শি’র মুখের চামড়া ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো অদ্ভুত এক ছোট ধাতব প্রাণী। প্রাণীটির অর্ধেক লাল টকটকে মাংসালো আর বাকী অর্ধেক চকচকে ধাতুর তৈরি। ধাতব অংশটা রঙধনুর মতো বৃত্তাকারে আলো ছড়াচ্ছে চারদিকে। আগ্রহভারে প্রাণীটিকে শি’র হাতে তুলে দিল মিকি। ততক্ষণে ধাতব অংশটা ড্রিল মেশিনের মতো ঘুরতে শুরু করেছে। শি কিছু বুঝে উঠার আগেই হাতের তালু ফু্টো করে প্রাণীটি ঢুকে গেল রক্তের মধ্যে। তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল শি। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বিভৎস যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটল শি’র। অবশেষে জানা গেল অদ্ভুত প্রাণীটির নাম ক্লিটি ভাইরাস। মানুষ ও রোবট আক্রমণকারী ভয়ংকর বায়োমেটালিক ক্লিটি ভাইরাসের কবল থেকে শেষ পর্যন্ত কি রক্ষা পেয়েছিল পৃথিবী? (সূত্র: বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে)
মোশতাক আহমেদ (English: Mustak Ahmed) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট হতে এম ফার্ম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে এমবিএ এবং ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলোজিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কর্ম জীবনে তিনি একজন চাকুরীজীবি। তাঁর লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে তিনি অধিক আগ্রহী হলেও গোয়েন্দা এবং ভৌতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালভাসা,অতৃপ্ত আত্না, নীল মৃত্যু, লাল শৈবাল, জকি, মীম, প্রেতাত্মা, রোবো, পাইথিন, শিশিলিন ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ- রিবিট, কালোমানুষ, রিবিট এবং ওরা, রিবিটের দুঃখ, শান্তিতে রিবিট, হিমালয়ে রিবিট। প্যারাসাইকোলজি- মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতরে জোনাকি ইত্যাদি। ভ্রমণ উপন্যাস- বসন্ত বর্ষার দিগন্ত, লাল ডায়েরি, জকি। স্মৃতিকথা- এক ঝলক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ- নক্ষত্রের রাজারবাগ, মুক্তিযোদ্ধা রতন। তিনি কালি কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ পুরস্কার পেয়েছেন।
মোশতাক আহমেদ এর এই একটি বইই আমার পড়া হয়েছে। তাই উনার লেখার বিষয়ে মন্তব্য করতে পাচ্ছিনা। তবে এটুকু না বললেই নয়। এই বইটি আমি ক্লাসে বসে পড়েছিলাম, ম্যাম ক্লাস নিচ্ছেন আর আমি মাঝখানের কোন একটা বেঞ্চে বসে বইয়ের উপর "ক্লিটি ভাইরাস" রেখে পড়ছিলাম। কখন যে ম্যাম এর ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছিল বুঝতেই পারিনি স্যার আসাতে সবাই যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল তখন বুঝতে পারি। আমি সেদিন অংকের সেই ভয়ংকর স্যার, চশমার উপর দিয়ে চোখ গোল গোল করে তাকানো স্যারকেও উপেক্ষা করে সেই ক্লাসেও বইটা পড়েছিলাম। এতটাই ভালো লেগেছিলো আমার কাছে।
সম্ভবত এটা মোশতাক আহমেদ এর প্রথম বই। এটা সায়েন্স ফিকশন হিসেবে দারুন হয়েছিল। এটা যখন বের হয়, তখনই পড়া হয়েছিল। একদম নতুন হিসেবে তখন খুব ভাল লিখেছেন তিনি। আমার কাছে মনে হয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর পর দ্বিতীয়ত উনার সায়েন্স ফিকশন বই সবচেয়ে বেশি চলে। তবে উনার এখনকার বইগুলো প্রথম দিককার মত এত আকৃষ্ট করে না। [ its excellent science fiction book ]