কাহিনী সংক্ষেপ- একটা একান্নবর্তী পরিবার, সেখানকার মানুষ আর মানুষগুলোর নানা রকমের সমস্যা, সম্পর্কের টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে উপন্যাসের কাহিনী! একটা পরিবারের মধ্যেই থাকে নানা মত, ধ্যান ধারনা, জীবনবোধের মানুষ! জীবনের কাছে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা চাহিদা। কী হয় যখন এই মত একে অন্যের বিরোধী হয়! গল্পের কাহিনী টুকু নামের এক যুবকের ভাষায় লিখা! অনেকটা তার আত্মকথার মতো। বাবা মা, দুই বোন, বড় চাচা, ছোড় চাচা চাচীর সাথে ঢাকা শহরে তিনতলা এক বাড়িতে থাকে সে! তিনতলা এই বিশাল বাড়িতে তার বাস চিলেকোঠায়! বড় চাচী থাকেন মেয়েদের সাথে আমেরিকায়! বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ একজন আরেকজনের সম্পূর্ণ বিপরীত,তবুও কোথাও যেন একটা মিল আছে! সম্ভবত তারা সবাই ই কিছুটা পাগল আর ইচ্ছাস্বাধীন! কাহিনীর শুরু দুঃসম্পর্কের এক খালুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে! এই খালুর মেয়ের সাথেই টুকুর এক অদ্ভুত সম্পর্ক! কখনো বন্ধু, কখনো ভাই-বোন কখনো বা নামহীন কোনো অদ্ভুত সম্পর্ক! এদিকে ছোট চাচার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে শুরু হয় বাসায় এক চরম অশান্তি! নতুন চাচীর প্রথম পক্ষের মেয়ে লরেটা টুকুর মাঝে খুঁজে পায় এক বন্ধুকে! মূলত এই দুই কাহিনীকে কেন্দ্র করে উপন্যাসে আরো অনেক ঘটনার, চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে! জীবনবোধ, নিয়তি, হাস্যরসের সংমিশ্রণে এই গল্প যেন মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব সাবলীলভাবে বলে যায়.... পাঠ-প্রতিক্রিয়া: লেখক গল্পে কোনো আদর্শ মানুষ এর ছবি আঁকতে চাননি! বরং খুব সূক্ষ্মভাবেই মানুষের ত্রুটিগুলো তুলে ধরে সাধারন মানুষের গল্প লিখেছেন! আবার এই ত্রুটিযুক্ত সাধারন মানুষগুলোই তার লেখনীশক্তির মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছে অসাধারন। এই গল্পের সবচেয়ে ভালো দিক সম্ভবত এটাই যে গল্পের চরিত্রগুলোকে বাস্তবের মানুষ মনে হয়! ভালোলাগার মতো একটা বই! t.
