Jump to ratings and reviews
Rate this book

অনন্য জীবনানন্দঃ জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী

Rate this book
১৯৫৪ সালে ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন জীবনানন্দ দাশ। এরপর রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হয়ে ওঠেন এই কবি। তাঁর গভীর প্রভাব বাংলা কবিতার চেহারা পাল্টে দেয়। আধুনিক বাঙালি পাঠকের রুচির পরিবর্তনে তাঁর কবিতার অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা পালন করে মুখ্য ভূমিকা। মার্কিন গবেষক ক্লিন্টন বি সিলি ষাটের দশকে দুই বছর বরিশালে ছিলেন। কিন্তু তখনো জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটেনি। পরিচয় ঘটে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার পর। এই কবি সম্পর্কে তাঁর গভীর গবেষণালব্ধ তথ্য ও অন্তর্দৃষ্টিময় বিশ্লেষণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয় আ পোয়েট অ্যাপার্ট। এ বইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে আসে ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্মের যোগে জীবনানন্দ দাশের এক সামগ্রিক ও অনুপুঙ্খ চিত্র। এ বই বিশ শতকের প্রথমার্ধের সমাজ-রাজনীতির সময়পটে এক তীব্র অনুভূতিশীল কবির রক্তাক্ত জীবনছবি।

356 pages, Hardcover

First published December 1, 1990

11 people are currently reading
116 people want to read

About the author

Clinton B. Seely

7 books7 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
19 (47%)
4 stars
16 (40%)
3 stars
3 (7%)
2 stars
0 (0%)
1 star
2 (5%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Sanowar Hossain.
282 reviews25 followers
December 6, 2023
'তবুও তো পেঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায়— অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে।'

'শুদ্ধতম কবি' জীবনানন্দ দাশ। মৃত্যুর আগে যতটা অবহেলিত ছিলেন, মৃত্যুর পরে তার চাইতে বহুগুণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গিয়েছেন। সেই কবিকে নিয়ে জীবনী লিখেছেন একজন মার্কিন গবেষক। ক্লিনটন বি সিলি ষাটের দশকে দুই বছর বরিশাল থাকলেও জীবননান্দ দাশের সাথে পরিচয় হয়ে উঠেনি। দেশে ফিরে যাওয়ার পর কবির সম্পর্কে জানতে পারেন এবং গবেষণায় নেমে পড়েন। অতঃপর রচনা করেন 'A Poet Apart' নামের গ্রন্থটি এবং তার অনুবাদ 'অনন্য জীবনানন্দ'। বইটির মাধ্যমে কবি জীবননান্দ দাশের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যক্তি মানসের ভাবনা এবং সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন লেখক। একইসাথে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা সাহিত্যের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

বইটির প্রথম ভাগকে 'শেকড়' শিরোনামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। স্বভাবতই জীবনানন্দ দাশের শেকড় প্রোথিত ছিল অবিভক্ত বাংলার বরিশালে। তবে বরিশালের কবিকে পাওয়ার আগে লেখক বাংলাদেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করেছেন এবং সেটা মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গিতে। জীবনানন্দের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন বিক্রমপুরের (মুন্সিগঞ্জ) কীর্তিনাশা নদীর পাড়ের মানুষ। কালের পরিক্রমায় বাস উঠিয়ে যেতে হয়েছিল বরিশালে। পূর্বপুরুষরা বিক্রমপুরে থাকাকালীন বিভিন্ন উঁচু পদেই চাকরি করতেন। পিতামহ সর্বানন্দ দাশের ব্রাহ্ম সমাজে যোগদানের মাধ্যমে পরিবারে প্রগতিশীল শিক্ষার প্রচলন ঘটে। যা পিতা সত্যানন্দ দাশ হতে জীবনানন্দের নিকটেও চলে আসে। মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। মায়ের নিকট হতেই কি কবিতার পাঠ নিয়েছিলেন? কুসুমকুমারী দাশ কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা চালাতেন। স্বভাবতই কবিতা রচনায় মায়ের প্রভাব তৈরি হয়েছিল। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স ডিগ্রি লাভের পর আইন নিয়ে পড়তে চাইলেও অবশেষে ইংরেজিতেই এমএ পাস করেন কবি।

