Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা
আজ জরীর বিয়ে হচ্ছে এবং আশ্চর্য, সেই ছেলেটির সঙ্গেই। মাঝখানে একটি ভালোবাসার সবুজ পর্দা দুলছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কী? জীবন বহতা নদী। একটি মুত্যু যুবকের জন্যে তার গতি কখনও থেমে যায় না। থেকে যাওয়া উচিত নয়।

56 pages, Hardcover

18 people are currently reading
290 people want to read

About the author

Humayun Ahmed

456 books2,944 followers
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.

Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.

Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.

Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.

Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.

Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
178 (20%)
4 stars
321 (37%)
3 stars
266 (31%)
2 stars
70 (8%)
1 star
14 (1%)
Displaying 1 - 30 of 99 reviews
Profile Image for Rifat.
502 reviews330 followers
August 22, 2020
একটি বিয়ে বাড়ির গল্প। সময়সীমা খুব বেশি নয়- মেয়ের গায়ে হলুদের সময় থেকে বিদায়ের সময় পর্যন্ত। কত চেনা-পরিচিত মানুষের আগমন ঘটে, বিয়ের দিনটিতে মেয়েটিকে নিয়ে পূর্ব স্মৃতিগুলো ঝালাই করে নেয় তার পরিবারের সদস্যরা, ভাবনা-শঙ্কা ভর করে তাদের মধ্যে না জানি কেমন হবে তার বিবাহ পরবর্তী জীবন। পুরনো বান্ধবীদের সাহচর্যে মেয়েটির এ অদ্ভুত সময়টুকু হাসি আর বিষাদে ভরে ওঠে। কিছু মানুষের এই বাড়িটিকে ঘিরে থাকা স্মৃতির ভীড় জমে ওঠে।আর ঠিক এমন অবস্থার মধ্যেই মৃত্যুকে আলিঙ্গনরত ভালোবাসার মানুষটির সামনে বিয়ে হয়ে যায় মেয়েটির।

বইটি বিষাদে ভরা আর একই সাথে অসম্ভব রকমের সুন্দর; কেন জানেন? বাস্তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের গন্ডিতে মানুষগুলোর আর মেয়েটির যেমন পরিস্থিতিতে থাকার কথা ঠিক তেমনটাই হয়েছে।

**কয়েকপাতা পড়ার পর বুঝলাম এ বইতো আগেও পড়েছি! নামটা মনে ছিল না। তখনও মন খারাপ হয়েছিল আর এখনও :(
January 9, 2023
নির্বাসন,খুব ছোট্ট একটি উপন্যাস কিন্তু উপন্যাসটি
শেষ হলে কোন এক বিষাদ আচ্ছন্ন করে ফেলে মনকে।
ভালোই ছিল,যৌথ পরিবারের এক মেয়ে জরী তার বিয়েকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে চলছে সাথে সাথে চলছে পরিবারের সবার জীবনের টুকটাক বর্ণনা।
বিয়েতে কত কী হয়,খুব হইচই, গান-বাজনা আর তার আড়ালে ঢাকা পরে আনিসের মত অভাগাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
সত্যি অনেক খারাপ লাগে,আনিসের জন্য।বইটি পড়ে মন বিষাদগ্রস্ত হয়।আহামরি কোন প্রেমের উপন্যাস নয় কিংবা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসও না,নির্বাসন তবুও হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।বুকে মোচড় তুলে বারে বারে নিচের কথাগুলো ---
"যে-জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের–মানুষের সাথে তার কোনো কালেই দেখা হয় না।"
Profile Image for Dystopian.
444 reviews242 followers
August 18, 2024
এত চেষ্টা করছিলাম ফোকাস ধরে রাখার, কিন্তু বার বার জোনড আউট হয়ে যাচ্ছিলাম। এমন না, মাথায় রাজ্যের চিন্তা চলছিল, জানি না তবুও! তবে যায় হোক, বিলো এভারেজ অভারওল।
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews221 followers
February 13, 2023
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর স্বাধীনতা প্রশান্তি আনে। কিন্তু যুদ্ধের বিভীষিকা বদলিয়ে দিয়েছিল অনেকের জীবন। এমনই একজন আনিস। বিয়ে বাড়ির আয়োজনে চারিদিকে হট্টগোল। কিন্তু নির্জনে এক যুবক যে অসহায় অবস্থায় পড়ে আছে তা যেন কারো মনে নেই!
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটের উপর লেখা। যুদ্ধের পরে হলেও যুদ্ধ নিয়ে আসলে তেমন কিছুই নেই। হালকা রোমান্টিক ধাঁচের বলা চলে। বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। তবে একটা জিনিস, বইয়ের বিভিন্ন চরিত্রের বর্ণনায় শ্যামলা মেয়েদের রূপবতী হিসেবে ধরা হয়নি। সৌন্দর্য কি তাহলে সাদা চামড়ায়? আবার এটাও বলা হয়েছে রূপবতী মেয়েদের বড়ো ত্রুটি থাকে! কোনো মানুষই কি পারফেক্ট হয়? ঘুরেফিরে বারবার এমন বর্ণনা বিরক্তিকর লেগেছে।
Profile Image for Mazharul Islam Fahim.
98 reviews7 followers
March 12, 2021
অসাধারণ একটি বই। মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাসিকা, অথচ কি বিচিত্র তার লেখনী! হয়তো হুমায়ূন আহমেদ বলেই কাজটি সম্ভব হয়েছে। গল্পটা এক বিয়েবাড়ির- মন ভালো করে দেয়ার মতো চমৎকার এই কাহিনী। বইটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Ësrât .
516 reviews86 followers
April 24, 2021
যদি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস হিসেবে রেটিং করতে হয় তাহলে তিন তারা বহু কষ্টে সৃষ্টে দিতে হয়,কারন পুরো বইয়ে যুদ্ধের য ও খুব কম জায়গায় পেয়েছি.