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
যাপিত জীবনে টিপিক্যাল মধ্যবিত্তীয় সমস্যার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সাথে মানুষের মনোজগতের মনোভাব ফুটিয়ে তুলোর জুড়ি হুমায়ূন আহমেদ শব্দের বুনটে গেঁথে গেছেন মায়াজালের মতো।
আর বরাবরের ন্যায় সেই মনোমুগ্ধকর ছন্দে মন্ত্রের মতো অন্য মনুষ্যদের সাথে আটকে পড়া এক নিতান্তই সাধারণ পাঠকের একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে শুরু সকালটা শুভ্র শান্ত সুন্দর হয়ে গেলো
বহুদিন পর হুমায়ূন স্যারের লেখা কোনো বই পড়ার পর মনে হলো, ইশ! বইটা আরেকটু বড় হলে কি ক্ষতি হতো৷ ক্লাস ৮/৯ এ যেভাবে মুগ্ধ হতাম হুমায়ূন পড়ে, অনেকটা সেই অনুভূতি হচ্ছে এখন।
বইটির শুরু হয়েছে টুকু'র খালুর মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে।তবে টুকু'র পরিবারের সাথে তার খালা-খালুর পরিবারের সম্পর্কের গভীরতা নেই, যার করণে খালুর মৃত্যুসংবাদ তাকে বিশেষ পীড়া দেয় নি।তবে খালাত বোন রিমির সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
চব্বিশ বছরের টুকু বর্তমানে ল'তে পড়ছে।তবে পড়াশোনার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ নেই।চেহারায় বোকা বোকা ভাব আছে এবং কাজকর্মে নির্লিপ্ত। তার ছোট দুই বোন মীরা এবং ইরা, মা-বাবা,চাচা-চাচী মিলে মূলত একটি একান্নবর্তী পরিবারে তারা বসবাস করে।
পুরো কাহিনীটাই মূলত পরিবারটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে।টুকুর ছোট চাচা প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে করলে পরিবারে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং এই সূত্রেই ঘটনা এগোতে থাকে।অপরদিকে টুকুর বিধবা খালা দ্বিতীয় বিয়ে করলে খালার সাথে তাদের সম্পর্কের টানপোড়ন সৃষ্টি হয়।একই সাথে রিমির কর্মকাণ্ডগুলোও ছিলো বিচিত্র।
একসময় পরিবেশ ঠান্ডা হয় এবং সকল ঝুট-ঝামেলার অবসান হয়।আর টুকু নামের বোকাসোকা মানুষটি জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে থাকে কোনো এক অজানা প্রতীক্ষায়।
আপাতদৃষ্টিতে কাহিনীটা সাদামাটা মনে হলেও বইটা আমার অনেক ভালো লেগেছে।সামান্য একটা পরিবারের কাহিনী বর্ণিত হলেও এমন কিছু আছে যা পাঠকদের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে এবং হৃদয়ে গভীর তৃপ্তি এনে দেবে।
নায়ক টুকু’র বর্ননায় তাঁর পরিবারের সবার গল্প উঠে এসেছে। টুকুর একান্নবর্তী পরিবারের সমস্যার শুরু হয় ছোট চাচার দ্বিতীয় বিয়ের মাধ্যমে। আর সেই সমস্যা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসে তারা সেটাই মূলত উঠে এসেছে। কাপুরুষ স্বভাবের নায়ক টুকু আর তার অদ্ভুত কাজ (হুমায়ূনের বাকি নায়কদের মতোই) হুমায়ূনভক্তদের আকর্ষণ করতে যথেষ্ট। ভালো লেগেছে সন্ন্যাসী ভোলার চরিত্রটিও। তবে এন্ডিং ভালো লাগে নি। সেটা পাঠকদের জন্যই থাক। নারীবাদী কথা বলি একটু। মায়ের মহান চরিত্র (টুকুর মা) আর মায়ের খারাপ চরিত্র (রিমির মা) এই তুলনা ভালো লেগেছে। তবে একপেশে। টুকু রিমির ভালোবাসা বোঝে না, কিন্তু লরেটোর প্রতি তার টান ভালোবাসায় পরিণত হয়। কমবয়সী মেয়ের প্রতি হুমায়ূনের ভালোবাসা নায়ক চরিত্র টুকুর মধ্য দিয়েই প্রমাণ করেছেন। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর নারীরা হন সুন্দর আর কামুক (টুকুর ছোট চাচী) কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নারীরা হন ভালো (টুকুর ছোট চাচার দ্বিতীয় স্ত্রী)। পুরুষ চরিত্রগুলো প্রতিটিই জ্ঞানের আধার। টুকুর দুই চাচা, বাবা, এমনকি রিমির সৎ বাবাও। নারীরা সবই কূট আর সন্দেহপ্রবণ। রিমির সব কিছূ জেনেও সে রিমিকে ভালোবাসতে পারে না। বরং রিমিকে টুকু পাগল বলে মনে করে। কমলার সাথে বড়চাচার সম্পর্ক টুকু স্পষ্ট করে নি, বড়চাচাকে পছন্দ করে বলে। হুমায়ূন স্যারের লেখা পছন্দ করার কারণ, সবাই পাঠকের মন নিয়ে খেলতে পারেন নি। স্যার আর গুরু (রবীন্দ্রনাথ) পেরেছেন। এখানেই তাদের সার্থকতা।
পাগলাটে একান্নবর্তী পরিবারের গল্প উপস্থাপিত হয়েছে টুকু নামক যুবকের বয়ানে। বাড়ির প্রত্যেকেই অদ্ভুত। অদ্ভুত তার ছোট চাচীর আচরণ , তেমনই তার ছোট চাচা। একদিন বলা নেই, নার্স এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলে আনেন তার ছোট চাচা, হুলুস্থুল কান্ড! ঝড়ের গতিতে যেমন ঘটনা সূত্রপাত ঠিক তেমনভাবে আচানক সমস্যার সমাধান হয়ে গেল! তাদের পরিবারকে ঘিরে বসব করা মানুষরাও আজব কিসিমে’র।
বইয়ের চেয়ে নাটক হলে বেশি ভালো হতো, কারণ বই ভর্তি নাটকীয়তা🌪️
ভেতর তোলপাড় করে দেয়া কঠিন কথা সহজে বলে ফেলা, খুব কষ্ট নিয়েও দুম করে হেসে ফেলতে পারার মতো লেখা লিখতে তিনিই পারতেন, যাঁর নাম হুমায়ূন আহমেদ। এই উপন্যাস শর্টকাটের তাই...
মন্দ্রসপ্তক পড়ার পর যে অনুভূতিটা কাজ করেছে, সেটা এক ধরনের মুগ্ধতা। গল্পটা খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু এমন একধরনের আবহ তৈরি করেছে, যা সহজে ভোলা যায় না। পুরো উপন্যাসে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের টুকরো টুকরো মুহূর্ত ধরা আছে—সম্পর্কের জটিলতা, অভিমান, ভালোবাসা, আর বাস্তব জীবনের হাস্যরস।
গল্পের মূল চরিত্র টুকু—একজন সাধারণ, কিছুটা নির্লিপ্ত যুবক, যে নিজের পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও যেন নিরপেক্ষ দর্শক। ছোট চাচার দ্বিতীয় বিয়ে, খালার নতুন জীবন শুরু করা, খালাতো বোন রিমির অদ্ভুত আচরণ—সব মিলিয়ে পরিবারে যে কেমন এক অস্থিরতা, আবার তার মধ্যেই একধরনের স্থিতি—তা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেখকের সেই চিরচেনা লেখার ধরণ—সরল, সাবলীল, আর চমৎকার হাস্যরসের মিশেল। ফরিদা খালা, ভোলাবাবু, বড় চাচির মতো চরিত্রগুলো একদম প্রাণবন্ত। কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে, এই তো—এমন মানুষ আমি বাস্তবেও চিনতাম!
