটে রয়েছে সিগারেটের একটি প্যাকেট; বাকি দুই যুবক ভাগ বসাবে এ ভয়ে প্যাকেটটি যক্ষের ধণের মত আগলে রেখেছে সে। সর্বশেষ যুবকের পকেটে রয়েছে একটি ধারালো নতুন ক্ষুর; একটি খু *ন করার ইচ্ছে নিয়ে যে পথে বেরিয়েছে। এই তিন যুবকের সাথে দেখা হয় বহুদিন বাদে স্বদেশ ভ্রমণে আসা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির। চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক মিলে এরপর কি ঘটাবে?
গল্পের শুরুটা বেশ আগ্রহ জাগানিয়া। আস্তেধীরে এগিয়ে যখন গল্প ক্লাইম্যাক্স এ পৌছেছে তারপর থেকেই যেন ধ্বস নামতে শুরু করলো প্লটের। গ্রেট একটা গল্পের তকমা না পেয়ে তাই গল্পটি গুড তকমা পাচ্ছে আমার কাছে।
পূর্ণিমার চাদ, জোছনা আর খাওয়া দাওয়া। হুমায়ুন স্যারের বইগুলোতে এগুলোই বার বার ঘুরে ফিরে আসে। তবুও খারাপ লাগে না। মাঝে মাঝে তো অসাধারণ লেগে যায়। যেমন এই বইটা,,,,,
শামসুল আলম তিন বছর আগে এম এ পাশ করেছে। তিন বছর ধরেই চাকরির চেষ্টা করে শেষে এক অজপাড়া গায়ের স্কুলে একটি শিক্ষকতার চাকরির অফার পান, কিন্তু সেটা তার পছন্দ না। এদিকে বাড়ির অবস্থা বেশ খারাপ চাকরিটা না করলেই নয়।
আলমের বন্ধু মজিদ কাজ করে ফুপার রেশনের দোকানে। বিনিময়ে ফুপার বাড়িতে থাকা-খাওয়া, বেতন বা টাকা পয়সা কিছু পায় না। এক জোৎস্না রাতে আলম আর মজিদ হাটতে বের হয় রাস্তায় সেখানে দেখা হয় তাদের আরেক বন্ধু মাহিন এর সাথে, সে সেলুনে চুল কাটাচ্ছিল। মাহিনের অবস্থা তাদের বন্ধুদের মাঝে সবচেয়ে ভালো হলেও সেই কৃপন। তার স্বভাব হচ্ছে বন্ধুদের সাথে দেখা হলেই টাকা ধার চাওয়া।
মাহিনকে নিয়ে সেলুন থেকে বের হয়ে দেখা গেল মজিদ সেলুন থেকে একটা খুর চুরি করেছে, সেই খুর নিয়ে যখন রাস্তায় নামে তারা তখনই মজিদ অদ্ভুত সব আচরণ করতে শুরু করে,একটা ঘোড়ের মধ্যে চলে যায় সে।
অন্যদিকে মির্জা সাহেব তার মেয়ে পলিনকে নিয়ে ২২ বছর পরে বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন মেয়েকে না, নিজে দেশ দেখবেন বলে। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি একটি ফাইভস্টার হোটেলে চলে গেলেন তিনি, মেয়েকে হোটেলের রুমে রেখে। নিজে বের হয়ে গেলেন জোসনার আলোয় রাস্তায় হাঁটতে।
তখনই মির্জা সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় খুর হাতে মজিদ আর তার বন্ধুদের সঙ্গে।
খুর হাতে মজিদ কি করে তা জানতে এই ফালতু বইটি পড়ে ফেলুন, আর পড়ে আমায় দুটি মিষ্টি কথা বলে যেয়েন আপনার কৌতুহল জাগানোর জন্য 😌
“তারা হাঁটছে। পায়ের নিচে নদী। মাথার উপর অন্য এক রকম আকাশ। চারপাশে থৈ থৈ জোছনা। যে জোছনা মানুষকে পাল্টে দেয়। যে জোছনায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে ভ্রম হয়।”
মলাটের উল্টোদিকের এই লেখা আর বইয়ের নামটা পড়ে ধারণা করেছিলাম বইটাতে হয়তো জোৎস্না রাতের মনোরম সৌন্দর্যের বিবরন এবং হালকা আমেজের কিছু ঘটনার উল্লেখ থাকবে। কিন্তু পড়তে পড়তে কাহিনী বদলে যেতে লাগলো।