কিন্তু যদি এটাকে টিপিক্যাল হুমায়ূন প্রেমাপন‍্যাস ধরি তাহলে সাড়ে তিন তারা অনায়াসে দেওয়াই যায়।
Profile Image for Abid.
137 reviews23 followers
August 4, 2025
বিয়েবাড়ি আমার খুব অপছন্দের জায়গা৷ এই বইয়ের মূল দৃশ্যপট একটা বিয়েবাড়ি। সেই বিয়েবাড়িতে আবার আনন্দের পাশাপাশি চলছে এক 'নীরব বিচ্ছেদ' এর যাতনার গল্প। তাই ওভার অল বইটা এক বিষাদময় অনুভূতি দিয়ে গেছে। আমার ভালো লাগেনি খুব একটা। 'কঠিন বাস্তবতা আমাদের এক হতে দিলো না গো' টাইপ বিয়োগান্তক গল্প আমার ভালো লাগেনা। তাও ৩ স্টার যা দিয়েছি তা সম্পূর্ণ হুমায়ূন স্যারের মেধাবী এবং সুশ্রী লেখনীর কারণে।
Profile Image for Nowrin Samrina Lily.
160 reviews15 followers
July 14, 2021
গল্পটি হুমায়ুন আহমেদ, তাঁর স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ কে উৎসর্গ করেছিলেন বিয়ের আগে।।গুলতেকিন তার বদলে খুশি না হয়ে ভয়ে আধমরা হয়ে গেছেন।।কারণ জানতে চাইলে বলেন, এই উৎসর্গপত্র বাবা দেখলে খুব রাগ করবেন।।

যাই হোক,আমার পড়া অন্যতম সুন্দর একটি বই💜💜
Profile Image for Camelia kongkon.
29 reviews11 followers
May 9, 2022
যে ধরণে উনি প্রেমের উপন্যাস লিখেন ওইরকমই। অন্যকোনো স্বাদ নেই, বিশেষ কোনো ভালোলাগাও নেই। মাঝরাতে মন খারাপ করতে ইচ্ছে হয়েছিলো হুট করে, এটা পড়ে বেশ মন খারাপ হয়েও গেলো!!

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকলে উনাকে একটা প্রশ্ন অব্যশই করতাম, উনি কেনো মনে করেন ফর্সা মেয়েরা সুন্দরী হয় আর শ্যামলা মেয়েরা অসুন্দরী!? আর উনার মাথায় এই জিনিসটা কে ঢুকিয়েছেন যে সুন্দরী মেয়েরা বুদ্ধিমতী হয়না। মোটা মাথার সুন্দরীদের বিয়ে সবসময় গোবেচারা ধরনের বোচকা ছেলেদের সাথে দিয়ে দেন।প্রায় সব লেখাতে এই জিনিসটা কমন থাকেই!!!
92 reviews6 followers
July 18, 2025
এত বিষাদময়তা নিয়ে মানুষ কীভাবে বই লেখে? এত বিষাদ ই যদি পাবো তাহলে বই পড়া কেন?

ঠিক কতদিন পরে বই পড়ে কান্না করলাম জানি না। হয়তো একবছর পর। লাস্ট ২০২৪ সালে হুমায়ূন আহমেদের কৃষ্ণপক্ষ বইটা পড়ে কেঁদেছিলাম। আজ আবার। প্রকৃতি মাঝে মাঝে খুব নিষ্ঠুর আচরণ করে। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, ❝ বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালোবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে। ❞
এমন অভিশপ্ত ভালোবাসায় কেউ না পড়ুক!!!
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
350 reviews45 followers
May 10, 2025
"Masochism", এটি হচ্ছে এমন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা যেখানে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দুঃখ, কষ্ট বা যন্ত্রণা ভোগ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে হোক সেটা শারীরিক কিংবা মানসিক। আমার মতে হুমায়ূন আহমেদের পাঠকরা এই মানসিক রোগে আক্রন্ত।

হুমায়ূন আহমেদ! এই লোকটি ছিলেন চরম নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সে হয়ত নিজের জীবনের সব বিষাদগুলাকে তার গল্প উপন্যাসের চরিত্রগুলার মাঝে উজাড় করে দিতে খুব মজা পেতেন। যার সাফারিং ভোগ করতে হতো তার পাঠকদের৷

আর হুমায়ূন লেখনী হচ্ছে এমন এক নেশার বস্তু, যে একবার খোলা মনে স্বাদ নিবে, তার ষোলকলা পূর্ণ না হওয়া অব্দি আর ছাড়ার উপায় থাকবে না। তবে আফসোসের বিষয় হচ্ছে, ওনার লেখা কোয়ালিটিফুল বই গুলা সেই রকম অ্যাপ্রেসিয়েসন পায় না, শুধুমাত্র তার লয়াল রিডারদের মাঝেই এর জনপ্রিয়তা থেকে যায়।