তবে বইটা এত ছোট কেন? শেষ করে মনে হলো, আরেকটু দীর্ঘ হলে মন্দ হতো না! তবুও, হুমায়ূন আহমেদের লেখার জাদু এমনই, শেষ পর্যন্ত একটা প্রশান্তি দিয়েই যায়।
মন্দ্রসপ্তক, বইটিতে একটি একান্নবর্তী পরিবারের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।টুকু, উপন্যাসের মূল চরিত্র যার জবানীতে সম্পূর্ণ গল্পের অবতারণা। টুকুর বাবার ২ ভাই রয়েছেন এবং তারা ৩ ভাই একই বাড়িতে থাকেন। যে বাড়িটি মূলত তার ছোট চাচা তার একার উপার্জনের টাকায় নির্মাণ করেছেন। ছোট চাচা,পেশায় চক্ষু চিকিৎসক। টুকুর মতে,তার ছোট চাচা বাড়ির সবচেয়ে স্মার্ট মানুষ আর এই ছোট চাচার জীবনের টানাপোড়ন উপন্যাসের পুরোটা জুড়ে রয়েছে। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে কী কী সুবিধা,অসুবিধা তা মূলত তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। এই বার আসি আমার বইটি কেমন লেগেছে- টুকুর আচার-আচরণ কখনো আমাকে হাসিয়েছে, কখনো বাধ্য করেছে মানব চরিত্র নিয়ে ভাবতে। অন্য যে চরিত্র রয়েছে,তার মধ্যে লরেটা চরিত্র টা অসাধারণ। লেখক হাস্যরসের জন্য সৃষ্টি করেছেন -ফরিদা খালা,ভোলাবাবু,বড় চাচির মত চরিত্র গুলো। #পরিশেষে বলবো,বই টি ছোট, কিন্তু বইটি এক কথাই অসাধারণ। তাই আর বিলম্ব কেন!! পড়ে ফেলুন,আর লিখে ফেলুন আপনার মতামত।।☺️☺️
মোটামুটি ভাল লেগেছে। উথলে ওঠা আবেগ নেই, ভারী কথায় সাজানো দর্শন নেই। দুনিয়ায় আছে তাই থাকছি ভাবের নায়ক টুকু। সংসারে কাজের কোনো কাজে আসার গল্প তাকে ঘিরে হয়নি। এরপরো মন্দ্রসপ্তক উপন্যাস গড়িয়েছে টুকুর এটা ওটা ফুট-ফরমাস করতে করতে। নারীর প্রতি প্রেম পুরুষের এক আশ্চর্য কিছু। সব প্রেম হয়তো ফুটে না, কিছু কিছুর নাম তাই 'কিছু না'।
ঐ যে একটা কথা আছে না! অনেক লেখকই বলে আসছেন যার যার ভাষায়। বাস্তবতা ফিকশনের চেয়েও অদ্ভুত কিংবা অবিশ্বাস্য। অনেক আগে পড়া হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস আবার পাঠে এরকম অনুভূতি হয়। মনে হয়, "আরেহ! এরকম তো সম্ভব বাস্তবে, ইন ফ্যাক্ট এরূপ তো হয়ে এসেছে, আসছে।"
মন্দ্রসপ্তকের মাঝ দিয়ে ভেসে চলার সময় এ কথা বারবার মাথায় এসেছে। লেখকের বিভিন্ন পাগলা চরিত্রগুলোর কাজকারবার, ঘটনার বিভিন্ন আশ্চর্যকর উন্মোচন পাঠের সময় এক কালে শুধুমাত্র উপন্যাসের ব্র্যাকেটের ভিতরের ব্যাপার মনে হতো। আজকাল ওরকম আর মনে হয় না।
টুকু। উত্তম পুরুষে যে স্টোরিটেলিং করে যাচ্ছে পুরো উপন্যাসে। পরিবারের আপাত দৃষ্টিতে অকর্মণ্য বড় ছেলে। টুকুর মতো অবহেলিত বেকার ছেলেদের আবার ব্যস্ততা বেশি। প্রায় সবাই রাজ্যের এসাইনমেন্ট তো তাকে দিয়ে রেখেছে! যৌথ পরিবারে বাবা-মা, দুইবোন এবং দুই চাচার সংসারের বিচিত্র সব ঘটনার নীরব সাক্ষী আমাদের টুকু।
তবে সবসময় নীরব থাকে না এ উপন্যাসের উত্তম পুরুষে বর্ণনাকারী মানুষটি। সরব উপস্থিতিও আছে তাঁর। জায়গায় জায়গায় আছে টুকুর সার্কাজম। হুমায়ূন আহমেদ মুলত পুরো নভেল জুড়ে ডার্ক হিউমার করে গেছেন। রিমির সাথে টুকুর 'ইটস কমপ্লিকেটেড' সম্পর্ক থেকে শুরু করে ঐ একান্নবর্তী পরিবারের ছোটচাচীর সারাবছর অসুস্থ থাকা কিংবা বড়চাচার বিভিন্ন অলৌকিক লোকজনের সন্ধান প্রচন্ড অবদমনের বাইপ্রোডাক্ট।