এজন্যই মনেহয় লেখক নিজেও বলেছেন, “আমার ইচ্ছা ছিল খুব আনন্দময় একটি গল্প লিখব। কয়েকজন যুবক চাঁদের আলোয় পথে পথে হাঁটছে, হইচই করছে এই নিয়ে গল্প। লিখতে লিখতে অন্যরকম হয়ে গেল। এই কারণেই আমি কখনও বিশেষ কোনো পরিকল্পনা মাথায় রেখে লিখতে বসি না। সব সময় দেখেছি যা লিখতে চাই তা লিখতে পারি না। যা লিখতে চাই না তা লিখে ফেলি। আমার জন্যে লেখালেখির পুরো ব্যাপারটাই কেমন এলোমেলো।”
ইদানীং বই পড়তে আমার দারুণ অস্বস্তি হচ্ছে। পড়তে গেলে খেই হারিয়ে ফেলি বলা যায় অন্য চিন্তা মাথায় ডুকে যায় তাই বইয়ের ক্লাইমেক্সের সাথে কানেক্টেড হতে পারি না। আজ বাতিঘরে এসেই হুমায়ূন আহমেদ স্যারের 'চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক' বইটা নিয়ে বসে পড়লাম। শুরু থেকেই বইটা ভালোই হুকড করে রেখেছিলো আমাকে। এক বসায় ৭১ পেইজের এই বইটা শেষ করে ফেললাম। এখন আমার খুব করে ইচ্ছে করছে দুইজন বন্ধু নিয়ে কোন এক পূর্ণিমা রাতে উদ্ভট সব কান্ড করবো আর সারারাত হাঁটবো, হাঁটতেই থাকবো...….
আকাশ মেঘলা। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশ কি এই সময় মেঘলা থাকে? আজ আক্টোবর মাসের সতেরো তারিখ। বাংলা মাসটা কী কে জানে! ইংরেজি মাস দিয়ে কিছু বোঝা যায় না। বাংলা মাস মানেই ছবির মত দৃশ্য।
শ্রাবণ- টিপটপ করে বৃষ্টি পড়ছে। কচুগাছের রঙ কোমল সবুজ। এখানে-ওখানে পানি জমে আছে। আকাশ ধূসর বর্ণ। চৈত্র মাস- ঝাঁ-ঝাঁ করছে রোদ, আকাশ ঘন নীল, চোখের দৃষ্টি পিছলে যাবার মত স্বচ্ছ, আকাশে চিল উড়ছে।
প্রথম থেকেই চরিত্রগুলোর উপর প্রচন্ড মাত্রায় বিরক্তি চেপে বসেছিলো। উদ্ভট সব পাগলামো করেই যাচ্ছিলো। তবে শেষটায় গিয়ে মোড় পাল্টে গেলো। মজিদের উপর প্রথম থেকে যে বিরক্তি ছিলো,শেষটায় সেটা খারাপ লাগায় চলে গেছে।
চাঁদের আলোয় একধরনের ভ্রান্তি মিশে থাকে।সেই ভ্রান্তির কারণে সত্যিকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্যি বলে মনে হয়।
চাঁদের আলোয় আমিও হেটেছিলাম অনেএক দিন। বের হয়ে যেতাম ভাইদের সাথে কোনো এক গন্তব্যে। তাই এই বইয়েও মজিদ, আলম, মাহিন ও মীর্জা সাহেবদের চাঁদের আলোয় হাটার যে অনুভূতি তা পুরো বুঝতে পারছিলাম। ছোট পরিসরে দারুণ এক আখ্যান বলা যায়।
হুমায়ুন আহমেদের লেখা বরাবরই ভালো লাগে।বই পুরোটা সময়ই আকর্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম শুধুমাত্র ফিনিশিং টা কেমন যেনো একটু তারাহুরোর মধ্যে হয়ে গেলো।তবে হুমায়ুন আহমেদের লেখা যাদের ভালো লাগে এবং একটু ভিন্নধর্মী কিছু পড়তে চান তাদের জন্য মাস্ট রিড।
এক বসায় পড়ার মত বই। শুরুটা খুব ভালো ছিল। বইটা পড়ে আমার মনে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ সাহেবের এই গল্প টা আরো বড় আকারে লেখার ইচ্ছা ছিল, মাঝপথে তিনি সেই আগ্রহ হারিয়েছেন। যাইহোক ক্লাসিক হুমায়ুন আহমেদ যিনি সহজ পাঠ্যে পাঠক কে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আটকে রাখে লন।