⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ⚊ ❛ব্ল্যাক ক্রস❜
❝...মোট চারটে রং আছে। সবুজ দ্বারা বোঝানো হয় সাফোকেটিং গ্যাস, এর প্রদান উপাদান মূলত ক্লোরিন আর ফসজিন। কাঁদানো গ্যাসের জন্য ব্যবহার করা হয় সাদা রং৷ হলুদ রং দিয়ে বোঝানো হয় ব্লিস্টের গ্যাস, প্রধানত মাস্টার্ড। মলিকিউলার রেস্পিরেশন অর্থাৎ যে-সব গ্যাসের কারণে মানুষ দম আটকে মারা যায়, সে-সব গ্যাসকে চিহ্নিত করা হয় নীল রং দিয়ে।...❞
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! এই যুদ্ধ নিয়ে আপনার মস্তিষ্কে—ঠিক কতটু��ু জ্ঞান আহরণ করা আছে? হয়তো আপনি সেলুলয়েডের পর্দায় অথবা অনেক সিনেমা বা টিভি সিরিজ দেখে থাকবেন—যেখানে চলা দীর্ঘ সংলাপের বিরতিতে যুদ্ধবিমানের হামলা, মাটিতে বোমা বর্ষণের স্ফুলিঙ্গ, সমুদ্রের ওপরে যুদ্ধজাহাজের তাণ্ডব আর গভীরে সাবমেরিনের কৌশলী পদক্ষেপের চিত্র বড্ড পরিচিত। এমন অভ্যস্ত করা বিষয়—চিত্তকে যতটা রোমহর্ষণ করে; তার চেয়েও বেশি করে নাৎসি (বইয়ে বানান—নাজি) বাহিনীর করা নির্দয় অত্যাচার। কী এমন করে তারা? কেন এত ক্ষোভ ইহুদি, পোলিশ, আমেরিকান, বিট্রিশ-সহ অন্যান্য জাতির প্রতি?
বলছি, তবে ধীরে। কারণ ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ লেখা হয়েছে অত্যন্ত দক্ষ হাতে রয়েসয়ে। এই উপন্যাসের পটভূমি তৈরি হয়েছে ১৯৪৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেন্দ্র করে। যখন অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি বাহিনী প্রায় কোণঠাসা অবস্থায় জর্জরিত। তখন যুদ্ধের মোড় ও আত্মবিশ্বাস পুনর্জীবিতের উদ্দেশে যে ব্যক্তি হিটলারের পরে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে সে হচ্ছে—হেনরিখ (হাইনরিখ) হিমলার। হিমলার, হিটলারের নাৎসি পার্টির মূল ব্যক্তি এবং ইহুদিদের স্বপ্ন��—দুঃস্বপ্ন হয়ে হানা দেওয়া একজন এসএস নেতা। প্রবল বর্ণবাদী ও ইহুদি জাতিকে ধূলিসাৎ করার প্রবণতা হিমলারকে বানিয়েছে সাক্ষাৎ শয়তানে।
হিমলার যে ‘হলোকাস্ট’-এর সাথে সরাসরি অভিযুক্ত একজন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘হলোকাস্ট’ এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘হলোকাস্টন’ থেকে। যার অর্থ—আগুন দিয়ে হত্যা করা। এই হলোকাস্ট সম্পূর্ণ রূপে অর্পিত হয়েছে ইহুদিদের বিরুদ্ধে। মূলত ইহুদি নিধনের লক্ষ্যে হলোকাস্ট পরিচালিত হতো। তবে এই হলোকাস্ট থেকে আরও ভয়ংকর এক প্রক্রিয়া পদ্ধতি নিয়ে রচিত ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ উপন্যাস৷ সেই প্রক্রিয়া হলো এক প্রাণঘাতী গ্যাস। কোড নেম—ব্ল্যাক ক্রস!
