Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমাদের শহরে একদল দেবদূত

Rate this book
হুমায়ুন আজাদ গভীর বেদনার সাথে গল্প বলেছেন একটি শহরের, যে শহরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে, সবাই নষ্ট হয়ে গেছে, যার কোনো বর্তমান নেই, ভবিষ্যৎ নেই। সে শহরকে একদিন উদ্ধার করে একদল দেবদূত, ওই শহরের পবিত্র শিশুরা। হুমায়ুন আজাদের ভাষা সব সময়ই অপূর্ব, এ-উপন্যাসেও তাই। ছবিতে কবিতায় ব্যঙ্গে বিদ্রূপে রূপকে প্রতীকে সাজানো এ উপন্যাস মুগ্ধ করবে কিশোর-কিশোরীদের, এবং বড়োদের।

55 pages, Hardcover

First published February 1, 1996

5 people are currently reading
172 people want to read

About the author

Humayun Azad

85 books298 followers
Humayun Azad (Bangla: হুমায়ূন আজাদ) was a Bangladeshi author and scholar. He earned BA degree in Bengali language and literature from University of Dhaka. He obtained his PhD in linguistics from the University of Edinburgh in 1976. He later served as a faculty member of the department of Bengali language and literature at the University of Dhaka. His early career produced works on Bengali linguistics, notably syntax. He was regarded as a leading linguist of the Bangla language.

Towards the end of 1980s, he started to write newspaper column focusing on contemporary socio-political issues. Through his writings of 1990s, he established himself as a freethinker and appeared to be an agnostic. In his works, he openly criticized religious extremism, as well as Islam. In 1992 Professor Azad published the first comprehensive feminist book in Bangla titled Naari (Woman), largely akin to The Second Sex by Simone de Beauvoir in contents and ideas.

The literary career of Humayun Azad started with poetry. However, his poems did not show any notable poetic fervour. On the other hand his literary essays, particularly those based on original research, carried significant value.

He earned a formidable reputation as a newspaper columnist towards the end of 1980s. His articles were merciless attacks on social and political injustice, hypocrisy and corruption. He was uncowed in protesting military rule. He started to write novels in 1990s. His novel Chappanno Hazar Borgomile is a powerful novel written against military dictatorship. Azad's writings indicate his distaste for corrupt politicians, abusive military rulers and fundamentalist Islam. Nevertheless, his prose shows a well-knit and compact style of his own. His formation of a sentence, choice of words and syntax are very characteristic of him. Although he often fell victim to the temptation of using fiction as a vehicle of conspicuous political and philosophical message, he distinguished himself with his unique style and diction.

On August 11, 2004, Professor Azad was found dead in his apartment in Munich, Germany, where he had arrived a week earlier to conduct research on the nineteenth century German romantic poet Heinrich Heine. He was buried in Rarhikhal, his village home in Bangladesh.

In 2012, the Government of Bangladesh honored him with Ekushey Padak posthumously. Besides this, he was honored with Bangla Academy Award in 1986.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
45 (43%)
4 stars
39 (37%)
3 stars
17 (16%)
2 stars
0 (0%)
1 star
3 (2%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for Yeasin Reza.
515 reviews88 followers
December 8, 2022
এই বইটি কে কিশোরসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় অথচ আমার মনে হয়েছে আমাদের 'শহর' এর প্রত্যেকের এটা পড়া উচিত। আজাদ বইটি লিখেছিলেন ১৯৯৬ সালে, এখন ২০২২ সাল এসে ও আমাদের শহরের কোন পরিবর্তন হয়নি। দেবদূতেরা নেমে আসেননি এখনো আমাদের শহরে উপন্যাসের মতো করে। মাঝে মাঝে কয়েকজন দেবদূত অবশ্য জড়ো হয়েছিলেন কিন্তু প্রভুদের দাপটে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবুও আশা রাখি আমরা যে একদিন আমাদের শহরে একদল দেবদূতেরা নেমে আসবেন।

