একটা শহরে হাজারো বিচ্ছিন্ন মানুষ । বৈষম্য-কলঙ্কিত সমাজের যে খাদ্য-শৃঙ্খল, সামনে এগোনোর যে ইঁদুর দৌড়, তার একজন রাবেয়া। রাবেয়া এক মধ্যবয়সী নারী। জীবন তাকে যা দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে তার শতগুণ বেশি। শোক, স্মৃতি আর সংগ্রাম নিয়ে রাবেয়ার বেঁচে থাকার আলেখ্য ‘নিঃশব্দতার ভাঙচুর’। এ এক ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক উপন্যাস। আনোয়ারা সৈয়দ হক এক নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাত্যহিক জীবন দেখার সুযোগ করে দেন পাঠককে, সুযোগ দেন পদে পদে ধর্ষণ, লাঞ্ছনা, লালসা আর হয়রানির আতঙ্ক কাটিয়ে চলা বাঙালি নারীর জীবন উপলব্ধি করার। এই জীবনে খোকনের বেঁচে থাকার সুযোগ নেই, এই জীবনে নেই রাবেয়ার মানসিক সুস্থতা ও শান্তি। মনোবিজ্ঞানের লব্ধ জ্ঞান তো আনোয়ারা সৈয়দ হক কাজে লাগিয়েছেনই, আরো উল্লেখযোগ্য দিক হলো – এই উপন্যাসে নিছক ঘটনাপ্রবাহ নয়, লেখিকা প্রয়াস পেয়েছেন চারপাশের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের ভেতরে যে ছাপ রেখে যায়, সেটা তুলে আনার। ‘স্ট্রিম অব কনশাসনেস’ বা ‘চৈতন্য প্রবাহরীতি’ ব্যবহার করার কারণে রাবেয়ার খণ্ড ভাবনাগুলো উঠে এসেছে কেন্দ্রে, আর পাঠক পেয়েছে তাকে বোঝার গভীরতর সুযোগ।
আনোয়ারা সৈয়দা হক পেশায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক। জন্ম ১৯৪০ সালে, যশোর জেলায়। মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসেন তিনি, তখনই মনোযোগ দেন লেখালেখিতে। বর্তমানে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের প্রভাষক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা একশরও বেশি। মননশীল সাহিত্য রচনার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সৈয়দ শামসুল হকের সহধর্মিণী। লেখালেখির ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগানো তাঁর সৃষ্টিকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
Anwara Syed Haq is a writer of Bangla literature. She has written a number of novels, short stories, children's books and also written a number of essays. She has been praised for using her knowledge of human psychology beautifully in her writings. She is a psychiatrist by profession.
After completing her SSC and HSC in Jessore, Haq moved to Dhaka in 1959 and enrolled in Dhaka Medical College. She obtained her MBBS degree in 1965. In 1973 went to the United Kingdom for higher education. After having completed her post graduate degree in medical psychiatry in 1982 she returned home from the UK. She has since then worked at a number of institutions, among which are Bangladesh Airforce, Dhaka Medical College and BIRDEM.
Haq's first short story "Paribartan" was published in Sangbad in 1954. From 1955 to 1957, she regularly wrote for Ittefaque's "Kachi Kanchar Ashor". Her first novel was published in Sachitra Shandhani in 1968. After her first novel, she has written a number of novels and short stories. Many of her novels are set in Dhaka and London where she spent much of her time. Her publications consist of twenty-five novels, three volumes of poems, eight collections of short stories, eight collections of essays, three autobiography volumes, two collections of travel writing, forty fictional stories for young readers.
এবারের বইমেলায় কেনা বই। লিখেছেন একজন ঢামেকপড়ুয়া চিকিৎসক, যার নামের সামনে পেছনে ঝুলছে অনেকগুলো ডিগ্রি। এবং যার সহধর্মী সৈয়দ শামসুল হক।
অনেকদিন ধরেই সামনে পড়ে ছিলো, এরপর একদিন হাতে তুলে নিলাম। তুলে নেবার পর যখন একেবারে রাখলাম বইটা, ততক্ষণে বই শেষ। আর কানের ভেতর গান গেয়ে চলছেন Muddy Waters!
একটা লেখা, শিল্প অথবা এমনতর ব্যাপারগুলি মানুষকে ছুঁয়ে যায় তখুনি, যখন মানুষ একাত্মতা খুঁজে পায় সেই বস্তুর সাথে, পড়তে বা দেখতে গিয়ে একটা যোগাযোগ যখন টের পায় তার চিন্তাজগত কিংবা বাস্তবজগতের সাথে। যোগসূত্র খুঁজে পেলে স্বাভাবিকভাবেই তাতে বুঁদ হওয়া সহজ হয়। সেজন্যে প্রথম থেকেই রাবেয়া চরিত্রটার মাঝে ডুবে যেতে কোনো বেগ পেতে হয় নি। একা বেঁচে থাকা, সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামনে এগোনো, নিরন্তর এক সোনার হরিণের পেছনে ছুটে চলা। আশা একটাই, সে স্বর্ণমৃগ ভুলিয়ে দেবে সকল গ্লানি, শূন্যতা, অতীতের চাপাকষ্ট, আর্তনাদ। আর দশ পাঁচটা মানুষের মতো ঝকমকে শৈশব রাবেয়া পায় নি, শৈশবের দিকে তাকালেই তার বুক ছাপিয়ে ওঠে কান্নার রোল। এই হাহাকার, শূন্যতা, একাকীত্ব এবং আতঙ্কের কন্ঠরোধ করে স্বাভাবিক থাকবার চেষ্টা করে সে প্রতিনিয়ত, সফলও হয়। সকল ভাঙচুর নীরবে একা সয়ে যায় আত্মমগ্ন চুপচাপ রাবেয়া, নিজের দুঃখগুলোকে ছাইচাপা দিয়ে প্রতিনিয়ত এই বিরূপ সমাজে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে যুদ্ধ করে, তীব্রতম ভূকম্পেও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।
কিন্তু শেষতক??
মনোচিকিৎসায় হাতযশ আছে লেখকের, এই লেখায়ও মনোজগতকে খুব নিপুণভাবেই নড়চড় করিয়েছেন সময়ে অসময়ে। অবদমিত ত্রাস, ট্রমা এই জিনিসগুলোর পরিণতি সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন, লেখার হাত ভালো হওয়ায় কোনোকিছুই বদহজম হয় নি। সমাজব্যবস্থা, সমসাময়িক পাত্র-পাত্রী এবং সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া, অন্তর্দ্বন্দ্ব, ব্যাক্তিগত দর্শন – সব মিলিয়ে একটু স্বতন্ত্র ধাঁচের সুস্বাদু লেখনীই পেয়েছি।
ভালো ছিলো!
লেখক সম্পর্কে জানতে গিয়েও বেশ অবাক হতে হয়েছে। সে গল্প হয়তো অন্যদিন।