দ্বিতীয়বারের মতন পড়ে শেষ করলাম হুমায়ূন আহমেদের অন অব দ্যা বেস্ট বাট ভেরি আন্ডারেটেড বই, " নির্বাসন"।

মাএ ৪৮ পৃষ্ঠার এই বইটার সম্পূর্ণটা চাপা এক বিষন্নতায় ভরা। খুব সাধারণ প্লট, কোন জটিলতা নাই। নাই একাধিক চরিত্রের উপস্থিতি, নাই কোন নেকামিতে ভরা রঙ্গঢঙ্গ।

উপন্যাসের শুরুতে আমরা দেখতে পাই... এক যৌথ পরিবারকে। যেখানে আজ জরী নামের একটি মেয়ের বিয়ে। সকালটা শুরু হয় জরীর বড় চাচার সানাইয়ের শব্দ রেডিওগ্রামে চালানোর মাধ্যমে। কি স্বাভাবিক একটা শুরু, কিন্তু... বিয়ে বাড়ির এত গানবাজনা, হইচই, হাসাহাসি, রঙ খেলা সবকিছুর মাঝে ছোট্ট একটা রুমে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে আনিস। সে ছিল একজন লেফটেন্যান্ট। আর গল্পের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হচ্ছে, জরীর সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ১৯৭১ এর যুদ্ধে, সে আহত হয়। গুলি লাগে মেরুদন্ডে, নিথর হয়ে পড়ে শরীর, চলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এখন এমন একটা মানুষের সাথে কী কোন মেয়ে বিয়ে করতে পারে? উওর হচ্ছে, "না"।

তার চোখের সামনে থেকেই বিয়ে হয় জরীর। অসহায় আনিসের চেয়ে দেখা ছাড়া করারও বা কী ছিল। অসহায়ত্ব তার জীবনজুড়ে। ছোটবেলায় বাবা মারা যায়, মা তাকে রেখে চলে যায় অন্য এক পুরুষের সাথে। সে পড়ে থাকে তার চাচাদের কাছে। চাচাতো ভাই বোনেরা বড় হয় ধীরে ধীরে। বোকাসোকা আনিস একসময় অজান্তেই ভালোবেসে ফেলে তার চাচতো বোন জরীকে। জরীও আনিসকে ভালোবাসত। তারা জানায় তাদের পরিবারকে, সবই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু একটা এক্সিডেন্ট পাল্টে দেয় সম্পূর্ণ গল্পের উপসংহারকে।

নিয়তি...

বইটার ৪৬ নাম্বার পৃষ্ঠাটা পড়তে গিয়ে এত খারাপ লাগছিল, বাস্তবতা জিনিসটা এত নিষ্ঠুর হতে পারে, মেনে নিতেও কষ্ট হয় আবার আবেগে জীবন চলে না এটাও মনে রাখতে হয়।
Profile Image for সায়কা শাহরিন.
152 reviews67 followers
July 3, 2018
ছোট্ট একটা গল্প। প্রেমের গল্পের থেকে গল্পটা অপ্রেমের বেশী! সময়কাল মাত্র একদিন, জরীর বিয়ের ভোর থেকে জরীর বিদায়কাল। এই ছোট্ট একটা সময়েই একটা একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের সুখ দুঃখের একটা আশ্চর্য বিষাদময় রূপ দিয়েছেন লেখক। বড় চাচা থেকে আনিস, আনিস থেকে জরী, জরীর বন্ধুরা, তার মা, আনিসের মা এমনকি ছোট্ট টিংকুরোও একটা অবয়ব তৈরী হয়েছে বইটায়। চরিত্রগুলোর হাসি আনন্দের সাথে এমন অদ্ভুতভাবে মিশে যায় পাঠক যে বইয়ের শেষ লাইনে এসে নিজের অজান্তেই একটা বুকচেরা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়। হুমায়ুন আহমেদ আসলেই মানুষের হৃদয় বুঝতেন। কতো তুচ্ছ শব্দকে একসাথে করে এমন সব বাক্যে পাঠককে বেঁধে ফেলতে আর কয়জন লেখক পারতেন?
Profile Image for Shadin Pranto.
1,487 reviews568 followers
August 21, 2017
গড়পড়তা মানেরও নীচের উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র তে সংকলিত করা হয়েছে। সারা বইতে সব আছে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধই নাই!
Profile Image for Jannatul Firdous.
89 reviews178 followers
July 25, 2023
হুমায়ূন আহমেদের প্রথমদিককার ব‌ইগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়,পরিবেশ সৃষ্টি। আহামরি কাহিনী আপনি বলতে পারবেন না,আপনি বলতে পারবেন না কেন উপন্যাসটা সেরা লেগেছে আপনার কাছে। শুধু আপনি অনুভব করতে পারবেন সেটা সেরা কারণ আপনি লেখকের সাথে ঐ সময়ে গিয়েছেন,নিজে চোখে দেখে এসেছেন সব।

আবহ,পরিবেশ শিল্প সাহিত্যের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। হুমায়ূন আহমেদ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন তার প্রথম দিককার উপন্যাসগুলোতে। যেমন শঙ্খনীল কারাগারের শুরুটা,রিকশা থেকে নেমে বড় ভাই দেখলো ছোটভাই বসে আছে লাইটপোস্টের কাছে। কারণ মা মেরেছে। বৃষ্টি,লাইটপোস্টের আলো,ক্রন্দনরত একটা বাচ্চা যার স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেছে সারাজীবন আপনার মনে গেঁথে র‌ইবে।