আর আজাদের ভাষা এতো কাব্যিক সুন্দর,এতো তীর্যক যে আমাদের মনে স্বপ্ন আর বিবমিষা দুটোই তীব্রভাবে জেগে উঠে। আজাদের উপন্যাসগুলোর আলোচনা আরো বেশি করে হওয়া দরকার।প্রাবন্ধিক আজাদ থেকে উপন্যাসিক আজাদ আমার বেশি প্রিয়..
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews439 followers
September 24, 2021
৪.৫/৫
"আমাদের ইস্কুলগুলোতে পড়ান বড়ো বড়ো পণ্ডিতেরা।তাঁরা এতো বড়ো পণ্ডিত যে কখনোই বই পড়েন নি।বই কখনো খোলেন নি।আমাদের শহরে বইপড়াকে অবশ্য খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হয়।কোনো শিশু বেশি বই পড়ছে দেখলে আমরা ভয় পাই;তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।তাতেও না সারলে তার সব বই পুড়ে ফেলি।বই পড়লে মানুষ গাধা হয়ে যায়,গরু হয়ে যায়।বই না পড়লে জ্ঞান বাড়ে- আমাদের শহরে।আমাদের শহরের প্রভুদের দেখলেই তা বোঝা যায়।তাঁরা কখনো বই পড়েন নি,কিন্তু জ্ঞানের তাঁদের শেষ নেই।আর যাঁরা সবচেয়ে কম লেখাপড়া জানেন,যাঁরা কিছুই ভালো ক'রে জানেন না,তাঁদের আমরা রাখি পড়ানোর জন্য।তাঁরা মনের খুশিতে যা বলেন,তাই আমাদের শহরে পড়ালেখা।"
Profile Image for Moumita Hride.
108 reviews64 followers
April 29, 2019
আমাদের শহরটা কিভাবে নষ্ট হয়ে গলে, পচে যাচ্ছে তার এক করুন রূপ তুলে ধরেছেন লেখক। হুমায়ুন আজাদ যতটা রুঢ়তার সাথে সত্য বলতে পারে তার মত কেউ কখনই বলতে পারে না। অন্যরা যেখানে চাটুকারিতা করেছে সেখানে হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন সব বাস্তব অপ্রিয় সত্য। "আমাদের শহরে একদল দেবদূত" বইটিতে ঢাকা শহরের ধীরে ধীরে মরে যাওয়া, সমাজের অবক্ষয়, চারিদিকে দুর্নীতি ও রাহাজানি চিত্র তুলে ধরেছেন। লিখেছেন কিভাবে আমাদের নেতারা শহরটাকে ছিবরে চুষে নিচ্ছে ফায়দা লাভের জন্য।আর যদি কেউ সত্যি কথা বলে তাকে দেওয়া হচ্ছে ভয়াবহ শাস্তি। শেষের অংশে তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেছেন এবং আশার আলো দেখিয়েছেন যে একদিন আমাদের শিশুরা বড় হয়ে বদলিয়ে দিবে এই সমাজ। যদিও বইটা ছোটদের জন্য লেখা, আমার মতে তাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যাবে এই বইটা মর্ম উদ্ধার করা। একটু বড়দের জন্য খুবই উপভোগ্য বইটি।
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
February 18, 2023
৪.৫/৫

স্যাটায়ার ভঙ্গিতে লেখা ভাবনা উদ্রেককারী, আজাদের সবচেয়ে ভালো লেখাগুলোর একটি। কি মোহময় বর্ণনা, বলার ভঙ্গি। শব্দচয়ন বরাবরের মতোই সুন্দর। কাব্যিক, ব্যাঙ্গাত্মক অথচ মায়ায় জড়ানো। মনে হচ্ছিল মোহাবিষ্ট হয়ে কোন কবিতা পড়ছি! পড়ছি, হাসছি, আর মাঝে মাঝে ভাবছি। পঁচে গলে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটা শহরের কথা লিখেছেন লেখক। যে শহরের মানুষ বৃষ্টি কি জানে না, মেঘের কথা বললে যারা হাঁসের ডিমের মতো বড় বড় চোখ করে তাকায়। মেঘ, বৃষ্টি আবার কি বস্তু? তাঁরা সেটা বুঝে না। যারা বুঝে তারাও ভুলে গেছে, ভুলে যেতে চাইছে। শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশা দেশে। যেমন ছিল '৯৬' তে এবং আছে ২০২২_এ। বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থার মতোই হাল ছিল '৯৬' তে বা তারও আগে। লেখকের কলমের ডগায় প্রকাশ পায় এর এক চিত্রঃ
"আমাদের ইস্কুলগুলোতে পড়ান বড়ো বড়ো পণ্ডিতেরা।তাঁরা এতো বড়ো পণ্ডিত যে কখনোই বই পড়েন নি।বই কখনো খোলেন নি।আমাদের শহরে বইপড়াকে অবশ্য খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হয়।কোনো শিশু বেশি বই পড়ছে দেখলে আমরা ভয় পাই;তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।তাতেও না সারলে তার সব বই পুড়ে ফেলি।বই পড়লে মানুষ গাধা হয়ে যায়,গরু হয়ে যায়।বই না পড়লে জ্ঞান বাড়ে- আমাদের শহরে।আমাদের শহরের প্রভুদের দেখলেই তা বোঝা যায়।তাঁরা কখনো বই পড়েন নি,কিন্তু জ্ঞানের তাঁদের শেষ নেই।আর যাঁরা সবচেয়ে কম লেখাপড়া জানেন,যাঁরা কিছুই ভালো ক'রে জানেন না,তাঁদের আমরা রাখি পড়ানোর জন্য।তাঁরা মনের খুশিতে যা বলেন,তাই আমাদের শহরে পড়ালেখা।"
হ্যাঁ আমরা অতীতের মতোই আছি বর্তমানে।এই চিন্তাটা স্বস্তির। কারণ আমরা জানি আমাদের বর্তমান কখনো অতীতের চেয়ে সুখকর হয় না। কালের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা পিছিয়ে পড়ি, পঁচে যাই, নষ্ট হয়ে যাই। আবর্জনায় ভরে উঠে আমাদের চারপাশ। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অফিস আদালত। বাচ্চাদের স্কুল, উঁচা স্কুল, মহা স্কুল, বিশ্ব স্কুল সবখানেই মহাপ্রভুদের জয়জয়কার। তাঁরা যা বলে তাই। আইন শব্দটি তাদের কাছে হাস্যকর। একইসাথে আমাদেরও। মহাপ্রভুরা আইন মানে না, আইন সৃষ্টি করে। সাধারণ সেই আইন মেনে চলে, ভাঙ্গে, কিন্তু গোপনে। মহাপ্রভুদের পদধূলি চেটে ধন্য হই আমরা। কিন্তু কথক চারপাশে এতো এতো ক্লেদ, হিংসা, দ্বেষ, ক্ষমতার কালো থাবা থাকা স্বত্বেও নৈরাশ্যবাদে ডুবে যান না। উঠে আসেন সাঁতরে, স্বপ্ন দেখেন একদিন শিশুরা(যাদের উদ্দেশ্যে এই বই লেখা) নষ্ট হয়ে যাওয়া এই শহরটাকে পবিত্র করে তুলবে। মহাপ্রভুদের মহাপ্রাচির চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবে। শহরের মানুষ আবার বৃষ্টি ভালোবাসবে, মেঘ দেখে অভিভূত হবে। ওই মেঘের ভিতর থেকে ঠিকরে পড়বে শাদা সবুজ নীল লাল আলো। যে আলোয় শিশুদের 'মেঘদূত' বলে ভ্রম হয়।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
December 15, 2022
মনে হল যেন একটা দীর্ঘ কবিতা পড়লাম।

