সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের বই আজগুবী রাত। “বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে ভেসে এল একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউ বলতে পারল না; কিন্তু হাতটিতে কোনো পচন ধরে নি, কোন মাছের খাদ্যও হয় নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারল না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় ঘনদুর্যোগের দিন, ঘূর্ণিঝড় সারিকা আঘাত করবে পূর্ণ শক্তি নিয়ে; শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাইরে থেকে। সেই শহরে আটকে পড়েছেন সরকারের দুর্যোগ সচিব, একটি ফিল্মের শুটিং করতে আসা নায়ক-নায়িকা-ভিলেন, এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান। সবাই থানায় এসে হাজির হন, প্রত্যেকের নিজস্ব কারণে, কিন্তু কাটা হাতটি প্রত্যেকের মনের গোপন জায়গাগুলোতে স্পর্শ করে যায়। সেই স্পর্শে বেরিয়ে পড়ে লুকিয়ে থাকা নানা হাড়গোড়, অপ্রাপ্তির নানা স্মৃতি এবং মানুষগুলো যেন আমুল বদলে যায়। অলৌকিক হাতটি যেন লিখে যায় আজগুবি কিছু আখ্যান, যেগুলোর উৎপত্তি অবচেতনের ছায়ার অঞ্চলে। পাথরঘাটার দুরে একটি গ্রামে কাটা হাতের মূল আখ্যান; সেখানে, সুত্রধর লেখকের মতো, একটি ছেলেও দেখে যায় খণ্ডে খণ্ডে সাজানো তার ইতিহাস।
Syed Manzoorul Islam (18 January 1951 – 10 October 2025) was a Bangladeshi critic, writer, and a professor at the University of Dhaka. As a literary critic, he wrote criticism on writers including Michael Madhusudan Dutt, Kazi Nazrul Islam, Sudhindranath Dutta, Samar Sen, and Shamsur Rahman. He became the president of PEN Bangladesh in January 2018.
Islam won Ekushey Padak in 2018 in the language and literature category. Earlier, he received a Bangla Academy Literary Award in 1996, and his 2005 short stories collection Prem o Prarthanar Galpo was Prothom Alo's book of the year.
Islam was born in Sylhet to Syed Amirul Islam and Rabeya Khatun. He passed the entrance examination from Sylhet Government Pilot High School in 1966 and Intermediate examination from Sylhet MC College in 1968. He received his graduate and post-graduate degree from the University of Dhaka respectively in 1971 and 1972. Later he went to Canada and earned a PhD from Queen's University at Kingston in 1981 for his thesis on the influence of Emanuel Swedenborg’s philosophy in the poetry of W. B. Yeats. In 1989, he went to the University of Southern Mississippi at Hattiesburg as a Fulbright Scholar and taught there one semester. He retired from the faculty position at the University of Dhaka and joined University of Liberal Arts Bangladesh.
Islam died from complications of a heart attack on 10 October 2025, at the age of 74.
বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটায় ভেসে এলো একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউই বলতে পারলো না; কিন্তু হাতটিতে কোন পচন ধরেনি, কোন মাছের খাদ্যও হয়নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহেদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারলো না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় ঘনদুর্যোগের দিন, ঘূর্ণিঝড় সারিকা আঘাত করবে পূর্ণশক্তি নিয়ে: শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাইরে থেকে। সেই শহরে আটকে পড়েছেন সরকারের দুর্যোগ সচিব, একটি ফিল্মের শুটিং করতে আসা নায়ক-নায়িকা-ভিলেন, এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান। সবাই থানায় এসে হাজির হন, প্রত্যেকের নিজস্ব কারণে, কিন্তু কাটা হাতটি প্রত্যেকের মনের গোপন জায়গাগুলোতে স্পর্শ করে যায়। সেই স্পর্শে বেড়িয়ে পড়ে লুকিয়ে থাকা নানা হাড়গোড়, অপ্রাপ্তির নানা স্মৃতি এবং মানুষগুলো যেন আমূল বদলে যায়। অলৌকিক হাতটি যেন লিখে যায় কিছু আজগুবি আখ্যান, যেগুলির উৎপত্তি অবচেতনের ছায়ার অঞ্চলে। পাথরঘাটার দূরে একটি গ্রামে কাটা হাতের মূল আখ্যান; সেখানে, সূত্রধর লেখকের মতো, একটি ছেলেও দেখে যায় খণ্ডে খণ্ডে সাজানো তার ইতিহাস।
সেই করুণ ইতিহাস যাত্রার আজগুবি রাতে আপনাকে স্বাগতম।
দশম শ্রেণিতে থাকতে পড়েছিলাম। মোটামোটি বড় কালেবরের উপন্যাস। একই সাথে দুটি ঘটনা টেনে নিয়েছেন এই উপন্যাসে। একটা প্লটে এক ঘটনা আরেক প্লটে অন্য ঘটনা। যখনই একটা প্লট শেষ হয়ে অন্য প্লট শুরু হয় তখন মন বলতো ইশ এই ঘটনাটাই চললে ভাল হতো, মাঝে আবার অন্য ঘটনা পড়তে যাবো কেন? আবার অন্য প্লট শেষ হয়ে যাবার সময় একই মনে হতো, এটাই চলছে, চলুক না। মানে সহজেই বোঝা যাচ্ছে লেখক কীভাবে আকৃষ্ট করে রেখেছেন তার উপন্যাসে। শেষের দিকে দুই প্লট একত্র হয়, তখন বুঝেছিলাম এই লেখকের দারুণ শক্তি আছে। যখনই দুই ঘটনা একত্র হয় তখন দেখতে আপাত বৈসাদৃশ্য সব কিছু খাপে খাপে মিলে যায়। শেষের দিকে বলা যায় সবটাই একজন একদা সুখী কিন্তু দুর্ভাগা নারীর কাহিনী। গ্রামের পটভূমিগুলোও ভালই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন। দারুণ হয়েছিল উপন্যাসটা।
আজই পড়লাম উপন্যাসখানি। লেখক সদ্য প্রয়াত হয়েছেন তাই অনলাইনে পিডিএফ খুঁজে ব্যর্থ হয়ে অনলাইনে আজগুবি রাত অর্ডার করে কিনলাম। টাকা বিফলে যায়নি আমার। বলা যায় লেখক একটা নিপুণ গ্রামের ছবি তুলে বসিয়ে দিয়েছেন পাতায় পাতায়। আমার বাড়ি পিরোজপুর, ওখানেও এই বলেশ্বর আছে আর আমি নিজেকেই রইসু ধরে নিয়েছি! তাই পাঁচে পাঁচ দিলাম!