নির্বাসন‌ও ওমন। নির্বাসনকে উপন্যাস না বলে একটু বড় সাইজের একটা ছোটগল্প বলা যেতে পারে। মাত্র ৪৭ পৃষ্ঠার এই উপন্যাস মাত্র একটা সকাল থেকে একটা রাতের। সেদিন এই বাড়িতে একটা বিয়ে হচ্ছে। তরুণীরা কলকল করছে,বৃদ্ধরা রাগারাগী করছে,মহিলারা রান্নায় ব্যস্ত,বাচ্চারা ছোটাছুটি করছে। এরমধ্যে একমাত্র আপনি আর লেখক দেখতে পাচ্ছেন একটা গল্প। এসবের আড়ালে একটা ছেলে একা একা পড়ে আছে। কোমরের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় লড়াইয়ে যার পঙ্গু হয়ে গেছে। রোজ সাতটা নাগাদ তাকে উঠিয়ে কাপড় পাল্টানো হয়,বিছানা বদলানো হয়। আজ সবাই ভুলে গেছে। কেউ আর বিয়েবাড়ির আনন্দ ফেলে তার কাছে আসছে না। ক্রমাগত তার কোমরের ব্যাথাটা বাড়ছে। আপনি ছটফট করবেন কিন্তু আপনি কাছে যেতে পারবেন না। লেখক আপনার হাত ধরে রাখবেন।

লেখক আপনাকে টেনে নিয়ে যাবেন ট্রেনে। একজন প্রচন্ড সুন্দরী কিন্তু অসুখী নারীর কাছে। তার স্বামী মোহহীন। স্ত্রী আরেকটু বন্ধুরুপে চায় স্বামীকে,পায় না। সে বোঝাতেও পারে না যে সে সব পেয়েও কেন অসুখী কারণ সে বোকা। এই তরুণীর কাছে আজকের ঐ পঙ্গু ছেলেটা একটা আবেদন রেখে একদিন চিঠি লিখেছিলো। তার ছোট বোনকে বিয়ে করবার আবেদন। তবে সেসব কথা আজকের দিনে এরা উচ্চারণ‌ও করবে না, করতে নেই।

সেখান থেকে নিয়ে যাবেন একজন মায়ের কাছে,যিনি স্বামী মারা যাবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এটা যেই সময়ের গল্প সেই সময় এটা মহা অন্যায় বলে বিবেচিত। তাই তাকে তার আগেরপক্ষের সন্তান থেকে জোর করে আলাদা করে দেয়া হয়েছে। তিনি এই বাড়িতে এসেছেন ছেলেকে দেখতে,এসে দেখেন বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু তিনি নিমন্ত্রিত নন। সেই লজ্জায় ছোট্ট এতটুকুন হয়ে যাওয়া মায়ের সাথে আপনি ঘুরবেন বাড়ির আশেপাশে,তিনি শোনাবেন তার স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস এই বাড়ির প্রতিটা আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে।

নির্বাসন,ছোট্ট পরিসরে এই উপন্যাসে যুদ্ধ,প্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এখানে বিচ্ছেদের কারণ পরিবার হতে হতে হয়নি,যুদ্ধ সেই বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। এখানে বিয়ের দিনের ভোরের সানাই,বিয়ের কনের কান্না,পঙ্গু ছেলেটির পানির তৃষ্ণা কোমরের ব্যাথা সব আপনার কাছে অপার্থিব মনে হবে। মনে হবে একটা অবসাদ আপনাকে ঘিরে ধরছে। আদতে এটা আমাদের সমাজের খুব সাধারণ একটা চিত্র। কত মানুষ তো এমন পঙ্গু হয়ে পড়ে থাকে। তাদের ভেতরটা আমরা দেখতে পারি না,যাইও না। কিন্তু এই সাধারণ দৃশ্য লেখক অপার্থিব করে আপনার সামনে তুলে ধরে আপনাকে বিষন্ন করে দেবেন সানাইয়ের সুরের মতো,এটাতেই লেখকের সাফল্য।

নির্বাসন উপন্যাসকে আমি পাঁচে পাঁচ দিবো রেটিং। এই উপন্যাস তাড়াহুড়ো করে পড়বেন না। মন খারাপে পড়বেন,আস্তে ধীরে পড়বেন। পুরোপুরি ডুবে যাবেন। আবার একটু সময় পরেই বেরিয়ে আসবেন কিন্তু রেশ রয়ে যাবে আজীবন।