ব্ল্যাক ক্রস কোড নেম হলেও শক্তিশালী এই নার্ভ গ্যাসটির নাম—সোমান। বাতাসের চেয়ে বেশি ভারী, দীর্ঘস্থায়ী, বিপুল ফলদায়ক, ধ্বংসাত্মক এই গ্যাস—ক্ষণিকের মধ্যে অসংখ্য মানুষ মেরে ফেলতে সক্ষম! স্বয়ং হিমলারের রক্ষণাবেক্ষণে জার্মানির বিভিন্ন ল্যাবে তৈরি করা হচ্ছে এই গ্যাস। সেইরকম একটি ল্যাব রয়েছে ‘টটেনহাউসেন’ নামক এক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। এই ব্ল্যাক ক্রস গ্যাস উৎপাদনের মূল কারিগর টটেনহাউসেনে ক্যাম্পের কমাড্যান্ট ক্লস ব্রান্ড। নিষ্ঠুর, পিশাচ ও ধীমান এই ডাক্তারের অধীনে গ্যাস কার্যকারিতার গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইহুদি-সহ অন্যান্য জাতির বন্দিদের। সেই বন্দিরা শুধুমাত্র গিনিপিগ হিসেবে নির্বাচিত হলেও, এসএস ও এসডি সেনাদের বাহুল্য উৎপীড়নের প্রতিনিয়ত মরণ শিকারে ভীতগ্রস্থ জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে।
⚊
❛ব্ল্যাক ক্রস❜ উপন্যাসের টুইস্ট ও টার্ন প্রত্যাবর্তিত হয়েছে টটেনহাউসেন ক্যাম্প কেন্দ্র করে৷ নাৎসি বাহিনী ও হিমলারের তত্ত্বাবধানে থাকা এই ভয়ানক গ্যাসের প্রতিঘাতে ব্রিটিশ প্রেসিডেন্ট উইনস্টন চার্চিল ও বিগ্রেডিয়ার ডাফ স্মিথ মিলে ছক কষেছেন এক অভিনব ক্রিয়াসাধক কৌশলের। যে কৌশলের ওপর নির্ভর করে আছে যুদ্ধ জয়ের চাকা।
কী সেই কৌশল সেটা না বলি। তবে কৌশল সংঘটিত করার জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণ, সাহসী, দূরদর্শী এমন কমান্ডো। সেই কমান্ডোর ভূমিকায় বিগ্রেডিয়ার স্মিথ বেছে নিয়েছেন তরুণ আমেরিকান ডাক্তার মার্ক ম্যাককনেল এবং নির্ভীক ইহুদি যুবক জোনাস স্টার্নকে। দুজন দুই মেরুর যোদ্ধা। কীভাবে তাদের এই মিশনে যুক্ত করানো হয়েছে এবং কোন প্রেক্ষিতে—সেই ঘটনা আরও দুর্দান্ত। একেবারে মোক্ষম চাল যাকে বলে অথবা সুযোগের সদ্ব্যবহার।
যাহোক, পুরো বিষয়টি যুদ্ধ বিষয়ভিত্তিক নিয়ে হলেও ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ উপন্যাসে প্রত্যকটি চরিত্রের নিখুঁত পর্যালোচনা ও মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। একে-তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কাহিনি, তার ওপর ভীতিপ্রদ আর নৃশংস কার্যক্রমে ঠাসা এই উপন্যাস এক কথায়—অনবদ্য। শুধু বলব, এই রকম উপন্যাস বারবার পড়ার সৌভাগ্য সব পাঠকের হয় না। আর যারা যুদ্ধ নিয়ে বা যুদ্ধের আনুষঙ্গিক বিষয়বস্তু নিয়ে জানতে পছন্দ করেন এবং কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দিদের প্রতি নাৎসি বাহিনীর প্রকৃত ঘটনার অবলোকন করতে ইতস্তত বোধ না করেন তবে এই বই নির্দ্বিধায় হাতে তুলে নিতে পারেন। প্রেম-ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব বোধ, সন্তানের প্রতি নিবেদিত প্রাণ-সহ আরও অনেক অনুভূতি ঘিরে তৈরি হয়েছে ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ উপন্যাস।
