Jump to ratings and reviews

উত্তরের খেপ

192 pages, Hardcover

Published January 1, 2017

Loading...
Loading...

About the author

Shawkat Ali

48 books71 followers
Shawkat Ali (Bangla: শওকত আলী) is a major contemporary writer of Bangladesh, and has been contributing to Bangla fiction for the last four decades. Both in novels and short stories he has established his place with much glory. His fiction touches every sphere of life of mass people of Bangladesh. He prefers to deal with history, specially the liberation war in 1971. He was honored with Bangla Academy Award in 1968 and Ekushey Padak in 1990.

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (33%)
4 stars
21 (50%)
3 stars
6 (14%)
2 stars
1 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for সা কিব.
58 reviews16 followers
September 20, 2022
"আচ্ছা বলুনতো হায়দার এমন কেন করলো?
চাইলেই তো শেষ বেলায় সব গুছিয়ে নিতে পারতো! এমন কেন করলো?", প্রশ্ন উড়ে এলো ম্যাসেঞ্জারের নীলবাক্সে।

" কিছু মানুষ কখনো অভিযোগ করতে জানে না, জোর খাটাতে জানে না হায়দার সেসবের দলে। সেজন্যই হয়তো! আর ঘর টানে নি!", খটাখট টাইপ করে পাঠিয়ে দিলাম ফিরতি ম্যাসেজে।

"সংসারের ভেতরে যেভাবে ওর বাবা-মা ঢুকতে পেরেছিল সেভাবে ও পারল না কেন বলতে পারেন?," কষ্টের ভেতর দিয়ে তো ওরাও গেছিল!", তীরের মতো বিধল যেন প্রশ্নটা। ম্যাসেজ শেষ করেও স্থির হয়নি ওপাশের মানুষটা। কারণ ইনবক্সে তিন নুকতা ঠিকই ব্যাং এর মতো লাফাচ্ছে।

" মান্নাদের গানটা শুনেছিলেন? "সবাই তো সুখি হতে চায়" ওমনই হবে হয়তো। বাপ মার যুদ্ধের সময়কার তিক্ত অতীত মনের খেয়ালে তাড়া করে বেড়ায় হয়তো। নিজের অক্ষমতা। জোর খাটানোর স্বভাব না থাকা। প্লাস ব্লা ব্লা! ",দায়সারাভাবে কিছু একটা লিখে পাঠালাম ওপাশে। দেখি কি বলে।

" এইটা কোনো যুক্তি হলো? মরিয়মের উপর জোর খাটাতে পারতো না হায়দার? মন পোড়ায় না মরিয়মের জন্য? ঠিক তো ফোকলা গফুরের জন্য মন পোড়াইছে", বলে রাগের ইমোতে ভাসিয়ে দিচ্ছে ইনবক্সে।

" আপনার দেখি সত্যিই হায়দারের প্রতি বিশাল ক্ষোভ! চিনতেন নাকি কোনো হায়দারকে?", টিপ্পনী কাটার লোভ সামলাতে পারলাম না। এও বুঝে নিয়েছি নিজের ঘাড়ে কুড়াল ঠিক নিশ্বাস ফেলছে এখন।

"আপনার নিক নেম হায়দার দিয়ে রাখছি খেয়াল করেন নাই?", ম্যাসেজের ভেতর বুঝিয়ে দিলো। কি কেমন জব্দ। "আপনার এই একসাথে দুইজন এক বই পড়ার আইডিয়াটা কিন্তু বেশ। দু চার পাতা হলেও উলটানো যায়। আপনি চাইলে আরো দুই চারটা বই পড়তে পারি।", ঠিক আমন্ত্রণের সুর ভেসে উঠল সাদা স্ক্রিনে।