আমার মতে হুমায়ূন আহমেদের সেরা কাজগুলোর একটি এই নির্বাসন।
Profile Image for Sagor Reza.
157 reviews
December 5, 2023
দৃষ্টিভঙ্গি খুব অদ্ভুত জিনিস। বিয়ে মানুষের জীবনের আনন্দময় স্মৃতি, সেখানেও কিন্তু একটা বিষাদের ছোঁয়া আছে। একটি বিয়ে বাড়ির চব্বিশ ঘন্টা ব্যাপ্তির গল্প নির্বাসন। হুমায়ূন আহমেদের শুরুর দিকের গল্পগুলো পড়ার পর আপনি বলতে পারবেন না আপনি আসলে কি পড়েছেন গল্পগুলোতে, কোন ঘটনার জন্য বইটা আপনার ভালো বা খারাপ লেগেছে। তবে পড়া শেষে অনুভব করবেন গল্পটি আপনার মনে দাগ কেটে গিয়েছে। এই বইটা পড়ে সেরকমই আমি বলতে পারছি না যে সেরা একটা গল্প পড়েছি, আবার উপেক্ষাও করছি না। কারন গল্পের অনুভূতির তীব্রতা প্রচন্ড বেশি।
বাড়ির ছোট মেয়েটির আজ বিয়ে। এত আনন্দ। এত উচ্ছ্বাসের মধ্যেও মেয়েটির বড়চাচা চান করুন সানায়ের সুরে সবার মন একটু বিষাদগ্রস্থ হোক, সবাই যেনো ভুলে না যায় বাড়ির ছোট মেয়েটি আজ চলে যাবে। নির্বাসন শব্দটা শুনলে আমার কাছে মনে হয় কোন মহাপ্রতাপশালী রাজা তার রানীকে অন্য রানীদের ষড়যন্ত্রে দেশছাড়া করেছেন। সেই অর্থে বিয়ে কি আসলেই নির্বাসন? আমার সেরকমই মনে হয়। বিয়েবাড়ির পুরো গল্পে একটা বিষাদের ছোঁয়া সবসময়ই ছিল।
মানুষের অনুভূতি প্রচন্ড জটিল। আনিসের মা যখন তার বাবা মারা যাওয়ার পর বিয়ে করেন, তিনি কি অসুখী ছিলেন? নাহ। কিন্তু আনিসের বাবার স্মৃতিও সে ভুলে যেতে পারেননি। গোলাপ ফুল থেকে আতর বানানোর পর আর কেউ সেই আতর না মাখলেও তিনি যে মেখেছিলেন সেকথা মনে হলে এখনো তার চোখ সিক্ত হয়। এখনো তার তীব্র আকাঙ্খা কে তাকে একবার আতর বউ বলে ডাকুক।
আরেকজন মানুষ আছে সেই বাড়িতে। আনিস, বিয়েবাড়ির প্রচন্ড ব্যাস্ততার মধ্যে সে-ই একমাত্র কর্মহীন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলি লাগে তার। দেশ স্বাধীন হলেও একটা ছোট্ট ঘরে বন্দী হয়ে যায় সে পঙ্গুত্বের কারনে। তাকে আরেকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়, সে জরীকে ভালোবাসে, আজকে যার বিয়ে। তবে তার আর কিছুই করার নেই, হয়তো করতেও চায় না। তার জীবনেরই তো কোন নিশ্চায়তা নেই। তবে তাও সে চায় বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে একবার যেন জরি তাকে দেখতে আসে।
অবশেষে জরী, যার আজকে বিয়ে। গল্পের শেষে কোন মিরাকেল নেই, কোন টুইস্ট নেই। জরীর বিয়ে ভালোভাবেই হয়। না, জরীকে আমি অপরাধী মনে করি না। বরং উলটো ঘটনা ঘটলে বইটা আমি পড়তাম কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত না। তবে বিয়ের দিন সকালে তার অশ্রুগুলোও মোটেই মূল্যহীন না। জীবন বড্ড অনিশ্চিত, মানুষের চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্যও তাই বিস্তর।" যে-জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের-- মানুষের সাথে তার কোনো কালেই দেখা হয় না!"
Profile Image for Farhana Lüba.
226 reviews17 followers
August 18, 2024
মোটামুটি। শেষ লাইনটা মনে দাগ কেটে যায়।
Profile Image for Sourav Das.
42 reviews77 followers
October 14, 2015
যে জীবন ফড়িঙ্গের,দোয়েলের মানুষের সাথে তার কোনকালেই দেখা হয় না ...
Profile Image for Towhidul Hasan.
20 reviews7 followers
April 29, 2024
এই বইটা পড়ে মেলা মন খারাপ হল। বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই এর মত বিষন্নতার একটা চোরা স্রোত বহমান। যে জীবন দোয়েলের ফড়িংয়ের- মানুষের সাথে তার কোনকালেই দেখা হয় না।
Profile Image for Zihad Saem.
125 reviews6 followers
November 13, 2024
নির্বাসন পড়ার পর কী নিদারুণ এক শূণ্যতায় পেয়ে বসেছিলো, আজও সেকথা মনে পড়ে।জানি না এখন পড়লে বইটা কেমন লাগবে।
Profile Image for Tawheeda Rufah Nilima.
294 reviews59 followers
May 2, 2020
ছোট্ট একটা বই।কিন্তু এতো মায়া।
যখন পড়া শুরু করেছিলাম ভেবেছিলাম পড়ে ভালো লাগবে না।জরীর বিয়ের কাহিনী।ভেবেছিলাম হয়তো বিয়ে ভেঙে যাবে এরকম কিছু দেখাবে।
কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি।
বিয়েবাড়িতেই গল্প শুরু,বিয়েবাড়িতেই শেষ।
জরীর বিয়ের শুরু থেকে বিদায়বেলা পর্যন্ত।কিন্তু এইটুকুনের মধ্যেই কি ভীষণ মায়া আর ভালোবাসা দেখানো হয়েছে।
এই বইয়ের লেখনী একটু অন্যরকম।কোনো নাটকীয়তা নেই।উদ্ভট কোনো চরিত্র নেই।একদম নিখাদ বাস্তবতা আর আবেগের টানাপোড়েনের গল্প।
কেমন যেন হাহাকার লাগে পড়ে।খুবই সাধারন গল্প।তাও পড়ে কিরকম যেনো একটা লাগে।
গল্পটিতে মুক্তিযুদ্ধের একটা রেশ আছে।মুক্তিযুদ্ধকে সেভাবে বর্ণনা না করলেও এখানে এটা দেখানো হয় কিভাবে একটা যুদ্ধ একজন মানুষের জীবন সারাজীবনের জন্য বদলে দিতে পারে।৯ মাসের যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়,কিন্তু যুদ্ধ থেকে গভীরভাবে আহত হয়ে ফিরে আসা সৈনিক এর জীবনযুদ্ধ আসলে কখনোই শেষ হয়না।৯ মাসের যুদ্ধ ঠিকই শেষ হয়ে গেলো,কিন্তু আনিসের জীবনযুদ্ধ শেষ হলোনা।
বিয়ে শেষে বরের সাথে জরীর ছবি তোলার সময় তার টলমলে চোখ,কিন্তু মুখে হাসি-এই বিষয়টা এক নিমিষেই অনেক কিছু বলে দেয়।
ছোট একটা বই।খুব ছোট একট বই।একদম অল্প পাতার একটা বই।কিন্তু বইটা অজানা মায়া দিয়ে মোড়ানো।এটা কি পাওয়ার গল্প?নাকি না পাওয়ার গল্প?নাকি পাওয়ার মাঝেও একটুকু না পাওয়ার গল্প?সেই একটুকু না পাওয়া যার জন্য একজন মানুষ টলমলে চোখ কিন্তু হাসিমাখা মুখ নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়?
বইয়ের শেষ লাইনটা তুলে দেই-
"যে জীবনে দোয়েলের ফড়িংয়ের,মানুষের সাথে তার কোনোকালেই দেখা হয় না।"
Profile Image for সারস্বত .
238 reviews136 followers
May 10, 2018
এই বইটি পড়ে কোন পাঠক যদি বলে এটা হুমায়ূন আহমেদের টিপিক্যাল বাজারী বই তবে আমি দ্বিমত পোষণ করবো না। আবার কেউ যদি বইটি অসাধারণ সেক্ষেত্রেও তার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করবো না।

