প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক রাজশেখর আচমকা হাতে পেয়ে যায় এক গোপন ম্যাপ। ম্যাপটা সত্যি হলে উল্টে-পাল্টে যাবে পৃথিবীর চেনা ইতিহাস। কিন্তু সে জানে বৃটিশ সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি মহাশক্তিধর রানীর অনুগ্রহে বেড়ে ওঠা এক মানুষ শিকারী তার পেছনে ধেয়ে আসছে। রাজশেখর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গভঙ্গের উত্তাল আন্দোলনের সময়ে হানা দেয় কলকাতার মার্বেল প্যালেসে। মরিয়া হয়ে খুঁজতে থাকে এক গোপন কুঠুরি। সব রহস্য ওখানেই লুকিয়ে আছে.
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্ত ড. ইসলাম বুঝতে পারেন জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যে তিনি জড়িয়ে পড়েছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনায় প্রাচীন ইতিহাস খুঁড়ে আনতে গিয়ে তিনি পা দিয়ে ফেলেন ক্ষমতাধর বুকানস্কির লেজে। আড়ালে থেকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে ড. ইসলামের চারপাশ। ড. ইসলাম বুকানস্কির সব বাধা উপেক্ষা করেও মরিয়া ছুটতে থাকেন রহস্যের চাবির পেছনে। কেবল মাত্র ওই চাবিটাই দিতে পারে ‘পশ্চিমের পিতা’ নামক এক জটিল-প্রাগৈতিহাসিক রহস্যের সমাধান। কিন্তু রহস্যের চাবি নিয়ে পালিয়েছে এক রহস্যময়ী.
হাজার হাজার বছর পেছনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর প্রথম দার্শনিক ইসাক এক অবিশ্বাস্য গল্প নিয়ে হাজির হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি গল্পটা সে হাজার হাজার বছর পূর্বে বলেছে আপনার জন্যেই! তার গল্পের সময়জালে চমকের বদলে উঠে আসে চিন্তাশীলতার মত মণি-মুক্তো। উঠে আসে মানুষের প্রাগৈতিহাসিক সংঘাতের মহাকাব্যিক বয়ান। যে সংঘাতের মূলে লুকিয়ে আছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র- আদর্শের দ্বন্দ্ব.
Place of Birth: Kawkhali, Rangamati, Bangladesh. Born on December 26, 1985. Studied and grew up in Chittagong City, Bangladesh. Completed graduation and post-graduation in English literature at Chittagong Government City College, Bangladesh. Currently a postgraduate student of media communication and journalism at Stamford University Bangladesh. Works as a Public Relations Officer for a state-owned company. Preferred subjects in writing: psychology, satire, history, fantasy, and philosophy. Published books: Father of the West (a historical thriller), Secular Psychology (prose), etc.
ফ্ল্যাপ থেকেঃ ড. ইসলাম- একজন আর্কিওলজিস্ট। ভূমিকম্পে হঠাৎ বেরিয়ে পড়া প্রাচীন গুহায় পাওয়া এক রহস্যময় ইতিহাসের ধাঁধা মেলাতে পথে নামেন। সে বিস্ময়কর ইতিহাস দিতে পারে পশ্চিমের পিতার সন্ধান। পশ্চিমের পিতার রহস্যে জড়িয়ে ড. ইসলাম আবিষ্কার করেন, পিছু নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধী বুকানস্কি... কিন্তু কেন?
বুকানস্কির এজেন্ট গ্রেফতার হলেও তাকে পাগল করে তোলে রহস্যের চাবি নিয়ে পালানো এক রহস্যময়ী। প্রতিবারই জাল ছিঁড়ে পালাচ্ছে সে। অন্যদিকে তিনি মুখোমুখি হন এক ভয়ংকর খুনীর। নিজেকে প্রেতাত্মা বলে পরিচয় দেয় সে। কী চায় প্রেতাত্মা?