লেখক শহরের রূপকে স্বদেশকে তুলে ধরেছেন।

একটা নষ্ট হয়ে যাওয়া শহরের,নষ্ট হয়ে যাওয়া মানুষের তীব্র যন্ত্রণা বইটার পাতায় পাতায় লেখা। পাঠকও লেখকের যন্ত্রণার সাথে মুক্তজীবনের স্বপ্ন দেখা বর্তমানের হাতে গোনা দেশপ্রেমিক এর কষ্ট যেমন বুঝতে পারবেন, তেমনি উপলব্ধি করবেন এই বইটি কতটা বাস্তবের কাছাকাছি।

বইয়ের নষ্ট শহরকে উদ্ধার করে দেবদূতের মতো শিশুরা। তাদের দৈব আলো শহরকে ধ্বংস ও সৃষ্টি করে।

আমাদের শিশুরাও কি দেবদূতের মতো আমাদের দেশকে মুক্তি দিতে পারবে?
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews99 followers
March 28, 2017
আমাদের শহরে একদল দেবদূত, হুমায়ুন আজাদ রচিত একটা হতাশার গল্প, একটা বেদনার গল্প। লেখক এমন একটি শহরের গল্প বলেছেন যে শহর নষ্ট হয়ে গিয়েছ, যার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, যার কোনো বর্তমান নেই।

শহরটি আমাদের খুব পরিচতি, একসময় আমাদের খুব আপন ছিল। আজ সে শহরকে লেখক তার সেই চিরচেনা ঢঙ্গে অসাধারণ ব্যঙ্গ বিদ্রূপের মাধ্যমে দাঁড় করিয়েছেন বিচারের কাঠগড়ায়।

লেখক গল্পের প্রথমেই আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের শহরের আমরা আর কেউ ভালোবাসি না"। "ভালোবাসলে কেউ এতো ঘুমহীন থাকে না।"

লেখক ঢাকার প্রান বুড়িগঙ্গার জন্য ক��ঁদে উঠেন শিশুর মত। আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমাদের শহরের আত্নাটি নেই। প্রাণটি নেই।" লেখক ঢাকার বাসিন্দাদের তুলনা করেন মরে যাওয়া মানুষের সাথে। বুড়িগঙ্গাকে তুলনা করেন জীবন্ত কাফনবিহীন এক জীবন্ত লাশের সঙ্গে।

এরপরেই লেখক আঘাত হানে আমাদের রাজনীতির উপর। আমাদের শহরের ভৌতিক পরিবেশের উপর। লেখক বলেন, "আমাদের শহরের প্রত্যেক দিন আমাদের অনেকেই হারিয়ে যায়। তাদের আর আমরা আর পাই না।... আমাদের শহর খুব চমৎকারভাবে আমাদের খেয়ে ফেলতে পারে। আমাদের শহর খুব ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছে। রক্ত না পেলে আমাদের শহরের তৃষ্ণা মেটে না।"

