Shawkat Ali (Bangla: শওকত আলী) is a major contemporary writer of Bangladesh, and has been contributing to Bangla fiction for the last four decades. Both in novels and short stories he has established his place with much glory. His fiction touches every sphere of life of mass people of Bangladesh. He prefers to deal with history, specially the liberation war in 1971. He was honored with Bangla Academy Award in 1968 and Ekushey Padak in 1990.
উপন্যাসটা খারাপ লাগেনি তবে মাঝে মাঝে ঝুলে প'ড়েছে। বাঙালা সাহিত্যে ঔপন্যাসিকদের এই প্লটের 'গাঁট' মজবুত রাখার ব্যাপারে সমস্যা আছে, তাতে অনেক বেশ ভালো উপন্যাসই বিশ্বমানে উত্তীর্ণ হ'তে পারে না। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর উত্তরবঙ্গের চিত্র চমৎকারভাবে লেখক উথাপন ক'রেছেন, ওপার থেকে আগত সকলকে 'বিহারি' আখ্যা দেওয়া, একাত্তরে বাঙালি-বিহারি দ্বন্দ্ব ও তার করুণ পরিণতি খুব সুন্দরভাবে বর্ণিত হ'য়েছে। তবে মূল চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা হায়দারকে ঘিরে যে সকল ঘটনা বর্ণিত হ'য়েছে সেখানে লেখকের কিছুটা ভাবাবেগের তাড়না লক্ষণীয়, তাতে উপন্যাসের মান ক'মে গেছে। নারীর চরিত্র চিত্রণে শওকত আলী তাদের দেহের ক্ষুধাকে মূখ্য ক'রেছেন, নারীকে ঘরমুখো রাখার প্রবণতা তার আগের দু'টি উপন্যাসেও লক্ষ ক'রেছি। ওঁনাকে আমি মিসোজিনিস্ট ব'লছি না কিন্তু নারীকে তিনি যেন একটা ছকে আটকে রাখেন।
"আচ্ছা বলুনতো হায়দার এমন কেন করলো? চাইলেই তো শেষ বেলায় সব গুছিয়ে নিতে পারতো! এমন কেন করলো?", প্রশ্ন উড়ে এলো ম্যাসেঞ্জারের নীলবাক্সে।
" কিছু মানুষ কখনো অভিযোগ করতে জানে না, জোর খাটাতে জানে না হায়দার সেসবের দলে। সেজন্যই হয়তো! আর ঘর টানে নি!", খটাখট টাইপ করে পাঠিয়ে দিলাম ফিরতি ম্যাসেজে।
"সংসারের ভেতরে যেভাবে ওর বাবা-মা ঢুকতে পেরেছিল সেভাবে ও পারল না কেন বলতে পারেন?," কষ্টের ভেতর দিয়ে তো ওরাও গেছিল!", তীরের মতো বিধল যেন প্রশ্নটা। ম্যাসেজ শেষ করেও স্থির হয়নি ওপাশের মানুষটা। কারণ ইনবক্সে তিন নুকতা ঠিকই ব্যাং এর মতো লাফাচ্ছে।
" মান্নাদের গানটা শুনেছিলেন? "সবাই তো সুখি হতে চায়" ওমনই হবে হয়তো। বাপ মার যুদ্ধের সময়কার তিক্ত অতীত মনের খেয়ালে তাড়া করে বেড়ায় হয়তো। নিজের অক্ষমতা। জোর খাটানোর স্বভাব না থাকা। প্লাস ব্লা ব্লা! ",দায়সারাভাবে কিছু একটা লিখে পাঠালাম ওপাশে। দেখি কি বলে।
" এইটা কোনো যুক্তি হলো? মরিয়মের উপর জোর খাটাতে পারতো না হায়দার? মন পোড়ায় না মরিয়মের জন্য? ঠিক তো ফোকলা গফুরের জন্য মন পোড়াইছে", বলে রাগের ইমোতে ভাসিয়ে দিচ্ছে ইনবক্সে।
" আপনার দেখি সত্যিই হায়দারের প্রতি বিশাল ক্ষোভ! চিনতেন নাকি কোনো হায়দারকে?", টিপ্পনী কাটার লোভ সামলাতে পারলাম না। এও বুঝে নিয়েছি নিজের ঘাড়ে কুড়াল ঠিক নিশ্বাস ফেলছে এখন।
"আপনার নিক নেম হায়দার দিয়ে রাখছি খেয়াল করেন নাই?", ম্যাসেজের ভেতর বুঝিয়ে দিলো। কি কেমন জব্দ। "আপনার এই একসাথে দুইজন এক বই পড়ার আইডিয়াটা কিন্তু বেশ। দু চার পাতা হলেও উলটানো যায়। আপনি চাইলে আরো দুই চারটা বই পড়তে পারি।", ঠিক আমন্ত্রণের সুর ভেসে উঠল সাদা স্ক্রিনে।