প্রচন্ড অতৃপ্ত মানুষজন বিপদজনক। এসবের মাঝে আছে মধ্যবিত্ত মানসিকতার কিছু বেশ সমস্যাজনক নৈতিকতা যা আমাদের অনেকের কাছেই স্বাভাবিক। এরকম পরিস্থিতিতে ভয়ানক নিষ্ঠুর আচার-আচরণ অথবা খুব কৌশলী, ধান্ধাবাজী অ্যাক্টের মাধ্যমে নিজ স্বার্থ বজায় রাখার সবরকম প্রচেষ্টা হুমায়ূনের লেখনিতে কখনো সহজ-স্বাভাবিক আবার কখনো কোল্ড ব্লাডেড ফর্মে চলে আসে।
লেখক এ উপন্যাসে আমার মতে বিভিন্ন চমক দেয়ার আগে চেয়েছিলেন পাঠকরা যেন এসব ধরে ফেলে। এরকম লিটারারি ট্যাকনিক আরো অনেক লেখক গল্প-উপন্যাসে প্রয়োগ করে থাকেন। টুকুর চোখের সামনে ঘটতে থাকা একটির পর একটি অমানবিক ব্যাপার-স্যাপার তাকে কষ্ট হয়তো দেয় কিন্তু পরিবর্তন করার সাধ্য লেখক তাকে দেন নি।
টুকু যেন প্রচন্ড ঝড়ের মাঝে এমন এক ঘুড়ি যা লক্ষ্যহীন উড়ে চলেছে। তবে ঘুড়িটি আলোকিত। অবশ্য সেই আলো বৃহৎ অন্ধকারের কাছে সমর্পিত।
বই রিভিউ
নাম : মন্দ্রসপ্তক লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ১৯৯০ প্রকাশক : সময় প্রকাশন প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : ধ্রুব এষ জনরা : সামাজিক উপন্যাস / ডার্ক কমেডি রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
এই উপন্যাসটা শেষ করে আমার শুধু আফসোস হচ্ছে। জ্বী না, উপন্যাসের কোন চরিত্রের ট্রাজেডির জন্য না। বরং নিজের জন্য। আমি উপন্যাসটা পড়তে পড়তে এটাকে মাস্টারপিস হিসাবে ডিক্লেয়ার করে দিয়েছিলাম। এটা আমার ঠিক হয় নাই। সম্পূর্ণ শেষ করে তবেই এমনটা বললে ঠিক হতো। কারণ উপন্যাসের শুরু থেকে শেষের আগ অব্দি অসাধারণ থাকলেও শেষ মুহুর্তে এসে... Expectation এর উপর মূত্র বিসর্জন করে দিল। "বহুব্রীহি" হুমায়ূন আহমেদের এক অসাধারণ সৃষ্টি। প্রথমে নাটক এবং সেই নাটক থেকে উপন্যাস রচনা করেছিলেন লেখক। উভয় ছিল মাস্টারপিস। দারুণ মজার একটা পারিবারিক ঘরনার উপন্যাস ছিল ওটি। একটা পরিবারের মাঝে সুখ, দুঃখ, পরিবারের কাজের মানুষ গুলাও অব্দি যে হারে এন্টারটেইন করেছিল, নির্দ্বিধায় বহুব্রীহি আমার টপ ফেভারিট হুমায়ূননামার একটি হয়ে থাকবে সবসময়। যখন মন্দ্রসপ্তক শুরু করলাম, এর কাহিনীর ফ্লো আমাকে অনেকটাই বহুব্রীহির ভাইব দিচ্ছিল। যদিও বহুব্রীহিতে কমেডিকে বেশি গ্লোরিফাই করা হয়েছে, আর মন্দ্রসপ্তক ছিল ব্যালেন্স, এখানে কমেডি, ট্রাজেডি, সব সব ছিল। ধরেই নিয়েছিলাম এটা বহুব্রীহিকে হয়ত বিট করে দিবে। আর ট্রাস্ট মি যে হারে কাহিনি এগোচ্ছিলো আমি যথেষ্ট কনফিডেন্ট ও ছিলাম। কিন্তু লাস্ট কয়েক পৃষ্ঠায় এসে, হিন্দিতে বললে বেশি ভাল ভাবে বোঝাইতে পারব, "last moment per Aakar hug Diya". Yet I'm not that much of disappointed. I enjoyed it a lot. & It might not be in my top favorite zone but must be in my Average favorite zone forsure.