শিক্ষা ব্যবস্থার করুণদশার কথা তুলে ধরেন লেখক খুবই রসাত্নক ভাবে। "উচ্চ স্কুল" "বিশ্ব ইস্কুল" "রোগ ইস্কুল", "ইস্ক্রু স্কুল" আহ কত্ত সব বিচিত্র স্কুলের ভয়াবহতা উঠে আসে লেখকের ভাষায়। যেখানে আমাদের শেখানো হয় উটপাখির মত বসবাস করতে, নিজের স্বার্থ কীভাবে হাসিল করতে হয় খুব সহজে, অন্যের ক্ষতি করে।

আমাদের শহরে রাস্তার পাশে অবাধে গড়ে উঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লেখক তুলনা করেন "মুদি দোকানের" সাথে। লেখক বলেন, "একটু ফাঁকা জমি পেলেই আমরা বাঁশ দিয়ে বেড়া দিই, একটা দোকান খুলি। মুদি দোকান দিই।... আমাদের বালকবালিকার সেখান থেকে জিনিশ কিনছে।"

আমাদের শহরের ভাগ্য যাদের হাতে, সেসব নেতাদের প্রতি লেখক ঢেলে দেন তার সমস্ত ক্ষোভ। লেখক বলেন, "আমাদের বড়ো বিপদ হচ্ছে আমাদের শহর যারা চালান তারা নষ্ট... আমরা সাধারণেরা ভয়ে কুঁকড়ে থাকি। কখন কাকে ধরে নিয়ে যাবে, কে আর ফিরে আসবে না, কার চোখ উপড়ে নেবে, কার পায়ের রগ কেটে দেবে, এসব ভাবতে ভাবতে আমরা স্বপ্নেও শিউরে উঠি"

সবশেষে লেখক স্বপ্ন দেখেন। লেখক দেখেন এই শহরে একদিন উদ্ধার করে একদল দেবদূত, ওই শহরের পবিত্র শিশুরা। ওরা আস্তে আস্তে করে এই শহরকে আবারো চরিত্রবান। ওরা ওদের নিষ্পাপ স্পর্শ দিয়ে ধুয়ে দেয় সমস্ত পাপ। আবারো এই শহরে সূর্য উঠে, চাঁদ হাসে, নদী বয়ে যায়। এই শহরের বিদ্যাজ্ঞনে শুরু হয় জ্ঞানচর্চা।

হুমায়ুন আজাদ বইটি কিশোরদের জন্য লেখলেও, আমার কাছে তা মনে হয়নি। আমার কাছে মনে হয়েছে, বইটি তাদের জন্য যাদের ভেতরটা পচে গেছে। যাদের মধ্যে আর নিজস্বতা বলতে কিছু নেই, যাদের মগজ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যারা বুঝতে পারছে তারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বইটি আমাদের সবার পচে যাওয়া আত্নাটির জন্য।
Profile Image for Protyasha.
Author 1 book52 followers
May 31, 2019
"একটি কথা এখনো বলি নি; কথাটি হচ্ছে আমি পলাতক।"

"আমার কেঁদে ফেলতে ইচ্ছে ক'রে। এ কেমন শহর যেখানে মেঘের মতো কিশোরীরা মেঘ দেখে নি!"

পাতার পর পাতা লিফলেট বানিয়ে শহরময় বিলি করে দেওয়ার মতো বই।
Profile Image for Rafat Tamim.
73 reviews7 followers
May 2, 2024
"আমি তাদের বৃষ্টি বোঝাতে পারি না। বৃষ্টি তো বোঝানোর জিনিশ নয়। বৃষ্টি দু-চোখে দেখার জিনিশ, খালি গায়ে নেচে নেচে অনুভব করার জিনিশ, বৃষ্টি হচ্ছে সব কিছুকে সবুজ নরম গলিত করার জিনিশ। বৃষ্টিতে গাছের পাতা থেকে গ'লে গ'লে সবুজ ঝরে। বৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে"
Profile Image for Ismat Sumaiya.
29 reviews32 followers
September 1, 2021
রেটিং :★★★★★/৫
লেখক এমন এক শহরের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে যে শহর নষ্ট হয়ে গিয়েছে বহু আগে। যে শহরকে কেও ভালবাসেনা,ভালো বাসতে পারে না।কেননা এশহরে আর বৃষ্টি পড়ে না,আকাশে মেঘ দেখা যায় না,সূর্য উঠে না,দক্ষিণ দিকের নদী আর বয়ে চলে না। শহরের চারিধারে নোংরায় ভরে গিয়েছে। ঐ শহরটি মহাপ্রভুর অধীন হয়ে গেছে। কিন্তু এমন শহরে একদিন হঠাৎ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়লো একদল দেবদূত। তারা এই শহরকে পবিত্র করে, চূর্ণবিচূর্ণ করে মহাপ্রভুদের দালান।কারা এই দেবদূত? কারা আমাদের শহরের নতুন জন্ম দিলো?