আলোতে আসা অবিশ্বাস্য ইতিহাস আমাদের হাজার হাজার বছর পিছিয়ে নিয়ে কোন স্বর্গনগরের গল্প শোনাতে চায়? স্বর্গনগরে আগত সুদর্শন, সাহসী যোদ্ধা বুসিলকে কেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, দানবের মত শক্তিমান মাসুর? অপ্রতিরোধ্য মানুষখেকো শান্তানরা কোন ধ্বংসের বার্তা নিয়ে ছুটে চলে? পশ্চিমের পিতার সাথে স্বর্গনগরের কী সম্পর্ক? পশ্চিমের পিতাই বা কে?
এসবের উত্তর পেতে আপনাকে বেরুতে হবে এক রুদ্ধশ্বাস যাত্রায়। যে যাত্রায় আছে- বিদ্রোহ, প্রতারণা, রহস্য, ভয়... হারানোর বেদনা।
পাঠক আপনি কি প্রস্তুত?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটা বেশ ভিন্নধর্মী টপিকে লেখা। মিথ, গ্রিক মিথলজি ও থ্রিলারের দারুণ একটি কম্বিনেশন ঘটেছে বইটিতে। মূলত তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও টাইমলাইনে এগিয়েছে বইটি।
বইয়ের ১ম পর্বের গল্পের বুনন ও ফ্লো বেশ চমৎকার ছিল। শুরুতে আদি পার্থেনন নিয়ে রাজ শেখর ও ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ জেমসের করা এক ধ্বংসলীলাকে দেখানো হয়েছে। যা গল্পের এক দারুণ শুরুটা এনে দেয়। সত্যি বলতে, গল্পের শুরুটা এতো চমৎকার ভাবে হয়েছে সেই সাথে গ্রিক মিথলজির সংমিশ্রণ তো ছিলই যেটা যে কোনো পাঠকের কাছেই খুব আগ্রহ জাগানিয়া হবে। শুরুতেই এমন টপিক পেয়ে পাঠক যে গ্রোগ্রাসে গিলতে চাইবে, তা আর বলার বাকি রাখে না।
বইয়ের ২য় পর্বে আমরা দেখতে পাই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট। যেখানে বিশাল এক ভূমিকম্পে বেড়িয়ে আসে প্রাচীনতম এক গুহা। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালনায় ছিলেন ডঃ ইসলাম। ভূমিকম্পে বেড়িয়ে আসা সেই প্রাচীনতম গুহা থেকে তিনি বের করে আনেন ৮০০০ বছরের পুরোনো প্রাগৈতিহাসিক চিহ্ন। এদিকে ডঃ ইসলামের পিছনে লেগে যায় পশ্চিমাদের গড়া আন্তর্জাতিক অপরাধী সংঘটন বুকানস্কি। কিন্তু কেন তারা এমন উঠে পড়ে লেগেছে? অবশ্য বাকিটা বলতে গেলে হয়তো স্পয়লার দিয়ে দিবো তাই আর কথা না বাড়িয়ে এই পর্বে যেসব দৃষ্টিকটু দিক চোখে পড়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ওয়েল, আমার দৃষ্টিতে ২য় পর্বের গল্পে কিছুটা দূর্বলতা পরিলক্ষিত করেছি। খানিক প্লট হোল লক্ষ্য করা গেছে তবে তা খুবই সামান্য। লেখক বর্তমান সময়ের আবহটাকে সংমিশ্রণ করতে পেরেছেন ঠিকই কিন্তু কিছুক্ষেত্রে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়টা একটু ড্রামাটিকই মনে হয়েছে।
এবার আসি আমার সবচেয়ে প্রিয় পর্বে। বইয়ের ৩য় পর্বে লেখক নিয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতায়। খ্রীস্টপূর্ব ৮০০০ হাজার বছরের ইতিহাস, যেখানে দেখানো হয় হাজার বছরের ঐতিহ্য লালিত কিছু মানুষের জীবনধারা। আর্য তথা আলফাদের জীবন যুদ্ধে হার না মানা, অনবরত ঘাত প্রতিঘাতে বার বার ছন্দপতন হতে হতেও জীবন বাজি রেখে ঘুরে দাঁড়ানো। লিখেছেন এক প্রাগৈতিহাসিক মহাকাব্য।