বাংলা একাডেমীর আজম সাহেবের বক্তব্য মতে হুমায়ূন আহমেদ কম বয়সী মেয়েদের প্রেমের গল্প ভাল বলতে পারেন। বক্তব্যটি আসলে দিয়েছেন কিনা সেটি আবার শুনতে হবে, ভুল শুনলে আবার এডিট করে দেব। আম��র ধারণা মন্দ্রসপ্তকে হুমায়ূন অযাচার নিয়ে কিছুটা এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছেন। আর গ্রুমিং এর ব্যাপারটাতো আছেই। আমার আরো ধারণা উপন্যাসটা গ্রুমিং নিয়েই। দেশী প্রেক্ষাপটে গ্রুমিং খুব পছন্দসই ব্যাপার, হুমায়ুন নিজেও এর চর্চা করেছেন। গ্রুমিং এর ব্যাপারে যাদের এখনো সন্দেহ আছে, মিলায়ে নেন, লোরেটার বয়স আনুমানিক নয় বছর। নয় বছর বয়সী কোন বাচ্চাকে এডাল্টদের সাথে ঘুমাতে কেউ কোন আক্কেলে পাঠাবে আমার বুঝে আসেনা, আবার কাজিনের অনুরাগমুলক আচরণ সে বাচ্চাটার সাথে শেয়ার করা এসব কী? ভোলা ক্যারেক্টারটা ধরে নিচ্ছি প্রধান চরিত্রের অবচেতন মন, এর আগে দুটি ঘটনায় তাকে দিয়ে ভবিষ্যত মিলিয়ে দিয়ে একটা প্ল্যাটফর্ম রেডি করিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে ভোলা যা বলবে তাই হবার সম্ভাবনা আছে। তো, শেষ ক্লিপ হ্যাংগার হচ্ছে অন্তত কুড়ি বছর গ্যাপের কারো সাথে বিয়ের ভবিষ্যতবানী, সিরিয়াসলি !?
অসাধারণ বলবো না,তবে সুখপাঠ্য।হুমায়ুন আহমেদের আর পাঁচদশটা বইয়ের মতোই মানবজীবনের উত্থান-পতনের এক অপূর্ব মেলচিত্র। ভোলাবাবুর শেষের কবিতাটি যেন মানবজীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ানোরই এক সারাংশ
খেপার মতো কেন এ জীবন, অর্থ কী তার,কোথা এমন, কে তুমি গোপনে চালাইছ মোরে আমি যে তোমারে খুঁজি।
The book is about a family where a silent member named tuku tell the internal story. There are boro chacha choto chacha, mira, rimi, choto chachi, loreta.
গোলাম মুরশিদের "আশার ছলনে ভুলি" পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে বইটি হাতে নিয়েছিলাম। এক বসায় শেষ করেছি বটে তবে এমন অপাঠ্য বই বহুদিন পড়িনি। এক কথায় আবর্জনা। সময় নষ্ট হলো বলে আফসোস হচ্ছে।
ঢাকায় যাওয়া আসার পথে এই ছোট্ট বইটা পড়ে শেষ করে ফেললাম। একটা পরিবারের নানা ঘটন-অঘটন নিয়ে লেখা গল্প। টুকু আর লরেটার ভাগ্যে কি হয়! খুব জানতে ইচ্ছা করছে।