হুমায়ুন আজাদের কিশোর উপন্যাসগুলো যেন এক ধরনের মায়া কাজ করে। আষ্টেপৃষ্টে বেধে ফেলে আমাকে। এমন সুন্দর বর্ণনা, শব্দচয়ন, বলার ভঙ্গি আমি আর কোনো বইয়ে খোজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।এই ব্যর্থতায় আমি খুশি,খুব খুশি।
'আমাদের শহরে একদল দেবদূত ' হুমায়ুন আজাদের কিশোর উপন্যাস হলেও আমার মতে এটি সবার পড়া উচিত।উচিত না ঠিক বাধ্যতামূলক করা উচিত এই বইটি।
Profile Image for Shuvo.
84 reviews3 followers
September 10, 2023
"আমাদের শহরের কথা বলতে গেলে কষ্ট না পেয়ে থাকা যায় না; আর বেশিক্ষণ বললে কেউ সুস্থ থাকতে পারে না "

হুমায়ুন আজাদের গদ্য মানেই অপূর্ব কিছু 💙
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews465 followers
December 24, 2025
“আমাদের শহরে রোগ হয়ে কেউ মরলে আমরা বলি লোকটি মরেছে। কিন্তু রোগ না হয়ে যদি কেউ উৎসবের গুলি বোমায় মারা যায়, তখন বলি লোকটি অমর হলো। আমাদের শহরে সাধারণত অমর হয় বিশ্ব-স্কুলের বিশ্ব-ছাত্র, আর আমাদের শহরের বড়ো বড়ো প্রভু। আমাদের শহরে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অমর রয়েছে। অমরতা বিভাগ হিসেব করে দেখেছে আমাদের অমরের সংখ্যা ৯৯৯৭৫৬জন।

কষ্ট পাচ্ছি, খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমাদের শহরের কথা বলতে গেলে কষ্ট
না পেয়ে থাকা যায় না; আর বেশিক্ষণ বললে কেউ সুস্থ থাকতে পারে না।
আমি অসুস্থ বোধ করি। আমাদের শহরের অনেকেই আমার মতো কষ্ট
পায়; অসুস্থ বোধ করে। তারা অচেনা অপরিচিত হয়ে যায়, মনে হয় তাদের
ঘর নেই বাড়ি নেই শহর নেই কিছু নেই। আমাদের শহরের যারা খাঁটি লোক, তাদের কোনো ভাবনা নেই। তারা সুখে আছে। নদীর লাশ দেখে তারা সুখ পায়, মাথার ওপর আকাশ দেখে তারা আনন্দ পায়। তাদের কোনো কষ্ট নেই, কোনো অসুখ নেই। কষ্ট পেলে, অসুখ হলে আমার মেঘের কথা মনে পড়ে, বৃষ্টির কথা মনে পড়ে, শালিখের কথা মনে পড়ে। এ-সব কথা মনে হলে আমি সেরে উঠি। আমি মনে মনে আমাদের শহরে থাকি না। খারাপ লাগলেই আমি মনে মনে বনে চলে যাই, নদীতে চলে যাই। ঘাসের ওপর শুয়ে থাকি, শিশিরে মুখ ধুই, বাঁশের বাঁশি বাজাই, আমাদের পুকুরে নৌকা বাই। আমি স্বপ্ন দেখতে থাকি আমাদের শহর বদলে যাচ্ছে। আমাদের শহর ভরে গাছ ঢাল মেলছে, শহরে বৃষ্টি হচ্ছে, শিশুরা মেঘ চিনতে পারছে। মানুষ সৎ হচ্ছে, তাদের মুখে সরলতা দেখা দিচ্ছে, প্রিয়কে জড়িয়ে ধরছে। কিন্তু আমাদের শহর কি বদলাবে? কে বদলাবে? কারা বদলাবে? আমাদের শহর কি কখনো এমন হয়ে উঠবে যে মনে হবে এটা আমাদের শহর?”