বইটি পড়তে গিয়ে কখনো ইতিহাসের পথে হেঁটেছি, তো কখনো দেখেছি ঘুড়ে দাঁড়ানো গল্প। তিনটি সময়কালকে তিন পর্বে ভাগ করে এক জায়গায় এনে শেষ করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। এবং লেখক তা ভালোভাবে পরিপূর্ণ করতে পেরেছেন। বইটির ১ম পর্ব ও ৩য় পর্বের গল্পের বুনটটা সত্যিই চমৎকার সেই সাথে মিথলজির সংমিশ্রন বইটাকে আরো সুন্দর করে তুলেছে। পাঠক উপলব্দি করতে পারবেন লেখকের অসংখ্য দিনের গবেষণালব্দ পরিশ্রম যা বৃথা যায়নি। এই বইটির পিছনে লেখকের রাতজাগা গবেষনা সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
যেভাবে লেখক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি মৌখিক বা লৌকিক সাহিত্যকে তথ্য- উপাত্তের ভিত্তির লেখনীতে পূর্ণতা দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে বেশ ভালো উদ্যোগ। একইসঙ্গে চমৎকার কাজ।
স্টোরি টেলিংঃ বইয়ের গল্পের স্টোরি টেলিং হয়েছে যথাযথ ভাবে। বেশ দাপুটে প্লট ছিলো। প্লট মেকিং ও স্টোরি বিল্ডাপ করা হয়েছে সুন্দরভাবে, এছাড়াও বইয়ের সেটিং ও থিম এনালাইসিস ছিলো দারুণ। সাধরণত লেখক এসবের সমন্বয়ে একটি বই রচনা করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। আর লেখক সেখানেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণত্ব দেখিয়েছেন।
ব্যাক্তিগত মতামতঃ লেখক সর্বসাকুল্যে চেষ্টা করেছেন উপন্যাসটিতে নতুনত্ব দেওয়ার এবং বলতেই হয় তিনি সফল হয়েছেন। লেখকের এ ধরণের নতুনত্ব নিয়ে আসা আমার মনে হয় পাঠককে বইয়ের জগতে একটি নতুন ধারণার সাথে পরিচয় করে দিবে। সর্বশেষ বলতে চাই বইটা বেশ ভালো ছিলো। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। বইটাতে পাঠকদের ধরে রাখার একটা টান আছে। পাঠক বইটি পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত ও উপভোগ্য করবে বলে আমি মনে করি। লেখকের জন্য অসংখ্য ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো।
আপনার মিথ পছন্দ? সাথে থ্রিলারের মিশেল?তাহলে এই মিথলজিক্যাল থ্রিলার জনরার "পশ্চিমের পিতা" বইটা আপনার জন্যই। কিছু বই নিয়ে তুমুল হাইপ উঠা উচিত। প্রচুর আলোচনায় আসা উচিত, কিন্তু কয়েকজন ছাড়া এতো সুন্দর একটা বইয়ের পাতায় তেমন কারোই চোখ পড়েনি❗
