ডক্টর পৃথ্বীরাজ বর্মন লণ্ডনের এক বিতর্কিত মনোবিদ। পৃথিবীর কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য তিনি নিজের চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে তৈরি করতে চেয়েছিলেন একটা সিনেমা। বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সীমন্তপুরের মউলির একটা রোগ। “মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’। মউলির এই রোগটার প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল তার কিশোরী বয়সে। সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তার পারিবারিক যৌনলাঞ্ছনা, এক রহস্যময় বৃষ্টির রাত্রি, জিষ্ণু-সৌম্য-রুদ্রর মতো কিছু কিসোরের নানান উৎসাহ। তখনকার মতো সুস্থ হয়ে উঠলেও মউলির বিয়ের সময় নতুন করে পুরনো রোগটার প্রকাশ ঘটল।
ডক্টর পৃথ্বীরাজ বর্মন ভার নিলেন মউলির চিকিৎসার। সেই সঙ্গে মউলিকে নিয়ে নিজের সিনেমার চিত্রনাট্যটা সম্পূর্ণ করতে চাইলেন তিনি। মউলি এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘুরতে থাকলেন মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূট, খাজুরাহো, বান্ধবগড়ে। ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকল অনেক অজানা ঘটনা, অজানা সম্পর্ক, অচেনা পাপবোধের কথা। সম্পূর্ণ নতুন এক অসুসন্ধান কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘পাপবিদ্ধ’ উপন্যাসে।
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৬৪, ব্যারাকপুরে। প্রথম জীবন কেটেছে শ্যামনগরে। ইছাপুর নর্থল্যান্ড বয়েজ হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। প্রথমে অনিয়মিতভাবে কিছু লিটল ম্যাগাজিনে লিখতেন। ২০০৫ থেকে নিয়মিতভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার বিভিন্ন প্রকাশনায় ছোটগল্প লিখছেন। ‘খেজুর কাঁটা’ গল্পটি নিয়ে হয়েছে শ্রুতিনাটক। ছোটগল্প ‘ছবির মুখ’ আকাশবাণীতে বেতারনাটক হয়ে সম্প্রচারিত হয়েছে। লেখকের ‘ব্রহ্মকমল’ গল্পটি ২০০৬-এ ‘দেশ রহস্যগল্প প্রতিযোগিতা’য় প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে। ২০০৭-এ ‘পূর্বা’ শীর্ষক একটি কল্পবিজ্ঞান গল্পের জন্য ‘দেশ গল্প প্রতিযোগিতা’য় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। রাধিকা লেখকের প্রথম উপন্যাস।পেশাদারি জীবনে ইঞ্জিনিয়ার, বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে কর্মরত। সাহিত্য ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধ লেখেন। ভারতীয় মার্গ সংগীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত।
আমার পড়া প্রথম সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ছিল নারায়ণ সান্যালের লেখা 'অন্তর্লীণা'। আহা! অত কম কথায় অত তীব্র অভিঘাত, অত মননশীল ন্যারেটিভের ভাঁজে অমন দ্যুতিময় চরিত্রনির্মাণ...! তার পাশে আলোচ্য উপন্যাসটি একটি সুলিখিত সামাজিক উপন্যাস ছাড়া কিছু নয়। এই কাহিনিতে কোনো উত্থান-পতনের লেশমাত্র নেই। কী হচ্ছে, সবটাই জানি। কেন হচ্ছে তাও জানি। প্রত্যেকটা চরিত্র হয় বাংলা সিনেমা নয় সিরিয়াল থেকে উঠে এসেছে— এও বুঝতে পারছি। এরপর লেখাটা শেষ করার পেছনে চালিকাশক্তি থাকে একটিই— লেখনী। ব্যস। আর কিচ্ছু না। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়তে চাইলে 'দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট' বা 'দ্য এইটথ গার্ল' পড়ুন। এই বই... সুখপাঠ্য সামাজিক উপন্যাস হিসেবেই ঠিক আছে।