➲ আখ্যান—
প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। হার মেনে নেয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে জার্মান সেনাবাহিনী। মিত্রবাহিনীর জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
কিন্তু এখনও শেষ একটা তাস আছে হিটলারের হাতে। সোমান নামের এক ভয়ঙ্কর বিষাক্ত গ্যাস আবিষ্কার করেছে তার বিজ্ঞানীরা। টটেনহাউসেন নামের এক ক্যাম্পে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে এই গ্যাস, এর সাঙ্কেতিক নাম ব্ল্যাক ক্রস। হার যদি নিশ্চিত হয়, তবে এই গ্যাস ব্যবহারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না ফুয়েরার।
টটেনহাউসেন ধ্বংস করতে রওনা দিল জোনাস স্টার্ন আর মার্ক ম্যাককনেল নামের দুই কমান্ডো। বিমান থেকে ওরা প্যারাসুটে করে নেমে পড়লো জার্মানির অভ্যন্তরে।
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
❛ব্ল্যাক ক্রস❜ উপন্যাসের তাত্ত্বিক বিষয়বস্তু সীমাহীন। অর্থাৎ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যাবতীয় যত কার্যসিদ্ধির প্রয়োজনীয় লক্ষ করা যায়; সেই সব উপাদান এই উপন্যাসে বিদ্যমান। পর্যালোচিত সংলাপ এবং পারিপার্শ্বিক আবহের বর্ণনার সংমিশ্রণে উপন্যাসের প্রতিটি পাতা হয়েছে জীবন্ত। যেন কোনো ঘটনা, আমি জেগে থেকেও উপলব্ধি করতে পারছি বাধাহীনভাবে। উপন্যাসের যত গভীরে প্রবেশ করছি ততই জাগ্রত হয়েছে আমার বিক্ষিপ্ত স্মৃতিরা। আমি কখনও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি, নিজ চোখে অবলোকন করিনি নাৎসি বাহিনীর নারকীয়তা; তবুও আমি যেন উপন্যাসের প্রথম পাতা থেকে খুলে যাওয়া পোর্টালের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে বিচরণ করেছি পুরোটা সময়। ভাগ্যের নাটকীয়তা আর যুদ্ধের নারকীয়তার মেলবন্ধনে সৃষ্টি ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ সত্যিকার অর্থে রোমাঞ্চকর এক উপন্যাস বটে।
● সূত্রপাত—
গল্পটা শুরু হয় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার মার্কের দাদা-দাদিকে কেন্দ্র করে। মার্কের দাদা মার্ক ম্যাককনেল; যিনি টটেনহাউসেন ক্যাম্পে যাওয়া দুজন কমান্ডোর একজন। মারা যাওয়া মার্কের দাদির শেষকৃত্যে হাজির হয়ে র্যাবি লেইবোভিটয নামের এক ভদ্রলোক। যিনি মার্কের দাদার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ও তৃতীয় মার্ক ম্যাককনেলের কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে ঘটনা প্রসারিত হতে থাকে। মার্ক পেশায় একজন ডাক্তার ঠিক তার দাদার মতোই। কথোপকথন বিষয়বস্তু হচ্ছে দাদা মার্ক ম্যাককনেল অর্জিত ও বিবর্জিত যত ঘটনা নিয়ে। আর সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে হাজির হয়েছে লেইবোভিটয। প্রথমে উত্তম পুরুষে কাহিনি শুরু হলেও পরবর্তী লেখকের বর্ণনাতে পুরো ঘটনা বিবর্তিত হতে থাকে। শুরুতে আকর্ষিত হওয়ার মতো ঘটনা থাকার কারণে সাবলীলভাবে গল্প এগিয়ে যায়। শুরু থেকে কাহিনি ধীর গতিতে চলতে থাকা, ধৈর্য ও একাগ্রতা দিয়ে গল্পের আবহে ঘাপটি মেরে বসে থাকা গেলে—তবেই এই বইয়ের আসল মজা টের পাওয়া যাবে। আপনি যদি স্থিরচিত্তের হোন, তবেই বইটি নিয়ে বসুন।
