Chandril Bhattacharya is a popular Bengali columnist, lyricist, poet, singer and director from Kolkata, West Bengal, India. He is the grandson of Bani Kumar (Baidyanath Bhattacharya).
Bhattacharya is one of the main lyricists of the Bengali band Chandrabindoo and also occasionally sings for them. His idiomatic lyrics are laced with satire and critique of modern society. Chandril, together with Anindya Chatterjee won the 2010 National Film Award for Best Lyrics for the song "Pherari Mon" in the film Antaheen (2009).
প্রথমেই বলি, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য মানে আমার কাছে শুধুমাত্রই 'চন্দ্রবিন্দু' নয়, আমার কাছে চন্দ্রিল হচ্ছেন সেই বক্তা যিনি মুখে রক্ত তুলেও সত্যি বলে যান অনায়াসে। যিনি পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত যে কোনো মানুষের সমালোচনা ও আলোচনা করতে পিছপা হন না। অতিবাম থেকে সমকাম সবকিছুই ভীষণ সরলতার সঙ্গে উঠে আসে তার কলমে। তিনি অতিবামেরও সমালোচনা করেন, আবার বাম-বিরুদ্ধ মতবাদকেও কথা শোনান। তাঁর বক্তব্য আদতে সত্য আর হাসির উপাদান দিয়ে তৈরী এক কঠিন ঘন্ট, যা গলাধঃকরণ করা সব পাঠকের পক্ষে সম্ভব নয়, আর সম্ভব নয় বলেই, লেখক কে সমালোচিত হয় প্রতি পদে পদে। যদিও এসমস্ত সমালোচনার উর্ধ্বে তিনি অনেকদিনই চলে গেছেন বলে আমি মনে করি।
উক্ত বইটিতে, নিজের লেখক পরিচিতি লিখতে গিয়ে লেখক লিখছেন, "চন্দ্রিল ভট্টাচার্য সুইটজারল্যান্ডে মানুষ হননি, বদ্রিয়ায় পড়েননি, নাকতলা মিনিবাসে কন্ডাক্টরের সঙ্গে হাতাহাতি করেননি, হারেম রাখেননি, গাঁজা খাননি, হেলিকপ্টারে চড়েননি, সত্যজিৎ রায়কে গাল পাড়েননি, প্রচুর ডলারের প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করেননি, বিষাদ-ব্রেকডাউন খেয়ে দু'দফায় দেড় বছর ধরে অ্যাসাইলেমে থাকেননি, ভিখিরিকে হিরের আংটি অবহেলায় দিয়ে দেননি, রাইফেল ছুঁয়ে দেখেননি, ছ-ফুট দুই হননি, কয়লাখনির নীচে নামেননি, দেউলিয়া হয়ে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াননি, ভাসানে নাচেন নি, সারেগামপাধানি।" এইটা হচ্ছে তাঁর লেখক পরিচিতি, তাহলেই বুঝুন, ওনার বইটি কেমন হতে পারে। এমন কোনো জায়গা নেই বইটিতে যেখানে হাসতে হাসতে পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি এক হয়ে যায়নি, কিন্তু একইসময় এই হাসি বুঝিয়ে দিয়েছে যে এক কঠিন সত্য ঢুকে গেল আমার মাথার ভেতর খুব সহজে, আমার বুঝে ওঠবার আগেই।
আনন্দবাজার পত্রিকা ও তার বিভিন্ন ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত লেখকের বিভিন্ন লেখার মিলিত সংকলন হলো 'রস কষ সিঙাড়া বুলবুলি মস্তক' বইটি। এই বইটির তিনটি ভাগ আছে: 'একের পাতা চারের পাতা', 'রবিবাসরীয়', এবং 'অন্য অন্য'। প্রথমটিতে আছে, উত্তর সম্পাদকীয় যা প্রকাশিত হতো আনন্দবাজারের চারের পাতায়। দ্বিতীয়টা, রবিবাসরীয় এর প্রচ্ছদকাহিনী। আর তৃতীয়টা অন্যান্য ক্রোড়পত্রের লেখা। চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের বই সর্বদাই একটা সামাজিক আয়নার সমান, যে আয়নায় সবাই ভীষণ নগ্ন, এবং তিনি সেই নগ্নতা ঢাকার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেন না। তাঁর প্রত্যেকটি লেখা আজ থেকে প্রায় সাত-আট বছর আগেকার হলেও প্রত্যেকটি এখনও তাৎপর্যপূর্ণ। যা বইটির ক্ষেত্রে লাভজনক হলেও, সমাজের দিক থেকে নির্মমভাবে দুঃখজনক।
