দ্বিজাতিতত্ত্ব নামের প্রপঞ্চের চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে জন্ম হয় পাকিস্তানের, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের মৃত্যু ঘটে, পৃথিবীর বুকে নাম লেখায় স্বাধীন বাংলাদেশ।
যতীন সরকার ইতিহাসের পরম্পরা ঘেঁটে বাংলাদেশের এই জন্মপ্রক্রিয়া ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’ বইতে লেখার প্রয়াস পেয়েছেন। নতুনপথ অনুসন্ধানে সমাজ-রাষ্ট্রে যাঁর যে-ভূমিকা ছিল তিনি নির্মোহ দৃষ্টিতে তাঁকে সে-স্থানে চিহ্নিত করতে ব্রতী হয়েছেন। কোনো উচ্ছ্বাস নয়, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শকে আশ্রয় করেও নয়, চারপাশের ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্মোহতার আলো ফেলাই ছিল তাঁর বিবেচ্য বিষয়।
গ্রন্থটি আত্মজৈবনিক, এর অন্যতম আকর্ষণ যতীন সরকার নামের মানুষটির কার্যকলাপের মধ্যে নিহিত। তাঁর জীবনটাই ছিল সংগ্রামের। বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর অবিচল থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষার তুলনা নেই। ভীরুতার জাল কখনো তাঁকে বাঁধতে পারে নি, এই মানবিক মানুষটির জীবনের গল্প ইতিহাসের স্পষ্ট-অস্পষ্ট ঘটনাবলীর সঙ্গে মিশে বইটিকে অভিনব উচ্চতা দান করেছে।
১ - একটা বড় ভুলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক ছোট ছোট ভুলের জন্ম হয়, আবার উল্টোভাবে অনেকগুলো ছোটভুলের জোয়ারে একটা বড় ভুলের জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়... ২ - you either die a hero, or live long enough to see yourself become a villain. ৩ - কোন ভাঙা জিনিস জোড়া দিলে একটা দাগ থেকে যায়... মানুষের মনের বিভেদগুলাও একইরকম... আগুনে গলায়ে শুদ্ধ করে নতুন করে আবার না বানালে দাগটা থেকেই যায়, এবং পরে ভাঙনের শুরুটা আবার ওখান থেকেই হয়... ৪ - ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ চায় দু'টো ভাত একটুকু নুন বেলা বয়ে যায় খায়নিকো বাছা কচি পেটে তার জ্বলে আগুন' ৫ - মার্কিনীরা যাদের বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন পরে না... ৬ - সংস্কৃতিই লক্ষ্য, রাজনীতি সেই লক্ষ্যে পৌছার উপায়।
কলেবরে বইটা এর আগের বই "পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন" এর মত অত বড় নয়। ২০০ পৃষ্ঠার ছোট একটা বই। আসলে বই না বলে কলাম সংকলন বলা ভাল। কারন বইটা ঠিক এক সুতায় গেথে পুরো একটা বই হয়ে উঠতে পারেনি... ছেড়ে ছেড়ে যায়। তবে আগের বইটার মত এই বইতেও লেখক রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে কিছুটা দূরে সরে পরোক্ষ ইতিহাসে মনযোগ দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু আসলে রাজনৈতিক ইতিহাসেই ফিরে আসতে হয়েছে আবার। 'পাকিস্তানের ভূতদর্শন' মূলত স্বাধীন বাংলাদেশের উপর চেপে বসা ধর্মীয় মৌলবাদ, রাজনৈতিক চেতনা আর একাধারে একের পর এক ঘটে যাওয়া সব ভুলের দর্শন। এখানে ঠিক ইতিহাস নেই, ইতিহাসের ভেতরের চিন্তাটা বিশ্লেষণের একটা চেষ্টা আছে। বইটাকে নিয়ে এর বেশি লিখতে গেলে আসলে স্পয়লার দেয়ার মত হয়ে যায়। তাই আমার যা মনে হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শুধু উপরের ছটা পয়েন্ট লিখে দিলাম।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ইতিহাস একের পর এক ভুলের সমষ্টির ইতিহাস। অথবা অন্যভাবে বললে একেরপর এক ষড়যন্ত্রের ইতিহাস। বাংলাদেশও আসলে একটা দুর্ভাগা দেশ! মাত্র নয়মাসে ২৪ বছরের শোষণ থেকে মুক্তি হয়ে পরের অর্ধশত বছরেও সেই মুক্তির স্বাদ পুরোপুরি ভোগ করতে পারল না... দুশো বছর জুড়ে ইংরেজরা যে ভাঙন মানুষের মনে গেথে গেছে, ২৪ বছরের সংগ্রামে আর ৯ মাসের যুদ্ধে মানুষের সেই ভাঙা মনে জোড়াতালিই পড়েছে... গলে পরিশুদ্ধ হওয়া আর হয়নি... সমস্যাটা হচ্ছে এই নয়মাসের যুদ্ধের আগুনের তাপ দেশের একটা বড় অংশের গায়েই ঠিক মত লাগেনি... সাত কোটি মানুষের মধ্যে সব মিলিয়ে দেড় থেকে দু কোটি মানুষের গায়ে অঙ্গারের যে তাপ লেগেছে বাকি প্রায় পাচ কোটির মত মানুষ এর বাইরেই ছিল বলা যায়... তাই তাদের ভাঙন জোড়া লাগলেও ফাটলটা রয়েই গিয়েছিল... পরিশুদ্ধ হওয়া আর হয়নি হয়ত!!
Great book about post-liberation Bangladesh. The writer has successfully depicted the unexpected yet inevitable changes in the social fabric of Bangladesh that took place write after the Liberation War. Some views of the writer can be debated, still it is a good one to understand the socio-political reality of Bangladesh.