প্রথম যে কবিতাটি প্রকাশ করেছিলেন তাতে মায়ের প্রতি ভক্তি বা প্রভাব যাইই থাকুক সেদিকে আর পা বাড়ান নি। হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। কবি তাঁর কবিতাগুলোকে মায়ের কবিতার বিপরীত কবিতা হিসেবে জ্ঞান করতেন। বিষন্ন কবি যেন নিজের পাথেয় ঠিক করে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অনুকরণ কিংবা প্রভাব উভয়ই বিদ্যমান ছিল। তবে জীবনানন্দ দাশ এই বলয়ের বাইরে গিয়ে সাহিত্য রচনায় আগ্রহী হয়ে উঠেন। কিছু অপ্রকাশিত কবিতা তিনি পাঠিয়েছিলেন কবিগুরুর কাছে। তবে কবিগুরুর ফিরতি চিঠিতে হতাশই হয়েছিলেন বলা যায়। যার ফলে প্রথম প্রকাশিত কবিতাটিতে কবির নাম হিসেবে 'শ্রী' শব্দটাই শুধু ব্যবহার করেছিলেন।

বাংলা কবিতার জগতে 'কল্লোল যুগ' একটি যুগান্তকারী সময়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বুদ্ধদেব বসুর হাত ধরে একদল কবি এই যুগে কবিতাচর্চা করেছেন; যারা পাশ্চাত্য আধুনিকতাকে গ্রহণ করে রবীন্দ্র বলয় ভাঙতে চেয়েছিলেন। কল্লোল যুগের কবি বুদ্ধদেব বসুর সাথে লেখালেখির সূত্রেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয় জীবনানন্দ দাশের। তখন 'শনিবারের চিঠি' নামে একটি সাহিত্য সমালোচক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকায় বিভিন্ন সাহিত্যিকদের আক্রমণ করে লেখা প্রকাশ করা হতো। পত্রিকাটিতে সজনীকান্ত দাস ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা প্রায়ই বিভিন্ন লেখককে আক্রমণ করে লেখা ছাপাতেন। বিদ্রোহী কবি, কবিগুরু কেউই তাদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায় নি। একসময় জীবনানন্দও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পরিণত হন। তখন বুদ্ধদেব বসু আক্রমণ ঠেকানোর সর্বাত্মক চেষ্টা হিসেবে কবিতার আলোচনা প্রকাশ করতে থাকেন। তবে একটা বিষয় তখন অনেকটা নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, সাহিত্যমহলে পরিচিতি পেতে হলে শনিবারের চিঠির আক্রমণের শিকার হতে হবে। এই পত্রিকা যেমন অনেক সাহিত্যিককে পরিচিতি দিয়েছে, আবার অনেককেই তাদের সাহিত্যিক জীবনের ইতি টানতে বাধ্য করেছে।

কলকাতায় কলেজে শিক্ষাকতার সময়ে লেখালেখি পুরোদমে চলতে থাকে। তবে একটা সময় বরিশালে ফিরতে হয় কবিকে। দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারেন নি; যা কবির কবিতা ও উপন্যাসের মাধ্যমেও ফুটে উঠেছে। 'মাল্যবান' যেন খোদ কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনাখ্যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে রবীন্দ্র বলয় এবং বলয়ের বাইরে; এই দুই শ্রেনির কবিগোষ্ঠী থাকলেও বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্ক্সবাদ-কমিউনিজম সাহিত্যজগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ের কবিতাগুলোতে জীবনানন্দ দাশের রাজনৈতিক সচেতনার প্রমাণ পাওয়া যায়। জীবনানন্দ দাশের কবিতাগুলোতে ভাষার ব্যবহার বিশেষ করে উপমা এবং সুপ্তার্থের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। কবিতাগুলো বিশ্লেষণ করলে ভাবার্থ যেভাবে ব্যক্তি-চিন্তার দ্বার উন্মোচন করে তা অভাবনীয়।