" বইটার রেশ কিছু দিন থাকুক, হায়দার, মরিয়ম, ফোকলা গফুররা একটু মনের কোনে ঠাই নিক। অনেকেই বলেছিল শওকত আলীর অনেকটা ক্লিশে লেখার একটা এই উত্তরের খেপ। অথচ প্রতিটি পাতা প্রতিটি শব্দ কলজেতে গেথে গেছে৷ নিজেকে হায়দার মনে হচ্ছে। যেন আমিই সেই ট্রাক ড্রাইভার। আমিই ঘর হারানো উড়ন্তিস।", লিখে পাঠালাম যেন আমার আঙুল গুলো উড়ে বেড়ালো স্ক্রিনে। ঠিক অবচেতন মন ঠিক জানতো ঠিক কি লিখতে হবে। এইটুকুই পাঠালাম আপাতত। এখন আর বই নিয়ে কথা বলার ইচ্ছেই করতেসে না। সব কিছু মিলে ঝিলে মাথা হ্যাং হয়ে গেসে। অনেকদিন পড় কোনো বই এভাবে ভেতরে দাগ কেটে গেল। রেশ থাকুক উত্তরের খেপের।
"ওহ! হায়দার!!!" অস্পষ্ট ভাষায় মুখে চলে আসে যখনই হায়দার চলে আসে দৃশ্যপটে। এমনও মানুষ হয়! এমনও হয় মানুষের জীবনে!! উত্তরের চেনা জায়গা থেকে দক্ষিণের অচেনা মোহনায় সবাই গা ভাসাতে পারেনা। আপন সংসারে থেকেও কিছু মানুষ হয়ে যায় অচেনার মতো আর অল্প পরিচয়ের মানুষকে মনে হয় অনেক আপন! ঈশ্বরের কি লীলাখেলা!
মানুষের জীবন মনে হয় এমনি। কোথায় শুরু কোথায় শেষ জানা নেই। বইয়ের গল্প শুরু হয় হায়দারকে দিয়ে। ঘটনাক্রমে তার নিজের জীবনের অনেক কিছুই জানা হয় আবার অনেক কিছুই হয় না। কেন হায়দার মরিয়মের প্রতি এত নির্বিকার ছিল তা জানা যায় না। তার মা বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও পরিষ্কার হয় না৷ সেই সাথে পরিষ্কার হয় না হায়দারের ভবিষ্যত, মিঠুর প্রতি তার মনোভাব। আজহারের পরিণতিতে ভালো লাগলে এবং তা মরিয়মের জীবন কিছুটা হলেও সহজ করে দিলেও আমার মনে হয়, বাস্তবের সব আজহার তাদের কর্মফল পায় না৷
লেখক অনেক সময় তাঁর একটি বা দুইটি বইয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকেন। বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদাহরণ। শওকত আলীও চাপা পড়ে আছেন তার প্রদোষে প্রাকৃতজন এর নিচে। এর বাইরেও তার যে বিশাল সৃষ্টিকর্ম আছে সেটা আমরা অনেক সময় প্রত্যক্ষ করতে পারি না।
'উত্তরের খেপ' তেমনি একটি সাহিত্য কর্ম। এত বড় ক্যানভাসের একটি সাহিত্যকর্ম এত ছোট পরিসরে এনেও যে দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব তা 'উত্তরের খেপ' না পড়লে জানতাম না। '৪৭ এর দেশভাগ, '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, '৭১ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের গল্প, দুইটি প্রজন্মের গল্প 'উত্তরের খেপ'। কিছুটা মেলোড্রামা থাকলেও বাস্তবতার এক নিষ্ঠুর প্রতিফলন আছে এই উপন্যাসে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রটা ভাল লেগেছে। সে যেন নির্বাণ লাভ করেছে। জাগতিক কোন বিষয়ই যেন তাকে আকর্ষণ করে না। সে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে..
খুবই আন্ডাররেটেড একটা বই!এ ধরণের প্লটের উপর বই পড়া হয়নি এর আগে! আলাদা পেশা এবং পেশার মানুষ সাথে গল্পের নায়কের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার মা-বাবার জীবনের কাহিনী কে লেখক প্যারালালি চালিয়ে গেছেন! বইটা পড়া উচিৎ বলে মনে করি!ভালো লেগেছে!