হায় জাদুর শহর! ১৯৯৬ সালে এই বই লেখা, ২০২৫ সালে ও আমাদের শহরের একই অবস্থা। কবে আসবে আমাদের শহরে দেবদূতেরা?
Profile Image for Kamrul Hasan.
7 reviews15 followers
August 6, 2013
যখন আমাদের শহরকে ভালোবাসতাম আমরা তখন আমাদের শহর অন্যরকম ছিল। আমাদের শহরের দক্ষিণ দিয়ে একটি নদী বয়ে যেত; তার পানি ঠান্ডা ছিল, কোমল ছিল, মিষ্টি ছিল, পাখির চোখের মত ছিল। নদীতে লাফিয়ে প'ড়ে আমরা পবিত্র হয়ে উঠতাম। নদী থেকে যখন উঠে আসতাম মনে হত আমাদের মতো সুখী আর কেউ নেই। আমাদের শরীরে কোনো ময়লা থাকতো না, মনে কোনো পাপ থাকতো না। নদীতে শিশুরা সাঁতার কাটতো, যুবকেরা মাছের সাথে প্রতিযোগিতা করতো, বুড়োরা ওই পানিতে নিজেদের ধুয়ে আসতো। ওই নদীর বাতাসে আমাদের বাড়িগুলো স্নিগ্ধ থাকতো।
এখন আমাদের নদীটি নেই!
Profile Image for Pathok Bolchi.
97 reviews5 followers
January 6, 2024
আমি যখন প্রথমবার ঢাকায় আসি। ঢাকা আমাকে একদমই মুগ্ধ করতে পারি নি।গ্রামের খোলামেলা পরিবেশ ছেড়ে প্রকৃতির রূপরসের সাথে বড় হয়ে বেড়ে ওঠা একটা বাচ্চা ছেলের ঢাকা ভালো লাগবে না বড্ড স্বাভাবিক। তবুও জীবনের প্রয়োজনে জীবনের আবেদন নিবেদনে ঢাকার সবকিছুর সাথেই আমার পরিচয় ঠিক হয়েছে।

ঢাকা হয়ত একধরণের স্বাধীনতা ঠিক দেয় কিন্তু স্বাধীনতার মত এত বড় কিছুর বদলে কেড়ে নেয় সাহচর্য। ঢাকায় প্রত্যেক মানুষই একাকিত্ব বোধ করে। এটা এই জাদুর শহরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এত এত মানুষ কিন্তু কেউ তোমার না। তোমার নামের সাথে ট্যাগ দেখে এই শহরে মানুষ পরিচিত হয়। তুমি অন্যদের কী সুযোগে সুবিধা দিতে পারো এবং তুমি অন্যদের কাছ থেকে কী নিতে পারো অর্থাৎ এই শহর বিনিময়ের শহর। ছোটবেলায় শুনেছিলাম এই শহরে টাকা ওড়ে। তখন কেনো জানি বিশ্বাস করতাম না কিন্তু এই শহরে বাস করতে গিয়ে বুঝলাম টাকা ঠিকই ওড়ে কিন্তু বোকা সোকা সৎ হলে তা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। আলোর উঠা নামার সাথে এই শহর জাদু দেখাতে থাকে। এই শহরকে আমি সবসময় বলি এক্সপেরিয়েন্সের শহর। এই শহর হুমায়ুন আজাদের মতন আমরাও ফিল করি , মিথ্যায় এই শহরে একমাত্র সত্য।

আমাদের শহরে একদল মেঘদূত বই-এ হুমায়ুন আজাদ ব্যঙ্গাত্মক রুপক ,প্রতীকীর সাহায্য ঢাকা শহরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে মানুষ, সমাজ,ধর্ম, চিন্তা চেতনা, প্রকৃতি, শিক্ষা ,চিকিৎসা, পলিটিক্স , ধনী গরিবের বৈষম্য , বাসস্থান , অর্থ সম্পদ,যশ প্রতিপত্তি ,লজ্জা শরম, সুখ দুঃখ, ভালোবাসা প্রভৃতিকে পোর্ট্রেট করেছেন। হুমায়ুন আজাদের বই পড়লে চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত হয়। বাংলা ভাষা যে এত্ত সুন্দর করে বলা যায় ,লেখা যায় এবং মুগ্ধ হওয়া যায় তা একমাত্র হুমায়ুনে আজাদের বই পড়লে জানা যায়। মুক্ত চিন্তা কীভাবে করতে হয় ব্যসিকলি সেটা দারুণ শেখা যায়। এবং এটা শেখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োগের কত বেশি দরকার সেটা জানা যায়। মাস্টরিড বুক।