" বইটার রেশ কিছু দিন থাকুক, হায়দার, মরিয়ম, ফোকলা গফুররা একটু মনের কোনে ঠাই নিক। অনেকেই বলেছিল শওকত আলীর অনেকটা ক্লিশে লেখার একটা এই উত্তরের খেপ। অথচ প্রতিটি পাতা প্রতিটি শব্দ কলজেতে গেথে গেছে৷ নিজেকে হায়দার মনে হচ্ছে। যেন আমিই সেই ট্রাক ড্রাইভার। আমিই ঘর হারানো উড়ন্তিস।", লিখে পাঠালাম যেন আমার আঙুল গুলো উড়ে বেড়ালো স্ক্রিনে। ঠিক অবচেতন মন ঠিক জানতো ঠিক কি লিখতে হবে। এইটুকুই পাঠালাম আপাতত। এখন আর বই নিয়ে কথা বলার ইচ্ছেই করতেসে না। সব কিছু মিলে ঝিলে মাথা হ্যাং হয়ে গেসে। অনেকদিন পড় কোনো বই এভাবে ভেতরে দাগ কেটে গেল। রেশ থাকুক উত্তরের খেপের।
Profile Image for S M Shahrukh.
127 reviews65 followers
May 5, 2018
উপন্যাসটা খারাপ লাগেনি তবে মাঝে মাঝে ঝুলে প'ড়েছে। বাঙালা সাহিত্যে ঔপন্যাসিকদের এই প্লটের 'গাঁট' মজবুত রাখার ব্যাপারে সমস্যা আছে, তাতে অনেক বেশ ভালো উপন্যাসই বিশ্বমানে উত্তীর্ণ হ'তে পারে না। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর উত্তরবঙ্গের চিত্র চমৎকারভাবে লেখক উথাপন ক'রেছেন, ওপার থেকে আগত সকলকে 'বিহারি' আখ্যা দেওয়া, একাত্তরে বাঙালি-বিহারি দ্বন্দ্ব ও তার করুণ পরিণতি খুব সুন্দরভাবে বর্ণিত হ'য়েছে। তবে মূল চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা হায়দারকে ঘিরে যে সকল ঘটনা বর্ণিত হ'য়েছে সেখানে লেখকের কিছুটা ভাবাবেগের তাড়না লক্ষণীয়, তাতে উপন্যাসের মান ক'মে গেছে। নারীর চরিত্র চিত্রণে শওকত আলী তাদের দেহের ক্ষুধাকে মূখ্য ক'রেছেন, নারীকে ঘরমুখো রাখার প্রবণতা তার আগের দু'টি উপন্যাসেও লক্ষ ক'রেছি। ওঁনাকে আমি মিসোজিনিস্ট ব'লছি না কিন্তু নারীকে তিনি যেন একটা ছকে আটকে রাখেন।
Profile Image for Edward Rony.
106 reviews9 followers
December 1, 2023
লেখক অনেক সময় তাঁর একটি বা দুইটি বইয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকেন। বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদাহরণ। শওকত আলীও চাপা পড়ে আছেন তার প্রদোষে প্রাকৃতজন এর নিচে। এর বাইরেও তার যে বিশাল সৃষ্টিকর্ম আছে সেটা আমরা অনেক সময় প্রত্যক্ষ করতে পারি না।

'উত্তরের খেপ' তেমনি একটি সাহিত্য কর্ম। এত বড় ক্যানভাসের একটি সাহিত্যকর্ম এত ছোট পরিসরে এনেও যে দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব তা 'উত্তরের খেপ' না পড়লে জানতাম না। '৪৭ এর দেশভাগ, '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, '৭১ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের গল্প, দুইটি প্রজন্মের গল্প 'উত্তরের খেপ'।
কিছুটা মেলোড্রামা থাকলেও বাস্তবতার এক নিষ্ঠুর প্রতিফলন আছে এই উপন্যাসে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রটা ভাল লেগেছে। সে যেন নির্বাণ লাভ করেছে। জাগতিক কোন বিষয়ই যেন তাকে আকর্ষণ করে না। সে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে..
Profile Image for অজন্তা  অনিদ্রিতা .
13 reviews6 followers
September 25, 2022
"ওহ! হায়দার!!!" অস্পষ্ট ভাষায় মুখে চলে আসে যখনই হায়দার চলে আসে দৃশ্যপটে। এমনও মানুষ হয়! এমনও হয় মানুষের জীবনে!! উত্তরের চেনা জায়গা থেকে দক্ষিণের অচেনা মোহনায় সবাই গা ভাসাতে পারেনা। আপন সংসারে থেকেও কিছু মানুষ হয়ে যায় অচেনার মতো আর অল্প পরিচয়ের মানুষকে মনে হয় অনেক আপন! ঈশ্বরের কি লীলাখেলা!