জীবনানন্দ কোনো দিক দিয়েই স্থিতিশীল ছিলেন না; একমাত্র কবিতার প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান। তবে সেগুলো প্রকাশে ছিল অনীহা। মৃত্যুর পর অনেকগুলো লেখা ট্রাঙ্কের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। আর্থিক সমস্যা পুরো জীবনকেই কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। উঠতি সময়ে সমালোচকদের আক্রমণ করেছে কবিকে পর্যদুস্ত। দাম্পত্য জীবনের অসহ্য পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছেন কবি। মৃত্যুটাও হলো করুণভাবে; ট্রাম দূর্ঘটনায়। ট্রাম দূর্ঘটনায় মৃত্যুর আঠারো বছর পূর্বে লিখেছিলেনঃ
'অনেক রাত হয়েছে-অনেক গভীর রাত হয়েছে;
কলকাতার ফুটপাথ থেকে ফুটপাথে-ফুটপাথ থেকে ফুটপাথে-
কয়েরটি আদিম সর্পিণী সহেদরার মতো এই-যে ট্রামের লাইন
ছড়িয়ে আছে
পায়ের তলে, সমস্ত শরীরের রক্তে এদের বিষাক্ত বিস্বাদ স্পর্শ
অনুভব করে হাঁটছি আমি।'

বইটির খোঁজ কীভাবে পেয়েছিলাম ঠিক মনে নেই। তবে বইটি যে একটি রত্ন তা অনায়াসে বলা যায়। কবি জীবনানন্দ দাশকে একেবারে কাছ থেকে দেখার মতো দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করেছে এই বইটি। কবির জীবনের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের বিশেষ করে বাংলা কবিতার কয়েক দশকের বিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বইটির আরেকটি প্রশংসনীয় দিক হলো বইটির অনুবাদ। ফারুক মঈনউদ্দীন বইটিকে এমনভাবে অনুবাদ করেছেন কোনোভাবেই মনেই হবেনা মূল বইটি ইংরেজি ভাষার। অনেকগুলো কবিতাও রয়েছে বইটিতে; যা প্রাসঙ্গিকভাবে কবির সাহিত্যচর্চার আলোচনায় এসেছে। একইসাথে কবিতার পাঠও হয়ে যাবে। বাংলা সাহিত্যের বিষন্ন এবং আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও কর্মকে দুই মলাটের মাঝে জানতে চাইলে বইটি অবশ্যপাঠ্য। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Shotabdi.
821 reviews200 followers
July 17, 2021
প্রায় বছরখানেক আগে কিনে রাখা বইটা আমি হাতে নিতে বরাবরই সাহসের অভাবে ভুগেছি। কারণ, যতবার আমি জীবনানন্দ সম্পর্কে পড়েছি তা সুনীলের কলমে হোক কিংবা শাহাদুজ্জামানের কিংবা আকবর আলি খানের, ভেতরে ভেতরে বারবারই আমার অশ্রুপাত হয়েছে। মনে হয়েছে, একজন আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের এক ধরনের ঘোড়ারোগ পেয়ে বসেছিল, কবিতার ঘোড়ারোগ, যা তাঁর আশেপাশের সাধারণতর মানুষের চোখে করে তুলেছিল খেয়ালী।
একজন বিবাহিত কবি, দুটি সন্তানের জনক, একজন অসহানুভূতিশীল স্ত্রীকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন, একটু ভালো আবাসন, একটু ভালো টিকে থাকার জন্য বারবার এর ওর দ্বারে ফিরছেন, একটু ভালো চাকরির আশায়, যেন তাঁর জীবিকার সমস্যাটা মিটে গিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে লিখতে পারেন।
��াঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের শেষ কয়েকদিন ছাড়া প্রায় সবসময়ই তাঁকে তাড়া করে ফিরেছে অনিশ্চয়তা, অভাব এবং নিঃসঙ্গতা। তাঁর অমিশুক স্বভাব, ভাবুক মানসিকতা, শিল্প এবং কাব্যে যাঁর অন্তর নির্লিপ্ত থাকতে পারেনি আদৌ, কিন্তু বাইরের চেহারায় চরম উদাসীনতা, সেই মানুষটিকে মানসিকভাবে আশ্রয় বা বন্ধুত্ব কে দিয়েছিলেন?
বুদ্ধদেব বসুর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জীবনানন্দকে স্বীকৃতি দেওয়া, কিন্তু বন্ধু কি তিনি ছিলেন? না, সম্ভবত। ওদিকে শনিবারের চিঠির মুহূর্মুহু কটূক্তি, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে কিঞ্চিৎ বিরক্তি উপহার! সব মিলিয়ে কবি এগুবেন, একা একা, এটা অনুমিতই হয়ে গিয়েছিল।
তিনি জীবনী লিখে যাননি। কিন্তু তাঁর কবিতা এবং উপন্যাস তাঁকে আমাদের চোখে জীবন্ত করে রাখে। মৃত্যুর পর প্রভূত স্বীকৃতি, আলোচনার পর আলোচনা, এক যুগের কবিকুলের কাছে মোটামুটি গুরুপিতা আসন পাওয়া এই কবিটি জীবিত অবস্থায় কী পেয়েছিলেন?