‘মানুষ সবসময় আবিষ্কার-উন্মোচনের নেশায় পথে নামে না; ধ্বংসের নেশাও কখনো কখনো মানুষকে পথে নামায়।’ কথাটা নির্ভেজাল সত্য। ঐক্য ছেড়ে একা চলো নীতি হবে আত্মঘাতি। মানবতার ভাবনায় বড় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে পশ্চিমা দেশের অবতলে সবাইকে দাবিয়ে রাখতে হবে এই ধরনের ধ্যানধারণা, চিন্তা কখনও মহৎ কর্ম হতে পারে না। যখন সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয় তখন পশ্চিমা দুনিয়ায় গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখা শুরু হয়েছিল এই বিষয়কে। স্বৈরতন্ত্র, নিজেদের একচ্ছত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে ধ্বংসের নেশা কখনও সঠিক নয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে এটাই হয়ে আসছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষই প্রবৃত্তির এই অদৃশ্য শক্তিশালী চাহিদার শিকার হয়। আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতার পূর্ববর্তী কালে, এশিয়ায় বা অন্যত্র এমনকি প্রাচীন গ্রীস, রোমেও সভ্যতার মধ্যে এই একমুখী ভাব দেখতে পাওয়া যায়। প্রত্যেক সভ্যতা যেন একটি মূল হতে উঠে এসেছে। একটি ভাবকে আশ্রয় করে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এতক্ষণ বলছিলাম আখতার মাহমুদ এর লিখিত উপন্যাস ”পশ্চিমের পিতা” কথা।
▪️গল্প সংক্ষেপঃ ড. ইসলাম একজন আর্কিওলজিস্ট�� ভূমিকম্পে হঠাৎ বেরিয়ে পড়া প্রাচীন গুহায় পাওয়া এক রহস্যময় ইতিহাসের ধাঁধা মেলাতে পথে নামেন। সে বিস্ময়কর ইতিহাস দিতে পারে পশ্চিমের পিতার সন্ধান। পশ্চিমের পিতার রহস্যে জড়িয়ে ড. ইসলাম আবিষ্কার করেন, পিছু নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধী বুকানস্ক। কিন্তু কেন? বুকানস্কির এজেন্ট গ্রেফতার হলেও তাকে পাগল করে তোলে রহস্যের চাবি নিয়ে পালানো এক রহস্যময়ী। প্রতিবারই জাল ছিঁড়ে পালাচ্ছে সে। অন্যদিকে তিনি মুখোমুখি হন এক ভয়ংকর খুনীর। নিজেকে প্রেতাত্মা বলে পরিচয় দেয় সে। কী চায় প্রেতাত্মা? আলোতে আসা অবিশ্বাস্য ইতিহাস আমাদের হাজার হাজার বছর পিছিয়ে নিয়ে কোন স্বর্গ নগরের গল্প শোনাতে চায়? স্বর্গ নগরে আগত সুদর্শন, সাহসী যোদ্ধা বুসিলকে কেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, দানবের মত শক্তিমান মাসুর? অপ্রতিরোধ্য মানুষখেকো শান্তানরা কোন ধ্বংসের বার্তা নিয়ে ছুটে চলে? পশ্চিমের পিতার সাথে স্বর্গনগরের কী সম্পর্ক? পশ্চিমের পিতা-ই বা কে? এসবের উত্তর পেতে আপনাকে বেরুতে হবে এক রুদ্ধশ্বাস যাত্রায়। যে যাত্রায় আছে বিদ্রোহ, প্রতারণা, রহস্য, ভয় ও হারানোর বেদনা।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
▪ পশ্চিমের পিতা উপন্যাসটি মুলত তিনটি সময়ের গল্প যার প্রতিটি গল্পের সুতোঁ সভ্যতা, একচ্ছত্র, জয়, সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত। লেখক মিথলজির মিশ্রণে তিনটি টাইমলাইনকে এক করে এত দূর্দান্ত ভাবে তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তা অকল্পনীয়। বইয়ের ১ম পৃষ্ঠার লেখাটাই আপনাকে প্রতিটা পৃষ্ঠার গভীরতা বুঝাতে অনুধাবন করাবে। “মানুষ সবসময় আবিষ্কার-উন্মোচনের নেশায় পথে নামেনা;ধ্বংসের নেশাও কখনো কখনো মানুষকে পথে নামায়”।