● গল্প বুনট • লেখনশৈলী • বর্ণবিন্যাস—
লেখক গ্রেগ আইলসের গল্প বুননের পারদর্শিতা ক্ষণে ক্ষণে আমাকে মুগ্ধ করেছে। এর নিখুঁত আর গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যে একজন লেখকের মস্তিষ্কে থাকতে পারে তা এই বই না পড়লে বোঝা যেত না। তা-ও যে-সব বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা তা অনাড়ম্বরভাবে ব্যাখা করা বেশ কষ্টসাধ্য। সেই দুরূহ কাজকে সরল লেখনশৈলীর মাধ্যমে স্বচ্ছ বর্ণনার সহিত দেখিয়েছেন তিনি। সংলাপের প্রয়োজনীয়তা ও ঘটনা বিবরণের প্রায়োগিকতা দুটোই ব্যালেন্স রেখে করেছেন। এই উপন্যাসের প্রাণ হচ্ছে সংলাপ। অনেক পাঠক এতে বিরক্ত হতে পারেন, তবে আমার এই সংলাপ নিয়ে খেলা বেশ ভালোই লেগেছে। অহেতুক বা অনাবশ্যক কোনো সংলাপ এই উপন্যাসে ছিল না। আর পুরো ঘটনার বিবরণ আমি যেন—কোনো বিগ স্ক্রিন টেলিভিশন সেটের সামনে বসে আয়েশ করে উপভোগ করেছি। এই বই পড়ার অভিজ্ঞতা আমার অনেক দিন মনে থাকবে।
● চরিত্রায়ন—
পেট মোটা বই যেহেতু—তাই চরিত্রের সংখ্যা নেহাত কম নয়। স্বতন্ত্র সব চরিত্র দিয়ে সাজানো এই উপন্যাসের চরিত্রায়ন। শুধুমাত্র বিগ্রেডিয়ার স্মিথ, মার্ক ম্যাককনেল, জোনাস স্টার্ন ছাড়াও মনে রাখার মতো চরিত্রের অভাব নেই। এমনকি টটেনহাউসেন ক্যাম্পের মেজরের চরিত্র থাকা স্কর্নার, ইহুদি নারী র্যাচেল, নার্স অ্যানা ক্যাস ব্যক্তিত্ব নিয়েও আপনি ভাবতে বাধ্য হবেন। অসাধারণ সব কৌশল আর বুদ্��িদীপ্ত পদক্ষেপের কারণে চরিত্রগুলো যেন আমাদের চেনাশোনা কেউ। তাদের আগে কোথাও দেখেছি, উপলব্ধি করেছি—বলে বারবার মনে হবে।
● অবসান—
একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বইয়ের প্রশান্তির সমাপ্তি। অনেক দিন, এমন মন ভালো করা সমাপ্তির বই পড়িনি। এই বই দীর্ঘদিন মনে রাখার আরও একটি উপযুক্ত কারণ হবে এটি। লাভ দ্যাট।
● খুচরা আলাপ—
এই বইয়ের খুচরা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটাই শব্দ মাথায় ���ুরপাক খায়, আর তা হলো—মনুষ্যত্ব। কামিনী রায়ের লেখা ‘সকলের তরে সকলে আমরা’ কবিতার লাইনগুলো তখন মাথায় বারবার বাজতে থাকে। আমরা কি আধো পেরেছি, মানুষ হতে? মানুষ হয়ে মানুষের ওপর করা অত্যাচার, কঠোরতা প্রদর্শন; আজও কি মন থেকে ছুড়ে ফেলে দিতে পেরেছি? এই প্রশ্ন অন্যকে নয়, নিজেকে নিজে করে দেখুন একবার৷ ক্ষমতা দখল করে অপব্যবহারে মত্ত মানুষগুলোর পরিণতি কতটা করুণ হয়, তা কি আমরা দেখেও দেখি না? কবে আমরা বলতে পারব—সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে? কবে?