কবিকে চেনা যায় তাঁর 'বোধ' কবিতার লাইনে।
' সকল লোকের মাঝে ব’সে
আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা?
আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?
আমার পথেই শুধু বাধা?'

আরেকটি কবিতা উনিশশো চৌত্রিশের, এই গ্রন্থে অনালোচিত, কবিকে চেনার জন্য আমার চোখে এক অন্যতম কবিতা।

'আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।'


এক আজীবন নিঃসঙ্গ কবি, অযথা নির্জনতম আখ্যা নিয়ে চলে গেলেন, যিনি নিজে সচেতন ছিলেন তাঁর প্রতিভা সম্পর্কে। এই বেদনা কখনো ঘুচবার নয়, মৃত্যুর পর যতই আলোচিত হন না কেন তিনি!
তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাসগুলো, যেমন মাল্যবান, জলপাইহাটিতে চরিত্রগুলো যতটা না পরিশীলিত, সুতীর্থতে তেমনই অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ক্লিনটন বি সিলির মত।
হয়তো তাই, হয়তো জীবনানন্দ নিজেকে এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থাতেই ফেলতে চেয়েছিলেন, হয়তো তাঁর জীবন তাঁর কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
ফারুক মঈনউদ্দীন এর অনবদ্য অনুবাদে ক্লিনটন বি সিলির এই অমর গ্রন্থ জীবনানন্দকে দেখায় তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ হিসেবে। প্রথমা প্রকাশিত বইয়ের ব্যপ্তি ৩৫৬ হলেও, অনেকখানি দখল করেছে নির্ঘণ্ট এবং পাদটীকা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নাম জানতে পারলাম।
বর্ষার দিনে এমন মন খারাপ করা একটি সাহিত্যিক পাঠ জীবনানন্দকে করে দিল হৃদয়ের আরেকটু কাছের।
Profile Image for Yasir Sarkar.
32 reviews10 followers
September 8, 2020
ক্লিন্টন বি সিলি যে গভীর ভালবাসা-শ্রদ্ধা-আবেগ নিয়ে জীবনানন্দকে অনুসন্ধান করেছে তা এই গ্রন্থের, জীবনীর অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ খুঁজে পায়। জীবনানন্দ যেমন পিরামিড-নীল-ব্যবিলন-অ্যাসিরিয়া-সিন্ধু-শ্রাবস্তী মাড়িয়ে বাংলার ছোট নদীতীরের সবুজঘাসে-হিজলে-আতায় অবলীলায় হেঁটে বেড়াতে পারেন, ঠিক তেমনি এক অনবদ্য সূচনার অবতারণা হয় এই গ্রন্থের শুরুতে, একই সাথে নাটকীয়, অথচ সুন্দরের মত অনিবার্য-স্বাভাবিক। এরপর জীবনানন্দ যেমন বেড়ে ওঠেন সৃষ্টির নিয়মে, ছুঁটে চলেন পরিণতির দিকে, সেই সাথে বাংলা-সাহিত্যও তার ছায়ার সাথে সাথে, দেহের পাশে পাশে, জড়িয়ে জড়িয়ে এগোয়। এক জীবনীর দেহ ধারণ করেছে জীবনানন্দের সময়কে, হয়ে ওঠে জীবনানন্দের জীবনের-সাথে-অবিচ্ছেদ্য বাংলা-সাহিত্যের জীবনীতে। রবীন্দ্রনাথ, কল্লোল, শনিবারের চিঠি, পরিচয়, বিশ্বযুদ্ধ, কমিউনিজম, আধুনিকতা- এসমস্তর মুখোমুখি দাঁড়িয়েই কেবল কবিকে, মূলত কবির সৃষ্টিকে, আমরা বুঝতে শুরু করতে পারি। খেদ শুধু এই যে ব্যক্তি-কবি বাস্তব মানুষটার মতই নির্জন থেকে যান, এই সম্মুখে, তবু স্পর্শতার বাইরে।