আসলেই বইটি এমনই। যেখানে সস্তা বলার উপাদান আছে আবার আছে মনের ভেতর পর্যন্ত ছুঁয়ে যাবার গভীরতা। দুইটি দিক নিয়েই বলতে গেলে অনেক কথা চলে আসবে। তাই শুধু নিজের ভাল লাগাটুকু শেয়ার করলাম।

বইটি পড়তে গিয়ে এই প্রথম খুব করে চেয়েছিলাম যেন গল্পের কেন্দ্র চরিত্র (কেন্দ্র চরিত্র, প্রধান চরিত্র নয়) আনিস মারা যায়। কারণ লেখক অপ্রাপ্তির যে ইটের পরে এই ছোট্ট উপন্যাসিকাটির নির্মাণ করেছেন সেখানে জীবন থেকে মৃত্যু অনেক বেশি সুন্দর।

আনিস একজন মুক্তিযুদ্ধ ফেরত আহত সৈনিক��� আর এই সৈনিকের
শুধু একটি দিন নিয়েই পুরো গল্পটি। খুবই ছোট একটি লেখা তাই আর কিছু লিখছি না।

তবে পুরো লেখাটা মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখলেও শেষ লাইনটা ঠিক বুকের কাছে এসে হৃদপিণ্ডকে টোকা দিয়ে যায়, "যে-জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের--মানুষের সাথে তার কোন কালেই দেখা হয়না।"
Profile Image for Pranta Dastider.
Author 18 books326 followers
May 21, 2015
খুবই ছোট পরিসরে রচিত বড়গল্প। গল্পের শুরু এবং শেষ অনুমেয়। এবং ভাষার ব্যবহার গতানুগতিক হুমায়নীয় ধারার। খারাপ বলা যায়না। কিন্তু খুব ভালো বলার মতো উপাদানও গল্পটিতে আছে বলে মনে হয়নি।

তবে আনিসের জন্য সত্যিই খারাপ লেগেছে। কিছু চরিত্র থাকে যারা নাটক সিনেমায় আসে, কিন্তু তাদের কোনও ভূমিকা থাকেনা মূল গল্পে। আনিসের সামান্য ভূমিকা আছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। জরী'কে কিঞ্চিৎ স্বার্থপর মনে হয়েছে। তবে সবাই ইমোশনাল ডিসিশন নেবে এমনটাও জরুরি না। যদি স্বার্থপর হলে লাভ হয়, তবে তাই-ই ভালো।