আর কিছু বলার ভাষা নেই। কিছু কথা থাক না অব্যক্ত!
Profile Image for Quazi.
36 reviews1 follower
January 23, 2022
সমাপ্তি পছন্দ হয়নি। কিন্তু হায়দার খুব চেনা, খুব নিজের। খুব সহজে নিজের সাথে মিলিয়ে ফেলা যায়; হায়দারের জীবন অনুভব করা যায়।
Profile Image for Tasfia Promy .
176 reviews35 followers
August 22, 2026
২০২৬ রিভিউঃ ৪৩
বইঃ উত্তরের খেপ
লেখকঃ শওকত আলী

“There are different paths to your destination. Choose your own path.”— Lailah Gifty Akita

সামনে অনেক পথ খোলা? পিছু ফিরবে না বলে পণ করেছ? কিন্তু বিধাতা তো আড়ালে হাসেন। পালাবে কোথায়? তোমাকে ফিরে আসতেই হবে।
হায়দারকে বিধাতা এত বছর পর আবার উত্তরে ফিরিয়ে নিলেন। যে মরিয়ম-মিঠু-আজগরকে ছেড়ে পালিয়েছিলেন, নিজের ভিটে-বাড়ি ত্যাগ করে দেশান্তরী হয়েছিলেন—নিয়তিই যেন তাকে আবার সেই পথে টেনে আনল।এই তো ক’দিন আগেও আরিচা পার হতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাগত; দিন কেটে যেত ফেরীর আশায়, জ্যামে। আর হায়দারের যাত্রাপথে তখন লাগত দুই-তিন দিন—দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রংপুর...কিছু জায়গায় আমরা আর ফিরতে চাই না, কিছু মানুষকে আর দেখতে চাই না। হায়দারও তাই চায়। সেজন্যই মালপত্র নিয়ে উত্তরে যেতে রাজি ছিল না সে। কীভাবে দাঁড়াবে? কোন অধিকারে? নিজের ভিটের অধিকার, বাপ-মায়ের শেষ স্মৃতি—যা সে অবহেলায় ফেলে এসেছে—এক বিশ্বাসঘাতিনীর জন্য কি সে ফিরবে?
সাগরেদ গফুরকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামে হায়দার। শিক্ষিত হলেও গফুর পেশায় ট্রাক ড্রাইভার। তার বাবাও ড্রাইভার ছিলেন, উত্তরের রাস্তা সে চেনে। গফুরের মা ছিলেন বিহারী—১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এ দেশে এসেছিলেন, তারপর এখানেই থিতু হয়েছেন। এ নিয়ে অনেক গল্প। আর হায়দারের মা-বাবা দুজনেই প্রাণ হারান ১৯৭১ সালে।
এই বইয়ের মধ্যে বহু ঘটনা এসেছে—১৯৪৭, ১৯৭১, তার পরবর্তী সময়—সবকিছু এত গুছিয়ে তুলে ধরা সত্যিই প্রশংসনীয়। হায়দার বাবা-মাকে হারানোর পর, নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মরিয়মকে বিয়ে করে। কিন্তু মরিয়ম কোনওদিনই নির্লিপ্ত হায়দারকে মেনে নিতে পারেনি। যদি মরিয়ম বলে হায়দারকে কুয়োতে লাফ দিয়ে মরতে হবে, সে পাল্টা প্রশ্ন করবে না। মরিয়মকে তার খালাতো ভাই আজগর পছন্দ করত, ভালোবাসত। সেই ভালোবাসার টানেই সে স্বামীকে ত্যাগ করে। মিঠু কার সন্তান—আজগরের নাকি হায়দারের? এটি গভীর এক প্রশ্ন। উত্তরের খেপ পেয়ে হায়দারের অন্যরকম এক অনুভূতি হয়। কিন্তু পালানোর পথ তো নেই। সে হয়তো ভেবেছিল, উত্তরে যাবে, খেপ মারবে—মাল পৌঁছে দিয়ে আবার চলে আসবে। আর ফিরবে না…