▪️উপন্যাসের ১ম পর্বের গল্পের বুনটটা এতই চমৎকার ছিলো যে আদি পার্থেনন নিয়ে ও রাজ শেখরের দেশপ্রেম ও ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ জেমসের করা একচ্ছত্র ধ্বংসলীলা। বিপ্লবী শৈলজার ভালোবাসার প্রতি নিবিষ্ট থাকা নিজের দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভালোবাসার মানুষকে স্মৃতিতে রেখে কাটিয়ে দেয়াটা খুব ভালো ছিলো। উপন্যাস কে যদি কোন রোলার কোস্টার রাইড ধরা হয় তবে ১ম পর্বকে ধরা হবে “ফার্ষ্ট টার্ন”। কারন একটা গল্পের শুরুটা এতো চমৎকার ভাবে শুরু হয়ে তাতে মিথলজির এত সুন্দর সংমিশ্রণ আসলেই ভাবা যায় না।
▪️উপন্যাসের ২য় পর্ব ছিল উপন্যাসে মিথলজির সংমিশ্রণে কাহিনির প্রাণভোমরা। পুরো উপন্যাসে লেখক বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালনা ও তদন্ত, ডঃ ইসলামের ধ্বস থেকে খুঁজে বের করা দীর্ঘ ৮০০০ বছরের প্রাগৈতিহাসিক চিহ্নাবলি। পশ্চিমা দেশের গড়ে উঠা বুকানস্কি অপরাধে এক সংঘটনের ক্র্যাশ, শফিক ও তার বন্ধুদের ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ অর্গানাইজেশন করা। প্রেতাত্মা নামক গ্রুপের স্বীয় অপরাধের সাজা দেয়ার মতো কাজ এই বিষয় গুলো লেখক এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন মনে হচ্ছিলো দারুন এক এ্যাকশন থ্রিলারের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি।
▪️এই পর্বে ইউরোপীয় কাল্টের বিভিন্ন বিভাজন ও পৃথিবী জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রেষ্ঠত্ব অটুট রাখার বিষয় উত্থাপন করেছেন। দর্শনবিষয়ক তত্ত্বে সক্রেটিসকে সর্বাগ্রে উপস্থাপন করাই ইউরোপীয় কাল্ট-ই মূল কারিগর তা খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টা আসলেই সত্যি যে সক্রেটিসের সমকালীন সমাজে ও রাষ্ট্রনীতিতে বুদ্ধ এবং কনফুসিয়াস যেভাবে প্রভাব রেখেছেন এবং অনেকক্ষেত্রে সক্রেটিস থেকে বেশিই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন সে তুলনাই ইতিহাসের কোথাও সক্রেটিসের সাথে বুদ্ধ কিংবা কনফুসিয়াস কে মহান চিন্তকের নাম রাখা হয়না। এর পেছনে এই ইউরোপীয় কাল্টই দায়ী। ইউরোপের বাইরের সকল চিন্তকদের বামন করে রাখার প্রয়াস চালিয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। এই বিষয়টাই লেখক খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। “আদর্শ ও চেতনার বোধ মানুষের অপ্রতিরোধ্য এক প্রাগৈতিহাসিক তাড়না; এটা জৈবিক তাড়নার চেয়েও বহুগুনে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী।”