তবে গল্প ছোট হলেও চরিত্রের অভাব নেই। কনকের চরিত্রটি খুব অল্প পরিসরেও ভালো লেগেছে। আর তাছাড়া বোঝা গেছে, বিয়ে মানে বেকার উৎসব। ঘণ্টার ঘণ্টা নিজের সাথে নিজেরই প্রহসন।
Profile Image for Wahid Neel.
7 reviews4 followers
March 4, 2018
জরী! জরী! আনিস? আহা! বিয়ে বাড়িতে একটি গল্পের শুরু... বিয়ে বাড়ি দিয়েই গল্পের সমাপ্তি। মৃত্যুপথযাত্রী আনিস আর জরীর ভালোবাসা.. যা হইতো মেনে নিবেনা জরীর মা-বাবা। অসহায় পঙ্গু আনিস কোনোদিন সাহস ফুটিয়ে বলতেও পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে পঙ্গুত্ব লাভ করেছে আনিস।
তাদের ভালোবাসার কথা জানে জরীর বড় বোন, দুলাভাই আর তাদের বড়চাচা। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। জরীর বিয়ে ঠিক হয়, তার সাথে বিয়ে ভেংগেও যায়। আবার সেই একই ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে বিদায় হয়ে যায় জরী। হুমায়ূন স্যারের অনুভূতিপ্রবণ সাধারণ প্লটের উপর নির্ভর করে অসাধারণ একটি গল্প।
Profile Image for Bibi Rasheda Afrin Rumi.
16 reviews16 followers
October 24, 2018
খুবই ছোট একটা বই। এক বসাতেই শেষ করার মত। দেড় ঘন্টাতেই শেষ হয়ে যায়।
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র সংকলনে বইটা আছে। ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই। কিন্তু সারা বইতে সেরকম কিছুই নেই। একটা ছেলে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো, এখন সে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কাহিনী শুরু বিয়ে বাড়ির গল্প নিয়ে। জরি নামের এক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। তার বিয়ে সমাপ্তির মধ্যেই গল্প শেষ।
হুমায়ূন আহমেদ সহজ স্বাভাবিক ও চমৎকার ভঙ্গিতে গল্প বলেন, ঠিক। এখানেও সেরকম গল্প বলে গিয়েছেন। আহামরি কিছু না। বইটা না পড়লে এমনকিছু হবে না। আরো কত ভালো ভালো বই পড়া বাকি! অবশ্য পড়লেও কোন ক্ষতি নেই। :)
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews196 followers
August 22, 2019
ছোটো বই!কিন্তু এতো মায়া আর আবেগ!
শুরু বিয়ের আয়োজন দিয়ে হলেও মনে হচ্ছিলো কিছু একটা হবে-হয়তো জরীর বিয়ে ভেঙে যাবে অথবা পাত্রের কিছু হবে!
আনিসের আগমনে বুঝলাম তেমন কিছুই না!এ এক পাওয়ার মাঝে না পাওয়ার গল্প।🖤
Profile Image for Rafsan Riyadh.
28 reviews25 followers
February 22, 2018
বেসিকালি কোন কন্টেন্ট নাই। কিন্তু, কী দারুণ লেখা, আহারে! কী মর্মস্পর্শী! দুঃখ,কষ্ট, আনন্দ- কী হৃদয়ছোঁয়া!
Profile Image for Md. Faysal Alam Riyad.
317 reviews26 followers
December 28, 2018
আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে এটা নিছক কোন পরিবারের কাহিনী, কিন্তু অত্যন্ত সুক্ষভাবে এর ভিতর ডুকে গেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

“যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের, মানুষের সাথে তার কোনকালেই দেখা হয় না।”
Profile Image for Humaira Tabassum.
21 reviews5 followers
January 12, 2026
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে আসল গল্প যেটুকু, তার চেয়েও বেশি কি পাঠকেরা রোমান্টিসাইজ করে তার মাত্রা বাড়িয়ে নেয়? নাকি সত্যিই তার গল্পগুলো কোনো না কোনভাবে গুরুত্বপূর্ণ?  

এই ভাবনা থেকে ইদানীং আমি হুমায়ূন আহমেদকে পড়ার চেষ্টা করি৷ "নির্বাসন" কে ঠিক সেই চোখে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পরখ করা যায়। বরাবরের মতোই, কেবল রোমান্টিক একটা গল্পের বাইরে গিয়ে আমি উপন্যাসকে আজ খুঁটিনাটি ধরে একটু ভাঙার চেষ্টা করবো।

প্রথমেই আসি, গল্পের মূল ভিত্তিতে। খুবই সাধারণ গল্প, আমাদের চেনাজানা গতানুগতিক হুমায়ূনীয় চরিত্র।নতুন কিছুই নেই। একটা বিয়েবাড়ির এক দিনের গল্প। পুরো উপন্যাসে নানান চরিত্রের মাধ্যমে বাড়ির আবহ বোঝানো হলো, আর আমি অপেক্ষা করলাম, যার বিয়ে, অর্থাৎ জরীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাওয়া হৃদয়ের কোনো হদিশ পাওয়া যায় কিনা তার জন্য। হুমায়ূন আহমেদ কেন নায়িকার দিক থেকে কোনো পয়েন্ট অব ভিউ উল্লেখ করলেন না, এটা ছিলো আমার মূল ভাবনার বিষয়। আর সেটা ভাবতে ভাবতেই আমি, তলিয়ে দেখেছি, হুমায়ূনের উপন্যাস নিয়ে চলে আসা মতবাদ -"হুমায়ূন আহমেদের বই একবার ধরলে, তা শেষ না করে ওঠা যায় না কেন?" এই প্রশ্নের উত্তর।