হুমায়ুন আজাদের সব বইই সুখাদ্য। মুক্ত চিন্তা চেতনার সুন্দর সমাজের গঠনোর জন্য তার বই আমি মনে করি সবসময়ই মাস্টরিড।
Profile Image for Amimul Ahsan.
38 reviews
September 21, 2021
এটি যেন আমাদের দেশেরই একটি প্রতিচ্ছবি যা এই গল্পের মধ্যমে লেখক অসাধারণ ভাবে দেখিয়েছেন। আসলেই, আমাদের দেশ, আমাদের শহরগুলো দুর্নীতিবাজ, অর্থলোভীদের হাতে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে; যার কোন ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু এই অবস্থা থেকে আমাদের বাচাতে পারে শুধু আমাদের দেশের শিশুরাই৷ তারাই পারে অতীতকে ভেঙে, ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়তে।
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
143 reviews27 followers
January 1, 2022
এই বই যখন প্রথম পড়েছিলাম তখন আমি ছোট। পুরোপুরি অনুধাবন করার বয়স হয়নি তখন.. এখনও কী হয়েছে? কে জানে। আবার পড়তে পড়তে আবিষ্কার করলাম নিজেকে এই বইয়ের পাতায়, আবিষ্কার করলাম নিজের শৈশব। আর কী মোহনীয় এই বইয়ের ভাষা! ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ পড়ে মনে হয়েছিল কিশোর উপন্যাসেই হুমায়ুন আজাদ সেরা.. ঐ স্টেটমেন্টকে পোক্ত করার জন্য এই উপন্যাসটার মতো একটা উপন্যাস থাকাই যথেষ্ট।
Profile Image for হাসান মাহবুব.
Author 15 books91 followers
April 14, 2024
৫৫ হাজার বর্গমাইল বইটির কিশোর সংস্করণ বলা যায়। এর ভাষা এত সুন্দর, এত কাব্যময় (কিন্তু কাব্যিকতায় জর্জরিত নয়), এবং যে কথাটা কেউ বলে না এই বইটি সম্পর্কে তা হলো, এর হিউমার! এরকম উন্নত মানের হিউমার বিরল এই ধরণের রচনায়। হুমায়ুন আজাদের এই জাতীয় বিষয়বস্তুগুলি নিয়ে লেখা বইগুলি সমসাময়িক অনেক লেখকের লেখায় প্রভাব ফেলছে। ক্লাসিক বলা যায় বইটাকে? নিঃসন্দেহে।
Profile Image for Redwan Hasan.
308 reviews11 followers
December 20, 2017
When I first read this book I didn't quite understand it fully but later it became one of my favorite books. Must read for anyone who has interest in history and politics of this country.
Profile Image for H.s.khan.
23 reviews2 followers
December 14, 2018
This is a cleverly written book. Filled with disappointment and hope. It’s funny and heart breaking at the same time. I will be reading this book soon again and would definitely recommend this.
Profile Image for Noor Kutub.
39 reviews
July 26, 2024
জুলাই, ২০২৪

আশা রাখি আমাদের শহরেও একদল দেবদূত নেমে এসে এই শহর ধ্বংস করে সবকিছু নতুন করে শুরু করবে।
Profile Image for Asef.
26 reviews3 followers
April 24, 2024
আমাদের শহরে একদল দেবদূত

কিশোর সাহিত্যের অংশ হলেও আমি হুট করেই কোনো কিশোরকে 'আমাদের শহরে একদল দেবদূত ' পড়বার জন্য বলবো না, নতুন কোনো পাঠককে বইটি পড়ার পরামর্শও আমি দেবো না। বইটা যে খারাপ এমন নয়, আমার পড়া সেরা একটা কিশোর উপন্যাস। কিন্তু এই উপন্যাসের ব্যঙ্গাত্মক ভাষা আর রুপক-প্রতীক এর প্রয়োগ নতুন কোনো কিশোর পাঠক এর জন্য সুখপাঠ্য নাও হতে পারে বলে আমার এই মতামত।

উপন্যাসটায় মূলত গভীর বেদনার সঙ্গে একটি নষ্ট, দূষিত শহরের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। যে শহরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে, যার কোনো বর্তমান নেই, ভবিষ্যৎ নেই । শহরটাকে আর কেউ ভালোবাসে না । শহরটা প্রাণহীন হয়ে গেছে। সেই শহরে বৃষ্টি হয় না, আকাশে মেঘ দেখা যায় না। সেই শহরের কিশোর কিশোরীরা মেঘ দেখে নি, বৃষ্টি কাকে বলে তারা জানে না। এই দূষিত শহরের বর্ণনা বইটাকে দিয়েছে এক নতুন রূপ। নষ্ট শহরের শিক্ষা, চিকিৎসা, মানুষ , নোংরা রাজনীতি কোনো কিছুই বাদ যায় নি ‌। শহরের মাথা আর ক্ষমতাসীনদের বর্ণনা দেয়া হয়েছে এভাবে,

" পথে পথে আমরা প্রভুদের সামনে পড়ি, ভয়ে কেঁপে উঠে, শ্রদ্ধায় গলে যাই ; আর প্রভুদের পায়ের মাটি কপালে মাখি। প্রভুদের পায়ের মাটিতে চন্দনের গন্ধ। যারা মাকে নিয়ে তারা কখনো বুঝবে না "

সেই শহরের সবাই মিথ্যেবাদী। কেউ সত্য কথা বলে না, সত্যা কাকে বলে তারা জানে না। সবচেয়ে মজার বর্ণনা রয়েছে ইস্কুলগুলোর।

" আমাদের স্কুলগুলো এক আশ্চর্য ব্যাপার। নানা ধরনের ইস্কুল বানিয়েছি আমরা। বাচ্চারা যে ইস্কুলে পড়ে তাকে আমরা বলি বাচ্চা-ইস্কুল ,আদর করে বাচ্চু-বাগানও বলি । সেখানে ফেল করে করে তারা উচ্চ স্কুলে যায়। উচ্চ ইস্কুলে ফেল করে করে তারা যায় মহা ইস্কুলে । সেখানে ফেল করে করে তারা যায় বিশ্ব ইস্কুলে। "