তবু, জীবনানন্দের কাব্য-জীবনের সাথে তার যাপিত-সময়ের মিথোজীবীতা জীবনীকার এমন মনগ্রাহী ভাষায়-দক্ষতায়-অনুরাগে প্রকাশ করেছেন যে এক লহমায় শুধু কবিই নয়, সাথে কবির কাব্য-মনন-ভাবনা সমস্ত কালের আঘাতে-প্রত্যাঘাতে কত শানিত হয়েছে, আর সময় নিজে জীবনানন্দের আঁচড়ে কতটা অলংকৃত হয়েছে তা তৃমাত্রিক হয়ে উঠেছে। ফারুক মঈনউদ্দীনের অনুবাদ সাবলিল,সুখপাঠ্য ও প্রাণবন্ত, ফলে মূলের সাথে আমাদের দূরত্ব হয় না একবিন্দুও, মনে হয় গ্রন্থটি বাংলাতেই যেন লেখা।
Profile Image for Shafayat Amin.
10 reviews2 followers
June 14, 2021
১৯৫৪ সালে ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন জীবনানন্দ দাশ। এরপর রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হয়ে উঠেন এই কবি। তাঁর গভীর প্রভাব বাংলা কবিতার চেহারা পাল্টে দেয়। আধুনিক বাঙালি পাঠকের রুচির পরিবর্তনে তাঁর কবিতার অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা পালন করে মুখ্য ভূমিকা। জীবনানন্দ সম্পর্কে ক্লিন্টন বি সিলি'র গভীর গবেষণালব্ধ তথ্য ও অন্তর্দৃষ্টিময় বিশ্লেষণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয় 'আ পোয়েট অ্যাপার্ট' (বাংলা অনুবাদে নামকরণ করা হয়েছে 'অনন্য জীবনানন্দ')। এ বইটির মধ্য দিয়ে উঠে আসে ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্মের যোগে জীবনানন্দ দাশের এক সামগ্রিক ও অনুপুঙ্খ চিত্র। এই বই বিশ শতকের প্রথমার্ধের সমাজ-রাজনীতির সময়পটে এক তীব্র অনুভূতিশীল কবির রক্তাক্ত জীবনছবি।
Profile Image for William Ghosh.
16 reviews1 follower
January 7, 2020
A wonderful work of scholarship, which provides an invaluable introduction to Jibanananda's writing. A rich selection of the poet's more important poetry and prose is interleaved with the narrative, and there is an excellent bibliography. It is also a very engaging read. I hope it is brought back into print.
Profile Image for Pajor .
20 reviews
October 22, 2025
জীবনানন্দ বিশ্লেষণের এক অনন্য উৎস বইটি। অনুবাদ সাবলীল, অনায়াসে পড়ে ফেলার মত চমৎকার।
Profile Image for Alimur Razi Rana.
95 reviews5 followers
November 2, 2025
সাহিত্যের সবচেয়ে পুরনো যে ফর্ম আজো টিকে আছে, বলার অপেক্ষা থাকে না কবিতা তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম। প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি বই নাকি প্রকাশ হয় কবিতা নিয়ে। কিন্তু কবিতা নিয়ে যে অভিযোগ সবসময়ের, কবিতা বোধগম্য নয়, বোঝা যায় না, কবি আসলে কি বুঝাতে চান। তিনি কি শুধুই কিছু এলোমেলো শব্দ তুলে ছন্দ তৈরি করেন, নাকি কোন ভাব প্রকাশের চেষ্টা করেন। সোনার তরী কবিতায় কবি যে নশ্বর পৃথিবীকে দেখাতে চেয়েছেন, আমি মনে হয় শতবার পড়লেও ধরতে পারতাম না, যদি কবিতার শেষে পাঠ আলোচনা না থাকতো। রবীন্দ্র পরবর্তী আধুনিক বাংলা কবিতায় সবচেয়ে প্রভাবশালী অবশ্যই জীবনানন্দ দাশ। তার কবিতাও কম বেশি পড়েছি, কিছু শব্দের অবস্থান আর বাক্যের গঠন দেখে মুগ্ধ হয়েছি, ঐ পর্যন্তই। কিন্তু কবি যে কি গভীর মমতায় একেটা কবিতা রচনা করেছেন, প্রতিটা কবিতা জীবনের গভীর চিন্তা, দর্শনকে উল্লেখ করে, তার খুব কমই ধরতে পেরেছি। আমি শুধু একা না, জীবনানন্দ দাশের সমালোচকরা তার কবিতাকে অশ্লীল, দুর্বোধ্য বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করেছেন। কবি সেদিকে লক্ষ্য করেন নি, নিজের মতো করেই কলম চালিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে তার লেখা আর বিষয়ের পরিবর্তন হয়েছে, নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।

