এবার আমার কথা বলি। আমার নাম বৃষ্টিলেখা। নাম টা সুন্দর তাই না? এই নাম আমার জন্মদাত্রী মায়ের দেয়া। সে কেন এই নাম দিয়েছে জানিনা। তবে ছোট মা বলেছেন যে আমার জন্মদাত্রী মা নাকি খুব গল্পের বই পড়তেন। আমার ধারণা সেখান থেকেই এই নাম দেয়া। আমি এখন বিএ সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি। বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সেটা তো আপনার জানা আছে। চিঠির সঙ্গে আমার ছবিও পাঠানো হবে। কেন যেন মনে হচ্ছে আমাকে আপনার পছন্দ হবে না। তবুও বৃষ্টিলেখায় আপনার নিমন্ত্রন রইলো। কোনো এক বসন্তে চলে আসুন। ভালো না লাগলেও খারাপ যে লাগবে না সেটুকু বলতে পারি। দুটো কথা বলে দীর্ঘ চিঠির ইতি টানব। পলিনের আপনাকে পছন্দ হয় নি। অপছন্দের কারন বলে নি। তবে আমার ধারণা আপনার কোনো ভাই নেই তাই ও অপছন্দের কথা বলেছে। আর আমার নাম বৃষ্টিলেখা হলেও বৃষ্টি আমার খুব অপছন্দের। নাম শুনে অসাধারণ টাইপ কিছু আশা করে থাকলে ধাক্কার জন্য তৈরী থাকুন।
‘বাড়ির নাম বৃষ্টিলেখা’ একটি যৌথ পরিবারের গল্প, যেখানে এক ছাদের নিচে মা-বাবা, চাচা-চাচি, দাদি, ফুপু, ভাই-বোন সবাই মিলে থাকে। যদিও মাঝেমধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, দিনশেষে সবাই আবার এক হয়ে যায়। বাড়ির বড় মেয়ে বৃষ্টিলেখা, যার পাশের বাড়ির আবিরের সঙ্গে বহু বছর কথা বন্ধ। তবে এই দূরত্বের পেছনে রয়েছে অভিমানের পাহাড়।
গল্পে আরেক চরিত্র পলিন, যে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, আর ফেলটুস! অঙ্ক ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুতেই তার দারুণ আগ্রহ। তার ইচ্ছে বুবুর সঙ্গে একই বাড়িতে বউ হয়ে যাওয়ার। পলিনকে পড়ানোর দায়িত্ব পড়ে আবিরের ছোট ভাই আতিফের ওপর, যে পুরোপুরি পলিনের বিপরীত।
এরই মধ্যে হঠাৎ গল্পে প্রবেশ করে সাহ্নিক, যার সঙ্গে একসময় বৃষ্টিলেখার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সাহ্নিক যেন এক অবেলায় আসা বৃষ্টি। হঠাৎ করে এসেই কিছুক্ষণ থেকে আবার হারিয়ে যায়, কিন্তু রেখে যায় গভীর চিহ্ন। পুরো গল্পে সাহ্নিকের উপস্থিতি নাতি দীর্ঘ হলেও এই চরিত্রটির জন্য একফোঁটা জল আপনার চোখে আসবেই।
পাঠ্যানুভূতি:
"বাড়ির নাম বৃষ্টিলেখা" সাদামাটা প্লটের গল্প। যে-সময়ের গল্প সে-সময়ে এখনকার মতো সবার হাতে মোবাইল ফোন নেই। চিঠিযুগও শেষ প্রায়। তবুও মান-অভিমানের কাছাকাছি থেকেও চিঠির মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। বইটার আহামরি প্লটও নেই। কিছু চমৎকার ঘটনাবলি আর হাস্যরসের পুরো উপন্যাস। না আছে থ্রিল, না আছে রোমান্টিসিজম। কিছু স্নিগ্ধ অনুভব, মিষ্টি প্রেম নিয়েই এই উপন্যাস।