➣ লেখক ও অনুবাদক নিয়ে কিছু কথা—
লেখক গ্রেগ আইলসের পড়া প্রথম বই। অথচ মনে হয়, এই লেখা আমি আগেও কোথায় পড়েছি এবং দেখেছি লেখাগুলো জীবন্ত হয়ে ছোটাছুটি করতে। এই বইটি কার কাছে কেমন লেগেছে জানি না, তবে আমার কাছে ❛ব্ল্যাক ক্রস❜ বই থেকেও বেশিকিছু। এই বইয়ের গভীরতা মাপা কঠিন, শুধু উপলব্ধি করে ক্ষান্ত দিতে হয়। লেখককে সাধুবাদ জানাই, অসাধারণ কাহিনি নির্ভর বইটি রচয়িতা করার জন্য৷
মূল লেখক যেমন আমার কাছে নতুন, ঠিক অনুবাদকও। অনুবাদক ইমতিয়াজ আজাদের অনুবাদ করা বই পড়লেও, স্বাদ পেয়েছি মৌলিকের। নির্বাচিত শব্দচয়ন আর সহজবোধ্য বাক্যগঠনের মিশেলে সুখপাঠ্য বইটি পড়তে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ‘সিলিন্ডার রিলিজ’ নিয়ে অংশগুলো বুঝতে কিঞ্চিৎ বেগ পেতে হয়েছে, বেশ প্যাঁচানো পদ্ধতিতে কাজটা করা হয়েছে বলেই। এত সব কঠিন বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা বইটি তা-ও যতটা সহজভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি—সেই সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অনুবাদকের।
● সম্পাদনা ও বানান—
সম্পাদনা ভালো হলেও প্রচলিত অনেক বানানে ভুল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য করে বলার কিছু নেই, পূর্বের মতো একই বানানের প্যাটার্ন অনুসরণ করা হয়েছে হয়তো।
● প্রচ্ছদ—
প্রচ্ছদ কাহিনির সাথে খুব একটা কানেক্টেড করতে পারিনি। ফ্রন্ট পার্টে ট্যাঙ্কের কাজ, বিশ্রামরত সৈন্য দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে বোধগম্য হয়নি। গ্যাস মাস্ক, যুদ্ধ বিমান ও প্যারাসুটে করে নেমে আসা সৈন্য যা রিলেটেড ছিল।
● মলাট • বাঁধাই • পৃষ্ঠা—
শক্ত মলাট আর পোক্ত বাঁধাইয়ের কারণে বইটি একেবারে খুলে পড়া সম্ভব হয়নি। হাতে নিয়ে দুপাশে পৃষ্ঠা টেনে পড়তে হয়েছে। পৃষ্ঠা ক্রিম কালারের হলেও কিছুটা পাতলা মনে হয়েছে। যাহোক, প্রোডাকশন ভালোই। অন্তত টেকসই।
⛃ বই : ব্ল্যাক ক্রস • গ্রেগ আইলস
⛁ জনরা : স্পাই, অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার
⛃ প্রথম প্রকাশ : এপ্রিল ২০২১
⛁ অনুবাদক : ইমতিয়াজ আজাদ
⛃ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন
⛁ প্রকাশনা : চিরকুট প্রকাশনী
⛃ মুদ্রিত মূল্য : ৬০০ টাকা মাত্র
⛁ পৃষ্ঠা : ৫৪৪