"আমাদের ইস্কুলগুলোতে পরান বড় বড় পন্ডিতেরা। তারা এত বড় পন্ডিত যে কখনোই বই পড়েননি। বই কখনো খোলেননি। আমাদের শহরে বই পড়াকে অবশ্�� খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কোন শিশু বেশি বই পড়ছে দেখে আমরা ভয় পাই; তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই । তাতেও না সারলে তার সব বই পুড়িয়ে ফেলি। বই পড়লে মানুষ গাধা হয়ে যায়, গরু হয়ে যায়। বই না পড়লে জ্ঞান বাড়ে আমাদের শহরে। শহরের প্রভুদের দেখলেই তা বোঝা যায়। তারা কখনো বই পড়েননি , কিন্তু জ্ঞানের তাদের শেষ নেই। আর যারা সবচেয়ে কম লেখাপড়া জানেন , যারা কিছুই ভালো করে জানেন না তাদের আমরা রাখি পড়ানোর জন্য। তারা মনের খুশিতে যা বলেন , তাই আমাদের শহরে লেখাপড়া ।"

"আমাদের শহরের নিয়মই হচ্ছে সিংহকে বাদ দেওয়া , সিংহ সিংহ আমরা পছন্দ করি না। আমাদের পছন্দ গরু গাধা। আমাদের বিশ্ব ইস্কুল খুব মাননীয় গরু গাধায় ভরে উঠেছে। আমরা দেখেছি গরুর গাধারা খুব বুদ্ধিমান হয়, ওরা জানে কার ঘরে ওরা বিশ্ব ইস্কুলের স্যার হতে পারবে। "

এইভাবে দারুন ব্যঙ্গাত্মক বিদ্রুপ দিয়ে লেখা হয়েছে এখানকার নোংরা রাজনীতি, বিশ্ববিদ্যালয় আর উচ্চ বিদ্যালয়ের অনৈতিক সব ধরনের কাজকর্ম। বাদ যায়নি আমাদের গোরবের মুক্তিযুদ্ধের কথা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শেষেও আমরা যে সব প্রভুদের কাছে পরাধীন থেকে গেছি, যাদের জন্য আমাদের সুন্দর শহর হয়েছে নষ্ট, তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে একদল দেবদূত। এই দেবদূত শহর কে করবে সুন্দর, তখন শহরে বৃষ্টি হবে, স্কুলে স্কুলে পড়াশোনা হবে। এমনভাবেই ইতি টানা হয়েছে উপন্যাসটার ।

হুমায়ূন আজাদের কলমে লিখিত হয়েছে এই অসাধারণ একটা কিশোর উপন্যাস। এক বসায় শেষ করার মতো একটা বই। কবিতায় ব্যঙ্গে, বিদ্রুপে, রূপকে , প্রতীকে সাজানো এই উপন্যাস কিশোরদের সাথে সাথে মুগ্ধ করবে বড়োদেরও।

বই : আমাদের শহরে একদল দেবদূত
লেখক : হুমায়ূন আজাদ
পৃষ্ঠা : ৫৫
মুদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা
প্রকাশনী : আগামী প্রকাশনী
নিজস্ব রেটিং : ০৯/১০
Profile Image for Esha Karim.
9 reviews12 followers
March 8, 2017
"এক বছর আমাদের এক লোক
চিৎকার করে বললো,
ভাইসব,
আমাদের চালের ভাত আমরাই খেতে চাই।
আমরা আর ক্ষুদ খেতে চাই না।
আমরা সবাই তার সাথে চিৎকার করলাম,
ভাত খেতে চাই, ক্ষুদ খেতে চাই না।
সেই লোক গর্জন করে বললো,
আমাদের মাছ আমরাই খেতে চাই, কাঁটা খেতে চাই না।
আমরা সবাই তার সাথে বললাম,
মাছ খেতে চাই, কাঁটা খেতে চাই না।
সেই লোক মেঘের মত বললো,
আমাদের গরুর দুধ আমরাই খেতে চাই, মাঠা খেতে চাই না।
আমরা মেঘের মতো বললাম, দুধ খেতে চাই, মাঠা খেতে চাই না।
সেই লোক অগ্নিগিরির মতো বললো,
আমরা স্বাধীনতা চাই।
আমরা অগ্নিগিরির মতো বললাম,
আমরা স্বাধীনতা চাই।
অমনি পাপিস্থানের সাথে যুদ্ধ বেঁধে গেল।"
--- হুমায়ুন আজাদ
'আমাদের শহরে একদল দেবদূত' (১৯৯৬)
৭ই মার্চের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এর চেয়ে উপযোগী স্মরণিকা (Tribute) সামান্যই আছে বাংলা সাহিত্যে।

অবশ্য পাঠ্য, কিন্তু কিশোরদের জন্য নয়, আমাদের বিবেক পঁচে যাওয়া আমাদের জন্যই।
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.