আধোঁ অন্ধকারে রনি দেখতে পেল তার থেকে তিন চার হাত দূরে মোটা একটা জাম গাছের গোড়ায় অদ্ভুত একটা প্রাণী বসে আছে। প্রাণীটা দেখতে অনেকটা মানুষের মতই। তবে আকারে অনেকটা ছোট, ফুট তিনেক লম্বা হবে। মানুষের মতই হাত পা আছে প্রাণীটার। হাত পাগুলোও ছোট ছোট। চেহারায় কেমন যেন বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব। গলা থেকে পা পর্যন্ত বিশেষ একটা পোষাক পরা থাকায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবে চোখ দেখে মনে হচ্ছে প্রাণীটা তাকে দেখেও ভয় পাচ্ছে। কেমন বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে। প্রাণীটার ডান হাতে মোবাইল ফোনের মতো ছোট্র একটা ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র। প্রাণীটা খুব সতর্কতার সাথে যন্ত্রটিকে তার দিকে তাকে করে রেখেছে। আর বাম হাতটা শূন্যে ঝুলছে। হাতের অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে প্রাণীটা। মুখেও রক্তের ছোপ। কিছুক্ষণ আগে যে মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে মুখের জমাট বাধা রক্ত যেন তারই প্রমাণ। রনি কিছু বলার আগেই প্রাণীটা বলল, আমার নাম নিকি। দুর্ঘটনাবশত আমি হিমিচূন গ্রহ থেকে পৃথিবীতে এসে পড়েছি। গিগোরো আমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করছে।একমাত্র তুমিই পারবে আমাকে বাঁচাতে। তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? রনি কিছু বলতে পারল না।শুধু উপরে নিচে সম্মতিসূচক মাথা দোলাল। শেষ পর্যন্ত কি রনি আর তার বন্ধুরা পেরেছিল ভয়ংকর প্রাণী গিগোদের হাত থেকে নিকিকে রক্ষা করতে?(সূত্র: বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে)
মোশতাক আহমেদ (English: Mustak Ahmed) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট হতে এম ফার্ম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে এমবিএ এবং ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলোজিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কর্ম জীবনে তিনি একজন চাকুরীজীবি। তাঁর লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে তিনি অধিক আগ্রহী হলেও গোয়েন্দা এবং ভৌতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালভাসা,অতৃপ্ত আত্না, নীল মৃত্যু, লাল শৈবাল, জকি, মীম, প্রেতাত্মা, রোবো, পাইথিন, শিশিলিন ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ- রিবিট, কালোমানুষ, রিবিট এবং ওরা, রিবিটের দুঃখ, শান্তিতে রিবিট, হিমালয়ে রিবিট। প্যারাসাইকোলজি- মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতরে জোনাকি ইত্যাদি। ভ্রমণ উপন্যাস- বসন্ত বর্ষার দিগন্ত, লাল ডায়েরি, জকি। স্মৃতিকথা- এক ঝলক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ- নক্ষত্রের রাজারবাগ, মুক্তিযোদ্ধা রতন। তিনি কালি কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ পুরস্কার পেয়েছেন।
*** একদিনের জন্য যদি তুমি আমাদের জীবনকে অনুভব করতে পারতে তাহলে বুঝতে পারতে আমাদের জীবনটা কেমন। যে জীবনে আনন্দ নেই,ভালবাসা নেই,পরিবারের বন্ধন নেই সে জীবন কখনো সুখের হয় না।
*** সত্যিকারের আনন্দ হলো "সবার মধ্যে সাধারণ হয়ে বেঁচে থাকার মাঝে।" সবাই অসাধারণত্ব চায়,কিন্তু তারা জানে না অসাধারণত্বের প্রাপ্তিতে বঞ্চনা অনেক।আর এই বঞ্চনাগুলো খুবই কষ্টের,খুবই যন্ত্রণার। তাই সত্যিকারের আনন্দ সাধারণত্ত্বে,অসাধারণত্ত্বে নয়।
***একমাত্র উপায় হলো চাওয়া পাওয়া কমানো, লোভী না হওয়া,আজ এতটাই চাচ্ছি, এতটা লোভী হয়েছি যে আমরা আমাদের সমাজ-পরিবার, আবেগ-ভালবাসা, সুখ-... সবকিছু বিসর্জন দিয়ে শুধু প্রযুক্তি নেশায় ছুটে চলছি।তাই তো...