বাংলার রূপে যিনি এ কবিতা লিখেছেন,
"বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাই না আর; "

তিনি এরকমও লিখেছেন
"নগরীর মহৎ রাত্রিকে তার মনে হয়
লিবিয়ার জঙ্গলের মতো ।
তবুও জন্তুগুলো আনুপূর্ব - অতিবৈতনিক,
বস্তুত কাপড় পড়ে লজ্জাবশত। "


অথবা
"ছ মাসের ভাড়া পড়ে আছে না কি ?
ঘরে নাই তবু চাল কড়ি নুন?"


যখন সেই কবিতার লেখার কিছু পারিপার্শ্বিক ঘটনা ধরা যায়, তখন মনে হয় আরে এভাবে তো ভেবে দেখি নি।

"ওরা খুব বেশি ভালো ছিল না; তবুও
আজকের মন্বন্তর দাঙ্গা দুঃখ নিরক্ষরতায়
অন্ধ শতছিন্ন গ্রাম্য প্রাণীদের চেয়ে
পৃথক আর-এক স্পষ্ট জগতের অধিবাসী ছিল। "



পরিচিত শব্দ গুচ্ছের সাথে যখন অচেনা পৌরাণিক গল্প, চরিত্র চলে আসে, ধরতে পারলে মনে হয়, হায় এই লেখা এতদিন কথায় ছিল।

"... রূপসী বাংলা যেন বুকের উপর
জেগে থাকে; তারি নিচে শুয়ে থাকি যেন আমি অর্ধনারীশ্বর"


যারা হিন্দু পুরাণের একইসাথের পুরুষ এবং নারী রুপী শিবের এর কথা জানেন, তারা বুঝবেন কি রকম মোক্ষম উদাহরণ এটি।

ক্লিনটন সিলি একজন বিদেশি হিসাবে তার পাঠকদের কে কোন জটিল তত্ত্ব দেখাতে চান নি, তিনি চেয়েছেন পাঠকের সাথে জীবনানন্দ দাশ কে পরিচয় করিয়ে দিতে। আমরা যারা জীবনের কোন না কোন সময় জীবনানন্দ পড়েছি, তারাও তখন বুঝতে পারি, আরে এই কবি এবং কবিতা তো আমাদের সামনেই ছিলেন। বনলতা সেনের মত তখন বলতে হয় "এতদিন কথায় ছিলেন ?"
Profile Image for Meema.
139 reviews9 followers
February 24, 2017
oh a terrible translation and still gets a five star from me. where is the original book I say
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.