কিন্তু আরিচার কাছে আসতেই একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে তার জীবনে। ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ বলার মতো মানুষ নয় হায়দার; তাই পুতুলের মতো হয়তো চলেছে। উত্তরের হাওয়া গায়ে লাগতেই কিংবা এতকালের জমাট বাতাস যেন মুক্ত করে দেয় কাউকে। উত্তরে পৌঁছাতেই একের পর এক ঘটনা, নিজের অতীত হায়দারের সামনে ভেসে ওঠে। অতীত সামনে এলে কী হবে এখন? নিজের ফেলে আসা বাড়ির অধিকার চায়? সন্তানের অধিকার চায়? কৈফিয়ত চায় তার প্রাক্তন স্ত্রীর কাছে—কেন তার জীবন নষ্ট করল?
যদি সবাই প্রশ্ন করে, কেন ফিরল সে? উত্তরের খেপই কেন নিল? বিধাতা কি সত্যিই নিঠুর! এতকাল বাদে কোন সত্যের, কোন জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে হায়দারকে? প্রায় দুশো পাতার বই—ঘটনাবহুল। আমাদের সমাজের চেনা গল্প। স্বার্থের কাছে নিজের মেয়ে-স্ত্রী কারও কাছে কিছু না, আবার সন্তানকে বাঁচাতে মা নিজে অস্ত্রের সামনে দাঁড়ায়। স্বার্থের তাগিদে মানুষ খুন করা যেন বাজার থেকে আলু-পটল কেনার মতো। কষ্টের বা জীবনের তাগিদে কোন মাকে শক্ত হাতে ধরতে হয় ব্যবসা কিংবা সংসারের হাল।
অনেক অজানা প্রশ্নের জবাব মিলবে এই বইয়ে, আবার সঙ্গে জড়ো হবে আরও হাজারো প্রশ্ন। গফুর চরিত্রটি বেশ ভালো লাগবে। আবার হায়দারের চরিত্র পছন্দ না হয়ে উপায় নেই—সে ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। মরিয়ম চরিত্রটি বিরক্ত লাগতে পারে, আবার নাও লাগতে পারে। হায়দারের মা-বাবার চরিত্র ভালো লাগবেই। ট্রাক ড্রাইভারদের জীবনের পুরো চিত্র কমবেশি এই বইয়ে লেখক তুলে ধরেছেন। বইটি পড়লে মনে হবে এ যেন বাস্তব—প্রতিটি চরিত্র বাস্তব। গল্প-উপন্যাস যেমন বাস্তব হয় না বলে কথিত, আবার এও বলা হয় যে মানুষের জীবন থেকেই ফিকশন লেখা হয়।বইটির কিছু জায়গায় আজগরের নামের জায়গায় হায়দার লেখা হয়েছে। সে লাইনগুলো এক-দুইবার পড়লে স্পষ্ট হবে। আজগরের মতো চরিত্র আমাদের সমাজে হাজার হাজার। এদের জন্যই হায়দার বা গফুরের মতো মানুষদের, মরিয়মের মতো মেয়েদের পস্তাতে হয়। এই সুন্দর বইটি নিয়ে কেন কেউ আলাপ করে না? কেন আলোচনার আড়ালে পড়ে থাকে এত জীবনঘনিষ্ঠ এই বই?


Profile Image for Nasrin Shila.
282 reviews91 followers
June 12, 2021
মানুষের জীবন মনে হয় এমনি। কোথায় শুরু কোথায় শেষ জানা নেই। বইয়ের গল্প শুরু হয় হায়দারকে দিয়ে। ঘটনাক্রমে তার নিজের জীবনের অনেক কিছুই জানা হয় আবার অনেক কিছুই হয় না। কেন হায়দার মরিয়মের প্রতি এত নির্বিকার ছিল তা জানা যায় না। তার মা বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও পরিষ্কার হয় না৷ সেই সাথে পরিষ্কার হয় না হায়দারের ভবিষ্যত, মিঠুর প্রতি তার মনোভাব। আজহারের পরিণতিতে ভালো লাগলে এবং তা মরিয়মের জীবন কিছুটা হলেও সহজ করে দিলেও আমার মনে হয়, বাস্তবের সব আজহার তাদের কর্মফল পায় না৷
Profile Image for Shahariare Shihab.
14 reviews
March 18, 2024
যদি কেউ উন্নত লেখা এবং দারুণ গল্প পড়তে চান, এত অদ্ভুতভাবেই শওকত আলী লিখে গেছেন, পড়লাম আর মুগ্ধ হলাম।
Profile Image for Zakia Rafa.
12 reviews7 followers
April 15, 2021
খুবই আন্ডাররেটেড একটা বই!এ ধরণের প্লটের উপর বই পড়া হয়নি এর আগে! আলাদা পেশা এবং পেশার মানুষ সাথে গল্পের নায়কের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার মা-বাবার জীবনের কাহিনী কে লেখক প্যারালালি চালিয়ে গেছেন! বইটা পড়া উচিৎ বলে মনে করি!ভালো লেগেছে!
Displaying 1 - 10 of 10 reviews