Mir Abdus Shukur Al Mahmud (best known as Al Mahmud) was a Bangladeshi poet, novelist, and short-story writer. He was considered one of the greatest Bengali poets to have emerged in the 20th century. His work in Bengali poetry is dominated by his frequent use of regional dialects. In the 1950s he was among those Bengali poets who were outspoken in their writing on such subjects as the events of the Bengali Language Movement, nationalism, political and economical repression, and the struggle against the West Pakistani government.
Notable awards: Bangla Academy Award (1968) Ekushey Padak (1987)
মূলত কবি হিসেবে পরিচিত আল মাহমুদ এর গল্প 'এক ভেজা বিড়ালীর বিবর্তন' যেখানে সাহিত্য পত্রিকায় প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য এক মহিলা কবির ছেনালীর 'বর্ণনা' দিয়েছেন তিনি।
সমাজের চলমান সমস্যা গুলোকে চিত্রিত করাই সম্ভবত কবি আল মাহমুদ এর উদ্দেশ্য (!) ছিল। সেই চিত্রায়ন হল নিতান্ত গতানুগতিক এবং ভয়ানক দুর্বল। একজন লেখকের মূল শক্তি তাঁর কল্পনার দৌড়। কিন্তু গল্প পড়তে গিয়ে একমাত্র যৌন বিষয়ক অঙ্গভঙ্গিতেই (কি করলে নগ্ন সুডৌল বাহু জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে, কিভাবে আঁচল সরালে গভীর গলার ব্লাউজের খাঁজে চোখ আটকাবে ইত্যাদির চিরাচরিত একঘেয়ে বর্ণনা) লেখক আল মাহমুদ এর সকল লেখনীর প্রতিভা ও কল্পনার দৌড় এসে মিলিত হয়েছে বলে মনে হয়। সেটাও সমস্যা ছিলোনা, যদিনা তাঁর যৌনতার প্রকাশ নিতান্ত বালখিল্য না হত। তের বছরের এক কিশোর ছেলে, সবে যে তার শারীরিক পরিবর্তন টের পাচ্ছে, তাকে যদি যৌন প্রক্রিয়ায় ঠেলে দেয়া হয়, বালকের প্রথম যে দিশেহারা প্রতিক্রিয়া, কি করবে না কি করবে সে বুঝে উঠতে পারেনা, গল্পে আল মাহমুদকেও ঠিক সেই একই রকম দিশেহারা বোধ হল। গল্পের শিরোনাম ও চরিত্র গুলোর নাম নির্বাচন সেই কথাকেই প্রতিফলিত করে। জায়গায় জায়গায় গল্পের মূল চরিত্র নিপুণা বানুর ছেনালী মনে হয়েছে লেখকের একান্ত নিজের ছেনালী। লিফটে উঠে যখন "নিপুণাও স্থান কাল বিবেচনায় না এনেই আঁচল সরিয়ে চিচিংফাঁক দেখিয়ে দিল" তখন মনে হচ্ছিল লেখক নিজেই জোর করে তাঁর 'চিচিংফাঁক' দেখিয়ে দিলেন (কবি কি তবে নেহাত কবি না হয়ে ছেনাল মেয়েলোক হলেই ভালো করতেন?)
দুর্বল ভাষার গাঁথুনি, যা একজন কবির কাছে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত, গল্পটিকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গল্পের শেষে সমাজবাদ, পুঁজিবাদ ইত্যাদির বড় বড় বুলি কপচিয়ে পুরো বিষয়টির ন্যায্যতা প্রতিপাদনের হাস্যকর চেষ্টাও নেয়া হয়েছে। পড়াশেষে পাঠক হিসেবে আমার ব্যাক্তিগত প্রতিক্রিয়া 'বুড়া বয়সে আন্নেরে ছুলকানিতে হাইসে নি কোনো? কিয়া বাঁলের লেয়া লিখসেন আন্নে?'
ভেতরে নিপুনা বানুর শরীরের রুচিহীন বর্ণনা, তার ছেনালিপনা, উপরে ধনবাদ-সমাজবাদের মুখোমুখি অবস্থানের একটা চটকদার মোড়ক- এই হল এক ভেজা বিড়ালীর বিবর্তন। মোড়কের এখানে ওখানে একটু রঙ ঢালার জন্য বোধ হয় নিপুনা বানু, দীপক খান এই অদ্ভুত নামগুলোর অবতারণা। চরিত্রগুলোর দুর্বল উপস্থাপন, অপরিপক্ক লেখনী গল্পটিকে আরো বেশী প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।
এক উঠতি মহিলা কবি, যে আবার স্কুল শিক্ষিকাও, সুবিধা আদায়ের জন্য সে শরীর প্রদর্শন করে বেড়ায়। অকারণেও এই কাজ করে। যেমন, লিফটে উঠে স্থান-কাল বিবেচনা না করে সে আঁচল সরিয়ে লিফটম্যানকে চিচিংফাঁক দেখিয়ে দেয়। এই চরিত্রটি আবার সমাজবাদ, পুঁজিবাদ ইত্যাদি বিষয়েও সচেতন। মানে চরিত্র চিত্রণের অ্যাইসি কি তেইসি! লেখনশৈলী এত দুর্বল যে অবাক হতে হয় এটা কোনো একজন নামকার কবির লেখা। সবমিলিয়ে এটা একটা 'ওয়াক থু' মার্কা বই। আল মাহমুদের ভীমরতি হয়েছিল অনেক আগেই। শেষ বয়সে বোধহয় সেটা মাত্রাছাড়া হয়ে গিয়েছিল। না হলে এমন একটা লেখা ওই বয়সে তাঁর হাতে থেকে বেরোবার কথা নয়।