এই বইয়ের বিষয়বস্তু বলা ভীষণ কঠিন। তাও লেখকের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করি খানিকটা। এই বইতে, গুরুচন্ডালিকা: রবীন্দ্র রচনাবলী গুলিয়ে ঘন্ট করেছেন লেখক, শ্যামাকে প্রোপোজ করেছে অমিত রায়। দলে দলে যোগ দিন মহামিছিলে আলেকজান্ডার তৈমুর লং কে 'খোঁড়া ল্যাং ল্যাং ল্যাং'! কমরেড মঙ্গল: আলিমুদ্দিনের ছাদ থেকে অটো উড়ল মঙ্গলগ্রহে, সঙ্গে অ্যাসেট লিস্টি--- সৌরভ গাঙ্গুলি----চিরকাল বামপন্থী কক্ষনও ডান হাতে ব্যাট করেননি। জ্যোতি বসু--- স্টক সীমিত। ঠুলি মাথায় ভাবো জুতসই কোটেশন: কেন ধনঞ্জয়ের ফাঁসি বাঙালির রঙিনতম সার্কাস। কলিকাতার বর্ণপরিচয়: 'উ' ---- লাগলে, ইংরেজি মিডিয়ামরা যা গিলে নিয়ে 'আউচ্' বলেন। 'ঊ'---খুব লাগলে ইংরেজি মিডিয়ামরা যা বলেন। দশমহাবিদ্যা: প্রতিজ্ঞা লিস্টি: র-ফলা উচ্চারণ করব, বাংলা ঠিক বলা পোচোন্ডো পোয়োজন। ফলিবেই ফলিবেই: বাসভাড়ার চেয়ে প্লেনভাড়া কমিবে , নেতাজি এ বছরেও ফিরবেন না। ওরে ভোঁদড় ফিরে চা: বাগুইহাটির মোড়ে দাঁড়িয়েও কীভাবে মেরুদাঁড়ার বেস অবধি অমৃতের চান---মেড ইজি। আরও আরও উড়নতুবড়ি, ঢিচক্যাও , পাখিশিস।
সাধারণত, প্রত্যেকটি বইতেই কিছু এমন লাইন বা কোটেশন থাকে যা পাঠকের পছন্দ হয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সেগুলি পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে রাখতে পছন্দ করি। একমাত্র চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের বইয়ের ক্ষেত্রেই আমার পেন্সিল শেষ হয়ে যায়, লাইনের পর লাইন মার্ক করতে করতে বইগুলি আমার পাঠ্যবই এর সমান হয়ে ওঠে। কোনটা ছেড়ে কোনটা মার্ক করবো, এই ভাবতে গিয়েই জীবন জেরবার হয়ে যায়। কারণ একটি লাইনও ছাড়া যায় না, এমনই তুখোড় তাঁর কলম। হাস্যরসে টইটুম্বুর এই বই, মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে যায় এবং শিখিয়ে যায় অনেককিছু। কি অবলীলায় যে সত্যি বলা যায়, কিন্তু আমরা তা বলি না, বরং সত্যি থেকে চিরকাল পালিয়ে বেড়াই তাও দেখিয়ে যায় এই বই। আমি, এ কথা আগেও বলেছি হয়তো, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক শুধু নন, সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। প্রার্থনা শুধু একটাই, এরকমই আরো অনেক চন্দ্রিল তৈরী হোক বারেবারে, তবেই 'অমলকান্তি রোদ্দুর হওয়ার স্বপ্ন দেখবে আবার।' 🙂
I have always been a big fan of Chandril Bhattacharya.His bengali wordplay is ingenious. And the tiny articles crack me up whenever i read them. Worth spending on.Worth shelving.Recommended!
Before reading the book, I was only familiar with Chandril's witty, hilarious and insightful speeches and, of course, the songs of Chandrobindoo. As I've finished it now, I can confidently say he's the same skill in writing too. It's a collection satirical essays, published in renowned magazines of West Bengal. Many of them are written 20 or so years ago. The topic of the essays are mostly social and political issues. Some of my favourite pieces are: ও কিছু হবে না, বাবা কী এনেছে? নোবেল পেরাইজ, কমরেড মঙ্গল, গুরুচণ্ডালিকা. I hope every Chandril fan will like it!
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের 'রসেবশে'-কে দুই ডিগ্রি নিচে নামালে যা হয় সেটাই এই কলামসমগ্র। চলনসই লেগেছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা; পড়ে ধারণা পাকাপোক্ত হয় যে, দুই বাংলার লোকই সমপরিমাণে খচ্চর।
চন্দ্রিলের লেখা একই সাথে পেট ফাটিয়ে হাসায় আবার গা গুলিয়ে দেয় সর্বোপরি ভাবতে বাধ্য করে। খুড়োর কলের মুলো খুলে আয়না ঝুলিয়ে দেয়। নিজের কদাকার, বালখিল্য অবয়ব তাতে সারাক্ষণ আপনাকেই মুখ ভেঙ্গাচ্ছে। এমনই অনেক লেখার সংকলন বইটা। বিষয়বৈচিত্র্যে এতটাই স্বতন্ত্র প্রত্যেকটা প্রবন্ধ যে সামগ্রিকভাবে বইটার রিভিউ লেখা সম্ভব নয়। নিজেকেই পড়ে দেখতে হবে।