ধণাঢ্য ব্যবসায়ীর স্ত্রী লাবণ্য'র হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতে এসে গ্রাজুয়েট/শিক্ষিত মেয়ে তানিয়া জড়িয়ে পড়ে নিয়তির এক নিষ্ঠুর খেলায়। লাবণ্য, লাবণ্য'র ছেলে ইমন, লাবণ্যদের বাড়ির পরিবেশ- সবকিছুই তার কাছে বড্ড বেশি অস্বস্তিকর বলে মনে হতে থাকে। ইমনের গৃহশিক্ষক শামীম স্যার সতর্ক করে দিতে চাইলেও তানিয়া তার ইঙ্গিত বুঝতে পারে না। ধীরে ধীরে যখন সব রহস্য তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন তানিয়ার আর কোনো পথ থাকে না -- সেখান থেকে ফেরার!
কয়েস সামী। ছেলেবেলা থেকেই বইয়ের সাথে তার নিবিড় বন্ধুত্ব। সাহিত্যকে ভালোবেসে পড়েছেন সিলেটের এমসি কলেজের ইংরেজিতে। পড়তে পড়তে লেখালেখিতে ঝুঁকে পড়েন একসময়। আনন্দ খুঁজে পান গল্প বলায়। সহজ সরল ভাষায় গল্প বলাতেই পছন্দ করেন বেশি। তাঁর লেখা লাকি থার্টিন গল্পগ্রন্থটি দেশ পান্ডুলিপি পুরস্কার অর্জন করে নেয় ২০১৯ সালে। পেশায় ব্যাংকার হওয়ায় লেখালেখির জন্য সময় খুঁজে বের করা কষ্টকর হয়ে পড়ে অনেক সময়। তবু তিনি সময় বের করে নেন—নেশার টানে, ভালোবাসার টানে।
লেখক কয়েস সামীর ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ নামক বইটি আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় বই। এর আগে তাঁর ‘টিউশনি’ নামক বইটির মাধ্যমে লেখকের লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে। এবারের বইমেলায় (২০২৩) প্রকাশিত লেখকের ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ বইটির মলাটে লেখা আছে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার-যার সত্যতা আমরা কাহিনীর মধ্যে খুঁজে পাই। অনুজ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ যেমন সুন্দর, তেমনি এর বাঁধাই, কাগজ সবকিছুতেই আছে আভিজাত্যের সুস্পষ্ট ছাপ। কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম কোন এক লেখক বলছেন, সামনে বছর থেকে উক্ত লেখকের প্রতিটি বইয়ে থাকবে প্রুফ রিডারের নাম। আমরা কয়েস সামীর এই বইটিতেই দেখতে পাই প্রুফ রিডিং করেছেন যে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন (বানান আন্দোলন)- তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। যেটা একটা ভালো উদ্যোগ বলেই মনে করি। তবে মলাটের উপরে লেখা একটা বিষয় নিয়ে কিছুটা খটকা লাগে। প্রচ্ছদে সুন্দর ফ্রন্টে লেখা বইয়ের নাম ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ এর নিচে লেখা আছে-প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় খণ্ড। শুরুতেই মাথায় আসে তিনটি খণ্ড কি আলাদা আলাদা ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল? এখন এক খণ্ডে প্রকাশিত হচ্ছে?— এর প্রকৃত উত্তর জানা না গেলেও বইয়ের ভূমিকায় লেখকের কথা দেখে বিষয়টা আন্দাজ করা যায়। তাঁর ভাষ্যমতে বইটির কাহিনী ফ্রিদা ম্যাকফ্যাডেন এর লেখা দ্যা হাউজমেইড নামক গল্প থেকে নেওয়া। তার অর্থ এমন হতে পারে যে, মূল বইটি তিনটি খণ্ডে লেখা। তবে ধারণামতে লেখক সম্পূর্ণ বইটি এক খণ্ডেই প্রকাশ করেছেন। যেহেতু লেখকের মতে বইটি হুবহু অনুবাদ নয়, তিনি যেহেতু গল্পটি পড়ে দেশীয় পাঠককে নিজ ভাষায় নিজ আঙ্গিকে গল্পটি বলতে চেয়েছেন— তাই অন্তত বইয়ের মলাটে তিন খণ্ডের কথা উল্লেখ না করলেই ভালো হতো। গল্পটি উনি তিন খণ্ডেই বলুন, কিন্তু মলাটে এই তিন খণ্ডের বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। লেখক নিজের আঙ্গিকে লিখলেও গল্পের শুরুটা বিদেশি কাহিনীর বাংলা অনুবাদের মতোই লেগেছে। শুধু সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন লেখার ধরণকে পাল্টাতে পারে না। তবে ধীরে ধীরে সেই অনুবাদের ধারা পালটে লেখক নিজের লেখার ধরণে ফেরত যেতে পেরেছেন বলেই মনে করি। এবার যদি আসি গল্পের কথায় তবে বলতে হবে গল্পটি ভালো। তিন খণ্ডের প্রথম খণ্ডে গল্পটি খাড়া করা হয়েছে মাত্র। সেখান থেকে আন্দাজই করা যায় না কী ধরণের গল্প এটি হতে চলেছে বা কীই বা এর কাহিনী। দ্বিতীয় খণ্ড যখন শেষ হয় তখন আমরা গল্পের ধারণাটা পেয়ে যাই। এবং আমার কাছে দ্বিতীয় খণ্ডের শেষটাকেই বেশী থ্রিলিং লেগেছে। শেষ পর্বে গিয়ে লেখক দ্বিতীয় পর্বের সেই উত্তেজনা আর ধরে রাখতে পারেননি বলেই আমার মনে হয়। এর প্রধান কারণ হতে পারে গল্পের আকার। যেহেতু একটি মাত্র সাসপেন্সকে কেন্দ্র করে গল্প, তাতে একটা টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে হলে গল্পটা আকৃতিতে ছোট করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এখন কথা উঠতে পারে, টানটান উত্তেজনা থাকবেই এমন কোন কথা আছে কি? যেহেতু বইটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, সেহেতু একটা উত্তেজনা মনের মধ্যে বাসা না বাঁধলে গল্পটা ঠিক জমবে না। আরেকটা বিষয়ে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না। সমসাময়িক বইগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপস্থিতি খেয়াল করা যায়। এবং প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই এর যথার্থ ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায় না। এই আছে এই নেই টাইপে সেগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যেটা কিছুটা হতাশার। এই বইটিতেও সেটা লক্ষ্য করা গেছে। কিংবা এমন হতে পারে এসব মাধ্যমগুলোর কথা আমরা এখনো বইয়ের পাতায় পড়তে পুরোপুরি অভ্যস্ত হইনি।
বইটা বেশ ভালো লেগেছে। আমি আর আমার ওয়াইফ, দুইজনে একসাথে পড়েছি এবং এনজয় করেছি। এই জনরায় বেশি বই পড়া হয়নাই আমার। গল্পের লাস্টের টুইস্ট গুলো বেশ ভালো লেগেছে।