▪️উপন্যাসের ৩য় তথা শেষভাগে লেখক খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০০ বছর আগের মানুষের জীবনপ্রণালী ও নিজের জীবনে ঝুঁকি নিয়েও স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানো আর্য তথা আলফাদের জীবনের রূপরেখা অঙ্কন করেছেন। সেইসাথে হিংস্রতা, বিদ্বেষ ও বর্বরতায় পরিপূর্ণ শান্তানদের জীবনধারাও দেখিয়েছেন। হাজার হাজার বছর পেছনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর প্রথম দার্শনিক ইসাকের বক্তব্যের মাঝে তুলে ধরেছেন সংঘাতের মূলে লুকিয়ে আছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আদর্শের দ্বন্দ্ব। একই সাথে পশ্চিমের পিতার রহস্য উদঘাটন করেছেন। “নিজেকে প্রশ্ন করতে শিখলেই মানুষ সত্যর কাছে পৌঁছায়”।
▪️পশ্চিমের পিতা উপন্যাসের শব্দ বুনট, লেখনশৈলী, প্রতিটা চরিত্রগঠন নিয়ে কিছু বলার রাখেন নি লেখক। এই উপন্যাসের পিছনে উনার রাতজাগা হাজারো গবেষনা বইয়ের পাতায় পাতায় আপনার চোখে পড়বে। তিনটা সময়ের গল্পে একই ফর্মুলায় মূল বিষয়গুলো উপস্থাপন করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য আর তার পরতে পরতে ছিল মিথের মিশ্রণ।
▪️বানান ও প্রোডাকশন কোয়ালিটি দেখলে যে কারো মন ভাল হয়ে যাবে। তবে বইয়ের মাঝে দেয়া সাইনমার্ক ফিতার সুতোঁর বাঁধন ভালো ছিলোনা। থ্রিলার ও মিথের মিশেলে তিন টাইমলাইনের গল্প যাদের পছন্দ তাঁরা পড়তেই পারেন "পশ্চিমের পিতা।" একবার।
বইটার কাভার পছন্দ হয়েছিলো এর জন্য কিনেছিলাম। শুরু করার পরে দেখি ভালোই লাগছে প্রত্নতত্ত সাথে প্রত্নতত্ত চুরির মাফিয়া নিয়ে কাহিনী ভালো যাচ্ছিলো কিন্তু কেনো যেনো মাঝে দিকে এসে কাহিনীটা ঝুলে যায় আর ভালো লাগে নাই। কাহিনীটার শুধু ব্রিটিশ ভারত সময়ে। ব্রিটিশ রানীর এক অফিসার জেমস ভারতে পার্থেনন মন্দির মত কিছু মন্দির খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এই অভিযানে সে আসে সুন্দরবনে আর খুঁজে পায় একমন্দির যা দেখেতে পার্থেনন মন্দিরের মত তার সাথে থাকে রাজশেখর নামে একভারতীয়। পরে রাজশেখ খুঁজে পায় কেনো জেমস এইগুলা করছে এইখানে এই কাহিনী শেষ। এর পরে বাংলাদেশের কাহিনী শুরু বর্তমান সময়ে ড. ইসলাম-একজন আর্কিওলজিস্ট। ভূমিকম্পে হঠাৎ বেরিয়ে পড়া প্রাচীন গুহায় পাওয়া এক রহস্যময় ইতিহাসের ধাঁধা মেলাতে পথে নামেন। সে বিস্ময়কর ইতিহাস দিতে পারে পশ্চিমের পিতার সন্ধান। পশ্চিমের পিতার রহস্যে জড়িয়ে ড. ইসলাম আবিষ্কার করেন, পিছু নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধী বুঝানস্কি... কিন্তু কেন? বুকানস্কির এজেন্ট গ্রেফতার হলেও তাকে পাগল করে তোলে রহস্যের চাবি নিয়ে পালানো এক রহস্যময়ী। প্রতিবারই জাল ছিঁড়ে পালাচ্ছে সে। অন্যদিকে তিনি মুখোমুখি হন এক ভয়ংকর খুনীর। নিজেকে প্রেতাত্মা বলে পরিচয় দেয় সে। কী চায় প্রেতাত্মা? এর পরে এই কাহিনী মিটমাট হবার পরে প্রাচীন গুহার কাহিনী শুরু হয়ে যায়। আসলে কোন কিছুই লেখক ঠিক ভাবে শেষ করে নাই আমার কাছে মনে হয়ছে। ভালো কিছু হইতে হইতেও কেমন যেনো হয়েছে গেলো বইটা। রেটিং: ২.৫/৫