এক কথায় তুখর একখানা মনস্তাত্বিক উপন্যাস পড়লাম। এত কম তারার রিভিউ কেনো পেয়ে রয়েছে কে জানে। যাই হোক আসি আমার ব্যক্তিগত মতামতে।
Multiple personality disorder এর চিকিৎসা করার জন্য ডাক্তার নাটকের সাহায্য নিচ্ছেন এটা শুনলেই আমাদের Bhoolbhoolaiyaর গল্প মনে পড়ে। এই গল্প এক অর্থে তাইই তবে ওরকম গোঁজামিল নেই। বেশ সুন্দর লম্বা বিশ্লেষণ আছে।
♦️ একজন child-abuse, sexual-abuse, paedophilea, molestation এর শিকারের মনে কি ধকল যায়, কি পরিমান চাপ এসে মনের অতলে জমা হয় তা বোঝার ক্ষমতা না থাকলে এই বইয়ের গুরুত্ব বোঝা যাবে না। "প্রতিবাদ করলেই তো হত।", "এরকম জিনিস দিনের পর দিন হয়ে গেছে আর কাউকে কিছু বলতে পারেনি? নাটক যত্তসব।" ইত্যাদি ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে থাকলে এই বই আপনার জন্য নয়। আপনি বরং গোয়েন্দা গল্প নিয়েই থাকুন।
🔸এই বই সুন্দর ভাবে একজন ভিকটিম এর মনের এক একটি স্তর আস্তে আস্তে উন্মোচন করতে থেকেছে। আর সেই থেকেই গল্পের থ্রিল এসেছে। "আসলে কি হয়েছিল?" এটাই বইয়ের শুরু থেকে অভিযান।
🔸লেখকের লেখার ক্ষমতার তো কোনো কথাই হবে না। বেশ সুন্দর পরিবেশের বর্ণনা আছে। ছোটখাটো ভ্রমণ কাহিনী হিসাবেও দেখাই যায়। আর লেখক বেশ research করেই লিখেছেন সম্ভবত। এত depth। এত চুলচেরা চরিত্র বিশ্লেষণ রীতিমতো ভাবিয়ে তুলবে আপনাকে।
🔸গল্পের অনেক চরিত্রই চূড়ান্ত relatable। সে ভিকটিম নিজেই হোক বা তার শুভাকাঙ্ক্ষী বুন্ধুরাই হোক। গল্পের কেউ সাদা কালো তে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি মুহূর্তে এক একটা blunder দেখার পর ভাববেন আমি হলেও কি এটাই করতাম না। আমরা সবাই নিজের গল্পের hero হতে চাই, কিন্তু বহুবার তাতে ব্যর্থ হই। এই বই এরকম অনেক ব্যর্থতার সমাহার।
🔸এই গল্প সাহস যুগিয়ে না উঠতে পারার গল্প, প্রতিবাদ করার কথা ভেবে ক্ষমতার সামনে নুইয়ে যেতে বাধ্য হবার গল্প, ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার গল্প। কাজেই নিজের ভুল দেখার ক্ষমতা না থাকলে এই বই মাথায় ঢুকবে না। 🤷
এবার আসি খারাপ দিকে। গল্পের মূল গুপ্তধন, যার টানে পাতার পর পাতা উল্টে শেষ টা খোঁজার চেষ্টা করে চলেছি, সেটা শেষের বেশ একটু আগেই চলে এসেছে যেন। তবে ওটুকু ক্ষমা করাই যায়। একটু nitpicking করলাম আর কি। 😅😅
সব মিলিয়ে বলব এই বই প্রচন্ড ওজনদার। সময় নিয়ে কষ্ট পেতে পেতে পড়তে হবে। তবে অবশ্যই পড়া উচিত। বইটি সবার জন্য নয়, তবে যাদের জন্য তাদের কাছে বইটি চিরকাল মূল্যবান থাকবে।
.Prthom thke ses obdi lekhok pathoker agroho take sunipun vabe dhore rekheche,ghotona krom gulo besh vlo,kno ekti prakritik poribesh er bornona gulo o besh map jog kore lekha.Dr.Barman choritroti besh vlo lgeche amar, papbodh gulo jome jome hyto erkm akar e nay,kintu oi manushtar oivbe mara jaoata jno sotty mana jaini,oi jaygata mone vison dag keteche,hyto bastobe o erkm hoye,hoyeche. Sorpori prochod ti amar asadharon legeche,prochod tar e jeno ek odvut sommohon khomota ache.