বইয়ের প্রত্যেক পৃষ্ঠায় খুব সাধারণ গল্প আর ঘটনা, তবুও প্রায় লেখা জুড়েই আছে এক অদ্ভুত ভালো লাগা আর মুগ্ধতার ছোঁয়া।
গল্পের সবচেয়ে মিষ্টি অংশ ছিল হাতে লেখা চিঠি। সেই চিঠিগুলো এত মিষ্টি আর হাসির, যে পড়ে বারবার নস্টালজিক লাগছিল। চিঠি আর সাদামাটা ঘটনাগুলোই এই গল্পকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
কিছু বই থাকে, যা আমরা পড়া শুরু করি বিন্দুমাত্র প্রত্যাশা ছাড়াই। কিন্তু পড়া শেষে হৃদয়ে এক গভীর মুগ্ধতা এনে দেয়। ‘বাড়ির নাম বৃষ্টিলেখা’ ঠিক তেমনই এক উপন্যাস। রঙচটা দেয়ালে লেখা নামটিই যেন এক গভীর ভালো লাগার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। কোনোরকম আশা ছাড়াই পড়া শুরু করলাম কিন্তু পড়া শেষে একরাশ মুগ্ধতার ভীড়ে হারিয়ে গেলাম। 🍂🤎
লেখিকার লেখনী:
লেখিকা সাবিকুন নাহার নিপার লেখনী খুবই সাবলীল। শব্দচয়নে নেই কোনো দুর্বোধ্যতা। সাধারণ কাহিনীকে তিনি এমন সহজ আর মুগ্ধতার সুরে বেঁধেছেন যে পড়তে পড়তে মনে হয় যেন কোনো চেনা পরিবারের গল্প শুনছি।
পাঠকদের জন্য :
নতুন কিংবা অভিজ্ঞ, সব ধরনের পাঠকের জন্যই এই বইটি উপভোগ্য। যারা যৌথ পরিবারের মিষ্টি, হালকা-ধাঁচের গল্প ভালোবাসেন, তাদের জন্য ‘বাড়ির নাম বৃষ্টিলেখা’ এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইটা শুরু করেই বুঝতে পারছিলাম এটার সময়কাল একদমই আমাদের আগের জেনারেশন। অর্থাৎ আমাদের মা-বাবাদের জেনারেশন। তখনকার সময় নিয়ে লেখা সহজ। অনেক লেখালেখি হয়েছে। যারা ওই সময়কার না তারাও লিখছে। কিন্ত এতসব বইয়ের মধ্যে এই বইটা ওই সময়টাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে। মূলত আগের সময়টা জানতে আর বুঝতে চাওয়ার ইচ্ছার জন্যেই উপন্যাসটা আমার ভালো লেগেছে।
বইয়ের প্রথম অর্ধেক একদমই শরৎচন্দ্র টাইপের। ভেবেছিলাম দেবদাস, কিংবা মহিলা দেবদাস পেতে যাচ্ছি। তারপর কি পেলাম সেটা বলতে চাচ্ছি না।
যে জিনিসটা বিরক্ত হয়েছি সেটা হলো বইয়ের চরিত্রগুলো বেশিই হাসাহাসি করছে। জানি যে বাসায় মেয়ে বেশি থাকে সেখানে খিলখিল হাসির শব্দ শোনা যায়-ই তবে বইটায় একটু বেশি বেশি হাসাহাসি। প্রত্যেকটা পৃষ্ঠায় তিন-চারবার করে লিখা।
বইটায় কয়েক জায়গায় কিছু ভুল আছে। সম্ভবত বেখেয়ালি ভুল ছিলো সেগুলা। অমনোযোগী পাঠকের জন্য সমস্যা হবে না।
বইটা আমার পড়ার কথা না, আমি জানতামও না এরকম কোনো বই আছে। তবে বইটা আমি কোনো এক কারণে অনেক খুজেছি। পুরো বাংলাবাজারে হলুদ কভারের বইটা পাচ্ছিলাম না। তখন আরেকটা প্রকাশনী বইটা বাজারে নিয়ে আসলো। কিন্ত আমার কোনো এক কারণে হলুদ কভারটাই লাগতো। এমনই একদিন কিভাবে যেন চকচকা হলুদ কভারের বইটা পেয়ে যাই। তারপর পড়লাম।
বইটা পড়া শুরু করার পর বৃষ্টি হয়নি, কিন্ত শেষ করার সময় বৃষ্টি হচ্ছে।