হুমায়ূনের লেখা শেষ পর্যন্ত পড়ার কারণ একটা সাসপেন্স।উনি পাঠককে উপন্যাসের শুরুর দিকে একটা প্রশ্ন ধরিয়ে দেন, মন যেই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে থাকে, সেই প্রশ্নটা দিয়েই তিনি এই সাসপেন্সটা বিল্ডাপ করে ফেলেন। বেশিরভাগ সময় আমাদের চেনাজানা কোনো দুঃখকে তিনি এই জায়গায় মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন যেনো বেশিরভাগ পাঠক গল্পের মাঝে নিজেকে খুঁজে পান। এই হচ্ছে গল্পের মধ্যে পাঠককে টেনে নেয়ার মোক্ষম অস্ত্র।
এরপর আসে গল্পের মাঝে পাঠককে ধরে রাখার পালা, দেখবেন, গল্প বরাবর গতিশীল হয়, একটু পর পর ঘর বদল, চরিত্রের পালাক্রমে আগমন এবং তাদের সংলাপ সবকিছু চলমান থাকে। খুব কমই উনি মনের ভেতরের আলাপ অনেকক্ষণ ধরে চালান, যাকে আমরা বলি স্ট্রিম অব কনশাসনেস, সেটা গল্পের মাঝে একঘেয়েমি যেনো না আনে, তাই তিনি মাঝে বিরতি হিসেবে অন্য কোন চরিত্র কিংবা, খুব মাইনর ক্যারেক্টারের মাধ্যমে হুমায়ূনীয় কমিডি নিয়ে আসেন।গল্পে ধরে রাখার জন্য তার মূল অস্ত্র হলো "শব্দচয়ন"। এই জায়গায় আসলে, কোনো অনুশীলন কিংবা প্র‍্যাকটিকাল বিষয়কে আমি নিয়ে এসে যুক্তিনির্ভর কোনো ব্যাখা দিতে পারবো না,শব্দচয়ন ওনার ইনহ্যারেন্ট একটা গুণ, যা একজন লেখক এবং একজন সাধারণ মানুষের মাঝে মূল পার্থক্য। প্রচুর পরিমাণে শব্দ ভান্ডার যে তিনি নিয়ে বসেছিলেন তা নয়, তবে কমেডির জন্য তিনি কিছু শব্দকে শুদ্ধভাবে কথ্যভাষার বাইরে ব্যবহার করেছেন।উদাহরণ টানাও সেগুলো মুশকিল। আশা করি, এই জায়গায় হুমায়ূনের বিশেষত্ত্ব নিয়ে কারোই সন্দেহ নেই।

এরপরে শেষকালে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে উনি নিয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথের সেই ছোটগল্পের তত্ত্ব। উপন্যাসের গতানুগতিক সমাপ্তি না দিয়ে, তিনি "��েষ হইয়াও হইলো না শেষ" ধারায় শেষ করেন ওনার উপন্যাস।যেখানে ছোটগল্প আর উপন্যাসের পার্থক্য হওয়ার কথা, সেখানেই তিনি দু'টোকে এক করে দিয়েছেন। এখানেই রয়ে যায় সেই প্রথম ধাপে তৈরি করা উস্কানির অপূর্ণতা। আর আমরা সাধারণ মানুষ সেখানে মিলিয়ে নেই নিজের জীবনের অপূর্ণতার গল্পগুলো। মাঝ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ হয়ে যান আমাদের কাছের মানুষ, প্রিয় লেখক।

নির্বাসন নতুন কিছু নয়। এমন ধারায় লেখাই একটা উপন্যাস।এবারে আসেন দেখি, এখানে আসলেই কিছু খাদ্য আছে কিনা! জরীর বিয়েবাড়িতে জরীর পয়েন্ট অব ভিউ থেকে কোনো গল্প নেই কেন? বিয়ের মতো এতো বড় একটা বিষয়ে অবশ্যই জরীর মনের অবস্থার একটা বর্ণনা থাকা উচিত ছিলো, এটা না রেখে হুমায়ূন আরেকবার সেই সামাজিক অবস্থাটাকে দেখিয়েছেন, যেখানে বিয়েটা যতটা না দু'টো মানুষের মিল, তার চেয়েও বেশি সামাজিক একটা অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মেয়েদেরকে বা বিশেষভাবে বলতে গেলে, কণের মনের অবস্থার চাইতেও বিয়ে বাড়িতে অন্য বিষয়গুলো যেন মূখ্য। চিরচেনা এই দৃশ্য হুমায়ূন আহমেদ নীরবে দেখালেন।  আসলে কতটুকু গুরুত্ব একজন মেয়েকে দেয়া হচ্ছে, তা দেখালেন। আমরা একে ফেলে দিলাম রোমান্টিক উপন্যাসের পাল্লায়।
নির্বাসন নামকরণের সার্থকতাও লেখক দারুণভাবে বজায় রেখেছেন।গল্পে নির্বাসন হলো আসলে কার?নিয়তির কাছে পরাজিত হওয়া আনিসের নাকি সামাজিক দায়িত্বে আবদ্ধ জরীর? নির্বাসন দিয়ে তিনি এলিয়েনেশনকে তুলে ধরলেন। দারুণ আলাপ হয়তো এখানেও চলে আসে৷ ছোট একটা উপন্যাস, তবে গভীরভাবে ভাবলে আরো অনেক কিছু চলে আসে। আনিসের দিকটা বেশ ভালোভাবে না হলেও, বোঝানো হয়েছে তার অবস্থাটা। এখানে তার চরিত্রককে মহিমান্বিত করতে নিয়ে এসেছেন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।বেশ বড়সড় চালাকি এসব। গল্পের ভার বাড়ানোর জন্যই মূলত এসব করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে তাই পড়ে দেখতে পারেন নির্বাসন। ভাবতে পারেন আরো বিস্তর।
Displaying 1 - 30 of 99 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.